× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The body of an unidentified teenager with his throat cut on the side of the road
google_news print-icon

সড়কের পাশে অজ্ঞাত কিশোরের গলা কাটা মরদেহ

সড়কের-পাশে-অজ্ঞাত-কিশোরের-গলা-কাটা-মরদেহ
টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী জানান, নিহত কিশোরের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পরিচয় জানতে পারলে হত্যার কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে অজ্ঞাত এক কিশোরের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাহেরপাড়া এলকায় টঙ্গীবাড়ী-মুক্তাপুর সড়কের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ।

নিহতের পরনে ছিল হাফহাতা গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট। স্থানীয় লোকজনের ধারণা দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলেই কিশোরটিকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে এলাকার কেউ তাকে চেনে না।

টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী জানান, নিহত কিশোরের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পরিচয় জানতে পারলে হত্যার কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Wasims mother is not stopping crying
কোটা সংস্কার আন্দোলন

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না কক্সবাজারের চকরিয়ায় গ্রামের বাড়িতে অঝোরে কাঁদছেন ওয়াসিমের মা ও অন্য স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা
কক্সবাজারের পেকুয়ায় গ্রামের বাড়িতে ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম আহাজারি করতে করতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত রাতিয়া আর পোয়া হইয়েদে; অমা চিন্তা নগরিওন,এক বছর পর চরি গরিলে বেজ্ঞিন ঠিক অইযাইবই। আজিয়া আঁর পোয়ারে মারি ফেলাইয়ে। আঁর পোয়ারে যাঁরা মাইজ্জে ইতারার ফাঁসি চাই।’

লেখাপড়ার পর্ব প্রায় শেষ। এক বছর পরে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরার আশ্বাস দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় চিরতরে হারিয়ে গেছেন এই টগবগে তরুণ।

নিহত ওয়াসিমের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সন্তানকে নিরাপদ স্থানে গিয়ে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বলেছিলেন মা জোসনা। দীর্ঘক্ষণ কথোপকথনে ওয়াসিম তার মাকে আশ্বস্ত করেন- একবছর পরই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে চাকরি করবেন। তখন তাকে ঘিরে পরিবারের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। আর পরদিনই পেলেন সন্তানের মৃত্যুর খবর।

ওয়াসিমের এমন নির্মম মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কোটা সংস্কার দাবিতে চট্টগ্রামে চলমান আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ওয়াসিম। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত হন ওয়াসিম। তার মরদেহ বুধবার নিজ গ্রামে আনা হয়। পেকুয়া মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকাহত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত মোহাম্মদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম সৌদি আরব প্রবাসী। মা জোসনা বেগম গৃহিণী। ওয়াসিম পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। বড় ভাই আরশেদ আলী সৌদি আরব প্রবাসী। বড় বোন মর্জিনা আকতারের বিয়ে হয়েছে। এক ছোট বোন রুশনি আকতারেরও বিয়ে হয়েছে। সবার ছোট সাবরিনা ইয়াসমিন পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

স্বজনরা জানান, মোহাম্মদ ওয়াসিম মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি, ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৯-২০ সেশনে চট্টগ্রাম কলেজে থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হয়ে চতুর্থ বর্ষে পড়ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠিরা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ওয়াসিম ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার ফেসবুক ঘেঁটেও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াসিমের বাড়ির উঠানে শোকার্ত মানুষের ভিড়। ওয়াসিমের চাচা রিদুয়ানুল হক আহাজারি করে মাঠিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। তাকে কয়েকজন সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। পাকা বাড়িটির ভেতরে ওয়াসিমের মা-বোন ও স্বজনদের আহাজারি চলছে।

ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত রাতিয়া আর পোয়া হইয়েদে; অমা চিন্তা নগরিওন,এক বছর পর চরি গরিলে বেজ্ঞিন ঠিক অইযাইবই। আজিয়া আঁর পোয়ারে মারি ফেলাইয়ে। আঁর পোয়ারে যাঁরা মাইজ্জে ইতারার ফাঁসি চাই।’

ওয়াসিমের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্র্রথমে ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পান। আহাজারি করে তিনি বলে, ‘আমার ভাই কোনো অপরাধ করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেছে। তাই বলে এভাবে মেরে ফেলতে হবে? এই দেশে কি কোনো বিচার নেই? আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। চাকরি করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে বলেছিল। কিন্তু তারা সব শেষ করে দিছে।’

