× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In the traffic of the market the profit farmer is the common buyer
google_news print-icon

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

হাটে-বেপারিদের-আনাগোনায়-লাভ-চাষির-কোণঠাসা-সাধারণ-ক্রেতা
মেহেরপুরের বামন্দী পশুর হাটে বেপারিদের আনাগোনায় চাষিদের লাভ হলেও কাঙ্ক্ষিত দামে গরু কিনতে হিমশিম খান অনেক ক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা
স্কুলশিক্ষক লাল্টু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোরবানির আজ (শুক্রবার) শেষ হাট। কোরবানির জন‍্য একটি ছাগল নিতে এসেছি। এসে দেখি গত হাটের থেকে আজ দাম অনেক বেশি। এর একটাই কারণ। আজ বাহির থেকে অনেক গরুর বেপারিরা এসেছে, যার কারণে যে ছাগল গত হাটে ২৫ হাজার টাকা দাম ছিল, আজ তার দাম ২৮ হাজার টাকা। এতে চাষিদের বাম্পার। আর আমরা হয়ে গেছি কোণঠাসা।’

ঈদুল আজহা কড়া নাড়ছে দুয়ারে। এ ঈদকে সামনে রেখে জমে ওঠে খুলনা বিভাগের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেহেরপুরের বামন্দী পশু হাট। এ হাটটিকে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরু-ছাগলের হাট।

কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে হাটটিতে পা ফেলানোর জায়গা পাওয়াটাই কঠিন হয়ে যায় পশু পালনকারী চাষি, খামারি, সাধারণ ক্রেতা ও বেপারিদের আনাগোনায়। অথচ কয়েক দিন আগেও ক্রেতা ও ব‍্যবসায়ী সংকটে ভুগছিলেন প্রান্তিক চাষি ও খামারিরা।

শেষ সময় এসে বাজারটির চিত্র পাল্টে যায়, তবে এলাকার বাইরে থেকে অনেক বেশি বেপারির (ব‍্যবসায়ী) উপস্থিতিতে কোণঠাসা হয়ে বিপাকে পড়েন ক্রেতারা।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, এলাকার বাইরে থেকে অনেক গরুর ব‍্যবসায়ী এসে সাধারণ বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে গরু-ছাগল কেনেন। এর ফলে বাড়তি দামেও কাঙ্ক্ষিত পশুটি পাননি তারা।

সাধারণ ক্রেতা, বেপারি ও পশুর হাট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার বসে বামন্দীর পশু হাট। কোরবানি ঈদের আগে সর্বশেষ শুক্রবার বসে ঐতিহ্যবাহী এ হাট।

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

কিছুদিন আগেও এই পশুর হাটে বেপারি ও সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, তবে শুক্রবার হঠাৎ করে এ হাটে ঢাকাসহ দেশের অন‍্যান‍্য এলাকা থেকে ট্রাক নিয়ে অনেক গরু ব‍্যবসায়ী আসেন। এতে করে গরু-ছাগলের চাহিদার পাশাপাশি দামও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটের চেয়ে বেশি দামে পশু কিনতে হয়।

যা বললেন ক্রেতারা

বামন্দী হাটে গতকাল কথা হয় কোরবানির পশু কিনতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) বামন্দী পশু হাটে পশুর দামে আগুন লেগে গেছে। গত সোমবার হাটে যে গরুর দাম চাইছিল ১ লক্ষ ৪০ হাজার, আজ তার দাম চাইছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তারপরও পাওয়া কঠিন।

‘গরুর চাষির গরুর দড়ি ধরে একাধিক বেপারি দাঁড়িয়ে থাকছে। আমাদের সুযোগ পাওয়াটাই কঠিন।’

আরেক ক্রেতা রতন বলেন, ‘আমরা গত সোমবার কোরবানির জন‍্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। বাড়িতে নিয়ে এসে দেখি গরুটির দাঁত ওঠেনি। তাই আজ হাটে সেই গরুটি বিক্রি করে আরেকটি গরু কিনব বলে এসেছি।

‘সেই গরুটি আজ বিক্রি করলাম ১ লক্ষ ৪৫ হাজারে। আরেকটি কিনলাম ১ লক্ষ ৬৫ হাজারে। আজ হাটে অনেক গরুর বেপারি এসেছে, যার ফলে গরুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দামও বেড়ে গেছে। আর আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কোণঠাসা হয়ে গেছি।’

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

স্কুলশিক্ষক লাল্টু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোরবানির আজ (শুক্রবার) শেষ হাট। কোরবানির জন‍্য একটি ছাগল নিতে এসেছি। এসে দেখি গত হাটের থেকে আজ দাম অনেক বেশি। এর একটাই কারণ।

‘আজ বাহির থেকে অনেক গরুর বেপারিরা এসেছে, যার কারণে যে ছাগল গত হাটে ২৫ হাজার টাকা দাম ছিল, আজ তার দাম ২৮ হাজার টাকা। এতে চাষিদের বাম্পার। আর আমরা হয়ে গেছি কোণঠাসা।’

গরু পালনকারী জহুরুল জানান, তার পোষা গরুটি বিক্রির জন‍্য গত দুই হাটে বামন্দী ঘুরেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করতে পারেননি। শুক্রবার ঈদের আগে শেষ হাট। যে গরুটি তিনি গত দুই হাটে দেড় লাখে বিক্রি করতে চেয়েও ক্রেতা পাননি, সেই গরুই বিক্রি করেছেন এক লাখ ৭৫ হাজার টাকায়।

