বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই"।
বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, তাঁরা কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা চান না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে মাসদার হোসেন মামলার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মাসদার হোসেনদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না। বরং বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।" মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও আইনি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আপত্তির কড়া সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিএনপির ধমনিতে জুলাই সনদ মিশে আছে। তারা জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।" সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সকল আইন পরিমার্জনের আশ্বাস দেন তিনি।
বিতর্কিত 'জুলাই সনদ' প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বিএনপি তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। তবে জুলাই সনদ আদেশের কোনো সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি নেই। ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।" আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই সনদের কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে মন্ত্রী বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনটি ঘুরে দেখেন। সামগ্রিকভাবে মন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্য বিচার বিভাগের নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। আরো ৩ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে হেমায়েতপুর- সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকার সড়কে।
স্থানীয়রা জানান, সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সিএনজি'র অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। অপর ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয়পত্রে তার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঠিকানা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খোর্দ্দযোগিনী উল্লেখ থাকলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ট্রাকটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম, সেই প্রতিষ্ঠানই যেন আজ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। একসময় যে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছিল হাজারো মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্ভরতার ঠিকানা, সময়ের পরিবর্তনে অবহেলা ও অযত্নে সেই সেবাকেন্দ্রের ভবন এখন পরিণত হয়েছে ঝুঁকির প্রতীকে। প্রতিদিন অসুস্থ মানুষ সুস্থতার আশায় এখানে আসেন, কিন্তু জরাজীর্ণ ভবন তাদের মনে তৈরি করে অজানা আতঙ্ক। ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভাঙা দেয়াল-ছাদের ইট- সুরকি খুলে পড়ছে। ফলে সেবাগ্রহীতারা চরম আতঙ্ক রয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বর্তমান চিত্র এমনই করুণ। শতবর্ষের পুরোনো এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে নাজুক হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় জমে থাকে। এলাকার সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা চিকিৎসাসেবা নিতে ছুটে আসেন এখানে। কিন্তু তাদের অনেককেই চিকিৎসার পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত থাকতে হয়।
চিকিৎসা নিতে রোগীর অভিভাবক মনোয়ার হোসেন বলেন, চিকিৎসার ঠিকানা এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝুঁকির ছায়া আমরা দেখতে পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, এখানে অনেক রোগী আসে জায়গা সংকুলান হয়না। যে ভবনটি রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ অরক্ষিত থাকায় সন্ধ্যার পর সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে রোগীরা বলেন, সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি শুধু সংস্কার নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। কারণ এই কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবন ও সুস্থতার প্রত্যাশা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে হাজারো মানুষের শেষ ভরসা শতবর্ষের এই সেবাকেন্দ্র আবারও হয়ে উঠবে মানুষের আস্থা ও নিরাপদ চিকিৎসার ঠিকানা।
এবিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কয়েক দফা চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই পুনরায় চিঠি দিয়ে অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে জলবায়ু, অভিযোজন ও ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানি ও পয়:নিষ্কাশন বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রকল্পের উপকারভোগীদেরকে নিয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় শহরের এএফএডি কনফারেন্স কক্ষে অবহিতকরণ সভায় এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শহিদুল ইসলাম, ফিন্যান্স কো-অর্ডিনেটর মোস্তফা এহসান, ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, পাঁচগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার প্রমুখ।
জার্মানভিত্তিক মাল্টিজার ইন্টরন্যাশনাল বিএমজেড-পিটি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ (এএফএডি) সহযোগিতায় ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলেন্স এন্ড ইম্প্রুভিং লিভিং কনডিশনস অব ভালনারেবল কমিউনিটিজ ইন কুড়িগ্রাম এন্ড সাতক্ষীরা’ প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ও পাঁচগাছী ইউনিয়নে ৫৪০জন উপকারভোগীর জীবনমান উন্নয়নে ৪ বছর মেয়াদে কাজ বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের সুবিধাভোগীর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার নারী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, অতিদরিদ্র ও নৃ-তাত্মিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি ও তাদের পরিবার।
