× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In Moulvibazar people are gasping for breath with fresh palm shells
google_news print-icon

মৌলভীবাজারে তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস জনজীবন, স্বস্তি দিচ্ছে কচি তালের শাঁস

মৌলভীবাজারে-তীব্র-দাবদাহে-হাঁসফাঁস-জনজীবন-স্বস্তি-দিচ্ছে-কচি-তালের-শাঁস

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। ওপরে তপ্ত সূর্য, নিচে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে হাঁসফাঁস জনজীবন। আর এই তীব্র গরমে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। জেলা সদরসহ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তার মোড় ও পর্যটন এলাকাগুলোতে এখন দারুণ কদর বেড়েছে মৌসুমি এই ফলের। গরমে একটুখানি স্বস্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় করছেন তালশাঁসের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। এতে করে গরমের তীব্রতায় যেমন বেড়েছে এই ফলের চাহিদা, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

সরেজমিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহরের সিলেট রোড, শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট রোড এবং কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে ভ্যানগাড়ি ও ফুটপাতে অস্থায়ী স্টল সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে এই কচি তালশাঁস বিক্রি। তীব্র গরমে ক্লান্ত পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ ক্ষণিকের স্বস্তির খোঁজে এখানে এসে ভিড় করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয় এই ব্যবসা। গ্রামাঞ্চল থেকে সরাসরি আস্ত তাল পাইকারি দরে কিনে এনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কেটে কেটে বিক্রি করা হয়। একটি তালে সাধারণত ৩ থেকে ৪টি শাঁস পাওয়া যায়। স্থান ও আকারভেদে তালের শাঁসের দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে; খুচরা মূল্যে প্রতি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকা। আস্ত তাল ছোট হলে ৩০ টাকা এবং বড় হলে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা গ্রামের গৃহস্থদের কাছ থেকে আকার ও তালের সংখ্যাভেদে একটি গাছের ফল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় কিনে থাকেন। পাইকারিতে প্রতি পিস তাল ১০ থেকে ২০ টাকায় কেনা পড়ে।

শ্রীমঙ্গল শহরের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘গরম বাড়ার পর থেকে বিক্রি অনেক বাড়ছে।’ উকিলবাড়ি রোড এলাকার আরেক বিক্রেতা জমসেদ আলী জানান, প্রতিদিন তিনি ২০০ থেকে ২৫০টি তাল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, জেলা শহরের সেন্ট্রাল রোডের বিক্রেতা আব্দুস সামাদ জানান, পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে প্রতিদিন তার ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে।

কৃত্রিম বা রাসায়নিকযুক্ত পানীয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও সতেজ এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। মৌলভীবাজারে ঘুরতে আসা বিভিন্ন পর্যটকরা তালশাঁস খেয়ে বলেন, ‘গরমের এই সময়টায় প্রায় প্রতিদিনই তালশাঁস খাই, পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাই।

রিকশাচালক শহিদ মিয়া বলেন, ‘দুপুরের কড়া রোদে রিকশা চালাইয়া যখন জান যায় যায় অবস্থা, তখন দুই-তিনটা তালের শাঁস খেলে শরীরটা অনেক ঠাণ্ডা হয়, কলিজা জুড়ায়।’ গৃহিণী নাজমিন আক্তার ও ব্যবসায়ীর শাহেদুল ইসলাম জানান, কৃত্রিম কোমল পানীয় থেকে শিশুদের জন্য এই ফল অনেক নিরাপদ। এর ভেতরের মিষ্টি পানি ও নরম শাঁস শিশুদের শরীরকে সতেজ ও ঠাণ্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গরমের এই সময়ে কৃত্রিম পানীয় বর্জন করে বেশি বেশি প্রাকৃতিক ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাজেদুল কবির বলেন, ‘তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা এই তীব্র গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ এবং বি-কমপ্লেক্স। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা কমায় এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।’

স্থানীয় বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, গরমের এই তীব্রতা আরও কিছুদিন বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা ও বিক্রি আরও বাড়বে। জ্যৈষ্ঠের এই ফল একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ক্লান্তি দূর করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপার্জনে যোগ করেছে এক নতুন গতি।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
31 killed in mob violence in May