আরেক গরু পালনকারী আনোয়ার বলেন, ‘আমি বছরে দুটি করে গরু পালন করি। আর কোরবানির ঈদে বিক্রি করি, তবে গত কয়েক হাটেই আমার পোষা গরু দুটির ভালো দাম পাইনি। আজ বাইরের বেপারি ভালো দামেই গরু দুটি কিনে নিল।’

বেপারিদের ভাষ্য

ঢাকা থেকে আসা গরুর বেপারি মহাসিন আলী বলেন, ‘আমি আজ এই পশু হাট থেকে তিন ট্রাক গরু কিনে ঢাকায় পাঠাব। সেই লক্ষ্যে সকাল থেকেই পশু পছন্দ করে বেড়াচ্ছি, তবে আজ এই হাটে অনেক বেপারির সমাগম ঘটেছে, যার ফলে পশুর চাহিদা বেড়েছে। বেড়েছে দামও।’

ঢাকা থেকে পশুর হাটে আসা আরেক বেপারি তৈয়ব আলী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন পার্টনার মিলে প্রায় ২০ বছর ধরে বামন্দীর এই হাট থেকে পশু কিনে ঢাকার বাজারে বিক্রি করি। মেহেরপুরের গরু ঢাকার বাজারে চাহিদা থাকায় এখানকার গরু-ছাগল কিনে বেশ পড়তা হয়।

‘কেননা এখানকার অধিকাংশই পশু আসে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে। তা ছাড়া চাষিদের কাছ থেকে পশু কিনে মজা বেশি। আমাদের ঈদের আগে আজকেই শেষ হাট।’

জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী পশু হাট ইজারাদার মামুন বলেন, ‘কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মূলত আমাদের হাট ইজারার টাকা ওঠে। এই পশুর হাটটি গত বছর সাড়ে চার কোটি টাকায় ডাক হয়েছে।

‘গত সোমবার বামন্দী পশু হাটে গরু আমদানি হয়েছিল তিন হাজার ৯৭৫টি। আর বিক্রি হয়েছিল তিন হাজার ৮৪৯টি, তবে আজ সোমবার হয়তো গরুর আমদানি সাত হাজার ছাড়িয়ে যাবে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারিচুল আবিদ জানান, এ বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মেহেরপুরে ৪৫ হাজার গরু ও এক লাখ ২৮ হাজার ৮০টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন ৩০ হাজার খামারি। এগুলোর আনুমানিক দাম ধরা হয় প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

জেলায় পশুর চাহিদা ৯০ হাজার ১৯৩টি। বাকি পশু চলে যাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

আরও পড়ুন:
পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট
গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারিরা
পশুর হাট বসানো নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে গুলি, আহত ১০

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sylhet is a safe route for sugar smuggling

চিনি চোরাচালানের ‘নিরাপদ রুট’ সিলেট

চিনি চোরাচালানের ‘নিরাপদ রুট’ সিলেট সিলেটে সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতায় চোরাই চিনির বড় কিছু চালান আটক হলেও চোরাচালান থামছে না। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা শত শত বস্তা চিনি জব্দ করা হচ্ছে।

ভারত থেকে চিনি চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে সিলেট। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই আসছে শত শত বস্তা চিনি।

সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতায় চোরাই চিনির বড় কিছু চালান আটক হলেও চোরাচালান থামছে না।

অভিযোগ রয়েছে, চিনি চোরাচালানের সঙ্গে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা-কর্মী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজনেরও যোগসাজশ রয়েছে। এ কারণে বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান।

সিলেট থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ছয়টি ট্রাকভর্তি এক লাখ ২০ হাজার কেজি ভারতীয় চোরাই চিনি জব্দ করে পুলিশ, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

গতকাল ভোরে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) শাহপরাণ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চিনি জব্দ করা হয়।

এভাবে প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা বিপুল পরিমাণ চিনি জব্দ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে পরিমাণ চিনি জব্দ করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি চিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসছে। জেলার জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তের শতাধিক স্থান দিয়ে চিনি দেশে প্রবেশ করেছে।

অবৈধভাবে আসা এসব চিনিতে এখন ছেয়ে গেছে সিলেটের বাজার। এতে সিলেটে চিনির দামও কিছুটা কমেছে, তবে সংকটে সৃষ্টি হয়েছে দেশীয় চিনি শিল্পে।

স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, চোরকারবারিরা দিনমজুরদের মাধ্যমে ভারত থেকে বিভিন্ন চোরাইপথে বাংলাদেশে চিনির বস্তা নিয়ে আসেন। এ জন্য দিনমজুরদের বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকেও মাসোহারা দেয়া হয়। দেশে প্রবেশের পর এসব চিনি ট্রাকে করে নগরে নিয়ে আসা হয়। এ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগসহ সরকারদলীয় কিছু নেতা। এ নেতারা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে নিয়ে আসা চিনির ট্রাক পাহারা দিয়ে নগরের বৃহৎ পাইকারি বাজার কালিঘাটে নিয়ে আসেন। ট্রাকের সামনে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পাহারা দেয়ায় এসব ট্রাক পুলিশও আটকায় না। চোরাচালানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ চোরাই চিনি চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। এর মধ্যে গত আগস্ট মাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট দিলে চোরাচালানের বিষয় জনসমক্ষে আসে। এরপর অভিযুক্তরা হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন।

হামলার ঘটনায় পুজন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগের ৫৫ নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

চিনি চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।

গত ২৪ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভায় মাসুক উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক কথা সিলেট শহরে শুনি। সিলেট শহরে হাঁটতে পারি না। ছাত্রলীগ আমাদের ছোট ভাই। আমরাও ছাত্রলীগ করেছি। আমরা ছাত্রলীগ করে দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতি করছি।

