× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The mother committed suicide as she could not afford her sons medical expenses
google_news print-icon

ছেলের চিকিৎসার ‘খরচ চালাতে না পেরে আত্মহত্যা’ মায়ের

ছেলের-চিকিৎসার-খরচ-চালাতে-না-পেরে-আত্মহত্যা-মায়ের
ফাইল ছবি
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনর্চাজ মোহাম্মদ বাচ্চু বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসায় এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিষপান করেন তিনি, পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া আফরোজা আক্তারের (২৪ বছর) স্বামী মো. সোহেল রানা বলেছেন, ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে নিরুপায় হয়েই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন আফরোজা।

আফরোজার বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুরুকচর গ্রামে। কামরাঙ্গীরচরের তেনারই পুকুরপাড় কন্ট্রাক্টার মনিরের বাসায় পরিবারেরর সঙ্গে থাকতেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, আমার ৩ বছরের ছেলের জন্মের পর থেকে কিডনির সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই শিশুটির চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।

তিনি বলেন, সকালে গুলিস্তান আমার কর্মস্থলে যাই। ওই সুযোগে সকালে আমার স্ত্রী বিষ পান করে, বিষয়টি আমাদের বাড়ির মালিকের মেয়ে বুঝতে পেরে আমার স্ত্রী আফরোজাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে স্টমাক ওয়াস দিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনর্চাজ মোহাম্মদ বাচ্চু বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Child drowned in Buriganga

বুড়িগঙ্গায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

বুড়িগঙ্গায় ডুবে শিশুর মৃত্যু বুড়িগঙ্গা নদী। ফাইল ছবি
পথচারী আলামিন বলেন, ‘আমি বাইক চালিয়ে লালবাগ আসার পথে কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেটের সামনে দেখি, তিন থেকে চারটা শিশু ওই শিশুকে রিকশায় তোলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় আমি শিশুটিকে বাইকে উঠিয়ে সরাসরি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বুড়িগঙ্গায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নদীতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় এক পথচারী শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

প্রাণ হারানো মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৬) কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার বাটির গাঁও গ্রামের মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। সে কামরাঙ্গীরচর কুরার ঘাটে একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত।

পথচারী আলামিন বলেন, ‘আমি বাইক চালিয়ে লালবাগ আসার পথে কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেটের সামনে দেখি, তিন থেকে চারটা শিশু ওই শিশুকে রিকশায় তোলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় আমি শিশুটিকে বাইকে উঠিয়ে সরাসরি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কবি অসীম সাহা মারা গেছেন
রাজধানীতে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা সোহাগ তালুকদার মারা গেছেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The flood situation in Sunamganj is improving but the water is receding slowly

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে পানি নামছে ধীরে

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে পানি নামছে ধীরে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিধ সাইদ আহমদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেটে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ছাড়া ভারি কোনো বৃষ্টি হবে না।

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে পানি ধীরে কমায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

জেলা শহরের বেশিরভাগ জনবসতি ও সড়কে এখনও হাঁটু সমান পানি। এসব আবাসিক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রোদের দেখা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মনে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারি বর্ষণ না হলে ২০২২ সালের বন্যার ভয়াবহ পরিণতি হবে না বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে পানি ধীরে কমায় জনবসতিতে দুর্ভোগ রয়েই গেছে। জেলা শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ নতুনপাড়ায় এখনও হাঁটু সমান পানি। শান্তিবাগ, হাছননগরের কিছু অংশ, কালীপুর, ওয়েজখালীর কিছু অংশ, তেঘরিয়ার কিছু অংশ, পশ্চিম হাজীপাড়া, মল্লিকপুর ও নবীনগরে কিছু এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। এসব এলাকার ঘরবাড়ি থেকে ধীরগতিতে পানি নামায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

কালীপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরে পাঁচ দিন হয় পানি, ঈদের দিন হাঁটুর উপরে পানি ছিল। এখনও ঘরে সামান্য পানি আছে। ঘরের ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। পানি দ্রুত নামলে ক্ষতি কম হতো।

শহরের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে উঠেছেন সিরাজুল ইসলাম। বললেন, ‘ঘরে যাবার মতো পরিবেশ হতে আবহাওয়া ভালো থাকলেও, তিন-চার দিন লাগবে।’

পানি নামার পর কাঁচা ঘরটি পড়ে যায় কি না, এ আতঙ্কে আছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে (শুক্রবার দুপুর ১২ টায়) বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও চেরাপুঞ্জিতে কম হয়েছে। মাত্র ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জে হয়েছে মাত্র দুই মিলিমিটার।’

