× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Avantikas suicide Jabi administration red card to students
google_news print-icon

অবন্তিকার আত্মহনন: জবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের লালকার্ড

অবন্তিকার-আত্মহনন-জবি-প্রশাসনকে-শিক্ষার্থীদের-লালকার্ড
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, অবন্তিকার অভিযোগপত্রকে অবহেলা করেছেন সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল। তিনি অবন্তিকার অভিযোগ আমলে নিলে আজ হয়তো ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হতো। এই শিক্ষককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহননের ঘটনায় চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলনে উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিদিনই বিভিন্ন ব্যানারে ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লালকার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে অনুষ্ঠিত আন্দোলন কর্মসূচি থেকে প্রশাসনকে এই লালকার্ড দেখানো হয়।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, অবন্তিকার অভিযোগপত্রকে অবহেলা করেছেন সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল। তিনি অবন্তিকার অভিযোগ আমলে নিলে আজ হয়তো ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হতো। এই শিক্ষককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

লালকার্ড প্রদর্শনীতে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাওসিফ বলেন, ‘এই প্রক্টর অফিসে কী না হয়েছে? আগের প্রক্টর মোস্তফা কামাল কি করেননি? রিকশাচালকের ওপরও অত্যাচার করা হয়েছে।

‘প্রক্টর অফিসের ভূমিকাটা যেখানে অভিভাবকের মতো হওয়ার কথা সেখানে হয়েছে পুরো উল্টো। এই কাঠামো আমরা ভেঙে দিতে চাই। আমরা প্রশাসন থেকে একটা শক্ত অঙ্গীকার চাই। সর্বোপরি অবন্তিকার আত্মহত্যায় প্ররোচনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলকে ঢালাওভাবে সাজাতে সাতদিনের আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার হুমকি দেন তারা।

আইন বিভাগের শোকসভা

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অবন্তিকার অকাল মৃত্যুতে আইন বিভাগের শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসভায় উপাচার্য বলেন, ‘অবন্তিকা একইসঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। তার অকাল মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের নাম সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে। অবন্তিকার মৃত্যুতে গঠিত তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা হবে।’

অবন্তিকার আত্মহনন: জবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের লালকার্ড

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজব্যবস্থার কারণেই নারী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। আজও নারীদের মানুষ না ভেবে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নারীদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

‘একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তার পরিবার ছেড়ে আসে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়কে তার অনেক দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের শিক্ষকদের এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।’

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন এবং চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে প্রতিটি বিভাগে যৌন নিপীড়ন অভিযোগ বাক্স বসানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধীন যা যা করা সম্ভব তা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়ন সেল যথাসম্ভব কার্যকর করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিভাবক হওয়ার পর আমি নিজেও বুলিংয়ের শিকার হয়েছি। আমার নামে ফেসবুকে অনেক বাজে কথা লেখা হয়েছে। এসব এখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘তবে আমাকে যে বুলিং করা হচ্ছে সেটা আমি নিতে শিখে গেছি। কেননা নারীদের নিয়ে কথা বলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক থাকার সময় থেকেই আমি বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছি। আজ আমি আর কারও কাছে মাফ চাইতে যাব না। আমি মাফ চাই আমার শিক্ষার্থীদের কাছে। আমার বিশ্বাস আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে মাফ করবে।’

অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার বিভিন্ন বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যতনের শিকার না হন সে দাবি জানান তারা। তার স্মরণে বিভাগটি দু’দিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখে।

এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবন্তিকাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

এ সময় সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধের দায় কেবল নারী সংগঠন বা ছাত্র সমাজের নয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও এগিয়ে আসতে হবে। মাত্র ৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত যৌন নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বাকি ৯১ শতাংশ শিক্ষককে এসব শিক্ষকের অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’

অবন্তিকার আত্মহনন: জবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের লালকার্ড

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট প্রণীত যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত রায়কে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে অনুমোদন দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা দিতে হবে। নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার হতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ করে গড়ে তুলতে হবে।’

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর হার সমান থাকার পরও সেখানে ক্রমাগত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটতে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ না থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং একইসঙ্গে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নেরও পরিপন্থী।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে একের পর এক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ লক্ষ্য করা যায় না বরং শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব পালনের চেয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ের তৎপরতা দেখা যায় যা প্রকৃত শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।’

