× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Torture of Hajti after seeing the activities of Subeda and women prisoners
google_news print-icon
গাইবান্ধা জেলা কারাগার

সুবেদারের ‘অপকর্ম’ দেখে ফেলায় নারী হাজতিকে নির্যাতন!

সুবেদারের-অপকর্ম-দেখে-ফেলায়-নারী-হাজতিকে-নির্যাতন
গাইবান্ধা জেলা কারাগার। ছবি: নিউজবাংলা
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর সঙ্গে এক নারী কয়েদির অবৈধ কর্মকাণ্ড দেখে ফেলেন এক নারী কয়েদি। ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে ওই দুজনসহ আরও কয়েক বন্দি ও কারারক্ষী মিলে ওই কয়েদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে এক নারী হাজতিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, এক প্রধান কারারক্ষীর সঙ্গে এক নারী কয়েদির ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ দেখে ফেলায় তার মেয়েকে এই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী হাজতির নাম মোর্শেদা খাতুন সীমা। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। সীমা মাদক মামলায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাইবান্ধা কারাগারে বন্দি।

লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে হাজতি সীমার উন্নত চিকিৎসা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা করিমন নেছা। সেই অভিযোগের কপি নিউজবাংলার হাতেও এসেছে।

অভিযুক্তরা হলেন- গাইবান্ধা জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী (সুবেদার) আশরাফুল ইসলাম, নারী কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা ও আলেফা, কারারক্ষী তহমিনা ও সাবানা, সিআইডি আনিছ ও হাবিলদার মোস্তফা।

সুবেদারের ‘অপকর্ম’ দেখে ফেলায় নারী হাজতিকে নির্যাতন!
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া অভিযোগপত্র।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসককে দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হাজতি মোর্শেদা খাতুন সীমা একটি মামলায় (হাজতি নং-৫০৮) প্রায় ৫ বছর ধরে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি। কিছুদিন আগে কারাগারে কর্মরত সুবেদার আশরাফুল ইসলাম ও মহিলা কয়েদি (রাইটার) মেঘলা খাতুনের মধ্যে চলমান অবৈধ কার্যকলাপ দেখে ফেলেন নারী হাজতি সীমা।

বিষয়টি জানতে পেরে সুবেদার আশরাফুল ও মহিলা কয়েদি মেঘলা খাতুন সীমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। ঘটনা জানাজানির ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তারা কারাগারের ভেতরে সীমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন।

একপর্যায়ে সুবেদার আশরাফুল ও তার সহযোগীরা হাজতি সীমার স্বামী খোকন মিয়াকে গাইবান্ধা কারাগারে ডেকে আনেন। তারা অভিযুক্তরা সীমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য দিয়ে সীমার সংসার ভেঙে দেন।

এতোসবের পর হাজতি সীমা এসব ঘটনা জানিয়ে জেল সুপারের কাছে বিচার দেবেন জানালে সুবেদার আশরাফুল তাকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন। এক পর্যায়ে ২০ মার্চ দুপুরে সুবেদার আশরাফুলের নেতৃত্বে মহিলা কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা ও আলেফা এবং কারারক্ষী তহমিনা ও সাবানা কারাগারের মহিলা ইউনিটের ভেতরের বারান্দায় লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। পরে সেলের ভেতরে নিয়ে সীমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রশি দিয়ে দুই পা বেঁধে আবারও মারধর করেন। উপরন্তু নির্যাতনের এসব ঘটনা বাইরে প্রকাশ করলে সীমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, করিমন নেছা একাধিকবার তার মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি। অবশেষে হাজিরার তারিখে আদালতে মেয়ের সাক্ষাৎ পান মা করিমন নেছা। এদিন সীমা মায়ের কাছে নির্যাতনের ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের অভিযুক্ত প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টির সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার নামটা কেন আসতেছে জানা নেই।

‘ঘটনাটি এক মাস আগের। আরেক প্রধান কারারক্ষী মোস্তফার ডিউটির সময়ের। কিন্তু আমার নাম কেন হচ্ছে বিষয়টি জানি না।’

অপর অভিযুক্ত মহিলা কারারক্ষী তহমিনা আক্তার মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেদিন যা ঘটেছিল তার বিপরীত ঘটনা তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়েছে। আরেফিন নামে এক নারী কারারক্ষী ও তার স্বামীর মদদে এই বন্দি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

কারারক্ষী তহমিনা আরও বলেন, ‘এই বন্দী (সীমা) একাধিক মামলার আসামি। প্রশাসনের লোকজনের ওপর হাত তোলার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার দিনও সাবানা নামে এক নারী কারারক্ষীর গায়ে হাত তুলেছিলেন এই বন্দি।’

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কারাগারের জেল সুপার জাভেদ মেহেদী মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) এডিসি মহোদয় তদন্তে এসেছিলেন। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে ভেতরের ব্যাপারে পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে একটি ব্যাপার তৈরি হয়েছে, যা ফোনে বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিসি) মো. মশিউর রহমান মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) বিষয়টির তদন্ত করেছি। খুব দ্রুত জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। এরপরই জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Who will stop the occupation of special land of roads and highways?