‘সুতরাং আমরা কখনও কোনো বদনামের বোঝা নিয়ে চলিনি। ছাত্রলীগ থেকে আজকে আওয়ামী লীগের এই পর্যায়ে এসেছি।’

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় নিলামে কেনা চিনি ৮ জুন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৪ জুন বিয়ানীবাজার উপজেলা ও বিয়ানীবাজার পৌর শাখার কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ওই ঘটনায় মামলা করার পর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর শাখার সভাপতিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া নিজ দলের মধ্যে বিভক্তির জেরে পাল্টাপাল্টি হামলাসহ নানা অভিযোগ ওঠে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে অভিযোগ করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু এমনভাবে কথা হচ্ছে যেন ছাত্রলীগের সবাই চোরাকারবারি। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

গতকাল প্রায় দেড় কোটি টাকার চিনি জব্দ প্রসঙ্গে এসএমপি ডিবির উপকমিশনার তাহিয়াত আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোর পাঁচটার দিকে শাহপরাণ থানাধীন সুরমা বাইপাস দিয়ে আসা পাঁচটি ট্রাক শাহপরাণ ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ সময় বহরের পেছনের একটি ট্রাক পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা শাহপরাণ থানা পুলিশকে অবগত করলে শাহপরাণ (রহ.) মাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের সহায়তায় আমরা মাজার এলাকা থেকে সেই ট্রাক আটক করি।

‘এই ছয়টি ট্রাক থেকে মোট এক লাখ ২০ হাজার কেজি ভারতীয় চোরাই চিনি জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এই অভিযানে মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’

সম্প্রতি এভাবে চোরাই চিনির কয়েকটি বড় চালান জব্দ করেছে পুলিশ। গত ৬ জুন সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁওয়ের ভাদেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে পুলিশ ১৪টি ট্রাকে ভর্তি দুই হাজার ১১৪ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়। প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের চিনির ওই চালানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন আটক করা হয়েছে।

এভাবে গত কয়েক মাসে সিলেটে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার চোরাই চিনি জব্দ করে প্রশাসন, তবে চোরাই চিনি জব্দ এবং কিছু ক্ষেত্রে চিনির বাহককে আটক করা হলেও হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সিলেট সীমান্ত দিয়ে চোরাই পণ্য প্রবেশ আরও বেড়েছে।

এমনকি বন্যার মাঝেও থেমে নেই চিনি চোরাচালান। সীমান্ত এলাকা থেকে জলমগ্ন রাস্তা ও নৌপথে চোরাকারবারিরা চিনি নিয়ে আসছে মহাসড়কে। সেখানে বড় ট্রাক, পিকআপ এমনকি মোটরসাইকেলে করেও নিয়ে আসা হয় সিলেট শহরে। শহরের বিভিন্ন গুদামে রেখে ভারতীয় সিলযুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সিলেট জেলা পুলিশ ও সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় চোরাই চিনি চোরাচালানের ঘটনায় ৬১টি মামলা করা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪৭ জনকে।

এসবের মধ্যে জৈন্তাপুর থানার একটি মামলার আসামি মনসুর আহমদ নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার শ্যালক আবদুল কাদিরও এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার জাকির হোসেন খান বলেন, ‘চোরাই পণ্য ঠেকাতে মহানগর এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ছয়টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। চোরাই পণ্য জব্দ করার সময় ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে চার্জশিভুক্ত আসামিও করা হয় তাদের। এ ছাড়া তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্য কারবারিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
উজানে ভারি বৃষ্টি, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
কলমাকান্দা সীমান্তে দুই কোটি টাকার ভারতীয় চিনি জব্দ
মধ্যরাতে কাউন্সিলরের বাসায় ‘প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীদের’ হামলা, চারজন আহত
বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র সাময়িক বরখাস্ত
সিলেটে বন্যায় সড়কেই ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A family of seven lives in Sufias boat

সুফিয়ার নৌকায় চলে সাতজনের সংসার

সুফিয়ার নৌকায় চলে সাতজনের সংসার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কেওয়ালী ঘাট গ্রামের ধলাই নদীর তীরে অসুস্থ শরীর নিয়ে বসে ছিলেন সুফিয়া। নৌকা পারাপার করছিলেন তার নাতি। ছবি: নিউজবাংলা
সুফিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জীবিকার জন্য নৌকা নিয়ে দুই পাড়ের বসবাসকারীদের পারাপার করে থাকি। যা রোজগার হয়, তা দিয়েই সংসার চলে। ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়। তা দিয়েই অনেক কষ্ট করে চলে সংসার।’

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠাবিল গ্রামের ধলাই নদীর তীরের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম। জীবিকার তাগিদে হাতে নৌকার বৈঠা তুলে নিয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এ নারী।

ভোরবেলায় নৌকা বাওয়া শুরু হয় সুফিয়ার, যা শেষ হয় রাতে। এভাবে ছয় বছর ধরে বৈঠা হাতে সাতজনের সংসার চালাচ্ছেন এ নারী।

কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের নৌকায় আসা- যাওয়ার একমাত্র ভরসা সুফিয়ার নৌকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুফিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জীবিকার জন্য নৌকা নিয়ে দুই পাড়ের বসবাসকারীদের পারাপার করে থাকি। যা রোজগার হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।

‘ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়। তা দিয়েই অনেক কষ্ট করে চলে সংসার।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ও ছেলের ঘরের নাতি আমাকে সাহায্য করে মাঝে মাঝে। নাতি প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করে পঞ্চম শ্রেণিতে।

‘স্কুল থেকে খেয়েই চলে আসে ধলাই নদীর পাড়ে। সেখানে এসে আমাকে সাহায্য করে। তা না হলে আমার আরও কষ্ট হতো।’

