× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BADCs seed rice and wheat are now bird food
google_news print-icon

বিএডিসির বীজ ধান ও গম এখন পাখির খাবার

বিএডিসির-বীজ-ধান-ও-গম-এখন-পাখির-খাবার
রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলেছে বিএডিসির বস্তায় ভরা বীজ গম ও ধান। কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ ধান ও গম কৃষকদের না দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে পাখির খাবারের দোকানে। রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলেছে বিএডিসির বস্তায় ভরা এসব বীজ গম ও ধান।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভালো মানের বীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ করে তা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়। ভালো ফসল উৎপাদন করতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির এই কার্যক্রম।

অবাক করা বিষয় হলো, বিএডিসির বীজ ধান ও গম কৃষকদের না দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে পাখির খাবারের দোকানে। রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলছে বিএডিসির বস্তায় ভরা এসব বীজ গম ও ধান। প্রকাশ্যেই এসব বিক্রি করা হচ্ছে।

বিএডিসি বলছে, ডিলারদের অবিক্রীত বীজ তারা যেখানে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারে। খেতেও পারে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পাখি কিংবা মানুষ কেউই এই বীজ ধান-গম খেতে পারে না। কেননা এগুলোতে রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। এগুলোর দোকানে বিক্রির ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী নগরীর গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীতে পাখির খাবারের দোকান সেলিম এন্টারপ্রাইজ। এখানে নানা ধরনের পাখির খাবার বিক্রি করা হয়। সেখানে সারি সারি সাজানো আছে বিএডিসির বীজ ধান ও গমের বস্তা। এসব বস্তায় বিএডিসির সিলও মারা রয়েছে। বস্তা কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এসব বীজ। প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায় আর গম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

দোকানটিতে ঢুকতেই দেখা মিলছে বীজের বস্তা। এসব বস্তা আর বীজ প্রত্যয়নও দেয়া আছে। তাতে লেখা রয়েছে ট্যাগ নম্বর, ধানের জাতের নাম, লট নম্বর, প্রত্যায়ন ইস্যুর তারিখ, বৈধতার মেয়াদ, নেট ওজন। প্রতিটি ১০ কেজি ওজনের বস্তা। এসব বীজ যশোর জোনের।

বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে দিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে করে এসব বীজ আসছে। চটের বস্তায় মোড়ানো এসব বীজ সরাসরি দোকানে তোলা হলো। প্রায় ৩০টি বস্তা সেখানে ঢুকানো হলো। দোকানের সামনে রাখা হলো আরও ৮টি বস্তা। কিছুক্ষণ পর সেই বস্তার মুখ খুলে সরাসরি বিক্রি শুরু করলেন দোকানি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমরা হরিয়ানের এক ডিলারের কাছ থেকে এগুলো এনেছি। এগুলো তারা বিক্রির পর অবশিষ্ট বীজ নিলামে বিক্রি করে দেয়। আমরা দ্বিতীয় হাত থেকে কিনে নিয়েছি।’

রাসায়নিক মিশ্রিত বীজ গম ও ধান সরাসরি পাখির খাবার হিসেবে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব বীজে যাতে পোকার আক্রমণ না হয় সেজন্য কিছুটা বিষ দেয়া থাকে। তবে সেগুলো বাইরে। সরাসরি ধানে বা গমে নয়। আর এগুলো খেয়ে যদি ক্ষতি হতো তবে এতে অনেক পাখি মারা যেত। এখন পর্যন্ত তো সেরকম কিছু শুনিনি।’

বিএডিসি যশোর জোনের উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) মুসা আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘চলতি ধান ও গমের মৌসুম শেষ। ডিলাররা উত্তোলন করার পরও কিছু বীজ থেকে যায়। সব বীজ তো আর বিক্রি হয় না। তখন তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে। এটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে একান্ত এখতিয়ার ডিলারদের।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা কেন বিক্রি করলেন সেটি আমরা বলতে পারব না। আমাদের বীজ বেচার দরকার আমার বীজ তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এই বীজগুলো ২৪ মৌসুমের। এসব বীজে আগামী বছর ফসল ফলবে না। আমরা মনে করি এটি বাইরে বিক্রি করা যৌক্তিক না হলেও তা ডিলারদের বিষয়। আমাদের নয়।’

