× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The hanging body of the accused in the journalists murder case was recovered from the prison
google_news print-icon

কারাগার থেকে সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কারাগার-থেকে-সাংবাদিক-হত্যা-মামলার-আসামির-ঝুলন্ত-মরদেহ-উদ্ধার
পুলিশ হেফাজতে আসামি মো. তুষার। ছবি: নিউজবাংলা
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাসুজ্জামান জানান, মামলাটির বিচারকার্য শেষের দিকে, এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। এ মামলার অন্য আসামিরাও গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দেয়া এক আসামির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

জেলা কারাগারের কর্নফুলী ভবনের ছয়তলার ৫ নম্বর কক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. তুষার ২০১৮ সালে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০২০ সাল থেকে তিনি এ কারাগারে ছিলেন।

জেলা সুপার মোকাম্মেল হোসেন নিউজবাংলাকে বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার সময় কয়েদি ও হাজতিদের যার যার কক্ষে চলে যেতে হর্ন বাজানো হয়। তারপর গণনা করা হয়। ঘটনার সময় যমুনার একটি ওয়ার্ডে একজন হাজতির সংখ্যা কম পাওয়া গেলে তার খোঁজ শুরু করেন কারাগারে অফিসরারা। মাইকিং করে যখন তার খোঁজ মিলছিল না। তখন প্রতিটি ভবনের শুরু হয় তল্লাশি।

জেলা সুপার বলেন, এ সময় কর্ম কর্নফুলী ভবনের একটি খালি কক্ষের পাওয় যায় তুষারকে। তিনি দরজার আড়ার সঙ্গে চাদর ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে ছিলেন। তখন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যে কক্ষে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে সেখানে তুষার একই ছিলেন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের কারা প্রধান মোকাম্মেল হোসেন বলেন, সাধারণত ওই ভবনের চারতলা পর্যন্ত কয়েদি থাকে। ছয়তলা প্রায় খালি থাকে, আর পাঁচ নম্বর কক্ষ ফাঁকা পেয়ে সেখানে ঢুকে যান তুষার। এরপর ঘটনা ঘটান।

জেলার বলেন, সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার ২০২০ সালে এ কারাগারে আসেন আসামি তুষার। থাকতেন যমুনার একটি ওয়ার্ডে। কিছুদিন ধরে তিনি কারাগারের মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তেন। এমনকি তাহাজ্জুদ নামাজও বাদ দিতেন না। প্রায় সময় অন্য হাজতিদের কাছে দোয়া চাইতেন।

তিনি বলেন, তিন দিন তুষার তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে দেয়া চেয়েছে বলেও জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলার বিচার শেষের দিকে হওয়ায় তুষার পরিকল্পতিভাবে আত্মহত্যা করেছেন। এখন কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা করেন তাহলে সেটি রোধ করা কঠিন।

মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে সম্পৃক্ত থাকায় তুষারের বিষয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করেছিলেন ইলিয়াস। এ ছাড়া ২০১৮ সালে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় শামীম নামে এক যুবকের সঙ্গে তুষারের ঝগড়া হয়। সে সময় তুষার লাঠি দিয়ে শামীমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় শামীম তুষারের বিরুদ্ধে মামলা করলে স্থানীয় সাংবাদিক ইলিয়াস উসকানি দিয়েছিলেন বলে ধারণা করে তুষারসহ কয়েকজন মিলে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন সাংবাদিক ইলিয়াসকে।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক ইলিয়াসের স্ত্রী বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় তুষারকে।

পুলিশ ও কারাকর্তৃপক্ষ বলছে, গত তিন বছর ধরে ২৮ বছর বয়সী তুষার যমুনা ভবনের দ্বিতীয় তলার তিন নম্বর কক্ষে ছিলেন। তার বাবার নাম জামান মিয়া। স্থানীয় সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলায় তুষার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির এখন বিচারিক আদালতে স্বাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাসুজ্জামান জানান, মামলাটির বিচারকার্য শেষের দিকে, এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। এ মামলার অন্য আসামিরাও গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Life imprisonment of 14 people in Comilla for Chhatra Dal leaders murder

ছাত্রদল নেতা হত্যায় কুমিল্লায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন

ছাত্রদল নেতা হত্যায় কুমিল্লায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন ফাইল ছবি
২০২০ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় কমলাপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে পারভেজকে আটক করেন সিকান্দার চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরে গুরুতর আহত হয়ে পারভেজের মৃত্যু হয়।

কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতাকে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ মাসের সাজার রায় ঘোষণা করা হয়।

সোমবার কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাসরিন জাহান এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় ১১ জন আসামি উপস্থিত থাকলেও পলাতক ছিলেন তিনজন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম।

