× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Eid ul Azha Moon Sighting Committee meeting on Friday
google_news print-icon

ঈদুল আজহা: চাঁদ দেখা কমিটির সভা শুক্রবার

ঈদুল-আজহা-চাঁদ-দেখা-কমিটির-সভা-শুক্রবার
প্রতীকী ছবি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ইফার বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সভা শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

হিজরি ১৪৪৫ সালের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে শুক্রবার সভা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, ইফার বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সভা শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

টেলিফোন নম্বর: ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭।

ফ্যাক্স নম্বর: ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে পরে ৭ দিন ফেরিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পারাপার বন্ধ
ডেঙ্গু নিয়ে মেয়র তাপস মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন: সাঈদ খোকন
কোরবানির চাহিদার চেয়েও প্রায় ২৩ লাখ বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত
ই-ক্লাবের উদ্যোগে ঈদ রি-ইউনিয়ন ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন
ঈদুল ফিতরের যাত্রায় সড়কে নিহত ৪০৭, গতবারের চেয়ে বেশি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I believe students will get justice in high court Prime Minister
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

আমার বিশ্বাস ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবে

আমার বিশ্বাস ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু মহল কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার সময় যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাতে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতি সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।

সরকার প্রধান বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করি উচ্চ আদালতের রায়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৮ সালে ছাত্র সমাজের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করে। পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কোটা বহাল রাখার পক্ষে উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের জারি করা সরকারের পরিপত্র বাতিল করে দেয়।

‘সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র বহাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয় এবং আদালত শুনানির দিন ধার্য্য করে।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় আবার ছাত্ররা কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। বরং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কিছু মহল এই আন্দোলনের সুযোগটা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এর ফলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে যে সকল ঘটনা ঘটেছে তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। আপনজন হারাবার বেদনা যে কত কষ্টের তা আমার থেকে আর কে বেশি জানে।

‘যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কমনা করছি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। যেসব ঘটনা ঘটেছে তা কখনোই কাম্য ছিল না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। অনেক ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তাদের ওপর লাঠিপেটা এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে। একজন মৃত্যুবরণ করেছে, অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা, রংপুর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবন ও ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়।

‘সাধারণ পথচারী, দোকানিদের আক্রমণ, এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা প্রদান করা হয়। মেয়েদের হলে ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। আবাসিক হলে প্রভোস্টদের হুমকি দেওয়া হয় এবং আক্রমণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত তাদের সঙ্গে এসব সন্ত্রাসীর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সংঘাত ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তাদের পরিবারের জন্য জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা দরকার তা আমি করব।

‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি- যারা হত্যাকান্ড, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে এরা যেই হোক না কেন, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আমি আরও ঘোষণা করছি, হত্যাকান্ডসহ যে সকল অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সুষ্ঠু বিচারের ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে সে সকল বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

‘কাদের উস্কানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা কোন উদ্দেশ্যে দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল, তা তদন্ত করে বের করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এই সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে তাদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার আবেদন, তারা যেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকেন। একই সঙ্গে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নএর রাখেন।

সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিল আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত শিক্ষার্থীদের কোন বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

‘এই আইন প্রক্রিয়া সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তারা হতাশ হবে না।’

আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের ওপর হামলা নিন্দনীয়: প্রধানমন্ত্রী
আমার সাবেক পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক, হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না: প্রধানমন্ত্রী
কোটার সমাধান আদালত থেকেই আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন থেকে শূন্য হাতে ফেরার দাবিকারীরা মানসিকভাবে অসুস্থ: প্রধানমন্ত্রী
রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister will address the nation in the evening

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে সম্প্রচার করবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

বার্তায় জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে সম্প্রচার করবে।

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ’ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন- ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন চলমান। আজ বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
আমার সাবেক পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক, হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না: প্রধানমন্ত্রী
কোটার সমাধান আদালত থেকেই আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন থেকে শূন্য হাতে ফেরার দাবিকারীরা মানসিকভাবে অসুস্থ: প্রধানমন্ত্রী
রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DU Hall should be closed by 6 PM

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ঢাবির কার্জন হল এলাকা। ফাইল ছবি
হল বন্ধের ঘোষণার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আবাসিক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে আহ্বান জানানো হয়েছে।’

কোটা সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনের মধ্যে বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।

প্রতিষ্ঠানটির সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হল বন্ধের সময় ক্লাস-পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বেলা ১১টা থেকে সিন্ডিকেটের এ সভা শুরু হয়।

সিন্ডিকেট সভা থেকে বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থান না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সভায় ঢাবির আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়।

