× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The Ganabhaban will be the July Uprising Memorial Museum
google_news print-icon

গণভবন হবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’

গণভবন-হবে-জুলাই-গণঅভ্যুত্থান-স্মৃতি-জাদুঘর
শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরপরই গণভবন দখল করে ছাত্র-জনতার উল্লাস। ফাইল ছবি
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণভবনকে জনগণ যে অবস্থায় রেখেছেন সে অবস্থায়ই থাকবে। অর্থাৎ গণভবনের বর্তমান অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তন না করেই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করবে সরকার।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত গণভবনকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ছাত্র-জনতা দখলে নেয়ার পর স্থাপনাটির যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেই এটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বানানো হবে।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণভবনকে জনগণ যে অবস্থায় রেখেছেন সে অবস্থায়ই থাকবে। অর্থাৎ গণভবনের বর্তমান অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তন না করেই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। অন‌্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।’

প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালানোর পর হাজারো ছাত্র-জনতা গণভবনে ঢুকে পড়ে। বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ঢুকে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। লুট করে নিয়ে যায় সেখানে থাকা অনেক জিনিসপত্র।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Power Minister Iqbal Hasan Mahmud Tukur has called for private investment in the power sector

বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর

বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে এটি বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাঁর সদয় সম্মতি দিয়েছেন এবং এই খাতে বিনিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘বণিক বার্তা’ আয়োজিত "বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর" শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সম্মেলনে (পলিসি কনক্লেভ) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

বক্তব্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে পরিচালিত হলে সেখানে স্বচ্ছতা অনেক বেশি বজায় থাকে এবং এতে রাষ্ট্রীয় কোশাগারের ওপর অযথা চাপ ও দায় অনেকটাই কমে আসে।

তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বিপুল বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া উচিত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিভিন্ন বৃহৎ সিটি ও অঞ্চলে পৃথক পৃথক বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে গ্রাহকসেবার মান বহুগুণ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও সিস্টেম লস উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত পলিসি কনক্লেভে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিনিধিরাও তাঁদের দিকনির্দেশনামূলক মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রানজিশন ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিকল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
8 projects worth Tk 14 thousand 41 crores were approved at ECNEC meeting

একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সংস্থান করা হয়েছে।

একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি বড় উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো হলো ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (১ম সংশোধন)’, ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় নতুন কূপ খননের প্রকল্পগুলো সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার সংক্রান্ত সংশোধিত প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়।

একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট নির্মাণ, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও বরিশালসহ ছয়টি জেলায় বিটাকের কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিও সভায় আলোচিত হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
China Bangladesh foreign minister meeting on Rohingya repatriation and corridor

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও করিডোর নিয়ে চীন-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও করিডোর নিয়ে চীন-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক 
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী "চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার)" গঠনের লক্ষ্যে দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি পরিবহন করিডোর উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এছাড়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়েও উভয় নেতা মতবিনিময় করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Formation of the Prime Ministers committee to solve the problems of the textile sector

বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কমিটি গঠন

বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কমিটি গঠন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ে নিরসনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, "বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো অনেক পুরনো যা আগের কোনো সরকারই সমাধান করেনি।" শওকত আজিজ আরও জানান যে, সরকার আন্তরিকভাবে কাজ শুরু করলেও বিদ্যমান এসব সমস্যা পুরোপুরি সমাধানে আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে এবং দেশের উদ্যোক্তারা এই সময়টুকু সরকারকে দিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া এই বৈঠকে বস্ত্র খাতের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বিটিএমএ সভাপতি জানান, সরকার এরই মধ্যে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে এবং নবগঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে নতুন করে বৈঠকে বসবে। সরকার আন্তরিক হলে বস্ত্র খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বন্ধ ও অর্ধ-বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ সফল হলে "১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে খুব স্বাভাবিক এবং ত্বড়িৎ গতিতেই।"

তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে ডাম্পিং প্রতিরোধের দিকে সরকারকে বিশেষ মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বস্ত্র খাতকে পুনরায় চাঙা করতে বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ECOSOC recommends extension of preparation period for LDC transition

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের
ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসার আগে প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও নেপালের করা আবেদনটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। সংস্থাটি এই আবেদনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করেছে। বুধবার ইকোসকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি এই বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল অপরিহার্য।’ এর আগে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনার পর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) মত দিয়েছিল যে, বাংলাদেশ ও নেপালের এই দাবিটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা যৌক্তিক হবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ইকোসক এখন সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বরের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বরই এই দুই দেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবটি ইকোসকে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে, সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়, তবে বাংলাদেশ এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল নীতিগত সংস্কার ও কাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে যাতে এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teachers belonging to MPO cannot be candidates in local elections
সুপারিশ ইসির

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে আইন (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধনে সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত, দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করবে ইসি।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রতি ১৫ বছর পরে নবায়ন করার সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নবায়নের সময় আবেদনকারীকে ফি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইসি প্রত্যেক নাগরিকের ফ্যামিলি ট্রি বা বংশগত তথ্য তৈরি করতে পারে। ১৫ বছরের কম বয়সিদেরও এনআইডি প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের ১২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় সভা শুরু হয়ে বেলা ২টায় এক ঘণ্টার মুলতবি করে বিকাল সাড়ে ৫টার পরে শেষ হয়।

সভায় ২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইন তথা—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের পর্যালোচনা করা হয়।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘এই আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যেসব জায়গায় সংশোধন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সবগুলো আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশ করেছি।’ আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, সবগুলোর আইনে এটা (সশস্ত্র বাহিনী) যুক্ত করা উচিত।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ সুযোগ বাতিলের সুপারিশ সরকারের কাছে করতে যাচ্ছে ইসি।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না—এ বিষয়ে কমিশন মনে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হয়।’

