বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে শুক্রবার।
এ উপলক্ষে মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ট্রেনগুলো ইজতেমা চলাকালীন পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ব্যবস্থাপনাপত্রে বিষয়টি জানানো হয়।
পত্র অনুযায়ী, শুক্রবার ‘জুমা স্পেশাল’ নামে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। জুমা স্পেশাল-১ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছেড়ে টঙ্গী পৌঁছাবে সকাল সোয়া ১০টায়। জুমা স্পেশাল-২ বেলা ৩টায় টঙ্গী স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে।
বিশেষ ট্রেন হিসেবে জামালপুর ও টাঙ্গাইল থেকে আগামী শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুটি ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে প্রথম ট্রেনটি জামালপুর থেকে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়ে টঙ্গী স্টেশনে পৌঁছাবে বেলা সোয়া দুইটায়।
দ্বিতীয় ট্রেনটি টাঙ্গাইল থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে টঙ্গী পৌঁছাবে বেলা একটা ২০ মিনিটে।
এ ছাড়া আখেরি মোনাজাতের দিন রোববার পরিচালনা করা হবে ১০টি ট্রেন। এর মধ্যে ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-১ ঢাকা ছাড়বে ভোর পৌনে পাঁচটায়। ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-২ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টায়। ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-৩ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে। অন্যদিকে ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-৪ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে।
টঙ্গী স্টেশন থেকে ফেরার পথে টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-১ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে। টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-২ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে। টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-৩ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে। টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-৪ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে বেলা ১১টা ৭ মিনিটে।
এ ছাড়া টঙ্গী-ময়মনসিংহ স্পেশাল-১ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। সর্বশেষ টঙ্গী-টাঙ্গাইল স্পেশাল-২ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এই সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি একেবারেই নতুন এবং বাকি দুটি সংশোধিত। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও এই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। নদী রক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে গৃহিত এই প্রকল্পগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগৃহীত ছবি
দিল্লি বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ রাখা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দিল্লি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়া হবে, তবে এটি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
গত রোববার ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন এই উপদেষ্টা। নিয়ম অনুযায়ী তার সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তা সত্ত্বেও দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং শুরুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ছবি: সংগৃহীত
অতিসম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং এমন কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করেন।
মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত এজেন্ডাসমূহের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামানিক/অথেন্টিক দলিল হলো “জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (JRD)”, যা বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালকদ্বয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও লিপিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের সকল উদ্বেগ গুলো শুধু আলোচিতই হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধও হয়েছে। সম্মেলনের এই আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল উদ্বেগ ও অবস্থান সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা ব্যতীত যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উক্ত জয়েন্ট রেকর্ড অফ ডিসকাশসনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে “গোপন বৈঠক” হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রচলন ও অনুসৃত প্রথা। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালকের সাথে বিজিবির অন্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে সাক্ষাৎ করেন যা ভারতে গমনের পূর্বেই পূর্বনির্ধারিত এবং অনুমোদিত ছিল যেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মহাপরিচালক বিজিবি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন। আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি -এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগনকে সাথে নিয়ে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি যখন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তখন বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার এবং বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয় করার প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত ও বিশ্লেষণের অবকাশ অবশ্যই আছে - তবে তা যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হতে হবে।
বিজিবি বর্তমানের মত ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর।
জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ। সোমবার (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে অর্থমন্ত্রী সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেছেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচির ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।
স্পিকার জানান, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।
