× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The death of Jhenaidah MP Abdul Hai
google_news print-icon

ঝিনাইদহের আলোচিত এমপি আবদুল হাইয়ের মৃত্যু

ঝিনাইদহের-আলোচিত-এমপি-আবদুল-হাইয়ের-মৃত্যু
মো. আব্দুল হাই। ছবি: সংগৃহীত
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় ছিলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হাই। ওই সময় নির্বাচনি আরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুইবার আদালতে মামলা করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঝিনাইদহ-১ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল হাই এমপি মারা গেছেন।

থাইল্যান্ডের বামরুনদগ্রাদ হাসপাতালে ব্যাংককের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৭৮ বছর বয়সী আবদুল হাইয়ের।

ওই দেশে অবস্থানরত তার ব্যক্তিগত সহকারী শহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় ছিলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হাই। ওই সময় নির্বাচনি আরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুইবার আদালতে মামলা করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আবদুল হাই এমপির জন্ম শৈলকূপা উপজেলার মহম্মদপুর গ্রামে। বাবা ফয়জুদ্দিন মোল্লা ও মা ছকিরন নেছা দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি। আবদুল হাইয়ের পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে পাস করার পর ভর্তি হন বসন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিকের পর ঝিনাইদহ কেশবচন্দ্র কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন বিএ।

বসন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। সেই থেকে তার জনপ্রিয়তা শুরু।

১৯৬৯ সালে সরকারি কেসি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। একই বছর বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতা বিরোধীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে তিনিই ঝিনাইদহে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন।

দেশ স্বাধীনের পর তিনি ঝিনাইদহ যুবলীগের আহ্বায়ক ও ১৯৭৩ সালে যুবলীগের মহকুমা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ১৯৮৭ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হাই। ১৯৯৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। সেই নির্বাচনে সারা দেশে মাত্র ৫৮টি আসনে বিজয় লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসন ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের শৈলকূপা আসন।

স্বাধীনতার টানা ৩০ বছর পর তিনি বিএনপির হাত থেকে শৈলকূপা আসনটি উদ্ধার করে আওয়ামী লীগের দখলে নেন। তিনি ২০০১ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

২০০৫ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন আবদুল হাই এমপি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের কাউন্সিলে দ্বিতীয় বারের মতো ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২২ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তৃতীয়বারের মতো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি।

আবদুল হাইয়ের জানাজা ও দাফনের বিষয়টি তার পরিবার থেকে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ‘মদ্যপানে’ মামা-ভাগ্নের মৃত্যু
কালিয়াকৈরে একদিনে চার যুবকের মৃত্যু
বেইলি রোডে আগুন: আরও তিনজনের মরদেহ হস্তান্তর
কক্সবাজারের পথে কাস্টমস কর্মকর্তা, স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ
আমার সেই ভাই তো আর এলো না…

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bank accounts of Pion Jahangis wife children and organization have been seized

‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর, স্ত্রী-সন্তান ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর, স্ত্রী-সন্তান ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
সত্রে জানায়, বিএফআইইউ সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচদিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল- প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সম্পর্ক নেই।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নাহার খিল গ্রামের মৃত রহমত উল্যাহর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে গত এক দশক ধরে নোয়াখালী জেলাসহ নানা জায়গায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত সফরে গাড়িবহর ও প্রশাসনিক প্রটোকল নিয়ে চলাচল করতেন রাজকীয় স্টাইলে।

‘করিৎকর্মা’ জাহাঙ্গীর এবার ভিন্নভাবে আলোচনায় এসেছেন। রোববার জাহাঙ্গীর ছাড়াও তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচদিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব থাকলে সেসব হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ২৩ (১) (গ) ধারার আওতায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সেই সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ব্যাপারে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিতেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

তথ্য বলছে, নব্বই দশকের দিকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি সুধা সদনে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদের পানি খাওয়ানোর কাজ করতেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে শেখ হাসিনার খাদ্য বহনকারী হিসেবে ‘টিফিন ক্যারিয়ার’ তিনি নিজ হাতে রাখতেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার সময় দুঃসাহসিক ভূমিকা রাখায় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে পরিচিতি লাভ করেন।

আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর গণভবনে যাতায়াতের সুযোগ পান জাহাঙ্গীর। ঢাকার ইপিজেডে ২০০৯ সালে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীরা ঝুট ব্যবসায় হাত দিলে জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিচয়ে ফোন করে সরাসরি তাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করতেন। এই ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন তিনি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি এবং মন্ত্রীদের কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরিচয় দিয়ে তদবির করতেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা নোয়াখালী-১ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি জাহাঙ্গীর। পরে নোয়াখালী-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহীমের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালান তিনি। শেষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজের বাসার সাবেক এক কর্মীর অর্থসম্পদের বিষয়টি সামনে আনেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে। এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। বাস্তব কথা। কী করে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে টানা দুই মেয়াদের পাশাপাশি গত মেয়াদেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে গেছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SI dies after jumping into river to catch accused

আসামি ধরতে নদীতে ঝাঁপ, এসআইর মৃত্যু

আসামি ধরতে নদীতে ঝাঁপ, এসআইর মৃত্যু তাড়াশ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম শাহ। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ সূত্র জানায়, রায়গঞ্জে হত্যা ও ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে সরস্বতী নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাকে ধরতে এ সময় থানার এসআই রেজাউল ইসলামও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু আসামি সাঁতরে নদীর ওপারে উঠে গেলেও এসআই রেজাউল মাঝনদীতে তলিয়ে যান।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ধরতে গিয়ে সরস্বতী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে রেজাউল ইসলাম শাহ নামে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নওগাঁর সাপাহারের তোজাম্মেল হক শাহর ছেলে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জের এরানদহ গ্রামের আলোচিত চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা খুন ও ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে আসামি সরস্বতী নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় থানার এসআই রেজাউল ইসলামও তাকে ধরতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

কিন্তু আসামি সাঁতরে নদীর ওপারে উঠে গেলেও এসআই রেজাউল মাঝনদীতে তলিয়ে যান। পরে উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম এ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, সকালে ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে নদীতে অভিযান চালানোর সময় পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন এসআই রেজাউল। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গোলাম আম্বিয়া বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের ৪০ ঊর্ধ্বতন পদে রদবদল
পুলিশকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সতর্কতার অনুরোধ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের
ভারতে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি-পুলিশ
সালিশে মারধর ও জরিমানা করায় মাতব্বরকে হত্যা: পুলিশ
কান্না থামছে না পুলিশ সদস্য মনিরুলের ছেলের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A village doctor was killed by a bicycle roller 

সাইকেলে রোলারের চাপায় পল্লি চিকিৎসক নিহত 

সাইকেলে রোলারের চাপায় পল্লি চিকিৎসক নিহত  সিপাহীপাড়া-মুক্তারপুর সড়কের সিপাহীপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সোমবার বেলা দুইটার দিকে রোলারের চাপায় সাইকেল আরোহী পল্লি চিকিৎসক নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, মিজানুর বাইসাইকেলে করে সুখবাসপুর যাচ্ছিলেন। পথে সিপাহীপাড়া বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন মুক্তারপুর-ছনবাড়ী সড়কের কাজে ব্যবহৃত রোলার পেছন দিকে যেতে গিয়ে বাইসাইকেলসহ মিজানুরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিজানুরের মৃত্যু হয়। 

মুন্সীগঞ্জে সড়ক নির্মাণকাজের রোলারের চাপায় মিজানুর রহমান বেপারী (৫০) নামের এক পল্লি চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।

সিপাহীপাড়া-মুক্তারপুর সড়কের সিপাহীপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সোমবার বেলা দুইটার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো মিজানুর মুন্সীগঞ্জের রামপাল ইউনিয়নের সুখবাসপুর এলাকার লাল মিয়া বেপারীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, মিজানুর বাইসাইকেলে করে সুখবাসপুর যাচ্ছিলেন। পথে সিপাহীপাড়া বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন মুক্তারপুর-ছনবাড়ী সড়কের কাজে ব্যবহৃত রোলার পেছন দিকে যেতে গিয়ে বাইসাইকেলসহ মিজানুরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিজানুরের মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জের হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরু মিয়া জানান, মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। স্বজনরা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
রথযাত্রায় পাঁচজনের মৃত্যু তদন্তে কমিটি
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত
ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না ভাই-বোনের 
দিনাজপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত
ঈশ্বরদীতে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coast Guard prevented the entry of 66 border guards of Myanmar

মিয়ানমারের ৬৬ সীমান্তরক্ষীর অনুপ্রবেশ ঠেকাল কোস্ট গার্ড

মিয়ানমারের ৬৬ সীমান্তরক্ষীর অনুপ্রবেশ ঠেকাল কোস্ট গার্ড দুটি ট্রলারে করে বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে চেয়েছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড। ছবি: কোস্ট গার্ড
টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নাফ নদীতে দুটি ট্রলারে করে মিয়ানমারের বিজিপির বেশ কিছু সদস্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে কোস্ট গার্ড তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করে।’

মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক জান্তার বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে রোববার দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৬৬ সদস্যের অনুপ্রবেশ রোধ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোস্ট গার্ডের চট্টগ্রাম মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সোয়াইব বিকাশ জানান, গতকাল বিকেলে নাফ নদে দুটি ট্রলারে করে কক্সবাজারের টেকনাফে অনুপ্রবেশ করতে চেয়েছিলেন বিজিপি সদস্যরা। কোস্ট গার্ড তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করে।

তিনি বলেন, ‘দুইটি ট্রলারে করে নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখলে কোস্ট গার্ড তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করে। দুটি নৌকায় ৬৬ জন বিজিপি সদস্য ছিল।

‘তারা মূলত বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কোস্ট গার্ড সবসময় অনুপ্রবেশ রোধ করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নাফ নদীতে দুটি ট্রলারে করে মিয়ানমারের বিজিপির বেশ কিছু সদস্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে কোস্ট গার্ড তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আজকেও (রোববার) সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে, তবে নতুন করে যাতে কেউ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছি।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা
সেন্টমার্টিন থেকে এসেছে যাত্রী, টেকনাফ থেকে পণ্যবাহী ট্রলার যায়নি
মিয়ানমার থেকে আসা গুলির শব্দে টেকনাফে নির্ঘুম রাত
সেন্টমার্টিন রুটে স্পিডবোট লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলি
কক্সবাজার ‘মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four people including two children died in flood waters in Jamalpur

জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
মেলান্দহ থানার ওসি রাজু আহমেদ রোববার বলেন, ‘বন্যার পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মৃতদেহগুলো সুরতহাল করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

জামালপুরের মেলান্দহে রোববার বন্যার পানিতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে একই সঙ্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো চারজন হলেন দক্ষিণ বালুরচর এলাকার বাবুল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা (৩০), প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে দিশা (১৭), সবুজ শেখের মেয়ে সাদিয়া (১১) ও গোলাপ আলীর মেয়ে খাদিজা (১২)।

ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে প্রতিবেশী পাঁচজন গোসল করতে নামে। ওই সময় শিশু সাদিয়া ও খাদিজা হঠাৎ পানিতে ডুবে যায়। তাদের উদ্ধার করতে গেলে রোকসানা, দিশাও পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা শিশু মারিয়া দ্রুত পরিবারে খবর দিলে লোকজন চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার ও গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ডুবে প্রাণ হারানো দিশা মেলান্দহের জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অপর শিশু সাদিয়া ও খাদিজা স্থানীয় মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

মেলান্দহ থানার ওসি রাজু আহমেদ রোববার বলেন, ‘বন্যার পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মৃতদেহগুলো সুরতহাল করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কবলে কুশিয়ারা তীরের বাসিন্দারা
বন্যার পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে
ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এসে খেলনা পিস্তলসহ দুই যুবক আটক
বন্যা: সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট তীব্র
কুড়িগ্রামে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে জনপদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chatra League attack on quota activists in Chabi

চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

চবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় রোডে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলে জানান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ মিছিল শহীদ মিনার অভিমুখে যাওয়ার পথে মিছিলের পেছনে পটকা ফাটিয়ে তেড়ে আসেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রথমে অল্প কয়েকজন ছিলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক নেতা-কর্মী এসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রোববার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় রোডে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার ভিডিও করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চড়াও হন বলে জানান কয়েকজন সাংবাদিক, যাদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের ফোন নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থীকে কয়েক দফায় বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। মারধরে ওই শিক্ষার্থী ছাড়াও দুইজন আহত হন।

তারা জানান, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান, তবে ছাত্রলীগের দাবি, শিক্ষার্থীরা ‘শেখ হাসিনা গদি ছাড়’ স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ মিছিল শহীদ মিনার অভিমুখে যাওয়ার পথে মিছিলের পেছনে পটকা ফাটিয়ে তেড়ে আসেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রথমে অল্প কয়েকজন ছিলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক নেতা-কর্মী এসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। ওই সময় চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুমন চৌধুরীকে অনেক মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। মারধরের শিকার আরেক শিক্ষার্থীর নাম ইমদাদ ওয়াসিম।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রী সুমাইয়া সিকদার বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিলের পেছনে প্রথমে পটকা ফোটায়। তারপর তেড়ে এসে আমাদের যে কয়েকজন সামনে ছিল, তাদের থাপ্পড় মারে।