মে মাসে মব সহিংসতায় নিহত ৩১

মে মাসে মব সহিংসতায় নিহত ৩১

গত মে মাসে সারাদেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৬৬টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩০৫ জন এবং নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৭৮ জন সাংবাদিক।

শুক্রবার (৫ জুন) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মে-২০২৬-এর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনটি জানায়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় কমেছে। মে মাসে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৮৯ জন আহত হলেও, এপ্রিলে ৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৬ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৫৩৩ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনা আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল, রাজনৈতিক বিরোধ এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এছাড়া রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার অন্তত আটটি ঘটনায় ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরএসএস জানায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংঘটিত ৬৬টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং দুটি মামলায় আট সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। মে মাসে ১০টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি বা পরোক্ষ বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৪১ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১১টি ঘটনায় ছয়জনকে আটক এবং সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে কারাগারে অন্তত সাতজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক ছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন ১৪ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ৫৭টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় আরও ৪১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এইচআরএসএস জানায়, মে মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৫৭ জনই শিশু ও কিশোরী। ১৭ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৭৬ জন নারী ও শিশু।

এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৬৩ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৪৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন নারী।

শিশু নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ২১৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের সার্বিক মূল্যায়নে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Govt has no mindset to control media Minister of State for Information

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না। অতীতের মতো গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সিএমউজের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনস্থ কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সফলতায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতীতে সাংবাদিক কল্যাণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের অবদান অপরিসীম। তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই সাংবাদিকদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিককে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরে যারা সুযোগ পাবেন না, তাদের আগামী বছর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উদ্বোধকের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ও সংবাদমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ সুগম করেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন, তাদের সবাইকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক পরিবারের অংশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে বিভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief in chicken vegetable fish price hike

মুরগি-সবজিতে স্বস্তি, মাছের দাম চড়া

মুরগি-সবজিতে স্বস্তি, মাছের দাম চড়া

রাজধানীতে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। দোকানিদের দাবি, ঈদ শেষে গ্রাম থেকে ফেরেনি অনেক আড়তদার-পাইকার। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ানবাজার ও নিউমার্কেটের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় মুরগি ও সবজির দামে স্বস্তি দেখা গেলেও মাছের দাম ছিল অনেকটাই চড়া।

বাজারে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম মানভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

এছাড়া টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা কমে বর্তমানে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর দামও কমেছে। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ২০ টাকায়। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকা কেজি এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেপসিকামের দাম কেজিতে ৩২০ টাকা।

ঈদের পর মুরগির বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাল লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারে লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারে ইলিশের দাম এখনও চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাগুরের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশি শিং মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।

ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঈদ-পরবর্তী ছুটির কারণে রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ দেখা গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anti social activities arrested behind spa center in Gulshan 28

গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, গ্রেপ্তার ২৮

গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, গ্রেপ্তার ২৮

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গুলশান-২ এলাকার পৃথক দুটি স্পা সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোর্শেদ আলম (৩৩), কায়কোবাদ সরকার (২৫), রমজান ভুঁইয়া (৪৫), মেহেদী হাসান (২৭), তারভীর আলম (২২), মাহফুজ কামাল স্বাধীন (৩২), মনিরুল ইসলাম মুন্না (২৬), মো. হাসান (৩৭), বাবুল হোসেন (৩৮), মো. মোস্তফা (৬০), পরিতোষ শীল (৩৭), মো. শোহান (২৫), রফিকুল ইসলাম রানা (৩৭), জহিরুল ইসলাম (৩৬), মো. আরিফুল ইসলাম (৪৩), খাদিজা ইসলাম শান্তা (২৫), ফাহিমা সুলতানা (২৫), রত্না আক্তার (২৩), মাহিমা আক্তার (২৪), ফারজানা আমিন (২৬), রোকসানা আক্তার (৩২), মায়া আক্তার (২৪), ফারিয়া ইসলাম (২৪), ইসরাত জাহান জয়া (২২), রুবিনা আক্তার (১৯), তাহিয়া ইসলাম (২৩), ময়না (২১) ও মাহমুদা আক্তার (৪২)।

