× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Allegations of irregularities in half a kilometer road renovation work in Madaripur
google_news print-icon

মাদারীপুরে আধা কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

মাদারীপুরে-আধা-কিলোমিটার-সড়ক-সংস্কারকাজে-অনিয়মের-অভিযোগ
রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা
এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

মাদারীপুর জেলা সদরে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ কাজে বাধা দিতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে পুরানবাজারের কাঁচাবাজার থেকে রাস্তি ইউনিয়নের কুমার নদের পাড় পর্যন্ত এ রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন রাস্তি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। শিডিউল অনুসারে কাজ করা হচ্ছে না, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তার সংস্কার করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে নামমাত্র পাথর দিয়ে বেশি পরিমাণ বালুর ব্যবহার করছে। দায়সারা কাজ করা হলে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সদর উপজেলার রাস্তির পুরান বাজার থেকে কুমার নদেরপাড়ের ব্যবসায়ীদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। রাস্তা তৈরিতে উপকরণ কম এবং মালামাল নিম্নমানের হলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে রাস্তাটি ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তারা জানান, গ্রামবাসী এসব অনিয়মে বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান নিজে ও তার লোকজন তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা নিম্নমানের কাজের জন্যে ঠিকাদার ও সরকারি লোকজনকে দায়ী করছেন।

মিঠু হাওলাদার নামে একজন বলেন, ‘রাস্তাটি আমাদের প্রাণের দাবি ছিল। যে কারণে স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খানের প্রচেষ্ঠায় কাজটি শুরু হয়েছে, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কম সিমেন্ট দিয়ে বেশি বালু আর খোয়া দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করছে। ফলে যেকোনো সময় রাস্তাটি দেবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া পুরানো ইট দিয়ে গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঠিকাদারকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের বাধা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।’

হাতাহাতির বিষয়টি জেনে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন ও এসও হেল্লাল হোসেন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যে মেসার্স ইসতি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও বাস্তবায়ন করছে রাস্তির চেয়ারম্যান বেল্লাল হোসেন নিজেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যাদেশ পেয়ে এ বছরের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।

তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ঠিকাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন। তিনি বিষয়টি এলজিইডির সঙ্গে বুঝবেন বলে জানান।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে বাস্তবায়নকারী এলজিইডিকে সরেজমিনে গিয়ে কাজ তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ মেনে নেয়া যাবে না।’

আধা কিলোমিটারের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অন্তত ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। পরে এলজিইডির মাধ্যমে কাজটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
মাদারীপুরে থ্রি হুইলার খাদে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত
বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, দুই ছেলে পলাতক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
How much is responsible for floods in Sylhet All weather road?

সিলেটে বন্যার জন্য অলওয়েদার সড়ক কতটা দায়ী?

সিলেটে বন্যার জন্য অলওয়েদার সড়ক কতটা দায়ী? কিশোরগঞ্জে হাওরের বুকে নির্মিত ইটনা-মিঠামইন সড়ক (বাঁয়ে); বন্যার পানিতে ভাসছে সিলেট। কোলাজ: নিউজবাংলা
ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নেমে আসা ঢলের পানি সিলেট অঞ্চলের নদী ও হাওর হয়ে কিশোরগঞ্জে মেঘনা নদীতে গিয়ে মেশে। অলওয়েদার সড়কের অবস্থানও কিশোরগঞ্জে। এই সড়কের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখতে বড় ধরনের সমীক্ষার দাবি উঠেছে।

চলতি বছরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বন্যায় আক্রান্ত সিলেট। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই দুবার বন্যার আঘাতে সিলেটজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে সিলেট স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যার কবলে পড়ে। সে সময় পুরো বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

সিলেটে সাম্প্রতিক ঘন ঘন বন্যার জন্য কিশোরগঞ্জের হাওরের বুকে নির্মিত ইটনা-মিঠামইন সড়ককে দায়ী করছেন অনেকে। সড়কটি ‘অলওয়েদার সড়ক’ নামে পরিচিত। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সিলেটের বন্যার জন্য এই সড়ককে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, সিলেটে আগেও এরকম প্রচুর বৃষ্টি হতো। কিন্তু এমন বন্যা হতো না। এখন কিশোরগঞ্জের এই সড়কটির কারণে সিলেটের বৃষ্টি ও ঢলের পানি হাওর দিয়ে নদীতে নামতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে পানি আটকে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সিলেটে বন্যার জন্য অলওয়েদার সড়ক কতটা দায়ী?
কিশোরগঞ্জে হাওরের বুক চিরে নির্মাণ করা হয়েছে অলওয়েদার সড়ক। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের বিশাল জলরাশির বুক চিরে ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আলোচিত এই সড়কটি নির্মিত হয় ২০২০ সালে। হাওরের তিন উপজেলার যোগাযোগ সহজতর করার পাশাপাশি এই সড়কটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

সিলেটে ২০২২ সালে বন্যার পরও আলোচনায় উঠে আসে এই সড়ক। সেই আলোচনা তখন মন্ত্রিসভা পর্যন্ত গড়ায়। হাওরাঞ্চলে বন্যায় এই সড়কের কোনো প্রভাব রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