হল বন্ধের ঘোষণার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আবাসিক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে আহ্বান জানানো হয়েছে।’

শিক্ষার্থীরা না ছাড়লে কী পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি। সন্ধ্যা ছয়টার পর যদি তারা না ছাড়ে, তখন সেটা নিয়ে চিন্তা করা যাবে।’

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সামনে অবস্থান নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী হল বন্ধ না রাখার জন্য বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওই সময় তারা ‘হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন।

ওই সময় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন রেজা বলেন, ‘আমরা হল ছাড়ব না। আমাদের ছয়জন ভাই মারা গেছে।

‘তাদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। আমাদের ওপর যত হামলা হোক, আমরা কোনো মতেই হল ছাড়ছি না।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩
সিরাজগঞ্জে পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ গুলি, আহত ১৫
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ
পুরান ঢাকায় জবির চার শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BGB deployment at various places including Dhaka University

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন সড়কে বিজিবির টহল গাড়ি। ছবি: বিজিবি
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, ফরিদপুর ও কক্সবাজারে বিজিবি মোতায়েন।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ দেশের সাত জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বুধবার বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, ফরিদপুর ও কক্সবাজারে বিজিবি মোতায়েন।’

এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর এবং রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩
সিরাজগঞ্জে পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ গুলি, আহত ১৫
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ
পুরান ঢাকায় জবির চার শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government primary schools under city corporation area are closed

এবার সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত সরকারি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা

এবার সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত সরকারি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ফাইল ছবি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আটটি বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো পরিচালিত লার্নিং সেন্টারসমূহের শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আটটি বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।

সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির পর প্রাথমিক স্কুল বন্ধের ঘোষণা এলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আটটি বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো পরিচালিত লার্নিং সেন্টারসমূহের শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

আরও পড়ুন:
শনিবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা
প্রাথমিক স্কুলে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
হাই স্কুল খুলছে শনিবার, রোববার থেকে প্রাইমারি
স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Holy Ashura today

পবিত্র আশুরা আজ

পবিত্র আশুরা আজ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল। ফাইল ছবি
ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন হচ্ছে।

পবিত্র আশুরা পালন হচ্ছে বুধবার। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনাবহুল দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন হচ্ছে।

বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্য এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

মর্মস্পর্শী এ ঘটনা স্মরণ করে প্রতি-হিজরি সনের ১০ মহররম বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শোকাবহ দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এ আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

পবিত্র আশুরা মানেই মাতম। ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে তাদের হৃদয়-নিংড়ানো শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এ বছরও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন হবে।

আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে তাজিয়া মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মহররমের চাঁদ দেখা যায়নি, আশুরা ২৯ জুলাই
তাজিয়া মিছিলে মাতম
পবিত্র আশুরা আজ
তাজিয়া মিছিলে নাশকতার তথ্য নেই: ডিএমপি কমিশনার
পবিত্র আশুরা ৯ আগস্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agitators declared the halls of DU to be political free by throwing out the Chhatra League leaders

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাবির রোকেয়া হল থেকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেন। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছাত্রলীগ নেতাদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
রোকেয়া হলের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ। সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিচ্ছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

রোকেয়া হলে গতকাল রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের করে দেয়ার প্রথম ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করে রাত ৯টার দিকে হলে ঢুকে যান। আর রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ বাকি ছাত্রলীগ নেত্রীরা রাত ১০টার পর হলে ঢোকেন। যদিও রাত ১০টার পর সাধারণত কোনো ছাত্রী হলে ঢুকতে পারেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যান আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নেত্রীরা হলে ঢুকলে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হল ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ওই সময় তারা যেতে না চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দেন। যদিও সেই সময় হলের হাউজ টিউটররা ছাত্রলীগ নেত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে হল ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকা বিনতে হোসাইনসহ আরও আট নেত্রীকে সেই হল থেকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা। বের করার সময় তাদের মারধর করতেও দেখা যায় কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে। পরে ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীনকে একটা কাগজে সই করতে চাপ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে একপর্যায়ে সেই কাগজে স্বাক্ষর করেন প্রাধ্যক্ষ।

সেই কাগজে লিখা ছিল, ‘আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৩-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়, ‘হলে কোনো ধরনের পলিটিক্যাল রুম বা গণরুম থাকবে না। পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হলে হবে না। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হলের সাথে থাকবে না।

‘আমরা হলের মেয়েরা যদি এইসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে এই দায় প্রশাসন ও হল প্রভেস্টকে নিতে হবে। আজ থেকে রোকেয়া হলকে ছাত্ররাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’