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে? মহাসড়কের পাশের খাস জমি দখল করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চলছে অবকাঠামো নির্মাণ। কোলাজ: নিউজবাংলা
সড়ক বিভাগের জমি দিন দিন বেদখল হয়ে মোটা হচ্ছে ব্যক্তিবিশেষের পকেট। এসব টাকার ভাগ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তদের দাবি, নিয়মিত উৎকোচ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে সড়ক-মহাসড়কের পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। সংশ্লিষ্টদের চোখের সামনে এভাবে দখল হচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি।

অজ্ঞাত কারণে এসব দেখার কেউ নেই! এসব দখলদারি রুখবে কে?- এলাকার সচেতন মহলের মুখে মুখে ঘুরছে এ প্রশ্ন।

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কালিয়াকৈর উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে। এ ছাড়াও এ উপজেলার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। এসব মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক বিভাগের জমি রক্ষায় চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের পাশে চন্দ্রা এলাকায় একটি রেস্ট হাউজ ও ধামরাই-কালিয়াকৈর-মাওনা সড়কের কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় একটি সাইট অফিস তৈরি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারপরও দিনের পর দিন সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ হাটবাজার বসিয়ে, ফুটপাত দখল করে তাতে দোকানপাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন চক্রের সদস্যরা।

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ট্রাক স্টেশন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গায় থাকা পুকুর ভরাট করছে ব্যক্তিবিশেষ। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, চন্দ্রা এলাকায় সড়ক বিভাগের রেস্ট হাউজের পাশেই হাটবাজার ও ফুটপাতে দোকানপাট বসিয়ে রমরমা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা পুলিশের চোখের সামনে এসব কর্মকাণ্ড চললেও অজ্ঞাত কারণে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

সড়ক বিভাগের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছে বলেও আছে অভিযোগ।

এভাবে সড়ক বিভাগের জমি দিন দিন বেদখল হয়ে মোটা হচ্ছে ব্যক্তিবিশেষের পকেট। এসব টাকার ভাগ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তদের দাবি, নিয়মিত উৎকোচ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের লতিফপুর এলাকার জোড়া ব্রিজের পাশে সড়ক বিভাগের জমিতে বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি দোকান নির্মাণ শুরু করেছেন। এর পাশে ট্রাক স্টেশন এলাকায় মোরশেদ আলম দুরে (সাগর) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সড়ক বিভাগের সরকারি জমি ভরাট করেছেন।

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় সড়ক বিভাগের সাইট অফিসের পাশেই সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজত বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভেকু গাড়ি জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত, কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দিন দুয়েক পর আবার রাতের আধাঁরে ওই জমি ভরাট হয়ে গেছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগ দিয়েই দায় সেরেছে সড়ক বিভাগ। আর সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি ভরাটের মাধ্যমে দখল করেছেন সাগর।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাগর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের সম্পত্তি। সড়ক বিভাগের জমি দখল করছি না। এর এক পাশের সম্পত্তি মহাসড়কে গেছে, কিন্তু এখনও রেকর্ড হয়নি। অপর পাশে মহাসড়ক থেকে অ্যাপ্রোস সড়কের জন্য আবেদন করেছি। এখানে অস্থায়ী গরুর হাট করা হবে।’

কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়ক বিভাগের সাইট অফিসের পাশেই একটি বড় দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সে দোকানের ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন দীপংকর নামের এক ব্যক্তি।

জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়ক বিভাগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এটা নির্মাণ করতেছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দোকান মালিক বলেন, ‘আপনারা কেন আসছেন? এ বিষয়ে আপনাদের কী করার আছে?’

সড়ক-মহাসড়কের খাস জমি দখলের মচ্ছব, রুখবে কে?
ট্রাক স্টেশন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গায় থাকা পুকুর ভরাটের আরেকটি চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্টদের অতৎপরতার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযান চালিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী তায়েব আলম বলেন, ‘জমি ভরাট করার বিষয়ে মামলা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে চিঠি লিখে ইউএনও অফিস ও থানায় পাঠানো হয়েছে।

‘সরকার পক্ষ থেকে ভরাটকারীদের নামে মামলা হবে। বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়ও (আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক) জানেন। এটা নিয়ে তিনবার বসা হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভি আহম্মেদ সুজন বলেন, ‘ওই জমি ভরাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে চলমান দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব সমস্যা সমাধানে এ সপ্তাহেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজত বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিক স্কুলের জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ
কর্ণফুলীতে এক বছরে ৫০ কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার
ফুটপাত থেকে সরিয়ে হকারদের খোলা মাঠে পুনর্বাসন
বনের জমি উদ্ধারে গিয়ে হামলায় কর্মকর্তা হাসপাতালে
সওজের জমিতে মেম্বারের ‘সমাজসেবা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two DGMs stole 20 crore rupees in 27 months
মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড

২৭ মাসে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দুই ডিজিএম

২৭ মাসে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দুই ডিজিএম মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের চাকরিচ্যুত দুই ডিজিএম রবিউল করিম (বাঁয়ে) ও শান্তনু কুমার দাশ। কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রবিউল করিম ঢাকায় চারটি ফ্ল্যাট, রংপুরে বাগানবাড়ি ও নাটোরে ৫০ বিঘা জমি কেনেন। আর শান্তনু কুমার দাশ রাজধানীতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি প্লট ও গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও মিলেছে মোটা অংকের টাকা।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড আন্তর্জাতিক মানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য সেবামূলক যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আমদানিকারক এই প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ কোটি টাকা। উপরন্তু পরস্পর যোগসাজশে তারা প্রতিষ্ঠানের আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন।

আলোচিত ওই দুই ব্যক্তি হলেন- মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রবিউল করিম ও শান্তনু কুমার দাশ।

মাত্র ২৭ মাস ৮ দিনের চাকরি জীবনে এই দুই কর্মকর্তা কোম্পানিটির সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি করে নামে-বেনামে কিনেছেন একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি, প্লট ও জমি। তাদের ব্যাংক হিসাবেও মিলেছে মোটা অঙ্কের টাকা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা সম্প্রতি এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। একদিনের রিমান্ড শেষে তারা এখন কারাগারে।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে রবিউল করিম প্রতিষ্ঠানটিতে ডিজিএম পদে যোগ দেন ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর। অপরজন শান্তনু কুমার দাশ একই পদে যোগদান করেন ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল। তবে তাদের দুর্নীতি ডালপালা মেলে ২০২১ সালের শেষের দিকে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডির) চৌধুরী হাসান মাহমুদ ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। আর তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিভাবক হয়ে দাঁড়ান এই দুই কর্মকর্তা।

কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ এই দুই কর্মকর্তার ওপর সরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে সেবাদান কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমডির অনুপস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করে রবিউল করিম ও শান্তনু কুমার দাশসহ তাদের সহযোগীরা নিজেদের আখের গোছাতে নেমে পড়েন। পরস্পর যোগসাজশে তারা গড়েন অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট।

চাকরিদাতা কোম্পানিকে না জানিয়ে তারা নিজেরাই একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডে চাকরিরত অবস্থাতেই পদ-পদবী ব্যবহার করে তারা নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন।

দুর্নীতিবাজরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভুয়া প্যাড, ভুয়া নথি ও দলিল বানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অগোচরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রবিউল ও শান্তনু মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডে ডিজিএম পদে কর্মরত থাকলেও তাদের বেতনের অংকটা আহামরি কিছু ছিল না। স্বল্প বেতনের এই দুই চাকুরে ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেন ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা যাওয়ার পর।

এমডির মৃত্যুর পর থেকে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ মাস ৮ দিন চাকরিকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এই দুই দুর্নীতিবাজ। তাদের জালিয়াতি-দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। ওইদিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের একটি কারণ দর্শানো নোটিশ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাদের ভয়াবহ মাত্রার দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে ড়ে।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ওইদিনই প্রথম জানতে পারে যে, ডিজিএম রবিউল ও শান্তনু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও সরকারি সংস্থার কাছে তথ্য গোপন করে দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল নামে এক প্রতিষ্ঠানের প্যাডে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের সিইও ও ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে স্বাক্ষর করেন রবিউল।

প্রযুক্তি ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রবিউল। ডিজিডিপির নোটিশ আসার পর প্রতিষ্ঠানটি আরও জানতে পারে, রবিউলের এই অপকর্মের সঙ্গে কোম্পানির আরেক ডিজিএম শান্তনু কুমার দাশও জড়িত।

পরবর্তীতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসা ফেঁদেছেন ওই দুই কর্মকর্তা। তারা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ‘দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামে এক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে অংশ নিতেন। আর এ সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ বহন করতো মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমেই অনিয়মের বিষয়টি ধরে ফেলে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ইস্যু হলে এই দুই কর্মকর্তা আগেভাগে যোগাযোগ করে কৌশলে তা রিসিভ করে নিতেন।

অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জবাব চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পরপর তিনবার চিঠি পাঠানো হয়। আর প্রতিবারই এমডির স্বাক্ষর জাল করে সেই চিঠির উত্তর দেন রবিউল ও শান্তনু।

দ্বিতীয় চিঠিটি প্রতিষ্ঠানের ১৪ পুরানো পল্টন, রেজিস্টার অফিসে এলে রবিউল করিম কৌশলে অফিস কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে অফিসে পৌঁছে দেয়ার নাম করে জোর করে নিয়ে আসেন।