বিএডিসি রাজশাহীর উপ-পরিচালক কেএম গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘এসব বীজে সামনের বছরে আর ফসল হবে না। এই বীজ আর চলে না। আর বীজের চাহিদা নির্ণয় করা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। চাহিদা দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরপর এনএসবি মিটিএয় কে কত বীজ উৎপাদন করবে সেটির অনুমোদন দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘বীজের যাতে সংকট না হয় সেটি বিএনডিসি দেখভাল করে। কোনো কোনো বছর আবাদ একটু কম হয়। ওই বছর তখন বীজ বেচে যায়। এখন সিজন শেষ। ডিলার যারা এই বীজ নিয়েছেন তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‘ধরুন, তাদের ৬১ টাকায় কিনে ৬৯ টাকায় বিক্রি করার কথা। সিজনের পর এসব বীজ খাদ্য বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একটা সময় আমরা এগুলো ফুডকেও দিয়ে দিতাম।’

তবে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজদার হোসেন বলেন, ‘এসব বীজ পাখির খাওয়ার উপযোগী নয়। মানুষের খাওয়ারও উপযোগী নয়। অনেক কেমিক্যাল মেশানো হয়। আমরা এর পক্ষে নই। এটা কেন হচ্ছে আপনারা তদন্ত করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে ধান ও গমের বীজের চাহিদা আছে সেখানে দেয়া হয়নি। অথবা যেখানে চাহিদা নেই সেখানে বেশি আনা হয়েছে। এ কারণে এগুলো হয়েছে।’

রাজশাহী গম গবেষণাগারের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমি গত মাসেই যশোরে বদলি হয়ে এসেছি। আমরা অনেক কষ্ট করে এসব বীজ উৎপাদন করি। এরপর বিএডিসিকে দিয়ে দেয়া হয়। এবার ব্যাপক চাহিদা ছিল গমের বীজের। তারপরও কেন এমনটি হলো আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএডিসির কাছে আমরা জানতে চাইব এটি কেন হলো। এটি হওয়ার কথা নয়। বিএডিসির মাধ্যমে বীজ তো কৃষক পাবে। এটি পাখির খাবারের জন্য নয়। পাখির খাবারের জন্য তো আলাদা গম উৎপাদন হয়।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি
পাথরে ফুটেছে ফুল
মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানির আশা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
38 and a half thousand crores allocated for the purpose of 10 percent growth in agriculture

কৃষিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

কৃষিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ
‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬)’ অনুসারে, এই বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়।

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে কৃষি খাতে গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিন বছরে কৃষি উন্নয়নে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।

‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬)’ অনুসারে, এই বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়। সূত্র: ইউএনবি

জিডিপিতে হ্রাস প্রবণতা সত্ত্বেও এটি বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষিনির্ভর সংখ্যাগরিষ্ঠদের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের গৃহীত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে- উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, যান্ত্রিকীকরণ-সেচ সম্প্রসারণ এবং বীজ ও সারের মতো সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণের প্রাপ্যতা বাড়ানো।

নীতি নথিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সেচের জন্য ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি সমাধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং ফসল পরিচর্যার জন্য রিমোট সেন্সিং নিয়োগ করা।

সরকার একটি টেকসই ও স্বনির্ভর কৃষি কাঠামো গড়ে তুলতে ভর্তুকি, আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই খাতকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উপখাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এটি কেবল জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯১ শতাংশই বৃদ্ধি করে না, বরং জনসংখ্যার ১২ শতাংশেরও বেশি মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং জীবিকার সংস্থান করে। এই ক্ষেত্রগুলোর অর্জনের মধ্যে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আশা করা হচ্ছে। তাছাড়া রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য এসব খাত অত্যাবশ্যক।

ভবিষ্যতে এসব খাতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য বিশেষ করে ছোট ইলিশের (জাটকা) জন্য উন্নয়ন প্রকল্প চালু করতে প্রস্তুত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

টেকসই কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরেকটি মৌলিক ক্ষেত্র। আন্তঃসীমান্ত নদী থেকে ন্যায়সঙ্গত পানির হিস্যা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জলাশয় খনন ও উপকূলীয় বনায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা উন্নয়নের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির হুমকির মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সরকার এই প্রভাবগুলো হ্রাস করার বিস্তৃত কৌশলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনাটি জলবায়ু সম্পর্কিত বাধাগুলোর বিরুদ্ধে সহনশীলতা এবং স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও সম্প্রদায়গুলোকে সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই বহুমুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের কৃষি ঐতিহ্যকে কেবল সুরক্ষাই নয়, বরং এগিয়ে নিতেও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chia seed cultivation is popular in Magura

মাগুরায় জনপ্রিয় হচ্ছে চিয়া সিডের চাষ

মাগুরায় জনপ্রিয় হচ্ছে চিয়া সিডের চাষ কৃষক আক্কাস আলীর খেতে শোভা পাচ্ছে চিয়া সিড। ছবি: নিউজবাংলা
মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চিয়া সিড সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত। এটির গুণাগুণ ও বাজারমূল্য প্রচুর। যে কারণে আমরা কৃষকদের এটি চাষে উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

