× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
More than 90 lives were lost on the roads in seven days on motorcycles
google_news print-icon

সাত দিনে সড়কে ঝরল ৯০ প্রাণ, বেশি মোটরসাইকেলে

সাত-দিনে-সড়কে-ঝরল-৯০-প্রাণ-বেশি-মোটরসাইকেলে

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ঈদযাত্রার সাত দিনে (২৬ মে থেকে ১ জুন) দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত এবং ১৩৫ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সড়কে এই প্রাণহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ ঘিরে লাখো মানুষের বাড়ি ফেরা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, মহাসড়কে মোটরসাইকেলের বাড়তি চলাচল এবং বছরব্যাপী সড়কে অব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তারা আরো বলছেন, ঈদের সময় গণপরিবহন সংকট ও ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলকে বেছে নিচ্ছেন। চালকদের পূর্ব–অভিজ্ঞতা না থাকা, বেপরোয়া গতিতে চালানো এবং ঈদের পরে প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হওয়ার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ঈদের ছুটিতে সড়কে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ পরিবারের কাছে যাচ্ছিলেন। কেউ মোটরসাইকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বাস–ট্রাক উল্টে কারও মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩৫টি দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক লোক। সোমবার (০১ জুন) এক দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এর আগের দিন রোববার (৩১ মে) প্রাণ গেছে ১২ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন। ৩৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭টিই ছিল মোটরসাইকেলের। যা মোট প্রাণহানির ৪১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম: ফুটকছড়ি ও বাঁশখালীতে বাবা-ছেলেসহ চারজন মারা গেছেন। ফটিকছড়ি উপজেলায় বিআরটিসির একটি বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা- ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার ছেলে আরিফ। এ দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম জানান, সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে উপজেলার বিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় মাছবোঝাই একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। এরা হলেন নোমান ইলাহি ও বাহাদুর আলম।

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাতটার দিকে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে বাঁশখালীর পিএবি সড়কের মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে বাহাদুর আলমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া আহত হন আরও তিনজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নোমান ইলাহির মৃত্যু হয়।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান শরীয়তপুর জেলার পালং থানার কাশাভোগ (কাশাপুর) গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর থেকে কয়েকজন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসেন। তারা কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে লেম্বুরবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় এক নারী রাস্তা পার হওয়ার সময় দুঘটনা ঘটে।

নাটোর : সিংড়া ও লালপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও তিন মোটরসাইকেল আরোহীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ও রোববার রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়ার বন্দর আমতলা ব্রিজ এলাকায় বগুড়া থেকে আসা একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পালসার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন সাইফুল ইসলাম (২৬) নামে আরেকজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফুল নাটোর সদর উপজেলার আলাইপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে। নিহত অন্য দুইজন হলেন— নাটোর সদর উপজেলার ইসলামবাড়ি গ্রামের মতালিব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন হীরা (২৬) এবং লালপুর উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন (১৮)।

এদিকে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরী গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারী নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে।

জয়পুরহাট: ক্ষেতলালে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল উপজেলার নিশ্চিন্তা-চাঁনপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) ও তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিঁটকে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন ইমনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে খড় ও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয়। সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ছুটির শেষ দিনে: ছুটির শেষ দিন গত রোববার দেশের একাধিক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন এক মা ও তার দুই মেয়ে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক তরুণী নিহত হন।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনা সদস্যবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে এক নাইটগার্ড নিহত হন। একই জেলার ফরিদগঞ্জে পিকআপ ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক কিশোর প্রাণ হারায়।

এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হন। যদিও এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন সাইকেলচালক আলহাজ উদ্দিন। বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের মির্জাপুর এলাকায় পদচারী–সেতুর পূর্ব পাশে সার্ভিস লেনে গতকাল দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

সিলেটের ওসমানীনগরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পেছন থেকে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চালক ও সহকারী নিহত হন। গত রোববার সকালে ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ঈদযাত্রার শুরুতেই ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ শ্রমিক নিহত হন। ছুটির সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একই দিন বগুড়ার শাজাহানপুরে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্র্যাকের এক কর্মী ও তার চার বছরের মেয়ে নিহত হন। নওগাঁর পত্নীতলায় ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে ইজিবাইকের চালকসহ দুজনের মৃত্যু হয়।

২৬ মে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে চালবোঝাই পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। একই দিনে বরিশালের গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন।

২৭ মে রাজধানীর নদ্দা নতুন বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস সড়ক বিভাজক ভেঙে আরেকটি বাসে ধাক্কা দিলে ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। একই রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত এবং দুই আরোহী আহত হন।

ঈদের দিনে ১৮ মৃত্যু: ঈদের দিন ২৮ মে বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। ১৮ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি এদিন আহত হন আরও ৩০ জন।

ঈদের দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রামে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই শিশু নিহত হয়। নরসিংদীর শিবপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলে থাকা দুই কিশোর নিহত হয়। বগুড়ার শেরপুরে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু এবং চারজন আহত হন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী

নিহত হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।

২৯ মে ঝিনাইদহ শহরে ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখে পালাতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। একই দিন বগুড়ার কাহালুতে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

৩০ মে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষে বাবা ও তার শিশুপুত্র নিহত হন। নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আগের দিন মাধবদীতে বাসচাপায় নিহত হন এক মোটরসাইকেল আরোহী।

একই দিনে ঈশ্বরগঞ্জে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা দিলে দুই বন্ধু প্রাণ হারান।

দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচারে’ জোর: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেবল ঈদকেন্দ্রিক তোড়জোড় না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচার’ বা নিরাপত্তাকে অভ্যাসে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি মনে করেন, পুরো বছর সড়কে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে ঈদের সময়ে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সেফটি এমন নয় যে সারা বছর আপনি সড়কে উচ্ছৃঙ্খলতা, বিশৃঙ্খলা রাখবেন আর ঈদের সময় হুঁশিয়ারি দেবেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে— বিষয়টা এ রকম না। এটা একটা চর্চার বিষয়।

সড়কের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন মো. হাদিউজ্জামান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
8 more children died of measles

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
 Modernization of armed and police forces PM
শান্তিরক্ষা মিশন

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
City inspector is entering the field to build good habits of citizens

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।

সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Special arrangement for prisoners to watch World Cup football match in Tangail

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।

জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sight is the greatest blessing in human life KCC Admin

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegation of contractual recruitment withholding of promotion in state owned industrial enterprise Keru

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
140 families in Lalmohan are afraid of the embankment of Tentulia river

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।

উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।

করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য

p
উপরে