× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Benazir Ahmed opened his mouth about the complaint
google_news print-icon

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে বেনজীর আহমেদের ব্যাখ্যা

গণমাধ্যমে-প্রকাশিত-সংবাদ-সম্পর্কে-বেনজীর-আহমেদের-ব্যাখ্যা
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ফেসবুকে শনিবার একটি ভিডিও পোস্ট করেন বেনজীর আহমেদ। তাতে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কোনোটি কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ প্রমাণ করতে পারলে বিনা পয়সায় হাসিমুখে সেগুলো তার বা তাদের নামে লিখে দেব।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে অসত্য বলে দাবি করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

শনিবার ‘আমার কিছু কথা’ শিরোনামে এক ভিডিও বার্তায় নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে এ দাবি করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমার পরিবার ও আমার নামে অসত্য তথ্য প্রকাশ হয়েছে। তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যাচার।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে যান বেনজীর। কর্মজীবনে একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেনজীর আহমেদ খুবই সাফল্যের সঙ্গে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তার সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশে মাদক, জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণসহ খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশানোর মতো ঘটনা অনেকটা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বুদ্ধিমত্তার কারণে বিনা রক্তপাতে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের পর বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। তার সময়েই সুন্দরবনে দস্যু দমন করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশে সঠিক নিয়মে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ অনেক বিষয়ে আধুনিকীকরণ ও সংস্কার করেছেন তিনি।

ভিডিওর শুরুতে ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি পত্রিকান্তরে আমার এবং পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু খুবই আপত্তিজনক, মানহানিকর, অসত্য এবং বিকৃত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সেই সংবাদের সূত্র ধরে কতিপয় আউটলেট একই ধরনের সংবাদ পুনারাবৃত্তিক্রমে পরিবেশন করেছে।

‘তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, দেশের মূলধারার ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এই অসত্য ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশনে তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি।’

বেনজীর বলেন, ‘আমি অবসর গ্রহণের দুই বছর পর আকস্মিকভাবে আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে এরকম একটি মানহানিকর, অসম্মানজনক, অসত্য সংবাদ কেন পরিবেশিত হলো, আমি সেই আলোচনায় সচেতনভাবে যাব না। এর কারণ রাজধানীর সব সাংবাদিক এবং সচেতন মহলের মুখে মুখে।’

পুলিশের সাবেক এই মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। এতে সব মিলিয়ে ৪৫টি তথ্য, অভিযোগ এবং অপমানজনক বক্তব্য সন্নিবেশিত আছে। এর মধ্যে ২৪টি অভিযোগ বা তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। দুটি বিষয়কে সাতবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং দুটি বিষয়কে ভুল প্রেক্ষাপটে বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। বাকি ১০টি অভিযোগ বা তথ্যকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে শুধু তিলকে তাল নয়, তালগাছের ঝাড়সমেত তাল বানিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

কৃষি খাতে তার পরিবারের শত কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে ড. বেনজীর বলেন, ‘গোপালগঞ্জে ২০১৪ সাল থেকে আমাদের পারিবারিক কৃষি খামার ও কৃষিতে বিনিয়োগ আছে। সে সময় থেকে ১০ বছর ধরে কৃষিক্ষেত্রে আমাদের পারিবারিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা চলে আসছে।

‘প্রথমে সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যরা একটি ছোট মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠা করে। সেই খামারের আয় থেকে আস্তে আস্তে ব্যবসার বৃদ্ধি হয়। পরবর্তীতে মৎস্য খামারের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলদ, ঔষধি ও মসলাজাতীয় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যাপক বনায়ন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য শত কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যা মিথ্যা। সত্য এই যে, সেখানে যে পরিমাণ জমি কেনা হয়েছে, তার থেকে বেশি আমার পরিবারের ব্যাংক এবং অন্যান্য সূত্র থেকে ঋণ, লোন বা দেনা রয়েছে। এছাড়া এই জমির পরিমাণ ও টাকার উৎসের বিষয়গুলো ট্যাক্স ফাইলে যথাযথভাবে সন্নিবেশিত আছে।’