নিহত মো. পারভেজ হোসেন সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কালিবাজার এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সেকান্দর আলী, যুবলীগ নেতা মো. শাহীন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মফিজ ভান্ডারী, মো. কামাল হোসেন, আব্দুল কাদের, মো. ইব্রাহীম খলিল, আনোয়ার, মো. মেহেদী হাসান রুবেল ও জয়নাল আবেদীন। এবং পলাতক তিন আসামী হলেন- মো. কাওছার, মো. রিয়াজ রিয়াদ ও বিল্লাল।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় কমলাপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে পারভেজকে আটক করেন সিকান্দার চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর আহত করা হয়। মারধরে গুরুতর আহত হয়ে পারভেজের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে ১৫০ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পরে পারভেজের মাও বাদী হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে সিআইডি ১৪ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে একজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
মাথায় গুলি করে ইউএনও’র দেহরক্ষীর ‘আত্মহত্যা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
UNOs bodyguard committed suicide by shooting himself in the head

মাথায় গুলি করে ইউএনও’র দেহরক্ষীর ‘আত্মহত্যা’

মাথায় গুলি করে ইউএনও’র দেহরক্ষীর ‘আত্মহত্যা’ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আফজাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
নিহতের সহকর্মী আনসার সদস্য মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (সোমবার) বিকেলে বন্দরের ইউএনও স‍্যারের ডিউটি চলাকালীন সে নিজের মাথায় শটগান ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি।’

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করেছেন আফজাল হোসেন নামে এক আনসার সদস্য। তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বন্দরের মদনগঞ্জে উপজেলা কার্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় সহকর্মী আনসার সদস্যরা আফজালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে অপারেশন চলাকালীন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

নিহতের সহকর্মী আনসার সদস্য মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (সোমবার) বিকেলে বন্দরের ইউএনও স‍্যারের ডিউটি চলাকালীন সে নিজের মাথায় শটগান ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি।

‘আমরা জানতে পেরেছি যে সে আত্মহত্যা করেছে। তার বাবার নাম ওয়াহিদুর রহমান। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ মিয়া বন্দর থানার ওসির বরাত দিয়ে জানান, নিহত আনসার সদস্য বন্দর ইউএনওর গার্ড ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।’

বন্দর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আনসার সদস্য আফজাল হোসেন শটগান দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, আফজাল বন্দর ‌থানার ইউএন এম এ মুহাইমিন আল জিহানের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি তার অস্ত্র দিয়ে নিজের মাথায় পুলিশ করেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজনসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে আসেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আফজালের ডিউটি শুরুর আধ ঘণ্টা পর এ ঘটনা ঘটে। সে তার সার্ভিস শটগান দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে। ঘটনার সময় আমি আমার বাসভবনে ছিলাম না। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় সে পড়ে আছে।

‘দ্রুততার সঙ্গে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শটগানটি ও একটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The number of child patients is increasing in Magura hospital due to heat wave

তাপপ্রবাহে মাগুরার হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

তাপপ্রবাহে মাগুরার হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা ছবি: নিউজবাংলা
মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজিয়া আক্তার বলেন, ‘ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। গরম এলেই ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।’

যশোর-চুয়াডাঙ্গার পাশে হওয়ায় প্রতিদিনই মাগুরায় বাড়ছে তাপদাহ। তাপদাহের ফলে পুড়ছে মাঠ-প্রকৃতিসহ প্রাণীকুল। গরমে কোথাও স্বস্তি নেই। তাপদাহ বৃদ্ধির কারণে বেশি ভুগছে জেলার শিশু ও বৃদ্ধরা।

সরজমিনে মাগুরা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে সিট না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন মেঝেতে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন অনেক বয়স্ক রোগীও। তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে লোডশেডিং।

সোমবার সকাল থেকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে শিশু ও অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়তে শুরু করে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এসেছে এ হাসপাতালে।

এরমধ্যেই রোগীর চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে কর্র্তপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে মানুষের চলাচলের রাস্তার মেঝেতে থাকছেন অনেক রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৪৩৪ জন ভর্তি রয়েছেন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪১টি শিশুই ভর্তি হয়েছে সেখানে, যাদের অধকিাংশই গরমজনতি বিভিন্ন রোগে (ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর) ভর্তি হয়েছেন।

শহরের খাঁপাড়া থেকে আসা অনন্যা রহমান তার মেয়েকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন। তিনি জানান, গত পাঁচ দিন ধরে তার দুই মাসের শিশুর পাতলা পায়খানা ও জ্বর। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে।

পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামের আবু মিয়ার নাতনির তিন দিন ধরে পাতলা পায়খানা ও বমি এবং জ্বর, কিন্তু শয্যা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে নানতির চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে বাতাস চলাচলের জন্য ওয়ার্ডের কোনো একটা জানালা যে খুলব, সে উপায়ও নেই। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিশুটি ছটফট করছে। আমাদের অবস্থাও তাই। হাতপাখা চালিয়ে গরম নিবারণ করা যাচ্ছে না।’

হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজিয়া আক্তার বলেন, ‘ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। সাধারণত দিনে ৩ বা এর চেয়ে বেশিবার পাতলা পায়খানা হতে শুরু করলে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।

‘গরম এলেই ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।’