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিন আবহাওয়া ভালো থাকবে। হালকা থেকে মাঝারি ছাড়া বড় কোন বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ সজীব আহমদ বলেন, একেবারে নিরাপদ হয়ে গেছে সিলেট জোন এটা বলা যাবে না, তবে অনেকটাই নিরাপদ হয়ে গেছে। অবনতির আশঙ্কাও কম।

অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিধ সাইদ আহমদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেটে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ছাড়া ভারি কোনো বৃষ্টি হবে না।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sheikh Hasinas visit will strengthen bilateral partnership Indian External Affairs Ministry
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ

শেখ হাসিনার সফর দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব জোরদার করবে: ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেখ হাসিনার সফর দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব জোরদার করবে: ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুক্রবার দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত
ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।

শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: ইউএনবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও বিশ্বস্ত প্রতিবেশী। এই সফর দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দিনব্যাপী এই ভারত সফর করছেন।

অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের পর ভারতে সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর।

সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়াও দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু ও উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

গত ৯ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া আন্তর্জাতিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন
নয়াদিল্লি গেলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন ২১ জুন
গণভবনে আ.লীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
ত্যাগের চেতনায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sadarghat is crowded with passenger launches during holidays

ছুটির দিনে সদরঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ

ছুটির দিনে সদরঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ শুক্রবার প্রতিটি লঞ্চ যাত্রী বোঝাই অবস্থায় সদরঘাটের পন্টুনে ভেড়ে। ছবি: নিউজবাংলা
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে মানুষের ঢাকা ফেরার চিত্র। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের সব লঞ্চ ডেকে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়েও কিছু লঞ্চ ঢাকার এসে পৌঁছায়।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ এখন ঢাকামুখী। গ্রামে যাওয়া নগরের মানুষগুলো ফিরছে কর্মস্থলে। আর রাজধানী ফিরে পাচ্ছে তার ব্যস্ততম চেহারা।

বাস ও ট্রেনের পাশাপাশি সরকারি ছুটির দিনে শুক্রবার রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও যাত্রীর ভিড় দেখা গেছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে মানুষের ঢাকা ফেরার চিত্র। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের সব লঞ্চ ডেকে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়েও কিছু লঞ্চ ঢাকার এসে পৌঁছায়। নৌপথ ছাড়াও অনেকে আবার সড়ক অথবা রেলপথে ফিরছেন।

ছুটির দিনে সদরঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ

ঈদের পর শহরে ফেরা মানুষে আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজনের চিরচেনা নৌবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। লঞ্চের হর্ন আর যাত্রীদের পদচারণায় সদরঘাট তার পুরনো রূপ ফিরে পেয়েছে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, পন্টুনগুলোতে ছিলো ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড়। কেউ বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ফিরছেন। কেউবা ফিরছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। কারও সঙ্গে রয়েছে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন জিনিসপত্রের ব্যাগ।

তবে লঞ্চের মাধ্যমে ঢাকামুখী এ যাত্রায় এখনও কোনো অনিয়ম বা বড় ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার দুপুর থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, চরফ্যাশন, হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, লালমোহনসহ দেশের বিভিন্ন রুটের যাত্রী বোঝাই লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে লঞ্চ এবং নগরমুখো যাত্রীও বাড়তে থাকে।

চাঁদপুর থেকে আসা ‘এমভি রহমত’ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাটে আসে বিকেল ৩টায়। লঞ্চটিতে বৃহস্পতিবারের চেয়ে যাত্রীর ভিড় তুলনামূলক বেশি ছিল।

এই লঞ্চের যাত্রীরা বলেন, যাদের রোববার থেকে অফিস রয়েছে তারা এ দুদিনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরবেন। ফলে এ দুদিন একটু চাপ বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

ছুটির দিনে সদরঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ

দুপুরে ভোলা থেকে ছেড়ে আসা ঈগল-৪ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে শুরু করেন।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার থেকে অফিস-আদালত, মার্কেট সবকিছু খোলা হবে। এজন্য তারা ঢাকায় চলে এসেছেন।

ভাড়া কেমন নিয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এখন তো ঈদের সিজন। ভাড়া তো একটু বেশি নেবেই। মানুষ ঢাকায় ফিরছে, ভাড়া তেমন একটা বেশি নেয়নি।

ভোলা থেকে আসা বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফিরলাম। আসতে তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি। ভালোভাবেই পৌঁছে গেছি।’

এদিকে সদরঘাট দিয়ে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া সংখ্যা খুব কম দেখা গেছে। লঞ্চ কর্মকর্তারা জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই একে একে ভিড়তে থাকে বিভিন্ন রুটের লঞ্চ। এদিন বরিশাল নদীবন্দর থেকে বেশ কয়েকটি লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে।

