× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
9 people died of heatstroke in three districts
google_news print-icon

তিন জেলায় ‘হিট স্ট্রোকে’ ৯ জনের মৃত্যুর খবর

তিন-জেলায়-হিট-স্ট্রোকে-৯-জনের-মৃত্যুর-খবর
গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে তীব্র থেকে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ছবি: সংগৃহীত
গরমে অসুস্থতাজনিত কারণে বা হিট স্ট্রোকে প্রতিদিনই কমবেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার নাটোর, মুন্সীগঞ্জ ও নীলফামারীতে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে তীব্র থেকে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে। গরমে হাঁপিয়ে উঠেছে জনজীবন। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নানা অসুস্থতা। অতিরিক্ত তাপ সইতে না পেরে মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের।

গরমে অসুস্থতাজনিত কারণে বা হিট স্ট্রোকে প্রতিদিনই কমবেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার নাটোর, মুন্সীগঞ্জ ও নীলফামারীতে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নাটোরে গরমে তিনজনের মৃত্যু

নাটোরে হিট স্ট্রোকে আব্দুল মান্নান এবং খায়রুল ইসলাম নামে দুজনের মত্যু হয়েছে। এছাড়া হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাকিব প্রামাণিক নামে আরও একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার বড় হরিশপুর, লালবাজার ও নলডাঙ্গা উপজেলার উজানপাড়া গ্রামে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জানান, প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে আব্দুল মান্নান তার নিজ বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় মই নিয়ে উপরে উঠতে গেলে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, নলডাঙ্গা উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী খায়রুল ইসলাম জমি থেকে ভুট্টা তুলতে গিয়ে প্রচণ্ড তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় তাকে খাজুরা বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া নাটোর শহরের লালবাজার এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত আব্দুর রহমান প্রামাণিকের ছোট ছেলে রকিব প্রামাণিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে জেলায় একদিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে হিট স্ট্রোকে প্রাণ গেল দুই বৃদ্ধের

মুন্সীগঞ্জ সদরে প্রচণ্ড গরম সইতে না পেরে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কৃষক ওমর আলী ও তার কিছুক্ষন পর আব্দুল বাতেন মাঝিকে মৃত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

৬৫ বছর বয়সী ওমর আলী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মোল্লারচর এলাকার বাসিন্দা এবং ৬৮ বছর বয়সী বাতেন মাঝি মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

বাতেন মাঝির ভাতিজা হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার চাচা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। আজ তিনি জমি বিক্রির কাজে জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসে যান। সেখানে প্রচণ্ড গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে মাথায় পানি দেই। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শৈবাল বসাক বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে না পেরে হিট স্ট্রোকে ওই দুই বৃদ্ধ মারা গেছেন।’

গরমে নীলফামারীতে একদিনে ঝরল চার প্রাণ

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নীলফামারীর বিভিন্ন স্থানে হিট স্ট্রোকে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ৫২ বছর বয়সী লাল বাবু, বিমলা উপজেলার ৫২ বছর বয়সী মনির হোসেন এবং জলঢাকা উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী মনসুর ও ৬৫ বছর বয়সী খোদেজা।

জলঢাকা থানার ওসি আশরাফুল হক জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় তারা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

মঙ্গলবার এ জেলায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

আরও পড়ুন:
যশোরে রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল রিকশাচালকের প্রাণ
হিটস্ট্রোকে মাদারীপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ী ও কৃষকের মৃত্যু
দেশে উচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে মে মাসে
বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Deterioration of flood situation in Kurigram

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কুড়িগ্রামে বন্যায় নিমজ্জিত হয়েছ আউশ ধানের ক্ষেত। ছবি: নিউজবাংলা
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ‘জেলার ভেতর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহমান। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা নদীসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ফুলবাড়ি উপজেলার তালুকশিমুল শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া রেলসেতু পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদ-নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যমতে, পানি বাড়ার কারণে নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। ডুবে গেছে সবজিক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫/৬টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। সেখানে জরুরিভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে।

জেলায় স্বল্পমেয়াদি এই বন্যা পরিস্থিতি দু-একদিনের মধ্যে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি বন্যায় জেলায় প্রায় ৪৫৩ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে মরিচ, আউশ ধান, পাট, চিনা, পটল ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ‘জেলার ভেতর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহমান। এর মধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের সংখ্যা তিন হাজার ৬৯১ জন। বন্যাকবলিতদের উপজেলা পর্যায়ে ১৪৪ টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখানে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নেয়া শুরু করেছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য সহায়তা সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য রটি স্পিড বোট ও দুটি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হামিদুল হক খন্দকার বৃহস্পতিবার যাত্রাপুর ও পাঁচগাছি ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি
বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ
সিলেটে বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ
মৌলভীবাজারে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four people including children were killed and injured in Khulna lightning

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১
বজ্রপাতে খুলনার পাইকগাছায় শ্রীকান্ত মণ্ডল, বটিয়াঘাটায় আল মামুন এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এনায়েত আলী ও শিশু নাজমুল মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মুছা গাজী।

খুলনায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

বিকেলে খুলনার পাইকগাছায় বজ্রপাতে শ্রীকান্ত মণ্ডল নামে এক যুবক মারা যান। তিনি উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের পতিত মণ্ডলের ছেলে।

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শ্রীকান্ত মাছের ঘেরের কর্মচারী ছিলেন। বিকেলে বৃষ্টিপাতের সময় ঘেরের একটি ঝুপড়ি ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যাযন। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।’