এরপর পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এ ব্যাপারে ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের এই সড়কটি সিলেটে বন্যা সৃষ্টির কারণ বলে মনে হয় না। এখনও সেই সড়কের প্রভাব তেমন পড়েনি। তবে হাওরে এ ধরনের সড়ক নির্মাণের ক্ষতিকর প্রভাব তো আছেই। ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই সড়কের কারণে কয়েক বছর পর ওই এলাকার হাওর ও বিল ভরাট হয়ে যেতে পারে। তখন সিলেট অঞ্চলে প্রভাব পড়বে। সিলেট শহর রক্ষার জন্য নদীর তীরে বাঁধ প্রয়োজন।’

হাওরে সড়ক নির্মাণ প্রকৃতিবিরুদ্ধ উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘হাওরে সড়ক হলে সেখানকার পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবেই। শুধু কিশোরগঞ্জের সড়কই নয়, হাওর এলাকায় যত্রতত্রভাবে সড়ক নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হাওরে সড়ক হবে কেন? সড়ক পথের চেয়ে ওই এলাকায় নৌ চলাচলকে আধুনিক ও উন্নত করা প্রয়োজন।’

সিলেটে বন্যার জন্য অলওয়েদার সড়ক কতটা দায়ী?
চলতি বছরের দুমাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে সিলেট। ছবি: নিউজবাংলা

ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নেমে আসা ঢলের পানি সিলেট অঞ্চলের নদী ও হাওর হয়ে কিশোরগঞ্জে মেঘনা নদীতে গিয়ে মেশে। অলওয়েদার সড়কের অবস্থানও কিশোরগঞ্জে। এই সড়কের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখতে বড় ধরনের সমীক্ষার দাবি উঠেছে।

কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অলওয়েদার সড়কে ৫৯০ দশমিক ৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসিগার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯ দশমিক ৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ রয়েছে।

সওজের প্রকৌশলীরা জানান, সিলেটের পানি দুই-তিনটি নদী দিয়ে নামে। একটি প্রবাহ সুরমা ও পুরাতন সুরমা হয়ে নামে ধনু নদী দিয়ে। সুনামগঞ্জের পানিও এই নদী দিয়ে নামে। নদীটির অবস্থান অলওয়েদার সড়কের সমান্তরালে। সিলেট অঞ্চলের আরেক নদী কুশিয়ারা হাওরে এসে হয়েছে কালিনী নদী। এটি সড়কের আরেক পাশ দিয়ে নামে। ফলে অল ওয়েদার সড়ক পানি নামতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী নিতেশ বড়ুয়া বলেন, ‘পানিপ্রবাহের জন্য সড়কে অনেক সেতু আছে। তাছাড়া এই সড়কের কারণে পানি আটকে থাকলে তো সড়কের আশপাশ এখন পানিতে টুইটম্বুর থাকতো। এমনটিও নেই।’

পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। কিশোরগঞ্জের এই সড়ক নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণের আগে যথাযথ পরিবেশগত সমীক্ষা চালানো হয়নি। সড়কটি নির্মাণের আগেই আমি এর বিরোধিতা করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘হাওরের বৈশিষ্ট্য হলো জলের অবাধ প্রবাহ। আমি প্রস্তাব করেছিলাম, সড়ক যদি নির্মাণ করতেই হয় তাহলে যেন ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের অন্তত ৩০ ভাগ জায়গা উঁচু সেতু বা উড়াল সড়ক আকারে বানিয়ে পানিপ্রবাহের সুযোগ রাখা হয়। এ বিষয়ে তখন একটি লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছিলাম।

‘এছাড়া এই সড়কের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একা দাঁড়িয়ে থাকা এক সড়ক, এই সড়ক ব্যাপক অর্থে কোনো কানেক্টিভিটি তৈরি করছে না। তাই এই সড়ক নির্মাণের আবশ্যকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’

২০২৩ সালে পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে এক অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মান্নান হাওরের এসব সড়ক নর্মাণ ভুল ছিলো বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘হাওরের মাঝখানে সড়ক নির্মাণ করা ঠিক হয়নি। এখন টের পাচ্ছি, হাওরে সড়ক নির্মাণ করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছি। হাওরে সড়ক বানিয়ে উপকারের চেয়ে অপকারই হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার এম এ মান্নান বলেন, ‘সিলেটে বন্যার জন্য এই সড়কই দায়ী- এমনটি বললে সরলীকরণ হয়ে যাবে। হাওরে এমন অসংখ্য স্থাপনা হয়েছে। তাছাড়া মিঠামইন সড়কের অবস্থান সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে অনেক দূরে।

‘তবে এখন থেকে হাওরে আর কোনো সড়ক নির্মাণ করা হবে না। শুধু উড়াল সেতু নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের সড়ক দিয়ে পানি পারাপারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। এই বন্যার মধ্যে আমরা ওই সড়ক পরিদর্শন করব। সড়কটি পানিপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ
হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Effect of rain and flood on Moulvibazar tourism

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব টানা বৃষ্টি ও সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবার মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ফাঁকা। ছবি: নিউজবাংলা
কমলগঞ্জ অরণ্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমনিতেই পর্যটন অনেক কম। আমাদের রিসোর্টসহ বেশিরভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার ওপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন তারা।

‘চায়ের রাজধানী’ খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ঈদের দিন থেকে টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যার কারণে গত কয়েকদিন ধরে চা বাগানসহ পর্যটন স্থানগুলো একপ্রকার ফাঁকাই রয়েছে। প্রতিবার ঈদে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড় লেগে থাকে যেসব স্থানে, সেকানে এবারের চিত্র পুরোপুরি উল্টো

টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে রয়েছে এসব দর্শনীয় স্থানগুলো। এমনিতেই এবার পর্যটক কম এসেছে। তার ওপরে সারা দিন বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা হোটেল রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারছেন না।

সোমবার (ঈদের দিন) সকাল থেকে বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা অবধি টানা বৃষ্টি হচ্ছে চায়ের রাজ্যে।

এদিকে, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে সিলেটের বন্যার প্রভাব পড়েছে। আগাম বুকিং দেয়া অনেকেই সিলেটের বন্যার সঙ্গে শ্রীমঙ্গলকে মিলিয়ে সেসব বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গলের কোথাও বন্যা নেই বলে জানিয়েছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা। তবে কমলগঞ্জে বন্যা দেখা দিলেও হোটেল-রিসোর্টে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

চারদিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের। চা বাগান ছাড়াও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, বধ্যভূমি ৭১, চা-কন্যা ভাস্কর্যসহ নানা স্থান ঘুরে দেখেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। শহর থেকে একটু দূরে লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লী, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ ও হরিণছড়া গলফ মাঠ ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন তারা।

এ ছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মা লেক, পাত্রখলা লেক, ক্যামেলীয়া লেক, বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির টানে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজ্যে। তবে এবার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এলেও এসব পর্যটন স্থানগুলোতে যেতে পারেননি বেশিরভাগ পর্যটকরা।

মৌলভীবাজারের পর্যটনে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন আকাশ জামান। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, একবারও থামেনি। রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারলাম না। রিসোর্টেই কাটতে হচ্ছে সময়। বৃষ্টি উপভোগ করলেও ভালো করে ঘুরতে পারিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবার নিয়ে চলে যাব। আবার ছুটি পেলে ঘুরতে আসব।’

শারমিন আনাম তান্নী নামের এক পর্যটক বলেন, ‘বুধবার সকালে সাতক্ষীরা থেকে কমলগঞ্জে এসেছি। নিজস্ব গাড়ি থাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে গাড়ি থেকেই নামতে পারিনি। গাড়ি থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখলাম। প্রায় দুই ঘণ্টার মতো গাড়ি নিয়ে ঘুরে আবার রিসোর্টের দিকে এখন যাচ্ছি। এমন বৃষ্টি জানলে আসতাম না। হোটেল দুই দিন বুকিং দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে চলে যাব।’

কমলগঞ্জ অরণ্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমনিতেই পর্যটন অনেক কম। আমাদের রিসোর্টসহ বেশিরভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার ওপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন তারা।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেস্ট হাউজের মালিক এস কে দাশ সুমন বলেন, ‌‘দিন দিন পর্যটকরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ট্যুর কোম্পানিগুলো ঈদ কিংবা অন্যান্য ছুটির সময় ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার অফার দেয়। এখন বেশিরভাগ পর্যটকই বিদেশমুখি হয়ে যাচ্ছেন।

‘এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমরা হোটেল রিসোর্ট মালিকরা খুব কম আগাম বুকিং পাচ্ছি। মুলত যারা শ্রীমঙ্গলে রাত্রিযাপন করেন, তাদের ৮০ ভাগই আগাম বুকিং দিয়ে আসেন।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটে বৃষ্টির কারণে এবার বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারণা করছেন, শ্রীমঙ্গলেও বন্যা, কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনোই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সঙ্গে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন। এখন শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজে ভরে আছে সবকিছু।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত ঈদের আগের দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী পর্যটক শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলায় ঘুরে বেড়ান। তাদের জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টকে নতুন সাজে সজ্জিত করে রাখা হয়। পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিবার। বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্ট হাউসফুল থাকে, কিন্তু এ বছর ঈদের আগের দিন থেকে আজ অবধি খুবই কম বুকিং হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পর্যটকরা এখানে এসেও ঘুরতে পারছেন না। এ কারণে এবার পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

মৌলভীবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, ‘পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পর্যটন স্পটগুলোতে আমাদের পুলিশ ছিল। পর্যটকরা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
ঈদে আগাম বুকিং কম শ্রীমঙ্গলে, বললেন রিসোর্ট মালিকরা
পর্যটক-শূন্যতায় রুমা ও থানচির হোটেল রিসোর্ট ফাঁকা
ঈদ উপলক্ষে চাঙা সিলেটের পর্যটন খাত
ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Verbose Kamarpara in last minute preparations
কোরবানির সরঞ্জাম তৈরি

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে শব্দমুখর কামার পল্লী

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে শব্দমুখর কামার পল্লী মৌলভীবাজার (বাঁয়ে) ও মাদারীপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কোলাজ: নিউজবাংলা
কামার শিল্পী নগেন দাস বলেন, ‘সারা বছর এ কোরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষায় থাকি আমরা। এ সময়টিতে যারা কোরবানির পশু জবাই করেন তারা প্রত্যেকে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরি করেন। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এ সময়টিতে কাজ বেশি হওয়ার কারণে লাভও বেশি হয়।’

ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন। এই শেষ মুহূর্তে দিন-রাত এক করে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। পশু জবাই, ব্যবচ্ছেদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে এসব কামারপাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে দা, ছুরি, চাকু, কুড়াল ইত্যাদি। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় বছর ঘুরে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন তারা।

