× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The heatwave subsides and there is a glimpse of rain
google_news print-icon

তাপপ্রবাহ কমে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

তাপপ্রবাহ-কমে-ঝড়-বৃষ্টির-আভাস
দেশের সব বিভাগে ঝড়বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
এদিকে তাপপ্রবাহ নিয়ে সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে রোববার দেশের সব বিভাগে কমবেশি ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

এদিকে তাপপ্রবাহ নিয়ে সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তাপপ্রবাহের সতর্কতায় বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।

তাছাড়া সার্বিকভাবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Air in Dhaka is bearable

ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’

ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে রাজধানীর অনেকেই যান রমনা পার্কে। ফাইল ছবি
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৭৩ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘সহনীয় বা মধ্যম মানের’ রয়েছে।

বাতাসের নিম্ন মানের দিক থেকে আইকিউ এয়ারের তালিকায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৬তম।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৭৩ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘সহনীয় বা মধ্যম মানের’ রয়েছে।

একই সময়ে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা ও উগান্ডার কাম্পালা।

আইকিউএয়ার জানিয়েছে, আজ সকালের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ৪ দশনিক ২ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার।

কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।

আইকিউএয়ারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ৯৪। এর মানে হলো ওই সময়টাতে ‘সহনীয়’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করেছে রাজধানীবাসী।

আরও পড়ুন:
ঢাকার বাতাস ‘মধ্যম মানের’
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ‘সহনীয়’ ঢাকার বাতাস
ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘ভালো’
ছুটির দিনে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস, নিম্ন মানে তৃতীয়
ছুটির দিনে বাতাসের নিম্ন মানে চতুর্থ ঢাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Water is rising in Howar and the flood situation is worsening in Sunamganj

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পানি বাড়তে শুরু করায় মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরসহ বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ ৮৮ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নদীর পানি কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

সুনামগঞ্জে নদীর পানি কমলেও হাওর অঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে। বুধবার সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার বা ১ দশমিক ৪১ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবে ভোর থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিবাগ, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, নবীনগর, কাজীর পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একতালা বা কাঁচা ঘরে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সকলের চোখেমুখে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক।

এসময় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঝাওয়ার হাওরের পাশে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের ঘরের চাল ছুঁইছুঁই পানি। পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পাহাড়ি ঢল নেমে আগে থেকেই প্লাবিত ছিল সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ উপজেলা। এরপর হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলা।

হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ছাতক উপজেলার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবতী নীজগাঁও, রতনপুর, বাগানবাড়ি, নোয়াকোট, ধনীটিলা, ছনবাড়ী, দারোগাখালী সড়কসহ ৮-১০টি কাঁচা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে।

উপজেলার ইছামতি-ছনবাড়ীবাজার, শিমুলতলা-মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের বিভিন্ন নিচু অংশও পানিতে তলিয়ে গেছে।

ছাতক পৌরসভারসহ নোয়ারাই, ছাতক সদর, কালারুকা, উত্তর খুরমা, চরমহল্লা, জাউয়া, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ, দক্ষিণ খুরমা, ভাতগাঁও, দোলারবাজার ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ছাতক- গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি প্লাবিত হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের তিনটি স্থানে পানি ওঠায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এসব স্থান দিয়ে সুরমা নদীর পানি দেখার হাওরে প্রবেশ করছে।

এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন প্লাবিত হচ্ছে।

অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় শাল্লায় নিম্বাঞ্চলের মানুষের বসতঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের পানি সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মধ্যনগরেও বাড়তে শুরু করেছে নদী ও হাওরের পানি। নদী ও হাওরের পানি বাড়ার কারণে উপজেলার মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরসহ বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে জেলার ৮৮ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার বা ১ দশমিক ৪১ ফুট ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার বা ৪ দশমিক ৭৬ ফুট ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও দিরাই উপজেলায় ২৯ সেন্টিমিটার বা ১১ দশমিক ৪২ ইঞ্চি ওপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৪ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘নদীর পানি কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10000 people are trapped in water in 20 villages of Teknaf

টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ

টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ মুষলধারে বৃষ্টিতে টেকনাফ উপজেলার প্রায় দশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
পৌরসভার বাসিন্দা আনছার উল্লাহ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব! একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে পরিবারের কেউ খাবার মুখে দিতে পারেনি।’

মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়িঘর পাহাড় ধসে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে প্রায় দশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, মধুর ছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। পাশপাশি কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

টেকনাফে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার দেয়া হবে। এছাড়া বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের অনেক জায়গায় রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এদের তালিকা করা হচ্ছে।’

পৌরসভার বাসিন্দা আনছার উল্লাহ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব! একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে পরিবারের কেউ খাবার মুখে দিতে পারেনি।’

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের বরজ, বীজতলাসহ ব্রিজ, কালভার্ট ও ২০ কিলোমিটারেরও বেশি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির কারণে আশপাশের ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সাহায্য করা হবে।

এসময় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhalai river embankment has eroded 40 grams at two places

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ছবি: নিউজবাংলা
পানির প্রবল চাপে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুরে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে গেছে। বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আরও দশটি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের খুশালপুরে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে গেছে। বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের ছয়কুট এলাকায় এবং আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি-আধাকানি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী।

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবছে কমলগঞ্জ সদর। ছবি: নিউজবাংলা

ভারতের ত্রিপুরার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রিপুরা ও আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আর বৃষ্টির সেই পানি ভাটিতে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খুয়াই নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ধলাই নদীতে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে সোমবার ২ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ১৩৬ মিলিমিটার ও বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও রহিমপুর ইউনিয়নের খুশালপুর গ্রামে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দিয়েছে। ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে নারায়ণপুর, চৈতন্যগঞ্জ, উবাহাটা, খুশালপুর ছয়কুট, আধকানী, কাঁঠালকান্দিসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ও বাড়িঘরে পানি ঢুকছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিব আহমেদ বলেন, ‘ধলাই নদীর পানি বুধবার সকাল ৯টায় ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধলাই নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।’

এদিকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধলাই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌর এলাকার তিনটি ওয়ার্ডের পানিশালা, চন্ডীপুর ও নছরতপুর এলাকায় বসতবাড়ি, ডাকবাংলো, কমলগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা বাজারে পানি প্রবেশ করেছে।

এছাড়া উপজেলার পৌর এলাকার খুশালপুর, নিম্নাঞ্চল পতনউষার, মুন্সিবাজার, আদমপুর, ইসলামপুর ও আলীনগর এলাকার পানি লাঘাটা ও খিন্নিছড়ায় উপচে পড়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশ। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের রামপাশা, শিমুলতলাসহ প্রায় ১০ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বাঁধের এসব জায়গা ভেঙে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেঙে যাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ।

ইউএনও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বাঁধে নতুন করে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ মজুদ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death toll rises to 10 in separate mountain collapse in Rohingya camp

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে মৃত বেড়ে ১০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে মৃত বেড়ে ১০ কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় ধসে চাপা পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা। ছবি: নিউজবাংলা
টানা বৃষ্টির প্রভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র সংলগ্ন পাহাড়ে পৃথক পাঁচটি ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ‌১০ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আটজন রোহিঙ্গা।

পাহাড় ও সাগরসমৃদ্ধ জেলা কক্সবাজারে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কখনও ভারী, আবার কখনও মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি ঝরছে। টানা বৃষ্টির প্রভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অপর আটজন রোহিঙ্গা।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।

এর মধ্যে ১, ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে একজন করে; ৯ নম্বর ক্যাম্পে তিনজন এবং ১০ নম্বর ক্যাম্পে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

১০ নম্বর ক্যাম্পে মৃতরা হলেন- ব্লক ১০ এর আবুল কালামের ছেলে আবু মেহের, লাল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, মতিউর রহমানের মেয়ে সলিমা খাতুন ও শরিফ হোসেনের মেয়ে জয়নব বিবি।

৯ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার আলী জহুরের ছেলে মো. হোসেন আহমেদ, ওই ক্যাম্পের আই ৪ ব্লকের আলী জোহারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম ও আই ৯ ব্লকের মো. জামালের ছেলে মো. সালমান।

৮ নম্বর ক্যাম্পে মারা যায় হারেজ নামে চার বয়সী এক শিশু।

১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যায় উখিয়ার থাইংখালী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আব্দুল করিম। ১২ বছর বয়সী শিশুটি থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

১ নম্বর ক্যাম্পে মারা যান এফ/৫ ব্লকের সুলতান আহমদের মেয়ে পুতনী বেগম।

আরআরআরসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় ১০ নম্বর ক্যাম্পের বক্ল সি ৩ তে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার রাত ৩টায় ৯ নম্বর ক্যাম্পের আই ৪-এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওখানে উদ্ধার করা হয় তিনজনের মরদেহ।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যায় আরও দুজন।

প্রায় একই সময়ে ১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যান একজন।

পাহাড় ধসের পৃথক এসব ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

আরআরআরসি জানান, মারা যাওয়া দশজনের মধ্যে দুজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ৯ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার হোসেন আহমেদ নানা কারণে ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। আর ১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া আব্দুল করিমদের বাড়ি ১৪ নম্বর ক্যাম্পের পাশেই।

ইতোমধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে জানিয়ে মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদেরও সরিয়ে নেয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আর টেকনাফে মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডেরে তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

আরও পড়ুন:
সিলেটে টিলা ধস: ছয় ঘণ্টা পর ৩ মরদেহ উদ্ধার
সিলেটে টিলা ধস: চাপা পড়েছেন একই পরিবারের তিনজন
কমলগঞ্জে টিলা ধসে নারী চা শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৩
টেকনাফে ঝর্ণা দেখতে গিয়ে দুজন অপহৃত
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস, বাঘাইছড়ির সঙ্গে বন্ধ সড়ক যোগাযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Number 3 warning signal issued in sea ports

সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্কবার্তায় বলেছে, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বুধবার সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

‘এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হচ্ছে।’

সতর্ক বার্তায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের চারটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দুই বিভাগে ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের শঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুপুরের মধ্যে ৮ অঞ্চলে হতে পারে ঝড়
দেশজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস
চার অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস
ঈদের দিন হালকা থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
দেশজুড়ে সামান্য বাড়তে পারে তাপমাত্রা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Sunamganj the water has risen in Haor area and the municipal town

সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে

সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বেড়েছে পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ। ছবি: নিউজবাংলা
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। সেজন্য বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জে নদীর পানি কিছুটা কমার দিকে থাকলেও হাওর অঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন।

সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বুধবার সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

মঙ্গলবার রাতে জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবে ভোর থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিবাগ, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, নবীনগর, কাজীর পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়েছে।

সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে

সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা বা কাঁচা ঘরে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। সবার চোখে-মুখে ২০২২ সালের সেই ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক।

তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঝাওয়ার হাওরের পাশে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের ঘরের চাল ছুঁইছুঁই পানি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলা। তবে বেশি বন্যা আক্রান্ত হয়েছে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদী ছাতক উপজেলায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। আর দিরাই উপজেলায় ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৭৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৪ মিলিমিটার ও দিরাইয়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নদীর পানি কিছুটা কমলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বাড়তে পারে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
কুড়িগ্রামে বন্যার পদধ্বনি

মন্তব্য

p
উপরে