× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
6 cows died in Chapainawabganj along with a shepherd
google_news print-icon

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় রাখালসহ ৬ গরুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে-ট্রাকচাপায়-রাখালসহ-৬-গরুর-মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
স্থানীয়রা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লয়লাভাঙ্গা ইউনিয়নের নিচুধুমি এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কে কয়েক শ গরু নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন এরফান আলী। এমন সময় পেছন থেকে গরুর পালে উঠে যায় পাথর বোঝাই একটি ট্রাক। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ৬টি গরু।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাথর বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় এক রাখাল নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ৬টি গরু ঘটনাস্থলে মারা গেছে।

উপজেলার সোনামসজিদ সড়কের নিচুধুমি এলাকায় সোমবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো ব্যক্তির নাম এরফান আলী (৫৫)। তার পরিচয় বিস্তারিত জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লয়লাভাঙ্গা ইউনিয়নের নিচুধুমি এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কে কয়েক শ গরু নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন এরফান আলী। এমন সময় পেছন থেকে গরুর পালে উঠে যায় পাথর বোঝাই একটি ট্রাক। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ৬টি গরু।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা এরফানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, ট্রাক ও ট্রাকের চালককে আটক করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে থাকা মরদেহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
মুম্বাইয়ে বিলবোর্ড পড়ে নিহত ১৪, আহত অন্তত ৭০
টেকনাফে পিটুনিতে একজন নিহত
রেললাইন ও সেতুর সংস্কার নেই, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা
গরুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত
যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে অটোরিকশা ছিনতাই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
5 families are homeless due to cold weather

শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার

শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমানত হোসেন খান বলেন, নদী ভাঙনের শিকার হওয়া পরিবারকে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাপাসিয়া মধ্যে পাড়া গ্রামের পাঁচটি পরিবারের বসত ঘর নদীতে ভেঙে গেছে।

কদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। এই ভাঙনের ফলে এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। অনেক পাকা ঘর, মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠও ভাঙনের আশঙ্কায়।

সরজমিনে পরিদর্শন গিয়ে দেখা যায়, ফকির মজনু শাহ সেতু সংলগ্ন উত্তর পাশে কাপাসিয়া মধ্যপাড়া গ্রাম। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একটি ঘনবসতি এলাকা যার স্থানীয়দের কাছে কুলু পাড়া নামে পরিচিত। গত রোববার রাতে অতিবর্ষণের ফলে এলাকার হেনা বেগম, মাসুদ মিয়া, রফিকুল ইসলাম, বাবুল মিয়া, আক্কাস আলী ও কিরন মিয়ার বসত ঘর ও বড় গাছপালা সহ নদীতে দেবে গেছে।

পাশেই রয়েছে কাপাসিয়া উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। ঈদগার সাথে রয়েছে মসজিদ, মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি মাদ্রাসা। এই ভাঙনের ফলে আশেপাশের বাড়ি ও মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে। ঈদের আগের দিন রাতে এই ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের ফলে পাঁচটি পরিবারের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বসত ঘর ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এই বৃষ্টি বাদলের দিনে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। অন্যান্য ঘরের মেঝেতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে যেকোনো সময় পুরো বাড়ি নদীতে চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় আমরা কি করব তার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।

হেনা বেগম বলেন, আমার রান্নাঘর সহ থাকার ঘরের অর্ধেক ভেঙে গেছে নদীতে। যে কোন সময় বাড়ির বাকি অংশটুকু ভেঙে পূর্ব দিকে নদীতে চলে যেতে পারে। এখন আমি অন্যের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছি। অবৈধ ভাবে এসব এলাকায় বালি খননের ফলে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনের শিকার বাবুল মিয়া বলেন, হঠাৎ করে এইভাবে বাড়িঘর বিলীন হবে আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। আমার একটি ঘরই ছিল তা ভেঙে গেছে নদীতে। এখন থাকারও জায়গা নেই। এ অল্প জায়গাটুকুর মধ্যে বাড়ি করে বসবাস করতেছি। এই শেষ সম্বলটুকু নদী ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন কি করব কোথায় যাব জানি না।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে একটি আধা পাকা ঘরসহ পাঁচটি ঘর নদীতে দেবে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে মাদরাসা ও ঈদগাহ মাঠসহ অর্ধশত বাড়িঘর। আকস্মিক ভাবে নদী ভাঙনে চরম আতঙ্কে আছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেও জায়গার অভাবে অন্যত্র যেতে পারছেন না।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমানত হোসেন খান বলেন, নদী ভাঙনের শিকার হওয়া পরিবারকে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coxs Bazar mountain collapse killed husband along with pregnant wife

