চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) আওতায় প্রদর্শনী পুকুরের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৪টি বড় পুকুর ও ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় আরও একটি পুকুরে উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল ৪টি পুকুরের জন্য প্যাডেল হুইল এয়ারেটর এবং ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য মাছের খাদ্য, পোনা ও বীজ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা অলক চাকমা এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
এসময় চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ২১টি পরিবারের মাঝে ট্রাস্ট ফান্ডের মোট ৭৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়। সরকারি এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতাহতদের পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান,বিআরটিএ পরিদর্শক রাম কৃষ্ণ পোদ্দার সহ সরকারি - বেসরকারি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ,সুধীজন ও আর্থিক সহয়তা প্রাপ্তরা।
সড়ক পরিবহন আইনের ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ৫ লাখ, গুরুতর আহতরা ৩ লাখ ও আহতরা ১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের এই উদ্যোগ বিপদে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এ সময় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারীসহ সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে তিনি শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোসনা বেগমের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। এ সময় শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দেশের জন্য শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের এই অনন্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরে এসে নানামুখী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই সফরের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, স্থানীয় পথসভায় অংশগ্রহণ, সাফারি পার্ক পরিদর্শন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারতের এই বিশেষ কর্মসূচিটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষায় জাইমা রহমান রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে অংশ নেন। একই দিন রাতে বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, এবারের এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে জাইমা রহমানসহ মোট ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এখন দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর সর্বশেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই তারা আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার চূড়ান্ত সনদ পাবেন।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তার এই অর্জন আইনজীবী হিসেবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখার পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
নেতারা বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরও তাঁদের এই দাবি পূরণ না হওয়ায় আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে তাঁরা ধর্মঘট শুরু করবেন। ধর্মঘট শুরু হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে এর থেকে অনেক বেশি চলছে। মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের দফায় দফায় সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান করেনি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসড়কে যেন অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ৩ দফা দাবিগুলো হলো
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।
২. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
৩. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী আগস্টে শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (নিউক্লিয়ার ফুয়েল) লোডিং সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক শক্তির কৌশল, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ মূলত জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগ। তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে বড় ধরনের দায়িত্বও জড়িত রয়েছে। একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য শুধু প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকারী উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোর কাতারে শামিল হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। কেন্দ্রটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবায় ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা, কৃষিতে উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
মন্ত্রী জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এ জন্য উন্মুক্ত যোগাযোগ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
সেমিনারে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল।
এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রতিনিধি মেহমেত জেইহানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তবে নিখোঁজ নয়, জিসান আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ নিয়ে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধান দাউদকান্দি হতে নিখোঁজ হিসেবে শুক্রবার দাউদকান্দি থানায় এসে তার পক্ষে মো. রাসেল আহম্মেদ জিডি করেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় দাউদকান্দি বাজার এলাকা হতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। জিডির প্রেক্ষিতে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম উদ্ধার কাজে তৎপর হয়। অনুসন্ধানকালীন প্রথমত নিখোঁজ জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৫/৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
অনুসন্ধান আরো জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দি থানাধীন জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে জিসান ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিসান ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে বাচ্চা নষ্ট না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন জিসান। পরে ওই নারী প্রাণের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হন।
এসময় জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে ভুক্তভোগীকে খাওয়ালে ভ্রূণ নষ্ট হয়। এসময় ওই নারীর সুস্থতার জন্য জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হন। এর আগে ১১ জুন রাত ৮টার পর পর বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় উল্লিখিত জিডি করান। পরবর্তীতে নিখোঁজ জিডির অনুসন্ধানকালীন সময়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপন থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় হাজির হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাউদকান্দি থানায় মামলা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ফাইল ছবি
হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল আটটা তেকে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫১ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৯২ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৪৩।
প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় ওই শিশু মারা যায়।
মন্তব্য