মাগুরা জেলায় জনপ্রিয় হচ্ছে চিয়া সিডের চাষ। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবার তালিকায় চিয়া সিড এখন বেশ জনপ্রিয়।

চিয়া সিড মূলত মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া উদ্ভিদের বীজ। মধ্য আমেরিকায় অনেক বেশি পাওয়া যায় এ শস্য। এটি সাধারণত শস্যের তালিকায় পড়লেও একে এক ধরনের ভেষজও বলা হয়।

চিয়া সিড দেখতে অনেকটা তিলের দানার মতো। পৃথিবীর পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে চিয়া সিড অন্যতম। চিয়া সিডে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডম কোয়েরসেটিন, কেম্পফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও ক্যাফিক এসিড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ক্যালসিয়াম এবং দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ, যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি ফসল হিসেবেও লাভজনক।

মাগুরা সদর উপজেলার নালিয়ারডাঙ্গি গ্রামের প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস আলী শুরু করেন চিয়া সিডের চাষ। গত বছর কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী এক বিঘা জমিতে চিয়া সিডের চাষ করেছিলেন তিনি। এ বছর তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে আরও ১৪ জন কৃষক চাষ করেছেন। আগামীতে চিয়া সিড চাষের জন্য তার নিজ এলাকাসহ আশপাশের জেলার চাষিরাও তার কাছে বীজ চেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আমাদের এলাকার প্রতিবন্ধী কৃষক আক্কাস আলীর মাধ্যমেই নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষ শিখছি। পাশাপাশি নতুন ধরনের ফসলেরও চাষ হচ্ছে। তেমনি চিয়া সিড আমাদের কাছে নতুন একটি চাষ। চিয়া সিড খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের উপকার হয়। পাশাপাশি এর চাহিদা ও বাজার দর বেশি হওয়ায় কৃষকরা এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

কৃষক আক্কাস আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর অল্প পরিসরে চিয়া সিড চাষ করি। মাগুরা মসলা গবেষণা কেন্দ্র আমাকে এ বীজ দেয়। এ বছর আমি ছাড়াও আমার এলাকার ১৪ জন চাষি চিয়া সিড করেছে।’

পুষ্টিকর ও দাম ভাল হওয়ায় আগামী বছর একশ’র উপরে চাষি চিয়া সিড চাষ করবেন বলে আশা তার।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চিয়া সিড সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত। এটির গুণাগুণ ও বাজারমূল্য প্রচুর। যে কারণে আমরা কৃষকদের এটি চাষে উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers are not getting the price of cucumber for 42 kg

৪২ কেজিতে এক মণ, তবু শসার ‘দাম পাচ্ছেন না’ কৃষক

৪২ কেজিতে এক মণ, তবু শসার ‘দাম পাচ্ছেন না’ কৃষক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রতি মণে ৪২ কেজি শসা বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষকরা জানান, উপজেলার প্রত্যেকটি বাজারে শসার পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। তারা যখন যা বলে, সে দামেই বিক্রি করতে হয়। তাদের নির্ধারিত দামে শসা বিক্রি না করলে শসা খেতে পচে নষ্ট হয়।

৪০ কেজিতে এক মণ হলেও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের হাট-বাজারগুলোতে এক মণ শসা বিক্রি করতে কৃষককে দিতে হচ্ছে ৪২ কেজি ৩০০ গ্রাম।

এতে কৃষকরা প্রতি কেজি হিসেবে পাঁচ টাকারও কম পাচ্ছে, তবে এ শসা বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে পাইকাররা।

অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের জাঁতাকলে পড়ে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানান ক্ষুদ্র কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, তারা এ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে শসা আবাদ করেন। এ সুযোগে পাইকারি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা কম দামে শসা কিনে বেশি দামে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারী করেন। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গত বছর ২৬৫ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হলেও এ বছর ২২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। শসার দাম কম পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শসা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে প্রতি বছর শসার আবাদ কমার সম্ভবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, উপজেলার প্রত্যেকটি বাজারে শসার পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। তারা যখন যা বলে, সে দামেই বিক্রি করতে হয়। তাদের নির্ধারিত দামে শসা বিক্রি না করলে শসা খেতে পচে নষ্ট হয়। গত বছরও অসাধু পাইকারদের জন্য অনেক কৃষক লাভের মুখ দেখতে না পেরে শসা চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় শসা উৎপাদন একেবারেই কমে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন অনেক কৃষকরা।