তবে ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় এই দুই ডিজিএম বাড়ি চলে গেলে তৃতীয় চিঠিটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। আর তখনই তাদের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।

কর্মকর্তারা বলেন, মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামও ক্ষুণ্ন করেছেন রবিউল ও শান্তনু। পরস্পর যোগসাজশে তারা কোম্পানির লেটার হেড প্যাড ব্যবহার করে তাতে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ১৩ এপ্রিল প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে চিঠিও ইস্যু করেন। ওই চিঠিতে রবিউল উল্লেখ করেন, তিনি কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে আছেন।

শুধু তাই নয়, তথ্য গোপন করে রবিউল তার ব্যক্তিগত ও কোম্পানির ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। এই দুজন গ্রাহকদের কাছ থেকে উৎকোচ নিতেন। নামে-বেনামে কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে টাকা পকেটে ভরে তা বকেয়া দেখাতেন।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, এই দুই কর্মকর্তা সামান্য বেতনের চাকুরে হয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল বিত্তের মালিক হয়ে গেছেন।

কোম্পানির হিসাবমতে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী হাসান মাহমুদ মারা যাওয়ার পর এই দুজন তাদের চাকরিকালীন ২৭ মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া মেডিগ্রাফিক প্রতিষ্ঠানের আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা অনেকদিন ধরেই আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তদন্ত করে জানতে পেরেছি, তারা নিজেদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও তথ্য গোপন করে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে গড়ে তোলেন। আর এভাবে তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরও ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছেন।’

জাল-জালিয়াতি ধরা পরার পরপরই মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং থেকে ওই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ জাকির হোসেন ২৪ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন। ওইইদিনই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে কোম্পানির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় রবিউল ও শান্তনুকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

গুলশান থানা পুলিশ জানায়, রবিউল করিম চাকরিকালীন তথ্য গোপন করে ‘দ্য ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’, ‘বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ’ ও ‘প্রযুক্তি ইন্টারন্যশনাল’ এবং শান্তনু কুমার দাশ ‘নোরামেড লাইফ সাইন্স’ নামে কোম্পানি খোলেন।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেডের নামে আসা সব কাজ তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতেন। এভাবে অল্প দিনেই প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকায় রবিউল করিম রাজধানীতে বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাট, রংপুরে বাগানবাড়ি ও নাটোরে ৫০ বিঘা জমি কেনেন। আর শান্তনু কুমার দাশ রাজধানীতে কেনেন দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি প্লট ও গাড়ি। এছাড়া তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোটা অংকের টাকা পাওয়া গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই অল্প সময়ে এতো অর্থ-সম্পত্তির মালিক কিভাবে হলেন- তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি রবিউল ও শান্তনু।

মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড জানায়, সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালেও চেক জালিয়াতির কারণে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়ার এক সপ্তাহ আগেও কোম্পইনর একটি চেক জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়েন তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Satgaon forest million trees disappear

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব! মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত সাতগাঁও বনের সর্বত্র নজরে পড়ে কেটে নেয়া গাছে গুড়ির এমন দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ রয়েছে, খোদ বন কর্মকর্তারাই এসব গাছ সাবাড় করার জন্য দায়ী। দিনদুপুরেই তারা নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে লোক দিয়ে গাছ কেটে বন উজাড় করে দিচ্ছেন। বাধা দিতে গেলে উল্টো মামলা করে দেন বন কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজারের সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ এককথায় লোপাট হয়ে গেছে। খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই দিন-দুপুরে এসব গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যেই গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো বন বিভাগের মামলার হুমকির মুখে পড়তে হয়।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কোল ঘেঁষেই অবস্থিত সাতগাঁও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রায় চল্লিশ হেক্টর উঁচু-নিচু টিলা আর পাহাড়ে ঘেরা এই বনাঞ্চলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ঔষধি গাছ। এসব গাছ রোপণ করা হয়েছে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায়।

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!
সাতগাঁও বনের গাছগুলোতে এভাবেই নম্বর দেয়া আছে। কিন্তু বন কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে গাছই থাকছে না। ছবি: নিউজবাংলা

বনের সব গাছের গায়েই নম্বর দেয়া। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই বনের গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পড়ে আছে কেবল শত শত কাটা গাছের শেকড়সমেত গুড়ি আর ডালপালা। কেটে নেয়া এসব গাছের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সামাজিক বনায়নের জন্য স্থানীয় উপকারভোগীদের নিয়ে এই বাগান গড়ে তোলা হয়। সাতগাঁও বনবিটের আওতায় এই বাগানে দ্রুত বর্ধনশীল আকাশমনি, বেলজিয়াম ও ক্রস গাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু এসব গাছ বড় হতে না হতেই শ্যেন দৃষ্টি পড়ে যায় খোদ বন কর্তাদের। দিনদুপুরে হরহামেশাই এসব গাছ কেটে নিয়ে যান বন বিভাগের বিট কর্মকর্তারাই- এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সাতগাওঁ বনবিট এলাকায় বসবাস করা বাগানের উপকারভোগীদের একজন শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘২০০৭ সালে শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ অফিসের মাধ্যমে আমরা এই বাগানের উপকারভোগী হই। এই গাছগুলো রোপণ করার পর এখন বড় হয়েছে।

