× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Five people were killed and 7 injured in three districts due to lightning
google_news print-icon

বজ্রপাতে তিন জেলায় পাঁচজন নিহত, আহত ৭

বজ্রপাতে-তিন-জেলায়-পাঁচজন-নিহত-আহত-৭
দেশের তিন জেলায় শনিবার সকালে বজ্রপাতে প্রাণহানি হয়। ফাইল ছবি
বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও কুমিল্লায় শনিবার সকালে বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হন।

দেশের তিনটি জেলায় শনিবার বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।

বাগেরহাট

জেলার শরণখোলা উপজেলার চাল-রায়েন্দা গ্রামের বান্ধাঘাটা এলাকায় সকালে বজ্রপাতে দুই শ্রমিক নিহত ও ছয়জন আহত হন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর ঘাটে থাকা কার্গো থেকে বালু তোলার সময় বজ্রপাতে হতাহত হন তারা।

প্রাণ হারানো দুই শ্রমিক হলেন শেখ মিলন (৪০) ও মোস্তফা (৫৫)। তাদের মধ্যে মিলনের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বদনিভাঙ্গা গ্রামে। মোস্তফার বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার বালিপাড়া গ্রামে।

বজ্রপাতে আহত ছয় শ্রমিককের মধ্যে পাঁচজনকে শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত এক বালু শ্রমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকরা হলেন রাসেল গাজী (৩০), বাবুল সওদাগার (৪৫), খোকন গাজী (৪২), সোহেল তালুকদার (৩০) ও জলিল হাওলাদার (৪৫)।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো শ্রমিকের নাম জানাতে পারেনি পুলিশ।

শরণখোলা থানার ওসি এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাল-রায়েন্দা গ্রামের বান্ধাঘাটা এলাকায় বজ্রবৃষ্টির মধ্যে কার্গো থেকে বালু তোলার সময় বজ্রপাত দুই বালুশ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত ও ছয়জন আহত হন।

চুয়াডাঙ্গা

জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় সকালে আলাদা স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুজন নিহত ও এক গৃহবধূ আহত হন।

নিহত দুজন হলেন দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের খোদের মল্লিকের ছেলে আহমেদ মল্লিক (৭০) ও সদর উপজেলার ঝাজরী গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে রুবেল হোসেন (২৮)।

আহত গৃহবধূ টুনু খাতুন (৩০) সদর উপজেলার গো‌বিন্দহুদা গ্রা‌মের মিল‌ন হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। তখন মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন আহমেদ মল্লিক। দামুড়হুদা উপ‌জেলা স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে নি‌লে জরুরি বিভা‌গের চি‌কিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

অন্যদিকে সকালে বজ্রবৃষ্টির সময় সদর উপজেলার ঝাজরী গ্রামের বস্তির পাশের একটি দোকানে বসে ছিলেন রুবেল হোসেন। ওই সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, বজ্রবৃ‌ষ্টি শুরু হলে ঘ‌রের দরজায় বসে ছিলেন টুনু খাতুন। ওই সময় বাড়ির উঠা‌নে বজ্রপাত হ‌লে গুরুতর আহত হ‌য়ে জ্ঞান হারান তিনি। পরে তা‌কে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতা‌লে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম আল আজাদ বলেন, ‘ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

কুমিল্লা

জেলার মুরাদনগরে বাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ গ্রামে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো সিয়াম ওই গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে। সে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যায় সিয়াম। খেলা চলাকালে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে সিয়াম গুরুতর আহত হয়।

তারা জানান, সহপাঠীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সিয়ামের শরীরে পুড়ে যাওয়ার মতো কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ইসিজি করার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে।

নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, বজ্রপাতের শব্দে ঘটনাস্থলেই সিয়াম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

আরও পড়ুন:
হাওরে নতুন আতঙ্ক বজ্রপাত, পূর্বাভাস পায় না কৃষক
বজ্রপাতে মাদারীপুর ও মৌলভীবাজারে তিনজনের প্রাণহানি
ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু
কুমিল্লায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Child drowned in Buriganga

বুড়িগঙ্গায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

বুড়িগঙ্গায় ডুবে শিশুর মৃত্যু বুড়িগঙ্গা নদী। ফাইল ছবি
পথচারী আলামিন বলেন, ‘আমি বাইক চালিয়ে লালবাগ আসার পথে কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেটের সামনে দেখি, তিন থেকে চারটা শিশু ওই শিশুকে রিকশায় তোলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় আমি শিশুটিকে বাইকে উঠিয়ে সরাসরি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বুড়িগঙ্গায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নদীতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় এক পথচারী শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

প্রাণ হারানো মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৬) কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার বাটির গাঁও গ্রামের মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। সে কামরাঙ্গীরচর কুরার ঘাটে একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত।

পথচারী আলামিন বলেন, ‘আমি বাইক চালিয়ে লালবাগ আসার পথে কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেটের সামনে দেখি, তিন থেকে চারটা শিশু ওই শিশুকে রিকশায় তোলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় আমি শিশুটিকে বাইকে উঠিয়ে সরাসরি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কবি অসীম সাহা মারা গেছেন
রাজধানীতে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা সোহাগ তালুকদার মারা গেছেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The flood situation in Sunamganj is improving but the water is receding slowly

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে পানি নামছে ধীরে

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে পানি নামছে ধীরে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিধ সাইদ আহমদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেটে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ছাড়া ভারি কোনো বৃষ্টি হবে না।

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে পানি ধীরে কমায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

জেলা শহরের বেশিরভাগ জনবসতি ও সড়কে এখনও হাঁটু সমান পানি। এসব আবাসিক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রোদের দেখা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মনে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারি বর্ষণ না হলে ২০২২ সালের বন্যার ভয়াবহ পরিণতি হবে না বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে পানি ধীরে কমায় জনবসতিতে দুর্ভোগ রয়েই গেছে। জেলা শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ নতুনপাড়ায় এখনও হাঁটু সমান পানি। শান্তিবাগ, হাছননগরের কিছু অংশ, কালীপুর, ওয়েজখালীর কিছু অংশ, তেঘরিয়ার কিছু অংশ, পশ্চিম হাজীপাড়া, মল্লিকপুর ও নবীনগরে কিছু এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। এসব এলাকার ঘরবাড়ি থেকে ধীরগতিতে পানি নামায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

কালীপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরে পাঁচ দিন হয় পানি, ঈদের দিন হাঁটুর উপরে পানি ছিল। এখনও ঘরে সামান্য পানি আছে। ঘরের ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। পানি দ্রুত নামলে ক্ষতি কম হতো।

শহরের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে উঠেছেন সিরাজুল ইসলাম। বললেন, ‘ঘরে যাবার মতো পরিবেশ হতে আবহাওয়া ভালো থাকলেও, তিন-চার দিন লাগবে।’

পানি নামার পর কাঁচা ঘরটি পড়ে যায় কি না, এ আতঙ্কে আছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘পানি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে (শুক্রবার দুপুর ১২ টায়) বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও চেরাপুঞ্জিতে কম হয়েছে। মাত্র ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জে হয়েছে মাত্র দুই মিলিমিটার।’

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিন আবহাওয়া ভালো থাকবে। হালকা থেকে মাঝারি ছাড়া বড় কোন বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ সজীব আহমদ বলেন, একেবারে নিরাপদ হয়ে গেছে সিলেট জোন এটা বলা যাবে না, তবে অনেকটাই নিরাপদ হয়ে গেছে। অবনতির আশঙ্কাও কম।

অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিধ সাইদ আহমদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেটে আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ছাড়া ভারি কোনো বৃষ্টি হবে না।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka Tangail Bangabandhu highway is crowded with cars but there is no traffic jam
ঈদের ছুটি শেষে ফিরছে মানুষ

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ির চাপ, তবে নেই যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ির চাপ, তবে নেই যানজট ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেতু পূর্ব ও পশ্চিমে ৩১ হাজার ২০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এর বিপরীতে দুই কোটি ৫৯ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে ফের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহনের চাপ। বাড়ি যাওয়ার পথে কখনও যানজট, কখনও ভোগান্তি ও কখনও ধীরগতি এবং আবার কখনও ছিল স্বস্তি, তবে ঢাকায় ফেরা ব্যাপক স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেলে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে হাতিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ছিল, তবে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও যানবাহন যানজট নেই। অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে এ সময়।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত সিএনজি চালকরা কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ভূঞাপুরের মোতালেব মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষ, শনিবার সকাল থেকে অফিস। তাই আজই চলে যেতে হচ্ছে, কিন্তু সেতু পূর্ব থেকে গাজীপুর চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। কী আর করার যেতে হবেই। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০০ টাকা বেশি, তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট দেখতে পাচ্ছি না।’

কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। ঈদের আগে মহাসড়কের সেতু পূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা বিলম্বে পড়তে হয়েছে, কিন্তু ঢাকায় ফিরতে পথে এই অংশে কোনো ধরনের যানজট নেই, তবে মহাসড়কে কিছু কিছু এলাকায় ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। তা ছাড়া স্বস্তিতেই গাড়ি চালাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। মহাসড়ক ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী সকল যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেতু পূর্ব ও পশ্চিমে ৩১ হাজার ২০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এর বিপরীতে দুই কোটি ৫৯ লাখ পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক ও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চাপ
১০ লেনে উন্নীত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ঝড়ে গাছ উপড়ে আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ গজারিয়ায়
ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা হতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে ৪ লেন চালু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If he got money he would make birth registration of Rohingyas
কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউপি সচিব গ্রেপ্তার

টাকা পেলেই রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিতেন তিনি

টাকা পেলেই রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিতেন তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউপির সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, পর্যাপ্ত টাকা পেলে ইউপি সচিব যে কারও যে কোনো অসংগতিপূর্ণ ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দেন। এমন কাজে সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা যুবকের জন্য জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিতেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের নিমাইকান্দি এলাকা থেকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ইসমাইল কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গুনাইনন্দী গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেস বড়ুয়া বলেন, ‘ইউপি সচিব ইসমাইলকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে এক রোহিঙ্গা যুবককে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।’

ঘটনা আলোচনায় যেভাবে

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে মো. ইয়াছিন নামে ১৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা। সে মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। বাংলাদেশে আসার পর কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৯ নম্বর ব্লকে থাকতো সে।

ইয়াসিন ১৫ ফেব্রুয়ারি পাসপোর্ট তৈরির জন্য মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া পরিচয়ে জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যায়। এ সময় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন জানায়, তার চাচাতো ভাই উসমান কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মদিনা ট্রাভেলসের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ নামে দুই দালালের সঙ্গে পাসপোর্ট করার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ওই দুজন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনের সব কাগজপত্র তৈরি করে দেয়।

গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সে সময় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা যুবক কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেছে তা তদন্তে নামে তারা।

তদন্তে ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পান গোয়েন্দারা। তথ্য অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার ইউপি সচিব ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, বৈধভাবে অনেকেই জন্মনিবন্ধন বানাতে পারে না। অথচ পর্যাপ্ত টাকা পেলে ইউপি সচিব যে কারও যে কোনো অসংগতিপূর্ণ ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দেন। এমন কাজে সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকের জন্মবিন্ধন বানানোর ঘটনা ঠিক নয়। আইডি হ্যাক হয়েছে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’

মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা যুবকের জন্মনিবন্ধন তৈরি সংক্রান্ত সরকারি মামলায় ইউপি সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 people including a medical student died in a boat sinking in Sherpur

শেরপুরে নৌকা ডুবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীসহ ২ জনের মৃত্যু

শেরপুরে নৌকা ডুবে মেডিক্যাল  শিক্ষার্থীসহ ২ জনের মৃত্যু প্রাণ হারানো মোশাররফ হোসেন মিল্টন। ছবি: সংগৃহীত
ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন মিল্টন ঈদের ছুটিতে এসেছিল। আজ কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকা দিয়ে বাড়ির পাশে নিচু জায়গায় জমে থাকা পাহাড়ি ঢলের পানি দেখতে যায় তারা। এ সময় হঠাৎ নৌকা উল্টে গেলে পানিতে ডুবে মিল্টন ও আমানউল্লাহ মারা যায়।’

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নৌকা ডুবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দুলি গ্রামে শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো দুইজন হলেন কান্দুলি গ্রামের সুরহাব মিয়ার ছেলে ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোশাররফ হোসেন মিল্টন (২১) এবং একই এলাকার সাদা মিয়ার ছেলে ও ঝিনাইগাতী উপজেলার আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমানউল্লাহ আমান (২৩)। তারা দুইজন বন্ধু ছিলেন।

ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন মিল্টন ঈদের ছুটিতে এসেছিল। আজ কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকা দিয়ে বাড়ির পাশে নিচু জায়গায় জমে থাকা পাহাড়ি ঢলের পানি দেখতে যায় তারা। এ সময় হঠাৎ নৌকা উল্টে গেলে পানিতে ডুবে মিল্টন ও আমানউল্লাহ মারা যায়।

‘পরে স্থানীয়রা বাকি আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েকজন হতাহতের কথা শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
কবি অসীম সাহা মারা গেছেন
রাজধানীতে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা সোহাগ তালুকদার মারা গেছেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teesta and Dharla water above Bipatseema in Kurigram

কুড়িগ্রামে বন্যার অবনতি, বিপৎসীমার উপরে তিস্তা ও ধরলা

কুড়িগ্রামে বন্যার অবনতি, বিপৎসীমার উপরে তিস্তা ও ধরলা কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ ১৬টি নদীর পানি প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, দুর্যোগ কবলিত পরিবারে সংখ্যা প্রায় চার হাজার। পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ১৪৪ টন জিআর চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ ১৬টি নদীর পানি প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি হয়েছে।

শুক্রবার তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ফুলবাড়ির শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এতে করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি শুক্রবার জানান, বিকেল ৩টায় দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি সামান্য কমে এখন বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ধরলা নদীর পানি ফুলবাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অন্য সব নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে নদীর পানি বাড়ার কারণে তিস্তা ও ধরলা নদীসহ অন্যা নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন কাঁচা সড়ক। অনেককেই নৌকা এবং কলাগাছের ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বিভিন্ন এলাকায় ডুবে গেছে বাদাম, পাটক্ষেত, ভুট্টা, মরিচ ও শাক-সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল। এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষরা পড়েছেন বিপাকে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, দুর্যোগ কবলিত পরিবারে সংখ্যা প্রায় চার হাজার। পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ১৪৪ টন জিআর চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ওয়েস্ট রিজিওন) একেএম তাহমিদুল ইসলাম উলিপুরের বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, ‘একদিকে বন্যা আবার অন্যদিকে নদী ভাঙন এ জেলার জন্য দুর্ভাগ্য। এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট বড় ১৬টি নদ নদীর সবগুলোই ভাঙন প্রবন। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার সবচেয়ে বেশি ভাঙন প্রবন। নদী ভাঙন প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা নিরসনে কী কী উদ্যোগ নেয়া যায় তা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিবেচনা করবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ
হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
River water is decreasing in Sylhet improving the flood situation

সিলেটে নদীর পানি কমছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

সিলেটে নদীর পানি কমছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি সিলেটে এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে জেলার অধিকাংশ এলাকা। কোম্পানিগঞ্জে বন্যার ভয়াবহতা। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৯টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১৩৬টি পৌরসভা ও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার ১০ লাখ ৪৩ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে পানি কিছুটা কমায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সিলেটে বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢল থামায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সিলেটের সবক’টি নদীর পানি কমছে।

এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ পর শুক্রবার সিলেটে রোদের দেখা মিলেছে। দুপুর পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।’

সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে শুক্রবার দুপুরে পাওয়া তথ্যমতে, জেলার ১০ লাখ ৪৩ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৯টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১৩৬টি পৌরসভা ও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সিলেটে নদীর পানি কমছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যার দুর্ভোগ। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে পানি কিছুটা কমায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ২৫ হাজার ২৭৫ জন।

চলতি বছরে প্রথম দফার বন্যায় সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। আর দ্বিতীয় দফায় সিলেটের সব উপজেলার মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নামেনি। অবশ্য নগরের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার সকালে সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ও কানাইঘাট পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে কুশিয়ারা নদী আমলসীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ১ দশমিক ২ সেন্টিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানান, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেটের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। তবে আকাশে মেঘ রয়েছে। ফলে আগামী দুদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।

আরও পড়ুন:
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ
হাওরে বাড়ছে পানি, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

মন্তব্য

p
উপরে