কায়রোতে ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে মিসরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার রাত ১টায় ঢাকা ছাড়ছেন তিনি।
এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে করা এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এতে যোগ দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তান। মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ও নাইজেরিয়ার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
কায়রোতে অনুষ্ঠিতব্য ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্টিং ইন ইয়ুথ অ্যান্ড সাপোর্টিং স্মল মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ, শেপিং টুমরোস ইকোনমি’।
আজাদ মজুমদার বলেন, ‘ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্য যুব ও এমএসএমই ইস্যুতে সংস্থাটির গুরুত্বকে তুলে ধরে। এ কারণে সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমাদের তরুণদের নিয়ে বৈশ্বিক সম্মেলনে কাজ করতে প্রধান উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছেন। এমএসএমই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেই বিষয়গুলো এখানে আলোচনা হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা এই সফরকালে কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও জেষ্ঠ্য সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূসের কয়েকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই প্রস্তুতিও চলছে। এই সপ্তাহে কায়রোতে অনুষ্ঠিত ডি-৮ কমিশনের ৪৮তম বৈঠকের মাধ্যমে ডি-৮ এর জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ চিহ্নিত হয়েছে।
ডি-৮ অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন, যা ডেভেলপিং-৮ নামেও পরিচিত। সংস্থাটি বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শেষ হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি আইএমএফ-সরকার বৈঠকের ফলাফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে নতুন বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ।
এক প্রতিবেদনে জানা গেছে- রাজস্ব আহরণের দুর্বল অবস্থা এবং ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বিবেচনায় আইএমএফ সরকারকে অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে সরকারও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্য চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই অনুন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন ও ভাতা বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় পরিসরে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।
আইএমএফের মতে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সংশোধিত একটি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আর্থিক চাপ কমাতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি অথবা বিকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। অক্টোবরের আইএমএফ বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশও করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, এতে বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ও যাত্রীচাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
সম্প্রতি বেবিচক দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্সকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, যেসব এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে নিজস্ব অপারেশনাল বেজ নেই, তারা অনুমোদিত সময়সূচি ও নির্ধারিত ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাবেন না।
বেবিচক সূত্র জানায়, বর্তমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক এবং ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টারসহ প্রতিদিন প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে।
এত বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, টার্মিনাল, অ্যারো ব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য আগে কোনো স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলেও সেটিকে পরিচালনাগত অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকার ওপর চাপ কমাতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তাই টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কোনো এয়ারলাইন্স চাইলে চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিতে পারবে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে ইউরিয়া সারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল, সবুজ মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানায়।
প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এতে দেশের সার আমদানির ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এই দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (অতিরিক্ত সচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। পদোন্নতির পর তাকে আবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগেই পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানও সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতির পর তাকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাঁর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সাথে বৈঠকে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের উদ্ভাবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারোপযোগী করা এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা দেবে।’
সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, দুটি ভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল এই আধুনিক ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবন করেছেন। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করার পর এই সরঞ্জামগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ার কারণে আমদানিকৃত যন্ত্রের তুলনায় এগুলো অনেক কম মূল্যে পাওয়া যাবে, যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এই উদ্ভাবন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা খাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
যন্ত্র দুটির কারিগরি দিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটরটি মূলত গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে এর সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি সাধারণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই যন্ত্রের একটি বড় সুবিধা হলো এটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই সচল থাকতে পারে, যা বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম এলাকা কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী স্থানান্তরের সময় অত্যন্ত কার্যকর। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বুয়েটের প্রো ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
ছবি: সংগৃহীত
দেশব্যাপী গত তিন মাসে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশাল সংখ্যক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে বিশেষ অভিযানে ৩৯ হাজার ২৬৭ জন এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় ১ লাখ ২ হাজার ৭২২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ের অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১০১টি পিস্তল, ৯২টি বন্দুক, ৩৮টি এলজি, ৩৫টি শুটারগান এবং ১৯টি রিভলভারসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮০২ রাউন্ড গুলি, ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রাইফেল, এসএমজি, এয়ারগান এমনকি একটি পেনগান থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
একই সময়ে মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। তিন মাসের এই মাদকবিরোধী অভিযানে ৯১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ৮০ পুরিয়া হেরোইন এবং প্রায় ৮ হাজার ২১১ বোতল বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত অপরাধে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৪ হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি)’র প্রতিনিধি দলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং আইনের বিধান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কমিশন যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’
সিইসি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে এবং তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংসদীয় অধিবেশন চলুক বা না চলুক, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কমিশন চাইছে দ্রুততম সময়ে এই প্রক্রিয়া শেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কাজে মনোযোগ দিতে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে লিখিতভাবে রেফার করা হলে ইসি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে যথাসময়েই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো জানানো হবে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য