সরকার শিক্ষার্থীদের কঠোর হয়ে দমন করতে চায় না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাটিয়ান হাওর পরিদর্শনে এসে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘কলেজের সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। এ জন্য আমাদের শিক্ষকরা রয়েছেন। কেউ রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই।
‘রাস্তা ব্লক না করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেও দাবি জানাতে পারে। তাদের প্রতিনিধি গিয়ে আমাদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে পারে। বিভিন্ন কলেজের সমস্যা নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না ছাত্র ভাইদের কঠোর হয়ে দমন করতে। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।
‘যারা আন্দোলন করছে, তারা আমারই ভাই। কার ওপরে কঠোর হব?’
হাওরের কৃষি নিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন কি না, সেটা দেখার বিষয়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুবিধা নিতে না পারে সেটি দেখা হচ্ছে।’
জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জেলেদের কল্যাণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ, সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, সংঘাত বা নাশকতাজনিত কারণে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সমুদ্রের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অন্যান্য দেশের আদলে মাছ ধরার নৌকায় রংভিত্তিক (কালার কোড) পরিচিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জেলেদের অবস্থান শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জিপিএস ট্র্যাকার সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার সংযোজন করা হলে সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি কোস্ট গার্ডকে আরও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া সংবাদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩-৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) বিষয়ক ১৪টি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রী তার উত্তরে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।
ফাইল ছবি
সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাশ্রয়ী ব্যয়ের নীতি অনুসরণ করা হলেও পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় খুব বেশি কমানোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের গতিও ধীর। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার বড় বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আপাতত আগের মতো সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে আগ্রহী নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি জারি করা হলো।
পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কেনা যাবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য সব নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকচালিত যানবাহন হতে হবে।
পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন স্থাপনা-নির্মাণও বন্ধ থাকবে। তবে চলমান কোনো নির্মাণকাজের অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সেই কাজে ব্যয় করা যাবে।
এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। একইভাবে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থের সংরক্ষিত বরাদ্দও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সরকারের দেওয়া বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।
এ ছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে।
পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন এবং কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু জটিল প্রকৃতির পণ্য অথবা যেখানে এ ধরনের পরিদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়াকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি)’ প্রাপ্তির জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার কারণে অনেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ মডেলের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশের শহরগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পাকিস্তানের সহায়তাও কামনা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জানায়, মিয়ানমার যেন দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে সফর করার সম্মতি জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন : এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আজ যেসব উদ্যোগ তরুণ নারীদের ক্ষমতায়িত করছে, তা আগামী দিনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করছে।
ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন-এর সমন্বয়ে এবং নারীপক্ষের অংশীদারিত্বে যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘এনহ্যান্সিং উইমেনস পলিটিক্যাল লিডারশিপ থ্রু এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬ লোকালাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ কর্মসূচির অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাস্তবায়িত এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলের অভিজ্ঞতা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তরুণ নারী নেত্রী, শিক্ষার্থী, পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা লিঙ্গ সমতা বিষয়ক এসডিজি ৫ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিষয়ক এসডিজি ১৬-এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় অঙ্গীকারগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, এসডিজির স্থানীয়করণ জাতীয় অগ্রাধিকারকে কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রমে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ জরুরি।
কর্মশালায় এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলটি উপস্থাপন করেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং হলিক্রস গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা।
‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে কর্মশালায় যৌথ অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধানের মাধ্যমে এসডিজি স্থানীয়করণকে এগিয়ে নিতে ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন, নারীপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ফাইল ছবি
দেশের সামগ্রিক অভিবাসন ও পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে প্রস্তাবিত নতুন ভিসানীতির খসড়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমার্জন ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
অর্থমন্ত্রীকে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়াটি চূড়ান্তভাবে সংশোধন করার পর তা আগামী মাসের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
ভিসানীতি পরিমার্জনের লক্ষ্যে বিশেষ এই কমিটি গঠন করে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিশেষ এই প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ কমিটির অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই ৮ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়াটি পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন করবে। এর বাইরে কাজের সুবিধার্থে এবং প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নিজেদের ক্ষমতাবলে যেকোনো নতুন উপযুক্ত সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির গুরুত্ব অনুযায়ী যেকোনো সময়ে এর বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে এবং সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাচিবিক ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদান করবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নবগঠিত কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পরিমার্জনের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সংশোধিত ভিসা পলিসির চূড়ান্ত খসড়াটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী মাসের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে দাপ্তরিক অনুমোদনের জন্য পেশ করবে।
এর আগে গত ২ জুলাই সরকারের নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর প্রাথমিক খসড়াটি আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকে পলিসিটির বিভিন্ন ধারা-উপধারা আরও সময়োপযোগী ও পরিমার্জন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায়, এই বিশেষ রিভিউ কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও তা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার বুকেই ইউরোপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব উন্নত দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে সেই সমস্ত দেশের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ভিসা সেন্টার নেই; সেই দেশগুলোর ভিসা সেন্টার যেন দ্রুত ঢাকায় স্থাপন করা যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় দেশের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বাজারে কর্মী পাঠানো অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্যে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের বাজারে কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রথাগত দেশগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় পুরোপুরি চালু করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি নতুন করে উন্মুক্ত করার বিষয়েও দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় বাজারের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অতি দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি বছরের ৫ ও ২৪ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল ধারাবাহিক কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় সচল করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বল্পমেয়াদি মৌসুমি কর্মী পাঠাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের বাজারে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ 'জাপান সেল' গঠন করা হয়েছে। জাপানিজ ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার মান বাড়াতে এই সেলের অধীনে জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টিরও বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারকে (টিটিসি) একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য