মৌলভীবাজারের ভানুগাছ, আদমপুর ও শমশেরনগর বাজারে রোববার সকালে গেলে দেখা যায়, লোহার খণ্ডকে শরীরের সবটুকু শক্তি একত্র করে হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করছেন কামাররা। সবারই হাত, পা, মুখ কালিতে ভরা। অসহনীয় উত্তাপে তাদের শরীরে দরদর করে বইছে ঘাম।

শ্রীমঙ্গল কামার পল্লির শ্যামল দেব, অপূর্ব দেব, সুধাংশু কর্মকার জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্য এ কামার শিল্প। বিগত দিন এ পেশা খুবই লাভজনক ছিল। এসব সরঞ্জামের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন অনেকেই। তাই দক্ষ কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে।

তারা জানান, কামার শিল্পের কাঁচামাল যেমন- কাঠকয়লা, লোহা, ইস্পাত ইত্যাদির দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মানুষ বিকল্প চিন্তা করে অটোমেশিনের তৈরি জিনিস ও বিদেশ থেকে চায়না মাল আমদানি হওয়ায় তাদের ব্যবসায় অনেকটা ভাটা পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভানগাছ বাজারের রসু কর্মকার বলেন, ‘কামাররা পূর্বে কৃষি যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় লোহার হাতিয়ার তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কালের পরিক্রমায় বর্তমানে এ পেশা থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে চাকরি অথবা অন্য ব্যবসায় দিকে ঝুঁকছেন। এখন হাতে গোনা কিছু লোক এ ব্যবসায় জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘বছর ঘুরে ঈদুল আজহার অপেক্ষায় থাকি, খুশি হই। কারণ এ সময় যন্ত্রপাতির চাহিদা বেশি থাকে। আমরাও ব্যস্ত থাকি। নতুন দা তৈরি করতে এক হাজার ৫০০, চাকু ভালো মানের এক হাজার, চা-পতি ভালো মানের এক হাজার ৫০০ টাকা করে নেই। এ ছাড়াও পুরোনো দা, চা-পাতি ও চাকুগুলো শাণ দিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেই।’

এ ছাড়াও যন্ত্রপাতি শাণ দেয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে কাজ করছেন কামাররা।

এদিকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে শব্দমুখর মাদারীপুরের কামারপাড়া। টুংটাং শব্দই বলছে ঈদ চলে এসেছে। দিন রাত চলছে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরি ও শাণের কাজ। নাওয়া খাওয়া ভুলে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

কামাররা জানান, বছরে এ কয়টা দিন মাত্র ব্যস্ততা, কোরবানি ঈদের পর তো আর তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই তো এই সময়টাকে বেশ উপভোগ করেন কামার শিল্পীরা।

শহরের বিভিন্ন বাজার ও কামারপাড়া ঘুরে কথা হয় কর্মকারদের সঙ্গে।

কামার শিল্পী নগেন দাস বলেন, ‘সারা বছর এই কোরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষায় থাকি আমরা। এ সময়টিতে যারা কোরবানির পশু জবাই করেন তারা প্রত্যেকে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরি করেন। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এ সময়টিতে কাজ বেশি হওয়ার কারণে লাভও বেশি হয়, কিন্তু লোহার দাম কিছুটা কম থাকলেও কয়লার দাম বেশি থাকায় মজুরি একটু বেশি নিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের পরিচিত কিছু গ্রাহক দা, বটি, ছুরি বানানোর অর্ডার দিয়ে গেছে এবং শাণ দিতে অর্ডার পেয়েছি। পাশাপাশি নতুন বটি, ছুরি তৈরি করছি।’

চরমুগুরিয়া বাজারের কামার নৃপেন বাড়ৈ জানান, এই এক মাসের কাজের ওপর তাদের পরিবারের ছেলে-মেয়েদেরও লেখাপড়া জামা-কাপড়সহ বছরের খরচের বেশির ভাগটা নির্ভর করে।’

কামার শিল্পের আনুষঙ্গিক কয়লা ও লোহার দাম লাগামহীনভাবে ওঠানামা করতে থাকে বলে জানান কর্মকাররা। তাই এ পেশাকে ধরে রাখতে কয়লা ও লোহার দাম নিয়ন্ত্রণ ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

সদর উপজেলার পুরানবাজার, চরমুগুরিয়া বাজার, মস্তফাপুর বাজার, কালিরবাজারসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কামারের দোকানে গ্রাহকের আনাগোনা এখন বেড়েছে। কামাররাও দা, বটি, ছুরি, শাণ দিতে ব্যস্ত। দোকানের সামনে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন নতুন দা, ছুরি, বটি।

মানভেদে নতুন দা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, এবং ধামা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কামাররা জানান, পেশার ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা এখন চিন্তিত, কারণ এ কাজের সময় আওয়াজ হয় বলে শহরে তেমন কেউ তাদের দোকান ভাড়াও দিতে চায় না। সীমিত আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This years Eid joy is buried under the broken house

‘এবারের ঈদের আনন্দ চাপা পড়েছে ভাঙা ঘরের নিচে’

‘এবারের ঈদের আনন্দ চাপা পড়েছে ভাঙা ঘরের নিচে’ ঘূর্ণিঝড় রিমালে গাছ পড়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় মিনারার দোকানঘরটি। ছবি: নিউজবাংলা
মিনারা বলেন, ‘দোকানঘরটিতে চা নাস্তা বিক্রি করতাম, সেখানেও লোনের কিস্তি দিতাম।ঘরটি নতুন করে তুলব সেই পয়সাও নেই। ঈদ আসবে ঈদ যাবে, ওসব ভেবে কী করব। এবারের ঈদ আনন্দ ভাঙা ঘরের নিচেই চাপা পড়ে আছে।’

