× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In Sylhet and Sunamganj the flood is taking a terrible form and people are running
google_news print-icon

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

সিলেট-ও-সুনামগঞ্জে-বন্যা-ভয়াবহ-রূপ-নিচ্ছে-নিরাপদ-আশ্রয়ে-ছুটছে-মানুষ
বন্যার পানিতে সিলেটে একের পর এক ডুবছে বিভিন্ন এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার ১৩টির মধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। তবে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় বাড়ছে প্লাবিত এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দুই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সিলেটে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই লক্ষাধিক মানুষ।

সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে মঙ্গলবার দুপুরে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শহরের কাঁচাবাজারে হাঁটুর উপরে পানি। পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজারে বন্যার পানি উঠছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শহরে পানি ঢুকছে।

সিলেটে এবার ২০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল। ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন অবস্থায় আছে সিলেট নগরও। নগরের অনেক রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেড়েই চলেছে পানি।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
বন্যার পানিতে দুর্যোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সিলেটের চারটি নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সোমবার রাত পর্যন্ত সিলেট জেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে মঙ্গলবার স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, জেলায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দুই লক্ষাধিক।

বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের দিন কুরবানির পশুর মাংস, শুকনো খাবার, স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানান, সিলেটে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর মঙ্গলবার সকল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৪৪ মিলিমিটার। আর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার।

আগামী দুদিনও সিলেটে টানা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ঢলের পানিতে ২৭ মে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ফের বন্যাকবলিত হলো সিলেট।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের মূল সড়কে বন্যার দুর্ভোগ। ছবি: নিউজবাংলা

বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় বাড়ছে প্লাবিত এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার মামার দোকান এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রবল বেগে ঢলের পানি নামছে। এলাকার অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে।’

সিলেট নগরে সোমবার ঈদের সকালে টানা বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের শুরু হয় সিলেটে বৃষ্টিপাত। এর প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে নগরে।

নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম আহমদ বলেন, ‘পানিতে বাসা ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় কাল কোরবানি দিতে পারিনি। আজ (মঙ্গলবার) পরিস্থিতি আরও খারাপ। পানি দ্রুত বাড়ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরের সব নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা পর্যন্ত পানি। এছাড়া যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
ডুবেছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল। ছবি: নিউজবাংলা

এছাড়া নগরের মধ্যে অনেক সড়কে পানি রয়েছে। এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে।

বাপাউবো সিলেট কার্যালয় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানায়, এ সময় পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা থেকে ১৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীটির সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে।

কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নদীর সারিগোয়াইন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে মঙ্গলবার দুপুরে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

শহরের কাঁচাবাজারে হাঁটুর উপরে পানি। পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজারে বন্যার পানি উঠছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শহরে ঢুকছে পানি।

বড়পাড়া, তেঘরিয়া থেকে শুরু করে নবীনগর, ধারারগাঁও পর্যন্ত নদী পাড়ের সব সড়ক ও হাট-বাজারে দেড় থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শহরবাসী।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে উঠেছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে- পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এমন তথ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের বসতঘরে পানি উঠে গেছে।

ছাতকে বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুরে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে পাহাড়ি ঢল নেমে আগে থেকেই প্লাাবিত ছিল সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, তাহিরপুরের দেড় শতাধিক গ্রাম। নতুন করে পানি বাড়ায় বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, দিরাইসহ জেলার প্রায় সবকটি উপজেলাতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, ছাতকে বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেজন্য পানি বিপদসীমার উপরে থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘নদী টইটম্বুর অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও আগামী দুদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

‘ইতোমধ্যে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রীর জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি।’

সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুর আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এই দুঃসময়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে সবাইকে থাকার আহবান জানাচ্ছি।’

ইন্ডিয়া মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে দ্রুত বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি।

আরও পড়ুন:
৭২ ঘণ্টায় পানি বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চল, সিলেটের বিভিন্ন নদীর
তিন আতঙ্কে সিলেটবাসী
টিলা ধসে ৩ জন নিহতের ঘটনায় মামলা, তদন্তে কমিটি
টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের পানির নিচে সিলেট নগর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The water of Yamuna is increasing again and new areas are drowning

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠছে যমুনা নদী। ছবি: নিউজবাংলা
যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে যমুনা।

মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ অভ্যন্তর্রীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে।

অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা।

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

দুদিন পানি কমার পর আবারও যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। জেলার নদীপারের চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষের পাশাপাশি গো-খাদ্য নিয়ে সংকটে পড়েছে মানুষ।

বন্যায় গবাদিপশুর চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু। বন্যাদুর্গতরা নিজেদের চেয়ে গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জেলার দুটি পয়েন্টে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দুটি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ মৌসুমে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, ‘ইতোমধ্যে বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে জেলার চার হাজার ৬৩০ হেক্টর ফসলি জমি। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখনও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।’

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ৩৬২টি পরিবারের এক লাখ তিন হাজার ৮৩৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ১৩৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৪৪০ টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
যমুনার ভাঙন থামছে না, ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে
যমুনায় একদিনে পানি বেড়েছে ৩৩ সেন্টিমিটার
বৃষ্টির পানিতে ডুবে রাজধানীতে শিশু নিহত
বন্যায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় যমুনা পাড়ের কৃষকরা
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two farmers died in separate lightning strikes in Nachole

নাচোলে পৃথক বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

নাচোলে পৃথক বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
স্থানীয়রা জানান, নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কামার জগদইল দিঘিপাড়া গ্রামের পাশে কৃষি জমিতে ছয় কৃষক কাজ করছিলেন। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় মোহাম্মদ উজ্জ্বল নামে এক কৃষকের। অপর ঘটনায় ঝলঝলিয়া গ্রামের পাশে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় ব্রজপাতে মৃত্যু হয় ওসমান আলীর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জমিতে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- নাচোল সদর ইউনিয়নের ঝলঝলিয়া গ্রামের ওসমান আলী ও গোমস্তাপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার জিনাতপুর গ্রামের মোহাম্মদ উজ্জ্বল।

স্থানীয়রা জানান, নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কামার জগদইল দিঘিপাড়া গ্রামের পাশে কৃষি জমিতে ছয় কৃষক কাজ করছিলেন। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় মোহাম্মদ উজ্জ্বল নামে এক কৃষকের। ওই মাঠে কাজ করা অপর পাঁচ কৃষক সুস্থ আছেন। অপর ঘটনায় ঝলঝলিয়া গ্রামের পাশে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় ব্রজপাত হলে মৃত্যু হয় ওসমান আলীর।

নাচোল থানার ওসি তারেকুর রহমান সরকার জানান, জমিতে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে পৃথক দুটি স্থানে দুজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তারা। দুজনের মরদেহ স্থানীয়রা তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভিকটিমদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাড়ির উঠানে বজ্রপাতে যুবক নিহত
খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
বজ্রপাতে এক দিনে তিন জেলায় গেল ৮ প্রাণ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three children and two women died in landslides in Coxs Bazar

কক্সবাজারে পাহাড় ধসের তিন ঘটনায় শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু

কক্সবাজারে পাহাড় ধসের তিন ঘটনায় শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার ভোরে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং বিকেলে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এক শিশু ও দুই নারী মারা যান।

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং বিকেলে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এসব পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার, সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে পাঁচ বছরের নাজমুল হাসান এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসের তিন ঘটনায় শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু

এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে কক্সবাজারে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একদিনে ১০ জন মারা যান।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেওয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটিচাপা পড়েন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসের তিন ঘটনায় শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপু্রে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কিনা দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিলেন। এসময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশু সন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উখিয়ায় আবারও পাহাড় ধস, রোহিঙ্গা যুবক নিহত
টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস, বাঘাইছড়ির সঙ্গে বন্ধ সড়ক যোগাযোগ
উখিয়ার ক্যাম্পে পাহাড় ধস, প্রাণ গেল মা-মেয়ের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Residents of Kushiya shores hit by prolonged floods in Sylhet

সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারা

সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারা সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি না কমায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদী অববাহিকার বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেটের প্রধান নদী সুরমার পানি কমে এর তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কুশিয়ারার পানি কিছুতেই কমছে না। ফলে কুশিয়ারা-তীরবর্তী জকিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জের সাড়ে ৫ লাখ বাসিন্দা প্রায় এক মাস ধরে পানিবন্দি। ওদিকে বন্যার মধ্যেই মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

১৭ জুন সকাল। সবাই মেতেছে ঈদের আনন্দে। আর লিলু বেগম ব্যস্ত ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে। কেননা ওই ঈদের দিন ভোরেই পানি ঢুকে যায় তার ঘরে। এরপর প্রায় এক মাস পেরুতে চললেও এখনও পানি নামেনি তার ঘর থেকে।