উপস্থিত অন্যান্য বক্তা বলেন, নারীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে ঘটনা ঘটার আগেই পরিবার, শিক্ষকদের প্রতি সচেতন হওয়ার জন্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। এছাড়াও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ অবন্তিকার আত্মহননের ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন।

আরও পড়ুন:
অবন্তিকার আত্মহত্যা: কাগজপত্র হাতে পেল তদন্ত কমিটি
অবন্তিকার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে: জবি উপাচার্য
জবি ছাত্রীর মৃত্যুতে সহপাঠী ও প্রক্টরের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ
জবি ছাত্রীর মৃত্যু: সহপাঠী ও প্রক্টরের নামে কুমিল্লায় মামলা
অবন্তিকার আত্মহত্যা: সহপাঠী আম্মান ও শিক্ষক দ্বীন ইসলাম আটক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
That Avantika is the third job in the academic examination

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা

একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা। ফাইল ছবি
আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা এলএলবির (স্নাতক) ফলাফলে সর্বমোট সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৬৫ পেয়েছেন। বিভাগের ব্যাচে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী আম্মান পেয়েছেন ৩.০৯।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অষ্টম সেমিস্টারে ৩.৭৩ পেয়েছেন অবন্তিকা। এর মধ্যে স্পেশাল পেনাল ল’ কোর্সে ৩.৭৫; ল’ অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরে ৩.৫০; কনভিয়েন্সিং, ড্রাফটিং অ্যান্ড ট্রায়াল অ্যাডভোকেসি ট্রেনিংয়ে ৩.৫০; লিগ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং কোর্সে ৩.৭৫; লিবারেশন মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোর্সে ৪.০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেয়েছেন তিনি।

বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ‘অবন্তিকাকে সবসময়ই ভালো ফলাফল করতে দেখেছি। সে বরাবরই ভালো ছাত্রী ছিল। এবারও পরীক্ষায় সে ভালো ফল করেছে।’

এর আগে ১৬ মার্চ শিক্ষক-সহপাঠীকে দায়ী করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে আটক করে পুলিশ। ৮ মে হাইকোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান শিক্ষক দ্বীন ইসলাম।

এদিকে নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের ছাত্রী কাজী ফারজানা মীমের পরীক্ষা রোববার নেয়া শুরু হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন জানান, রোববার থেকে ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে। ২৩ ও ২৭ তারিখ আরও দুটো পরীক্ষা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবন্তিকার আত্মহনন: জামিন পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম
স্বপ্নজয়ে প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেনি ওরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kubi students want permanent expulsion of Swapneel

স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার চান কুবি শিক্ষার্থীরা

স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার চান কুবি শিক্ষার্থীরা দাবি না মানা পর্যন্ত রোববার সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। দাবিগুলো উপাচার্য স্যারকে জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:) কে নিয়ে কটূক্তি ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার দায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২০-২১ সেশনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্বপ্নীল মুখার্জিকে স্থায়ী বহিষ্কার ও প্রশাসন কর্তৃক মামলা দায়ের এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

দাবি না মানা পর্যন্ত রোববার সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেন তারা। কর্মসূচিতে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বপ্নীল মুখার্জির বহিষ্কার ও মামলার দাবি জানান।

বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল বলেন, ‘আমরা আমাদের পদার্থবিজ্ঞান পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে আমরা আর আমাদের বিভাগে দেখতে চাই না। হয়তো আমরা থাকব, নাহলে স্বপ্নীল থাকবে।

‘আমাদের দাবি হচ্ছে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘স্বপ্নীল এতবড় একটা ঘৃণ্য কাজ করা সত্ত্বেও প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। স্বপ্নীলের বহিষ্কার এবং আইনি কোনো পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা স্বপ্নীলের স্থায়ী বহিষ্কার, প্রশাসন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে প্রক্টরের কাছে যান।

এ বিষয়ে প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। দাবিগুলো উপাচার্য স্যারকে জানিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

গত ১৬ মে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত স্বপ্নীলকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
কুবি উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করে সম্মানী নেয়ার অভিযোগ
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে উপস্থিত ৮৭%
উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে কুবি শিক্ষকদের অবস্থান দ্বিতীয় দিনে
পাহাড় কেটে কুবি প্রক্টরের রেস্তোরাঁ!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Daily demand of eggs in Sylhet is 29 lakhs production is only 4 lakhs

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াপসা আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ভিসি প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা। ছবি: নিউজবাংলা
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ২৫ লাখ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিদিন হাঁস ও মুরগির ডিমের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ। চাহিদার বিপরীতে সিলেটে মাত্র ৪ লাখ ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে অন্তত ২৫ লাখ ডিম বাইরে থেকে এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

শনিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াপসা বিবি) বিভাগীয় কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি। এতে অন্য কোনো এলার্জেন্স নেই। দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

তারা বলেন, সিলেট অঞ্চলে কর্মক্ষম যুব সমাজকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের পোল্ট্রি শিল্পে নিয়োজিত করতে পারলে এ অঞ্চলে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পোল্ট্রি শিল্পেও কৃষির মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তে আবাসিক বিল প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা বাড়াতে হবে।

সিলেট কৃষি বিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা।

অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় চিফি এপিডেমিউলজিস্ট ডা. আছির উদ্দিন, ওয়াস্টার পোল্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহী, অধ্যাপক ড. এম রাশেদ হাসনাত।

কর্মশালায় জানানো হয়, সিলেট জেলায় সোনালী জাতের মুরগির চাহিদা রয়েছে এক লাখ। অথচ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ হচ্ছে ১০ হাজারের মতো। কর্মশালায় বায়ু নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষী পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত ডিমের দামের বৈষম্য কমানোর তাগিদ দেয়া হয়।

সিলেটে হাওরাঞ্চলে হাঁস পালনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায় বলেও সুপারিশ করেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
আলুর হিমাগারে ছিল ২১ লাখ ডিম, ২৪ হাজার কেজি মিষ্টি
এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স কয়েক শ গুণ বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ সিলেট নগরবাসী
উজানের ঢল আর বৃষ্টিতে গ্রীষ্মেই সিলেটে বন্যার পদধ্বনি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Half of the electrical products in the market are counterfeit and unauthorized
এমডব্লিউবির গবেষণা

বাজারের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অর্ধেকই নকল ও অনুমোদনহীন

বাজারের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অর্ধেকই নকল ও অনুমোদনহীন ঢাবির মার্কেটিং বিভাগে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে এমডব্লিউবি। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে। যেহেতু দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি, তাই আগামী দিনগুলোতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে আরও বেশি আধিপত্য বিস্তার করবে বলে আশা এমডব্লিউবির।

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক্যাল ও লাইটিং পণ্যের সম্মিলিত বাজারের আকার ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এসব পণ্যের বাজার গত দুই দশক ধরে অব্যাহতভাবে বেড়ে চললেও এর অর্ধেক স্থান দখল করে আছে নন-ব্র্যান্ডেড অর্থাৎ নিম্নমানের নকল ও অনুমোদনবিহীন পণ্য।

ইলেকট্রিক্যাল ও লাইটিং পণ্যের ওপর মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের (এমডব্লিউবি) করা একটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমডব্লিউবির করা গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডব্লিউবির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ও আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল ও দিকনিদেশর্না তুলে ধরেন।

এ সময় মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম ও আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাজিয়া বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এমডব্লিউবির পক্ষ থেকে জানানো জানানো হয়, এই গবেষণায় গুণগত (কোয়ালিটেটিভ) ও পরিমাণগত (কেয়ান্টিটেটিভ)- দুই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই গবেষণার জন্য সারা দেশের ২ হাজার ১৬ জন ব্যবহারকারী, ১০৩ জন খুচরা বিক্রেতা ও ৯৯ জন ইলেক্ট্রিশিয়ানকে নমুনা হিসেবে বেছে নেয়া হয়। এছাড়া ৫ জন বৈদ্যুতিক পণ্য বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই গবেষণার আওতাধীন পণ্যগুলো ছিল- সুইচ, সকেট, হোল্ডার, মাল্টি-প্লাগ, সার্কিট ব্রেকার, মিটার ও বিভিন্ন হালকা পণ্য যেমন: এলইডি লাক্স, এলইডি টিউব, এলইডি প্যানেল, ব্র্যাকেট এলইডি, জিএলএস, অ্যানার্জি এফিশিয়েন্সি বাল্ব ও ইমার্জেন্সি লাইটিং।

প্রতিবেদন অনুসারে, এটি একটি বড় ও অপার সম্ভাবনাময় শিল্প। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার খুচরা বিক্রেতা এবং ২ হাজার ৫০০ উদ্যোক্তাসহ মোট ৫ লাখেরও বেশি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। দুই ক্যাটাগরির পণ্যের সম্মিলিত বাজারের আকার সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্যের বাজার তিন হাজার ৩৭৫ কোটি এবং লাইটিং পণ্যের বাজার ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