শুক্রবার (৫ জুন) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কয়েকটি স্পা সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়।

ওসি জানান, রাজধানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DMP demands spreading misleading information about Commissioners visit

কমিশনারের গমনাগমন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের দাবি ডিএমপির

কমিশনারের গমনাগমন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের দাবি ডিএমপির

কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের গমনাগমন বিষয়ে সংবাদকে বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএমপি। শুক্রবার (৫ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সবাই সমান’ শীর্ষক সংবাদে ডিএমপি কমিশনারের গমনাগমন সংক্রান্ত যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ এবং প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। মিন্টো রোডের সংশ্লিষ্ট সিগন্যালটি ‘ওয়ান ওয়ে’ বা একমুখী এবং ডিএমপি কমিশনারের গাড়িবহরকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পার করা হয়েছে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিন্টো রোড কোনোভাবেই একমুখী সড়ক নয়। এ সড়কে উভয় দিকেই যানবাহন চলাচল করে থাকে। যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিকের অস্থায়ী কোণ স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরমুখী যানবাহনকে ইউটার্ন করে দক্ষিণমুখী করার একটি অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা স্থায়ী ট্রাফিক বিধিনিষেধ নয়। সংশ্লিষ্ট স্থানে ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানবাহনের চাপ এবং তাৎক্ষণিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অস্থায়ী ইউটার্ন ব্যবস্থা প্রতিদিনই একাধিকবার খোলা ও বন্ধ করা হয়ে থাকে।

এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী চালক ও পথচারীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। ডিএমপি কমিশনার গাড়িবহরের গমনাগমনও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আওতাতেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিশেষ সুবিধা গ্রহণ কিংবা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।

বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাইপূর্বক সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
World Environment Day Tree plantation program held in the capital

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

‘রোড ডিভাইডারে গাছ লাগাই সবুজে সাজাই শহর সবাই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে তেজগাঁওয়ের বিএসটিআই ও আমাদের সময়ের মাঝখানের সড়ক বিভাজকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার, আমাদের সময়ের অনলাইন ইনচার্জ বিপুল হাসান, সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ ক্বাফী, গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য গিরীশ গৈরিক, এমিলিয়া খানম, লাবণ্য লিপি, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্যরা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা করেছে শিকদার এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও বাসযোগ্য করতে হলে পরিবেশের বিকল্প নেই। যেহেতু এই পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হয়ে ওঠছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে এই দেশে গড় তাপমাত্রা কত ছিল? এখন কত? বিষয়গুলো সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আমরা আজকে এখানে নিম গাছ রোপণ করলাম। প্রশ্ন আসতে পারে নিম গাছ কেন? কারণ নিম গাছ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বেশি করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটা নাগরিকদের স্বস্তি দেবে। সবুজ পৃথিবী গড়তে প্রত্যেকের অন্তত একটা করে গাছ লাগানো উচিত। বর্তমান সরকার পরিবেশের বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনাজুড়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার।

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী উষ্ণায়ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসকে ঘিরে আজ গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় রোড ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানো হলো। আমরা এখানে অনেকগুলো নিম গাছের চারা রোপণ করেছি। এটা একটা ঔষধিগাছ। আপনারা জানেন নিম গাছ খুবই উপকারী একটি গাছ। এটি মানুষের রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্যায় বিভিন্ন উপকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আসুন সবাই একটি করে হলেও গাছ লাগাই। সবুজে ভরে উঠুক সারা পৃথিবী।’

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার বলেন, ‘আজ আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে একত্রিত হয়েছি- সড়কের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। একটি গাছ শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং শহরকে বাসযোগ্যও করে তোলে। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ডিভাইডারে রোপিত প্রতিটি চারা হবে দূষণের বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিবাদ, উষ্ণতার বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিরোধ এবং জীবনের পক্ষে একেকটি সবুজ ঘোষণা। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষ সংরক্ষণেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হব। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করা।’

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক বলেন, ‘পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা দেশব্যাপী গাছ লাগাতে চাই। এই প্রত্যাশা নিয়ে আজকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সবুজায়নের উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে গ্রিন কনসার্নস সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

মন্তব্য

p
উপরে