শত কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তার স্ত্রী- এ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এটা পুরো মিথ্যা। পূর্বাচলে ৪০ কাঠা জমির ওপর ডুপ্লেক্স বাড়ির অভিযোগও মিথ্যা। পত্রিকার প্রতিবেদনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমার এবং আমার পরিবারের যে সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে তা-ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমার ৩৫ বছরের চাকরি জীবনের বেতন-ভাতার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সেটিও ভুল এবং খুবই অপমানজনক। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে- আমার অবসরের পর তথাকথিত থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। এ ধরনের শব্দপ্রয়োগও খুবই আপত্তিকর।

‘আমাদের পারিবারিক ব্যবসা ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিগত ১০ বছর ধরে প্রকাশ্যে এবং সর্বসম্মুখে পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের পারিবারিক মৎস্য প্রজেক্ট জাতীয় পর্যায়ে মৎস্যচাষের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে। সেটি আরও একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো একদিনে হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সবার শ্রমে-ঘামে এগুলো অর্জিত হয়েছে। এই যে সবার চেষ্টা, এটিকেও এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমি মনে করি অপমান করা হয়েছে।’

গোপালগঞ্জে সাভানা এগ্রো প্রজেক্টে ২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের অভিযোগ সম্পর্কে বেনজীর বলেন, ‘এ অভিযোগ মিথ্যা। গোপালগঞ্জ প্রজেক্টে দুটি কোম্পানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে একটিতে ২০ কোটি টাকা, আরেকটিতে ৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের কথা এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেন সাধারণ পাঠক মনে করেন যে এই দুটি কোম্পানিতে আমাদের পরিবার ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

‘আসলে অনুমোদিত মূলধন আর পরিশোধিত মূলধন এক জিনিস নয়। এখানে এই দুইটি কোম্পানির এক কোটি টাকাও পরিশোধিত মূলধন নেই।’

তিনি বলেন, ‘মূলত এই দুটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ব্যবসাকে সম্প্রসারণের জন্য। আমাদের পরিবার ওখানে এখন যে ব্যবসা করছে, সেটাকে সম্প্রসারণ করতে চায়; কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগকে সম্প্রসারণ করতে চায়।’

প্রকল্প এলাকার নাম ‘বেনজীরের চক’ প্রসঙ্গে সাবেক এ আইজিপি বলেন, ‘এটা প্রতিবেদকের নিজস্ব একটি আবিষ্কার। বেনজীরের চক নামের কোনো জায়গা প্রকল্প এলাকায় নেই। প্রকল্প এলাকায় মিটার ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে- এ অভিযোগও মিথ্যা।

‘এখানে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি কেনার কথা বলা হয়েছে, যেটি একটি অসম্ভব কল্পনা। এটি প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা এবং প্রকল্প এলাকাটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন সন্নিহিত। ফলে এ ধরনের একটি জায়গায় গায়ের জোরে বা ক্ষমতা দেখিয়ে জমি কেনার চিন্তা একটি অসম্ভব কল্পনা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের মগবাজারে একটি ৪ হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট আছে। এটি একটি মিথ্যা তথ্য। মগবাজার কেন, সিদ্ধেশ্বরী বা রমনার আশপাশে আমাদের কোনো ফ্ল্যাট নেই।

‘আনন্দ হাউজিংয়ে ৪০ কাঠা জমিসহ ৪৫ কোটি টাকার বাড়ি আছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। আনন্দ হাউজিং একটি বেসরকারি সমবায় সমিতি। ২০০৭ সালে আমরা এ সমিতির সদস্য হই এবং একটি প্লট বুকিং দেই। কিস্তির মাধ্যমে আমরা এই টাকা পরিশোধ করি। সেখানে আমাদের ৪০ কাঠার কোনো প্লট নেই। এটা শতগুণ বাড়িয়ে বলা হয়েছে।’

আইজিপি থাকাকালে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট কিনেছেন বলে যে তথ্য প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিকেও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন বেনজীর আহমেদ।

