× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Fakhrul sought prayers for Khaleda Zias condition
google_news print-icon

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন, দোয়া চেয়েছেন ফখরুল

খালেদা-জিয়ার-অবস্থা-সংকটাপন্ন-দোয়া-চেয়েছেন-ফখরুল
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া সিসিইউতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য দেন।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। খবর ইউএনবি

এদিন ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া সিসিইউতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘আমি দুপুর দেড়টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাই ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) দেখতে। তিনি সিসিইউতে আছেন। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা তার কক্ষে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা জানতে আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা সন্ধ্যায় আরেকটি বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।

এসময় জনগণের কাছে দোয়া চেয়ে ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডামের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করুন।’

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানে নিজ বাসভবন ফিরোজায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিসিইউতে ভর্তি করে মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

এর আগে, গত ১ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে যান খালেদা জিয়া। ওই সময় চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে দুই দিন চিকিৎসা দেন।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে বারবার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর থেকে তার চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।

গত বছরের ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার পেট ও বুকে পানি জমে যাওয়া ও লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস পদ্ধতি) নামে পরিচিত হেপাটিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Quota movement led by BNP Jamaat Quader

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে। এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

দেশজুড়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে বুধবার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কাদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন রাস্তাঘাট দখল করতে যাবে? সহিংসতায় জড়াবে? এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। সেই অবস্থায় আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করি, লালন করি, বিশ্বাস করি, সেই চেতনা বিশ্বাসীরা আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে।

‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান। এখানে বেশিক্ষণ আপনাদের ধরে রাখতে চাই না। যার যার এলাকায় যান, আজকেও তাদের ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টির এজেন্ডা আছে, বিধ্বংসী এজেন্ডা আছে।’

কাদের বলেন,‘ এখানে শুধু পুলিশের শক্তি নয়, আমাদের দল, দলের যে শক্তি, যে শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যে শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করেছে, সেই শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমাদের এই শক্তিকে আজ কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের সারা দেশের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দিচ্ছি, সারা দেশে সতর্ক হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে এই অশুভ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।’

বিএনপি নির্বাচিত সরকারকে হটাতে চায় অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের জন্য কতটা মরিয়া হলে তারা শিশু-কিশোরদের মিছিল ব্যবহার করে। ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাস আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এক নেতার ফোনালাপের অডিও ক্লিপ থেকে বোঝা গেছে ছাত্রদলের ক্যাডারদের সংঘর্ষ হামলার নির্দেশ দিচ্ছে। এতে প্রমাণ হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে বিএনপি-জামায়াত আবারও সহিংসতার প্রতি হাঁটছে।

‘তারা তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী সারা বাংলাদেশ থেকে এনে এই শহরে গুপ্তহত্যা করা শুরু করেছে। আরও অনেক বাজে পরিস্থিতি, ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে, উসকানি দিচ্ছে।’

বিএনপি সারাদেশ থেকে ক্যাডার বাহিনী, প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় এনেছে অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘নাশকতা ও নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে গতকাল রাতে পাঁচ-ছয় বোতল পেট্রল, বিপুলসংখ্যক লাঠিসোঁটা, ৬০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র, শতাধিক ককটেল জড়ো করেছিল, যা পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আপনাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এই ধরনের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখুন। কারণ বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব তারা নিজেরাই গ্রহণ করেছে।

‘এই সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা চরিতার্থ করার জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সবসময় ছাত্রসমাজের দাবির প্রতি সহনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রের অভিভাবক। সকলের যৌক্তিক দাবি তার বিবেচনায় রয়েছে। আমরা আন্দোলনকারীদের বলব, আইনের পাশে থাকুন।

‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্ধারিত তারিখের শুনানির জন্য অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধারণ করুন। কোনো অপশক্তির উসকানি বা ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। ফাঁদে পা না দিয়ে অপেক্ষা করুন। তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
আবাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা রাতে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Crime scene tape in front of BNP central office

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শেষে ফটকের সামনের এলাকা ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ডিবি চিহ্নিত করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ইউএনবি। ছবি: বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার দেড়টার দিকে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই কার্যালয়টির মূল ফটকের তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সিআইডি পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এর চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শেষে ফটকের সামনের এলাকা ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চিহ্নিত করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ইউএনবি।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপি কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটও বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কার্যালয়ের আশপাশের ফুটপাতে পথচারীদের হাঁটতে দেয়া হচ্ছে না। কার্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি কার্যালয়ের এক কর্মী ইউএনবিকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দিয়ে কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পরে অভিযান চালায়।