এদিকে রোকেয়া হলের এ প্রতিবাদের খবর ছাত্রীদের বাকি হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে তারাও হল ছাত্রলীগের নেত্রীদের বের করে দিয়ে প্রাধ্যক্ষদের কাছ থেকে হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

কিছু হলে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বের হতে সকাল পর্যন্ত সময় দিলেও এর আগেই তারা বের হয়ে যান।

রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরাও হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

আন্দোলন শেষে ফিরে জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান নেন। এ খবরে হলেই আর প্রবেশ করেননি ছাত্রলীগ নেতারা। রাত দেড়টা থেকে হলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই সময় হলের ছাত্ররা কোটা আন্দোলনের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে হলের টিনশেড থেকে প্রধান ভবন হয়ে বর্ধিত ভবনের (এক্সটেনশন বিল্ডিং) দিকে যায়। ওই সময় হলে থাকা ছাত্রলীগের কয়েকজন পদপ্রত্যাশী দ্রুত হল ছাড়েন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রশাসন নীরব কেন’, ‘জহু হলে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি হলের ফটকে থাকা ছাত্রলীগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন তারা। এরপর হলের রাস্তায় এগুলো দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে টিএসসি থেকে ছাত্রলীগের বহিরাগত নেতা-কর্মীরা জহুরুল হলের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে যান। খবরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে জানানো হলে তিনি এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে দিবেন না জানান। পরে দেখা যায়, বহিরাগত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসি চত্বর থেকে টিএসির দিকে ফিরে যান।

গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে হলের ফটকের সামনে জড়ো হয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ে হলের মধ্যে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে হলের আবাসিক শিক্ষকরা ফটকের সামনে যান। কিছুক্ষণ পরে ফেরত এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীরা হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে হল থেকে বহিষ্কার এবং কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়ে হলে সার্বিক নিরাপত্তা ও বহিরাগত বের করার জন্য হল প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি চান এবং হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করে।

এর একটু পরে হলের বাইরে থেকে বাইক নিয়ে এসে হল গেটের সামনে ককটেল ফোটানো হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাকিবুর রহমান সায়েম এবং রাব্বি হকসহ আরও কয়েকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা সচক্ষে তাদের দেখেছেন।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরাও আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তারা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে গিয়ে তাদের খোঁজা শুরু করেন এবং কিছু কিছু কক্ষ ভাঙচুরও করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলেও মধ্যরাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে নেমে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেলেও হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা রাতেই হল ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কাছে গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কারণে কোনো হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চান। হল প্রাধ্যক্ষ আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কক্ষে ফিরে আসেন।

রাতে কোনো ঘটনা না ঘটলেও সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে। তারা শিক্ষার্থীদের জড়ো করে ‘আমার ভাই মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘টোকাই দিয়ে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না’ স্লোগান দেন।

ওই সময় সেখানে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন এবং কয়েকজন হাউস টিউটর শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেন হল প্রাধ্যক্ষ। তারা তাদের বিভিন্ন দাবি তৈরি করার জন্য সময় চান।

পরে শিক্ষার্থীরা হলের মুক্ত মঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে পাঁচটি দাবি তৈরি করেন। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবি হলো হলের সব ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে; গত পরশু ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে হল থেকে বের করে দিতে হবে।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে যান।

এদিকে সকাল সাতটা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ছাড়তে বাধ্য করেন।

ওই সময় হল ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সবাই হল ছেড়ে বের হয়ে আসেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের সবার কক্ষের সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বাইরে ফেলে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায়ও শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করছিলেন।

সকাল সাড়ে আটটা থেকে জসীম উদ্‌দীন হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলেও শিক্ষার্থীরা হল দখলে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দেন এবং তাদের কক্ষ ভাঙচুর করে সব কাপড় বাইরে ফেলে দিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনা আঁচ করতে পেরে নিজ থেকে বের হয়ে যান।

জসীম উদ্‌দীন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের কক্ষ, বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের কক্ষ এবং সূর্যসেন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীরের কক্ষেও ভাঙচুর চালিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এসব হলে শিক্ষার্থীরা দখলে নিয়ে আছেন আর ছাত্রলীগ নেতারা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা অবস্থায় ভাঙচুর করা হচ্ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষগুলো।

আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের সংযত থাকার আহ্বান
জাবিতে রাতভর তাণ্ডব: ঘটনা তদন্তে কমিটি, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ
পুরান ঢাকায় জবির চার শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ৫
চানখাঁরপুলে সংঘর্ষ, তিন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় বিজিবি মোতায়েন

মন্তব্য

p
উপরে