× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Knife attack in shopping mall in Australia killed 7 including the attacker
google_news print-icon

অস্ট্রেলিয়ায় শপিং মলে ছুরি হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৭

অস্ট্রেলিয়ায়-শপিং-মলে-ছুরি-হামলা-হামলাকারীসহ-নিহত-৭
হামলার পর শপিং মলটি থেকে লোকজনকে বের করে দেওয়া হয়। ছবি: আল জাজিরা
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার অ্যান্থনি কুক লেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, হামলাকারী একাই ছিলেন। ফলে ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো আশঙ্কা নেই।’

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি ব্যস্ত শপিং মলে ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছেন এক ব্যক্তি। তার উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই অবশ্য পুলিশের গুলিতে ওই দুর্বৃত্তের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল চারটার কিছুক্ষণ আগে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টফিল্ড বন্ডি জংশন শপিং মলে হওয়া এ হামলার খবর পায় পুলিশ।

ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার অ্যান্থনি কুক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বড় সড় ওই শপিং সেন্টারটি সবসময় লোকারণ্য হয়ে থাকে। ফলে হামলাকারীর আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘৯ মাস বয়সী এক শিশু ও তার মাসহ আটজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে পুলিশ জানায়, হাসপাতালে নেয়ার পর ষষ্ঠ ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার পরপরই শপিং মলটি খালি করে ফেলা হয়।

তবে এ হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, ‘এ সময় যেকোনো অনুমানই বেঠিক হবে। আমাদের উচিৎ তদন্তকারী দলকে তাদের কাজ করতে দেয়া।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্থনি কুক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, হামলাকারী একাই ছিলেন। ফলে ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো আশঙ্কা নেই।’

বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন বন্দুক ও ছুরি আইন থাকায় এ ধরনের হামলা অস্ট্রেলিয়ায় একেবারেই বিরল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রক্তমাখা ছুরি নিয়ে হাফ প্যান্ট ও স্পোর্টস জার্সি পরা এক ব্যক্তি ঘুরছেন আর তাকে থামাতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন মলের ভেতরে থাকা লোকজন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Funeral arrangements for Raisis body have begun in Tehran

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু ইব্রাহিম রাইসিসহ নিহত অন্যদের মরদেহ ছুঁয়ে দেখছেন ভক্ত-সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাইসির মরদেহ বহনকারী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। মরদেহ বিমান থেকে নামানোর সময় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা লালগালিচার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের অনেকে কাঁদছেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্য আয়োজনের অংশ হিসেবে মরদেহ তেহরানে নেয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থাটির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাইসির মরদেহ বহনকারী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। তার মরদেহ বিমান থেকে নামানোর সময় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা একটি লালগালিচার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ওই সময় তাদের অনেককেই কাঁদতে দেখা যায়।

ইরনা প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানের একটি আসন খালি রাখা হয়েছে। আর আসনটিকে কালো কাপড়ে জড়িয়ে সেখানে রাইসির একটি ছবি রাখা আছে।

রাইসির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রটির কট্টরপন্থি এজেন্ডা বাস্তবায়নকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু
মঙ্গলবার ইরানের তাবরিজ শহরের রাস্তায় শোকার্ত মানুষে ঢল নামে। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে রাইসির জানাজা হয়। তার সঙ্গে থাকা বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের আরোহী পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের জানাজাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাইসি ও অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাবরিজ শহরে শোক মিছিল বের হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদোল্লাহিয়ান ও রোববারের দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের মরদেহ বহনকারী ফুল দিয়ে সাজানো ও ইরানের পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত ট্রাকটি যাওয়ার সময় মারটায়ার্স স্কয়ারে কালো পোশাক পরিহিত অসংখ্য মানুষ বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।

তাবরিজে মঙ্গলবার দেয়া এক ভাষণে ইরানের ইন্টেরিয়র মিনিস্টার আহমাদ ভাহিদি বলেন, ‘রাইসি ও আমির-আবদোল্লাহিয়ান সাহসের সঙ্গে সেবা ও কূটনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গাজা রক্ষায় রাইসির মর্মস্পর্শী বক্তব্যের কথা কে ভুলতে পারে?’

তাদের মরদেহগুলো এর পরে শিয়াদের পবিত্র শহর কোম-এ নেয়া হবে। সেখানে ইরানের প্রশিক্ষিত ও অভিজাত ধর্মগুরুরা ফাতিমা মাসুমাহ মাজারে মৃতদের জানাজা নামাজ পরিচালনা করবেন।

রাইসিসহ অন্যদের শেষকৃত্য আয়োজন উপলক্ষে বুধবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লাহ মসজিদে বড় আকারের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শেষকৃত্যের আয়োজন নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য ইরানিয়ান ভাইস প্রেসিডেন্ট মানসুরি ওইদিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দেশজুড়ে সব কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, রাইসির মরদেহ এরপর ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানাজা নামাজ পরিচালনা করবেন।

এদিকে সোমবার ইরানিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশনকে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আজারবাইজানের পূর্বাঞ্চলের ওই ঘটনাস্থলে যাবে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন:
রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raisis death could destabilize Iran

রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান

রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান বাঁ থেকে- মোজতবা খামেনি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
৮৫ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাইসিকেই দেখা হচ্ছিল। তার মৃত্যুতে এখন খামেনির ছেলেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতার বংশগত উত্তরাধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশটির সংকট আরও বাড়াবে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান নিহত হওয়ার পর দেশটির শাসন ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে সোমবারই। তবে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয় বলে সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে হবে না ইরানের নাগরিকদের।

আলোচনাটা সর্বোচ্চ নেতার পদটি নিয়েই। ৮৫ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাইসিকেই দেখা হচ্ছিল। তবে তার মৃত্যুতে দেশ পরিচালনার গুরুভার কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে মাথাব্যথা। সঙ্গে জল্পনা-কল্পনাও ডানা মেলছে।

রাইসির মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে এখন খামেনির ছেলেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ক্ষমতার বংশগত উত্তরাধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশটির সংকট আরও বাড়াবে। কারণ রাজতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশটির নাগরিকদের অনেকে এই শাসন ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন হিসেবে দেখেন।

ইরানের শাসন ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে

প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ইরানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনিই সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে কাজ করেন। শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণও তার হাতে।

১২ সদস্যবিশিষ্ট গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যও তার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দেশটির প্রেসিডেন্ট, সংসদ সদস্য, এমনকি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রার্থীদেরও যাচাই করে এই গার্ডিয়ান কাউন্সিল।

কাগজ-কলমে দেশে ইসলামি আইন বজায় রাখতে সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যরা (ধর্মগুরু)। তবে বাস্তবতা হলো, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিজ স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা ও তার নিজস্ব অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নিতে কেউ যাতে চ্যালেঞ্জ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করে সতর্কতার সঙ্গে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন।

কট্টরপন্থী রাইসি ছিলেন খামেনির সমর্থক এবং তার ঘনিষ্ঠদেরও অন্যতম একজন। ২০২১ সালের নির্বাচনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাইসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। নির্বাচনে রুহানিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও বাধা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে আট বছর ধরে প্রেসিডেন্টের পদ সামলানো হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হন রাইসি। ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোট পড়ে সেবারের নির্বাচনে।

রাইসির মৃত্যুর পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ইরানের সংবিধান অনুসারে ৫০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে কাকে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আনা হবে, সে কাজটি সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।

এর অর্থ এই দাঁড়াচ্ছে যে, দেশটিতে কড়া ইসলামি শাসন আরোপ চলতে থাকবে এবং ভিন্নমতের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে ইরান। এছাড়া দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও পশ্চিমাদের গভীর সন্দেহের চোখে দেখা চলমান থাকবে।

ক্ষমতার উত্তরাধিকারের বিষয়ে যা হবে

ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট আসবেন, যাবেন। কেউ কেউ কট্টরপন্থী, কেউবা মধ্যপন্থী হতে পারেন। তবে প্রত্যেককেই শাসন ব্যবস্থার প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করতে হয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রয়েছেন খামেনি। ফলে তার মৃত্যুর পরই কেবল ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

৮৮ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গড়া পরিষদের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়। ওই পরিষদের সদস্যরা আবার ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মাধ্যমে আট বছর পর পর নির্বাচিত হন।

খামেনির উত্তরাধিকারী কে হবেন- এ বিষয়ক আলোচনা বা যে কোনো কৌশল সাধারণ জনগণের অগোচরে হয়ে থাকে। ফলে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী কে হতে চলেছেন, সাধারণের পক্ষে তা আগে থেকে জানা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তবে বিশ্লেষকরা যে দুই ব্যক্তিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিলেন তাদের একজন রাইসি, অন্যজন খামেনির ছেলে মোজতবা। ৫৫ বছর বয়সী মোজতবা একজন শিয়া ধর্মগুরু। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তার।

মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ পদে বসলে যা হতে পারে

বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির নেতারা ইরানকে শুধু পশ্চিমা ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান সামরিক একনায়কতন্ত্র এবং রাজতন্ত্র থেকেও অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তবে খামেনির ছেলে সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলে ফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে ইরানে। শুধু ইসলামি শাসনের সমালোচকদের কাছেই নয়, দেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা যেসব ইরানি ‘অনৈসলামিক’ বলে বিবেচনা করে, তাদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে ক্ষমতার এই উত্তরাধিকার।

পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। আর ইসলামি শাসন যা রাইসির আমলে আরও তীব্র আকার ধারণ করে, দেশের নারী ও যুবাদের আরও বিচ্ছিন্ন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছে ইরান। ২০২২ সালে মাহসা আমিনি গ্রেপ্তারের পর দেশটি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠা এর বড় উদাহরণ। চুল না ঢেকে রাস্তায় বের হওয়ার কারণে আমিনি গ্রেপ্তার হন। এর বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওই বিক্ষোভ থেকে দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত ও ২২ হাজারের বেশি নাগরিক আটক হন।

রাইসির মৃত্যুতে তাই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেয়ার প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশটিতে ফের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন:
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
US could not help Iran in helicopter crash

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘ইরানের সরকার আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়েছি, আমরা সহায়তা দিতাম।… তবে শেষ পর্যন্ত, মূলত লজিস্টিক কারণে, আমরা সহায়তা দিতে সক্ষম হইনি।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছিল তেহরান। কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত কারণে ওয়াশিংটন সহযোগিতা করতে পারেনি।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

রোববার আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধনের পর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে ফেরার পথে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান ও তাদের সফরসঙ্গীদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সবার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু মনে করলেও তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা চেয়েছিলে বলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘ইরানের সরকার আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়েছি, আমরা সহায়তা দিতাম। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিদেশি সরকারের যেকোনো অনুরোধে আমরা যেমন সাড়া দিয়ে থাকি। তবে শেষ পর্যন্ত, মূলত লজিস্টিক কারণে, আমরা সহায়তা দিতে সক্ষম হইনি।’

রোববার রাতভর তুষার ঝড়ের মধ্যে অনুসন্ধান অভিযানে বিঘ্ন ঘটে। পরে সোমবার ভোরে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিয়ে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানায়নি ইরান।

এ ঘটনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করতে পারে তেহরান, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কিনা, এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।

‘(দুর্ঘটনার) কারণটি কী হতে পারে আমি তা অনুমান করতে পারছি না।’

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি উচ্চপর্যায়ের একটি দলকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার আলী আবদুল্লাহি। পুরো তদন্ত কাজ শেষ হওয়ার পরই ফল জানানো হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One day national mourning in Bangladesh for Raisis death

রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক

রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং অন্যদের মৃত্যুতে ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালন করা হবে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অন্য আরোহীদের মৃত্যুতে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।

মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শোক পালন উপলক্ষে ওইদিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং অন্যদের মৃত্যুতে ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালন করা হবে।

একইসঙ্গে সেদিন নিহতদের বিদেহি আত্মার শান্তি কামনায় বাংলাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
রাইসিসহ সবার মরদেহ উদ্ধার, ইরানে ৫ দিনের শোক
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল
ইরানের সঙ্গে ‘পূর্ণ সংহতি’ হামাসের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
1 killed in Singapore Airlines flight hit by storm

ঝড়ের কবলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, নিহত ১

ঝড়ের কবলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, নিহত ১
বিমান সংস্থাটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত আপডেট তথ্য দেয়ার মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত রাখবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

লন্ডনের হিত্রো বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এসকিউ৩২১ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার এই বৈরি আবহাওয়ার শিকার হয় ফ্লাইটটি।

এয়ারলাইন্সটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে বলা হয়, ২১১ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু নিয়ে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানটি ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টায় নিরাপদে অবতরণ করে।

‘দুঃখজনকভাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে থাকা একজন নিহত হয়েছেন।’

এ ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুদের আহত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স আরোহীদের সহায়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তারা থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যাংককে একটি দল পাঠানো হয়েছে।

বিমান সংস্থাটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত আপডেট তথ্য দেয়ার মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত রাখবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
শাহ আমানতে ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, অল্পের জন্য বাঁচলেন ১৯৮ আরোহী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Iranians are rallying to mourn Raisi

রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা

রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর প্রচার করে বলছে ‘ইরানি জাতির সেবক আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রাইসি শাহাদাতের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছেন।’

শোকার্ত ইরানিরা পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শোক সমাবেশে যোগ দিতে সমবেত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে সেখানে একটি শোক র‌্যালি হবে। সোমবার একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তাবরিজে মারা যান ইব্রাহিম রাইসি।

