× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The chief advisers call to Norway to utilize Bangladeshs youth
google_news print-icon

বাংলাদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে নরওয়ের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

বাংলাদেশের-যুবশক্তিকে-কাজে-লাগাতে-নরওয়ের-প্রতি-প্রধান-উপদেষ্টার-আহ্বান
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরল্যান্ড গুলব্রান্ডসেন রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি
বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখানে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নরওয়ে থেকে লোক আনতে হবে না। আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে আপনারা এশিয়ায় নরওয়েজীয় পণ্য বিপণনের জন্য বাংলাদেশকে হাব হিসেবে ব্যবহার করুন।’

নরওয়েকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি এশিয়াতে নরওয়ের পণ্য বিপণনের জন্য বাংলাদেশ হাব উল্লেখ করে বলেন, এ দেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে দেশটি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরল্যান্ড গুলব্রান্ডসেন রোববার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখানে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নরওয়ে থেকে লোক আনতে হবে না। আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে আপনারা এশিয়ায় নরওয়েজীয় পণ্য বিপণনের জন্য বাংলাদেশকে হাব হিসেবে ব্যবহার করুন।’

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে নরওয়ের টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের প্রথম বিদেশি উদ্যোগ গ্রামীণফোনের উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে গ্রামীণফোন টেলিনর পরিবারের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোরের একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে।

ওই সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।’

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার রক্ষা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন জানান, বাংলাদেশে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং সবুজ জ্বালানি রূপান্তরে নরওয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নরওয়ের সহায়তা কামনা করেন।

তিনি রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘নরওয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।’

প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনকে ‘সর্বোত্তম ও ঐতিহাসিক’ করতে পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটি একটি উদাহরণ সৃষ্টিকারী, ঐতিহাসিক উদাহরণ সৃষ্টিকারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চাই।’

রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন জানান, ফিলিস্তিন ইস্যু, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা এবং প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় নরওয়ে।

ওই সময় ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে নরওয়ের নেতৃত্বে জাতিসংঘের প্রস্তাব সমর্থন করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউরোপের দেশটির ডেপুটি হেড অফ মিশন ম্যারিয়ান্নে রাবে কানেভেলস্রুদ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The only DAP factory has been idle for 20 days due to failure to procure raw materials

কাঁচামাল জোগাড়ে ব্যর্থতায় ২০ দিন ধরে অলস পড়ে আছে একমাত্র ডিএপি কারখানা

কাঁচামাল জোগাড়ে ব্যর্থতায় ২০ দিন ধরে অলস পড়ে আছে একমাত্র ডিএপি কারখানা ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তীব্র ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (ডিএপিএফসিএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা ও বিসিআইসি সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার টন অ্যাসিড সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ’।

চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যেই এই কাঁচামাল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস খাত চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিশ্বের প্রধান উৎসগুলো থেকে সময়মতো ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। কারখানায় থাকা আপৎকালীন মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ ও ২৩ জুন নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আবারও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা যথাক্রমে আগামী ৮ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দৈনিক ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড এবং ২০০ টনের বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মেট্রিক টন অ্যাসিড মজুতের ধারণক্ষমতা রয়েছে।

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় নির্দিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।

দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কারখানাগুলোতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯১ টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hundreds of tie coats and expensive car keys were found in Jabeds house

জাবেদের বাসায় মিলল শত শত টাই, কোট ও দামি গাড়ির চাবি

জাবেদের বাসায় মিলল শত শত টাই, কোট ও দামি গাড়ির চাবি ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে ওই দুই ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। প্রথম দিনের ইনভেন্টরিতেই ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বক্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যে ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।

রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানান আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Photos of Abu Saeed Mochad and Wasim are being added to the new passport

নতুন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি

নতুন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি।

আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এবার ঠাঁই পাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে।

অনুমোদিত নতুন নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা।

এছাড়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠালের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম সংগ্রাম।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের মতোই ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ থাকার বিষয়টি বহাল থাকছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
July spirit sells longer Cant be politicized Home Minister

জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন 
রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন বন্দোবস্ত কোনটা? দায়-দরদের রাজনীতি আসলে কোনটা? এসব শব্দের ব্যাখ্যা জরুরি। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করলে জনগণ আপনাদের পক্ষে থাকবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটা নতুন দল জুলাইয়ের কথা বলে ৪৭ এ যেতে চায়। সংসদে বলেছিলাম ৪৭ এ আপনারা ছিলেন না। তারা হীনস্বার্থে ৪৭ গ্রহণ করে একাত্তরকে বর্জন করে, আবার চব্বিশকে গ্রহণ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমিই ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের কথা বলেছিলাম। এরপর অন্তর্বর্তী সকার গণভোট অধ্যাদেশ জারি করল। কিন্তু ছলচাতুরির মাধ্যমে চারটা প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট দেয়া হলো কোনো বিকল্প রাখা হলো না। জুলাই জাতীয় সনদে তো অনেকগুলো দফা ছিল।

তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের যে চিন্তা সেটা সাংবিধানিক নয়। আমরা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। আমরা সংবিধান সংস্কার করব, অন্যান্য সব জায়গায় সাংবিধানিক সংস্কার করব। আইনি সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ আইন প্রণয়নই যথেষ্ট। আমরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে সংবিধান সংস্কার আইন প্রণয়ন করব।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলের অনেক নেতা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। অনেকে বলছেন, সরকারকে বিদায় করে দেবে। আমি তাদের সংবিধান সংস্কার কমিটিতে আসতে বলবো। সাংবিধানিক কাঠামো ছাড়া সংবিধান সংস্কার সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধীদল ওয়াকআউট করেছে। একজন বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আদালতের রায়ে গণভোট ফিরে এসেছে। তিনি বোঝেননি যে, এটা আগের যে গণভোট সেটা ফিরে এসেছে। তারা যে গণভোটের কথা বলছেন সেটা সাংবিধানিক গণভোট নয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে এখতিয়ার ছাড়া এটা হয়েছিল।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন কার্যকর করতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব কালচার সৃষ্টি হয়। সে সময় কিছু লোকের কর্মসংস্থান তৈরিতে কমিশন তৈরি হয়েছিলো। যাদের আসলে কোনো কর্ম ছিল না।

বিভিন্ন ধরনের গুমের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তি দিতে হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনের সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন আনা হবে। কোন কোর্টে বিচার হবে, কোন ধরনের গুমের কতদিন জেল হবে— এসব নিয়ে আলোচনা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Revenue of Railways has increased by Tk 221 crore without increasing the fare
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতি

ভাড়া না বাড়িয়েও রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

ভাড়া না বাড়িয়েও রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা ছবি: সংগৃহীত

গত দশ বছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেশি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনার ফলে এ আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ, রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।

রেলওয়ে সূত্রের মতে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে ভাড়া রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুননিধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Biman Bangladesh Airlines in the grand plan of fleet expansion

বহর সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বহর সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছবি: সংগৃহীত

তাৎক্ষণিক পরিচালন সংকট মেটানো, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতাদের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ে, বিমান একদিকে স্বল্পমেয়াদি ‘ড্রাই লিজ’ (উড়োজাহাজ ভাড়া করা) এবং অন্যদিকে আগামী দশকের জন্য বিলিয়ন ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল তৈরি করছে।

লিজে আনা হচ্ছে ১০টি, আরও ১০টি কেনার প্রস্তুতি: জানা গেছে, বর্তমানে বিমানের ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৩টি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালন সক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বোয়িং এবং এয়ারবাস—দুই জায়ান্টেরই বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ভেঙে পড়ায় ২০৩০ সালের আগে নতুন কোনো উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। এ কারণে বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় পরিচালন সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন ১০টি উড়োজাহাজ লিজে যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কথা থাকলেও রুট ও পরিচালন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরের মধ্যে তা ১০টিতে উন্নীত করা হচ্ছে।

লিজের কঠোর শর্তাবলি: আন্তর্জাতিক দরপত্রের শর্তানুযায়ী, লিজের বিমানগুলোর ইঞ্জিন হতে হবে GEnx-1B74/75, আসন সংখ্যা হতে হবে ৩০০+ এবং বয়স কোনোভাবেই ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। ৬ বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বোয়িং-এর ১৪টি বিমানের সাথে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ১০টি বিমান যুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের মোট বহরের আকার দাঁড়াবে ৩৯ থেকে ৪৭টিতে।

মেগা-প্ল্যানের এক্স-ফ্যাক্টর: বিমানের অতীত লিজের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অতীতে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে বিমানকে শত শত কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছিল।

এইবারের মেগা-প্ল্যানে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিমান একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। লিজের কারিগরি ও আর্থিক স্বচ্ছতা তদারকি করতে ইতোমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৪০টি নামি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে এই পুরো প্রজেক্টের সফলতার মূল চাবিকাঠি।

আগামী ৫ বছরের জন্য ড্রিমলাইনারের মতো নির্ভরযোগ্য উড়োজাহাজ লিজে নেওয়া এবং একই সাথে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকে নতুন বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করা—বিমানের এই দ্বি-মুখী নীতি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একদিকে যেমন বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতাকে এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আকাশপথে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যদি ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের ১০টি বিমান সফলভাবে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলতে পারে এবং ২০৩১ সাল থেকে নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হওয়া শুরু করে, তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ রিজিওনাল হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আকাশে আধিপত্যের এই লড়াইয়ে বিমানের এই ‘মেগা-ফ্লাইট’ সফল হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The current government is working on education and health sector as top priority Deputy Speaker

শিক্ষা ও স্বাস্থ‌্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার: ডেপুটি স্পিকার

শিক্ষা ও স্বাস্থ‌্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার: ডেপুটি স্পিকার ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ‌্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য আইনেরও সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তার সঙ্গে সৌজন‌্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদল। এ সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন।

ডেপুটি স্পিকার সংসদের লাইব্রেরিতে সদ‌্য সমাপ্ত গ্র্যাজুয়েটরা যেন পার্লামেন্টারি ফেলোশিপ/ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম করে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে আরো বৃদ্ধি করতে পারে সে ব‌্যাপারে ইউএনডিপি এর প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন।

সংসদের কোনো প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন‌্য কোনো সংস্থার প্রকল্পের সাথে যেন ডুপ্লিকেশন না হয় সে বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেন। ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার ব‌্যাপারে ডেপুটি স্পিকার ইউএনডিপি এর কাছে সহযোগিতা প্রত‌্যাশা করেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও নেপাল পার্লামেন্টের সংসদ সদস‌্যদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব করলে ডেপুটি স্পিকার সহমত পোষণ করেন।

সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ‌্যমাত্রা (এসডিজি) কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ইউএনডিপি কর্তৃক জাতীয় সংসদ সদস‌্যদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজনের উদ‌্যোগের বিষয়টিতে ডেপুটি স্পিকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

ইউএনডিপি এর ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ Sonali Dayaratne এর নেতৃত্বে সিনিয়র গভার্নেন্স অ্যাডভাইজার Dragan popovic, সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ, প্রজেক্ট ম‌্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং জাতীয় সংসদ সবিচালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে