× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Kalabaisakhi rampage in Feni hands on the heads of Boro farmers
google_news print-icon

ফেনীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বোরো চাষিদের মাথায় হাত

ফেনীতে-কালবৈশাখীর-তাণ্ডবে-বোরো-চাষিদের-মাথায়-হাত
ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি বিভাগ বলছে, ধান যেহেতু ৮০ শতাংশের মত পেকেছে সেক্ষেত্রে চিটার আশঙ্কা নেই, তবে শ্রমিক খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।

কালবৈশাখী ঝড়ে ফেনীতে নুয়ে পড়েছে কৃষকের পাকা বোরো ধান। কিছু স্থানে ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ধান যেহেতু ৮০ শতাংশের মত পেকেছে সেক্ষেত্রে চিটার আশঙ্কা নেই, তবে শ্রমিক খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা না গেলেও ধান দ্রুত মাঠ থেকে তুলে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের ষাটোর্ধ রফিকুল ইসলাম। নিজে গায়ে খেটে অন্যের ৮০ শতক জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেছিলেন বোরো ধান।

তার দাবি, সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে হাজার পঞ্চাশের মতো। আশা করেছিলেন, পাকা ধান ঘরে তুলে তৃপ্তির হাসি হাসবেন, কিন্তু তা আর হলো না। কালবৈশাখী ঝড় ও তুমূল বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে তার ধান, হয়ে পড়েছে জলমগ্ন। এখন অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারে কি না, তা নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়।

ফেনীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বোরো চাষিদের মাথায় হাত

এমন চিত্র শুধু কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতেই নয়। জেলার সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম ও দাগনভূঞাঁর আরও বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো বৃষ্টিতে ধানের এমন ক্ষতি হয়েছে। মাঠের ধান নিয়ে দিশেহারা কৃষকদের।

আবুল হোসেন নামের আরেক কৃষক জানান, তিনি ১২০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ধান পুরোপুরি পাকেনি, এর মধ্যেই বৃষ্টির কারণে নুয়ে পড়েছে। ৪০ শতাংশ ধানও তুলতে পারবেন কি না জানেন না তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক একরাম উদ্দিন বলেন, ‘ধানে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৩৫ শতাংশের মত ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বলা হয়েছে পানি নামানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।’

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। নিরাপদে মাঠ থেকে ধান তুলে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারধ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ২৭৭ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮২০ টন।

আরও পড়ুন:
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ২ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অর্ধশতাধিক গ্রাম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Big Boss King Tiger Bullet and Rock are coming to shake the market

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক

বাজার কাঁপাতে আসছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাজার ধরতে নানা বাহারি নামে গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন মৌলভীবাজারের খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামারে শুরু হয়ে গেছে আগাম বেচাবিক্রি। খামারিরা জানিয়েছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো দামে গরু বিক্রির আশা করছেন তারা।

লাভজনক হওয়ায় দেশে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গরুর খামার। প্রতি বছরই নতুন নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে খামার ব্যবসায়। সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। এমনই এক সফল খামারি হচ্ছেন জুড়ী উপজেলার মেসার্স সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ছেনু।

বাবা মৃত বজলু মিয়ার হাতে গড়া খামারটির বয়স এখন শত বছরের ওপরে। ছেনুর বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা খামারের হাল ধরেন। এ খামারে বর্তমানে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৬৫টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে ক্রেতাদের মন জয় করতে এ খামারে গড়ে তোলা হয়েছে বিগবস, বাদশা, টাইগার, বুলেট ও রক নামের পাঁচটি গরু। এসব গরু দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম ছেনু জানান, মূলত কোরবানির বাজার ধরতে অনেক আগে থেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদে ভালো মুনাফা পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছোটবড় মিলিয়ে ৬৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পাঁচটি গরুর আচরণকে কেন্দ্র করে নানা বাহারি নামে ডাকা হচ্ছে। এগুলো দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাচ্ছি আমরা।’

জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমাপদ দে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় দিনকে দিন বাড়ছে কোরবানির পশুর চাহিদা। সেইসঙ্গে বেড়েছে খামারের সংখ্যা। উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে।