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

‘কিছুদিন আগে নিলাম হয়। এরপর সাতগাঁও বিট অফিসার ও শ্রীমঙ্গলের রেঞ্জার অবাধে গাছগুলো কেটে বিক্রি করছেন। এখন গাছগুলোর নিলাম হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা নিলামের টাকা পাওয়ার সময়। অথচ বন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে গাছগুলো কেটে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। আমরা বাধা দিলে গাছ চুরির মামলা দিয়ে দেয়া হয়।’

বনের পার্শ্ববর্তী গুচ্ছগ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমি এখানে গরু চড়াতে আসি। প্রায় সময়ই দেখি বনের কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন দিয়ে গাছ কাটছেন। গাছ কেটে তারা দিনে ও রাতে প্রকাশ্যেই নিয়ে যান। অনেক সময় বড় বড় গাড়ি দিয়েও গাছ নিয়ে যাওয়া হয়। আর এতে বাধা দিলে মামলা দিয়ে দেয়।’

স্থানীয় অধিবাসী মুজাহিদ বলেন, ‘আমার লেবু বাগানে যাওয়া-আসার সময় সাতগাঁও বিটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। প্রায়ই দেখি বনের লোকেরা গাছ কাটছে। বন কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’

সাতগাঁও বনের কোটি টাকার গাছ গায়েব!

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতগাঁও বনবিটের এই সামজিক বনায়নটি ১২ ফেব্রুয়ারি নিলামের টেন্ডার হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এই বাগানে মোট গাছের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৪৪টি। এসবের মধ্যে রয়েছে আকাশমনি, বেলজিয়াম ও ক্রস গাছ। ৪০ হেক্টর এলাকাজুড়ে স্থানীয় উপকারভোগী ৪০ জনকে নিয়ে এই বনায়ন গড়ে তোলা হয়।

এ বিষয়ে বন বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মজনু বলেন, ‘বনের গাছ কাটা হলে তার দায় শুধু বিট অফিসারের নয়। এই দায় উপকারভোগীরাও এড়াতে পারেন না। চুক্তি অনুযায়ী তাদেরও কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আর মামলা দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা। বরং তাদের হাতেনাতে ধরেই মামলা দেয়া হয়।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Most of the houses in the Teknaf shelter project are being rented

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরের সাতটিই বরাদ্দ পেয়েছেন সচ্ছল ব্যক্তিরা। ছবি: নিউজবাংলা
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা জানান, এখানে ১০টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে অসচ্ছল উপকারভোগীরা বসবাস করেন। বাকি সাতটি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা কেউ থাকেন না। কেউ কেউ নিজের নামে বরাদ্দ ঘর ভাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে সাতটি ঘরে তালা ঝুললেও বরাদ্দপ্রাপ্তরা নতুন ভাড়াটে খুঁজছেন। দুটি ঘর ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ৫২৩ জন ভূমি ও গৃহহীনের মাঝে ঘর বিতরণ করা হয়। মাথা গোঁজার স্থায়ী একটি আবাসন পেয়ে নতুন জীবন শুরু করেন ভূমিহীন অসহায় মানুষ।

তবে এখানে ঘর বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই ভূমিহীন নন। অভাবগ্রস্তও নন। দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেকেই সচ্ছল। আশ্রয়ণের সেসব ঘর মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য।

আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও ভাড়া আদায়ের এমন একাধিক ঘটনা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে সেসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য
আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া প্রভাবশালী সচ্ছলদের অধিকাংশ ঘর এখন তালাবদ্ধ। খোঁজা হচ্ছে ভাড়াটে। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নে নয়াপাড়ার শেষ মাথায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালিকায় ৫ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামালের ঘর। ওই গ্রামেই তার নিজস্ব টিনশেড ঘর রয়েছে। তারপরও প্রভাব খাটিয়ে তিনি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। কামালের নিজের ঘর থাকায় এখন আশ্রয়ণে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকেন আরেকজন।

আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কামাল হোসেন নিজের নামে বরাদ্দ ঘরে কখনোই বসবাস করেননি। কামালসহ প্রভাবশালী সাতজন একটি করে ঘর বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কামাল দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘরটি বিক্রি করে দেন রাশেদা নামের এক নারীর কাছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ওই নারীকে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।

নয়াপাড়ায় (পুরান পাড়া) আশ্রয়ণের ঘরে বসবাসকারী এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের এখানে ১০টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে আমাদের মতো অসচ্ছল উপকারভোগী বসবাস করে। বাকি সাতটি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা কেউ থাকেন না।