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরে বানু বলেন, আমাদের বাড়ি পদ্মা নদীর একেবারে ধারে। সারাক্ষণ ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হয়। কখন যে নদী ঘরবাড়ি, জমিজমা গিলে খাবে, সেই ভয় সবসময় থাকে। এখানে কোনো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। কেউ অসুস্থ হলে নৌকায় করে অনেক দূরে হাসপাতালে যেতে হয়। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় সময়মতো চিকিৎসাও পাওয়া যায় না। বিজিবি এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করায় খুব উপকৃত হয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প নিয়মিত হলে সীমান্ত এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিলীন হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাম্পে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি, সব রোগীকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এবং উপঅধিনায়ক সাজ্জাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের বরেণ্য গল্পকার ও দ্রোহের কবি বাবু ফরিদীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে গত সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ‘সাহিত্য ভবন’-এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. তপন বাগচী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তপন বাগচী কবি বাবু ফরিদীর লেখনীর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, বাবু ফরিদী শুধু একজন সাধারণ লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের কারিগর। তার গল্প ও কবিতা যুগে যুগে শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সুস্থ মানসিকতা গঠনে এবং বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে তার ক্ষুরধার লেখনীর গুরুত্ব অপরিসীম। তরুণদের মাঝে তাঁর সৃষ্টিকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে।
স্মরণ সভায় কবি বাবু ফরিদীর একমাত্র সন্তান অধ্যাপক দেবব্রত গুহ দেবু তার বক্তব্যে কবির সৃষ্টি ও আদর্শকে তুলে ধরার তাগিদ দিয়ে ‘বাবু ফরিদী স্মৃতি সংসদ’গড়ে তোলার আহবান জানান।
স্মরণ সভায় প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক বদিউজ্জামান চৌধুরী ভাদু, রাজনীতিবিদ এ এফ কাইয়ুম জঙ্গি, ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, কবি বাবু ফরিদীর সহধর্মীনি কৃষ্ণা গুহ, কবি শফিক ইসলাম, কবি রেহেনা আক্তার পিয়া, কবি আব্দুস সামাদ, কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা নাট্যকার ম.আহমেদ নিজাম- কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন।
স্মরণ সভাটি কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যপ্রেমী ও গুণীজনদের অংশগ্রহনে একটি সাহিত্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির আগমন। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
গত রোববার (১৯ জুলাই) সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় দুই থেকে তিনশত শামুকখোল পাখি একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের আলোয় আশপাশের জলাশয় ও কৃষি জমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুল ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এ ছাড়াও নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখিগুলোর পদচারণা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই শামুকখোল পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে ভিন্নরকম বৈশিষ্ট্য।
পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ঘাস দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়। প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোল পাখির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় একই এলাকায় ফিরে আসে শামুকখোল পাখি। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বনবিভাগ বগুড়ার নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমণ করে। সাধারণত যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পায়, সেখানেই কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। তিনি আরও বলেন, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এই অতিথি পাখিদের কেউ যেনো কোনোভাবে বিরক্ত না করে বা শিকার করতে না পারে, সেজন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু থাকলেও আগামী এক মাসের মধ্যে এর পরিধি ৬০টি মোড় ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যানজট কমাতে গত এক বছরে শহরের ৭৫টি স্থানে রাস্তার নকশা ও চলাচলের পথে কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে জিপিএস ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে ডিএমপির।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আধুনিকায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জনবল সংকট ও কর্মঘণ্টার হিসাব দিয়ে বলেন, "বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন।" এর মধ্যে প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিরতিহীনভাবে তিন পালায় দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং বাকি পয়েন্টগুলোতে দুই পালায় ডিউটি চলে বলে তিনি জানান।
সীমিত জনবল দিয়ে মেগাসিটির ট্রাফিক সামলানোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, "সীমিত জনবল দিয়েই রাজধানীর যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন ধরনের মডিফিকেশন করা হয়েছে। কোথাও ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সড়কের চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।" এই উদ্যোগের ফলে মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও নতুন করে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে আসাদ গেট সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে ইউটার্ন ব্যবস্থা করায় যানজট অনেকাংশে কমেছে। তিনি জানান, সেখানে এখন বাম লেন সর্বদা সচল থাকছে এবং জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও কমেছে।
একই ধরনের প্রকৌশলগত পরিবর্তন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী এবং মিরপুরের কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও কার্যকর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের মতে, "রাজধানী ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। এখানে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা গেলে সেটিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।" তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সনাতন পদ্ধতির বদলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হচ্ছে যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধান ১২০টি পয়েন্টে কার্যকর হবে।
মন্তব্য