ধুরাইল ইউনিয়নের নাগলা বাজার এলাকার কৃষক জাহিদুর রহমান বলেন, ‘২৫ শতাংশ জমিতে শসার আবাদ করেছি। এতে সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। রমজানের শুরুতে ভালো দাম পেলেও দিন যত যাচ্ছে, পাইকাররা দামও কমিয়ে দিচ্ছেন। এখন ২০০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।’

জুগলী ইউনিয়নের জুগলী এলাকার কৃষক আহম্মদ মিয়া বলেন, ‘৩০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। এক মণ ৪২ কেজি হিসেবে শসা কিনেন পাইকাররা। আমাদের কাছ থেকে একেবারেই কম দামে কিনে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আমরাও লাভবান হতে পারছি না, ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছেন।’

পৌর বাজারে শসার পাইকার মনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ‘এ উপজেলার শসা দূরদূরান্তের পাইকাররা ঢাকাসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাজারে ট্রাক কিংবা পিকআপ ভর্তি করে নিয়ে আড়তে বিক্রি করেন৷ এরপর ছোট পাইকারসহ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। সড়কে গাড়ির খরচসহ কয়েকটি হাত ঘুরে ক্রেতা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়। আমাদের উপজেলার বাজারগুলোতে ক্রেতার চাহিদার উপর নির্ভর করে দাম উঠানামা করে।’

শসা ৪২ কেজিতে এক মণ নেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর যাবৎ কৃষকদের কাছ থেকে সব পাইকাররা এভাবেই কিনছে। তাই আমিও এভাবেই কিনি।’

শসার দাম সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে ময়মনসিংহ শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ বাজারে গিয়ে কথা হয় খুচরা শসা বিক্রেতা মোরশেদ মিয়ার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও খুচরা ব্যবসায়ীরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা হিসেবে শসা বিক্রি করলেও এখন ২০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এই বাজারে ময়মনসিংহের চরাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নসহ জেলার তারাকান্দা, ফুলপুর ও হালুয়াঘাট থেকেও শসা আসে।

‘পিকআপ ভর্তি করে পাইকাররা নিয়ে এসে আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। তারা আমাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিক্রি করায়, আমরাও কয়েক টাকা লাভে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি।’

হাকিমুল নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘কৃষক আর ক্রেতা সবসময় ঠকে। মূলত সিন্ডিকেট কারণেই এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিয়মিত অভিযান চালালে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে শসা কিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ করে বিক্রি করতে হবে। অতিরিক্ত দামে কখনোই বিক্রি করা যাবে না। বাজারগুলোতে অভিযান চালানো হবে। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
কাউকে এখন না খেয়ে থাকতে হয় না: কৃষিমন্ত্রী
বিএডিসির বীজ ধান ও গম এখন পাখির খাবার
পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি
পাথরে ফুটেছে ফুল
মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers interest in high yielding wheat blast resistant in Meherpur

শঙ্কা কাটিয়ে গমের বাম্পার ফলন মেহেরপুরে, দামও ভালো

শঙ্কা কাটিয়ে গমের বাম্পার ফলন মেহেরপুরে, দামও ভালো মেহেরপুরের তিনটি উপজেলায় এবার গমের বাম্পার ফলন হয়। ছবি: নিউজবাংলা
গম ব‍্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আড়তে সপ্তাহখানেকের বেশি হবে স্থানীয় গম আসতে শুরু করেছে। এ বছর কৃষকদের গমের ফলন বেশ ভালো। সে হিসাবে আড়তে গমের আমদানি হচ্ছে ভালো। আমরা বতর্মানে আকারভেদে প্রতি মণ গম সংগ্রহ করছি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে।’

বীজের বাড়তি দাম, আবাদের মাঝ সময়ে শিষ মরা রোগের সঙ্গে হুইট ব্লাস্টের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন মেহেরপুরের অনেক গমচাষি। কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল শঙ্কা, তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে গমের বাম্পার ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজার দর ভালো পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

জেলায় এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে গম ৪.১ টন উৎপাদন হয়েছে। মণ প্রতি গম বিক্রি করছেন ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পযর্ন্ত। গমের মাঠের অধিকাংশ গমের দানাও মোটা তাই কৃষকদের ফলন বেড়েছে।

মেহেরপুর জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে গম চাষ হয়েছে, যা আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে সঠিক সময়ে কৃষকরা মাঠ থেকে ফসল তুলতে পেরেছেন। এবার গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই আগ্রহ বেড়েছে গম চাষে।

জেলার তিনটি উপজেলা গাংনী, মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার ফসলি মাঠ পরিদর্শন করে দেখা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর গমের আবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মাঠ থেকে পাকা গম এখন সোনালি বর্ণ ধারণ করেছে। ফসলের মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পাকা গম কেটে মাড়াইয়ের কাজে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

