× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Only Awami League is in power by peoples power Prime Minister
google_news print-icon

একমাত্র আওয়ামী লীগই জনগণের শক্তিতে ভর করে ক্ষমতায়: প্রধানমন্ত্রী

একমাত্র-আওয়ামী-লীগই-জনগণের-শক্তিতে-ভর-করে-ক্ষমতায়-প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু অন্য যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা জনগণের শক্তি ভুলে দুর্নীতি সন্ত্রাস করেছিল।

আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে এবং জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করে। জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু অন্য যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা জনগণের শক্তি ভুলে দুর্নীতি সন্ত্রাস করেছিল।

‘ক্ষমতায় এসেছে তারা সন্ত্রাসবাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, দুর্নীতি করেছে। তারা জনগণের শক্তি ভুলে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।’

এদিন আওয়ামী লীগ প্রধান দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাদের স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, যা আমরা প্রমাণ করেছি। কেননা বাঙালির সব অর্জনেই আওয়ামী লীগ জড়িত। জন্ম থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল সংগঠনটি। কিন্তু বারবার এই দলকে আঘাত করা হয়েছে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা হয়েছে কিন্তু যতবার এই আঘাত এসেছে দলটি ততবারই জেগে উঠেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মন্তব্য করেন, দেশ ও জাতির যতটুকু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই। কিন্তু বারবার এ দলের ওপর আঘাত এসেছে। বারবার এ দলকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে। বারবার এ দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৮ সালে সেই আইয়ুব খানের মার্শাল ল থেকে শুরু করে বারবার আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নতি করার সংগঠন। কাজেই বার বার আঘাত এসেও এই সংগঠনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০০৭ সালেও চেষ্টা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে নতুন কিংস পার্টি গড়ে তোলার। সেটাও সফল করতে পারেনি। কারণ, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, সাধারণ জনগণ, তৃণমূলের মানুষ, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী, মুজিব আদর্শের সৈনিক। এ সৈনিকরা কখনো পরাভব মানে না। মাথা নত করে না।

তিনি বলেন, হয়ত কখনো কখনো নেতারা ভুল করেছেন। কেউ মনে করেছেন আওয়ামী লীগে থাকলে তারাই হয়ত বড় নেতা। দলের থেকে নিজেকে বড় মনে করেন, কেউ দল ছেড়ে গিয়ে অন্য দল করেছেন। পরবর্তীতে রাজনীতি থেকে এক ধরনের হারিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আকাশে মিটি মিটি তারা জ্বলে, তারা আলোকিত হয় কার দ্বারা? সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। যেসব নেতারা আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন তারা ভুলে গিয়েছিলেন দলের কথা। তারা আলোকিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বলেই। চলে যাওয়ার পর ওই তাঁরা আর জ্বলেনি। অনেকেই নিভে গেছেন। কেউ ভুল বুঝে ফিরে এসেছে আমরা নিয়েছি। আবার কেউ কেউ এখনো আওয়ামী লীগের সরকারের পতন কল্পনা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। হয় অস্ত্রের মাধ্যমে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শাসকরা ক্ষমতায় এসেছে। সেই সময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি তারা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Agitation turned violent due to governments insistence Fakhrul

সরকারের জেদের কারণে আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে: ফখরুল

সরকারের জেদের কারণে আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে: ফখরুল বুধবার বায়তুল মুকাররমে গায়েবানা জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে কখনোই সরাসরি জড়িত নই। এই আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত। আমরা তাদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছি। তা দিয়ে যাব। কারণ আমরা মনে করি তাদের আন্দোলন ন্যায্য।’

সরকারের জেদের কারণে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সারা বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে।’

বুধবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে গায়েবানা জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সূত্র: ইউএনবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে কখনোই সরাসরি জড়িত নই। এই আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত। আমরা তাদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছি। আমরা তাদের নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাব। কারণ আমরা মনে করি, তাদের আন্দোলন ন্যায্য।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বগুড়া, রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি-সন্ত্রাস-নির্যাতন করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায় করতে গিয়ে ছয়জন নিহত হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, শিক্ষার্থী সাঈদকে রংপুরে কীভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরকম ভয়াবহ ঘটনা আমাদের জীবনে কখনও দেখিনি। এই ধরনের দমননীতি, এ ধরনের নির্যাতন, এই ধরনের হত্যা-গুম করে সরকার আজকে জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি সরকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে পারত। শুধু তাদের জেদের কারণে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি।’