সিলেট নগরের ৪০ নম্বরের ওয়ার্ডের মনিপুর এলাকার বাসিন্দা লিলু বেগমের মতো এখানকার অনেক পরিবারকেই দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থার যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। কেননা বন্যায় পুরো ওয়ার্ডই বলতে গেলে পানির নিচে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

লিলু বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘পানিতে থাকতে থাকতে হাত-পা পচে যাচ্ছে। ঘরের মাটির দেয়াল ভেঙে পড়ছে। তবু পানি নামছে না। আগেও বিভিন্ন সময় বাড়িতে পানি উঠেছে। কিন্তু এতো দীর্ঘ সময় কখনও থাকেনি।

‘অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এখন মনে হচ্ছে আর কোনদিনই বুঝি পানি নামবে না। মাছের মতো সারাজীবন পানিতে ভেসে থাকতে হবে।’

সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারা

বন্যায় ১৪ জুন থেকেই সিলেট নগরীর ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যেতে শুরু করে। সেই বন্যার পানি কমার আগেই ১ জুলাই আবার বন্যা শুরু হয়। ফলে প্রায় এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে আছেন এই ওয়ার্ডের মনিপুর, আলমপুর, ছিটা গোটাটিকর এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকায় দুর্ভোগের অন্ত নেই তাদের।

নগরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। এই উপজেলার অবস্থান কুশিয়ারা নদী অববাহিকায়। এবারের বন্যায় কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারাই পড়েছেন বেশি দুর্ভোগে।

সিলেটের প্রধান নদী সুরমার পানি কমে এর তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কুশিয়ারার পানি কিছুতেই কমছে না। বরং সুরমার পানি কমার সময়েও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। প্রায় এক মাস ধরে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে অবস্থান করছে। ফলে কুশিয়ারা তীরবর্তী জনপদ জকিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে পড়েছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শেওলা এবং অবশলীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে কুশিয়ারা নদীর পানি না কমা প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘হাকালুকি হাওর-তীরবর্তী মৌলভীবাজারের জুড়ী, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপাজেলার পানিও কুশিয়ারায় এসে নামে। ফলে কুশিয়ারা নদীর পানি কমার গতি খুবই ধীর। আর এ বছর একবারের বন্যার পানি কমার আগেই আরেকবার বন্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে কুশিয়ারা তীরবর্তী বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগে পড়েছেন।

কুশিয়ারার পানি না কমায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা। গত বন্যায় পানিবন্দি থাকা অবস্থায়ই ফের বন্যাকবলিত হয় ফেঞ্চুগঞ্জ। উপজেলা সদর, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটে এখনও পানি থৈ থৈ করছে। এ উপজেলার বাসিন্দারা এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে দিনযাপন করছেন।

সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারা

জকিগঞ্জ উপজেলায়ও একই অবস্থা। কুশিয়ারার ডাইক ভেঙে এখনও এই দুই উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিয়ানীবাজার উপজেলায়ও চলতি সপ্তাহে কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। উপজেলার দেউলগ্রাম, গোবিন্দশ্রী, আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে।

জকিগঞ্জ পৌর এলাকার নরসিংহপুর, উপজেলার ছারিয়া, রারাই এলাকার তিনটি ডাইক ভেঙে এ যাবত উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ৮৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখের ওপর মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় এখনও পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন নয় হাজার ৬৩৫ জন।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে বাজারের সব দোকানে পানি। দোকান খোলা রাখলেও কোনো ব্যবসাপাতি হচ্ছে না। আর বাজারের সড়ক দিয়ে তো নৌকা চলাচল করছে।’

ঈদের পরদিন প্রথম দফা বন্যার পর জান আলী শাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ছিটা গোটাটিকর এলাকার বাসিন্দা মনিরাম বিশ্বাস। এরপর আর বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি।

মনিরাম বলেন, ‘এক মাস ধরে একেবারে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ঘর থেকে একবার পানি নামে তো দুদিন পর বৃষ্টিতে আবার পানি ঢুকে যায়। রাস্তাঘাটও পানির নিচে। ফলে বাড়ি ফিরতে পারছি না।

‘সিটি করপোরেশনের মধ্যে থেকেও আমরা সব ধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের এলাকার সড়ক ভাঙ্গাচোরা, কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, ‘নগরের কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনও বন্যার পানি রয়ে গেছে। বিশেষত নতুন ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব ওয়ার্ডের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি নামার পর দ্রুততার সঙ্গে কিছু সংস্কার কাজ করা হবে।’