কাঠাবিল গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ধলাই নদীর দুই পাড়ের সবাই সুফিয়ার নৌকার ওপর নির্ভরশীল। কষ্ট করে নৌকা চালিয়ে খাচ্ছে। তা ছাড়া তো উনার উপায় নেই।

‘শুধু বোঝেন, ভাঙা নৌকা নিয়েই ঝড়ঝঞ্জা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। সুহৃদ মানুষ যদি একটু সহায়তার হাত বাড়ান, তাহলেই হয়তো সহজ হবে সুফিয়ার।’

একই গ্রামের সুরুজ আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে আমরা নৌকায় উঠি। নৌকায় মানুষ পারাপার করে উনি (সুফিয়া বেগম) যে পরিমাণ টাকা পান, তাতে তার পক্ষে সংসার চলতে খুবই কষ্ট হয়।

‘সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু তাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই পরিবারটির অনেক উপকার হবে।’

ভ্রমণে আসা সোহেল রানা, আবদুর রাজ্জাক, এম এ ওয়াহিদ রুলু ও শাহাবুদ্দিন জানান, বয়স্ক একজন নারীর নদীকেন্দ্রিক ব্যতিক্রমী পেশা গড়ে ওঠা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তার জীবন থেকে অনেকেরই শিক্ষা নেয়া উচিত।

নৌকায় পারাপারের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হোসেন বলেন, ‌‘সরকারি নিয়ম অনুসারে নৌকা পারাপারের বিষয়ে লিজ নিতে হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে, কিন্তু সুফিয়া ও জয়নাল মিয়া আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। খুবই গরিব। তারা যে সরকারি লিজ নিয়ে নৌকা পারাপার করবে, সে টাকাও তাদের নাই।

‘আমি নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে লিজ দেখিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছি। যদিও ভালোভাবে সংসার এ টাকায় চলার কথা না, তবুও কোনো রকম নৌকা চালিয়ে সংসার চালাতে পারছে। এ ছাড়াও আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় সময় তাদের সহযোগিতা করে থাকি।’

নৌকা চালিয়ে সুফিয়ার জীবিকার্জন নিয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কমলগঞ্জ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, ‘নারী হয়ে তিনি (সুফিয়া বেগম) যেভাবে নৌকা চালিয়ে জীবিকা অর্জন করছেন, তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তিনি যদি সহযোগিতা চান, আমরা মহিলা পরিষদ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার, তাকে সার্বিকভাবে তা করব।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সুফিয়া বেগম আমার কাছ সহযোগিতা চাইলে করব।’

আরও পড়ুন:
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ১২, থাকতে পারে বাংলাদেশিও
মাগুরছড়া ট্র্যাজেডি দিবসে ১৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি
আফগানিস্তানে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ২০
ফেসবুক লাইভে হত্যার হুমকির অভিযোগে জিডি কুলাউড়ার মেয়রের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Thousands of trees standing with death warrants
মেহেরপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ

‘মৃত্যু পরোয়ানা’ নিয়ে দাঁড়িয়ে সহস্রাধিক গাছ

‘মৃত্যু পরোয়ানা’ নিয়ে দাঁড়িয়ে সহস্রাধিক গাছ মেহেরপুর-মুজিবনগর ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের দুই পাশে লাল চিহ্নিত ১৪ শতাধিক গাছ যেন দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে। ছবি: নিউজবাংলা
গাছ কাটার অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রাথমিক একটি সমীক্ষা তৈরি করে জমা দিয়েছে জেলা পরিষদ। অনুমোদন পেলে গাছ কাটার দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে মেহেরপুর-মুজিবনগর ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের দুই পাশে কাটার জন্য লাল চিহ্ন দেয়া হয়েছে সহস্রাধিক গাছে।

যেকোনো সময় বিলীনের ঝুঁকিতে থাকা ১৪ শতাধিক গাছ যেন দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে।

বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং জেলা পরিষদের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, গাছগুলোর প্রকৃত মালিক মেহেরপুর জেলা পরিষদ।

বন বিভাগের সহায়তায় মেহেরপুর-মুজিবনগর ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে গাছগুলো লাগিয়েছিল জেলা পরিষদ। সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছ কাটতে ইতোপূর্বে জেলা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল সওজ।

গাছ কাটার অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রাথমিক একটি সমীক্ষা তৈরি করে জমা দিয়েছে জেলা পরিষদ। অনুমোদন পেলে গাছ কাটার দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এমন বাস্তবতায় সওজ মেহেরপুর বলছে, মুজিবনগর সড়কে গাছ কাটার জন্য দেড় বছর আগে চিঠি দেয়া হয়েছিল। সেখানে সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন নতুন করে গাছ কাটলে সড়কে আবার খানাখন্দের সৃষ্টিসহ নানা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের শুধু মেহেরপুর থেকে আমঝুপি পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করা হবে, কিন্তু গাছ কাটার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে মেহেরপুর থেকে দরবেশপুর পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে, যেটা সম্পূর্ণভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত।

‘মৃত্যু পরোয়ানা’ নিয়ে দাঁড়িয়ে সহস্রাধিক গাছ

অন্যদিকে বন বিভাগ বলছে, তাদের দায়িত্ব শুধু গাছ গণনা ও মূল্য নির্ধারণ। রাস্তা সড়ক বিভাগের আর গাছের মালিকানা জেলা পরিষদের।