রূপগঞ্জে ২ বিঘা জমি ও বসুন্ধরায় মেয়ের জন্য ফ্ল্যাট সম্পর্কে সাবেক এই আইজিপি বলেন, ‘রূপগঞ্জের নাওড়ায় আমাদের দুই বিঘা জমির একটি প্লট আছে, যার বাজার মূল্য দুই কোটি বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে রূপগঞ্জের আনন্দ হাউজিংয়ে একটি প্লট ছাড়া রূপগঞ্জের কোনো ইউনিয়নে আমাদের কোনো জমি নেই। এটা মিথ্যা তথ্য।

‘মেয়ের বিশ্রামের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনেছি বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। আমার জ্যেষ্ঠ কন্যা সবসময় আমার সরকারি বাসা থেকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করত। তার বিশ্রামের জন্য বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা আমরা কখনও অনুভব করিনি।

‘দুবাই, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় শত কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে বলে যে তথ্য প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই।’

বেনজীর বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে তথাকথিত একটি জুয়েলার্সে আমাদের মালিকানা আছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের কোনো জুয়েলার্স আমাদের পরিবারের সদস্যরা পরিচালনা করে না। আমাদের মালিকানাও নেই, বিনিয়োগও নেই। এটি একটি সর্বাংশে মিথ্যা তথ্য।’

প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করার অভিযোগটিরও কোনো ভিত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন বেনজীর আহমেদ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নারিকেল বাগান দখলের যে অভিযোগ প্রতিবেদনে করা হয়েছে, সেটিও মিথ্যা বলে বর্ণনা করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘শেষ কথা হচ্ছে, আমার এবং আমার পরিবারের যে সম্পত্তি রয়েছে তার প্রত্যেকটির বিপরীতে অর্থের উৎসসহকারে ট্যাক্স ফাইলে যথাযথভাবে সেগুলো বর্ণিত আছে। আমার পরিবার তাদের ব্যবসার জন্য এবং আমি নিয়মিতভাবে কর পরিশোধ করি।

‘আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, আমি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সেরা করদাতার সম্মানও লাভ করেছি। চাকরি জীবনে আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ই ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আইজিপি হিসেবে আমি সরকারের শুদ্ধাচার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি।’

সাবেক এই পুলিশপ্রধান বলেন, “অবসরের পরে আমাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও দুঃখজনক। যারা সততার সঙ্গে চাকরি করতে চান, জনগণের সেবা করতে চান- এ ধরনের অপপ্রয়াস তাদের নিরুৎসাহিত করবে।

“পত্রিকায় প্রকাশিত যেসব সম্পত্তির কথা আমি বলেছি ‘নেই’- আপনারা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি এবং আমার পরিবার হাসিমুখে সেই ব্যক্তিকে বা সেই গ্রুপকে সেই সম্পত্তি বিনা পয়সায় লিখে দেব।”

আরও পড়ুন:
দয়া করে সামান্য ধৈর্য ধরুন: বেনজীর আহমেদ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
They are not ashamed to call themselves Razakars Prime Minister

নিজেদের ‘রাজাকার’ বলতে তাদের লজ্জা হয় না: প্রধানমন্ত্রী

নিজেদের ‘রাজাকার’ বলতে তাদের লজ্জা হয় না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বিটিভি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার বাহিনী যেভাবে এ দেশে অত্যাচার করেছে…তাদের সেই অত্যাচার, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকা এরা দেখেনি। তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা হয় না।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন জানানো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ স্লোগান দেয়াকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজেদের ‘রাজাকার’ বলতে আন্দোলনকারীদের লজ্জা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

চীনে সাম্প্রতিক সফর নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন যে, রাজাকারের নাতি-পুতিরা সবকিছু পাবে। মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোটা আর মেধা তো এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের সন্তান, নাতিপুতি মেধাবী না আর যত রাজাকারের বাচ্চা, নাতিপুতি উনারা মেধাবী, তাই না?’

ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার রাতে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা।

ওই সময় তারা ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রত্যাহার করতে হবে’ ধরনের স্লোগান দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার বাহিনী যেভাবে এ দেশে অত্যাচার করেছে…তাদের সেই অত্যাচার, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকা এরা দেখেনি। তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে গেছেন, লাখো মা-বোন নির্যাতিতা। তাদের এই অবদান ভুললে চলবে না। এটা মনে রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে, এখানে শান্তি কমিটিতে, কেউ রাজাকার কমিটিতে ছিল, কিন্তু অনেকে মানুষের ক্ষতি করেনি, কিন্তু যে বাহিনীগুলো তারা তৈরি করেছিল, তাদের হাতে অস্ত্র দিয়েছিল এবং তাদের দিয়ে মানুষের ক্ষতি করত, অত্যাচার করত, লুটপাট করত, গণহত্যা চালাত।

‘তাদের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, তাদের বিচার করে অনেকের ফাঁসিও দিয়েছি। তাদের বিচারে যারা নির্যাতিত, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য এখন যখন শুনি মেয়েরাও স্লোগান দেয়। কোন দেশে আমরা আছি? এরা কী চেতনায় বিশ্বাস করে? কী শিক্ষা তারা নিল? কী তারা শিখল?’

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের। জাতির পিতার একটি ডাকে এই দেশের মানুষ, ঘরবাড়ি, পরিবার সবকিছু ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধে গেছে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে।

‘আর এই যারা বাহিনীতে (রাজাকার-আল বদর-আল শামস) ছিল, তারা এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। সেটা ভুলে গেলে চলবে না।’

আরও পড়ুন:
রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে
ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন রোববার
চীন সফর শেষে দেশে প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Quota activists protest in DU demanding withdrawal of Prime Ministers speech

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভে যোগ দেয়া ঢাবির সাবেক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমার মেরুদণ্ডকে আঘাত করেছে। তিনি রাষ্ট্রের মানুষকে দুই ভাগ করতে পারেন না। তিনি তার দল এবং সরকারকে এক পক্ষে নিয়েছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী আর আমজনতাকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে হয় রাজাকারের ট্যাগ তুলে নিতে হবে, না হয় আমরা এখানে জীবন দেব।”

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোববারের বক্তব্যকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভে ঢাবি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইডেন মহিলা কলেজসহ সাত কলেজ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

চীনে সাম্প্রতিক সফর নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন যে, রাজাকারের নাতি-পুতিরা সবকিছু পাবে। মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোটা আর মেধা তো এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের সন্তান, নাতিপুতি মেধাবী না আর যত রাজাকারের বাচ্চা, নাতিপুতি উনারা মেধাবী, তাই না?’

প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যকে নিজেদের জন্য অপমানজনক দাবি করে এ বক্তব্য প্রত্যাহারে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা, যারা ‘আমি নই, তুমি নও, রাজাকার রাজাকার’, ‘কে রাজাকার, কে রাজাকার, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’, ‘আমি কেন রাজাকার, জবাব চাই দিতে হবে’, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে’ স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে যোগ দেয়া ঢাবির সাবেক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমার মেরুদণ্ডকে আঘাত করেছে। তিনি রাষ্ট্রের মানুষকে দুই ভাগ করতে পারেন না।

“তিনি তার দল এবং সরকারকে এক পক্ষে নিয়েছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী আর আমজনতাকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে হয় রাজাকারের ট্যাগ তুলে নিতে হবে, না হয় আমরা এখানে জীবন দেব।”

ইডেন ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বিক্ষোভে অংশ নিতে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এক ছাত্রী।

ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়া ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমরা ১০-১২ জন শিক্ষার্থী আজকের এই মিছিলে আসার জন্য ইডেন কলেজের ভেতরে পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে জড়ো হচ্ছিলাম আর স্লোগান দিচ্ছিলাম। এ সময় কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা এসে আমাদের বাধা দেয় এবং তারা তর্ক-বিতর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে, একপর্যায়ে যাদের নিয়ে আমরা মিছিলে যোগ দিচ্ছিলাম, তাদের বেধড়ক পেটায়।

‘তাদের পেটানোর কারণে আমরা যখন মাটিতে পড়ে যাই, তখন তারা আমাদের কিল-ঘুষি যে যা পারে, তা দিয়েই মারে। এমনকি আমাদের ওপর গরম পানিও ছুড়ে মারে।’

এ ছাত্রী আরও বলেন, ‘কলেজ প্রশাসন দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মীদের একবারও থামায়নি। মেয়েরা মার খেয়েছে আর তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ইডেন ছাত্রীদের ওপর হামলার পর কেউ যেন কলেজ থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য গেট বন্ধ করে রাখা হয়। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ কিছু ছাত্রী গিয়ে কলেজের গেট খুলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গভবনে স্মারকলিপি ১২ শিক্ষার্থীর
বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা কোটা আন্দোলনকারীদের
কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল
কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister wants unity of Muslims against genocide in Gaza

গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঐক্য চান প্রধানমন্ত্রী

গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঐক্য চান প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: ইয়াসিন কবির জয়/ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (গাজায় গণহত্যা) প্রত্যাশিত নয়। আমাদের সবাইকে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।’

ফিলিস্তিনের গাজায় ৯ মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকায় মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে সরকারপ্রধান এ আহ্বান জানান বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলে ঢুকে গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজার শাসক দল হামাসের হামলার পর ওই দিনই উপত্যকায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আকাশ ও স্থলপথে দেশটির হামলায় কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৫৮৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৮৮ হাজার ৮৮১ জন আহত হন।

অন্যদিকে হামাসের হামলায় প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি। এখনও গাজায় বন্দি আছেন ইসরায়েলের অনেক নাগরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (গাজায় গণহত্যা) প্রত্যাশিত নয়। আমাদের সবাইকে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।’

বাসসের খবরে উল্লেখ করা হয়, বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব কেএম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সরকারপ্রধান যুদ্ধের জন্য অস্ত্র উৎপাদনের অর্থ মানব জাতির, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে
ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন রোববার
চীন সফর শেষে দেশে প্রধানমন্ত্রী
দেশের উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rain with gusty winds may occur in all sections

দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে সব বিভাগে

দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে সব বিভাগে ভারি বৃষ্টিতে রাজধানীতে যান চলাচল। ফাইল ছবি
আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস দিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, কোথাও কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণ।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, ‘মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।’

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে সব বিভাগে
দেশজুড়ে সামান্য কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা
ভারি বর্ষণ হতে পারে ৪ বিভাগের কোথাও কোথাও
সামান্য বাড়তে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা
দেশজুড়ে সামান্য বাড়তে পারে দিন-রাতের তাপমাত্রা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka University hot in the middle of the night

মধ্যরাতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যরাতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবি ক্যাম্পাসে রোববার রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের বিক্ষোভ। কোলাজ: নিউজবাংলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছি, আমাদের সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরম অপমানজনক কথা বলছেন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে মাঠে নেমেছেন। এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে ‘আমি রাজাকার, আমি রাজাকার’ স্লোগান দিয়েছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কোন স্লোগান দেননি। তারা বারবার বলেছেন, ‘আমরা রাজাকার নই, আমরা রাজাকার নই।’”

কোটা সংস্কারের আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া একটি বক্তব্যকে অপমানজনক দাবি করে এর প্রতিবাদে রোববার মধ্যরাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যারা নিজেদের মেধাবী দাবি করে এ প্রথার সংস্কার চায়, তাদের সবাইকে রাজাকারের সন্তান বা নাতিপুতি বলেছেন।

চীনে সাম্প্রতিক সফর নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না। তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন যে, রাজাকারের নাতি-পুতিরা সবকিছু পাবে। মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোটা আর মেধা তো এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের সন্তান, নাতিপুতি মেধাবী না আর যত রাজাকারের বাচ্চা, নাতিপুতি উনারা মেধাবী, তাই না?’

প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে বের হতে থাকেন। শুরুতে বের হয়ে আসেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা। এরপর তাদের সঙ্গে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও কবি জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থীরা।

পরে বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের মিছিলে যোগ দিতে বাধা দিচ্ছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই খবরের ভিত্তিতে হলটির গেটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় মারামারি হয়।

পরে আন্দোলনকারীরা হলের ফটক খুলে ভেতরে ঢুকে স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে আনেন। এভাবে তারা মাস্টার দা সূর্যসেন হল, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভেতরেও ঢুকে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন।