এ সময় নিহত শিক্ষার্থীদের জন্য গায়েবানা জানাজা পড়তে এসেও তারা পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘সাদা পোশাকের পুলিশ আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোমা ও লাঠিসোঁটা রেখে অভিযানের নামে নাটক করেছে। অতীতেও তারা একই নাটক করেছে।

‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে শাসকগোষ্ঠী এভাবে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা পারেনি। একইভাবে আজকে সরকার যেভাবে চেষ্টা করছে, তার সঙ্গে কোনোমতেই আমরা একমত নই।’

ফখরুল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেই শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সরকার চাইলেই এটা করা যেত। কিন্তু তাদের সেই ইচ্ছা নেই।’

এর আগে কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বায়তুল মুকাররম মসজিদে গায়েবানা জানাজায় যোগ দেন বিএনপিসহ দলটির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।

বুধবার বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের উত্তর গেটে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
এখন সবার উচিত আন্দোলন করা: ফখরুল
কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ইন্ধন নয়, সমর্থন আছে: ফখরুল
কোটা ও পেনশন স্কিম বাতিলের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন
রেল করিডোর ও এমওইউ নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার: ফখরুল
শেখ হাসিনার ভারত সফর ধারাবাহিক গোলামি চুক্তির নব সংস্করণ: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Quota agitation is going on under the prescription of BNP Jamaat Foreign Minister

কোটা আন্দোলন চলছে বিএনপি-জামায়াতের প্রেসক্রিপশনে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কোটা আন্দোলন চলছে বিএনপি-জামায়াতের প্রেসক্রিপশনে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের মধ্যে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত চাচ্ছিল দেশে লাশ তৈরি হোক। মঙ্গলবার তারা এই লাশগুলো তৈরি করেছে, ৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।’

কোটা আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের হাতে নেই মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এখনকার কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াতের প্রেসক্রিপশনে হচ্ছে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের মধ্যে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত চাচ্ছিল দেশে লাশ তৈরি হোক। মঙ্গলবার তারা এই লাশগুলো তৈরি করেছে, ৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

‘মঙ্গলবার সারা দেশে যে নৈরাজ্যের অপচেষ্টা হয়েছে, এর প্রধান কারণ হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত লাশ চেয়েছিল, পেয়েছে। তাদের ক্যাডাররা নেমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে ৬ জনকে খুন করেছে। সরকার তদন্ত করছে। যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আর কোটার বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন।’

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য লায়ন মশিউর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল।

প্রধান আলোচক ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল ওয়াদুদ দারা।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ ড. আওলাদ হোসেন এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি জিন্নাত আলী খান, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক।

আরও পড়ুন:
রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কোটা আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকেছে তা স্পষ্ট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কর্মী নেবে ইউরোপের চার দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুলির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিন্দা
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Quota movement led by BNP Jamaat Quader

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে। এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

দেশজুড়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে বুধবার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কাদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন রাস্তাঘাট দখল করতে যাবে? সহিংসতায় জড়াবে? এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। সেই অবস্থায় আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করি, লালন করি, বিশ্বাস করি, সেই চেতনা বিশ্বাসীরা আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে।

‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান। এখানে বেশিক্ষণ আপনাদের ধরে রাখতে চাই না। যার যার এলাকায় যান, আজকেও তাদের ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টির এজেন্ডা আছে, বিধ্বংসী এজেন্ডা আছে।’

কাদের বলেন,‘ এখানে শুধু পুলিশের শক্তি নয়, আমাদের দল, দলের যে শক্তি, যে শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যে শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করেছে, সেই শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমাদের এই শক্তিকে আজ কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।’

বিএনপি নির্বাচিত সরকারকে হটাতে চায় অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের জন্য কতটা মরিয়া হলে তারা শিশু-কিশোরদের মিছিল ব্যবহার করে। ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাস আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এক নেতার ফোনালাপের অডিও ক্লিপ থেকে বোঝা গেছে ছাত্রদলের ক্যাডারদের সংঘর্ষ হামলার নির্দেশ দিচ্ছে। এতে প্রমাণ হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে বিএনপি-জামায়াত আবারও সহিংসতার প্রতি হাঁটছে।

