২০২৪ সালের ১৫ জুলাই (সোমবার) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
ছাত্রলীগের এই হামলায় সারাদেশে চার শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আহত হন ২৯৭ জন শিক্ষার্থী। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদিন হাসপাতালে গিয়েও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।
আগের দিন ১৪ জুলাই বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটুক্তি করেন। এ কটুক্তির প্রতিবাদে রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রাত ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলসহ প্রায় প্রতিটি আবাসিক হল থেকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন শত শত শিক্ষার্থী।
পরের দিন ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তার আত্মস্বীকৃত রাজাকার, গত রাতে নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। এর জবাব ছাত্রলীগই দেবে।’
সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা নিজেদের ‘রাজাকার’ বলে স্লোগান দিয়েছে, তাদের শেষ দেখে ছাড়বেন বলে হুমকি দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
এই দুইজনের এমন বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর স্বশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
১৫ জুলাই বেলা ১২টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত সাত কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ার দিকে মিছিল নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। বিজয় একাত্তর হলের সামনে সংঘর্ষের সূচনা হয়। তখন আশপাশের হল ও মধুক্যান্টিন থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এসে মল চত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। ছাত্রলীগের হামলার মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ভিসি চত্বর এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড, হকিস্টিক, রামদাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ভেতর আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও তাদের মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়।
ছাত্রলীগের হামলায় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে দিগ্বিদিক চলে যান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ, মহানগর শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মহড়া দেয়। এ হামলায় অনেক নারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।
এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটেও আহত শিক্ষার্থীদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আহতদের মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছে। ককটেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। আমাদের ওপর এ হামলা পরিকল্পিত। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
ক্যাম্পাসের সহিংসতার ঘটনায় করণীয় ঠিক করতে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে বেঠক করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।
বৈঠক শেষে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রাধ্যক্ষরা রাতভর হলে অবস্থান করবেন।’
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় পুলিশ। সন্ধ্যার পরপরই ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১৫ জুলাই রাত ১০টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল তল্লাশি ও মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। স্যার এ এফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হলে এমন ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন যুক্ত কি না, তা যাচাই করতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল তল্লাশি করা হয়। আন্দোলনে সম্পৃক্ততা পেলেই মারধর করা হয়।
এদিন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা ও মারধর করেকলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা। শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনে যেতে না পারে, সেজন্য কলেজের গেটে তালা দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যান।
কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কটুক্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা অতিক্রম করে পুরান ঢাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। এর আগে জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে দফায় দফায় হামলা করে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক আবদুর রশিদ জিতুসহ ১৫ জন আহত হন।
এর আগে ১৪ জুলাই মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শতাধিক বহিরাগত নিয়ে এ হামলা চালানো হয়। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তারা ভিসির বাসভবনে আশ্রয় নেন।
১৫ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দুই দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও কাটাপাহাড় সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরেও কোটাবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
এদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ বাম ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। যশোরে এম এম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে ছাত্রলীগ। দুপুুরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালায়। এদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর থেকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এছাড়া রাজধানীর বাইরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দেওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও লাগে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাজাকারের পক্ষে স্লোগান রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। এটি সরকার বিরোধী নয়, এটি রাষ্ট্র বিরোধী স্লোগান।’
এদিকে কোটা আন্দোলনে যারা নিজেদেরকে রাজাকার বলে স্লোগান দিচ্ছে, তাদেরকে ‘এ যুগের রাজাকার’ বলে অভিহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘এ যুগের রাজাকারদের পরিণতি, ওই যুগের রাজাকারদের মতোই হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টায় দেশব্যাপী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং এই আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং নিন্দা জানাই। তার এমন বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ভারতে আটককৃত বাংলাদেশি জেলেদের গ্রহণ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংলগ্ন ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতীয় কোস্ট গার্ড ৪ টি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলে ও ফিশিং বোটসমূহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (IMBL)-এ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের নিকট হতে ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে ৪টি ফিশিং বোটসহ গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ফলে এ ধরনের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সহজতর হয়েছে।
পরবর্তীতে সোমবার (৮ জুন) বেলা ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় জেলেদের তাদের ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাকমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও দেশের জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড ডকইয়ার্ড ও বেজসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে শারীরিক গঠন দেখে পুলিশের ধারণা মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর হতে পারে।
এ বিষয়ে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছি। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সোহানা খাতুন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার (৮ জুন) দিনগত রাতে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পেয়ারাতলা গ্রামের ফুলতলার মসজিদের সন্নিকটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোহানা খাতুন জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের মোল্লা আব্দুর জব্বারের মেয়ে। পেয়ারাতলা গ্রামে তারা একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষে সোহানা নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। পরদিন সোমবার (৮ জুন) ভোরে তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার মা ও পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।
