× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
3 candidates in Munshiganj Sadar and 1 in Saghata were elected unopposed
google_news print-icon
উপজেলা নির্বাচন

মুন্সীগঞ্জ সদরে ৩ ও সাঘাটায় ১ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

মুন্সীগঞ্জ-সদরে-৩-ও-সাঘাটায়-১-প্রার্থী-বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায়-নির্বাচিত
সামশীল আরেফিন টিটু, আনিস উজ্জামান, নাজমুল হাসান সোহেল ও হাসিনা গাজী। কোলাজ: নিউজবাংলা
ষষ্ঠ ধাপের এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে ১৫০ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটায় ও মুন্সীগঞ্জ সদরে নির্বাচনের আগেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন চারজন।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের আগেই এমনকি প্রতীক বরাদ্দের আগেই চেয়ারম্যান নিশ্চিত হয়েছেন আইনজীবী এস এম সামশীল আরেফিন টিটু।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের তিনজন প্রার্থীর মধ্যে অপর দুজন প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোত্তালিব।

তিনি জানান, এর আগে সোমবার বিকেলে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকতার কাছে লিখিতভাবে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারপত্র দেন ওই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা দুই প্রার্থী হলেন, হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ এবং অপরজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আজাদ শীতল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব বলেন, ‘আজ প্রতীক বরাদ্দ শেষে দুপুরের পর তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।’

নির্বাচনে সাঘাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী এবং সাধারণ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জনসহ ১১ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলায় পুরুষ ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৬৫৩ জন এবং নারী এক লাখ ২১ হাজার ৫৮ জনসহ মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪১ হাজার ১২ জন। এ ছাড়া ১০৩ টি ভোট কেন্দ্র এবং বুথ রয়েছে ৬৬১টি। উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৮। এ উপজেলায় ব্যালটে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।

মুন্সীগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত তিনজন

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আনিস উজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমুল হাসান সোহেল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা গাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিষয়টি সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ছিলেন আনিস উজ্জামান। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন করে প্রার্থী থাকলেও ওই পদগুলোতে একজন করে প্রার্থী নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

তিনি জানান, এতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আনিস উজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমুল হাসান সোহেল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাসিনা গাজী নির্বাচিত হয়েছেন।

এ কারণে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে না এবং যথাসময়ে তাদের গেজেট প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি।

ষষ্ঠ ধাপের এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে ১৫০ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীরা প্রভাব খাটালে তাদেরই মান ক্ষুণ্ণ হবে: ইসি হাবিব
উপজেলা নির্বাচনে চকরিয়ায় আ.লীগের ডজনখানেক প্রার্থী
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত বাড়ছে ১০ গুণ
সংসদ নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচন ভালো হবে: ইসি আলমগীর
চার ধাপে উপজেলা নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ৪ মে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Future elections will be more transparent EC

সামনের নির্বাচনগুলো আরও স্বচ্ছ হবে: ইসি

সামনের নির্বাচনগুলো আরও স্বচ্ছ হবে: ইসি অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবীব খান। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি আহসান হাবীব বলেন, আমি প্রার্থীদের বলেছি মানুষ হিসেবে যে আমরা শ্রেষ্ঠ সেটা প্রমাণ করতে হবে। জনগণের সেবক হতে হবে। কারোর ওপর ভর না দিয়ে জনগণের ভালোবাসার ওপর ভর করতে হবে।

সামনের নির্বাচনগুলো আগের থেকে আরও স্বচ্ছ ও ভালো হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবীব খান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আহসান হাবীব বলেন, আমি প্রার্থীদের বলেছি মানুষ হিসেবে যে আমরা শ্রেষ্ঠ সেটা প্রমাণ করতে হবে। জনগণের সেবক হতে হবে। কারোর ওপর ভর না দিয়ে জনগণের ভালোবাসার ওপর ভর করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রার্থীরা আমাদের কথায় সম্মত। তাদেরকে আমরা আশ্বস্ত করতে পেরেছি। সামনের নির্বাচনগুলো আগের থেকে আরও স্বচ্ছ ও ভালো হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনে প্রয়োগে কঠোর হবে। কোনো ছাড় হবে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক যশোর ও রিটার্নিং অফিসার এস এম শাহীনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার যশোর প্রলয় কুমার জোয়ারদার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা খুলনা মো. হুমায়ুন কবির, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আনিছুর রহমান ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী।

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে শার্শা উপজেলায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদেরকে বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ballots will go to 615 centers the previous day in the morning of voting in the rest

৬১৫ কেন্দ্রে ব্যালট যাবে আগের দিন, বাকিগুলোতে ভোটের সকালে

৬১৫ কেন্দ্রে ব্যালট যাবে আগের দিন, বাকিগুলোতে ভোটের সকালে
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ উপজেলায় ২১ মে, তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ২৯ মে ও চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ৫ জুন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ৩০টি উপজেলার ৬১৫ কেন্দ্রে ভোটের আগের দিন ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে।

সম্প্রতি ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২১ মে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য ৩০ উপজেলার ৬১৫টি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটের আগের দিন নির্বাচনি মালামালসহ ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে।’

যেসব উপজেলায় আগের দিন ব্যালট যাবে

কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, অষ্টগ্রাম, গাইবান্ধা সদর, শিবগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, কুমারখালী, ভোলা সদর, দৌলতখান, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, বাহুবল, নবীগঞ্জ, খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, বিলাইছড়ি, রাজস্থলি, কাপ্তাই, লালমনিরহাট সদর ও সুন্দরগঞ্জ।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ উপজেলায় ২১ মে, তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ২৯ মে ও চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ৫ জুন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ২৪টি, তৃতীয় ধাপে ২১টি ও চতুর্থ ধাপে দুটি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা ভোটের মাঠে ১৫৭ ম্যাজিস্ট্রেট
প্রার্থিতা বাতিল বহাল, সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
ভোটের আড়াই বছর পর পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Salim Pradhan fined Tk 10000 upheld
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন

প্রার্থিতা বাতিল বহাল, সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা


প্রার্থিতা বাতিল বহাল, সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ফাইল ছবি
শুনানির শুরুতে সেলিম প্রধানের আইনজীবী তার আবেদনটি নন-প্রসিকিউশনের (মামলা না চালানো) জন্য আদালতের কাছে আরজি জানান। তখন আপিল বিভাগ বলে, ‘আপনাদের জরুরি কথা বিবেচনা করে আবেদনটি আপিল বিভাগের লিস্টে আনা হয়েছে। এখন বলছেন নন-প্রসিকিউশন করবেন।’ পরে আদালতের সময় নষ্ট করায় সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা টোকেন জরিমানা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সেলিম প্রধানের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে বলে জানিয়েছে বাসস।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৮ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ওই আদেশ দেয়।

আদালতের সময় নষ্ট করায় সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আদালতে সেলিম প্রধানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম নুরুল আলম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ ও ব্যারিস্টার আশফাকুর রহমান। অপর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।

আজ শুনানির শুরুতে সেলিম প্রধানের আইনজীবী তার আবেদনটি নন-প্রসিকিউশনের (মামলা না চালানো) জন্য আদালতের কাছে আরজি জানান। তখন আপিল বিভাগ বলে, ‘আপনাদের জরুরি কথা বিবেচনা করে আবেদনটি আপিল বিভাগের লিস্টে আনা হয়েছে। এখন বলছেন নন-প্রসিকিউশন করবেন।’

পরে আদালতের সময় নষ্ট করায় সেলিম প্রধানকে ১০ হাজার টাকা টোকেন জরিমানা করা হয়।

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সেলিম প্রধানকে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দে হাইকোর্টের আদেশ গত ৬ মে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেয় চেম্বার আদালত। পরে এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে সেলিম প্রধান।

