× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
New Horizons in Energy Security Baluchar Solar Power to Meet the Shortage
google_news print-icon

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্তের সূচনা: বালুচরের সৌর বিদ্যুৎ, মেটাবে ঘাটতি

জ্বালানি-নিরাপত্তায়-নতুন-দিগন্তের-সূচনা-বালুচরের-সৌর-বিদ্যুৎ-মেটাবে-ঘাটতি

পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। পাবনার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অন্ধকার ভেদ করে এখন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বিদ্যুৎ; যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে এনে দেবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

জানা গেছে, পাবনা সদর ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দুটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার পার্ক) থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর ভবানীপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডায়নামিক সান এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এই বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি টেক্সটাইল খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট (এসি), যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই সবুজ জ্বালানি অবকাঠামোতে রয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি সৌর মডিউল ও ৭৬০টি আধুনিক ইনভার্টার।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ১২১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে নির্মিত এই কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।

প্ল্যান্টটির পরিচালক জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১০০ মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রটির বছরে প্রায় ১৯৩ দশমিক ৫ গিগাবাইট-আওয়ার পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৯৩ হাজার ৬৫৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। যা বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

অন্যদিকে, সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত সাগরকান্দি চরে বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে ৬৪ দশমিক ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

২০৫ একর জমিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার সোলার মডিউল ও ১১টি আধুনিক ইনভার্টার নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।

দেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিইপিজিসিএল) ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান অংশীদারত্বে গঠিত বাংলাদেশ-চায়না রিনিউঅ্যাবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. তানবীর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জের ৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এর পাশাপাশি নতুন এই পাবনা ৬৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও চালু হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনযাত্রার মান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময়কার অনাবাদি চর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাবনার এই দুটি সোলার পার্ক সেই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্প এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলায় যে ধু ধু বালুচর একসময় নিঝুম পড়ে থাকত, সেই চরাঞ্চলই আজ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

বদলে যাওয়া চরাঞ্চল ও অবকাঠামো: সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরো চিত্রই বদলে গেছে।

একসময় যেখানে সূর্যাস্তের পর জীবন থমকে যেত এবং কাঁচা রাস্তা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় ছিল না—আজ সেখানে পিচঢালা পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

সোলার পার্ককে কেন্দ্র করে চরের জমির দামও আকাশচুম্বী হয়েছে। কয়েক বছর আগেও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর ভবানীপুরে কলা ও সবজি চাষই ছিল মানুষের একমাত্র অর্থনৈতিক ভরসা।

গত সপ্তাহে এই এলাকার স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও যে জমি বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ এবং কোথাও কোথাও ১২ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে। গ্রামের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পই এর প্রধান কারণ।

এলাকায় দ্রুত কংক্রিটের বাড়ি ও স্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠছে। তবে কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমার সাত বিঘা জমির মধ্যে পাঁচ বিঘা ছেড়ে দিতে হয়েছে।’

তিনি জানান, জমির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থ দিয়ে ছেলেদের জন্য দোকান করেছেন। কিন্তু কৃষিকাজ ছেড়ে দেওয়ার পর এখন নিজেকে কর্মহীন ও সারাজীবনের পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়।

আরেক প্রবীণ বাসিন্দা বারেক শেখ জানান, প্রকল্পের জন্য তার চার বিঘা জমিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রামের শত শত কৃষকের জমি এই প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে। এত বেশি আবাদি জমি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার হওয়ায় চাষাবাদের জায়গা কমে গেছে। জমির দামও অনেক বেড়ে গেছে।’

সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দির বাসিন্দাদের পরিস্থিতি আরও জটিল। তাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে চরাঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ করলেও এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমির বৈধ কাগজপত্র না থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরকারি মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
1 more child died of measles in 24 hours

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ফাইল ছবি

হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল আটটা তেকে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫১ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৯২ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৪৩।

প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় ওই শিশু মারা যায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister is going to Coxs Bazar on Saturday to inaugurate the 25 crore tree plantation programme

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে শনিবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে শনিবার কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার (১৩ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দুর্লভ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন নাগলিঙ্গমগাছ রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ উপলক্ষে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেল ও বন বিভাগ সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। নাগলিঙ্গমগাছের পাশাপাশি বৈলাম, গর্জনসহ আরও তিনটি গাছের চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মালুমঘাট এলাকায় সংরক্ষিত বনে একটি জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে চারা রোপণের জন্য ২ হাজার গর্ত করা হয়েছে।

রোপণের জন্য বন বিভাগ আট প্রজাতির ২ হাজার চারাগাছ প্রস্তুত করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে গর্জন, ঢাকি জাম, তেলসুর, দারমেরা, সিভিট, নিম, চম্পা ও ছাতিম। এ ছাড়া আরও ১২ প্রজাতির বনের উপযোগী চারাগাছ রাখা হয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নাগলিঙ্গমগাছের চারা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৈলাম, গর্জনসহ মোট তিন প্রজাতির চারাও রাখা হয়েছে। আরও একটি সুন্দর গাছের চারা আনা হচ্ছে।’

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী-মাছুয়াখালী খাল খনন উদ্বোধন ও সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, এরপর সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন।