অধিকাংশ গম ঘরে উঠলেও এখনও মাঠেই রয়েছে অনেক গম। চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে মেঘের চোখ রাঙানি থাকলেও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির কারণে গম মাড়াইয়ের কাজ অনেকটা সহজতর হয়েছে।

কৃষি বিভাগের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে গম চাষের লক্ষ‍্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন। আর এবার প্রতি হেক্টর জমিতে চার দশমিক এক টন উৎপাদন হচ্ছে।

ব‍্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর গমের দানা বেশ বড় বড় হয়েছে। গমের বাজার মূল‍্যও ভালো। মণপ্রতি গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পযর্ন্ত।

জেলার গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের গমচাষি আনোয়ার বলেন, ‘এ বছর এক বিঘা জমিতে আমি গম কেটে মাড়াই শেষে ২০ মণ গম পেয়েছি, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড। আর আমার নিজের জমি হওয়ায় সব মিলিয়ে ছয় হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আর বতর্মানে প্রতি মণ গম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে।’

আরেক চাষি তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। শুরুতে গম ভালো হয়েছিল, মাঝখানে যখন শিষে গমের দানা বাদতে শুরু করে, ঠিক তখনই শিষ মরা রোগ শুরু হয়।

‘ভয় হয়েছিল ভালো ফলন পাব কি না, তবে আল্লাহর রহমতে শেষমেশ ভালো ফলন পেয়েছি। আবার এ বছর গমের দাম বেশ ভালো।’

একই এলাকার গমচাষি ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের মাঠে এবার ব‍্যাপক গমের আবাদ হয়েছে। আমি দুই বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। আজ সপ্তাহখানেক হবে গম কেটে মাড়াই শেষে ফসল ঘরে তুলেছি।’

‘আমার এক বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছি ১৭ মণ, আরেকটিতে পেয়েছি ২০ মণ হারে। যেখানে কম ফলন হয়, সেই গমটিতে শিষ মরা রোগ হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম ফলন একেবারে পাব না, তবে আল্লাহ খুব ভালো ফসল দিয়েছেন।’

গম ব‍্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আড়তে সপ্তাহখানেকের বেশি হবে স্থানীয় গম আসতে শুরু করেছে। এ বছর কৃষকদের গমের ফলন বেশ ভালো। সে হিসাবে আড়তে গমের আমদানি হচ্ছে ভালো। আমরা বতর্মানে আকারভেদে প্রতি মণ গম সংগ্রহ করছি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে।’

আরেক ব‍্যবসায়ী শিপন বলেন, ‘আমরা প্রত‍্যন্ত অঞ্চল থেকে গম সংগ্রহ করে থাকি। আজ ১০ দিনের মতো হবে গম সংগ্রহ শুরু করেছি। এবার মাঠের অধিকাংশ গমের দানা বেশ মোটা, যার ফলে কৃষকদের ফলন বেড়েছে। তা ছাড়া গত বছরের চেয়ে এ বছর মাঠে গমের আবাদ বেশি।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃষ্ণকুমার হালদার বলেন, ‘মেহেরপুরে ব্লাস্ট প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের জাত বারি-৩৩ ও ডব্লিউএমআইআর গম-৩ নামের দুটি গমের জাত উদ্ভাবনের ফলে এ অঞ্চলে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।

‘আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিতে চাষিদের আগ্রহ বাড়ায় গম চাষাবাদ থেকে মাড়াইয়ের পদ্ধতি অনেক সহজতর হয়েছে। তা ছাড়া গমের বতর্মান বাজারদর ও চাহিদাও বেশ ভালো, যার ফলে চলতি মৌসুমে গম উৎপাদন লক্ষ‍্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Black gold onion production in Faridpur will exceed Tk 300 crore

‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল

‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল নিজের জমির পেঁয়াজ বীজ ছুঁয়ে দেখছেন ফরিদপুরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষাণী লাভলী আক্তার। ছবি: নিউজবাংলা
ফলে গত বছরের চেয়ে কিছু বেশি জমিতে চাষ হলেও এবার উৎপাদন তুলনামূলক কম হবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। এই সুযোগে ভারত থেকে পেঁয়াজ বীজ আমদানি ও বাড়তি মূল্য গোনার আশঙ্কাও রয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ বীজের আমদানি ঠেকানো না গেলে বিপদে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরাও।