গত ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে মানি লন্ডারিং ও দুদকের মামলায় সাজার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করে। পরে মনোনয়ন ফেরতে আপিল করলে গত ২৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসক আপিল খারিজ করে মনোনয়ন বাতিল বহাল রাখেন।

গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টে নিজের প্রার্থিতার বৈধতা ও প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে রিট করেন সেলিম প্রধান। হাইকোর্ট সেলিম প্রধানের প্রার্থিতার বৈধতা ও প্রতীক বরাদ্দের আদেশ দেয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আপিল করেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা ও কুড়িগ্রামে বিএনপির ৮ নেতা বহিষ্কার
ভোটের আড়াই বছর পর পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা
প্রকাশ্যে ভোট: ক্ষমা চাওয়ায় এমপি হাফিজকে দায়মুক্তি ইসির
বিধি ভেঙে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা হারালেন শ্রীপুরের জামিল
ঝালকাঠিতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
8 leaders of BNP expelled in Comilla and Kurigram
উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ

কুমিল্লা ও কুড়িগ্রামে বিএনপির ৮ নেতা বহিষ্কার

কুমিল্লা ও কুড়িগ্রামে বিএনপির ৮ নেতা বহিষ্কার বিএনপির লোগো। ফাইল ছবি
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় কেন্দ্র তাদেরকে বহিষ্কার করেছে।’

দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচন করায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এবং নাগেশ্বরী উপজেলায় আটজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আলাদা দলীয় প্যাডে বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

বহিষ্কৃত চারজন হলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরকার জহিরুল হক মিঠুন, জেলা বিএনপির সদস্য তাহমিনা হক পপি, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া অপু ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আকরামুল ইসলাম।

বহিষ্কারাদেশ নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

আগামী ২৯ মে ষষ্ঠ ধাপে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় কুড়িগ্রামের দুটি উপজেলার দুই বিএনপি নেতা এবং দুই নেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত চারজন হলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম শাহিন শিকদার, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি হাসান, নাগেশ্বরী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সহ মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আমেনা খাতুন অনন্যা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সহ মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসি বেগম।

বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হলো।

চিঠির অনুলিপি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

বহিষ্কৃত চারজনের মধ্যে ফরিদুল ইসলাম শাহিন শিকদার চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ষষ্ঠ পর্যায়ের তৃতীয় ধাপে আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

মেহেদি হাসান নাগেশ্বরী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবয়েল প্রতীক, আমেনা খাতুন অনন্যা নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে কলস প্রতীক ও ফেরদৌসি বেগম নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হক শাহিন শিকদার জানান, বহিষ্কারের কোনো চিঠি তিনি হাতে পাননি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

নাগেশ্বরী উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সহ মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসি বেগম বলেন, ‘বহিষ্কার সক্রান্ত চিঠি হাতে পাইনি। কারণ দর্শানো চিঠি পেয়েছিলাম সেটার জবাব দিয়েছি। দল তার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে জনগণ চেয়েছে বলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই করে যাব।’

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় কেন্দ্র তাদেরকে বহিষ্কার করেছে।’

আরও পড়ুন:
আটঘরিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, আহত ১০
পুলিশ সাংবাদিক পিটিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার মিঠু চেয়ারম্যান
অগণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন চায় না দেশের মানুষ: হানিফ
চতুর্থ ধাপে ৭৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল
জয়ী প্রার্থীর সমর্থককে তুলে নিয়ে মারধরের মামলায় পরাজিত প্রার্থী গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two and a half years after the election the defeated candidate is declared the winner

ভোটের আড়াই বছর পর পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা

ভোটের আড়াই বছর পর পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের লোগো (বাঁয়ে) ও ভোট দেয়ার প্রতীকী চিত্র। ফাইল ছবি
এ ঘটনায় জড়িত প্রিসাইডিং অফিসার খালিশপুর মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. ইলয়াছ আলী ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোতাহের বিল্লাহর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত।