গবেষণা বলছে, পণ্যের গড় প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ। যদি আগামী দিনগুলোতে এই প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই খাতটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বড় খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, এই বাজারের প্রায় অর্ধেকই নন-ব্র্যান্ডেড অর্থাৎ নিম্নমানের নকল ও অনুমোদনবিহীন পণ্য দখল করে আছে। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে।

যেহেতু দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি, তাই আগামী দিনগুলোতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে আরও বেশি আধিপত্য বিস্তার করবে বলে আশা এমডব্লিউবির। আর এজন্য তারা গ্রে-মার্কেটের কার্যক্রম হ্রাসে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানায়।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুপারস্টার গ্রুপ উভয় প্রকার পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

গবেষণার তথ্যানুসারে, ইলেক্ট্রিক্যাল ব্র্যান্ডেড পণ্যের মার্কেট শেয়ারে সুপারস্টার ২৯ শতাংশ, ওয়ালটন ১৭ শতাংশ, ক্লিক ১৭ শতাংশ, এনার্জি প্যাক ৯ শতাংশ, ওসাকা ৪ শতাংশ এবং ব্লিঙ্ক, এমইপি ও লাক্সারি প্রত্যেকে ৩ শতাংশ করে বাজার দখল করে আছে। অন্যদিকে, ব্রান্ডেড লাইটিং পণ্যের মার্কেট শেয়ারে সুপারস্টার ২৫.৫৯ শতাংশ, ক্লিক ১৩ শতাংশ, ওয়ালটন ১২ শতাংশ, ট্রান্সটেক ১০ শতাংশ, এনার্জি প্যাক ৮ শতাংশ ও ফিলিপস ৭ শতাংশ বাজার দখল করে আছে।

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাকসেসরিজ ও লাইটিং পণ্যে গুরুতর কী কী সমস্যা দেখা যায় সেসবও জানতে চাওয়া হয় গবেষণায় অংশ নেয়াদের কাছ থেকে।

সেই তথ্যানুসারে, ২৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছে, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা লুজ কানেকশন। দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল শর্ট সার্কিট। ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

বাকি সমসস্যগুলো হলো- ওয়ারেন্টি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই পণ্য ড্যামেজ হয়ে যাওয়া, ওভারহিটিং ইত্যাদি।

অন্যদিকে, লাইটিং পণ্যের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাইটের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, লাইটের ক্ষণস্থায়ী জীবন, মিটমিট করা, অধিক বিদ্যুৎ গ্রহণ করা ও ওভারহিটিং।

এমডব্লিউবি বলছে, এই শিল্পের অগ্রগতির পেছনে মূলত গত ২৫ বছরে ব্যাপক বিদ্যুতায়ন, অব্যাহত জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান আয়, দ্রুত ও পরিকল্পিত নগরায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সরকারের গৃহীত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

এই শিল্পের কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটিও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণার ফল উপস্থাপনে। গ্রে-মার্কেটের আধিপত্য, অসম প্রতিযোগিতা, ব্যবহারকারীদের ব্র্যান্ডের পণ্য নিয়ে সচেতনতার অভাবসহ আরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় এই শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য সুপারিশ হিসেবে এমডব্লিউবির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্রে-মার্কেটের কার্যক্রম হ্রাসে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, দেশীয় কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের বিদ্যমান ট্যাক্স পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে যাতে কোম্পানিগুলো কম ব্যয়ে পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে পারে।

পাশাপাশি এ সমস্ত শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ গড়ে তোলার জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং জনগণের মধ্যে নিরাপদ ও মানসম্মত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক মিজান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegations against BCL for beating students in Rabi

রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে হলছাড়া, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে হলছাড়া, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ইনসেটে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান আতিক। কোলাজ: নিউজবাংলা
ভুক্তভোগী সবুজ বিশ্বাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান আতিক হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। অভিযুক্তদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী রয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করে হলছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েক কর্মীর বিরুদ্ধে। মারধরের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওই শিক্ষার্থীকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সবুজ বিশ্বাস এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বুধবার রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান আতিক হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। অভিযুক্তদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী রয়েছেন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী।

ভুক্তভোগী সবুজ বিশ্বাস অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘১৬ মে রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ও তার ৮-১০ জন অনুসারী আমাকে কক্ষ থেকে বের করে হলের ছাদে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং শিবির আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

‘পরবর্তীতে আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে জানালে আরও বেশি মারধর করে। আমি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে হল ত্যাগ করি। এ অবস্থায় নিরাপত্তা শঙ্কায় আমার পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িতে অবস্থান করছি।’