এবারের ঈদে আনন্দ নেই ঝালকাঠি সদরের আগলপাশা গ্রামের দম্পতি জামাল-মিনারার পরিবারে। একটি গাছ তাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। ঝালকাঠি পৌর এলাকার ডিসি পার্ক সংলগ্ন সুগন্ধার তীরে একটি টিনশেড ঘরে চায়ের দোকান ছিল মিনারার একমাত্র আয়ের সম্বল। ঘূর্ণিঝড় রিমালে গাছ পড়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় মিনারার দোকানঘরটি।

ওই দোকানটা দিয়ে অসুস্থ স্বামী জামাল মিয়াসহ চার সন্তানের জন্য আহার যোগাতেন মিনারা বেগম। বাসন্ডা ইউনিয়নের আগলপাশা গ্রামে সরকারের দেয়া মুজিব বর্ষের উপহারের ঘরে থাকেন পরিবারটি, কিন্তু ঝড়ের পর থেকে ঠিকমতো দুই বেলা খাবার জুটছে না তাদের। এ বছর তাদের ঈদ আনন্দ ভাঙা দোকানঘরের নিচেই চাপা পড়ে আছে।

বুকে কষ্ট নিয়ে এসব কথা এ প্রতিবেদককে বললেন মিনারা বেগম।

মিনারা বলেন, ‘দোকানঘরটিতে চা নাস্তা বিক্রি করতাম, সেখানেও লোনের কিস্তি দিতাম। তারপর ঘরে বাজার করতাম। বর্তমানে ঘরে নেই ভাতের চাল, আবার কিস্তির চাপ। দোকানঘরটি নতুন করে তুলব সেই পয়সাও নেই। ঈদ আসবে ঈদ যাবে, ওসব ভেবে কী করব। এবারের ঈদ আনন্দ ভাঙা ঘরের নিচেই চাপা পড়ে আছে।’

মিনারার স্বামী অসুস্থ জামাল হাওলাদার বলেন, ‘সরকার বাহাদুরের দিকে চাইয়া রইছি। মোগো থাহার জন্য সরকার যেহেতু একখান ঘর দেছে, রোজগারের ব্যবস্থাও করবে। দোকানঘরটা যদি আবার করতে পারতাম তয় আবার বাজার কইররা কয়টা ডাইল ভাত খাইতে পারতাম।’

জামাল মিনারা দম্পত্তির মেয়ে ফাতিহা আক্তার স্কুলে পড়াশোনা করেছে। মা বাবার সঙ্গেই সংসারের কাজ করে সে।

ফাতিহা বলে, ‘আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার করে গত মাসে কিস্তি দিছি। এ মাসে হয়তো ঘরের কিছু বিক্রি করে দিতে হবে। এই ঈদে আমাদের কেউ এক কেজি চাউলও দেয় নাই। আমার ছোট দুইটা ভাই বেকার বসে আছে। ঈদে আমরা কোথাও যাব না, আমরা ঘরেই থাকব। টাকা রোজগার হলে ঈদের আনন্দ আগামী বছর করব।’

এ বিষয়ে কথা হয় ঝালকাঠি পৌর সভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির সাগরের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘রেমালের পর বরাদ্দ আসেনি। কোরবানি ঈদে অসহায় পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেয়ার স্লিপ আমি পেয়েছি। ব্যস্ততার কারণে মিনারাকে দেয়া হয়নি। তার স্লিপ আমি আমার কাছে রেখে দিয়েছি।’

বাসন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবের হোসেন বলেন, ‘জামল-মিনারার পরিবারের ভোট পৌরসভা এলাকায়, তাই হয়তো রাতুল মেম্বার তাদের স্লিপ দেয়নি। তবে আমার কাছে আসলে আমি দিয়ে দেব।’

আরও পড়ুন:
যানবাহনের চাপ নেই বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে
ছুটি শুরুর দিনেই সদরঘাটে যাত্রীর চাপ
রাতে গাড়ির চাপ বেড়ে যানজট সাভারে
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব
এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে চাপ, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় জট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Kurigram blacksmiths say that the business has increased in Kamarpara and the profit is less

কুড়িগ্রামে কামারপাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা, লাভ কম বলছেন কামাররা

কুড়িগ্রামে কামারপাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা, লাভ কম বলছেন কামাররা কুড়িগ্রামে ঈদকে ঘিরে বেড়েছে কামারদের ব্যস্ততা। ছবি: নিউজবাংলা
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের সবচেয়ে পুরোনো কর্মকার মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় ৩৬ বছর ধরে এ পেশায় আছেন তিনি। পেশাটার প্রতি মায়া পড়ে গেছে। এখন ১২ থেকে ১৩ টাকার কয়লা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজির লোহা কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকার উপরে। ফলে অল্প লাভেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে কামারদের।

কুড়িগ্রামে ঈদকে ঘিরে বেড়েছে কামারদের ব্যস্ততা। ক্রেতারা খুঁজছেন শাণ দেয়া ঝকঝকে দা ও ছুরি। কেউ কেউ পরখ করে নিচ্ছেন ঠিকমতো হাড় কাটবে কি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারপাড়ায় ঝনঝন শব্দ জানান দিচ্ছে তাদের কাজের ব্যস্ততা, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকাররা ক্ষতিকর যন্ত্রপাতির অপব্যবহার করতে দেন না বলে জানিয়েছেন।

