ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পলাতক আসামি কবির আহম্মদ চৌধুরী প্রকাশ একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফুলগাজীর আমজাদহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা ছাগলনাইয়া থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় হামলাকারী ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— ফুলগাজী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাফিদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দিদার ও কনস্টেবল সুমন।
পুলিশ জানায়, পলাতক আসামি কবির আমজাদহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ছাগলনাইয়া থানায় করা একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি।
মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। এ সময় তারা কবিরকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তার সহযোগী ও স্বজনদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসামির স্বজনদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম জানান, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে গত বছরের ৬ অক্টোবর কবিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তখন তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়।
বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সনাক্ত হলো গৃহবধুর সপ্নার পরিচয়।
গতকাল কুষ্ঠিয়ার মিরপুরের ট্রেন লাইন থেকে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ রাখা হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
তার পরিচয় সনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া হয় ছবি।
ছবি দেখে সনাক্ত হয় গৃহবধু মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের পুরাতন মটমুড়া গ্রামে মোবাইল মেরামতকারী সুজনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী স্বপ্না।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের রাজধানী পাড়ার মৃত রেজাউল হকের মেয়ে স্বপ্নার সাথে মটমুড়া গ্রামের সুজনের বিয়ে হয় প্রায় ১ যুগ আগে। সুজন স্বপ্নার সংসারে রয়েছে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে।
স্বপ্নার মৃত্যুতে শোকে ভাসছে দুটি পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনরা।
সপ্নার মৃত্যুর সংবাদে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন স্বামী সুজন আলী।
স্বপ্নার শাশুড়ি জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বিকেলে সে পাশের বাড়িতে যায়। ফিরে এসে জানতে পারে তার পুত্রবধু স্বপ্না বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুনতে পাই স্বপ্নার মৃত্যুও খবর।
গৃহবধু স্বপ্নার মা জানিয়েছে তার মেয়ের সাথে দুদিন কোন কথা হয়নি। শনিবার রাত ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবেশীরা স্বাপ্নার ছবি দেখে তাকে দেখালে সে তার মেয়ে স্বপ্নাকে চিনতে পারে। আমি এখন কি করবো? আমার সাথে এম কি হলো? যে সে নিজ জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে আত্মহত্যা করলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জি এস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসান আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই দিন ধার্য করেন।
এর আগে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম এই রিট করেন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদালতের আজকের কার্যতালিকার ২৮৫ নম্বর ক্রমিকে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছিল। তবে ব্যস্ত কার্যসূচির কারণে আদালত তাৎক্ষণিক শুনানি না করে মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।
হবিগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মো. আকবর আলী (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র্যাব-৯। গ্রেপ্তার চুনারুঘাট উপজেলার উসমানপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ মার্চ ভুক্তভুগীর সঙ্গে একই বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামী তার শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাবাকে জানান। পরে বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের ৫ অক্টোবর থেকে একই গ্রামের আবু তাহের ও আকবর আলী বিভিন্ন সময়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন।
গত ৮ মে তাকে মেডিক্যাল টেস্ট করানো হলে জানা যায়, ২৭ সপ্তাহ ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা তিনি।
এ ঘটনায় গত ১১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প গতকাল শনিবার উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতি. পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গ্রেপ্তার আকবরকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে পড়লো দুইটি পিও জুতার ফ্যাক্টরি। পরবর্তীতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৩০ আগষ্ট) রাত পোনে ৯টার দিকে পৌর শহরের লক্ষীপুর এলাকার উসমান মোল্লার মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরের লক্ষ্রীপুর এলাকার উসমান মার্কেটের অগ্নিকান্ডে ঈগল পিও ফুটওয়ার ও চেইন্স পিও ফুটওয়ের ফ্যাক্টরির সকল যন্ত্রাংশ ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানান বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পরে। তবে কারখানা দুইটির কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল ও সরঞ্জাম পুড়েছে।
স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, রাত পোনে নয়টা আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অনেক চেষ্টা করে রাত সাড়ে ১২ টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় দোকানদার ইকরাম মোল্লা রানা বলেন,আমার দোকান হচ্ছে এই ফ্যাক্টরির বিপরীত পাশের এক কোণায়। যখন দেখতে পেলাম দুইটা লোক দৌড় দিয়ে এদিকে আসলো তখন আমি সামনে গিয়ে দেখি ফ্যাক্টরির দরজা জানালা বন্ধ কিন্তু ভিতরে আগুন দাঊ দাঊ করে ধরতেছে। সবাই ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু কারও কাছে ফোন না থাকার কারণে সঠিক সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে দেরি হয়ে গেছে। যদি সঠিক সময় খবর দিতে পারতো তাহলে হয়তো বেশী আগুন লাগতো না।
ফ্যাক্টরি জায়গার মালিক আবুল বাশার বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে একটি টিম পরে আরো একটি টিম এসে কাজ করেন।