ফরিদপুরে ফসলি মাঠে ‘কালো সোনা’ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন ও চাষে কৃষকের দিনবদল হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার তারা বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই মণ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করতে এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। সে হিসাবে জেলাজুড়ে চাষিদের সবমিলিয়ে এবার প্রায় কোটি টাকার মতো করে লাভ থাকবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ফরিদপুরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক দম্পতি লাভলী আক্তার ও ইনতাজ মোল্লা। ১২ বছর আগে মাত্র দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন এই দম্পতি। সেবার ভালো লাভ পেয়ে প্রতিবছর বাড়িয়ে চলেছেন আবাদি জমির পরিমাণ। এবছর ৪০ বিঘা জমিতে তারা পেঁয়াজ বীজের আবাদ করেছেন।

এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তাদের। তবে পেঁয়াজ বীজের কল্যাণে এই পরিবারটি এখন কোটিপতি। নিজস্ব জমিতে তাদের রয়েছে পাকা ইমারতের বাড়ি।

‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল

দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছেলে আর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া একটি মেয়ে নিয়ে এখন তাদের সুখের সংসার। প্রতিবছর তারা পেঁয়াজ উপার্জনের টাকায় নিজেদের সম্পত্তি বাড়াচ্ছেন, কিনছেন জায়গা-জমি।

কৃষক লাভলি আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে দেখি শ্বশুর বাড়ির লোকেরা পেঁয়াজ বীজের চাষ করে। আমিও স্বামীকে সহায়তায় নামি। এতে প্রথম বছরেই ভালো আয় হয় আমাদের। এরপর আর থেমে থাকিনি আমরা।

‘আমি এই পেঁয়াজ বীজের টাকা দিয়েই ৭৫ লাখ টাকা খরচ করে বাড়িতে বিল্ডিং তুলেছি। প্রতিবছরই নতুন জমি কিনেছি। একসময় আমাদের পক্ষে এসব সম্ভব ছিল না। তবে এখন তা আমাদের কাছে বাস্তব।’

পেঁয়াজ বীজ গাছের সাদা কদম তথা গোলাকারের বড় ফুল শুকিয়ে বের হয় কালো দানা। আকাশ ছোঁয়া বাজার দরের কারণে একে বলা হয় ‘কালো সোনা’। একটা সময় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর থাকলেও দিন দিন দেশে এই ‘কালো সোনা’র আবাদ বাড়ছে।

‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল

পেঁয়াজ চাষে দেশের মোট বীজ চাহিদার ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হয় ফরিদপুরে। চলতি মৌসুমে যদিও প্রাকৃতিক পরাগায়নের অভাবে আবাদের তুলনায় পেঁয়াজ বীজের উৎপাদনের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা, তারপরও এবার জেলার চাষিদের সবমিলিয়ে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন তিন শ’ কোটি টাকার বাজার ছাড়িয়ে যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলায় মোট এক হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। গত বছর যা ছিল এক হাজার ৮৬৭ হেক্টর। এসব জমি থেকে এবার প্রায় সাড়ে সাত টনের বেশি বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো লাভ পাওয়ার কারণেই এই ফসলের দিকে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

এবার জেলাটিতে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জেলা সদরে, প্রায় ২০৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন কৃষকরা। এরপর ভাঙ্গায় ১৭৬, সদরপুরে ১৪৬, চরভদ্রাসনে ৬৮, মধুখালীতে ৬৮, বোয়ালমারীতে ৩৪, নগরকান্দায় ২৮, সালথায় ২২ ও আলফাডাঙ্গায় ৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে।

তবে এ বছর মৌমাছির অভাবে পেঁয়াজ ফুলে পরাগায়ণের মাত্রা কমেছে। নিরুপায় কৃষক নিজ হাতে এক ফুলের রেণুর সঙ্গে আরেক ফুলের রেণুর পরাগায়ণের পন্থাও বেছে নেন অনেক খেতে, কিন্তু এতে প্রাকৃতিক পরাগায়ণের মতো ভালো ফলন হয়নি।

ফলে গত বছরের চেয়ে কিছু বেশি জমিতে চাষ হলেও এবার উৎপাদন তুলনামূলক কম হবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। এই সুযোগে ভারত থেকে পেঁয়াজ বীজ আমদানি ও বাড়তি মূল্য গোনার আশঙ্কাও রয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ বীজের আমদানি ঠেকানো না গেলে বিপদে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরাও।

স্থানীয় এক কৃষকের ভাষ্য, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ বীজ আমদানি করা হলে তা সার্বিকভাবে ক্ষতিই ডেকে আনবে। কারণ, ভারত থেকে আনা বীজ নিম্নমানের হয়, তাতে ভালো ফলন হয় না।’