মৌলভীবাজারের খলিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদের ভোটে অভিনব কায়দায় কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে আদালত। এতে ভোট পুনর্গণনা করে নির্বাচনের আড়াই বছর পর পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মুজাহিদ আলীকে ১০৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুমিনুল হকের আদলতে এই রায় হলেও জেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে সম্প্রতি বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন টিউবওয়েল প্রতীকের সৈয়দ মোজাহিদ আলী ও ফুটবল প্রতীকের মো. আবু সুফিয়ান। সেদিন ভোট গ্রহণ শেষে গোনার আগেই প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা করে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

ঘোষিত ফলাফলে ৯৮ ভোটের ব্যবধানে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ানকে বিজয়ী দেখানো হয়। তবে ওই ফল প্রত্যাখান করে মৌলভীবাজার নির্বাচনি আদালতে মামলা করেন পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মুজাহিদ আলী।

মামলার পর দীর্ঘদিন ধরে চলে বিচার কাজ। এক পর্যায়ে আদালত ব্যালটের ঘানি ব্যাগ তলব করে এবং প্রকাশ্যে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পুনরায় ভোট গণনা করা হয়।

আদালতের গণনায় দেখা যায়, টিউবওয়েল প্রতীকে ভোট পড়েছে ৬৮০টি ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৫৭৭ ভোট। এই গণনায় কেউ আপত্তি না তোলায় টিউবওয়েল প্রতীকের সৈয়দ মোজাহিদ আলীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন বিচারক মুমিনুল হক।

মামলার রায়ে আরও বলা হয়, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ান বেআইনিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িত প্রিসাইডিং অফিসার খালিশপুর মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. ইলয়াছ আলী ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোতাহের বিল্লাহর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত।

জানতে চাইলে বাদী পক্ষের আইনজীবী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মক্কেল আদালতের মাধ্যমে ভোট পুনরায় গণনা করে সুষ্ঠু বিচার পেয়েছেন। বিবাদী বেআইনিভাবে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ রায়ে অভিনব এই ভোট কারচুপির রহস্য উদঘাটন হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘শুধু ভোট দেব না, নিজের ভোট পাহারাও দেব’ 
মহাসড়কে নির্বাচনি পথসভা, ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamil of Sreepur lost his candidacy for the post of upazila chairman by breaking the rules

বিধি ভেঙে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা হারালেন শ্রীপুরের জামিল

বিধি ভেঙে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা হারালেন শ্রীপুরের জামিল ফাইল ছবি
বুধবার নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এই তথ্য জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে মো. জামিল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এই তথ্য জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

তিনি বলেন, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জামিল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল করেছে কমিশন। প্রার্থীর শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত দেয়। বার বার নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন।

এর আগে জামিল হাসানকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আপনি ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী। আপনি গত ২১ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও চত্বরের বাইরে আনুমানিক বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আপনার কর্মী সমর্থকরা শোভাযাত্রা/শোডাউনসহ মিছিল করেন এবং এতে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় আপনাকে ২১ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে আপনি নির্বাচনে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আপনি ২৭ এপ্রিল বিকেল ৫টায় গাজীপুর সদর উপজেলাধীন বাঘের বাজার এলাকায় সারাহ গার্ডেনে প্রতীক বরাদ্দের আগে আনুমানিক ৪০০ জন কর্মী সমর্থক নিয়ে জনসভা করার চেষ্টা করেন।

এতে বলা হয়, ওই বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক মজনুন ইশতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৫ ও ৭ লঙ্ঘনের দায়ে আপনার উপস্থিতিতে আপনার সমর্থক মো. আক্তার হোসেনকে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুসারে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আপনি ৭ মে আনুমানিক বেলা ১২টার সময় আনুমানিক এক হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে উত্তর দিকে মসজিদ মার্কেট এলাকায় বিশাল প্যান্ডেল করে বিনা অনুমতিতে জনসভাসহ দুপুরের খাবারের আয়োজন করেন। যা উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৭(খ), ৭(গ) এবং ১৭(খ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