‘একটা ছেলেকে অনেকজন মিলে অনেক মারধর করেছে। তারা নারী শিক্ষার্থীদের খুব বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করছিল।’

চবি ছাত্র মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অপপ্রচার চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। তারা যে দাবি করেছে, এমন কোনো স্লোগান শিক্ষার্থীরা দেয়নি। আমাদের স্লোগান স্পষ্ট।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রলীগ নেতা আবরার শাহরিয়ার বলেন, ‘কোটা সংস্কার নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বাইরে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই, তবে শিক্ষার্থীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

‘তারা আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে উসকানি দিয়েছে। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে গদি ছাড়তে বলবে, এমনটা মেনে নেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, “আমি তার কাছে জিজ্ঞেস করেছি, ‘তুমি রাজাকার?’ সে ‘হ্যা’ বলেছে। আমি আবার জিজ্ঞেস করেছি। তারপর তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করেছি, ‘তুমি রাজাকার?’ সে বলেছে, ‘হ্যা’। আর কোনো ছাড় নেই। সে রাজাকার এবং একই সাথে সে শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে চায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জিরো টলারেন্স।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও চবি শিক্ষার্থী খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকে (রোববার সংবাদ সম্মেলনে) যে কথাটা বলেছেন, সেখানে যেটা মিন করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া সবাই রাজাকার। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে আমরা প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে জিরো পয়েন্টে গেছি এবং মিছিলের একপর্যায়ে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালায়।

‘এ সময় দুই-তিনজন আহত হয়। তারপরে আমরা সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গভবন অভিমুখে পদযাত্রা কোটা আন্দোলনকারীদের
কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল
কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two Bangladeshis were killed by Indian Khasias on Sylhet border

সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
প্রতীকী ছবি
বিজিবির কালাইরাগ বিওপির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের লাশ এখনও বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে রোববার ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি দুই নাগরিক নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নাজিরেরগাঁও কাওয়ারটুক ১২৫৩ পিলারের ওপারে গতকাল বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

কালাইরাগ সীমান্ত চৌকি (বিওপি) ও বিজিবির মিডিয়া উইং বিষয়টি নিশ্চিত করে।

গুলিতে প্রাণ হারানো দুজন হলেন কালাইরাগ কারবালারটুক গ্রামের আলী হুসেন ও কাউছার আহমদ। এ ঘটনায় একই গ্রামের নবী হুসেন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী হুসেন, কাউছার ও নবী হুসেন সীমান্তের ওপার থেকে মালামাল নিয়ে আসার জন্য রোববার কোনো এক সময় ভারতে প্রবেশ করেন। বিকেল তিনটায় খবর পাওয়া যায় ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আলী হুসেন ও কাউছার আহমদ। এর কিছু পর গুরুতর আহত হয়ে ফিরে আসেন নবী হুসেন। তাকে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফখরুল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত দুজনের লাশ নাজিরেরগাঁও কারবালারটুক সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকতে দেখেছি। এ ঘটনা নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠক করে লাশগুলো বিজিবির আওতায় রেখেছেন।

‘নিহতদের বাড়িতেও আমি গিয়েছি। তারা সবাই শোকাহত হয়ে কান্নাকাটি করছে।’

উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে আলী হোসেন ও কাওসার নামে দুজন মারা গেছেন। আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি এবং তাদের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে নিহতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমাদের থানার অফিসার ইনচার্জ স্যার বিজিবির সাথে কথা বলেছেন, কিন্তু তারা ঘটনা শুনেছেন বলে জানালেও নিহতের খবর নিশ্চিত করেননি।’

এ বিষয়ে জানতে ৪৮ বিজিবির কালাইরাগ ক্যাম্পের কমান্ডারের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি গতকাল রাতে বলেন, ‘আমরাও স্থানীয়দের কাছ থেকে সীমান্তে দুজন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্যরা যাচ্ছে। তারপর একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।’

বিজিবির কালাইরাগ বিওপির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের লাশ এখনও বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার
মেয়ে হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাবা গ্রেপ্তার
চিনি চোরাচালানের ‘নিরাপদ রুট’ সিলেট
দুই সন্তানকে হত্যা করে পাশেই বসে ছিলেন মা
ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

মন্তব্য

p
উপরে