যে সময় শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ শুরু হয় তখন রাত প্রায় ১১টা। নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলো রাত ১০টা থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরও হলগুলোর নারী শিক্ষার্থীরা হলের গেট খোলে রাস্তায় নেমে আসেন এবং মিছিলে যোগ দেন।

ওই সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রত্যাহার করতে হবে’ ধরনের স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কে দুই দফায় মিছিল করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন। আর নারী শিক্ষার্থীরা মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে নারী শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে বাকি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এরপর সেখানে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সারজিস আলমসহ কয়েকজন।

তারা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এটি তাদের ব্যানারের কোনো প্রোগ্রাম না। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ বিক্ষোভ করছেন।

ওই সময় আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি শুনব। এরপর তাদের কথা শুনে আমাদের নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়ার থাকলে দেব।’

রাত একটায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের হলে ফিরতে শুরু করেন। পরে অনলাইনে এসে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছি, আমাদের সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরম অপমানজনক কথা বলছেন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে মাঠে নেমেছেন। এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে ‘আমি রাজাকার, আমি রাজাকার’ স্লোগান দিয়েছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কোন স্লোগান দেননি। তারা বারবার বলেছেন, ‘আমরা রাজাকার নই, আমরা রাজাকার নই।’”

আজ সোমবারের কর্মসূচি ঘোষণা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) দুপুর ১২টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে তার এই অপমানজনক বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তা না হলে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের আগামীকাল ১২টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করার আহ্বান জানাচ্ছি। আর কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল করব।

‘আমরা চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) ঢাকাস্থ সকল কলেজসমূহের শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে যোগ দেবেন।’

সড়কে বুয়েট শিক্ষার্থীরাও

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অপমানজনক দাবি করে সড়কে নামেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরাও। রোববার রাত সোয়া একটার দিকে শিক্ষার্থীরা বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন। তারা মিছিল নিয়ে পলাশী, টিএসসি, বকশীবাজার হয়ে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জমায়েত হন।

ওই সময় এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় আমরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আমাদের এই শহীদ মিনারে জড়ো হব। এর আগে আপনারা সবাই আমাদের কর্মসূচির ব্যাপারে অবহিত হয়ে যাবেন।’

ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

এদিকে রাত ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আধা ঘন্টা পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে থাকা অবস্থায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করেননি। তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেষে রাত আড়াইটার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ শুরু হয়।

মিছিলটি শাহবাগ, টিএসসি, নীলক্ষেত হয়ে ফের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। ওই সময় তারা ‘হই হই, রই রই, জামাত শিবির গেলি কই’, ‘আমার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবে না’, ‘আছিস তো রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ ধরনের স্লোগান দেন।

এরপর ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

ওই সময় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। আর বিনয় দেখানোরও সময় নেই। আগামীকাল (সোমবার) থেকে বাংলাদেশের রাজপথে কোনো রাজাকার থাকবে না।

‘ছাত্রলীগের সকল স্তরের সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে, আগামীকাল থেকে বাংলাদেশে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, যারা আমাদের লাখো শহীদের রক্তের সাথে তামাশা করবে, রাজপথেই তাদের সাথে আমরা ফয়সালা করব।’

কর্মসূচি ঘোষণা করে সাদ্দাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং লাখো শহীদের রক্তকে অপমান করায় আগামীকাল (সোমবার) বিকেল তিনটায় ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করবে। এ কর্মসূচিতে ঢাকার সকল ইউনিটকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

‘একই সাথে বাংলাদেশের সকল জেলা, মহানগরে বিকেল তিনটায় একযোগে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল
কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four European countries will take three thousand workers from Bangladesh Foreign Minister

বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কর্মী নেবে ইউরোপের চার দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কর্মী নেবে ইউরোপের চার দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি কোটা আন্দোলন থেকে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ সরকার যে কোটা বাতিল করেছিল, সেটিই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরও যখন আন্দোলন হয় তখন বুঝতে হবে এর সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত চারটি দেশ ইতালি, জার্মানি, গ্রিস ও রোমানিয়া বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কর্মী নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির বিদায়ী সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