চিঠিতে বলা হয়, এ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাইখা সুলতানা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাইখা সুলতানা পুনরায় একই স্থানে বিনা অনুমতিতে সভা আয়োজন এবং জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার অভিযোগ পান। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আয়োজনস্থলে আপনাকে বক্তৃতারত অবস্থায় এবং আপনার প্রায় এক হাজার কর্মী সমর্থকসহ দেখতে পান। পরে উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর ৭ (খ), ৭ (গ) এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৩ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হলে আপনি এবং আপনার সমর্থকসহ সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াসহ হুমকি দেন। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রীপুর, গাজীপুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে আপনিসহ আপনার কর্মী সমর্থকরা হুমকি দেয়াসহ অশোভন আচরণ করে মিছিল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখেন, যা উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৭, বিধি ১১, বিধি ১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ এর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এ বর্ণিত বিভিন্ন বিধি ভঙ্গ করছেন। আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ এ বিধিমালায় বর্ণিত দণ্ড দেয়ার পরও নির্বাচনি আচরণ মেনে চলছেন না, যা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার জন্য অন্তরায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I will not only vote but also protect my vote

‘শুধু ভোট দেব না, নিজের ভোট পাহারাও দেব’ 

‘শুধু ভোট দেব না, নিজের ভোট পাহারাও দেব’  ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৮ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
রিকশাচালক বাসেত আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝি না। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিসাইডিং অফিসার গড়িমসি করেছে। দাঙ্গা বেধেছে, মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাই না।’

‘নির্বাচন এলে ক্ষমতাবানরা নানা রকমভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। ভোট নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। ভোটের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, ভোট কারচুপিও কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু এবার ঠাকুরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধু নিজেদের ভোট দেব না, ভোট পাহারাও করব।

‘যদি আমার মূল্যবান ভোট নিয়ে কারসাজি হয়, তবে আমার কেন্দ্রে তা প্রতিহত করব। কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে প্রতিবাদী হব।’

তপ্ত রোদে রিকশা চালিয়ে এক হাতে চা ও অন্য হাতে বন রুটি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলাকার ভোটার আবদুল বাসেত আলী মিয়া।

সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে চায়ের দোকানে অন্য ভোটাররাও তার কথা শুনে ‘ঠিক, ঠিক’ বলে সমর্থন করছিলেন।

রিকশাচালক বাসেত আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটের মূল্য অনেকে বুঝি না। বিগত নির্বাচনে কেন্দ্রে না যেতে হুমকি শুনতে হয়েছে প্রভাবশালীদের। ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিসাইডিং অফিসার গড়িমসি করেছে। দাঙ্গা বেধেছে, মানুষ মরেছে। কেউ দায় নেয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাই না।

‘যদি নিজের ভোট নিজে রক্ষা করতে না পারি, তবে আমরা সবাই অপরাধী। তাই চিন্তা করেছি শুধু ভোট দিব না, ফলাফলে যেন গড়িমসি না করতে পারে, জাল ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে পারে, এর জন্য নিজের ভোট চোখ-কান খোলা রেখে পাহারা করব। ফলাফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়ব। আমি মনে করি প্রত্যেকটা ভোটার এমন পাহারাদার হলে আমাদের ভোট বিফলে যাবে না।’

চায়ের দোকানে বসা বর্ষীয়ান ভোটার জমসেদ আলীর প্রশ্ন, ‘লোকমুখে শুনছি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে স্থানীয় এমপি নাকি কোনো এক প্রার্থীকে সমর্থন করছে। এমপি নিরপেক্ষতার কথা বললেও তার নাম ভাঙিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা থামেনি। এমন হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না তো কী? ভোটাররা তো ধারণা করে বসে আছে ভোট দিয়ে কী হবে, এমপি যাকেই চাইবে সেই জিতবে।’

