ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়া ‘এমভি আবদুল্লাহ’ নামের বাংলাদেশি জাহাজকে সোমালিয়ার গারাকাদ উপকূল থেকে শুক্রবার অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মালিক প্রতিষ্ঠান কবির গ্রুপ।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে জাহাজটির নোঙর তোলা হয় বলে জানান কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর জানতে পারেন গ্রুপের কমকর্তারা। জাহাজটিতে ২৩ জন ক্রু আছেন।
সোমালিয়ার গারাকাদ বন্দরের কাছে বৃহস্পতিবার জাহাজটিকে নোঙর করা হয়েছিল। পরের দিন কবির গ্রুপের কর্মকর্তা মিজানুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি জাহাজটি আগের অবস্থানে নেই। বিকেলে নোঙর তুলে সরিয়ে নিয়েছে জলদস্যুরা।
‘সোমালিয়ার গারাকাদ বন্দরের কাছে জাহাজটি বৃহস্পতিবার নোঙর করে। এক দিনের মাথায় শুক্রবার জাহাজটির নোঙর তুলে ফেলা হয় এবং বিকেলে জাহাজটিকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়।’
মিজানুল আরও বলেন, ‘জলদস্যুরা সবসময় নিরাপদ জায়গা খোঁজে। হয়তো সে কারণে জাহাজটি অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়েছে তারা।’
এদিকে ভারতীয় নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে সহায়তা করতে কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ও একটি দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহল উড়োজাহাজ অবস্থান করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বৃহস্পতিবার জানায়, এমভি আবদুল্লাহর ওপর নজর রাখতে ইইউর একটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা সাগর হত্যা মামলাসহ ৩টি মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম। সোমবার হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে মমতাজ বেগমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছেন। অবশিষ্ট ৩টি মামলার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা মোকাবিলা করব।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন শিল্পী মমতাজ। পুলিশ জানিয়েছে, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পরে গত ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন।
মমতাজ বেগম একাধারে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং সাবেক এমপি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মমতাজ বেগমকে কোন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, এবার যে রাজস্ব আদায় হয়েছে আগামীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য রাজস্ব আদায় আরও অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। কাজেই এটি বাজেট বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। দেশি-বিদেশি ব্যাপক ঋণ করেই সরকারকে চলতে হবে। এর ফলে বড় অরাজকতা সৃষ্টি হবে। দেশে যে একটি বিশাল সংকট চলছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ কারও নেই। রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না।
সোমবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জি এম কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই যাবে না।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, বরং পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। মানুষের তাদের সমর্থনে নামবে।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমবে। এর ব্যাপক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার কথা। অথচ বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথাই নেই।
ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাধা প্রদানের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে ঘটা এই অনভিপ্রেত আচরণকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, এই বিষয়ে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজকের দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাবো।’
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি গত রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত জেরার মুখে পড়তে হয় এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে এবং তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও, তিনি এই আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ পাসপোর্ট ফেরত চান। এরপর তিনি দিল্লি না ঢুকে কলম্বো হয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মর্যাদা ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য থাকা সত্ত্বেও এমন ব্যবহার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দাবি করবে বলে জানা গেছে। সরকার মনে করছে, রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির সাথে এমন ব্যবহার আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল নগরীর ভেতর থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে ঢাকার দুই প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নগর পরিবহনের সংস্কার নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা একমত হন যে, নগরীর প্রধান প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অবস্থিত এই তিনটি টার্মিনাল যানজটের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই জনভোগান্তি কমাতে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যানজট নিরসনে এটি বর্তমান প্রশাসনের তৃতীয় দফার বৈঠক ছিল, যেখানে নগরীর ট্রাফিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
‘ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন’ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গত রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে নামার পরই নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ভারতীয় নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) তার নাম শনাক্ত হওয়ায় তাকে আটকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডা. জাহেদ নিজেই তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হওয়ায় তাকে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনাটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে ঘটেছে। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে তার নাম অপসারণ করা হলেও ভারতের অভিবাসন বিভাগের ডেটাবেসে সেই তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয় এবং তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় উপদেষ্টা সফরটি বাতিল করে দ্রুত দেশে ফেরার পথ বেছে নেন।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।
একইসঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মুশফিকুর রহমানকে।
রোববার (১৪ জুন) সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিই ১০ সদস্যবিশিষ্ট। দুই ক্ষেত্রেই জামায়াত ইসলামীর দুইজন এবং এনসিপির একজন করে এমপিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, চাঁদপুর-২ আসনের জালালউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসন মইনুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবদিন। আর এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহ।
অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নোয়াখালী-১ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন, পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, সংরক্ষিত নারী আসনের শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ। এছাড়া, এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন।
মন্তব্য