রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার আর অর্থ সম্পদই লুট করেনি, বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে মানবতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুই এ বিষয়টি প্রমাণ করে। এক মাসের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আগামী এক বছরকে (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিস্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বব্যাপী আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসাবে ঘোষণা করা যায় কি না এ ব্যাপারে সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব। একটি নিরাপদ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পুর্নজাগরণ ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এবং কর্ম প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে কাজী নজরুল মানেই বাংলা সাহিত্যের এক নতুন মোড়ের উদয়, বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারীর অধিকার, মেহনতী মানুষের কল্যাণ, অসম্প্রদায়িক বিশ্ব ও মানবতার উদারণ।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুইয়া।
এর আগে ত্রিশাল উপজেলার বইলরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধরার খালের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠনে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার পর আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারের সুবিধার জন্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের সুবিধার জন্যে কৃষি কার্ড, কোমলমতি শিশুদের জন্যে স্কুল ব্যাগ, পোশাক, খাবার, মসজিদের ইমামদের জন্যে ভাতা কার্যক্রম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে। বিএনপির তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন এক শ্রেণি এসব কথা না বলে শুধু ষড়যন্ত্র করে আর রাস্তাঘাটে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ করতে চায়।
তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপির সরকার গঠন করায় তাদের জালা ধরেছে। অন্তবর্তী সরকারের সময় যে সকল ঘটনা ঘটেছে আপনারা তাদেরকে সেই কিছু বলতে দেখেছেন প্রতিবাদ করতে দেখেছেন করেননি। কারন তারা বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়। বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নষ্ট হলে জনগনের ক্ষতি হবে, আপনাদের ক্ষতি তাই এদেরকে আপনাদেরও প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি সরকার কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতে আগামী প্রজন্ম কর্মমুখী হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
পরে বিকেলে ময়মনসিংহ উত্তর দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সাংগঠনিক সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।
নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।
সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।
উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য