‘তারা তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী সারা বাংলাদেশ থেকে এনে এই শহরে গুপ্তহত্যা করা শুরু করেছে। আরও অনেক বাজে পরিস্থিতি, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে।’

বিএনপি সারাদেশ থেকে ক্যাডার বাহিনী, প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় এনেছে অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘নাশকতা ও নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে গতকাল রাতে পাঁচ-ছয় বোতল পেট্রল, বিপুলসংখ্যক লাঠিসোঁটা, ৬০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র, শতাধিক ককটেল জড়ো করেছিল, যা পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে।

‘এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সবসময় ছাত্রসমাজের দাবির প্রতি সহনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবক। সকলের যৌক্তিক দাবি তার বিবেচনায় রয়েছে। আমরা আন্দোলনকারীদের বলব, আইনের পাশে থাকুন।

‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্ধারিত তারিখের শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধারণ করুন। কোনো অপশক্তির উসকানি বা ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। ফাঁদে পা না দিয়ে অপেক্ষা করুন। তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
আবাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা রাতে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Crime scene tape in front of BNP central office

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শেষে ফটকের সামনের এলাকা ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ডিবি চিহ্নিত করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ইউএনবি। ছবি: বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার দেড়টার দিকে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই কার্যালয়টির মূল ফটকের তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সিআইডি পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এর চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শেষে ফটকের সামনের এলাকা ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চিহ্নিত করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ইউএনবি।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপি কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটও বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কার্যালয়ের আশপাশের ফুটপাতে পথচারীদের হাঁটতে দেয়া হচ্ছে না। কার্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি কার্যালয়ের এক কর্মী ইউএনবিকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দিয়ে কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পরে অভিযান চালায়।

তিনি আরও বলেন, ‘এর পর থেকে আমরা ভেতরে ঢুকতে পারছি না। পুলিশ অফিসের সামনে সিকিউরিটি টেপ লাগিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার দেড়টার দিকে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই কার্যালয়টির মূল ফটকের তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

‘সিআইডি পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এর চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হন।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপি ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ দাবি করেন, বিএনপি কার্যালয়ের শৌচাগার থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রাবণসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বিএনপি কার্যালয়ে ডিবির অভিযানকে ‘নোংরা তামাশা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা আরও বলেন, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা মধ্যরাতে কাপুরুষের মতো আমাদের অফিসে ঢুকে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বা পুলিশি নিরাপত্তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করে বলেও দাবি করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি অফিসে অভিযান চালিয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ছাত্রলীগের ধাওয়া, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩
সিরাজগঞ্জে পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ গুলি, আহত ১৫
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agitators declared the halls of DU to be political free by throwing out the Chhatra League leaders

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাবির রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেন। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছাত্রলীগ নেতাদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
রোকেয়া হলের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ। সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিচ্ছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

রোকেয়া হলে গতকাল রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেয়ার প্রথম ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করে রাত ৯টার দিকে হলে ঢুকে যান। আর রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ বাকি ছাত্রলীগ নেত্রীরা রাত ১০টার পর হলে ঢোকেন। যদিও রাত ১০টার পর সাধারণত কোনো ছাত্রী হলে ঢুকতে পারেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যান আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নেত্রীরা হলে ঢুকলে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হল ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ওই সময় তারা যেতে না চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দেন। যদিও সেই সময় হলের হাউজ টিউটররা ছাত্রলীগ নেত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ আরও আট নেত্রীকে সেই হল থেকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা। বের করার সময় তাদের মারধর করতেও দেখা যায় কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে। পরে ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ।

সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়, ‘হলে কোনো ধরনের পলিটিক্যাল রুম বা গণরুম থাকবে না। পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হলে হবে না। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হলের সাথে থাকবে না।

‘আমরা হলের মেয়েরা যদি এইসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে এই দায় প্রশাসন ও হল প্রভেস্টকে নিতে হবে। আজ থেকে রোকেয়া হলকে ছাত্ররাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’