এরপর বেলা ১টায় জুলাই আন্দোলনে পেকুয়া উপজেলার সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বেলা দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। সেখান থেকে পেকুয়ায় গিয়ে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ফিরে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সর্বশেষ রাত ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Health Department has directed six hospitals to treat Ad Deen patients

আদ্-দ্বীনের রোগীদের চিকিৎসা দিতে ছয় হাসপাতালকে নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

আদ্-দ্বীনের রোগীদের চিকিৎসা দিতে ছয় হাসপাতালকে নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছবি: সংগৃহীত

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন কয়েকশ রোগী। সেবা দেওয়ার বিধান না থাকায় এসব রোগীকে ছয় হাসপাতালকে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় এ হাসপাতাল থেকে রেফার্ডকৃত রোগীদের তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য ছয় হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ছয় হাসপাতালের তালিকায় রয়েছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government has appointed 8 new chairman of Urban Development Authority

নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৮ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিল সরকার

নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৮ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিল সরকার

দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।

এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladeshi killed in BSF firing at Dattagram border in Kulaura

কুলাউড়ার দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

কুলাউড়ার দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি—নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে।’

শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This years budget is public friendly Minister of State for Social Welfare

এবারের বাজেট জনবান্ধব: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

এবারের বাজেট জনবান্ধব: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, এবারের পুরো বাজেট জনবান্ধব দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার। এই বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে যে, বাজেটটি কতটুকু সুসম্পন্ন করা যায় তার ওপর।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাবমার্সেবল পাম্প, ক্রীড়া সামগ্রী, দুস্থ মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় পুতুল আরও বলেন, ‘খুবই বাজে একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাজেটটি দিতে হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সরকার। তবে সেগুলো কোনো বড় প্রজেক্টের জন্য নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। যেমন স্কুল-কলেজে বাচ্চাদের পড়াশোনাতে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্যান্সার রোগীদের আগে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হতো, এখন এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এই বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের বিরুদ্ধচারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে জামায়াতের অবজারভেশন থাকতে পারে। বিষয়গুলো তারা সরকারকে জানাতে পারেন। চলতি বাজেট জনকল্যাণমুখী হয়েছে কি না সেটা কাজে গেলে বোঝা যাবে। এই ভঙ্গুর অবস্থায় যেই বাজেটটি দেয়া হয়েছে, এটা বেস্ট বাজেট। বলা যায় কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার মতো করে কাজগুলো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে মূল্যস্ফীতি না ঘটে। প্রত্যেকটি টাকা যাতে মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য পৌঁছায় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।’

এরপর প্রতিমন্ত্রী পুতুল নাটোরের লালপুরে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gholam Morshed a serial killer who used to hit women in the house in Naogaon was arrested

নওগাঁয় বাসা-বাড়ির নারীদের করতো মাথায় আঘাত, সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদ গ্রেপ্তার

নওগাঁয় বাসা-বাড়ির নারীদের করতো মাথায় আঘাত, সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদ গ্রেপ্তার

বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পুরুষ না থাকা কোন বাসা-বাড়িতে টার্গেট করা হতো। এরপর গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে যে কোন ভারী বস্তু দিয়ে মহিলাদের মাথায় আঘাত করা। এরপর চুরি করা হতো। রক্তপাতের ভয়ে একটিই আঘাত করা হতো। তারপরও হতাহতের ঘটনা ঘটত।

সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের বরাদ দিয়ে গায়ের লোম শিহরিত হওয়ার মতো অবস্থার বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর আগে বুধবার (১০ জুন) ভোরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গোলাম মোরশেদ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার পাতহাট গ্রামে হইবর রহমানের ছেলে।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন- গত ৬ মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরিসহ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলার ধামইরহাট থানার নানাইচ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকে হাসান আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে ঢুকে মাথায় টিউবওয়েল এর হাতল (হ্যান্ডেল) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আঘাতের ফলে উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

একই দিনে অপরাধী আরো পৃথক দুই বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমদের মাথায় মারত্মকভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় একই থানার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মেরে গুরুতর আঘাত করে। এরপর এলাকায় একই রাতে আরো তিন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভোদোকে টিউবওয়েল এর হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। সিরিয়ালভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি বা আতংক সৃষ্টি হয়।

গত ৭ মে জেলার বদলগাছী থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতে দেয়াল টপকিয়ে তিন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাক প্রতিবন্ধি বৃষ্টি (২০) কে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

সবশেষ গত ৪ জুন জেলার পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রোজি আক্তার (৩৭) এবং অপর একটি বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুন (২২)কে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

জেলার ৩টি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোন তথ্য ছিল না।

পুলিশ ‍সুপার আরো বলেন, পরে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে। গোলাম মোরশেদ পেশাদার সাইকো সিরিয়াল কিলার। সে একাই এসব অপরাধ করে এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে তথ্য উদঘাটন করা কঠিন ছিল। পরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন,সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমানসহ পুলিশের অন কর্মকর্তারা।

মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন থানায় অনুরুপ ৫টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ঘটনায় একজন নারী মারা গেছে। জয়পুরহাট জেলায় অনুরুপ একটি ঘটনায় দুই জন নারী গুরুত্বরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন নারী মারা যায়।

মন্তব্য

p
উপরে