ড. হাছান জানান, এই তিন হাজার কর্মীর দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও কর্মী নেয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পরও ২০৩২ সাল পর্যন্ত যাতে আমাদের পণ্যের জন্য ইইউ থেকে জিএসপি বা শুল্কহ্রাস সুবিধাসহ বিদ্যমান অন্যান্য সুবিধা যেন অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোটার বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে এসেছে। সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর সহানুভূতিশীল হয়ে পুরো কোটাই বাতিল করে দিয়েছিল। হাইকোর্ট সেটি পুনর্বহাল করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করেছে।

কোটা আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়। সে কারণে এর ওপর সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে। আদালতের মাধ্যমেই এর সমাধান হতে হবে।

ড. হাছান বলেন, এখন যে আন্দোলন হচ্ছে সেটির কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না। এটি আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোও বটে। সরকার সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। সে কারণে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। তবে বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। যেমন অনেক জেলা থেকে অনেক ক্যাডারে কেউ সুযোগ পাচ্ছে না, মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে গেছে।

কোটা আন্দোলন থেকে বিএনপি সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘বিএনপি সবসময় চায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে। নিজেদের তো কিছু করার ক্ষমতা নেই, তারা অপরের ঘাড়ে চেপে বসে। কোনো সময় কোটার ওপর ভর করে, কোনো সময় তেল-গ্যাসের ওপর ভর করে, কোনো সময় আবার অন্য কিছুর ওপর ভর করে।

বিএনপি কোটা আন্দোলন থেকেও সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ সরকার যে কোটা বাতিল করেছিল, সেটিই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরও যখন আন্দোলন হয় তখন বুঝতে হবে এটির সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে।

বিমসটেক রিট্রিট

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১১-১২ জুলাই অনুষ্ঠিত বিমসটেক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় রিট্রিট সম্মেলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, চিকিৎসা, জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে সহায়তা এবং নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সবুজ শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে রিট্রিটে কথা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ।

রিট্রিটের সাইডলাইনে ভারত ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে মন্ত্রী হাছান জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য পচনশীল পণ্য আমদানিতে কোটা নির্ধারণের বিষয়টি আবারও এসেছে। তিস্তা বিষয়ে কারিইর দল প্রেরণ, ব্রিকসে অন্তর্ভুক্তি ও জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাশাপাশি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চান। কিন্তু সেটি রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর।

আরও পড়ুন:
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুলির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিন্দা
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ইয়েন অর্থসহায়তা দেবে চীন
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২২ এমওইউর সম্ভাবনা, চুক্তি হবে না
সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Attack on Trump condemnable PM

ট্রাম্পের ওপর হামলা নিন্দনীয়: প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের ওপর হামলা নিন্দনীয়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর ওপর এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর ওপর এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

চীনে তিন দিনের সফর নিয়ে রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এই নিন্দা জানান।

এক সাংবাদিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা তাদের গণতন্ত্র নিয়ে অনেক গর্ববোধ করে। আমরা তো গুলি খাওয়ায় অভ্যস্ত, অনবরতই খাচ্ছি। সেখানে একজন বিরোধী নেতাকে এভাবে গুলি করা...।

‘অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। তার একেবারে কানের ওপর দিয়ে গুলি চলে গেছে। যদি একটু এদিক-ওদিক হতো তিনি আর বাঁচতেন না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এটা আমেরিকার মতো জায়গায় হয় কী করে? আমেরিকার মতো সভ্য দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে কেন- সেটা তো আমাদের একটা প্রশ্ন। বাংলাদেশে হলে সরকারকে দায়ী করত। এক গ্রুপ সরকারকে দায়ী করত, আরেক গ্রুপ বলত যে নিজেই মারছি। এখানে লাগাম ছাড়া কথা বলা হয়। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়। যারা আমাদের কথায় কথায় এরকম দোষ দেয় তারাও এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।’

আরও পড়ুন:
আমার সাবেক পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক, হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না: প্রধানমন্ত্রী
কোটার সমাধান আদালত থেকেই আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন থেকে শূন্য হাতে ফেরার দাবিকারীরা মানসিকভাবে অসুস্থ: প্রধানমন্ত্রী
রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে

মন্তব্য

p
উপরে