ঈদযাত্রার পর মানুষ এখন আর তেমন বাড়ি যাচ্ছে না। এখন সবাই ফিরছে। সরকারি ছুটির এই দুদিন কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে লঞ্চে মানুষের বাড়তি চাপ থাকবে বলে জানিয়েছেন জাহাজ মালিক, স্টাফ ও কর্মকর্তারা।

ঈদের ছুটির আগের দুদিন ১৪ ও ১৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১৬ থেকে ১৮ জুন তিনদিন ছিল ঈদের ছুটি। পরবর্তীতে ১৯ ও ২০ জুন অফিস-আদালত খুললেও অনেকেই এ দুদিন বাড়তি ছুটি কাটিয়েছেন।

ঈদের নির্ধারিত ছুটি শেষে বুধ ও বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিয়েছেন অনেকে। তবে পুরোদমে ফেরেনি কর্মচাঞ্চল্য।

যাত্রীর মূল চাপটা ২১ ও ২২ জুন (শুক্রবার, শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে থাকবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা। এই ছুটি শেষে ২৩ জুন রোববার থেকে রাজধানী ফিরে যাবে চিরচেনা সেই আগের রূপে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ট্রাফিক কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তা এস এম মামুন জানান, ঈদের ছুটি শেষে যেমন যাত্রী থাকার কথা তেমনই হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেমন থাকে তার চেয়ে বেশি যাত্রীই লক্ষ্য করা গেছে।

বিআইডব্লিটিএ’র বাদিং সারেং আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খুব সকাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৮টি লঞ্চ ঢাকায় এসেছে। বৃহস্পতিবার একই সময়ে ৬১টি লঞ্চ রাজধানীতে এসেছিল। এদিন আসা প্রায় সব লঞ্চ ঢাকায় যাত্রী রেখে দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করেছে।

‘লঞ্চগুলো হলো- এম ভি সুন্দরবন ১৬, মানামী, অ্যাডভেঞ্জার ১ ও ৯, সুন্দরবন ১০ ও ১৪, প্রিন্স আওলাদ ৭, এম ভি কুয়াকাটা ২, প্রিন্স রাসেল ৫, শুভরাজ ৯ ইত্যাদি। বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লম্বা ছুটি থাকায় মানুষ ধাপে ধাপে ফিরছে। বিগত দুদিনের তুলনায় রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ শুক্রবার কিছুটা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ কাজের টানে ফিরে আসবে।’

বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘৪০টি নৌরুটে দিন ও রাত্রিকালীন সার্ভিস মিলিয়ে শতাধিক লঞ্চ ঢাকা থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা রুটে সরাসরি যাতায়াত করছে। তবে বিশেষ লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রীর চাহিদা বিবেচনা করে চলাচল করে। সাধারণ সময়ে লঞ্চগুলো বাই রোটেশন তালিকা অনুসারে চলাচল করবে।’

সদরঘাট নৌ-পুলিশ থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘সদরঘাট এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ঘাট ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই ঘাটে লঞ্চ আসতে শুরু করেছে। কিছু লঞ্চ আবার সদরঘাট ছেড়েও গেছে। পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, সরগরম সদরঘাট
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka Tangail Bangabandhu highway is crowded with cars but there is no traffic jam
ঈদের ছুটি শেষে ফিরছে মানুষ

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ির চাপ, তবে নেই যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ির চাপ, তবে নেই যানজট ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেতু পূর্ব ও পশ্চিমে ৩১ হাজার ২০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এর বিপরীতে দুই কোটি ৫৯ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে ফের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহনের চাপ। বাড়ি যাওয়ার পথে কখনও যানজট, কখনও ভোগান্তি ও কখনও ধীরগতি এবং আবার কখনও ছিল স্বস্তি, তবে ঢাকায় ফেরা ব্যাপক স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেলে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে হাতিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ছিল, তবে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও যানবাহন যানজট নেই। অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে এ সময়।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত সিএনজি চালকরা কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ভূঞাপুরের মোতালেব মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষ, শনিবার সকাল থেকে অফিস। তাই আজই চলে যেতে হচ্ছে, কিন্তু সেতু পূর্ব থেকে গাজীপুর চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। কী আর করার যেতে হবেই। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০০ টাকা বেশি, তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট দেখতে পাচ্ছি না।’

কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। ঈদের আগে মহাসড়কের সেতু পূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা বিলম্বে পড়তে হয়েছে, কিন্তু ঢাকায় ফিরতে পথে এই অংশে কোনো ধরনের যানজট নেই, তবে মহাসড়কে কিছু কিছু এলাকায় ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। তা ছাড়া স্বস্তিতেই গাড়ি চালাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। মহাসড়ক ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী সকল যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেতু পূর্ব ও পশ্চিমে ৩১ হাজার ২০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এর বিপরীতে দুই কোটি ৫৯ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক ও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চাপ
১০ লেনে উন্নীত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ঝড়ে গাছ উপড়ে আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ গজারিয়ায়
ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা হতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে ৪ লেন চালু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League is not a drop of dew on a leaf Kader
৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু নয়: কাদের

আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু নয়: কাদের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। তাদের নেতৃত্ব ভুয়া, এক দফা ভুয়া। এই ভুয়া দলের ভুয়া আন্দোলনে জনগণ নেই। জনগণ তাদের সঙ্গে আগেও ছিল না ভবিষ্যতেও থাকবে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু নয় যে টোকা দিলে পড়ে যাবে। আওয়ামী লীগের শেকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে প্রোথিত। বিএনপির সরকার পতন আন্দোলনের হুমকির জবাবে একথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অফ বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু নয়: কাদের
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন থেকে শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- আমাদের ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু নয় যে একটু টোকা লাগলেই পড়ে যাবে। একটু ধাক্কা লাগলে সরে যাওয়ার পাত্র নয় আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। তাদের নেতৃত্ব ভুয়া, এক দফা ভুয়া। এই ভুয়া দলের ভুয়া আন্দোলনে জনগণ নেই। জনগণ তাদের সঙ্গে আগেও ছিল না ভবিষ্যতেও থাকবে না।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক দিয়ে আবার ২৮ অক্টোবরের মতো পালিয়ে যাবেন না তো?’

ওবায়দুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মাথা নত করার দল নয়। ব্যক্তি অপরাধ করলে দুদক স্বাধীন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার করার সৎসাহস আছে শেখ হাসিনার।

‘আজকে যে চক্রান্ত চলছে এটা আওয়ামী লীগকে হটানোর জন্য কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। আন্দোলনের নামে যদি আবার আগুন নিয়ে মাঠে নামেন, খুনের রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগ তার জবাব দিতে রাজপথে প্রস্তুত আছে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে৷ সেনাবাহিনীর প্রতিও তাদের সেই মতলব আছে। তারা গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ দল বানানোর চক্রান্ত করছে।’

শোভাযাত্রার আগে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফি, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ বক্তব্য দেন।

বক্তব্য শেষে ওবায়দুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড ও মিরপুর রোড হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমার সীমান্ত কঠোর নজরদারিতে রয়েছে: কাদের
সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের গুলির ঘটনায় প্রয়োজনে জবাব: কাদের
যানজট নেই, তবে সড়কে চাপ আছে: কাদের
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন কাদের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সব নিবন্ধিত দলকে আমন্ত্রণ জানাবে আওয়ামী লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If he got money he would make birth registration of Rohingyas
কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউপি সচিব গ্রেপ্তার

টাকা পেলেই রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিতেন তিনি

টাকা পেলেই রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিতেন তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউপির সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, পর্যাপ্ত টাকা পেলে ইউপি সচিব যে কারও যে কোনো অসংগতিপূর্ণ ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দেন। এমন কাজে সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা যুবকের জন্য জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিতেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের নিমাইকান্দি এলাকা থেকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ইসমাইল কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গুনাইনন্দী গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেস বড়ুয়া বলেন, ‘ইউপি সচিব ইসমাইলকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে এক রোহিঙ্গা যুবককে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।’

ঘটনা আলোচনায় যেভাবে

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে মো. ইয়াছিন নামে ১৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা। সে মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। বাংলাদেশে আসার পর কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৯ নম্বর ব্লকে থাকতো সে।

ইয়াসিন ১৫ ফেব্রুয়ারি পাসপোর্ট তৈরির জন্য মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া পরিচয়ে জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যায়। এ সময় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন জানায়, তার চাচাতো ভাই উসমান কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মদিনা ট্রাভেলসের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ নামে দুই দালালের সঙ্গে পাসপোর্ট করার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ওই দুজন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনের সব কাগজপত্র তৈরি করে দেয়।

গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সে সময় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা যুবক কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেছে তা তদন্তে নামে তারা।

তদন্তে ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পান গোয়েন্দারা। তথ্য অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার ইউপি সচিব ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, বৈধভাবে অনেকেই জন্মনিবন্ধন বানাতে পারে না। অথচ পর্যাপ্ত টাকা পেলে ইউপি সচিব যে কারও যে কোনো অসংগতিপূর্ণ ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দেন। এমন কাজে সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকের জন্মবিন্ধন বানানোর ঘটনা ঠিক নয়। আইডি হ্যাক হয়েছে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’

মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকের জন্মনিবন্ধন তৈরি সংক্রান্ত সরকারি মামলায় ইউপি সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হবে।’

মন্তব্য

p
উপরে