পরে বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে মরাদেহ চুয়াডাঙ্গা মর্গে প্রেরণ করে। আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির সূত্রাপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রাজু আহমেদ শিপলু (৩৭), ইরফান অমি (৩৮) ও মো. আলমগীর (৫০)।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে বাসায় তালা দিয়ে ঢাকার বাইরে বেড়াতে যান সূত্রাপুর থানার উল্টিনগঞ্জ লেনের একটি বাসার ভাড়াটিয়া। পরে বুধবার (৩ জুন) সকালে বাসায় এসে দেখতে পান দরজার তালা ভাঙা এবং বাইরে থেকে ছিটকিনি দেওয়া। এ ঘটনায় স্বর্ণালংকার, একটি টেলিভিশন ও নগদ অর্থসহ প্রায় ১৬ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয় দাবি করে সূত্রাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সূত্রাপুর থানা পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে এবং সোমবার (৮ জুন) সূত্রাপুর ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে শিপলুর যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া এক জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, একটি টেলিভিশন, একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার সাভার পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়ায় চোর ও ডাকাতের উপদ্রব বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রোববার (৭ জুন) গভীর রাতে উত্তরপাড়ার নৈশপ্রহরীরা সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারধর করে। খবর পেয়ে সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে অভিযোগ না থাকায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা সাধারণত বাড়ির বারান্দা বা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাসার সদস্যরা জেগে উঠলে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়।
উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়ির নিচ তলার রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তার মা মনোয়ারা বেগমের শয়নকক্ষ থেকে এক লাখ টাকা, দুটি সোনার কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই এবার বিষয়টি পুলিশকে জানাইনি এবং কোনো অভিযোগও করিনি।’
একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা আজিজুর রহমানের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ফরহাদ হোসাইনের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ফরহাদ জানান, চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা তার মামাতো বোন রুমির কক্ষের দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে।
তিনি আরও জানান, এরপর ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিন ভরি রুপা, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ফরহাদ হোসাইন বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সোমবার (৮ জুন) পর্যন্ত মামলা রুজুসহ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, ‘অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উত্তরপাড়ার মসজিদের পাশের হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও গ্রিল কেটে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে সাভার লাইব্রেরির মালিক হোসেন আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে নেপাল চন্দ্র সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পাঁচ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
নেপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি বারান্দার গ্রিল কাটা এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত গ্রিল কেটে তাদের বাড়িতে ঢুকে তার মা জাহানারা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
রিপনের অভিযোগ, ‘ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ তদন্তে আসেনি।’
সন্দেহভাজন চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এএসআই এনামুল হক জানান, চোর সন্দেহে আটক করার পর এলাকাবাসী তাদের মারধর করে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সোমবার (৮ জুন) ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কৌশল, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যরা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
তিনি চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর উপায় হলো উদ্যোক্তা উন্নয়ন। সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রকল্প কার্যক্রমের সূচনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, এলাকা-ভিত্তিক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নির্বাচন, সদস্যদের অংশগ্রহণ ও শ্রমের মূল্যায়ন, লভ্যাংশ বণ্টন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ, সদস্যপদ ত্যাগ অথবা সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন সঞ্জীবন প্রকল্পের সদস্যপদ, সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালনা কাঠামো, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ পদ্ধতি এবং আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে টিএমএসএস-এর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে টিএমএসএস-এর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
এছাড়াও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সঞ্জীবন প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা, সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায় এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সহায়তা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনা প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সম্যক ধারণা প্রদান করে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সঞ্জীবন প্রকল্পকে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে প্রকল্পকে একটি টেকসই ও জনকল্যাণমুখী মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে গ্যাস চুরির ঘটনায় একটি কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স টিম। চোরাই বাইপাস লাইন করে বৈধ সংযোগের আড়ালে অবৈধভাবে বাইপাস গ্যাস লাইন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস চুরি করে আসছিল বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলীম রাসেল।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সোমবার (৮ জুন) হাইটেক ট্যানারি নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরুর পর অবৈধ চোরাই বাইপাস লাইন শনাক্ত হয়।
অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে দেখা যায় প্রস্তাবিত নতুন বৈধ শিল্প সংযোগের আড়ালে অবৈধ বাইপাস গ্যাস লাইনটি চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইপাস গ্যাস লাইনটি ভূগর্ভস্থ আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে কারখানার স্বত্বাধিকারী মুজাফফর হোসেন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলিম রাসেল জানান, এ ঘটনায় শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিতাসের ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের সহযোগী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, দীর্ঘ এক ঘন্টা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অবৈধ সংযোগ নিয়ে কারখানাটিতে বয়লারসহ বিভিন্ন ড্রায়ার, লেদার স্প্রে প্রিন্টিং মেশিন ব্যবহার করা হতো। বৈধ গ্যাস লাইনের আড়ালে রাইজারের গোড়ার প্রায় চার ফুট গভীরে আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে বিভিন্ন সাইজের জিআই ও এমএস পাইপ দিয়ে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই বাইপাস করে গ্যাস ব্যবহার করা হতো এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানায়। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার গ্যাস চুরি হতো বলে জানান তিনি।
মন্তব্য