দেখাযায় আগুন প্রথমে চেইন্স ফ্যাক্টরিতে লাগে। আর ফ্যাক্টরিতে ঢোকার পরে দেখা যায় ধোয়া আর ধোয়া। পরে এই আগুন সাথের ঈগল ফ্যাক্টরি আগুন লাগলে পরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। অনেক চেষ্টার পরে রাত সাড়ে বারোটায় নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দেখা যায় স্থাপনা ছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে।
ঈগল ফুটওয়্যারের সহকারী পরিচালক মো: সুহাস জানান, আরামকো, ঈগল ও চেইন্স তিনটি ফ্যাক্টরি একসাথে ছিলো। চেইন্স ফ্যাক্টরিতে ধোয়া দেখতে পেলে ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষ না থাকায় ও ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে দেরি হয়ে যায়। ততক্ষনে চেইন্স ফ্যাক্টরির সকল কিছু পুড়ে যায়। আর আমাদের ফ্যাক্টরিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে আর সকল কিছু পুড়ে যায়। আমাদের প্রায় ৩-৪ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো: আল-আমিন মিয়া বলেন, আগুন লাগার খবর মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তাড়াতাড়ি আসি। এসে দেখি দুটো ফ্যাক্টরি আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এতে করে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে। প্রায় সময় এসব ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে কিন্তু কেন এমন হয় তার কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা চায় যে এ-ই পর্যন্ত যতো ক্ষতি হয়েছে সরকার যেন একটু নজর দেয়।
পিও ফুটওয়্যার এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম বাচ্চু বলেন, খবর পেয়ে জানতে পেরে এসে দেখি আগুনে দুটো ফ্যাক্টরির সকল মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে শীতের সিজন হিসেবে তাদের অনেক মালামালের তৈরির কার্যক্রম ছিলো কিন্তু আগুনে সব শেষ। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এই ক্ষতি যেন অনুদানের মাধ্যমে পুষিয়ে দেয় সেই দাবী জানাচ্ছি।
ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর রাজন আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে চলে আসি। প্রায় দুই ঘন্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। আগুনে দুটো ফ্যাক্টরি চেইন্স ফুটওয়্যার ও ঈগল ফুটওয়্যারের সকল কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়। আর সামনের ৫-৬ টি দোকানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে দুটো ফ্যাক্টরির কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এছাড়া কি কারণে আগুন লাগতে পারে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট কিংবা কোন মিশিনারিজ চালু হওয়া থাকলে হয়তো আগুন লাগতে পারে। পরে তদন্ত করে জানতে পারবো।
রাজধানীর গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ।
অভিযানে ১০৩টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৬৮টি অ্যান্ড্রয়েড এবং ৩৫টি বাটন ফোন রয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আব্দুল মান্নান (৫০), মো. সিয়াম মিয়া (১৮), মো. আব্দুর রহমান (১৮), মো. সাজু মিয়া (২১), মো. আব্দুল্লাহ ইবনে আল মাকসুদ আরাফাত (২০), নাজমুল ইসলাম (১৮), মো. আব্দুল (১৮), মো. রাকিব (১৮), মো. রেজাউল হক (৫৫) ও মো. আশরাফুল (১৯)।
গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শনিবার গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় তিনি বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সাড়ে ৪টায় জামায়াতের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হবে। শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। গত ২১ জুলাই মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে বিক্ষোভের পর দলগুলোকে বৈঠকে ডেকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন সরকারপ্রধান। পরের দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একই বার্তা দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ আগস্ট তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে যখনই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখনই দলগুলোকে ডেকে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গত এক বছরে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচবার করে বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে।
শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এই ভিপির মাথায় আঘাত লেগেছে, ভেঙেছে নাকের হাড়।
এ পরিস্থিতিতে দলগুলোকে আবার ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির পর সামনে অন্য দলগুলোকেও বৈঠকে ডাকা হতে পারে। অতীতেও এ রীতি দেখা গেছে। গতকাল সরকারের বিবৃতিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে সরকার। জুলাই সনদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের কারণে ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা– এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ।
তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও গতকাল বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।
বৈঠকে যাবেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুলের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাচ্ছে। জামায়াতই প্রথম ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল। নির্বাচনের সময় নিয়ে জামায়াতের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোট হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।
এর আগে প্রেস সচিব জানান, শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। এতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; জনগণের প্রতি যা অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ফতুল্লার শিহাচর বড় বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- শিয়াচর এলাকার আমির আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে লামিয়া (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮ টার দিকে পাম্প নিয়ে বাড়ির পেছনে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সেচতে যান রোকসানা বেগম ও তার মেয়ে লামিয়া। এসময় পাম্পের সংযোগ তার লিকেজ হয়ে রোকসানা বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে শরীরে স্পর্শ করলে তার মেয়ে লামিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মা ও মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি খুব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য