‘৫ নম্বর ঘর বিক্রি করলেও পরে টাকা ফেরত নিছে। আর ১ নম্বর ঘর সাইফুল ইসলাম ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছিল। এখন সেই টাকা ফেরত দিছে কিনা তা জানি না। কেউ কেউ নিজের নামে বরাদ্দ ঘরটি দীর্ঘদিন তাদের আত্মীয়দের কাছে ভাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে সেই সাতটি ঘরে তালা ঝুলিয়ে রাখলেও তারা নতুন ভাড়াটে খোঁজ করছেন।’

টেকনাফে আশ্রয়ণের অধিকাংশ ঘরে চলছে ভাড়া-বাণিজ্য
নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে দশটি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটি বরাদ্দ পেয়েছেন প্রকৃত ভূমিহীনরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল ও সাইফুল মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ঘর আগে বিক্রি করেছিলাম। এখন আর ঘর বিক্রি করব না। ভাড়াও দেব না। অন্যদের পাঁচটি বাড়ি ভাড়া চলে। আমাদের ঘর তালাবদ্ধ করে রাখছি।’

বিষয়টি নিয়ে কোনো খবর প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তারা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা সঠিকভাবে করা হয়নি। তালিকা প্রস্তুতকারীরা প্রকৃত ভূমিহীনদের বদলে নিজেদের পছন্দের লোকের নাম দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত অভাবীদের অনেকে আশ্রয়ণের ঘর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সচ্ছল ব্যক্তিরা ঘর বরাদ্দ পেয়ে সেগুলো মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে রাখছেন।

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মুফিত কামাল ও ফেরুজা বেগম বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সরকার গুচ্ছগ্রাম করে টিনের ঘর বানিয়ে বরাদ্দ দিয়েছিল। সেখানে প্রতিটি ঘরেই বরাদ্দপ্রাপ্ত অভাবী মানুষগুলো থাকে। বর্তমানে ওইসব ঘর জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

‘পাশেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর রয়েছে। অথচ অনেকে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকছেন না। সবময় তালাবদ্ধ থাকে। আর যারা বসবাস করেন তাদের সিংহভাগই অন্যের বরাদ্দ পাওয়া ঘরে থাকেন। অনেকে উপহারের ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার অনেকে ভাড়া দিয়েছেন।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের যেসব ঘর তালাবদ্ধ থাকে, সেগুলো গুচ্ছগ্রামে জরাজীর্ণ ঘরে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

স্থানীয় কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো. শাহ্ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সিংহভাগ ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা থাকেন না। শুধু সাবরাং নয়, টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে এই প্রকল্পের আওতায় যেসব ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সবখানেই এমন অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যাদের ঘরের প্রয়োজন নেই তারাই এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছের লোক এবং আত্মীয়দের ঘর দিয়েছেন। তাই সিংহভাগ ঘর তালাবদ্ধ থাকছে।’

প্রশাসনের কাউকে কোনোদিন আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসব ঘর তদারকি করতেও দেখেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বরাদ্দ পাওয়া যেসব ঘরে প্রকৃত মালিকরা থাকেন না, সেগুলো ফেরত নিয়ে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে বণ্টন করার দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর কেউ বিক্রি করে থাকলে এবং ভাড়া দিয়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেয়া ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘর ভাড়া দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কার চান বাসিন্দারা
গজারিয়ায় আশ্রয়ণের ঘরে আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The causes of the Faridpur accident were known

ফরিদপুরের দুর্ঘটনার যেসব কারণ জানা গেল

ফরিদপুরের দুর্ঘটনার যেসব কারণ জানা গেল অতিরিক্ত গতি থাকায় সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে যায় যানবাহন দুটির সামনের অংশ। ছবি: নিউজবাংলা
সরেজমিনে ঘুরে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছে নিউজবাংলা। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, মহাসড়কে উল্টো লেনে গাড়ি চালানো ও এবড়ো খেবড়ো সড়কের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরের কানাইপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুর্ঘটনায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও দুজন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুরের দিগনগর তেঁতুলতলায় ঢাকা থেকে মাগুরা অভিমুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে সড়কেই ঝরে পড়ে ১১ প্রাণ। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার।

তবে সরেজমিনে ঘুরে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছে নিউজবাংলা। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, মহাসড়কে উল্টো লেনে গাড়ি চালানো ও এবড়ো খেবড়ো সড়কের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ফরিদপুর পুলিশ সুপার, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার ও স্থানীয়দের দাবি অন্তত তা-ই।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ দুটিরই অতিরিক্ত গতি ছিল। আর পিকআপচালক তার নির্দিষ্ট লেন ছেড়ে বিপরীত লেনে চলে আসেন। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের চালক ফিট ছিলেন কি না, পিকআপটির চালকের লাইসেন্স ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।’