স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘ওয়াসিম ছোটবেলা থেকে ডানপিটে ছিলেন। কোনো অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতেন। সবসময় সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখতেন।’

মোহাম্মদ ওয়াসিমের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, নিহত হওয়ার ছয় ঘণ্টা আগে তিনি স্ট্যাটাস দেন- ‘চলে আসুন ষোলশহর।’

১৮ ঘণ্টা আগে তিনি লাঠিসোটা হাতে কিছু যুবকের সঙ্গে সেলফি তুলে পোস্ট দেন- ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়ে শহিদ হব।’

এদিকে ওয়াসিম নিহত হওয়ার খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদী রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ‘ওয়াসিম মরলো কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ নানা স্লোগানে মিছিলটি পেকুয়া চৌমুহনীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরও পড়ুন:
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Infiltration of 5 Rohingya including women by sea in Teknaf

টেকনাফে সাগরপথে নারীসহ ৫ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

টেকনাফে সাগরপথে নারীসহ ৫ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ার ঘাটে এসে নামেন পাঁচ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। ছবি: নিউজবাংলা
বাহারছড়া ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আলিপাড়ার বাসিন্দা। তারা সীমান্তের ওপারে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ট্রলারে ওঠেন। এপারে ঘাটে পৌঁছার পর ট্রলার রেখে দালালরা পালিয়ে গেছে।

মিয়ানমার থেকে ট্রলারযোগে বঙ্গোপসাগর হয়ে দুই নারীসহ পাঁচ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া সমুদ্র উপকূলে পৌঁছার পর তাদেরকে বুধবার বিকেল ৩টায় আটক করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

বাহারছড়া ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, স্থানীয় জনগণের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীপাড়ার ঘাটে এসে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আলিপাড়ার বাসিন্দা। তারা সীমান্তের ওপারে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ট্রলারে ওঠেন। এপারে ঘাটে পৌঁছার পর ট্রলার রেখে দালালরা পালিয়ে গেছে।’

এসব রোহিঙ্গারা হলেন- আলিপাড়ার হারুনের ছেলে এনামুল হাছান, একরাম উল্লাহর ছেলে মোশাররফ, একরামের স্ত্রী ওমমুল কাইর, একরামের ছেলে মোফশশর ও আবু বক্করের স্ত্রী শাহনাজ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। অনুপ্রবেশকারী পাঁচ রোহিঙ্গাকে বিজিবি হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ট্রলারটি জব্দ করা হয়েছে।

‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী ট্রলার মালিক, চালকসহ দালালদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক ছমি উদ্দিন বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান পাঁচ রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশকালে আটক করার বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তমতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা যুবক নিহত
রাখাইনে সংঘাত, সীমান্তে ফের জড়ো হচ্ছে রোহিঙ্গারা
টাকা পেলেই রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে দিতেন তিনি
উখিয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে রোহিঙ্গা যুবককে গুলি করে হত্যা
সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hundreds of thousands of accused in 4 cases in Chittagong clash

চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার

চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা চট্টগ্রাম নগরীর মহাসড়ক বুধবার ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় নগরীর দুই থানায় চারটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করেছে। এতে আসামি করা হয়েছে কয়েক হাজার ব্যক্তিকে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাঁচলাইশ থানায় তিনটি এবং খুলশী থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আরও কয়েকটি মামলা হবে।’

গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসামিদের বেশিরভাগই অজ্ঞাত। তাই ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলমান।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে জড়ো হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর থেকেই ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিছিলটি মুরাদপুর এলাকায় পৌঁছলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে তিনজন নিহত হন। আহত হন ৭৬ জন। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংঘর্ষে নিহত তিনজনের মধ্যে ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকার শফিউল আলমের ছেলে। অপরজন ফারুক পথচারী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করতেন। আরেকজন চট্টগ্রাম নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ শান্ত।

আরও পড়ুন:
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২
কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার
ঢাবির হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে পুলিশ
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
12 injured in jamalpur road and railway blockade clash
কোটা সংস্কার আন্দোলন

জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২ জামালপুরে আন্দোলনরত শিক্ষাথীরা বুধবার রেলপথ অবরোধ করলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ট্রেনে হামলা, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ট্রেনে হামলার ঘটনায় ট্রেন চালক ও শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী এবং ছাত্রলীগের হামলায় ১০ থেকে ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ট্রেনে হামলা, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ট্রেনে হামলার ঘটনায় ট্রেন চালক ও শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী এবং ছাত্রলীগের হামলায় ১০ থেকে ১২ জন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জামালপুর শহরের মির্জা আজম চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এখানে জড়ো হতে থাকে।

সমবেত শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা এবং প্রাণহানির প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা জামালপুরের সঙ্গে মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

এছাড়াও কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা পড়েন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা সড়ক অবরোধ তুলে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের শেখেরভিটা রেলক্রসিংয়ে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং রেলপথ অবরোধ করেন। এর কিছু সময় পর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন থামানোর জন্য মুহুর্মুহু পাথর নিক্ষেপ করে হামলা চালান আন্দোলনকারীরা। এ সময় ট্রেন চালকসহ অন্তত ১০ জন ট্রেনযাত্রী পাথরের আঘাতে আহত হন।

আধ ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে রাখার পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের দিকে অগ্রসর হন। কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তন্ময়ের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী মিছিলে হামলা করে। এতে ১০ থেকে ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন।

এদিকে কলেজের বাইরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজের ভেতরে অবরূদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়ায় আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। প্রায় দেড় ঘন্টা পর আন্দোলনকারীরা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ নেতারা বাইরে বেরিয়ে আসেন।

কলেজ ত্যাগ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের পাঁচরাস্তা হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গেইটপাড় এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা প্রধান সড়ক এবং জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-সরিষাবাড়ী রেলক্রসিংয়ে অবস্থান নিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে বন্ধ থাকে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল। গেইটপাড় এলাকায় দেড় ঘন্টা অবস্থান নেয়ার পর বিকেলে আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে তাদের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার
ঢাবির হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে পুলিশ
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bobby student shot during quota agitation

কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

কোটার আন্দোলনকালে ববি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদোয়ানের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। ছবি: নিউজবাংলা
নথুল্লাবাদ এলাকায় বুধবার কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শটগানের গুলি চালায়। এ সময় গুলি এসে লাগে রেদোয়ানের ঘাড়ে। আশপাশের মানুষের সহায়তায় তাকে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদোয়ান উল ইসলাম। তিনি ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিনি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোটা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি এসে লাগে রেদোয়ানের ঘাড়ে। আশপাশের মানুষের সহায়তায় তাকে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়।

রেদোয়ানের সহপাঠী বাসুদেব কর্মকার বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ কেন গুলি চালাবে? পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে রেদোয়ান। এমন অন্যায় হামলার আমরা যথাযথ বিচার চাই।

‘হামলা করে আমাদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ক্রাইম সিন ফিতা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, হল ছাড়তে হবে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shabi students announced that they will not leave the hall

হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার

হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার শাবিপ্রবিতে হল না ছাড়ার ঘোষণা আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের। ছবি: নিউজবাংলা
বেলা ২টায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবারের সংঘাতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে শাবিপ্রবির ফটকের সামনে গায়েবানা জানাযা পড়েন ‌আন্দোলনকারীরা। এরপর তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে তারা হলের বিশেষত ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালান। এসময় কক্ষগুলো থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেন শিক্ষার্থীরা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসন থেকে বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দিলেও তা মানেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এদিন সকালে সিন্ডিকেট সভা করে বিকেল ৩টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয় শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশনার পরপরই কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিকেল ৩টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতি দেন।

হল না ছাড়ার ঘোষণা শাবি শিক্ষার্থীদের, হলে হলে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার
শাবির হলে তল্লাশি চালিয়ে জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বেলা ২টায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবারের সংঘাতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে শাবিপ্রবির ফটকের সামনে গায়েবানা জানাযা পড়েন ‌আন্দোলনকারীরা। এরপর তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘হল কারো বাপের না, আমরা হল ছাড়বো না’, ‘এই ক্যাম্পাস আমাদের, আমরা ক্যম্পাস ছাড়বো না’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেথে দেবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা দেখে ভয় পেয়ে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। আমরা ক্যম্পাসে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এদিকে বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলগুলোতে তল্লাশি শুরু করেন। বিশেষত ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালান তারা। এসময় কক্ষগুলো থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও মদের খালি বোতল জব্দ করেন তারা। পরে এগুলো তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

