মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি গরু-ছাগলের হাটবাজারের কালাপাহাড় নজর কেড়েছে সবার । আসন্ন কুরবানীকে কেন্দ্র করে বাজারে বিক্রয়ের জন্য ওঠা উক্ত গরুর মালিক মোঃ কাওছার মিয়ার কাছে গরুটির মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, গরুটির দাম দশ লক্ষ টাকা, আমি এটা রাজশাহী থেকে এখানে নিয়ে এসেছি বিক্রয়ের জন্য এবং এর দামাদামি চলছে। শনিবার (২৩ শে মে) দুপুরে উক্ত হাট-বাজারটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে হৃষ্টপুষ্ট হরেক রকমের শত-শত গরুছাগলের সমাহার। ইতিমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেঁচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে উক্ত বাজারটি সহ মাদারীপুরের সর্বত্র।
উল্লেখিত হাটের ইজারাদার মোঃ মিজান ফরাজী জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত হাটবাজারটিতে একটি কমিটি গঠন করে সিসি ক্যামেরা সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আলীম ফরাজী বলেন, আঞ্চলিক পাকাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকায় দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকার সহ গরু-ছাগলের ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ীমূল্যে ছোট-বড়-মাঝারি সকল প্রকার কুরবানীর পশু এখানে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সড়ক থেকে অনেকটা দূরে তারা এই হাট বসিয়েছেন যা'তে মানুষের যাতায়াতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তারা আরো বলেন, মাদারীপুর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক আমাদের এই হাট-বাজারটি মনিটরিং করছেন, যা'তে কেউ চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা অথবা জাল টাকার ব্যবহার করতে না পারেন। আগামী কুরবানীর আগের দিন পর্যন্ত এই হাটবাজারটি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটি কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে মাদারীপুরের গরু-ছাগলের হাটবাজারগুলোর সর্বত্রই এখন বেঁচাকেনার ধূমধাম পড়ে গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত, অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
বিশেষ করে সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।
আজ বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে উক্ত স্থান থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বনদস্যু দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাহিনীর চলমান কার্যক্রম কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।
বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁর আম বাগান । ছবি: সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী এই জেলায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। রপ্তানিযোগ্য, নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। তবে চলতি মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো আমচাষী। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগ না পাওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। ফলে উন্নতমানের আম উৎপাদন ও অধিক লাভের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে আমের বাগান, যা জেলার মোট আমচাষের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব এলাকায় আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ প্রায় ১৬টি জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়। এই পদ্ধতিতে আমের গায়ে দাগ পড়ে না, পোকার আক্রমণ কমে যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারও হ্রাস পায়। ফলে আমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও চাহিদা তৈরি হয়। খোলা অবস্থার আম যেখানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, সেখানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম প্রকারভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।
কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত বছর যেখানে প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগ ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সায় পাওয়া গেছে, সেখানে এ বছর সেই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দামে। তাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক চাষী পরিকল্পিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, তার ২২০ বিঘা জমিতে আম্রপালি, গৌড়মতি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে রপ্তানিযোগ্য ও নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি ৬০ বিঘা জমির প্রায় ৫ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো পর্যাপ্ত ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি গৌড়মতি জাতের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রতিটি ব্যাগের জন্য আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের বাজারমূল্য অনেক বেশি। কিন্তু ব্যাগের সংকটের কারণে এ বছর সেই অতিরিক্ত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
একই উপজেলার সাদেরডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী বাবুল আক্তার বলেন, তার ১৬ বিঘা জমির আমবাগানের অর্ধেকই আম্রপালি জাতের। গত বছর ২০ হাজার আমে ব্যাগিং করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করার পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যাগের অভাবে মাত্র ১০ হাজার গৌড়মতি আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। তিনি জানান, গত বছর যে ব্যাগ ৩ টাকা ৮০ পয়সায় কিনেছিলেন, এবার সেই একই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা দরে। তার মতে, ব্যাগিং না করতে পারায় পোকার আক্রমণও বেড়েছে, যা ফলের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চাষীদের মতে, গত কয়েক বছরে নতুন করে অনেক আমবাগান গড়ে উঠেছে। তিন থেকে চার বছর আগে রোপণ করা গাছগুলো এবার পূর্ণমাত্রায় ফল দিতে শুরু করায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।
অন্যদিকে, আমচাষীরা মনে করেন, নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে তারা সরাসরি বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা রপ্তানিকারকদের কাছে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কৃষকবান্ধব করা হলে জেলার অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যাগ সরবরাহ করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং স্থানীয় ক্রীড়া ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াবিদ আলী হায়দার বাবলুকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া শাখার নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অনুমোদনপত্র জারি করা হয়।
পত্রটিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারাঃ ২ (১৫)-এ উল্লিখিত স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্র মোতাবেক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপর অর্পিত ক্ষমতা অনুসরণে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারাঃ ২ (৪) ও ৮-এ বর্ণিত পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক সদয় অনুমোদিত হয়েছে।
এতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকে সভাপতি, সদস্য পদে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার, বান্দরবান পার্বত্য জেলারঅতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক), উপপরিচালক জেলা সমাজ সেবা,জেলা ক্রীড়া অফিসার, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আলী হায়দার বাবলুকে সদস্য সচিব করা হয়।অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে উল্লেখ করা হয় এই পত্রটিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রিড়াবিদ বলেন, নতুন এ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। বিশেষ করে জেলার ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়ন, খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলী হায়দার বাবলু বলেন, জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে তিনি সকল ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছেন। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং জাতীয় পর্যায়ে বান্দরবানের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।
এবিষয়ে জানতে বান্দবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও প্রতিউত্তর পাওয়া যায় নি।
ছবি: সংগৃহীত
মধুমাস উপলক্ষে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রায় ৫০০ বন্দী, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের মাঝে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুমাসের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদীর উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। এতে বন্দীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদী বলেন, “মধুমাস আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারাগারে অবস্থানরত বন্দীরাও যেন এই মৌসুমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চিন্তা থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। মানবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ফল বিতরণ কার্যক্রমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। এ সময় বন্দীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক বন্দী কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আম, লিচু ও কাঁঠালের স্বাদ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলা কারাগারে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি এবার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মোতায়েন করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুশ-ইন রোধে ইতোমধ্যে সীমান্তের কিছু এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুতই আরও সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সাথে সীমান্তের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিজিবির পাঁচজন ক্যাম্প প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশাল সীমান্ত এলাকা পাহারায় কেবল বিজিবির একার পক্ষে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বিজিবির পাশে দাঁড়াতে হবে।
স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় ভিডিপি মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য