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে এ ভোটারের।

এই বৃদ্ধের কথার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তরুণ ভোটার রবিনাথ বর্মণ ও আনোয়ার হোসেন।

তাদের একজন বলেন, ‘যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের মূল্য কি নেই? যদি এমনটাই হয়, তাহলে নির্বাচনের অর্থ আমরা কি বুঝি? আমরা প্রত্যেকে যদি এমন ভীতিকর ধারণা থেকে নিজেদের বের করে নিজের চিন্তা কাজে লাগিয়ে যোগ্য লোককে ভোট দিই এবং সে ভোট রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হই, তবে কোনো প্রভাবই আমাদের প্রবাহিত করতে পারবে না।

‘অতএব আমরা ভোট দেব। ভোটের দিন ক্ষমতা বলেন আর প্রভাব, তা শুধু ভোটারের। কোনো এমপির নয়, কোনো মন্ত্রীর নয়, কোনো একটি পরিবারের নয়। আমরা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচন কমিশনের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে একটি পক্ষপাতহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বুঝে নেব। যদি কোনো রকম প্রহসনের আভাসও পাই, তবে তা আমরা ভোটাররা রুখে দেব।’

নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা শুধু চায়ের দোকানে নয়; এটি ছড়িয়েছে ফসলের মাঠেও।

ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের দুই পাশে আবাদি জমি। সেখানে আমন ধানের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের কাজ করছিলেন একদল কৃষক। ভোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সেখানেও।

সব মিলিয়ে প্রচার-প্রচারণা আর প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার, মাইকিং ও গণসংযোগে প্রাণবন্ত ও মুখরিত নির্বাচনি প্রান্তর। সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশার কমতি নেই এসব ভোটারের।

কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘আমরা তো ভোট দিই। কিন্তু অনেক বছর ধরে ভোটের মজা পাই না। ভোটের প্রতি আস্থা উঠে গেছে। আমরা আমাদের ভোটের আমানত রক্ষা করতে পারি না। যদি আমাদের ভোট চুরি হয়, এর দায় আমাদেরই।

‘যে যাই বলুক না কেন, বাক্সের ব্যালট পাহারা না দিতে পারলে ভোটের মূল্য কোনো দিনও থাকবে না। কাজেই আমরা প্রহসনের নির্বাচন চাইব না; প্রভাবের নির্বাচন চাইব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, আপনার ভোট আপনি দেবেন। কোনো নেতার কথায় এবং কারও চোখ রাঙানিতে আমার ভোট প্রবাহিত হবে না। আমি পছন্দমতোই ভোট দেব। যদি আমার ভোট নিয়ে কোনো ছলাকলা হয়, তবে পালাবার সব পথ আটকে দেব।’

আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করা প্রার্থীরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি রওশনুল হক তুষার।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন করে প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।

যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ভোটারের সংখ্যা চার লাখ ৮৭ হাজার ১৭৫। আগামী ২১ মে ১৮৫টি কেন্দ্রে এসব ভোটার তাদের ভোট দেবেন।

রুহিয়া থানার ভোটকেন্দ্রগুলো এবং সদর থানার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত এখনও চলছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে যা বললেন রিটার্নিং অফিসার

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সোলেমান আলী বলেন, ‘নির্বাচনে আচরণবিধি দেখার জন্য তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। নির্বাচনের দিন যাতে পৌরসভাসহ প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকে, সে জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে জানিয়েছে। এ ছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, পুলিশ তো থাকবেই।’

নির্বাচনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো ব্যক্তির প্রভাবে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এমন করে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া আছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারগণ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
আটঘরিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, আহত ১০
খালিয়াজুরীতে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন দুই বিএনপি নেতা
পুলিশ সাংবাদিক পিটিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার মিঠু চেয়ারম্যান
সিরাজগঞ্জে ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায়’ ২ তাঁত ফ্যাক্টরি ভস্মীভূত
চতুর্থ ধাপে ৭৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

মন্তব্য

p
উপরে