বন্যার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা

বন্যার মধ্যেই সিলেটে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অথচ বন্যার কারণে এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে কয়েকটি কলেজ। অবশ্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি থাকা কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এখনও পানি রয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সরকারি ডিগ্রি কলেজে। বন্যার পানিতে কলেজের রাস্তা ও আঙিনা ডুবে আছে। এই কলেজে মঙ্গলবার থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুবিধার্থে রাস্তায় ফেলা হয়েছে বালুর বস্তা। সেই বস্তার ওপর দিয়ে মঙ্গলবার সকালে কলেজে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। একইভাবে বোর্ডের অনেক কেন্দ্রে বন্যার পানি মাড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন পরীক্ষার্থীরা।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘কলেজের প্রবেশ পথে পানি থাকলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তায় বালুর বস্তা দেয়া হয়েছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। তবে সেগুলোতে পরীক্ষার হল রাখা হচ্ছে না।’

এছাড়া বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র থাকলেও সেখানে পানি থাকায় এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়াতে কেন্দ্রের আশপাশে কোনো পানি নেই। এটা বিবেচনা করেই মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে।’

জানা গেছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পুরো বিভাগের ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছেন।

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, জনদুর্ভোগ চরমে
সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি ৫ হাজার মানুষ
বন্যায় সিলেটের পাঁচ শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ
মৌলভীবাজারে ফের বন্যা, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি
ঢল আর বৃষ্টিতে তৃতীয় দফা বন্যায় ডুবছে সিলেটের জনপদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The flood water burst into the test center

বন্যার পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে

বন্যার পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে জুড়ী উপজেলার তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বন্যার ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘সকালে তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কেন্দ্রের সামনে বন্যার পানি রয়েছে। আগামী পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা যাতে পানিতে না ভিজে কেন্দ্রে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণভাবে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে এ উপজেলা দ্বিতীয় দফা বন্যাকবলিত হওয়ায় সকালে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। তাদেরকে পরনের জামা কাপড় ভিজিয়ে হাঁটু পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়।

সারা দেশে ৩০ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও বন্যার কারণে সিলেট বিভাগের পরীক্ষা পেছানো হয়। মঙ্গলবার আইসিটি পরীক্ষার মাধ্যমে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জুড়ী উপজেলার চারটি কলেজ থেকে মোট এক হাজার ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

জুড়ী উপজেলা দ্বিতীয় দফা বন্যাকবলিত হওয়ায় তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ কেন্দ্রের সামনের জুড়ী-লাঠিটিলা আঞ্চলিক মহাসড়কে পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদেরকে বন্যার পানি মাড়িয়ে ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছতে হয়।

উপজেলার চারটি কলেজের মধ্যে তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ থেকে ৮১৯ জন, হাজী আপ্তাব উদ্দিন আমিনা খাতুন কলেজ থেকে ১৬৬ জন, ফুলতলা শাহ্ নিমাত্রা কলেজ থেকে ১৮৬ জন এবং শিলুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬২ জনসহ মোট এক হাজার ২৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিদা আক্তার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার বলেন, ‌‘উপজেলায় বন্যা থাকায় তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজের ভেন্যু সেন্টার মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার পানি থাকায় সেটিকে পরিবর্তন করে সরকারি কলেজের পুরাতন ভবনে নেয়া হয়েছে।

‘সড়কে বন্যার পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

ইউএনও লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘সকালে তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কেন্দ্রের সামনে বন্যার পানি রয়েছে। আগামী পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা যাতে পানিতে না ভিজে কেন্দ্রে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় সিলেটের পাঁচ শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ
মৌলভীবাজারে ফের বন্যা, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি
ঢল আর বৃষ্টিতে তৃতীয় দফা বন্যায় ডুবছে সিলেটের জনপদ
সিলেটসহ তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Kurigram one after another the dams are breaking and the towns are sinking

কুড়িগ্রামে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে জনপদ

কুড়িগ্রামে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে জনপদ কুড়িগ্রামে একের পর এক বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ছবি: নিউজবাংলা
কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার আকরাম মাস্টারের বাড়ির সামনে রোববার সকালে ভেঙে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১৫ মিটার। এর আগে শনিার তেলিয়ানীতে বেড়ি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। কচাকাটা থেকে আয়নালের ঘাটগামী পাকা সড়ক উপছে পানি প্রবেশ করছে বিস্তীর্ণ এলাকায়।