সময় বিবেচনায় অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, হর্ন আর বিশৃঙ্খলার অভিশাপ থেকে রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ঢাকার প্রবেশপথ এবং অভ্যন্তরের ট্রাফিক জটলা চিরতরে দূর করার লক্ষ্যে সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল রাজধানীর ভেতর থেকে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক (আউটার) স্থানে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এই মেগা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন।
যানজটের ‘রুট কজ’ বা মূল উৎস দূর করার উদ্যোগ: ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধীরগতির শহর হিসেবে পরিচিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহরের ভৌগোলিক বিন্যাস ও অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়দাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দূরপাল্লার বাস এই টার্মিনালগুলোতে প্রবেশ করে এবং বের হয়। ফলে সায়েদাবাদ দিয়ে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড, মহাখালী দিয়ে টঙ্গী-উত্তরা রুট এবং গুলিস্তানের কারণে পুরান ঢাকা ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এই সংকটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নীতি-নির্ধারণী সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিজেদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার, রাজউক, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঢাকাকে বাসযোগ্য
করতে হলে শহরের ভেতর দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
সম্ভাব্য বিকল্প স্থানসমূহ: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদদের পূর্ববর্তী সমীক্ষা অনুযায়ী, টার্মিনালগুলো এক দিনে সরানো সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে চারপাশের উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানগুলোতে এগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে:
কাঁচপুর উত্তর ও দক্ষিণ: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসগুলোর জন্য। কেরানীগঞ্জ (বাউরিয়া): খুলনা ও বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।
সাভার (হেমায়েতপুর বা আমিনবাজার): রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বাসগুলোর জন্য।
গাজীপুর বা বাউলিয়াসংলগ্ন এলাকা: ময়মনসিংহ বিভাগের বাসগুলোর জন্য।
এই প্রান্তিক টার্মিনালগুলো নির্মিত হলে দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার মূল সীমানার বাইরে থেকেই তাদের যাত্রী নামিয়ে আবার চলে যেতে পারবে। ফলে শহরের ভেতরের রাস্তায় বাসের অতিরিক্ত চাপ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে।
বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ: জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ: ঢাকার বাইরে বিশাল আকৃতির আধুনিক টার্মিনাল তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়: পরিবহন সেক্টরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আনা এবং তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
কানেক্টিভিটি বা লিংক ট্রান্সপোর্ট: দূরপাল্লার যাত্রীরা যখন ঢাকার বাইরে নামবেন, তখন তারা কীভাবে সহজে এবং কম খরচে শহরের ভেতরে ঢুকবেন, সেই সুব্যবস্থা করা।
নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু টার্মিনাল সরালেই ঢাকার যানজট কমবে না, যদি না এর সাথে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঢাকার ট্রাফিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। তবে প্রান্তিক টার্মিনালগুলোর সাথে শহরের মূল অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও সহজলভ্য করতে হবে। দূরপাল্লার যাত্রীদের শহরের ভেতর নিয়ে আসার জন্য এই আউটার টার্মিনালগুলোর সাথে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট অথবা বিশেষ চক্রাকার বাস সার্ভিসের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শহরের ভেতরের লোকাল বাসগুলোর ফিটনেস ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন আশার আলো: রাজধানীবাসীর বহু বছরের পুরনো এবং যৌক্তিক দাবি ছিল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া। অবশেষে সরকারের এই কঠোর ও দূরদর্শী নির্দেশনা সেই দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম করল। এই মহাপরিকল্পনা যদি দ্রুত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে ঢাকাবাসী আগামীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের যানজটমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং আধুনিক তিলোত্তমা নগরী উপহার পাবে—এমনটাই এখন টেকসই উন্নয়নের মূল প্রত্যাশা।
দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।
অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পাঠ্যবই হাতে পাবে। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, এই বছরে ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের বই পৌঁছে দেব। বইগুলি পরিমার্জিত বই এবং বইগুলোর কারিকুলাম অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে নতুন সিলেবাস নিয়ে আমরা আসতে পারব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন হয়েছে। চারটি বিষয়ে আমরা বই নতুনভাবে দিচ্ছি এবং এই কর্মযজ্ঞ শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে।’
সাধারণত বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার ২৫ ডিসেম্বরের আগেই তাদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী।
আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রশ্নপত্র আউট (ফাঁস) হয়নি, নকল হয়নি এবং দুই মাসের ভেতরে আগামী ২০ জুলাইয়ের ভেতরে রেজাল্টও আউট (ফল প্রকাশ) হয়ে যাবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে সেশন জট এবং এই যে গ্যাপ রয়েছে আমাদের এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশনের, এই গ্যাপগুলোকে আমরা সমন্বয় সাধন করছি। আশা করছি, ২০২৮-এর মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অ্যাডমিশন এবং কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন...। এটাকে আমরা সিংক্রোনাইজ করছি। আমরা কোনো অবস্থায়ই অবহেলায় সময় কাটাব না আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই যে সিংক্রোনাইজ করছি এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশন, এখানে যেন ছেলেমেয়েরা বসে না থাকে এবং অযথা যেন কোচিং সেন্টারে যেতে না হয় এবং ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, সৃজনশীল লেখাপড়া যেন তারা করতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সিলেবাস কারিকুলাম তৈরি করছি।’
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য