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার সুবাস বাড়ৈ বলেন, ‘গাড়িটি (বাস) ওভার স্পিডে (অতিরিক্ত গতি) চলছিল। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই শেখ লিমনের বাড়ি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখানে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কিছু বিট ও তার পাশে গর্ত আছে, রাস্তাও এবড়ো থেবড়ো। ঈদের আগেও এখানে বিশ-বাইশটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকালে ওই বিটের কাছেই দুর্ঘটনা ঘটে।’

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানান, নিহতদের দাফনের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের পরবর্তীতে ৫ লাখ এবং গুরুতর আহতদের ৩ লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন:
ফরিদপুরে পিকআপে বাসের ধাক্কায় নিহত ১৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Syndicate behind Chasiks 20 Ghat Khas collection

চসিকের ২০ ঘাটে ‘খাস কালেকশন’, নেপথ্যে সিন্ডিকেট

চসিকের ২০ ঘাটে ‘খাস কালেকশন’, নেপথ্যে সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্ণফুলীর একটি ঘাটে যাত্রী পারাপার। ছবি: নিউজবাংলা
উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় পহেলা বৈশাখে ২০ ঘাটের ইজারা হয়নি। আর এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে চসিকের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ইজারালোভী সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছেন। আর সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

কর্ণফুলীর সল্টগোলা-ডাঙারচর ঘাটসহ ২০টি নদী পারাপার ঘাট ইজারা না হওয়ায় নামমাত্র ‘খাস কালেকশন’ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিরুদ্ধে। এতে করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চসিক রাজস্ব শাখার কর্মকর্তারা স্থানীয় পর্যায়ের পুরনো ইজারাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে খাস আদায়ে উঠেপড়ে লেগেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মেয়রের নামও ভাঙাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চসিকের এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীসহ পণ্য আনা-নেয়া করা হয়। ঘাটগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ২০ ঘাটের ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি।

ঘাট ইজারা না হওয়াটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে চসিকের রাজস্ব শাখা ‘খাস কালেকশন’ আদায়ের দিকে হাঁটছে। এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিতে ইজারালোভী সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছেন। খাস কালেকশনের নামে রাজস্ব আদায় কম দেখানোর সুযোগ তৈরি করছেন তারা।

চসিকের ২০ ঘাটে ‘খাস কালেকশন’, নেপথ্যে সিন্ডিকেট
একটি ঘাটে ইজারাদারের টোল আদায়ের ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

এই খাস কালেকশনকে রাজস্ব ফাঁকির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে পাটনিজীবী একাধিক সমিতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন পুরনো ইজারা ব্যবসায়ী বলেন, খাস কালেকশনে টাকা আদায় কম দেখানো গেলে পরবর্তী বছরের ইজারা মূল্য কমানোর আইনগত পথ সৃষ্টি হয়। এছাড়া একাধিকবার খাস কালেকশনে পরের বছর আইনগত ঝামেলা এড়িয়ে কম টাকায় ইজারা নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। এভাবেই কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারসাজিতে কয়েক বছর পর পর গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোর ইজারা মূল্য কমে যায় এবং সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়।

তারা বলেন, এই পদ্ধতিতে সরকারি কোষাগারে নামমাত্র অর্থ জমা হলেও বড় অংকের টাকা চলে যাবে চসিক সিন্ডিকেটের পকেটে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এ বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে চসিক কিংবা সরকার।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট (১৫১৬৩/২৩) পিটিশনের কারণে এবার বাংলা ১৪৩১ সনে চসিক নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটগুলোর ইজারা স্থগিত রয়েছে। ঘাটে ঘাটে আবার কানাঘুষাও চলছে যে এসব চসিকেরই কৌশল। কেননা এতে কপাল খুলে যায় একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও চসিক-সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের।

চসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটগুলো হলো- পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট, সল্টগোলা ঘাট, বাংলাবাজার ঘাট, নয়ারাস্তা পাকা পুলঘাট, সদরঘাট, ফিশারীঘাট, নতুনঘাট, এয়াকুব নগর লইট্যা ঘাট, পতেঙ্গা ১৪ নংম্বর ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম ঘাট, ১১ নম্বর মাতব্বর ঘাট, ১২ নম্বর তিনটিংগা ঘাট, ৭ নম্বর রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ঘাট, ৯ নম্বর বিওসি ঘাট, অভয় মিত্র ঘাট, চাক্তাই খালের পাশে পানঘাট থেকে গাইজ্জের ঘাট, পতেঙ্গা চাইনিজ ঘাট, বাকলিয়া ক্ষেতচর ঘাট, চাক্তাই ঘাট ও চাক্তাই লবণ ঘাট।