ঈদের আগে খামারগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা না করতে পারে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, চাহিদামতো জেলায় ৯৬ হাজার ৭২৮টি গবাদিপশু লালনপালন করে প্রস্তত করা হয়েছে। এ বছর বাইরের দেশ থেকে কোনো পশু না ঢুকলে খামারিরা ভালো দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
ডিএনসিসির পশুর হাটে নিরাপদ ‘ক্যাশলেস’ লেনদেনের আশা মেয়রের
নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
‘সাদা পাহাড়ের’ ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৬ লাখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
26 cows of a farm died after eating grass in Netrakona

নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু

নেত্রকোণায় ‘ঘাস খেয়ে’ এক খামারের ২৬ গরুর মৃত্যু এতগুলো গরুর মৃত্যুতে হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারের মালিক জাহেরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টির দিনে কচি ঘাসে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে। এসব কাঁচা ঘাসের নাইট্রেট বিষক্রিয়ায় গরুগুলো মারা যেতে পারে।

নেত্রকোণার পূর্বধলায় নেপিয়ার ঘাস খেয়ে ২৬টি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের তাহযীদ অ্যাগ্রো ফার্মে গত শনি থেকে সোমবারের মধ্যে ২৪টি গরুর মৃত্যু হয়। এরপর বুধবারে আরও দুটি গরু মারা গেছে।

এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতগুলো গরুর মৃত্যুতে হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারের মালিক জাহেরুল ইসলাম।

জাহেরুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় কাঁচা নেপিয়ার ঘাস খাওয়ানোর পরই তার গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে তাদের মৃত্যু হয়।

গরুগুলো ঈদে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি জানান, এতে তার অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকজন ইতোমধ্যে ওই খামারটি পরিদর্শন করেছেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টির দিনে কচি ঘাসে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে। এসব কাঁচা ঘাসের নাইট্রেট বিষক্রিয়ায় গরুগুলো মারা যেতে পারে।

এ অবস্থায় গরুকে ‘শুধু কাঁচা ঘাস’ দেয়া থেকে খামারিদের বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে পূর্বধলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম এম এ আউয়াল তালুকদার বলেন, ‘ঘাসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলো পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ওই খামারির সঙ্গে আমাদের মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছে এবং চিকিৎসা দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
‘রাজা বাবু’র দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা
ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট বসছে বৃহস্পতিবার থেকে
মাদারীপুরে খামারে আগুন, পুড়ে মরল ১৩ গরু
১৭ মণ ওজনের ‘স্বপ্ন’কে নিয়েই নিপার স্বপ্ন
কোরবানির আগে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়েছে গরু পাচার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Perennial litchi cultivation by watching YouTube

ইউটিউব দেখে বারোমাসি লিচুর চাষ

ইউটিউব দেখে বারোমাসি লিচুর চাষ রাজশাহীতে মফিজুল ইসলাম ডলারের বাগানে চাষ হচ্ছে বারোমাসি লিচু। ছবি: নিউজবাংলা
মফিজুল জানান, ১৫ বছর আগে ইউটিউবে তিনি চীনের বারোমাসি লিচুর একটি প্রজেক্টের ভিডিও দেখেন। তখন থেকেই তিনি বারোমাসি লিচুর উৎপাদন করার চেষ্টা শুরু করেন। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর তিন বছর আগে তার বারোমাসি লিচুর গাছে ফলন আসে।

গাছে একদিকে পাকবে লিচু, আরেক দিকে আসবে মুকুল। ফলটি পরিপক্ব হতে থাকবে। সব সময় গাছে ঝুলবে থোকায় থোকায় লিচু।

এরকম এক জাতের বারোমাসি লিচু চাষ করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের চাষি মফিজুল ইসলাম ডলার।

