জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশ ও সমাজের নানা স্তরের অসমতা দূর করতে অল পার্টি ককাস কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগণের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে তারা সমাজের পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এর শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অভীষ্ট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যে অধিকার নিশ্চিতে ককাসের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতিতে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপে নামছে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস। জেলাজুড়ে ডেঙ্গুর গতি রোধ করা ও মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’-এর সহায়তায় পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলায় অতি শীঘ্রই ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া ডেঙ্গু সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৬ জনে, যা সমগ্র বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদের মধ্যে সর্বমোট ৮৪৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন (ভর্তি) রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন রোগী।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ পিরোজপুর সদরে ৪৩৮ জন (ভর্তি ২৩ জন)। এছাড়া নেছারাবাদে ১৬৪ জন (ভর্তি ৭ জন), ভাণ্ডারিয়ায় ১৪৯ জন (ভর্তি ৭ জন), কাউখালীতে ৬৩ জন (ভর্তি ৪ জন), নাজিরপুরে ৫৫ জন (ভর্তি ৬ জন) এবং মঠবাড়িয়ায় ২৭ জন (ভর্তি ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ইন্দুরকানী উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলা তথ্য অফিস সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় তরুণ ও যুব সম্প্রদায়কে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। যুবদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ এলাকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে।
এছাড়া রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ (RCCE) কর্মসূচির অধীনে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারি দপ্তর, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি নিয়ে বিশেষ সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে অভিভাবক এবং কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক মতবিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও সড়ক প্রচার চালিয়ে আসছে জেলা তথ্য অফিস। বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনবহুল স্থানে প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত বিশেষ ভিডিও বার্তা। জেলা তথ্য অফিসের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়মিত সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বিত কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। প্রতিরোধ কার্যক্রমকে একটি গণমুখী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে গঠন করা হয়েছে ৩টি উপ-কমিটি। সমগ্র জেলায় সার্ভে ও ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর মান্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত ‘শিশু পার্কটি’ দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রহস্যজনকভাবে বন্ধ রয়েছে। সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কের সুফল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় কোমলমতি শিশুরা। পার্কটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ঠিক সামনে অবস্থিত হলেও বছরজুড়ে বন্ধ থাকার বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্কটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন জনসাধারণের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিশুরা এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে পার্কটি এখন সম্পূর্ণ ভুতুড়ে ও পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ বা তদারকি না থাকায় পার্কের ভেতরের চারদিকে বড় বড় ঘাস জন্মে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। শিশুদের আনন্দের জন্য সরকারি বরাদ্দে কেনা দৃষ্টিনন্দন দোলনা, স্লিপারসহ বিভিন্ন আধুনিক রাইডগুলো অবহেলায় পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা ধরে ও ক্ষয় হয়ে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কোয়ার্টারের মূল প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই পার্কটির সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। বাসিন্দারা জানান, বিকালে শিশুদের একটু মুক্ত বাতাস বা খেলাধুলার আর কোনো বিকল্প জায়গা নেই। পার্কের গেট বন্ধ থাকায় শিশুরা এখন গৃহবন্দি হয়ে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।
স্মরণিকা ফলক অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী পার্কটির প্রথম উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদানীন্তন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মওলা এর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের সুফল ধরে রাখতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। সরকারের মূল্যবান সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখে অবিলম্বে পার্কটি পরিষ্কার করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি উঠেছে। পার্ক উন্নয়নে বারবার বরাদ্দ নেওয়া হলেও বন্ধ থাকার কারণে এর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসে বসে থাকে এখানে, তাই পার্কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্ষার পর সংস্কার করে পার্কটি আবার খুলে দেওয়া হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে নলিন বাজারসংলগ্ন এলাকায় গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদীতে তলিয়ে যায় এবং সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা কয়েক কিলোমিটার জায়গা ঘুরে যাতায়াত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয়রা তা রোধের চেষ্টা করে। এ সময় নদীর স্রোত কমাতে সড়কের পাশে গাছের বড় বড় গুঁড়ি নদীতে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষিকা ময়না আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একটি স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা হলে সড়ক এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। মাসখানেক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে এলাকায়। প্রথমেই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি হতো না। সড়কটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ বন্ধসহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজারও পরিবার।’
এ ছাড়াও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শামসুল আলম বলেন, ‘শাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করতে দেখা যায়।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, ‘যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘পানির তীব্র চাপে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ছবি: সংগৃহীত
জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব জরুরি মুহূর্তেই বোঝা যায়। নওগাঁয় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ রক্তদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। সেই রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে মানবিক আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
গত সোমবার (২০ জুলাই) শহরের নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে প্রায় দেড়শ রক্তদাতাকে নিয়ে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রাহাদ হাসান আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার মো. আব্দুল মতিন।
নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব। স্পন্সর হিসেবে ছিল নওগাঁ পিপলস সিটি এবং জিমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।
নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের সদস্য রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, ‘ঢাকার মতো বড় শহরগুলোতে রক্তের খোঁজ পাওয়া যতটা সহজ, মফস্বল বা জেলা শহরগুলোতে সেই লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রক্তদাতার অভাব, যাতায়াতের সমস্যা এবং রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে বহু রোগীকে চরম সংকটে পড়তে হয়। এই সংকট দূর করতে এবং নওগাঁ জেলায় রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণ না যায়, সেই স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক তরুণের হাত ধরে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগের বেশি রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ আমাকে আনন্দিত করেছে। আশা করি, তারা ভালো স্টুডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও দেশ ও সমাজের জন্য ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের উপদেষ্টা কাজী আলমগীর, আব্বাস আলী, আরমান হোসেন রুমন, সাজু রহমান সুজন, শাহনেওয়াজ রক্সি প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আফরিন, রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান, সূচনা আফরিন, বর্ষা, কাজী জেরিন, স্নেহা নন্দী, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ফুটবল খেলা শেষে বল ধুতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
নিহত শিশুরা হলেন-ভালতা গুচ্ছগ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল (৬) একই গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে ফাইম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)। ফাইম ও সুরাইয়া আপন ভাই-বোন।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে খেলার পর বল ধোয়ার জন্য তারা গুচ্ছগ্রামের পাশের পুকুরে নামে। বেলা একটার দিকে স্থানীয় এক নারী পুকুরের পানিতে জাকিরুলের লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে জাকিরুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ফাইম ও সুরাইয়া ঘরে না ফেরায় তাদের পরিবার খুঁজে না পেয়ে স্থানীয় মিন্টু প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি পুকুরে নামেন। পুকুর থেকে তিনি ফাইমের লাশ উদ্ধার করেন। তবে সুরাইয়ার সন্ধান না মেলায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে খাসের পুকুর থেকে শিশু সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করেন।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চট্টলা সমিতির উদ্যোগে ৮০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ১৮০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবি চট্টলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন।
তিনি জানান, সমিতির সভাপতি ও ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ত্রাণ তহবিলে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া পূর্ববর্তী ত্রাণ তহবিল থেকে যুক্ত করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদান থেকে এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১০ টাকা।
ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৪৫টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের ১৫টি পরিবারকে একই হারে মোট ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক জুলফিকার সুলতানুল আমির।
এসময় সাজিদ হোসেন বলেন, 'প্রথমবারের মতো বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে, একই দেশের নাগরিক হয়েও তা বিশ্বাস করা কঠিন। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক দুর্যোগে চট্টলা সমিতির এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'
ছবি: সংগৃহীত
যে ভবন থেকে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য আর গানের সুর, আজ সেখানে অনেকাংশেই নীরবতার দীর্ঘশ্বাস। যেন বাধ্য হয়ে জীর্ণতাকে আলিঙ্গন করেছে সংস্কৃতি চর্চার এ ঘর। ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও, জীর্ণতা আর অবহেলায় নিজেই যেন হারিয়ে ফেলতে বসেছে নিজের পরিচয়। এই জীর্ণতা কাটিয়ে আবারও প্রাণবন্ত পরিবেশ ও নিজের জৌলুস ফিরে পাবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রত্যাশা জেলার সংস্কৃতিমনা মানুষের।
একটি জেলার সংস্কৃতি শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটি ছড়িয়ে পড়ে মানুষের চিন্তায়, মননে, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে। আর সেই স্বপ্নের কারিগর হওয়ার কথা যে শিল্পকলা একাডেমির, আজ সে একাডেমির দিকে তাকালেই মনে হয়— সময়ের ভারে ক্লান্ত এক পরিত্যক্ত ভবন। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। বিভিন্ন জায়গায় ফুটে উঠেছে অবহেলার চিহ্ন। আধুনিকতার ছোঁয়া না পড়ায় জৌলুস হারিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
এখানে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন হারাচ্ছে ভবনের চাকচিক্য। বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অভিভাবকদের বসার উপযুক্ত স্থানও নেই। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র, সাউন্ড সিস্টেম কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে এখানকার প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা। তাদের স্বপ্ন আছে, মেধা আছে, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ডানা মেলার মতো পরিবেশ নেই।
একসময় ঠাকুরগাঁও ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণবন্ত জেলা। নাটক, সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তিতে মুখর থাকত শহর। এখান থেকে উঠে এসেছেন অনেক গুণী শিল্পী।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য সেই চর্চার পরিসর আর আগের মতো বিস্তৃত হয়নি। সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতায় অনেক প্রতিভাই হারিয়ে যাচ্ছে অঙ্কুরেই।
মাহাবুব আলম বলেন, ‘সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি একটি জাতির পরিচয়, মূল্যবোধ আর মানবিকতার ভিত্তি। তাই একটি শিল্পকলা একাডেমির অবহেলা মানে শুধু একটি ভবনের অবক্ষয় নয়— ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া অসংখ্য স্বপ্নের আলো।’
গিটার শিখতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে আধুনিক কোনো বাদ্যযন্ত্র না থাকায় আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কোনোকিছু শিখতে পারছি না। এমন চলতে থাকলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’
শিশুকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, ‘এখানে অপেক্ষা করার মতো একটা ঘর বা বসার ব্যবস্থা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। আমরা এ সমস্যাগুলোর সমাধান চাই।’
সাংস্কৃতিক প্রেমি জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এখানে শিখবে, নিজেতের মেধার বিকাশ ঘটাবে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপক প্রসার না ঘটলে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা কালচারাল অফিসার মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমিতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কারের অভাব লক্ষণীয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানকার সকল শিল্পীগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে সংস্কৃতি চর্চার প্রসার ঘটবে।’
ঠাকুরগাঁও শান্তিপ্রিয়, সংস্কৃতিমনা মানুষের জেলা। এই জেলার শিশু-কিশোরদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। তাদের প্রয়োজন শুধু একটি আধুনিক, প্রাণবন্ত আর যত্নে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ঠিকানা। শিল্পকলার এই নীরব দেয়ালগুলো হয়তো আজও অপেক্ষা করছে— আবারও গান, নাটক আর করতালির শব্দে জেগে ওঠার জন্য।
মন্তব্য