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ স্বামীর মৃত্যু

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ স্বামীর মৃত্যু ফাইল ছবি
শুক্রবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশা ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন।

কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশা ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার নজির হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৬) ও মাইমুনা আক্তার (২০)।

আনোয়ার হোসেন স্থানীয় ওমর ফারুক জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তার স্ত্রী মাইমুনা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানান তার স্বজনেরা।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। ভোর রাত ৩টার দিকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। রাতে খাবার খেয়ে নিজের শয়ন কক্ষে স্ত্রীসহ ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাহাড়ের খাদের নিচে ঘরটির ওপর বড় এক খণ্ড মাটি পড়ে। এতে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই মাটি চাপা পড়ে মারা যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তাদের স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাটি চাপা অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করেন। পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে জানান হেলাল উদ্দিন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Deterioration of flood situation in Kurigram

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কুড়িগ্রামে বন্যায় নিমজ্জিত হয়েছ আউশ ধানের ক্ষেত। ছবি: নিউজবাংলা
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ‘জেলার ভেতর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহমান। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা নদীসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ফুলবাড়ি উপজেলার তালুকশিমুল শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া রেলসেতু পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদ-নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যমতে, পানি বাড়ার কারণে নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। ডুবে গেছে সবজিক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫/৬টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। সেখানে জরুরিভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে।

জেলায় স্বল্পমেয়াদি এই বন্যা পরিস্থিতি দু-একদিনের মধ্যে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি বন্যায় জেলায় প্রায় ৪৫৩ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে মরিচ, আউশ ধান, পাট, চিনা, পটল ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ‘জেলার ভেতর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহমান। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের সংখ্যা তিন হাজার ৬৯১ জন। বন্যাকবলিতদের উপজেলা পর্যায়ে ১৪৪ টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখানে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নেয়া শুরু করেছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য সহায়তা সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য রটি স্পিড বোট ও দুটি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হামিদুল হক খন্দকার বৃহস্পতিবার যাত্রাপুর ও পাঁচগাছি ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four people including children were killed and injured in Khulna lightning

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১
বজ্রপাতে খুলনার পাইকগাছায় শ্রীকান্ত মণ্ডল, বটিয়াঘাটায় আল মামুন এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এনায়েত আলী ও শিশু নাজমুল মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মুছা গাজী।

খুলনায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

বিকেলে খুলনার পাইকগাছায় বজ্রপাতে শ্রীকান্ত মণ্ডল নামে এক যুবক মারা যান। তিনি উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের পতিত মণ্ডলের ছেলে।

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শ্রীকান্ত মাছের ঘেরের কর্মচারী ছিলেন। বিকেলে বৃষ্টিপাতের সময় ঘেরের একটি ঝুপড়ি ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যাযন। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।’

দুপুরের দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় খারাবাদ এলাকায় বজ্রপাতে আল মামুন নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় মনি চৌকিদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আকাশে মেঘ দেখে আল মামুন খারাবাদ এলাকার কড়িয়া ভিটায় গরু আনতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হয়। ফাঁকা বিলে কোনো নিরাপদ স্থান না পেয়ে সে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মারা যায়। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া বজ্রপাতে খুলনার কয়রার অধিবাসী এক শিশুসহ দুজন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এই ঘটনা ঘটে।

তারা হলেন- কয়রা উপজেলার ঘড়িলাল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এনায়েত আলী ও মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আল আমিনের ছেলে আট বছর বয়সী নাজমুল। এ সময় গুরুতর আহত হন নাজমুলের নানা মুছা গাজী।

শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়পদ্মপুকুর এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকে চারজন মোটরসাইকেলযোগে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী খেয়াঘাট হয়ে কয়রার উদ্দেশে রওনা হন তারা। দুপুর ১টার দিকে গাবুরার গাগড়ামারী ও নেবুবুনিয়া এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় আশ্রয় নিলে বজ্রপাতে এনায়েত ও নাজমুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া শিশুটির নানা মুছা গাজীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

খুলনার কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছের আলি মোড়ল বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
ছাগলনাইয়ায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর
নরসিংদীতে বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত
টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
গাইবান্ধার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু
বজ্রপাত নিরোধ যন্ত্র স্থাপনে সহায়তা করতে চায় ফ্রান্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teesta boat capsizing Four members of a family still missing