রাইসি তার আজেরি সমকক্ষ ইলহাম আলিয়েভের সাথে তাদের দুই দেশের সীমান্তে একটি বাঁধের যৌথ উদ্বোধনে অংশ নেয়ার পর তাবরিজে ফেরার পথে হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রোববার বিকেলে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার মধ্যে। রাইসির হেলিকপ্টারের সাথে তার বহরের অন্য দুটি হেলিকপ্টারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তার বহরের অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে ফিরে আসে।

সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর প্রচার করে বলছে ‘ইরানি জাতির সেবক আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রাইসি শাহাদাতের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছেন।’ এতে তার ছবি দেখানো হয়েছে যেখানে তাঁকে কোরান তেলাওয়াত করতে দেখা যায়।

ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাাহিয়ান পূর্ব আজারবাইজানের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সদস্যরা এবং তার নিরাপত্তা দলের সদস্যসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমবেদনা আসতে থাকে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র জুড়ে শহরগুলোতে শোকার্ত লোকরা নিহত প্রেসিডেন্ট এবং তার সঙ্গীদের প্রতি শোক জানাতে বিভিন্ন সড়কে জড়ো হতে থাকে।

সোমবার রাজধানী তেহরানের সেন্ট্রাল ভ্যালিয়াসর স্কোয়ারে রাইসির প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ জড়ো হয়েছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পাঁচ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারকে নির্বাচনের আগে অন্তবর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় মিডিয়া পরে ঘোষণা করে যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক আলী বাঘেরি, যিনি আমির-আব্দুল্লাহিয়ানের ডেপুটি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তাবরিজ ত্যাগ করার পর তেহরানে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে রাইসির মরদেহ মঙ্গলবার শিয়া আলেমদের কেন্দ্রস্থল কোমে পৌঁছাবে।

বুধবার সকালে মূল শোক র‌্যালি শুরু হওয়ার আগে মঙ্গলবার রাতে তেহরানে একটি বিশাল শোক সমাবেশ এবং দোয়া অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাইসিকে দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে এবং পরে তার নিজ শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দাফন করা হবে।

অতি রক্ষণশীল রাইসি ২০২১ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছিল এমন একটি সময় যখন ইরান ব্যাপক বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছিল এবং চিরশত্রু ইসরায়েলের সাথে হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

রাইসি মধ্যপন্থী হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হন। এমন সময় যখন ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়া, ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর সমস্ত সদস্য গাজা যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ উত্তেজনার সময়ে রাইসির এই মৃত্যুতে সমবেদনার বন্যা নেমে আসছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধের ফলে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং এরই ধারাবাহিকতায় তেহরান এপ্রিল মাসে ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও ড্রোন হামলা চালায়।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় দামেস্কে তেহরানের কনস্যুলেটকে ধ্বংস এবং দুই বিপ্লবী গার্ড জেনারেলকে হত্যা করার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করার পর এর জবাবে ইরান ওই হামলা চালায়।

রাইসির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বক্তৃতায় তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির এটি কেন্দ্রবিন্দু।

সোমবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র জুড়ে রাইসির অনুষ্ঠানে ইরানের পতাকার সাথে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raisi will be buried in his birth city Mashhad

রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে

রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
ইব্রাহিম রাইসির জন্ম মাশহাদে, ১৯৬০ সালে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। এরপর ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সে রাইসি তার নিজের শহর মাশহাদ ছেড়ে যান।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি জন্ম-শহর মাশহাদের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি এই মাশহাদ ছেড়ে গিয়েছিলেন। তার আগে বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তাকে চিরবিদায় জানাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।

কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে রাইসির মরদেহ বর্তমানে তাবরিজ শহরে রয়েছে। মঙ্গলবার এখানেই প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরটিতে তিনি রোববারই ভ্রমণ করেছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে সোমবার রাতে আল জাজিরা জানায়, ইব্রাহিম রাইসির জানাজা ও দাফন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের জানাজাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিহত অন্যদের জানাজাও তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে মরদেহগুলো তাবরিজের একটি ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে।

ইব্রাহিম রাইসির জন্ম মাশহাদে, ১৯৬০ সালে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। এরপর ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সে রাইসি তার নিজের শহর মাশহাদ ছেড়ে কুমে চলে যান।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল
ইরানের সঙ্গে ‘পূর্ণ সংহতি’ হামাসের
রাইসির ‘বিষাদময়’ মৃত্যুতে ‘গভীরভাবে দুঃখিত’ মোদি
মোহাম্মদ মোখবের হলেন ইরানের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

p
উপরে