ঈদ আসন্ন। শেকড়ের টানে ঘরে ফেরা শুরু করছে মানুষ। বরাবরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ট্রেন। যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিট, নিরাপত্তা ও সময় বাঁচানোসহ নানা দিক বিবেচনায় রেলপথকে বেছে নিচ্ছে যাত্রীরা। ঈদযাত্রা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট কাটতে অনলাইনে ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন তারা। ৩৫ হাজার ৯১৩টি টিকিটের জন্য ১৭ মার্চ রেলওয়ে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভিজিটর হিট করেছে প্রায় আড়াইকোটি বার। এখন পর্যন্ত কোন টিকিট অবিক্রিত নেই।
এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকার প্রধান দু’টি রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সকল আন্তঃনগর স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের জন্য কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মেডিকেল টিম থাকবে।
টিকিট কালোবাজারি, ছাদে ও বিনা টিকিটে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসরকারি ট্রেনের মালিকরা যেন অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কেউ লোকাল ট্রেনের টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে অন্য ট্রেনে যেন উঠতে না পারে সে সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রার বিশেষ দিনের আগেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসছেন অনেক ঘরমুখো মানুষ। যারা চাকরি করছেন তাদের অনেকের পরিবারকে আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা স্টেশনের গেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে প্লাটর্ফমে প্রবেশ করছেন। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। বাহির পথেও যাত্রীরা নিরাপদে বের হচ্ছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে বিভাগ থেকে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় রেলসেবাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দু’টি রেলওয়ে অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল ৮টায় ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর ২টায় টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এই দু’সময়ে রেলওয়ে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ব্যাপক ট্রাফিক হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ.কম। তবে এবার ব্যাপক ট্রাফিকেও সার্ভার ডাউনের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রেনের টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সিইও সঞ্জীব দেবনাথ বাসসকে জানান, এবারের অনলাইন সেবা অনেক আরামদায়ক হয়েছে। টিকিট কাটতে কোন ধরনের সার্ভার জটিলতায় পড়তে হয়নি। এক সেকেন্ডের জন্যও সার্ভার বন্ধ হয়নি। একসাথে কতজন টিকিট কাটার চেষ্টা করছে তা গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া গ্রাহকের নির্দিষ্ট স্টেশনে টিকিট শেষ হয়ে গেলে তাকে আগে ও পরের স্টেশনের সাজেসন দেওয়া হয়। যা যাত্রীদের জন্য অনেক আরামদায়ক হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় ১৪ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জন্য দুপুর দুটায় ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সকাল আটটায় দশদিন পরের টিকেট বিক্রি করা হয়। এবারের ঈদে সারাদেশে চলাচলকারী ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের বাইরেও পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনগুলো তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করবে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান ৪৯০ জন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে অতিরিক্ত ২০০জন আনসার সদস্য যুক্ত হবেন। বিনা টিকিটে ভ্রমণ বন্ধ করতে আমরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবো। ইতোমধ্যে আমরা প্রবেশ ও বাহিরের জন্য আলাদা গেইট তৈরি করেছি। এতে করে বিনা টিকিটে কেউই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। আর প্রবেশ ঠেকানো গেলে বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম হবো।
কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে রেলওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা পুলিশের পলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বাসকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবো। স্টেশনের প্রবেশপথে আমাদের পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি, এপিবিএনের সদস্যরা থাকবেন।
সাথে সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা থাকবেন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হবে। একই সেবা ঢাকা বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনেও থাকবে।’
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে স্টেশনে ইতোমধ্যে যাত্রীর আনাগোনা বেড়েছে। টিকিট করে প্লাটফর্মে ঢোকানো ও বের করা হচ্ছে। এবারের ঈদ যাত্রায় প্রত্যেক রুটে ট্রেনগুলো শিডিউল মেনে চলবে। সবমিলিয়ে ঈদযাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে রেলওয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করছে। নিরাপদ ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তোলে ছাদে ওঠা যাত্রীরা। এবার যেন ছাদে ও বিনা টিকিটে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর হবো। বিশেষ করে কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর স্টেশনে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করবেন।’
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল মঙ্গলবার নগরভবন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে এক হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘এই কার্ডে মাধ্যমে ৪৫০টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন কার্ডধারীরা। এমনকি ১০০ শতাংশও ছাড় পাবেন তারা।’
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু তারা চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাই তাদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করছি। এরমধ্যে দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানও উৎসাহিত হবেন।’
তিনি বলেন, ‘একদিন যদি পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা না নেন তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়াবে৷ তাই কর্মীদের স্বাস্থ্য দিকটি আমাদের দেখতে হবে।’