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদী‌তে নৌকাডু‌বির ঘটনায় চার শিশুসহ ছয় যাত্রী নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে। তারা সবাই উলিপুর উপ‌জেলার প‌শ্চিম বজরার বা‌সিন্দা। এদের মধ্যে এক পরিবারেরই রয়েছে চারজন।

নি‌খোঁজদের উদ্ধা‌রে তল্লা‌শি চালা‌চ্ছে ফায়ার সা‌র্ভি‌সের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত অ‌ভিযান চা‌লি‌য়ে তাদের কা‌রও সন্ধান পা‌য়নি ডুবু‌বিরা।

নৌকাডু‌বির ঘটনায় ওই এলাকার আজিজুর রহমা‌নের মেয়ে আয়েশা সি‌দ্দিকা না‌মের এক শিশুর মর‌দেহ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম।

স্থানীয় ও নিখোঁজদের স্বজন‌দের দা‌বি, নৌকার যা‌ত্রী ৩০ বছর বয়সী আনিছুর রহমান, তার স্ত্রী রুপা‌লি বেগম, তাদের বছরের মেয়ে আইরিন, ভা‌গ্নী ৯ বছরের হিরা ম‌নি; কয়জন আলীর আড়াই বছ‌রের মেয়ে কুলসুম এবং আজিজু‌র রহমানের ৫ বছরের ছে‌লে শা‌মিম হো‌সেন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে।

বেঁচে ফেরা নৌকার যা‌ত্রী আমিনা বেগম জানান, তার মা ও ভাতি‌জাসহ প‌রিবা‌রের চার সদসদ‌্য দাওয়া খেতে যা‌চ্ছি‌লেন। প‌থে তিস্তার খরস্রোতে তা‌দের বহনকারী নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। তা‌রা কোনোমতে সাতঁ‌রিয়ে তীরে উঠতে পারলেও তার ভা‌তি‌জা শামিম হোসেন ডুবে যায়।

শ‌রিফা বেগম নামের আরেক যাত্রী জানান, নৌকাডু‌বির সময় তার আড়াই বছ‌রের শিশু কুলসুম খাতুন নদী‌তে পড়ে নি‌খোঁজ রয়েছে। তিনি বর্তমানে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম ব‌লেন, ‘একই প‌রিবা‌রের চারজনসহ মোট ছয়জন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে এমন শোনা যাচ্ছে। তা‌দের ম‌ধ্যে চারজনই শিশু, যা‌দের বয়স ১০ বছ‌রের কম। আমা‌দের ডুবুরির দল কাজ ক‌র‌ছে। বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় কাজ কর‌তে বেগ পে‌তে হ‌চ্ছে।’

এর আগে, বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু, ৮ জন নিখোঁজের দাবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eight lakh people are stuck in water in Sunamganj

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাতি হচ্ছে।

বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদী পাড়ের পৌর কিচেন মার্কেট থেকে পানি নেমেছে, তবে সবজি বাজারে কিছুটা পানি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিব্গা, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, পশ্চিম হাজীপাড়া, তেঘরিয়া, নবীনগর, কাজীর পয়েন্ট মল্লিকপু সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি জীপবযাপন করছেন।

শহরের সবকটি হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়ে সামর্থবান একতলার বাসিন্দারা সেখানে উঠেছেন। কেউ কেউ ক্লিনিকের কক্ষেও পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। বাজারে দুয়েকটা দোকান খোলা পাওয়া গেলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানীরা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৫ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৬২ মিলিমিটার, ছাতকে ৬৫ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

তবে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কম হওয়ায় রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Erosion started in Yamuna spreading panic

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবিটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পাটিতাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল, সেটিও ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙন কবলিত মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষেরা।

সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

গত বছর ভাঙনের শিকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। যার কারণে নদীতে পানি এলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

গত বছর বন্যায় ভাঙনরোধে পাউবার ফেলা গাইড বাঁধের জিও ব্যাগ আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধপাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, ছোটবড় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা, সুফিয়া ও কোরবান আলী বলেন, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে, কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

তারা বলেন, গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল, সেটি এবারও চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কিছু দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ভূঞাপুরে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইলের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু হলে স্থায়ী বাঁধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জামালপুরে যমুনায় তীব্র ভাঙন শুরু, নির্ঘুমে এলাকাবাসী
ভাঙন রোধে ফুলছড়িতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
অসময়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
ভাঙনের কবলে কুশিয়ারার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম

মন্তব্য

p
উপরে