মফিজুল জানান, ১৫ বছর আগে ইউটিউবে তিনি চীনের বারোমাসি লিচুর একটি প্রজেক্টের ভিডিও দেখেন। তখন থেকেই তিনি বারোমাসি লিচুর উৎপাদন করার চেষ্টা শুরু করেন। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর তিন বছর আগে তার বারোমাসি লিচুর গাছে ফলন আসে। সেই থেকে প্রতি বছর বারোমাসি লিচুর গাছে সারা বছর লিচু ধরছে। এখন তিনি এই গাছ থেকে কলম করে চারা উৎপাদনের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ১০ বছরের গাছে প্রায় ১০ হাজার লিচু ধরবে। মৌসুমের বাইরে ফল আসায় দামও পাওয়া যাবে চার থেকে পাঁচ গুণ। সারা বছর উৎপাদন হওয়ায় কৃষক সারা বছরই টাকা আয় করতে পারবে। উৎপাদন খরচও সামান্য।’

মফিজুল ইসলাম ডলারের প্রতিবেশী এবং যারা এ নতুন জাতের লিচু খেয়েছেন তারা জানান, এ লিচু বেশ সুস্বাদু। স্বাদ অনেকটা বোম্বাই লিচুর মতো। সব সময়ই এই গাছে লিচু পাওয়া যায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সাবিনা বেগম জানান, ‘বারোমাসি জাতের লিচু উদ্ভাবনের উদ্যোগ আশাব্যাঞ্জক। সারা বছর লিচু উৎপাদন হলে কৃষক লাভবান হবে। কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে। কৃষককে কী কী সহায়তা করা যায় এবং এই জাতকে কীভাবে আর উন্নত করা যায় তা খতিয়ে দেখা হবে।’

ফল গবেষক ও রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমীল উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের লিচু উৎপাদন দেশে এটাই প্রথম। অসময়ে লিচুর উৎপাদন নতুন আশা জাগায়।

এটা নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করে কৃষককে সহযোগিতা করতে হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
মেহেরপুরের বাজারে রসালো লিচু, দাম কিছুটা বেশি
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি
শঙ্কা কাটিয়ে গমের বাম্পার ফলন মেহেরপুরে, দামও ভালো
রঙিন ফুলকপি চাষে সাড়া ফেলেছেন আশরাফুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Desert sammam cultivation in the Garo Hills

মরুভূমির সাম্মাম চাষ গারো পাহাড়ে

মরুভূমির সাম্মাম চাষ গারো পাহাড়ে ইউটিউব দেখে গারো পাহাড়ে মরুভূমির ফল সাম্মাম চাষ করেছেন শেরপুরের আনোয়ার। ছবি: নিউজবাংলা
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার জানান, গারো পাহাড়ের মাটির একটি বিশেষ গুণ রয়েছে, এখানে পানি আটকে থাকে না। তাই এখানে সাম্মাম বা রকমেলন জাতীয় ফলগুলো চাষ ভালো হবে। গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে সাম্মাম চাষ স্থানীয় কৃষকদের আকৃষ্ট করছে।

ইউটিউব দেখে গারো পাহাড়ে মরুভূমির ফল সাম্মাম চাষ করেছেন শেরপুরের আনোয়ার। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে এ ফল চাষ করে সফল হওয়ায় এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম চাষ সফলতা পেয়েছেন।

সুস্বাদু ফল সাম্মাম। এটি মূলত উচ্চ ফলনশীল ফল। দেখতে অনেকটা বাতাবি লেবুর মতো হলেও ভেতরে অনেকটা তরমুজের মতো। মূলত ফলটি মরুভূমিতে হয়ে থাকে।

মরুভূমির সাম্মাম চাষ গারো পাহাড়ে

আনোয়ারের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সুতা দিয়ে বানানো মাচায় ফুলে-ফলে ভরপুর হয়ে আছে সাম্মাম। বিভিন্ন আকারের কাঁচা-আধাপাকা কয়েকশ ফল ঝুলছে ও মাটিতে আছে। সবুজ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করছে বেশ কিছু ফল। গাছের গোড়ার অংশের মাটি মালচিং পেপার দিয়ে ঢাকা।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গোমড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন। পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় বেসরকারি একটি সংস্থাতে চাকরি নেন। চাকরির সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। অবশেষে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন।