এক সময় কৃষিকাজ, বাড়িঘর মেরামত ও গৃহস্থালি কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল কামারদের। ব্যবসাটা তখন ছিল জমজমাট। হাল আমলে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় সেই পেশা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও গ্রামে গ্রামে ছিল কামারদের অবস্থান। এখন কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের কারণে শত শত মানুষ এই পেশা পরিবর্তন করেছেন, তবে কামারদের দক্ষ হাতের কাজের এখনও জনপ্রিয়তা রয়েছে।

কোরবানি এলেই আবার লোকজন ছুটে আসেন কামারদের কাছেই।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের সবচেয়ে পুরোনো কর্মকার মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় ৩৬ বছর ধরে এ পেশায় আছেন তিনি। পেশাটার প্রতি মায়া পড়ে গেছে। এখন ১২ থেকে ১৩ টাকার কয়লা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজির লোহা কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকার উপরে। ফলে অল্প লাভেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে কামারদের।

পার্শ্ববর্তী ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ভবেন ও খগেন দুই ভাই প্রায় ৩৪ বছর ধরে কাজ করছেন। পাশেই কাজ করছেন তাদের গ্রামের কৃষ্ণ মোহন। তারা জানান, এক সময় ছিনাইতে ২৫ ঘর লোক কামারের পেশায় নিয়োজিত ছিল। এখন ৮ থেকে ১০ জন এই পেশায় আছেন। বাকিরা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

এসব যন্ত্রপাতি তৈরি করতে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়া লাগে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, এসব যন্ত্রাদি তৈরি করতে তাদেরকে কারো কাছ থেকে কোনো অনুমতি নিতে হয় না। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয় এমন যন্ত্রপাতি তারা কখনও তৈরি করেন না। শুধু সাংসারিক ও মাঠের কাজে ব্যবহার করা যায় এমন জিনিসই তৈরি করে আসছেন তারা যুগের পর যুগ ধরে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, আর্থিক সংকট এবং র-ম্যাটেরিয়ালসর উচ্চমূল্য এবং সামাজিকভাবে মর্যাদা না পাওয়ায় অনেকে পেশা পরিবর্তন করছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এ পেশার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের পাশে দাঁড়ানো।

তিনি জানান, কুড়িগ্রাম সদরে প্রায় ৮০ জন কামার রয়েছেন। পুরো জেলাজুড়ে কামার রয়েছে প্রায় চার শতাধিক।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকুল আলম হালিম বলেন, ‘যেহেতু ইক্যুইপমেন্টগুলো ধারালো, সেগুলো যেন খারাপ মানুষের হাতে না পড়ে এ জন্য মোটিভেশনাল কথাবার্তার পাশাপাশি আমাদের নজরদারিও থাকে কামারদের কার্যক্রমের প্রতি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো খারাপ সংবাদ আসেনি। তারপরও আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকি যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জিনিসগুলো খারাপ কাজে ব্যবহার করা না হয়।’

আরও পড়ুন:
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট বরদাশত নয়: র‍্যাব
এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে চাপ, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় জট
বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The intervention of the administration is requested to free the sightseeing places of Panchagarh from encroachment

পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ছুটির সময় পরিবার নিয়ে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করেন অনেকেই। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা শহরের ব্যবসায়ী হাজী আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে শিশুদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই, চাওয়াই অববাহিকায় মানুষজন পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসে। সুন্দর নান্দনিক এই পরিবেশটি এখন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

ঈদে পঞ্চগড়ের বিনোদনের স্থান থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে পর্যটকদের ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সমাজের সচেতন মহল।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে এসেছে বাড়িতে। উৎসবের এ আয়োজনকে ঘিরে ছুটির সময় পরিবার পরিজন নিয়ে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করেন অনেকেই, কিন্তু একটি সুবিধাভোগী মহল জেলার এসব দর্শনীয় স্থানে বাণিজ্যিক প্রসার ঘটিয়ে পর্যটকদের জিম্মি করে প্রতারণাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় ফেলে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তারা জানান, এলোমেলো পার্কিং, রাস্তা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্থানীয় ক্লাব সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবহন স্ট্যান্ডসহ মনগড়া অজুহাতে সাধারণ মানুষকে করা হয় হয়রানি। যা প্রতি বছরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দিঘি, চাওয়াই অববাহিকা, তেতুলিয়া ডাক বাংলো শহরের তুলারডাঙ্গা হিমালয় পার্ক, বোদার টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকায় ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

জেলা নাগরিক কিমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়, এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসে পঞ্চগড়ে নানা রকমের ঝামেলায় পড়ে, প্রশাসন একটু সজাগ হলেই এসব বন্ধ করা সম্ভব। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত এই সীমান্ত নগরী।

‘জেলা সদর থেকে সোজা উত্তরে ১৫ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়কের ওপর অবস্থান চাওয়াই নদীর পাড়ে চাওয়াই অববাহিকা। যা ৭১-এর মুক্তাঞ্চল নামে পরিচিত।’

তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদাররা যুদ্ধের ভারি অস্ত্র এ সেতু দিয়ে বহন করতে পারেনি। মুক্তি বাহিনী মাইন্ড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এটি ধ্বংস করে দেয়ায় পুরো যুদ্ধের সময়ে এই অঞ্চল সহ তেঁতুলিয়া উপজেলা ছিল মুক্তাঞ্চল।