‘কালো সোনা’য় ফরিদপুরের কৃষকদের দিনবদল

পেঁয়াজ বীজ আবাদে ছোট্ট শিশু প্রতিপালনের মতোই যত্নশীল থাকতে হয়। কোনোরকম অযত্ন হলে ফলন নষ্ট হয়ে যায়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে খেতে বীজের আবাদ শুরু হয় যেখান থেকে ফলন পেতে লেগে যায় এপ্রিল-মে মাস। জমি থেকে তোলার পর এক বছর পর্যন্ত এই বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। পরবর্তী বছর কৃষকরা এই বীজ সংগ্রহ করে বপন করে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে জেলার কৃষকরা এবার সাড়ে সাত টন বীজ উৎপাদন করবে। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদপুর জেলার বীজ চাষিদের সমস্যা নিরসনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের সব ধরনের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছে। এতে তারা এ সেক্টরে দিন দিন উন্নতি করতে পারছেন।’

আরও পড়ুন:
পেঁয়াজ রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল ভারত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers of Madaripur are losing interest in mustard cultivation

সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে মাদারীপুরের কৃষক

সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে মাদারীপুরের কৃষক ফলন আশানুরূপ না হওয়া আগেভাগেই জমি পরিষ্কার করছেন কৃষক আনোয়ার মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা
বিদ্যাবাগীশ গ্রামের কৃষক লিটন উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর সরিষার ফলন ও দাম ভালো ছিল। এ কারণে এবার সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তবে এবার গতবারের মতো ফলন হয়নি; দামও কম। গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণে অন্তত ৬ থেকে ৮ শ’ টাকা কমে সরিষা বিক্রি হচ্ছে।’

গত মৌসুমে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার মাদারীপুরে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। মাঠে মাঠে সরিষার ফুলের সমারোহ দেখে বাম্পার ফলনের আশা করলেও এবার আশানুরূপ ফলন পাননি কৃষক। এমনকি গতবারের তুলনায় এবার দামও কম পাচ্ছেন সরিষা চাষিরা। ফলে আগামীতে সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে জেলার কৃষক।

ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে মাদারীপুরে সরিষার আবাদ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত দুই মৌসুমের তুলনায় এবার অন্তত ৫ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরপর দুবছর নিজের তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন জেলার কালকিনির বিদ্যাবাগীশ এলাকার চাষি আনোয়ার মোল্লা। তবে এবার রোপন মৌসুমে তিনবার বৃষ্টিতে বীজ নষ্ট হয়। এরপরও হলুদের আভরণে হাসি ছিল তার মুখে, কিন্তু গাছে ফলন কম হওয়ায় আগেভাগেই ক্ষেত পরিষ্কার করছেন পরিবার নিয়ে। ফলে এমন লোকসানে আগামীতে আর সরিষার দিকে ঝুঁকতে চান না তিনি।

তার মতো একাধিক সরিষা চাষি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে আট থেকে দশ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই পরিমাণ জমিতে সরিষা উৎপাদন হয় ৬ থেকে ৮ মণ। বাজারে দাম ভালো থাকলে প্রতি বিঘার সরিষা ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি সম্ভব। এতে খরচ বাদে ভালোই লাভ থাকে। কিন্তু এবার সরিষার ফলন ও দাম দুটোই কম থাকায় তেমন লাভবান হতে পারছেন না চাষিরা।

সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে মাদারীপুরের কৃষক

বিদ্যাবাগীশ গ্রামের কৃষক লিটন উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর সরিষার ফলন ও দাম ভালো ছিল। এ কারণে এবার সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তবে এবার গতবারের মতো ফলন হয়নি; দামও কম। গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণে অন্তত ৬ থেকে ৮ শ’ টাকা কমে সরিষা বিক্রি হচ্ছে।’

গত মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন কুনিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর শরীফ। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।

এই কৃষক বলেন, ‘এবার ফলন কম হয়েছে। গত বছর বিঘায় ৭ মণ থেকে ৮ মণ ফলন হয়েছিল, কিন্তু এবার ৫ মণ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। গত বছর কাঁচা সরিষা ২ হাজার ৮শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আর শুকনো সরিষা বিক্রি করেছি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২ শ’ টাকায়, কিন্তু এবার দাম খুবই কম।’

মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দিগ্বিজয় হাজরা জানান, ২০২২-২৩ মৌসুমে জেলায় ১৫ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এবার ২০২৩-২৪ মৌসুমে আবাদ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ চাষ বেড়েছে ১ হাজার ৩৯৭ হেক্টর বেশি। এবার সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ‘এবার চাষিরা দেরি করে সরিষা চাষ শুরু করেছেন। তাছাড়া আবহাওয়াও অনুকূলে না থাকায় এবার সরিষার উৎপাদন গতবারের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।’