এদিকে রোকেয়া হলের এ প্রতিবাদের খবর ছাত্রীদের বাকি হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে তারাও হল ছাত্রলীগের নেত্রীদের বের করে দিয়ে প্রাধ্যক্ষদের কাছ থেকে হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

কিছু হলে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের হতে সকাল পর্যন্ত সময় দিলেও এর আগেই তারা বের হয়ে যান।

রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরাও হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

আন্দোলন শেষে ফিরে জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান নেন। এ খবরে হলেই আর প্রবেশ করেননি ছাত্রলীগ নেতারা। রাত দেড়টা থেকে হলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই সময় হলের ছাত্ররা কোটা আন্দোলনের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে হলের টিনশেড থেকে প্রধান ভবন হয়ে বর্ধিত ভবনের (এক্সটেনশন বিল্ডিং) দিকে যায়। ওই সময় হলে থাকা ছাত্রলীগের কয়েকজন পদপ্রত্যাশী দ্রুত হল ছাড়েন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রশাসন নীরব কেন’, ‘জহু হলে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি হলের ফটকে থাকা ছাত্রলীগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন তারা। এরপর হলের রাস্তায় এগুলো দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে টিএসসি থেকে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতা-কর্মীরা জহুরুল হলের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে যান। খবরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে জানানো হলে তিনি এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে দিবেন না জানান। পরে দেখা যায়, বহিরাগত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসি চত্বর থেকে টিএসির দিকে ফিরে যান।

গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে হলের ফটকের সামনে জড়ো হয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ে হলের মধ্যে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে হলের আবাসিক শিক্ষকরা ফটকের সামনে যান। কিছুক্ষণ পরে ফেরত এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীরা হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে হল থেকে বহিষ্কার এবং কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে হলে সার্বিক নিরাপত্তা ও বহিরাগত বের করার জন্য হল প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি চান এবং হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করে।

এর একটু পরে হলের বাইরে থেকে বাইক নিয়ে এসে হল গেটের সামনে ককটেল ফোটানো হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাকিবুর রহমান সায়েম এবং রাব্বি হকসহ আরও কয়েকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা সচক্ষে তাদের দেখেছেন।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরাও আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তারা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে গিয়ে তাদের খোঁজা শুরু করেন এবং কিছু কিছু কক্ষ ভাঙচুরও করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলেও মধ্যরাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে নেমে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেলেও হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা রাতেই হল ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কাছে গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কারণে কোনো হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চান। হল প্রাধ্যক্ষ আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কক্ষে ফিরে আসেন।

রাতে কোনো ঘটনা না ঘটলেও সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে। তারা শিক্ষার্থীদের জড়ো করে ‘আমার ভাই মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘টোকাই দিয়ে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’ স্লোগান দেন।

ওই সময় সেখানে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন এবং কয়েকজন হাউস টিউটর শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেন হল প্রাধ্যক্ষ। তারা তাদের বিভিন্ন দাবি তৈরি করার জন্য সময় চান।

পরে শিক্ষার্থীরা হলের মুক্ত মঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে পাঁচটি দাবি তৈরি করেন। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবি হলো হলের সব ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে; গত পরশু ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে হল থেকে বের করে দিতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে যান।

এদিকে সকাল সাতটা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করেন।

ওই সময় হল ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সবাই হল ছেড়ে বের হয়ে আসেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের সবার কক্ষের সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বাইরে ফেলে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায়ও শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করছিলেন।

সকাল সাড়ে আটটা থেকে জসীম উদ্‌দীন হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলেও শিক্ষার্থীরা হল দখলে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দেন এবং তাদের কক্ষ ভাঙচুর করে সব কাপড় বাইরে ফেলে দিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনা আঁচ করতে পেরে নিজ থেকে বের হয়ে যান।

জসীম উদ্‌দীন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের কক্ষ, বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের কক্ষ এবং সূর্যসেন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীরের কক্ষেও ভাঙচুর চালিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এসব হলে শিক্ষার্থীরা দখলে নিয়ে আছেন আর ছাত্রলীগ নেতারা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায় ভাঙচুর করা হচ্ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষগুলো।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ
পুরান ঢাকায় জবির চার শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ৫
চানখাঁরপুলে সংঘর্ষ, তিন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় বিজিবি মোতায়েন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Now everyone should protest Fakhrul