নিউজবাংলার সঙ্গে কথোপকথনেও সবুজ বিশ্বাস অভিযোগ তুলে ঘটনার একই বর্ণনা দেন। এ সময় আবাসিক শিক্ষার্থী না হয়েও হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এক বড় ভাই আমাকে এই হলে তুলেছে। আমি রাজনীতির সাথে জড়িত না।’

তবে কোন বড় ভাই হলে তুলে দিয়েছেন তা জানাতে রাজি হননি এই শিক্ষার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের অপকর্ম লুকানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। আমি তাকে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী হলের যে ঘটনা সেটি আমি জানার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।

‘লিখিত অভিযোগ পুরোপুরি সত্যি নয়। সবুজ ওই হলের আবাসিক কোনো শিক্ষার্থী নয়। আবাসিকতা ছাড়া হলে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলা বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র পেয়েছি। হল প্রশাসন থেকে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two Siraj are contenders for the post of vice president of EB Chhatra League

ইবি ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি পদের দাবিদার দুই সিরাজ

ইবি ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি পদের দাবিদার দুই সিরাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (বাঁয়ে) ও সিরাজুল ইসলাম। কোলাজ: নিউজবাংলা
কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সম্পাদক শেখ ইনানের স্বাক্ষরিত এ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ক্যাম্পাসের ৭১ জন নেতাকে মনোনীত করা হয়।

দীর্ঘ ৮ বছর পর ঘোষিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহসভাপতির এক পদ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

গত ১০ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৯৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ওই কমিটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সম্পাদক শেখ ইনানের স্বাক্ষরিত এ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ক্যাম্পাসের ৭১ জন নেতাকে মনোনীত করা হয়।

তবে কমিটি ঘোষণার পর পরই সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন দাবি করে সিরাজ নামের দুজন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এ নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি।

জানা যায়, কেন্দ্র ঘোষিত ১৯৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৬৬ নম্বর সহ-সভাপতি পদটি দেয়া হয় সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নামের ব্যাক্তিকে। তবে এই পদটি নিজের বলে দাবি একই নামের দুজন ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে নেতা বলে ওই দুজনের দাবির পাশাপাশি কর্মীরাও জানিয়েছেন উভয়কেই প্রাণঢালা অভিনন্দন।

সহ-সভাপতি দাবিদারদের একজন হলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। অপরজন হলেন কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম।

পদের দাবিদার বায়োটেকনোলজি বিভাগের সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, আমার নাম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। যে পদ দাবি করছে তার নামের সাথে পদের মিল নাই। পূর্বে হল পোস্টে আমার নাম আর নাম্বার দেয়া আছে। জয় ভাই আমাকে আমার পদ বলে নিশ্চিত করেছেন। সক্রিয় কর্মী হিসেবে সবাই আমাকে চেনে এবং জানে। অন্য একজন কেন পদ দাবি করছে বুঝতেছি না।

সিএসই বিভাগের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি শাখা ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনি ভাইয়ের কর্মী। উনি আমাকে আমার পদের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। আরেকজন যিনি পদ দাবি করছেন, আমার জানামতে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ২০২১ সালে। তাহলে ২৪ সালে এসে কীভাবে কমিটিতে পদ পায় তা আমারও প্রশ্ন।

শাখা ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনি বলেন, শাখা ছাত্রলীগের নেতারা আমাদের কারো সাথে আলোচনা বা সমন্বয় না করেই পছন্দমত কমিটি জমা দেয়ায় আমরাও আমাদের কর্মীদের মূল্যায়নের স্বার্থে কয়েকজনের নাম কেন্দ্রে জমা দেই। আমি যে সিরাজুলের নাম দিয়েছি, বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ওর নামের পাশে নিকনেম হিসেবে সিরাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু এটাও যে আরেকজনের সাথে মিলে যাবে তা আমি বুঝতে পারি নাই।

তিনি আরও বলেন, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সেক্রেটারি যার কথা বলছে সে ক্যাম্পাসে থাকেও না, রাজনীতিতেও সক্রিয় নয়। শেষ কবে এসে মিছিল মিটিং করেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা প্রয়োজন। যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতারা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে, এই বিভ্রান্তি তারাই দূর করতে পারবে। আমরা তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

এ বিষয়ে রাতে পুনরায় সিএসই বিভাগের সিরাজুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনিকে দিয়ে কথা বলান। সে সময় সহ-সভাপতি টনি একই কথা বলেন।