উপজেলা প্রশাসন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখানে গড়ে তুলেছে শিশুদের জন্যে পার্ক, ভ্রমণকারীদের জন্যে নদীর তীর ঘেঁষে বসার ব্যবস্থা, সীমান্ত জেলার নামকরণ ফলক। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে এলাকা। সীমান্ত রেখায় নৈসর্গিক এ দৃশ্যপট উপভোগ করতে আসেন তেঁতুলিয়ায় পরিভ্রমণকারী পর্যটকরাও। হাতের নাগালেই ভারতীয় ভূখণ্ডে সমতলের চা বাগান, ভারত থেকে ছুটে আসা চাওয়াই, ডাহুক নদীর প্রবাহ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ সবুজ প্রাণ প্রকৃতি।

এই অববাহিকায় সড়ক বিভাগের পরিত্যক্ত সড়কের বিশাল অংশে পর্যটকদের জন্যে খোলা স্থানে পার্কিংসহ শিশুদের জন্যে খাবার দোকান, খেলনার দোকানসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দেই সেই জায়গাটি ব্যবহার করে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ করেই কিছু ব্যবসায়ী সেটি দখল করে পুরো জায়গাটিতে স্তূপ করে রেখেছে বালু পাথর দিয়ে। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছে সাধারণ পর্যটকরা।

জেলা সদর থেকে বেড়াতে আসা পুলিশ কর্মকর্তা কাইয়ুম আলী বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ অবসরে পরিবার পরিজন নিয়ে চাওয়াই নদীর মুক্ত বাতাসে ছুটে আসে। সড়ক বিভাগের পরিত্যক্ত সড়কের ওপর পার্কিং করে এলাকা ভ্রমণ করে। হঠাৎ করেই কিছু ব্যবসায়ী জায়গাটি দখলে নিয়ে বালু পাথরের স্তূপ করেছে। এতে সমস্যায় পড়েছে সকলে।’

জেলা শহরের ব্যবসায়ী হাজী আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে শিশুদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই, চাওয়াই অববাহিকায় মানুষজন পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসে। সুন্দর নান্দনিক এ পরিবেশটি এখন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

স্থানীয় অমরখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন ‘পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকাটি দখলমুক্ত করতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান
ট্যুরিস্ট ভিসায় তিন দিন ভারতে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা
স্বল্প ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন সৌদির চার স্থানে
রুমায় পর্যটকদের ওপর জারি করা নির্দেশনা স্থগিত
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কূটনীতিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the traffic of the market the profit farmer is the common buyer

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা মেহেরপুরের বামন্দী পশুর হাটে বেপারিদের আনাগোনায় চাষিদের লাভ হলেও কাঙ্ক্ষিত দামে গরু কিনতে হিমশিম খান অনেক ক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা
স্কুলশিক্ষক লাল্টু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোরবানির আজ (শুক্রবার) শেষ হাট। কোরবানির জন‍্য একটি ছাগল নিতে এসেছি। এসে দেখি গত হাটের থেকে আজ দাম অনেক বেশি। এর একটাই কারণ। আজ বাহির থেকে অনেক গরুর বেপারিরা এসেছে, যার কারণে যে ছাগল গত হাটে ২৫ হাজার টাকা দাম ছিল, আজ তার দাম ২৮ হাজার টাকা। এতে চাষিদের বাম্পার। আর আমরা হয়ে গেছি কোণঠাসা।’

ঈদুল আজহা কড়া নাড়ছে দুয়ারে। এ ঈদকে সামনে রেখে জমে ওঠে খুলনা বিভাগের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেহেরপুরের বামন্দী পশু হাট। এ হাটটিকে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরু-ছাগলের হাট।

কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে হাটটিতে পা ফেলানোর জায়গা পাওয়াটাই কঠিন হয়ে যায় পশু পালনকারী চাষি, খামারি, সাধারণ ক্রেতা ও বেপারিদের আনাগোনায়। অথচ কয়েক দিন আগেও ক্রেতা ও ব‍্যবসায়ী সংকটে ভুগছিলেন প্রান্তিক চাষি ও খামারিরা।

শেষ সময় এসে বাজারটির চিত্র পাল্টে যায়, তবে এলাকার বাইরে থেকে অনেক বেশি বেপারির (ব‍্যবসায়ী) উপস্থিতিতে কোণঠাসা হয়ে বিপাকে পড়েন ক্রেতারা।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, এলাকার বাইরে থেকে অনেক গরুর ব‍্যবসায়ী এসে সাধারণ বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে গরু-ছাগল কেনেন। এর ফলে বাড়তি দামেও কাঙ্ক্ষিত পশুটি পাননি তারা।

সাধারণ ক্রেতা, বেপারি ও পশুর হাট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার বসে বামন্দীর পশু হাট। কোরবানি ঈদের আগে সর্বশেষ শুক্রবার বসে ঐতিহ্যবাহী এ হাট।

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

কিছুদিন আগেও এই পশুর হাটে বেপারি ও সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, তবে শুক্রবার হঠাৎ করে এ হাটে ঢাকাসহ দেশের অন‍্যান‍্য এলাকা থেকে ট্রাক নিয়ে অনেক গরু ব‍্যবসায়ী আসেন। এতে করে গরু-ছাগলের চাহিদার পাশাপাশি দামও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটের চেয়ে বেশি দামে পশু কিনতে হয়।