ঋণ খেলাপির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এখানে দুটো ক্ষেত্র একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার। ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই, কিন্তু জামিনদারদেরও ঋণ খেলাপি হিসেবে অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।

এর পাশাপাশি বিল খেলাপি—বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসা এ ধরনের যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থায় যদি কোনো বিল খেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। এটা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে। লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করবে ইসি। দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করবে ইসি। বিষয়টি নিয়ে সচিব বলেন, ‘কমিশন মনে করে তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সংবিধানে বাধা আছে (জাতীয় নির্বাচনের কথা বলা আছে সংবিধানে)।

পাশাপাশি আচরণ বিধিমালাগুলো সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সচিব বলেন, ‘আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাব, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।’ এ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে দ্রুতই পাঠানো হবে বলে জানান ইসি সচিব।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত (আইন) করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদ।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘শিডিউল চূড়ান্ত হলে জানাব।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের টাইমলাইনের বিষয়ে বলেন, ‘প্রস্তুতির ব্যাপারটা চলমান। আমরা বলেছি আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা ভোটার নিবন্ধিত হবেন, তাদের নিয়ে আমাদের কাজ। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, তো সেই অনুযায়ী আমাদের ড্রাফট রেডি করে কাজ করতে হবে।’

আইন সংশোধনীর কারণে ভোট পেছানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এটাতো আমি বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘সংসদ অধিবেশন তো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে আমরা যত দ্রুত দিতে পারব (সুপারিশ)। তত দ্রুত আরেকটা কাজ আগাতে পারব।’

আইন সংশোধনের কাজ তো স্থানীয় সরকার বিভাগের, সে দায়িত্ব ইসি কেন নিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসির কি সুপারিশ করা বা প্রস্তাবনা দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি নেই? যদি বলে প্রস্তাবনা দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তাহলে একভাবে। আবার মনে করে পর্যালোচনা করার জন্য সুপারিশ। সুপারিশ যে রাখতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা মনে করেছি সুপারিশ করা যায়। সে জন্য সুপারিশ পাঠাব। রাখা বা না রাখা যার এখতিয়ার, তিনি করবে।’

এতে সরকার চাপে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির সচিব বলেন, ‘সরকার চাপে পড়বে কি না সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’

কমিশন সভায় এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভোটার স্থানান্তর নিয়ে কথা হয়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনলাইনে আবেদন করা যাবে। স্থানান্তরের একটা সংশোধনী ফি দিতে হবে, এটা নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমিশন সভায় কথা হয়েছে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটা ফরম থাকবে এবং সেই ফরমে কী কী তথ্য থাকবে—একটা ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে, আবেদনকারী বা এনআইডিধারী তার পরিবারের তথ্যটা দেবেন যাতে সংগতিটা আমরা মেনটেইন করতে পারি। এ ক্ষেত্রেও একটা ন্যূনতম ফি’র ব্যাপার আছে।’

বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সিদের এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাতে ১৮ বছর হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘এ তথ্য সংগ্রহের পর্যায়টা কোন পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাইমারি এনরোলমেন্ট—যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তে আসব।’

বর্তমানে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কমিশন বিকল্প ভাবছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘এখন পাবলিক পরীক্ষার সনদের (এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসি) জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে এই সংশোধনগুলো করতে পারবে। সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বর্তমানে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ব্যাপারে এটা টু-স্টেপ মেকানিজম ছিল। প্রবাসীরা ফরম জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত, তদন্ত পারফর্ম হওয়ার পরে সেটা আপলোড হতো। এখন বায়োমেট্রিকটা আপলোড করে দেবেন, আমরা এখানে তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অনুমোদন দিয়ে দেব। এতে একটা স্টেপ কমে যাবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three wells will get gas worth 100 million taka

তিন কূপ খননে মিলবে সোয়া লাখ কোটি টাকার গ্যাস

* সংকটে আশার আলো দেখাচ্ছে বাপেক্স * প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ উঠবে একনেকে
তিন কূপ খননে মিলবে সোয়া লাখ কোটি টাকার গ্যাস ছবি: সংগৃহীত

চুলায় ধোঁয়া নেই, কারখানায় স্থবিরতা-গ্যাসের তীব্র হাহাকারে হাঁসফাঁস করছে দেশ। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও এলপিজি কিনে ঘাটতি মেটাতে গিয়ে খালি হচ্ছে গ্রাহকের পকেট, চাপ বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। ফলে এলপিজি আর এলএনজির দামেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে বড় এক আশার বাণী নিয়ে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন কূপ খননের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এলাকায় মোট তিনটি কূপ খনন করবে বাপেক্স। কারিগরি মূল্যায়ন বলছে, এসব কূপ থেকে প্রায় ৭১১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এই গ্যাসের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যা বিদেশি জ্বালানির ওপর চাপ অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বাপেক্স তার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেবে ১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলে বেগমগঞ্জ-৫ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতায় এবং বেগমগঞ্জ-৬ নামে একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সুনেত্র ভূগঠনে সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপটি ৫ হাজার ৩০০ মিটার গভীরতায় সমন্বিত খনন অপারেশন বা টার্ন-কি ভিত্তিতে খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে।

দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে অন্তত ৫৫০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে দেশীয় ও বিদেশি এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ মিলছে গড়ে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার খরচ করে বাইরে থেকে গ্যাস এনে স্বনির্ভর হওয়া অসম্ভব। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কূপ খননে শতভাগ সাফল্যের নিশ্চয়তা পৃথিবীর কোথাও দেওয়া যায় না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশীয় সক্ষমতা কাজে লাগানোই একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সংকটকালীন এই সময়ে বাঁচবে কোটি কোটি ডলারের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।

মন্তব্য

p
উপরে