তিনি আরও বলেন, ‘এর পর থেকে আমরা ভেতরে ঢুকতে পারছি না। পুলিশ অফিসের সামনে সিকিউরিটি টেপ লাগিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার দেড়টার দিকে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই কার্যালয়টির মূল ফটকের তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

‘সিআইডি পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এর চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হন।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপি ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ দাবি করেন, বিএনপি কার্যালয়ের শৌচাগার থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রাবণসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বিএনপি কার্যালয়ে ডিবির অভিযানকে ‘নোংরা তামাশা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা আরও বলেন, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা মধ্যরাতে কাপুরুষের মতো আমাদের অফিসে ঢুকে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বা পুলিশি নিরাপত্তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করে বলেও দাবি করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি অফিসে অভিযান চালিয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে ছাত্রলীগের ধাওয়া, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩
সিরাজগঞ্জে পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ গুলি, আহত ১৫
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The announcement of the closing of jobs ordered the students to leave the hall

জবি বন্ধ ঘোষণা, ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

জবি বন্ধ ঘোষণা, ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ জবির প্রশাসনিক ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করতে হবে।’

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিমের সভাপতিত্বে তার কনফারেন্স রুমে বুধবার জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করতে হবে।’

তিনি জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এ সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিক্যাল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জবির ২০১ কোটি টাকার বাজেট, গবেষণায় বরাদ্দ বেড়েছে
৩ দিন অর্ধদিবস, এক দিন পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ডাক জবি শিক্ষক সমিতির
ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন
চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না: জবি উপাচার্য
পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Preparatory meeting on fruit festival in former students of CPI

ফল উৎসব নিয়ে প্রস্তুতি সভা সিপিআইয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের

ফল উৎসব নিয়ে প্রস্তুতি সভা সিপিআইয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের রাজধানী শান্তিনগরে সোমবার কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র ও প্যারাডাইজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়ার অফিসকক্ষে আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আলোচনা ও প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন নাজিমুজ্জামান হাবলু (আহ্বায়ক, সিপিআই এক্স স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন), প্যারাডাইজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়া, শান্তি নিবাস প্রোপ্রার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কাশেম, সিপিআই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান কবির প্রিন্স, মো. মোস্তফা কামাল, স্বপন কুমার ভৌমিক ও জাবেদ পাটোয়ারী, মাসুদ আলম, সাইদুল ইসলাম মিঠু, নেছার পাটোয়ারী, মিশকাত, জুয়েলসহ অনেকে।

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (সিপিআই) সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন সিপিআই এক্স স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ফল উৎসব নিয়ে প্রথম আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানী শান্তিনগরে সোমবার কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র ও প্যারাডাইজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়ার অফিসকক্ষে এ আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা হয়।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন নাজিমুজ্জামান হাবলু (আহ্বায়ক, সিপিআই এক্স স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন), প্যারাডাইজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়া, শান্তি নিবাস প্রোপ্রার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কাশেম, সিপিআই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান কবির প্রিন্স, মো. মোস্তফা কামাল, স্বপন কুমার ভৌমিক ও জাবেদ পাটোয়ারী, মাসুদ আলম, সাইদুল ইসলাম মিঠু, নেছার পাটোয়ারী, মিশকাত, জুয়েলসহ অনেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সবার সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে সুন্দর একটি ফল উৎসব উপহার দেয়াই মূল উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় প্রস্তুতি সভায় ফল উৎসবের তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে কিষাণ-কিষাণীর ঈদ উৎসব, দেখতে ভিড়
ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিষু ও বিজু উৎসব শুরু
শিশু একাডেমিতে ‘স্বপ্ন আঁকো শিশু উৎসব’
৬৪ জেলায় একসঙ্গে হবে জাতীয় পিঠা উৎসব
মোহাম্মদ হাশেম পদক পেলেন নোবিপ্রবি ভিসি ড. দিদার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agitators declared the halls of DU to be political free by throwing out the Chhatra League leaders

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাবির রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেন। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছাত্রলীগ নেতাদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
রোকেয়া হলের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ। সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিচ্ছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

রোকেয়া হলে গতকাল রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেয়ার প্রথম ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করে রাত ৯টার দিকে হলে ঢুকে যান। আর রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ বাকি ছাত্রলীগ নেত্রীরা রাত ১০টার পর হলে ঢোকেন। যদিও রাত ১০টার পর সাধারণত কোনো ছাত্রী হলে ঢুকতে পারেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যান আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নেত্রীরা হলে ঢুকলে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হল ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ওই সময় তারা যেতে না চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দেন। যদিও সেই সময় হলের হাউজ টিউটররা ছাত্রলীগ নেত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ আরও আট নেত্রীকে সেই হল থেকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা। বের করার সময় তাদের মারধর করতেও দেখা যায় কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে। পরে ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ।

সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়, ‘হলে কোনো ধরনের পলিটিক্যাল রুম বা গণরুম থাকবে না। পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হলে হবে না। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হলের সাথে থাকবে না।

‘আমরা হলের মেয়েরা যদি এইসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে এই দায় প্রশাসন ও হল প্রভেস্টকে নিতে হবে। আজ থেকে রোকেয়া হলকে ছাত্ররাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’

এদিকে রোকেয়া হলের এ প্রতিবাদের খবর ছাত্রীদের বাকি হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে তারাও হল ছাত্রলীগের নেত্রীদের বের করে দিয়ে প্রাধ্যক্ষদের কাছ থেকে হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

কিছু হলে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের হতে সকাল পর্যন্ত সময় দিলেও এর আগেই তারা বের হয়ে যান।

রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরাও হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

আন্দোলন শেষে ফিরে জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান নেন। এ খবরে হলেই আর প্রবেশ করেননি ছাত্রলীগ নেতারা। রাত দেড়টা থেকে হলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই সময় হলের ছাত্ররা কোটা আন্দোলনের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে হলের টিনশেড থেকে প্রধান ভবন হয়ে বর্ধিত ভবনের (এক্সটেনশন বিল্ডিং) দিকে যায়। ওই সময় হলে থাকা ছাত্রলীগের কয়েকজন পদপ্রত্যাশী দ্রুত হল ছাড়েন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রশাসন নীরব কেন’, ‘জহু হলে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি হলের ফটকে থাকা ছাত্রলীগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন তারা। এরপর হলের রাস্তায় এগুলো দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে টিএসসি থেকে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতা-কর্মীরা জহুরুল হলের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে যান। খবরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে জানানো হলে তিনি এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে দিবেন না জানান। পরে দেখা যায়, বহিরাগত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসি চত্বর থেকে টিএসির দিকে ফিরে যান।

গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে হলের ফটকের সামনে জড়ো হয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ে হলের মধ্যে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে হলের আবাসিক শিক্ষকরা ফটকের সামনে যান। কিছুক্ষণ পরে ফেরত এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীরা হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে হল থেকে বহিষ্কার এবং কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে হলে সার্বিক নিরাপত্তা ও বহিরাগত বের করার জন্য হল প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি চান এবং হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করে।

এর একটু পরে হলের বাইরে থেকে বাইক নিয়ে এসে হল গেটের সামনে ককটেল ফোটানো হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাকিবুর রহমান সায়েম এবং রাব্বি হকসহ আরও কয়েকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা সচক্ষে তাদের দেখেছেন।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরাও আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তারা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে গিয়ে তাদের খোঁজা শুরু করেন এবং কিছু কিছু কক্ষ ভাঙচুরও করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলেও মধ্যরাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে নেমে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেলেও হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা রাতেই হল ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কাছে গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কারণে কোনো হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চান। হল প্রাধ্যক্ষ আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কক্ষে ফিরে আসেন।

রাতে কোনো ঘটনা না ঘটলেও সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে। তারা শিক্ষার্থীদের জড়ো করে ‘আমার ভাই মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘টোকাই দিয়ে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’ স্লোগান দেন।

ওই সময় সেখানে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন এবং কয়েকজন হাউস টিউটর শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেন হল প্রাধ্যক্ষ। তারা তাদের বিভিন্ন দাবি তৈরি করার জন্য সময় চান।

পরে শিক্ষার্থীরা হলের মুক্ত মঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে পাঁচটি দাবি তৈরি করেন। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবি হলো হলের সব ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে; গত পরশু ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে হল থেকে বের করে দিতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে যান।

এদিকে সকাল সাতটা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করেন।

ওই সময় হল ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সবাই হল ছেড়ে বের হয়ে আসেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের সবার কক্ষের সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বাইরে ফেলে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায়ও শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করছিলেন।

সকাল সাড়ে আটটা থেকে জসীম উদ্‌দীন হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলেও শিক্ষার্থীরা হল দখলে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দেন এবং তাদের কক্ষ ভাঙচুর করে সব কাপড় বাইরে ফেলে দিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনা আঁচ করতে পেরে নিজ থেকে বের হয়ে যান।