যা বললেন ক্রেতারা

বামন্দী হাটে গতকাল কথা হয় কোরবানির পশু কিনতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) বামন্দী পশু হাটে পশুর দামে আগুন লেগে গেছে। গত সোমবার হাটে যে গরুর দাম চাইছিল ১ লক্ষ ৪০ হাজার, আজ তার দাম চাইছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তারপরও পাওয়া কঠিন।

‘গরুর চাষির গরুর দড়ি ধরে একাধিক বেপারি দাঁড়িয়ে থাকছে। আমাদের সুযোগ পাওয়াটাই কঠিন।’

আরেক ক্রেতা রতন বলেন, ‘আমরা গত সোমবার কোরবানির জন‍্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। বাড়িতে নিয়ে এসে দেখি গরুটির দাঁত ওঠেনি। তাই আজ হাটে সেই গরুটি বিক্রি করে আরেকটি গরু কিনব বলে এসেছি।

‘সেই গরুটি আজ বিক্রি করলাম ১ লক্ষ ৪৫ হাজারে। আরেকটি কিনলাম ১ লক্ষ ৬৫ হাজারে। আজ হাটে অনেক গরুর বেপারি এসেছে, যার ফলে গরুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দামও বেড়ে গেছে। আর আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কোণঠাসা হয়ে গেছি।’

হাটে বেপারিদের আনাগোনায় লাভ চাষির, কোণঠাসা সাধারণ ক্রেতা

স্কুলশিক্ষক লাল্টু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোরবানির আজ (শুক্রবার) শেষ হাট। কোরবানির জন‍্য একটি ছাগল নিতে এসেছি। এসে দেখি গত হাটের থেকে আজ দাম অনেক বেশি। এর একটাই কারণ।

‘আজ বাহির থেকে অনেক গরুর বেপারিরা এসেছে, যার কারণে যে ছাগল গত হাটে ২৫ হাজার টাকা দাম ছিল, আজ তার দাম ২৮ হাজার টাকা। এতে চাষিদের বাম্পার। আর আমরা হয়ে গেছি কোণঠাসা।’

গরু পালনকারী জহুরুল জানান, তার পোষা গরুটি বিক্রির জন‍্য গত দুই হাটে বামন্দী ঘুরেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করতে পারেননি। শুক্রবার ঈদের আগে শেষ হাট। যে গরুটি তিনি গত দুই হাটে দেড় লাখে বিক্রি করতে চেয়েও ক্রেতা পাননি, সেই গরুই বিক্রি করেছেন এক লাখ ৭৫ হাজার টাকায়।

আরেক গরু পালনকারী আনোয়ার বলেন, ‘আমি বছরে দুটি করে গরু পালন করি। আর কোরবানির ঈদে বিক্রি করি, তবে গত কয়েক হাটেই আমার পোষা গরু দুটির ভালো দাম পাইনি। আজ বাইরের বেপারি ভালো দামেই গরু দুটি কিনে নিল।’

বেপারিদের ভাষ্য

ঢাকা থেকে আসা গরুর বেপারি মহাসিন আলী বলেন, ‘আমি আজ এই পশু হাট থেকে তিন ট্রাক গরু কিনে ঢাকায় পাঠাব। সেই লক্ষ্যে সকাল থেকেই পশু পছন্দ করে বেড়াচ্ছি, তবে আজ এই হাটে অনেক বেপারির সমাগম ঘটেছে, যার ফলে পশুর চাহিদা বেড়েছে। বেড়েছে দামও।’

ঢাকা থেকে পশুর হাটে আসা আরেক বেপারি তৈয়ব আলী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন পার্টনার মিলে প্রায় ২০ বছর ধরে বামন্দীর এই হাট থেকে পশু কিনে ঢাকার বাজারে বিক্রি করি। মেহেরপুরের গরু ঢাকার বাজারে চাহিদা থাকায় এখানকার গরু-ছাগল কিনে বেশ পড়তা হয়।

‘কেননা এখানকার অধিকাংশই পশু আসে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে। তা ছাড়া চাষিদের কাছ থেকে পশু কিনে মজা বেশি। আমাদের ঈদের আগে আজকেই শেষ হাট।’

জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী পশু হাট ইজারাদার মামুন বলেন, ‘কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মূলত আমাদের হাট ইজারার টাকা ওঠে। এই পশুর হাটটি গত বছর সাড়ে চার কোটি টাকায় ডাক হয়েছে।

‘গত সোমবার বামন্দী পশু হাটে গরু আমদানি হয়েছিল তিন হাজার ৯৭৫টি। আর বিক্রি হয়েছিল তিন হাজার ৮৪৯টি, তবে আজ সোমবার হয়তো গরুর আমদানি সাত হাজার ছাড়িয়ে যাবে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারিচুল আবিদ জানান, এ বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মেহেরপুরে ৪৫ হাজার গরু ও এক লাখ ২৮ হাজার ৮০টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন ৩০ হাজার খামারি। এগুলোর আনুমানিক দাম ধরা হয় প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

জেলায় পশুর চাহিদা ৯০ হাজার ১৯৩টি। বাকি পশু চলে যাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

আরও পড়ুন:
পশুর হাটে ‘ষাঁড়ের লাথিতে’ খামারি নিহত
পশুর হাটে বাড়ছে রঙিন মালা দড়ির চাহিদা
ঢাকার কোথায় কোথায় বসছে কোরবানির পশুর হাট
গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারিরা
পশুর হাট বসানো নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে গুলি, আহত ১০

মন্তব্য

p
উপরে