তিনি জানান, বাড়ি ফিরে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত হন। এরপর চিন্তা করেন ব্যতিক্রম কিছু চাষাবাদের। বাবা মোজাম্মেল হকের সহযোগিতা নিয়েই শুরু করেন এ ফলের চাষ। গত বছর ইউটিউব দেখে নিজের ১০ শতাংশ জমিতে সাম্মাম চাষ করেছিলেন। বীজসহ সবকিছু মিলিয়ে তখন খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা।

প্রথম বছরেই ফল বিক্রি করে দুই গুনেরও বেশি টাকা লাভ হয় বলে জানান আনোয়ার। আর তাই এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ৩৩ শতাংশ জমিতে সাম্মাম চাষ করেন তরুণ এ কৃষি উদ্যোক্তা।

ইতোমধ্যে ক্ষেতে এসেছে কাঙ্ক্ষিত ফল। ফল বিক্রিও শুরু করেছেন তিনি। তার আশা এবার লক্ষাধিক টাকার ওপরে লাভ করবেন।

ফলটির দুটি জাত লাগিয়েছেন আনোয়ার। ফলের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরের অংশ হলুদ। খেতে খুব মিষ্টি ও রসালো। প্রতিটি সাম্মাম দুই কেজি পর্যন্ত ওজন হচ্ছে।

সাম্মাম চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রকমেলন (সাম্মাম) মধ্যপ্রাচ্যের ফল। এটা খুব সফট একটা ফল। এটা আমি আগের বছর প্রথমবার ইউটিউব দেখে চাষ করেছিলাম। অভিজ্ঞতার কিছুটা অভাব থাকায় সে বছর বেশি লাভ করতে পারি নাই। পরে ঝিনাইগাতী কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জৈব উপায়ে চাষাবাদ করে আমি এবার লাভ বেশি করতে পারছি।

‘আমি এবার ৩৩ শতাংশ রকমেলন লাগিয়েছি। যে পরিমাণ ধরেছে, প্রথমবার ঢাকার বাজারে তুলেই অনেকটা লাভবান হতে পারছি।’

আনোয়ারের বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমার ছেলে আনোয়ার এ ফল চাষ করেছে। আমি এ বাগানের দেখাশোনা করি। আর ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। আমরা এ ফল চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমার ছেলে চাকরির চেয়ে বাড়িতে থেকে এ ফল চাষ করেই ভালো সফলতা পাচ্ছে।’

ভিন দেশি রসালো ফল উৎপাদনের খবরে প্রতি দিন তার ক্ষেত দেখতে এসে এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন আশপাশের কৃষকরা।

কৃষক খাইরুল বলেন, ‘আমার অনেক জমিন খালি পরে আছে। যদি কৃষি অফিস আমাকে সাহায্য করে আমিও এই ফল লাগামু।’

কৃষক মেহেদী বলেন, ‘আমি তো আমার জমিতে সবজি লাগাই, কিন্তু এই ফলডা মেলা লাভ। দামও অনেক। ২০০ টাকা কেজি। আমিও এ ফল চাষ করমু সামনের বার।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, ‘রকমেলন বা সাম্মাম একটি উচ্চমূল্যের বিদেশি ফসল, গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে চাষাবাদ হচ্ছে। বৃহওর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় আমরা একটি প্রদর্শনী দিয়েছিলাম।

‘গত বছরে একই কৃষক ফসলটি চাষ করেছিলেন। তিনি চাষাবাদ করে লাভবান। অন্য কোন কৃষি উদ্যোক্তা যদি রকমেলন চাষে আগ্রহী হন, তাহলে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেয়া হবে।’

ফলটির চাষ সম্প্রসারণ করলে স্থানীয় কৃষকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি অন্যদিকে পুষ্টিচাহিদা পূরণে ও বাজারে নতুন ফলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই জানালেন এ কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, গারো পাহাড়ের মাটির একটি বিশেষ গুণ রয়েছে, এখানে পানি আটকে থাকে না। তাই এখানে সাম্মাম বা রকমেলন জাতীয় ফলগুলো চাষ ভালো হবে। গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে সাম্মাম চাষ স্থানীয় কৃষকদের আকৃষ্ট করছে।