এসময় নগরবাসীর উদ্দেশে প্রশাসক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমি অনুরোধ করবো, যেন সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সচেতন হই। যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। এবং ঢাকা আমার শহর, এটাকে গর্ব করি, তবেই ঢাকা সুন্দর হয়ে উঠবে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবা কার্ডটি প্রদানে সহযোগিতা করছে হারপিক, সাজেদা ফাউন্ডেশন, সুইডেন সভেরিয়ে ও একশান এইড।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগর উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে যত বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্রই আসুক না কেন? নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু সুরক্ষায় শিশু ও যুব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ শীর্ষক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘একটা পর্যায়ে গিয়ে তিনি অবশ্যই সফল হবেন। ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ এ অবস্থানে এসেছেন। ভালো কাজের ক্ষেত্রে নানা বাধা থাকে। তবে থেমে থাকলে চলবে না, সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর জন্য সচেতনতামূলক ও উন্নয়নমূলক সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম ও ইতিবাচক উদ্যোগ যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বাসাবাড়ি, ছাদ, ছাদবাগান ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সচেতনতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। ক্লিন ঢাকা-গ্রীন ঢাকা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে, এরপর সবুজায়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেগুনা, রিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনে কর্মরত শিশুদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে প্রশাসক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক মেধা বিকাশে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, মেধা বিকাশের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নেতিবাচক প্রচারণা গ্রহণ করা হবে না। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, যে শিক্ষার্থী সংগীতে ভালো, সে যেন বিদ্যালয় থেকেই উন্নত প্রশিক্ষণ পায়। যে বিতর্কে দক্ষ, সে যেন বিশ্বমানের বিতার্কিক হওয়ার সুযোগ পায়। আবার যে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কিংবা হাডুডু খেলতে চায়, সে যেন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হওয়ার পথ খুঁজে পায়। এ লক্ষ্যেই সরকার স্কুলভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বাজার পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের সরবরাহ ও বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে বাজারে উপস্থিত ক্রেতাদের কাছ থেকেও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার কারওয়ান বাজার এবং মঙ্গলবার মহাখালী ও মোহাম্মদপুরের বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে সন্তুষ্টির চিত্র দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শরীফুল আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের লাভ করার সুযোগ থাকতে হবে, তবে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।
বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন একটি আইন পাস করেছে সুইডেন। নতুন আইনের আওতায় কোনো অভিবাসী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হলেও ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগে তার আবাসিক অনুমতি (রেসিডেন্সি পারমিট) বাতিল করা যাবে।
গত সোমবার সুইডিশ পার্লামেন্টে আইনটি পাস হয়। ফলে বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা, কর ফাঁকি দেওয়া, ঘোষণাবিহীন কাজ করা কিংবা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার মতো আচরণকে আবাসিক অনুমতি বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
নতুন আইনটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যাদের আবাসিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এটি পূর্ববর্তী অনুমতির ওপরও কার্যকর হবে।
কোন আচরণে বাতিল হতে পারে অনুমতি?
আইনটিতে ‘খারাপ আচরণ’-এর নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি। তবে সরকার কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-
১. বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা।
২. কর না দেওয়া বা কর ফাঁকি।
৩. ঘোষণাবিহীন বা অবৈধ কাজ করা।
৪. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা।
৫. উগ্রবাদী বা চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিবাসীদের আবাসিক অনুমতি পুনর্বিবেচনা করবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি। তবে কোনো ব্যক্তির অনুমতি বাতিল করা হলে তিনি মাইগ্রেশন আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা
আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ডানপন্থি জোট সরকার এবং তাদের সমর্থক জাতীয়তাবাদী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান জোরদার করছে।
২০২২ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার সময় বর্তমান সরকার অভিবাসন কমানো ও অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছরে দেশটি একের পর এক কঠোর অভিবাসন আইন প্রণয়ন করেছে।
সরকারের দাবি, যারা দেশের আইনকানুন মেনে চলবে না বা সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সুইডেনে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
‘ভালো আচরণ আইন’ নিয়ে সমালোচনা
তবে আইনটি বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সিভিল রাইটস ডিফেন্ডারস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নতুন আইন অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।’
সংগঠনটির মতে, আইনটি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি কোন ধরনের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে মানুষ বোঝতে পারবে না কোন বক্তব্য, মতামত বা কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। তাদের ভাষায়, এই আইন আইনের শাসন এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে দুর্বল করতে পারে।
সরকারের অবস্থান
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফরসেল মার্চ মাসে বিলটি উপস্থাপনের সময় বলেছিলেন, ‘যারা সঠিক কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করে না, তারা সুইডেনে থাকার নিশ্চয়তা আশা করতে পারে না।’
সরকারের মতে, নতুন আইন সুইডিশ সমাজে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবে ও দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াবে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, ‘ভালো আচরণ’ ও ‘খারাপ আচরণ’-এর অস্পষ্ট সংজ্ঞা ভবিষ্যতে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বহু অভিবাসীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মহিলা সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১’ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮(২) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আফরোজা আব্বাসকে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো।
সরকারি এই প্রজ্ঞাপনে আফরোজা আব্বাসের নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান শর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্বে যোগদানের তারিখ হতে চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে সরকার চাইলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে এবং একইভাবে তিনি নিজেও সরকারের উদ্দেশে স্বহস্তে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যেকোনো সময় স্বীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় মহিলা সংস্থার শীর্ষ পদে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা বিনা বেতনে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এই সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি একেবারেই নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধিত। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও এই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। নদী রক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে গৃহিত এই প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য