সড়ক দুটিতে সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, দুই পাশে বট, পাকুড়, কড়ই, রেইনট্রি, মেহগনি, শিশু, কাঁঠাল, আম, জামসহ নানা প্রজাতির গাছ। শতবর্ষীসহ বিভিন্ন গাছে লাল রং দিয়ে করা হয়েছে নাম্বারিং। লাল রং অর্থই হচ্ছে গাছের মৃত্যু পরোয়ানা।

কিছু গাছ সড়কের একটু ওপরে, তবে বেশির ভাগ গাছই রয়েছে সড়কের বাইরে। অথচ প্রায় সব গাছেই নাম্বারিং করা হয়েছে।

ক্ষোভ

সড়কের পাশের এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেহেরপুরের সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, ফের হাজারের বেশি পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর।

মেহেরপুর পৌর এলাকায় বসবাসকারী ও জেলা কাজি সমিতির সভাপতি একেএম খাইরুল বাশার বলেন, ‘গত বছর মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের তিন সহস্রাধিক শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়েছে সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে প্রশস্তকরণের জন্য। দেখা গেছে গত বছর যে সকল গাছ কাটা হয়েছে, ওইসব এলাকা এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

‘তার ওপরে এ বছর তীব্র তাপপ্রবাহে মানুষ ও প্রাণিকূলের জীবন ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করার কারণে চলতি বছরে তাপপ্রবাহ বেশি অনুভূত হয়েছে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, ‘গাছ, পাহাড় ও নদী হলো জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের প্রাণ। সেই গাছ নিধন করলে বিপাকে পড়ে পরিবেশ, যার প্রভাব পড়ে প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষ ও প্রাণিকূলের উপরেও। গাছ হচ্ছে পাখিদের আবাসস্থল। এর নিচে পথচারী ও পশুপাখি বিশ্রাম নেয়। নিচে পথচারী ও শ্রমিকরা কাজের মাঝে বিশ্রাম নেয়।

‘বিভিন্ন পশু-পাখির খাদ্যের উৎসও হচ্ছে গাছ। এ ছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে অক্সিজেন উৎপাদনের বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে। জীব ও পরিবেশ বৈচিত্র্য রক্ষার্থে অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৃক্ষ নিধনের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা জরুরি।’

‘মৃত্যু পরোয়ানা’ নিয়ে দাঁড়িয়ে সহস্রাধিক গাছ

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য

মেহেরপুর জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস টি হামিম হায়দার বলেন, ‘বন বিভাগ শুধু গাছ গণনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। গাছগুলো জেলা পরিষদের। সড়ক সওজের।

‘তারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিলে শুধু গাছের মূল্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব পড়ে বন বিভাগের ওপর।’

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আইনজীবী আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি একজন পরিবেশবাদী ও বৃক্ষপ্রেমী ব্যক্তি। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমার জন্য কষ্টকর।

‘সওজ সড়ক সম্প্রসারণের প্রকল্প নেয়াতে গাছ কেটে তাদের সহযোগিতা করতে হবে, তবে গাছে নাম্বারিং করা হলেও মোট কতগুলো গাছ কাটা হবে, সেটা এখনই চূড়ান্ত নয়।’

সওজ মেহেরপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেহেরপুর- চুয়াডাঙ্গা সড়ক প্রশস্ত ও চার লেন করার প্রক্রিয়া চলছে। এতে জেলা পরিষদের লাগানো কিছু গাছ কাটা পড়বে, তবে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কে গাছ রেখেই সড়কের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমাপ্ত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে আর কোনো গাছ কাটার প্রয়োজন নেই। এতে বরং সড়কের ক্ষতি হবে।

‘এ সড়কের গাছ না কাটার জন্য শিগগিরই সওজের পক্ষ থেকে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেব।’

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শামীম হাসান বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ যেমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তেমনভাবেই রাষ্ট্র ও এলাকার উন্নয়নে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব জরুরি। সড়ক নির্মাণ করার পরও সড়ক ও জনপথের আরও জায়গা থাকবে। সেখানে পুনরায় নতুন করে কীভাবে গাছ রোপণ করা যায়, সে বিষয়ে বন বিভাগকে উদ্যোগী হতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গাছ উপড়ে সড়কে, কমলগঞ্জে দুই ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা
‘উন্নয়নের কোপ’ পড়ল অর্ধশতাধিক গাছে
আলতাদীঘির গাছ কাটায় বাড়ছে ক্ষোভ
সেচ পাম্পের সুইচ দিতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Flood Sirajganj fodder crisis is acute

বন্যা: সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট তীব্র

বন্যা: সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট তীব্র
বন্যায় চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে সিরাজগঞ্জের প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু। ছবি: নিউজবাংলা
শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের খামারি জলিল শেখ জানান, বন্যার কারণে তারা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ঘাসের জমিগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোনো মতে খড় খাইয়ে পশুগুলো বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া বন্যার কারণে খৈল, ভুসিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দাম বাড়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষের পাশাপাশি তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে গোখাদ্য নিয়ে।

বন্যায় চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু।

পানিবন্দি এসব গবাদিপশুর জন্য সরকারিভাবে এখনও খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দুর্গতরা।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন, কাজিপুরের খাসরাজবাড়ি, শাহজাদপুরের পাচিল এলাকায় রোববার দেখা যায়, পানি বৃদ্ধির কারণে বানভাসি মানুষ উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। গবাদি পশুগুলোকে পলিথিনের ছাউনিতে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ গবাদিপশু নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন পার করছেন।

স্বাভাবিক সময়ে চরের জমিতেই জোটে গরুর খাবার। বন্যায় চরের পুরো এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় কোথাও নেই গবাদিপশুর চারণভূমি। অভাবের সংসারে কষ্ট করে পালন করা এসব পশু চুরি কিংবা হারানোর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