জসীম উদ্‌দীন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের কক্ষ, বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের কক্ষ এবং সূর্যসেন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীরের কক্ষেও ভাঙচুর চালিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এসব হলে শিক্ষার্থীরা দখলে নিয়ে আছেন আর ছাত্রলীগ নেতারা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায় ভাঙচুর করা হচ্ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষগুলো।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ
পুরান ঢাকায় জবির চার শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ৫
চানখাঁরপুলে সংঘর্ষ, তিন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় বিজিবি মোতায়েন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Youth killed in clash in front of Dhaka College

ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে যুবক নিহত

ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে যুবক নিহত ফাইল ছবি।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা কলেজের সামনে থেকে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এখানে জরুরি বিভাগে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীতে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় কলেজের গেটের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা কলেজের গেটের সামনে ২৫ থেকে ২৬ বছর বয়সী একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ভ্যানগাড়িতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান শরীফ ও আকাশ মাহমুদ নামের দুই ব্যক্তি।

শরীফ ও আকাশ জানান, তারা মোটরসাইকেলে করে ঢাকা কলেজের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তারা রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতোলে নিয়ে যান।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা কলেজের সামনে থেকে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এখানে জরুরি বিভাগে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘নিহতের সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাসে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নিহত
শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার ঢাবির সহকারী প্রক্টর
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Quota activists protest in DU demanding withdrawal of Prime Ministers speech

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভে যোগ দেয়া ঢাবির সাবেক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমার মেরুদণ্ডকে আঘাত করেছে। তিনি রাষ্ট্রের মানুষকে দুই ভাগ করতে পারেন না। তিনি তার দল এবং সরকারকে এক পক্ষে নিয়েছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী আর আমজনতাকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে হয় রাজাকারের ট্যাগ তুলে নিতে হবে, না হয় আমরা এখানে জীবন দেব।”

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোববারের বক্তব্যকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভে ঢাবি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইডেন মহিলা কলেজসহ সাত কলেজ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

চীনে সাম্প্রতিক সফর নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন যে, রাজাকারের নাতি-পুতিরা সবকিছু পাবে। মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোটা আর মেধা তো এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের সন্তান, নাতিপুতি মেধাবী না আর যত রাজাকারের বাচ্চা, নাতিপুতি উনারা মেধাবী, তাই না?’

প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যকে নিজেদের জন্য অপমানজনক দাবি করে এ বক্তব্য প্রত্যাহারে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা, যারা ‘আমি নই, তুমি নও, রাজাকার রাজাকার’, ‘কে রাজাকার, কে রাজাকার, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’, ‘আমি কেন রাজাকার, জবাব চাই দিতে হবে’, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে’ স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে যোগ দেয়া ঢাবির সাবেক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমার মেরুদণ্ডকে আঘাত করেছে। তিনি রাষ্ট্রের মানুষকে দুই ভাগ করতে পারেন না।

“তিনি তার দল এবং সরকারকে এক পক্ষে নিয়েছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী আর আমজনতাকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে হয় রাজাকারের ট্যাগ তুলে নিতে হবে, না হয় আমরা এখানে জীবন দেব।”

ইডেন ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নিতে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এক ছাত্রী।

ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়া ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমরা ১০-১২ জন শিক্ষার্থী আজকের এই মিছিলে আসার জন্য ইডেন কলেজের ভেতরে পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে জড়ো হচ্ছিলাম আর স্লোগান দিচ্ছিলাম। এ সময় কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা এসে আমাদের বাধা দেয় এবং তারা তর্ক-বিতর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে, একপর্যায়ে যাদের নিয়ে আমরা মিছিলে যোগ দিচ্ছিলাম, তাদের বেধড়ক পেটায়।

‘তাদের পেটানোর কারণে আমরা যখন মাটিতে পড়ে যাই, তখন তারা আমাদের কিল-ঘুষি যে যা পারে, তা দিয়েই মারে। এমনকি আমাদের ওপর গরম পানিও ছুড়ে মারে।’

এ ছাত্রী আরও বলেন, ‘কলেজ প্রশাসন দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মীদের একবারও থামায়নি। মেয়েরা মার খেয়েছে আর তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ইডেন ছাত্রীদের ওপর হামলার পর কেউ যেন কলেজ থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য গেট বন্ধ করে রাখা হয়। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ কিছু ছাত্রী গিয়ে কলেজের গেট খুলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গভবনে স্মারকলিপি ১২ শিক্ষার্থীর
বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা কোটা আন্দোলনকারীদের
কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল
কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন

মন্তব্য

p
উপরে