আরও পড়ুন:
রঙিন ফুলকপি চাষে সাড়া ফেলেছেন আশরাফুল
বরইয়ে আগ্রহ বাড়ছে বরুড়ায়
‘যারা কলা গাছ কেটেছে, তারা আমার সন্তানের গলা কেটেছে’
কুয়াশা থেকে বাঁচাতে বীজতলায় পলিথিন
মাগুরায় স্কোয়াশ চাষে বাড়ছে আগ্রহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mango planting has started in Naogaon

নওগাঁয় আম পাড়া শুরু

নওগাঁয় আম পাড়া শুরু জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী বুধবার থেকে গুটি জাতের আম পাড়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে নওগাঁ জেলারর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। ছবি: নিউজবাংলা
এ বছর নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়ে কৃষি বিভাগ বলছে, এ ছাড়াও এক হাজার টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী নওগাঁর বাগানগুলো থেকে গুটি জাতের আম নামানোর মধ্যে দিয়ে এ মৌসুমের আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।

বুধবার থেকে প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আম পাড়া শুরু হয়।

গুটি আম পাড়া শুরু হলেও উন্নতজাতের আম বাজারে আসবে আরও কিছুদিন পর। জাতভেদে আম নামানোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী আগামী ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন থেকে ক্ষিরসাপাত ও হিমসাগর, ৫ জুন থেকে নাক ফজলি, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাড়িভাঙা, ২০ জুন থেকে আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে ফজলি এবং আগামী ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১, গৌড়মতি ও কাটিমন আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নওগাঁয় আম পাড়া শুরু

এ বছর নওগাঁ জেলা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়ে কৃষি বিভাগ বলছে, এ ছাড়াও এক হাজার টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৩৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ হয়েছে। এসব বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করেছেন চাষিরা। নওগাঁ থেকে এ বছর অন্তত ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি অফিস।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আজকে থেকে স্থানীয় গুটি জাতের আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ নির্ধারণ করে দেয়া ছিল। সেই সময় অনুযায়ী চাষিরা গুটি আম নামাবেন। এ ছাড়াও উন্নত জাতের যেসব আম আছে সেগুলো বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিপক্ব ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল উপাদানমুক্ত আম নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে যদি কোনো বাগানে আম পেকে যায়, তাহলে চাষিরা সেগুলো নামাতে পারবেন।’

সেক্ষেত্রে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে জানাতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন
নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
15 more days to get Chapai mangoes

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে আম পাড়া ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি। ছবি: নিউজবাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাগানগুলোতে এ বছর কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। তাই এই জেলার সুস্বাদু আমের স্বাদ নিতে ভোক্তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে পেতে হলে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শুরু হলেও আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোর চিত্র ভিন্ন। আমের গায়ে রং চড়েনি। পাকেনি এই সুস্বাদু রসালো ফল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাগানগুলোতে এ বছর কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। তাই এই জেলার সুস্বাদু আমের স্বাদ নিতে ভোক্তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে পেতে হলে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের আগাম প্রস্তুতি শেষ করছেন ব্যবসায়ীরা। গাছ থেকে আম পেড়ে রাখার জন্য তৈরি হচ্ছে কুড়ে ঘর। সে সঙ্গে গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা আমের শেষ মহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা আমে এখনও রং চড়েনি। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের স্বরূপনগর এলাকায় একটি আম বাগানে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা গাছে থাকা শুকিয়ে যাওয়া আমের গুটি ও মরা পাতা ঝরিয়ে ফেলছেন। শ্রমিকরা জানান, বৃষ্টি হলে শুকিয়ে যাওয়া আমগুলোতে পচন ধরবে। তখন তা টিকে থাকা অনান্য আমে দাগ ধরাবে। ফলে আমের রং নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তারা শুকিয়ে যাওয়া আমগুলো ঝরিয়ে দিচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুটি জাতের আম মে মাসের শেষে গাছে পাকতে শুরু করতে পারে। আর জিআই সনদপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে উঠবে।