বন্যা: সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট তীব্র

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৫১ মিটার। আগের ১২ ঘণ্টায় হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি না বাড়লেও বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৩৬ মিটার। আগের ১২ ঘণ্টায় তিন সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কী বলছেন খামারিরা

শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের খামারি জলিল শেখ জানান, বন্যার কারণে তারা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ঘাসের জমিগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোনো মতে খড় খাইয়ে পশুগুলো বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া বন্যার কারণে খৈল, ভুসিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দাম বাড়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে।

একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী গাভীগুলোকে খাবার দিতে না পারায় দিন দিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এ ব্যাপারে তারা মানুষের পাশাপাশি গরুর খাবার বিতরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। শুধু ভুসির ওপর খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাজীপুরের শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্কে আশ্রয় নেয়া গবাদিপশুর মালিকরা জানান, এক সপ্তাহ পার হলেও তারা কোনো গোখাদ্য সহায়তা পাননি। উচ্চ মূল্যে খড় কিনে এক থেকে দুই বেলা খাবার দিচ্ছেন। চারদিক পানিতে নিমজ্জিত থাকায় প্রাকৃতিক কোনো খাবার জোগাড় করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

তারা আরও জানান, নিজেরা দুই বেলা খেতে না পারলেও গরুর খাবার জোগাড় করতে প্রতিদিন দূরের কোনো এলাকা থেকে কিছু ঘাস বা খড় জোগাড় করে নিয়ে আসতে হচ্ছে। অনেক সময় গরুগুলোকে বন্যার পানিতে সাঁতরিয়ে অন্য কোথাও উঁচু জমিতে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু এরই মধ্যে পানিবন্দি। এ সময় গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়। এ জন্য আমরা পাঁচটি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছি।

‘তারা নিয়মিত বানভাসি কৃষক ও খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আর গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহের জন্য আমাদের বিভাগে কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যাক্রমে বিতরণ করা হবে।’

বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে পাউবো সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বেড়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকলেও কাজিপুর পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার কমেছে।

‘আশা করছি দ্রুতই পানি কমে যাবে। এ মৌসুমে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এরই মধ্যে বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে জেলার চার হাজার ৬৩০ হেক্টর ফসলি জমি। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ প্লাবিত হয়েছে। এখনও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।’

সিরাজগঞ্জের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার ৩৬২টি পরিবারের ২৩ হাজার ৮৩৬ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৩৬ জন।

‘তাদের মাঝে এরই মধ্যে ৬০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ৪৪০ টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মৌলভীবাজারে ফের বন্যা, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি
যমুনার ভাঙন থামছে না, ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে
সিলেটে বন্যার্তদের রূপায়ণের খাদ্য-সহায়তা
ঢল আর বৃষ্টিতে তৃতীয় দফা বন্যায় ডুবছে সিলেটের জনপদ
সিলেটসহ তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The erosion of Yamuna is not stopping more than 800 houses are under the river

যমুনার ভাঙন থামছে না, ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে

যমুনার ভাঙন থামছে না, ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত ও প্লাবিত এলাকা। কোলাজ: নিউজবাংলা
যমুনার তীব্র ভাঙনে সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার আট শতাধিক বসতবাড়ি ও হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার ফুলজোড়, করতোয়া, ইছামতি, হুড়াসাগর ও চলনবিলসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয়ের পানি বেড়েই চলছে। এরই মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জেলায় তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমি। এতে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে।

যমুনায় দ্রুত পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন, কাজিপুরের খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের সানবান্ধা ঘাট থেকে বিশুরি গাছা ঘাট ও শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের পাঁচিল, হাট পাঁচিল, জালালপুর ও সৈয়দপুর গ্রামে যমুনায় তীব্র ভাঙন চলছে। কোনো কিছুতেই ভাঙন থামছে না।

যমুনার তীব্র ভাঙনে সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার আট শতাধিক বসতবাড়ি ও হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বুধবার সকালে জানান, চলতি মৌসুমে যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব অঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার কাজিপুর, সদর ও শাহজাদপুরে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিস সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর ভাঙন রক্ষায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর ও খুকনী ইউনিয়নের এনায়েতপুর থেকে পাচিল পর্যন্ত নদীতীরের সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সমাপ্ত হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।

নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের মুখে থাকা সদর উপজেলার কাওয়াকোল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কয়রা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিলামে বিক্রির জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া দুটি মুজিব কেল্লা, সাড়ে চার কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে। গতকাল বিকেলে শাহজাদপুরের পাচিল গ্রামের কোবাদ মাস্টারের দোতলা ভবন নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক ঘরবাড়িও নদীতে ভেঙে পড়ছে।

সহায় সম্বল হারিয়ে ভাঙনের শিকার পরিবারের মানুষ এখন নিঃস্ব।

সদর উপজেলার কাওয়াকোল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান (জিয়া মুন্সি) বলেন, ‘নদীভাঙনে জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে কাওয়াকোলা ইউনিয়ন। ভাঙন রোধে পাউবো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কাওয়াকোলা ইউনিয়নের হাট বয়ড়া, দৌগাছী, বড়কয়রা, ছোট কয়রা, কৈগাড়ী দড়তা, চন্ডল বয়ড়া ও বেড়াবাড়ি গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

‘অনেক গ্রাম এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে কমিউনিটি ক্লিনিক নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।’

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড়কয়রা কমিউনিটি ক্লিনিক নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ কারণে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিলাম বিক্রির কমিটি গঠন করে প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।’