দুপুরের দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় খারাবাদ এলাকায় বজ্রপাতে আল মামুন নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় মনি চৌকিদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আকাশে মেঘ দেখে আল মামুন খারাবাদ এলাকার কড়িয়া ভিটায় গরু আনতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হয়। ফাঁকা বিলে কোনো নিরাপদ স্থান না পেয়ে সে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মারা যায়। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া বজ্রপাতে খুলনার কয়রার অধিবাসী এক শিশুসহ দুজন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এই ঘটনা ঘটে।

তারা হলেন- কয়রা উপজেলার ঘড়িলাল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এনায়েত আলী ও মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আল আমিনের ছেলে আট বছর বয়সী নাজমুল। এ সময় গুরুতর আহত হন নাজমুলের নানা মুছা গাজী।

শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়পদ্মপুকুর এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকে চারজন মোটরসাইকেলযোগে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী খেয়াঘাট হয়ে কয়রার উদ্দেশে রওনা হন তারা। দুপুর ১টার দিকে গাবুরার গাগড়ামারী ও নেবুবুনিয়া এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় আশ্রয় নিলে বজ্রপাতে এনায়েত ও নাজমুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া শিশুটির নানা মুছা গাজীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

খুলনার কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছের আলি মোড়ল বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
ছাগলনাইয়ায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর
নরসিংদীতে বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত
টাঙ্গাইলে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
গাইবান্ধার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু
বজ্রপাত নিরোধ যন্ত্র স্থাপনে সহায়তা করতে চায় ফ্রান্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eight lakh people are stuck in water in Sunamganj

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাতি হচ্ছে।

বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদী পাড়ের পৌর কিচেন মার্কেট থেকে পানি নেমেছে, তবে সবজি বাজারে কিছুটা পানি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিব্গা, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, পশ্চিম হাজীপাড়া, তেঘরিয়া, নবীনগর, কাজীর পয়েন্ট মল্লিকপু সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি জীপবযাপন করছেন।

শহরের সবকটি হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়ে সামর্থবান একতলার বাসিন্দারা সেখানে উঠেছেন। কেউ কেউ ক্লিনিকের কক্ষেও পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। বাজারে দুয়েকটা দোকান খোলা পাওয়া গেলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানীরা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৫ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৬২ মিলিমিটার, ছাতকে ৬৫ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

তবে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কম হওয়ায় রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Erosion started in Yamuna spreading panic

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবিটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পাটিতাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল, সেটিও ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙন কবলিত মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষেরা।

সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

গত বছর ভাঙনের শিকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। যার কারণে নদীতে পানি এলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

গত বছর বন্যায় ভাঙনরোধে পাউবার ফেলা গাইড বাঁধের জিও ব্যাগ আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধপাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, ছোটবড় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা, সুফিয়া ও কোরবান আলী বলেন, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে, কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

তারা বলেন, গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল, সেটি এবারও চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কিছু দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ভূঞাপুরে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইলের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু হলে স্থায়ী বাঁধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জামালপুরে যমুনায় তীব্র ভাঙন শুরু, নির্ঘুমে এলাকাবাসী
ভাঙন রোধে ফুলছড়িতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
অসময়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
ভাঙনের কবলে কুশিয়ারার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
HSC exam postponed in flood affected Sylhet division

বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত

বন্যা: সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশিই অবনতি হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
আগামী ৩০ জুন সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সিলেট বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

বন্যার কারণে সিলেট বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৯ জুলাই থেকে রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কান্তি সরকার বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট থেকে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

রুটিন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই হাজার ২৭৫টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড ও কারিগরি বোর্ডের মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

এর আগে সিলেটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banvasi people of Sunamganj face food shortage in shelters

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এসে বন্যার পানি থেকে নিস্তার পেলেও খাবারের কষ্টে দিন কাটছে তাদের। ছবি: নিউজবাংলা
আশ্রয়কেন্দ্রে আসা কয়েকজন বলেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাদ্য সংকটে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা।

বুধবার বিকেলে শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি বলেন, ‘ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য আমার গাড়িচালক স্বামীর রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও কোনো সহায়তা পাইনি। রান্নাবান্না করারও সুযোগ নেই। কোনোরকমে দিন কাটছে আমাদের। আজ সকালে একজন এসে রুটি আর কলা দিয়ে গেছে।’

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালেন পাশে থাকা তাসলিমা। এসময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্নাকাটি করায় শাসন করছিলেন তিনি।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বলেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তি বলেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের বাসায় রেখে এসেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নিচে।

এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।’

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা সংবাদপত্র বিপণনকর্মী নুর হোসেন বলেন, ‘তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করতে আসেনি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। যারা আশ্রয়কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে ওঠেননি, তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Air in Dhaka is bearable

ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’

ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে রাজধানীর অনেকেই যান রমনা পার্কে। ফাইল ছবি
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৭৩ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘সহনীয় বা মধ্যম মানের’ রয়েছে।

বাতাসের নিম্ন মানের দিক থেকে আইকিউ এয়ারের তালিকায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৬তম।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৭৩ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘সহনীয় বা মধ্যম মানের’ রয়েছে।

একই সময়ে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা ও উগান্ডার কাম্পালা।

আইকিউএয়ার জানিয়েছে, আজ সকালের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ৪ দশনিক ২ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার।

কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।

আইকিউএয়ারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ৯৪। এর মানে হলো ওই সময়টাতে ‘সহনীয়’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করেছে রাজধানীবাসী।

আরও পড়ুন:
ঢাকার বাতাস ‘মধ্যম মানের’
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ‘সহনীয়’ ঢাকার বাতাস
ঢাকার বাতাসের মান আজ ‘ভালো’
ছুটির দিনে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস, নিম্ন মানে তৃতীয়
ছুটির দিনে বাতাসের নিম্ন মানে চতুর্থ ঢাকা

মন্তব্য

p
উপরে