চসিকের ২০ ঘাটে ‘খাস কালেকশন’, নেপথ্যে সিন্ডিকেট

চলতি বছরে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘাটের সম্ভাব্য ইজারা মূল্য ছিল- পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সল্টগোলা ঘাট ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ১০০ টাকা, বাংলাবাজার ঘাট ২৪ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা, সদরঘাট ২১ লাখ ৯৭ হাজার ১২৪ টাকা, ফিশারি ঘাট ২৪ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা, পতেঙ্গা ১৪ নম্বর ঘাট ও গুচ্ছগ্রাম ঘাট ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১১ নম্বর মাতব্বর ঘাট ৮৭ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৯ নম্বর বিওসি ঘাট ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

হিসাব করলে দেখা যায়, পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাটের সম্ভাব্য ইজারা মূল্যের সঙ্গে ২০ শতাংশ ভ্যাট যোগ করলে মোট ইজারা দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে দৈনিক কিস্তি পড়ে ৮৮ হাজার ৬০২ টাকা। অনুরূপভাবে সল্টগোলা ঘাটের দৈনিক কিস্তি ১৮ হাজার ৮৪৫ টাকা।

এভাবে প্রতিটি ঘাটে দৈনিক ১০ হাজার থেকে ৮৮ হাজার টাকার মতো ইজারা আদায় হওয়ার কথা। কিন্তু অতি কৌশলে চসিকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দৈনিক মাত্র ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার নামমাত্র মূল্যে খাস কালেকশন আদায়ের প্রক্রিয়া নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

অভয় মিত্র ঘাটের খাস কালেকশনকারী মো. আবুল জানান, দৈনিক দু’হাজার টাকা হিসাবে তিনি এই ঘাট নিয়েছেন। বাংলাবাজার ঘাটের লোকমান দয়াল জানান, দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার টাকায় তিনি এই ঘাট দেখাশোনা করছেন।

চসিক নীতিমালায় ঘাট ইজারা কিংবা খাস আদায়ে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত স্থানীয় পাটনিজীবী সমিতিকে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু খাস আদায়ের জন্য স্থানীয় পাটনিজীবী সমিতিগুলো মেয়রের কাছে ধর্না দিয়েও সাড়া না পায়নি। অনন্যোপায় হয়ে তারা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন কিংবা মানববন্ধন কর্মসূচির চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানা গেছে।

সল্টগোলা ডাঙ্গারচর পাটনিজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাম্পান মাঝিরা সাম্পান চালিয়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে দুমুঠো ডাল-ভাত খেতে চাই। আমরা চাই কেউ আমাদের পেটে লাথি না মারে। টোল কিংবা খাস কালেকশন যে আদায় করবে করুক, আমরা এই ঘাটের মাঝি; আমরা যাত্রী পারাপার করতে চাই।

‘বর্তমানে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে খাস কালেকশন দিচ্ছি। এখনও চসিক থেকে কেউ আসেনি। আমরা সরকারি রেজিস্ট্রেশনধারী পাটনিজীবী সমিতি। কিন্তু বাইরের কিছু লোক ঘাট দখলের পাঁয়তারা করছে ঘাটে চাঁদাবাজি করার জন্য। আমরা এসব হতে দেব না।’

বেশিভাগ ঘাটের ইজারাদার আব্দুল শুক্কুর প্রকাশ তেল শুক্কুর বলেন, ‘আমরা কয়েকটি ঘাটের খাস কালেকশন করতেছি। ১৫ দিন পর পর সিটি করপোরেশনে টাকা দিতে হয়।’

চসিকের ২০ ঘাটে ‘খাস কালেকশন’, নেপথ্যে সিন্ডিকেট

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কিছু পাটনিজীবী সমিতি মিলে হাইকোর্টে রিট করে স্টে-অর্ডার করেছে; যাতে ইজারা টেন্ডার বন্ধ থাকে। সে কারণে ঘাটগুলোর ইজারা বন্ধ রয়েছে। আমরা ডকুমেন্টস সংগ্রহ করছি। শিগগিরই রিট শুনানি করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর বর্তমানে ঘাটগুলো বিভিন্নজনকে বিভিন্নভাবে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এস্টেট শাখা ভালো বলতে পারবে।’

চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রাহমান সানি বিশেষ ট্রেনিংয়ে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চসিকের সহকারী এস্টেট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমাদের আইন শাখা কাজ করছে। শিগগিরই হাইকোর্টের স্টে-অর্ডারটি ব্যাকেট করা হবে। তারপর ঘাটগুলোর টেন্ডার কল করা হবে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব লোকজন ঘাটগুলো দেখাশোনা করছে। আর সল্টগোলা ডাঙারচর ঘাটে লোকজন গেছে।’

চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ মানতে হবে। কিছু করার নেই। খাস কালেকশনে ঘাট চলছে। যেহেতু আদালতের নির্দেশে স্থগিত ইজারা। রিট শুনানির জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। কিন্তু এভাবে খাস কালেকশন চলতে থাকলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসবে না সেটাও সত্য।’

মন্তব্য

p
উপরে