এদিকে শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকড়তলা গ্রামের লাল মিয়া ও পাচিল গ্রামের আলাউদ্দিন, কালাম শেখ, আয়নাল হকসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, চলতি মৌসুমে নদীভাঙনে এলাকার অন্তত ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অনেক মানুষ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিপুল পরিমাণে আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তারা এখন ভূমিহীন। কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

তাদের ভাষ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঠিকাদাররা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করত, তাহলে তাদের এ সর্বনাশ হতো না।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ জানান, নদীভাঙনে খুকনী, কৈজুরী ও জালালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। গত কয়েক বছরে জালালপুর ইউনিয়নের পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। এরই মধ্যে এসব অঞ্চলের শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। তিন বছরেও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শেষ না হওয়ায় নদীতীরের মানুষজনকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের গেজ রিডার হাসান মামুন বুধবার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে পানি ৪২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, নদীর পূর্বপাড়ে চর জেগে ওঠার কারণে প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য নদীতে খননকাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা চিহ্নিত করে জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার
আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু
জামালপুরে যমুনায় তীব্র ভাঙন শুরু, নির্ঘুমে এলাকাবাসী
ভাঙন রোধে ফুলছড়িতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
গোপন বৈঠকের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে ৫ প্রিসাইডিং অফিসারসহ গ্রেপ্তার ৬

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The shopkeeper slapped the stamp of our fathers old age allowance

‘বাপো, হামার বয়স্ক ভাতার ট্যাকা মেরে দিসে দোকানদার’

‘বাপো, হামার বয়স্ক ভাতার ট্যাকা মেরে দিসে দোকানদার’
ভাতাভোগী ফুল মোহাম্মদ ও অভিযুক্ত সুমন হোসেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাজীব আহম্মেদ বলেন, ‘ভাতাভোগী ফুল মোহাম্মদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়া তার (সুমন) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমরা পেয়েছি।’

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের ফুল মোহাম্মদ দম্পতি। বাড়িঘরের অবস্থা দেখলেই অনুমান করা যায় তাদের জীবনমান।

সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে বয়স্কভাতা পান ফুল মোহাম্মদ। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে নগদ অ্যাকাউন্টের টাকা তুলতে গিয়েছিলেন আলহেরা টেলিকম নামের নগদ এজেন্টের দোকানে। সেখানে দোকানমালিক জুয়েল আরমানের ভাই সুমন হোসেন সুকৌশলে টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ বর্ষীয়ান এ ব্যক্তির।

তিনি জানান, এক মাস ধরে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে গত ২৬ জুন সমাজসেবা অফিসসহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ করেন। এরপর টনক নড়ে সবার।

গত ২৯ ও ৩০ জুন এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা ২৮ মের দুটি ট্রানজেকশনে দেখিয়ে জানান, বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে প্রথমবার ফুল মোহাম্মদের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে আলহেরার নগদের উদ্যোক্তার নম্বরে ১ হাজার ৮১৪ টাকা ১৯ পয়সা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে পাঁচটা ১৯ মিনিটে একই নম্বরে ১ হাজার ৮০০ টাকা ক্যাশআউট করা হয়, কিন্তু দোকানদার সুমন ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাতাভোগীর হাতে দেন এবং বাকি ১ হাজার ৮১৪ টাকা ১৯ পয়সা কৌশলে আত্মসাৎ করেন।

সুমন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ফুল মোহাম্মদের জরাজীর্ণ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দরজার সামনে বসে আছেন প্রতিবন্ধী স্ত্রী শরিফা। তিনিও সরকারি সুবিধাভোগীর আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা পান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাকা দেন। সুমন সেই টাকা দেয়ার সময় খরচ কেটে নেন।

ফুল মোহাম্মদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৮ মে আলহেরা টেলিকম নামের নগদ এজেন্টের দোকানে ভাতার টাকা ওঠাতে যান তিনি। সুমন একবারের ভাতার টাকা বের করে দেন ভাতাভোগীকে, কিন্তু দুইবারের প্রাপ্য ভাতার টাকা তার মোবাইলের নগদ অ্যাকাউন্টে জমা ছিল। জানতে গেলে সুমন সেই টাকার কোনো খোঁজ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এরপর ফুল মোহাম্মদ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সুমনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ করেন। অভিযোগে সুমন ও তার ভাইয়ের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ভাতাভোগী এ ব্যক্তি জানান, সুমনের কাছে গেলে তিনি তাকে এক হাজার ৮০০ টাকা ধরিয়ে দেন, কিন্তু তার মোবাইল ফোনে দুইবার ভাতার টাকা এসেছে।

তিনি বলেন, ‘বাপো, হামার ভাতার ট্যাকা মেরে দিসে দোকানদার। হ্যামি গরিব মানুষ, বাপু। হামার সাথে সুমন এমনডা করল ক্যানো? হ্যামি হামার ভাতার ট্যাকা ফেরত চাই!’