কুড়িগ্রামে ধরলা নদী, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। দুধকুমার নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ও সড়ক উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। দীর্ঘ হচ্ছে বানভাসীর তালিকা।

রোববার সকালে কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার আকরাম মাস্টারের বাড়ির সামনে ভেঙে গেছে এলজিইডি ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১৫ মিটার। একই দিন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোরে মুড়িয়া গ্রামে এক জায়গায় বাঁধ ভাঙার উপক্রম হলে এলাকাবাসী তা নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেন। একই ইউনিয়নের তেলিয়ানীতে শনিবার একটি বেড়ি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।

কচাকাটা থেকে আয়নালের ঘাটগামী পাকা সড়ক উপছে পানি প্রবেশ করছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। তেলিয়ানী গ্রামের বাসিন্দা ওছমান গণি জানান, দুধকুমারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে রোববার সকাল ১১টার দিকে সড়ক উপচে পানি প্রবেশ করতে থাকে। ক্রমে বাড়তে থাকে এর গতি। ধীরে ধীরে মাটি ক্ষয়ে পানি প্রবেশের অংশ প্রশস্ত হয়ে গেছে। সেখান দিয়ে পানি প্রবেশ করে কিছুক্ষণের মধ্যে এখন তার উঠোনে হাঁটুপানি। ক্রমে পানির উচ্চতা বাড়ছে।

কুড়িগ্রামে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে জনপদ
নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক উপচে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদ আলী বলেন, পানি যেভাবে প্রবেশ করছে তাতে করে বিকেলের মধ্যে তেলিয়ানীর অধিকাংশ ঘর-বইড়তে পানি উঠে যেতে পারে। যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে তার আশপাশের গ্রামগুলোরও একই অবস্থা।

অপরদিকে কেদার ইউনিয়নের বাহের কেদার গ্রামের আকরাম মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫ মিটার জায়গা ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকছে তিনটি গ্রামে।

বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, শনিবার মিয়াপাড়ায় বেড়ি বাঁধের দুটি স্থানে ভেঙে যায়। রোববার তেলিয়ানীতে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ফলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক গ্রাম। ফলে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

টানা সাতদিন ব্যাপী স্থায়ী বন্যায় দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদী-তীরবর্তী এলাকার বন্যা প্লাবিত হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ প্রায় ৬০টি ইউনিয়নের দুইলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে মানুষ যেসব উঁচু স্থানে গবাদিপশু রেখেছিল সেসব স্থানে পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিজস্ব নৌকা, উঁচু রাস্তা, ফ্লাড শেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভূমিতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকাবাল রাজিব বাঁধ ভাঙারর বিষয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে জানাতে পারব।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, দুধকুমার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ চলমান। সেগুলো বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। শনিবার যেটি ভেঙেছে সেটি একটি পুরনো সড়ক। তারপরও সেটি রক্ষার্থে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে নজরে দেয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বন্যায় ১৮ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
কুড়িগ্রামে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, জনদুর্ভোগ চরমে
সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি ৫ হাজার মানুষ
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত
বন্যায় সিলেটের পাঁচ শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 million people affected in 18 districts due to floods Minister of State for Disaster

বন্যায় ১৮ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

বন্যায় ১৮ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী কুড়িগ্রামে বন্যাদুর্গত এক পরিবারের ভোগান্তি। ফাইল ছবি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান বলেন, ‘দেশের ১৮ জেলায় বন্যাদুর্গতদের জন্য তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।’

চলমান বন্যায় দেশের ১৮ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রোববার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাদুর্গতদের জন্য তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

‘বন্যার্তদের জন্য ১৮ জেলায় ২১ হাজার ৭০০ টন চাল, নগদ ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ৬৫ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো ও অন্যান্য খাবার, গো-খাদ্য বাবদ ৪০ লাখ টাকা এবং শিশুখাদ্যের জন্য ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

এছাড়া সিলেট-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও মৌলভীবাজার-২ সংসদীয় আসনে আড়াই হাজার প্যাকেট শুকনো ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, জনদুর্ভোগ চরমে
সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি ৫ হাজার মানুষ
বন্যায় সিলেটের পাঁচ শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ
মৌলভীবাজারে ফের বন্যা, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি
সিলেটে বন্যার্তদের রূপায়ণের খাদ্য-সহায়তা

মন্তব্য

p
উপরে