তবে প্রণোদনা দিয়ে চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সরিষা ক্ষেতের পাশে বাক্স, বিপুল মধু আহরণের আশা
সরিষার হলুদে ছেয়ে গেছে প্রান্তর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bumper yield of pesticide free rice in the eye corner

নেত্রকোণায় কীটনাশকমুক্ত চালকুমড়ার বাম্পার ফলন

নেত্রকোণায় কীটনাশকমুক্ত চালকুমড়ার বাম্পার ফলন চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ২৬৫ হেক্টর জমিতে চালকুমড়ার আবাদ করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় নেত্রকোণায় দুই হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ২৬৫ হেক্টর জমিতে চালকুমড়ার আবাদ করা হচ্ছে।

নেত্রকোণায় এবার চালকুমড়ার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো মূল্য পাওয়ায় চাষিরাও বেশ খুশি। কীটনাশকমুক্ত এ চালকুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণায় নানাবিধ কারণে শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি অর্থাৎ পতিত থাকতো। তাই ‘এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণায় কৃষি বিভাগ নানান রকম প্রচার প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দিয়ে তাদের অনাবাদি পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের শস্যসহ চালকুমড়া চাষাবাদে উৎসাহিত করা হয়।

গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় নেত্রকোণায় দুই হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ২৬৫ হেক্টর জমিতে চালকুমড়ার আবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, নেত্রকোণা জেলায় এ বছর আনুমানিক ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টন চালকুমড়া উৎপাদিত হবে।

এদিকে জেলার বারহাট্টা উপজেলার ধলপুর, সিংধাসহ প্রায় ৩০টি গ্রামে এবার ধান চাষের পাশাপাশি শাকসবজি চাষে ভালো লাভবান হওয়ায় এসব এলাকার কৃষকরা চালকুমড়ার পাশাপাশি লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটাসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজি চাষ করছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ থেকে ২৬ টন চালকুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, প্রতি ১০ শতক জমিতে ৫০ থেকে ৬০ মন চালকুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতিটি চালকুমড়া গড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করা হয়। যার ফলে এক কাঠা জমি থেকে কৃষকদের আয় হচ্ছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতীয় নূরুল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল আলম বলেন, বিগত কয়েক বছর এ সমস্ত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় শত শত একর জমি অনাবাদি কিংবা পতিত থাকতো। এখন সরকারের কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে অনাবাদি, পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনায় ধানসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া আমরা যারা কৃষক তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় বা আবাদি, অনাবাদি ও পতিত জমিতে চালকুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের লাউ, শসা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ নানান ধরনের রবিশস্য আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছি।’

কৃষক শফিকুল জানান, তিনি গত বছর দেড় একর জমিতে চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়াসহ ফুলকপি চাষাবাদ করে প্রায় ৯ লাখ টাকা আয় করেন। এ বছর আড়াই একর জমিতে চালকুমড়া পাশাপাশি টমেটো, বেগুন ও বাদাম চাষ করা হয়েছে।

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের কালিহালা গ্রামের বর্গাচাষি কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ কাঠা পতিত জমি বর্গা নিয়ে চালকুমড়া চাষ করি। চলতি সময়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার চালকুমড়া বিক্রি করেছি। আরও বিক্রি করা যাবে।’

জেলার বারহাট্টা উপজেলার ধলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও আব্দুর রশীদ জানান, এ বছর ৩০ কাঠা জমিতে চালকুমড়ার আবাদ করা হয়। ভালো ফলনও হয়েছে। স্থানীয় পাইকাররা জমি থেকেই মন প্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে।

নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বসতবাড়ির আশপাশের জমিজমা এবং অনাবাদি পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ স্থানীয় কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ, প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কীটনাশকমুক্ত ফসলাদি উৎপাদনে কৃষকদের ব্যাপক উদ্বুদ্ধ করা হয়।

তিনি জানান, পতিত জমিতে চালকুমড়ার বাম্পার ফলন হওয়ায় বিভিন্ন জাতের শাকসবজি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। ফলে নেত্রকোণা জেলায় দুই হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি, পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উদ্ভাবনী পদমর্যাদায় ‘ইনফেকশাস-ডিজিজ’ বিষয়ে প্রথম স্থান সিকৃবির
আউশের উৎপাদন বাড়াতে ৬৪ কোটি টাকার প্রণোদনা
বসতভিটায় ফিরতে চায় হামলা-মামলায় বাস্তুহারা ৫ পরিবার
কাউকে এখন না খেয়ে থাকতে হয় না: কৃষিমন্ত্রী
বিএডিসির বীজ ধান ও গম এখন পাখির খাবার

মন্তব্য

p
উপরে