এখন সবার উচিত আন্দোলন করা: ফখরুল

এখন সবার উচিত আন্দোলন করা: ফখরুল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফাইল ছবি
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বর্বর হামলা চালিয়েছে। আমাদের সন্তানদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এই সময়ে এদেরকে রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এখন সবার উচিত আন্দোলন করা।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও আমাদের অধিকার নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে কোটা ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীই বাতিল করেছিলেন। এখন আবার আদালতকে ব্যবহার করে একটা ইস্যু বানিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। আমাদের সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এই আলোচনার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ পৈশাচিক নির্যাতন করত। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সেটিই করছে। তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। অথচ শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।’

ফখরুল বলেন, ‘তারা হাসপাতালে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ পৈশাচিক নির্যাতন করত। বর্তমানেও ছাত্রলীগ সেটিই করছে। তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বর্বর হামলা চালিয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখন সবার উচিত আন্দোলন করা। আমাদের সন্তানদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এই সময়ে রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, নূর মোহাম্মদ খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ইন্ধন নয়, সমর্থন আছে: ফখরুল
কোটা ও পেনশন স্কিম বাতিলের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন
রেল করিডোর ও এমওইউ নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার: ফখরুল
শেখ হাসিনার ভারত সফর ধারাবাহিক গোলামি চুক্তির নব সংস্করণ: বিএনপি
খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Action needed against those leading pro Razakar slogans Foreign Minister

রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মঙ্গলবার সভায় বক্তব্য দেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান, আন্দোলন- এগুলো আদালত অবমাননার শামিল, সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বেদীমূলে চপেটাঘাত। যারা রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোটা আন্দোলনের নামে যারা রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমসাময়িক প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী যখন আন্দোলন শুরু করে তখন সেখানে বিএনপি-জামায়াত তাদের প্ল্যান্টেড লোক ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা করছে। সে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারের পক্ষে স্লোগান এসেছে।

তিনি বলেন, ‘যারা এই আন্দোলন করছে তারা দেশের সংবিধান মানতে চায় না। দেশের অনগ্রসর গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের কার্যক্রমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিষয়টি সংবিধানে আছে।’

মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘কোটার বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে কোটাপদ্ধতি বাতিলের যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল, একজন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সেটি বাতিল করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট আবার সেটির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ এটি আদালতে বিচারাধীন বিষয়। এটি নিয়ে সরকার কিছু করতে গেলে আদালত অবমাননা হবে, সংবিধানবিরোধী হবে।

‘এটি বুঝেও বিএনপি-জামায়তের প্ল্যান্টেড যারা, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝাচ্ছে, আবেগ-অনুভূতিকে ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। এমনকি তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফর থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জননেত্রী স্পষ্ট বলেছেন, বিষয়টি যখন আদালতে বিচারাধীন তখন এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে সরকার সেই মোতাবেক কাজ করবে।’

হাছান বলেন, ‘এটি বুঝেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান, আন্দোলন- এগুলো আদালত অবমাননার শামিল, সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বেদীমূলে চপেটাঘাত। সুতরাং যারা রাজাকারের পক্ষে স্লোগানে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে, আইন-আদালতের মর্যাদা রক্ষার্থে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’

আওয়ামী লীগকে দেশ পাহারা দিতে হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চেয়েছিল, সেটি না পেরে কখনও কোটা, কখনও তেল-গ্যাসের মধ্যে ঢুকছে। আর আমরা নির্বাচনের আগে রাজপথে থেকেছি, জয়লাভ করেছি বলে ঘরে বসে থাকা নয়; এখন দেশ পাহারা দিতে হবে।

‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, দেশবিরোধী অপশক্তি যখন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তরুণদেরকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বেদীমূলে আঘাত হানার চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে রাজপথে থাকতে হবে, দেশ পাহারা দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকেছে তা স্পষ্ট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কর্মী নেবে ইউরোপের চার দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুলির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিন্দা
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ইয়েন অর্থসহায়তা দেবে চীন

মন্তব্য

p
উপরে