দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। ফলে সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক ও ব্যবস্থাপনা-শৃঙ্খলার অভাবেই প্রতিদিন ঝরছে প্রাণ। শনিবারও (২৩ মে) দেশের ১১ জেলায় সড়কে প্রাণ গেছে ২৩ জনের। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, যশোর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট ও খাগড়াছড়ি ও সিরাজগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিরা।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার খোকসায় বালু বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া থেকে পাংশাগামী একটি ড্রামট্রাকের সঙ্গে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উল্টে যায় এবং পুকুরে পড়ে।
স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করেন। তারা আহতদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিছু আহতকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। আহতদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এছাড়াও কুষ্টিয়ায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলিচাপায় আরিয়ান (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিয়ান বাড়ির পাশে রাস্তায় খেলা করছিল। এসময় ধানবাহী একটি স্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে চাপা দেয়।
এতে আরিয়ান গুরুতর আহত হলে তাকে ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যশোর: যশোরে কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। গতকাল দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন– অটোরিকশার যাত্রী ঘোড়াগাছা গ্রামের বৃষ্টি সাহা (২৪) তার ছেলে সৌভিক সাহা (৪), যশোর সদরের ঘুনি গ্রামের অটোরিকশার চালক আইয়ুব আলী (৪৩) ও চাউলিয়া গ্রামের আনোয়ার আলী (৭০)। এ ঘটনায় আহত হন অটোরিকশার যাত্রী মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (২৮)।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুম খান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, খুলনা থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাউলিয়া পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালে একটি অটোরিকশা ও ইজ্ঞিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আইয়ুব আলী ও বৃষ্টি সাহা মারা যান। অন্যদিকে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার আলী ও সৌভিক সাহা। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
আহত সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দিনাজপুর: ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার সকালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন জন আরহী রানীগঞ্জ বাজার থেকে মহাসড়কে উঠছিলেন। এসময় দিনাজপুরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।
আহত অপর দুজনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ঘাতক ট্রাক ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম :পটিয়ায় বাস চাপায় তাজলিম (১৭) ও সামি (১৬) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জয় (১৮) নামে আরেকজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকালে তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। পরে দুপুরে আনসার ক্যাম্প এলাকায় কক্সবাজারগামী একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে আরেকজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
কুমিল্লা: চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে উপজেলার হারিসদ্দার শিরিষ ফ্যাক্টরি এলাকায় এবং সকাল ৭টার দিকে পৌরসভার ডাকবাংলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম আহমেদ। নিহতরা হলেন- উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ঈশানচন্দ্র গ্রামের মো. দিদারের স্ত্রী পান্না বেগম (৩৫) এবং নাম পরিচয় না জানা এক যুবক (৩৫)। যুবকের মরদেহ ফাঁড়িতে এবং পান্না বেগমের মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে শিরিষ ফ্যাক্টরির শ্রমিক পান্না বেগম কাজে যোগ দিতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে সকাল ৭টার দিকে পৌরসভার ডাকবাংলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ভবঘুরে যুবককে একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর: ভাঙ্গায় দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী (৪০) দুই ট্রাকের ড্রাইভারসহ চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির চাঁপায় পথচারী যুবক(৪০) নিহত ও অপর একই সড়কের পুর্বসদরদী এলাকায় ২টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ২ ড্রাইভার সহ ৪জন আহত হয়েছে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ট্রাক ২টি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এস,আই মামুন খাঁন জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদী এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ ৪ জন আহত হয়। তাদের ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে একই মহাসড়কের চুমুরদী বাসস্ট্যান্ডে এক পথচারীকে গাড়ি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম ঠিকানা পাওয়া যায় নাই।
গাজীপুর: কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোয়ালবাতান এলাকায় বাস, ট্রাক ও পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নাসির উদ্দিন নামের এক পিকআপ চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ: শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় পান্নু (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পান্নুর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার টেপড়ী গ্রামে। তিনি মৃত শুকুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ফিরতি একটি গরুবাহী ট্রাক বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পান্নুকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মাহফুজুল ইসলাম মাফু (৪৫) নামে এক এনজিওকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের শিল্পকলা একাডেমির পাশে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থল দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এসময় প্রধান সড়কে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী ও নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক তাকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
জয়পুরহাট সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক ট্রাকটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
খাগড়াছড়ি: দীঘিনালা উপজেলায় ব্যাটারিরিকশা ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. সোহেল (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বেতছড়ি আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ সংঘর্ষে চারজন আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহেল উপজেলার মধ্য বেতছড়ি গোরস্থানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনায় আহত বাকি তিনজন হলেন- সাদিয়া মনি, তাসলিমা খাতুন ও আব্দুল কাদির। তারা বর্তমানে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের সবার বাড়িও বেতছড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে।
তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ): কোরবানির পশুবাহী নসিমন উল্টে চালক আয়নাল হক (৫৭) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আয়নাল হক উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের সান্দ্রা গ্রামের বশির আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নান জানান, সকালে আয়নাল গরু নিয়ে চান্দাইকোনা হাটে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। পথে বস্তুল এলাকায় পৌঁছালে সড়কের বড় গর্তে পড়ে গরুবোঝাই নসিমনটি উল্টে যায়। এতে চালক আয়নাল নসিমনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।
নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।
সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।
উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য