৬৬ নম্বর সহ-সভাপতি পদটি বায়োটেকনোলজি বিভাগের সিরাজুল ইসলাম সিরাজের বলে নিশ্চিত করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, এখানে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছি। সভাপতি সেক্রেটারির বাইরে যেয়ে কেন্দ্রে কারো নাম প্রস্তাব করার কোন সুযোগ নেই। যার সাথে যার সম্পর্ক ভালো তার কাছে হয়তো সুপারিশ বা অনুরোধ করতে পারে কিন্তু কমিটি প্রস্তাবনার এখতিয়ার একমাত্র আমাদের।

পদপ্রাপ্ত সিরাজের রাজনীতিতে সক্রিয়তার ব্যাপারে জানতে চাইলে জয় বলেন, যে পদ পেয়েছে সে ক্যাম্পাসে আছে, পড়াশোনা করছে। সবাই তো সব সময় ক্যাম্পাসে থাকে না, পারিবারিক কারণে বাসায়ও যায়। কে কি বললো সেসবের চেয়ে এতদিন পর সর্বজন গৃহীত একটা সুন্দর কমিটি হয়েছে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, সহসভাপতি পদটি মূলত বায়োটেকনোলজি বিভাগের যে সিরাজের। ওর পদটা শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি দিয়েছে। নামের পাশে বিভাগ বা সেশন উল্লেখ না থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পদধারী প্রত্যেকের জন্য চিঠি পাঠাব। আসন্ন অনুষদ ও হল কমিটিতে প্রয়োজনবোধে নামের পাশে বিভাগ বা সেশন উল্লেখ রাখব।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ বলেন, ইবি ছাত্রলীগের সব নেতা-কর্মীকে তো আমরা চিনি না। ওই পদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভালো বলতে পারবেন।

শাখা ছাত্রলীগের ১ নম্বর সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনির বক্তব্যের সূত্র ধরে কমিটিতে নাম প্রস্তাবনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কেউই প্রস্তাবনা দিতে পারেন যে এই নামে একটি ছেলে আছে, সে ভালো কি মন্দ, তাকে কমিটিতে রাখা যায় কি না। নাম প্রস্তাব দেয়া আর কমিটিতে রাখা তো এক কথা নয়। যেখানে সভাপতি, সেক্রেটারি আছে সেখানে ১ নাম্বার সহ-সভাপতি কে? যেকোনো বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Body of missing school student found in Chabir Jharna

চবির ঝরনায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

চবির ঝরনায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার প্রাণ হারানো জুনায়েদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই এখানে দুই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। সেখানে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ‘নিষিদ্ধ’ ঝরনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সে নিখোঁজ হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাণ হারানো জুনায়েদ হোসেন (১৩) হাজী মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আমরা মরদেহটি হাটহাজারী মডেল থানায় পাঠিয়েছি।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম শহরের প্রবর্তক বিদ্যালয় ও হাজী মহসিন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের একটি দল ঘুরতে যায় চবিতে। দুপুর ১২টার দিকে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনায় গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর থেকে তাদের একজন কে খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন অন্যান্যরা মিলে ঝরনা ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেও জুনায়েদকে পান না।

পরবর্তীতে তার বড় ভাই ও বাবা ক্যাম্পাসে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুনায়েদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঝরনায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া স্কুলছাত্র জুনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জুনায়েদের বন্ধু ইকরাম হসেন রিমন বলে, ‘আমরা দুই স্কুলের বন্ধুরা মিলে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন ঘুরতে আসি। ১২টার দিকে ঝরনায় গোসল করতে নামে সবাই। আমি ড্রেস চেঞ্জ করে সবার শেষে পানিতে নামি। তখন জুনায়েদকে না দেখে জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বলে আশেপাশে আছে হয়তো। পরে অনেকক্ষণ খুঁজে না পেয়ে আমরা চলে যাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ‘বাচ্চাটি দুপুরে নিখোঁজ হয়, কিন্তু তার বন্ধুরা আমাদের কিছু জানায়নি। বিকেলের দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানায়। আমরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে কল দিলে তারা এসে ঝরনায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। আড়াই ঘণ্টা অভিযানের পর তার মরদেহটি খুঁজে পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই এখানে দুই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। সেখানে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চবিসাসের ৭ পদে নির্বাচন বুধবার
চবিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু শনিবার, আসনপ্রতি প্রার্থী ৪৯
ভর্তি পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ শিক্ষকরা জানেন না
চবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ: কঠোর ব্যবস্থা নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত চবি শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

p
উপরে