আলহেরা মোবাইল টেলিকমে কথা হয় সুমনের সঙ্গে। ভিডিও বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি। কথা বলার একপর্যায়ে গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘আমি এই সেক্টরে খুব দক্ষ। কারও পিন কোডের সমস্যা হলে আমার কাছেই আসে। ফুল মোহাম্মদের আগের টাকা ছিল, সেটা আমার জানা ছিল না।

‘আমি ইচ্ছে করে করিনি; কোনো কারণে হয়তো আমার ভুল হয়েছে।’

এদিকে এ প্রতিবেদক তার দোকানে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি আসেন তার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা ওঠাতে। মোবাইলটা দিয়ে দেন সুমনের হাতে। কোনো কিছু না বলাতেই কিছু টাকা বের করে দেন এ ব্যবসায়ী।

একইভাবে ভিডিও বক্তব্য দিতে রাজি নন জুয়েল আরমান, তবে তিনি একসময় স্বীকার করেন, পিন না দেয়া ব্যবসায়িক কৌশল। কারণ পিন না দিলে এ দোকানেই আসবেন সেবাগ্রহীতারা।

ফুল মোহাম্মদের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে বিষয়টি নিয়ে কিছু করার দরকার নেই বলে প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন জুয়েল।

এক হাজার ৮০০ টাকার জায়গায় এক হাজার ৮১৪ টাকা ১৯ পয়সা কীভাবে ক্যাশআউট হয়, এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রতারণা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হন সুমন ও তার সহোদর।

স্থানীয় জনি নামের এক নারী জানান, সুমনদের আগে ছিল পানের দোকান। এখন কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন তারা।

ব্যবসায়ী শামিম বলেন, ‘আমরা বহু দিন থেকে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শুনছিলাম, কিন্তু সঠিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। এবার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেটা সে সুকৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।’

আরেক ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করে নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দিচ্ছে। আর সহজ-সরল ওইসব হতদরিদ্রের পিন কোড নিজের কাছে রেখে বছরের পর বছর কৌশলে টাকা আত্মসাৎ করছে। মেসেজ ডিলিট করে দেয়া ও পিন নম্বর না দেয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

কোলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম স্বপন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিক অনেক অভিযোগ ছিল, কিন্তু প্রমাণ ছিল না। এবার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুমনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাজীব আহম্মেদ বলেন, ‘ভাতাভোগী ফুল মোহাম্মদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়া তার (সুমন) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমরা পেয়েছি।

‘এ রকম হতদরিদ্রদের টাকা যারা মেরে দেয়, তাদের বিচার হওয়া উচিত। আমরা বিষয়টি নগদকে জানিয়েছি। এখন তারা পদক্ষেপ নেবে।’

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর বাজেট-উত্তর নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী
সংসদে অর্থ বিল পাস
ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের দাবি নওগাঁর তরুণদের
নওগাঁয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মূত্রথলিতে পাথর রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ
বাজেটে এখনও অনেক কিছু সংশোধন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A pineapple adorns the folds of the mountain

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা বান্দরবানে ফারুকপাড়া শৈলপ্রপাতসহ পাহাড়ের ঢালে ভাঁজে ভাঁজে আনারসের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে। আকারে বড়, রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে এখানকার আনারস।

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সুভাষ ছড়াচ্ছে পাকা আনারস। বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি সদরসহ চিম্বুক এলাকার প্রতিটি পাহাড়ের ঢালে এখন শোভা পাচ্ছে পাকা আনারস।

আকারে বড়, রসালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে বান্দরবানে উৎপাদিত আনারস। ফলন ভাল ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি জুমিয়ারা।

জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সদরের চিম্বুক, লাইমিপাড়া, ফারুক পাড়া, শৈলপ্রপাতসহ সব পাহাড়ে এখন একই চিত্র। প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল ঢেকে গেছে পাকা আনারসে।

প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পাহাড়ের জমি প্রস্তুত করে লাগানো হয় আনারসের চারা। মে-জুন মাসে বিক্রির উপযোগী হয় প্রতিটি আনারস। আর কাঁধে থুরুং নিয়ে বাগান থেকে বিক্রয় উপযোগী এসব আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা। সেই আনারস বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজার ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

পাহাড়ের ভাঁজে আনারসের শোভা
বান্দরবানের পাহাড়ে আবাদ করা আনারস বাজারজাত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন জুমিয়ারা। ছবি: নিউজবাংলা

এছাড়াও পাইকারি বিক্রেতারা বাগানে গিয়ে আনারস কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বাজারে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

শুধু তাই নয়, পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া জায়ান্ট কিউ আনারস চাষের উপযোগী হওয়ায় স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন জুমিয়া চাষীরা।

লাইমিপাড়া এলাকার চাষী পাকসিয়াম বম বলেন, ‘এ বছর আনারসের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। আমাদের পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস অন্যান্য জেলার আনারসের চেয়ে অনেক ভালো। খুবই মিষ্টি, রসালো ও আকারে বড় হওয়ায় পাইকাররা বাগানে এসে আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

‘আমাদের বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হয় না। পর্যটকরাও আসেন। অনেকে এখানে বসেই আনারসের স্বাদ নেন। আবার অনেকে বাড়ির জন্য নিয়ে যান। তবে পাইকারি বিক্রির চেয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ বেশি হয়।’

ফারুক পাড়া এলাকার আরেক কৃষক সানতোয়াল বম বলেন, ‘এ বছর ছয় একর জায়গায় আনারসের বাগান করেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলেও ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দামও মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

‘অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় আনারস চাষে পরিচর্যা তেমন একটা না করলেও চলে। অনেক সময় একই জমিতে দুবার ফলন পাওয়া যায়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এম এম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এ অঞ্চলে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ এবং হানি কুইন আনারস আকারে বড়, রসালো ও খেতে খুবই সুস্বাদু। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ অঞ্চলে উৎপাদিত আনারসের চাহিদাও রয়েছে বেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফলন বাড়াতে আনারস চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানে আনারসসহ মৌসুমি ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এসব পণ্য অনেক সময় কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। তাই যাতে আনারস সংরক্ষণের মাধ্যমে আনারস থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিগত বছর জেলায় তিন হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ৯৭ হাজার টন আনারস। আর চলতি বছর তিন হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার টন।

মন্তব্য

p
উপরে