চাঁপাইয়ের আম পেতে আরও ১৫ দিন
বাগানগুলোতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যার ফাঁকে একটু জিরিয়ে নেয়া। ছবি: নিউজবাংলা

ভোক্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও আম পাকা দেখা যায়নি। তাই কেউ চাঁপাইয়ের আম বলে দেশের কোথাও আম বিক্রি করলে সেটি হবে বিভ্রান্তিকর।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিপক্ব আম যেন বাজারে ওঠে সে লক্ষ্যে আম ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ ও ফল গবেষকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভা করবে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে
নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে
আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Naogaon mangoes will be available in the market from May 22

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি আম বাগানের দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
২২ মে থেকে বাজারে নওগাঁর আম আসা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে।

বরেন্দ্র জেলা নওগাঁর আমচাষিদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামী ২২ মে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে জেলার আম বাজারজাতকরণ কার্যক্রম শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি অফিস।

চাষিরা বলছেন, এ বছর প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরায় আম বাগানের যত্ন ও পরিচর্যায় খরচ অনেক বেশি হয়েছে। তাই আম বিক্রিতে বিগত বছরের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নওগাঁর গুটি বা স্থানীয় জাতের আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ মে। এরপর ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন থেকে ক্ষিরসাপাত ও হিমসাগর, ৫ জুন থেকে নাক ফজলি, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাড়িভাঙা, ২০ জুন থেকে আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে ফজলি এবং আগামী ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১, গৌড়মতি ও কাটিমন আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর জেলার ৩৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ হয়েছে। এসব বাগানে ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করেছেন চাষিরা। নওগাঁ থেকে এ বছর অন্তত ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি অফিস।

জেলায় যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে শুধু আম্রপালি চাষই হয়েছে মোট জমির ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশে।

বাগান মালিকদের ভাষ্য, বছরের শুরুতে প্রচণ্ড শীত থাকায় গাছে মুকুল আসতে ১৫-২০ দিন দেরি হয়েছে। পরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মুকুল ও আমের গুটির ক্ষতি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে দুবার বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক উপকারও হয়েছে।

চাষিরা জানান, বরেন্দ্র এলাকা হওয়ায় এমনিতেই পানিস্বল্পতা সমস্যা থাকে প্রতি বছর। বৃষ্টির কারণে যেসব বাগানে সেচের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলোতে সেচও কম লেগেছে।

নওগাঁর আম বাজারে আসবে ২২ মে থেকে

কৃষি অফিস বলছে, বরেন্দ্র এলাকার আম দেশের অন্যান্য এলাকার আমের তুলনায় সুস্বাদু। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এ জেলার আম্রপালি আমের চাহিদা থাকে দেশজুড়ে। তাই এ বছর জেলার ৬০ শতাংশ বাগানেই আম্রপালির চাষ হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জেলার আম সরবরাহ হয়ে থাকে। শুধু তা-ই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়াচ্ছে নওগাঁর আম।

২২ মে থেকে বাজারে নওগাঁর আম আসা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে।

সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি নুরুজ্জামান বলেন, ‘আম চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই এখানে বাগানের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যবার আমের মুকুল থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত বিঘাতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়। তবে এ বছর খরার কারণে আরও ৪-৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খরায় আমের গুটি পড়ে গেলেও যা ছিল, তা আকারে অনেক বড় হয়েছে। তাই গাছে আমের পরিমাণ কম হলেও দাম ভালো পেলে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমচাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার আম উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো দামও পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আম্রপালি, বারি ও ব্যানানা জাতের আম বাগানের পরিমাণ বেড়েছে। রপ্তানি পরিসর বাড়াতে উত্তম কৃষিচর্চায় কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আমের প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
নাটোরের আম লিচু মিলবে যেদিন থেকে
আমের বোঁটায় মুকুলের বাহার
দাবদাহ বাড়াচ্ছে পানির সংকট, আম-লিচু চাষিদের মাথায় হাত
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি

মন্তব্য

p
উপরে