বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পটুয়াখালী জেলার চান্দুপাড়া সঞ্জীবন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি, উৎপাদনমুখী সামাজিক বিনিয়োগভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যদের আত্মনির্ভরশীলতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি প্রকল্পভুক্ত দুই প্লাটুনের মোট ৬৪ জন উদ্যোক্তার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করেন।
৮ ডিসেম্বর (সোমবার) সকাল ৯টায় প্রকল্পস্থলে উপস্থিত হয়ে মহাপরিচালক প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ‘সামাজিক সুরক্ষা দল–১’ (কলাপাড়া, পটুয়াখালী) এবং ‘সামাজিক সুরক্ষা দল–২’ (বেতাগী, বরগুনা)–এর উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এসময় তিনি বলেন, “সামাজিক বিনিয়োগ মডেলভিত্তিক সঞ্জীবন প্রকল্প সদস্যদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মৌলিক চাহিদা পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “সঞ্জীবন, আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি কৃষি ও অকৃষি—উভয় খাতে প্লাটুনভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত সদস্যদের জীবিকা উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।”
বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন যে আধুনিক প্রশিক্ষণ, দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিক আদর্শ সমন্বয়ে প্রতিটি সদস্যকে নিজেকে আরও দক্ষ ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতীয়মান করতে আনসারের সকল স্তরের সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয়তাবোধ প্রদর্শন করতে হবে।”
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক সঞ্জীবন প্রকল্পের জমির কাগজপত্র ও দলিলাদি পর্যালোচনা করেন এবং সম্ভাব্য জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং নির্বাচনের পূর্বে সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে এবং উপস্থিত সদস্যদের মাঝে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর বরিশাল রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যবৃন্দ।
দেশজুড়ে বহমান তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়াতেও তাদের বাইরে বের হতে হচ্ছে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আয় কমে যাওয়ার মতো দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তারা। এ তাপপ্রবাহ আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নাগাদ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এ তথ্য দিয়েছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
হামিদ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে বৃহস্পতিবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তাপপ্রবাহ কমে আসবে শুক্রবার।’
এদিকে এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় এবং বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজশাহীতে তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: চলমান তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে। এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ ।
এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা দুই-তিন দিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা।
কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিটস্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও। কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছেন না।
মো. রহিদুল নামের এক দিনমজুর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে যত কষ্টই হোক, কাজ করতে হচ্ছে।
রিকশাচালক সইমুর বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না বলে আয়ও তেমন হচ্ছে না।
শহরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে ভীড় করছেন পেটের দায়ে গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নামা মানুষ।
জীবননগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলাজুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।
রাজধানীর মুগদার একটি বাসা থেকে তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উত্তর মুগদার আহমদবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন জানান, দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান তারা।
তিনি আরও জানান, শুভর অফিসের সহকর্মী ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানায়, তানভীর হোসাইন শুভর বাবার নাম তবারক হোসেন। তাদের পারিবারিক বাসা সেগুনবাগিচায় হলেও তিনি মুগদার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঈদের দিন সর্বশেষ তাকে দেখেছিলেন বাড়ির মালিক। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তানভীর হোসাইন শুভ বিবাহিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাড়ির গেটে দুই বোনকে চাপাতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া দুজন হলেন জুয়েল ওরফে সোর্স আরিফ এবং আনোয়ার হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রানা রায়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহীন মাহমুদ।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরের একটি বাসা থেকে মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল্লাহ। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পরিবার তার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পরিবার।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকাগামী বাসের চাপায় দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ছয় শ্রমিক। বুধবার (৩ জুন) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকরা হলেন মাহফুজ (৩৫) ও জামাল (৩৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় একদল শ্রমিক কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি গাড়িতে বসে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের চাপা দেয়। বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মাহফুজ ও জামাল নামের দুই শ্রমিক প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করেন।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন চান মিয়া (৪০), সেলিম (৩৫), বরকত (৩২) এবং জসিম (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর–শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ–ছিনতাই চক্রের ৯ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।
গ্রেপ্তাররা হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে সাদমান সাকিব রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। আসার পর তিন থেকে চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল আনতে বাজারে যান ওই সময়টায় তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। বিশেষ করে যারা একা থাকত তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। তিনিসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ফজলুল করিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
রাজধানীর লালবাগ থানার নিউ পল্টন লাইন এলাকার একটি বাসা থেকে মো. তানজিল হোসেন (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৩ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তানজিল হোসেন নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ৫৩/১ নম্বর বাসার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজনের ছেলে। তিনি বর্তমানে লালবাগের নিউ পল্টন লাইনের ১৫২/৬ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে নিউ পল্টন লাইনের একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তানজিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক তরুণীর সঙ্গে তানজিলের প্রেম ছিল। সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রেমিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এর জেরে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তানজিল।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রেখেছে লালবাগ থানা পুলিশ।
মন্তব্য