তল্লাশিকালে ছাত্রলীগ নেতারা হলে ছিলেন না। এসময় হলের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের ছবি সম্বলিত প্লাকার্ড ও ফেস্টুন ছিঁড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

এই আন্দোলনের শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘আমরা রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী হল ছেড়ে চলে গেছেন। বাকিদের বুঝিয়ে হল ছাড়তে বলা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে পুলিশ
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ
জাবির রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্য অবরুদ্ধ
কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Utal Rabi Vice Chancellor blocked on five demands including banning student politics

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ রাবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দীর্ঘ আলোচনা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানান। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁদের পাঁচ দফা দাবির একটিও প্রশাসন মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরকে প্রশাসন ভবনে রেখে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাসের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লিখিতভাবে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ২টার মধ্যে এসব দাবির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে সময় বেঁধে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দীর্ঘ আলোচনা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দাবিতে উত্তাল রাবি, উপাচার্য অবরুদ্ধ

আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁদের পাঁচ দফা দাবির একটিও প্রশাসন মেনে নেয়নি। এজন্য প্রশাসনকে নতুন করে আরও এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদেরকে প্রশাসন ভবনে রেখে গেটে তালা দেন আন্দোলনকারীরা। এতে অরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-

১। ক্যাম্পাসে আজীবন সবধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই। লিখিতভাবে আজ বুধবার বেলা ২টার মধ্যে প্রভোস্ট স্যারদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। ক্যাম্পাসে কোনো সন্ত্রাসী যাতে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে।

২। হল ভ্যাকান্সি এবং ক্যাম্পাস ছুটির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। মেস মালিকদের চিঠি দিয়ে মেসগুলো খোলা রাখতে হবে। হলের সিট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে প্রভোস্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিট বরাদ্দ দেবেন।

৩। চলমান আন্দোলন নিয়ে যাতে কোনো মামলা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪। বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে প্রশাসনিকভাবে মিডিয়ার উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে কাম্পাসকে অস্ত্রমুক্ত করতে হবে।

৫. ছাত্রলীগের দখলকৃত রুমগুলোকে গণরুমে পরিণত করতে হবে।

নিহতদের স্মরণে রাবিতে গায়েবানা জানাজা

চলমান কোটা আন্দোলন ইস্যুতে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী জানাজায় অংশ নেন।

বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশে রাবিতে বিক্ষোভ

চলমান কোটা আন্দোলন ইস্যুতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন আবাসিক হল এবং মেস থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে লাঠিসোটা নিয়ে পদযাত্রা করেন। এসময় ছাত্রীদের হলে তালা দেয়ার খবর শুনে ছাত্রীহলের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে বেলা সোয়া ১১টায় হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে এলে একযোগে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর উপাচার্য বাসভবনে নেই খবরে দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘হল বন্ধ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘ভিসি কই’, ‘দালাল, দালাল’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন।

হল থেকে অস্ত্র উদ্ধার

বুধবার বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শহীদ হবিবুর রহমান হল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে ছেলেদের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে হবিবুর রহমান হলের সামনে আসেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হবিবুর রহমান হলের ২০৮, ৩০৮, ৩০৪, ৩০৩, ৩০২ নম্বরসহ আরও কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ২০৮ ও ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গতকালও (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগের রুমে গুলি, রামদা পাওয়া গেছে। সেজন্য এই হলের নেতাদের কক্ষেও অস্ত্র থাকতে পারে ধারণা করে আমরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র পাই।’

এদিকে ২০৮ নং কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা সোহান আহমেদ দেখভাল করতেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের অনুসারী বলে গেছে। আর ৩০৩ নং কক্ষে মিনহাজুল ইসলাম থাকতেন। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা সোহান এবং মিনহাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব বলেন, ‘কাল থেকেই গোটা ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। তারাই অস্ত্র ছাত্রলীগের কক্ষে রেখে দিয়েছিল।’

আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন
ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে ঢাবির হলগুলোকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
আবাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা রাতে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
সিলেটে ছাত্রলীগের ধাওয়া, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

মন্তব্য

p
উপরে