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অতি গরমে হাসপাতালে দিন দিন শিশুসহ অন্যান্য রোগী বাড়ছে।’

এক্ষেত্রে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরার্মশ দেন এই চিকিৎসক। বলেন, ‘হাসপাতালে গরমে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুবই চিন্তিত। এ কারণে শিশু রোগীদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
তাপপ্রবাহ: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত
তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে জনপদ, আছে ঢাকাও
তাপপ্রবাহে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ
আরও এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে
তাপপ্রবাহে আমের গুটি টেকাতে যে পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Punishment of women for filing false rape cases

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় নারীর শাস্তি

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় নারীর শাস্তি ছবি: নিউজবাংলা
২০১৮ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে শাহীনুজ্জামান বাবু বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামি আমেনা বেগম পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় আমেনা বেগম নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সেইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

সোমবার বিকেলে আসামির অনুপস্থিতিতে মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম তানিয়া কামাল এই রায় ঘোষণা করেন।

৩৯ বছর বয়সী আমেনা বেগম নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভূপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের স্ত্রী। কাজের সুবাদে তিনি শিবালয়ের টেপড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ভুক্তভোগী শাহীনুজ্জামান বাবু শিবালয়ের শিবরামপুর এলাকার বাসীন্দা।

মামলার এজহারে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৬ মে শাহীনুজ্জামান বাবুকে আসামি করে শিবালয় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করেন আমেনা বেগম। এরপর ২০১৭ সালের ৯ জুন অভিযুক্ত শাহীনুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। চার মাস কারাভোগের পর শাহীনুজ্জামান জামিনে বের হন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগটি তদন্ত করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে কোসো সত্যতা ও স্বাক্ষী না পাওয়ায় অভিযোগটি মিথ্যা বলে ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করেন। একইসঙ্গে মামলার বাদী আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

পরে ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি মামলাটি খারিজ করেন বিচারক। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে শাহীনুজ্জামান বাবু বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামি আমেনা বেগম পলাতক রয়েছেন।

মামলায় ৫ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম তানিয়া কামাল আমেনা বেগমকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে তার মতামত জানাও সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Extreme heat reduced to intense heat in Chuadanga

অতি তীব্র দাবদাহ কমে তীব্র তাপদাহ চুয়াডাঙ্গায়

অতি তীব্র দাবদাহ কমে তীব্র তাপদাহ চুয়াডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সোমবার বেলা ৩টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছবি: নিউজবাংলা
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘চলমান তীব্র দাবদাহ কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।’

গত এক সপ্তাহ থেকে অব্যাহত তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন, তবে আজ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে অতি তীব্র দাবদাহ রূপ নিয়েছে তীব্র তাপদাহে।

জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সোমবার বেলা ৩টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রোববার জেলার তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শনিবার জেলার তাপমাত্রা উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪২.৩ ডিগ্রিতে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘চলমান তীব্র দাবদাহ কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।’

সকাল থেকে সূর্যের চোখ রাঙানিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার জনপদ। দিনের মতোই থাকছে রাতের তাপমাত্রা। তীব্র তাপদাহে শান্তি নেই কোথাও। গরমে একটু স্বস্তি পেতে কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন গাছের ছায়ায়। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য না থাকায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা সুমন আলী বলেন, ‘কয়েকদিন তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। রাস্তায় বের হওয়ার উপায় নেই। ছাতা নিয়ে বের হলেও গরম থেকে নিস্তার নেই।’

এদিকে তীব্র তাপদাহে জনসাধারণকে সচেতন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে পথচারী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
এপ্রিলের এ গরম কি অস্বাভাবিক
৬২.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ঝলসাচ্ছে ব্রাজিলের জনজীবন
দেশজুড়ে কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা
দেশজুড়ে বাড়তে পারে রাতের তাপমাত্রা
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Father and son were hacked and shot dead in Coxs Bazar

কক্সবাজারে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা কক্সবাজারের রামু থানা। ফাইল ছবি
স্থানীয়দের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুইজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের উত্তর থোয়াইঙ্গাকাটা মৌলভীরঘোনা এলাকার নজরুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে রোববার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো দুইজন হলেন একই এলাকার জাফর আলম (৫৫) এবং তার ছেলে মো. সেলিম (৩৫)।

রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি কারা, কী কারণে ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দুইপক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটেছে।

ওসি আবু তাহের বলেন, ‘রোববার মধ্যরাতে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাকাটা মৌলভীঘোনা এলাকায় স্থানীয় স্টেশনের একটি দোকানে সেলিমসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় মুখোশ পরিহিত ১৫ থেকে ২০ জনের একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিত তার ওপর হামলা করে।

‘দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কোপ দিলে তিনি চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ছেলের চিৎকার শুনে তাকে লক্ষ্য করে বাবা জাফর আলম টর্চের আলো ফেলেন। পরে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।’

ওসি বলেন, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের স্বজন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাতে স্থানীয় একটি দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় মুখোশ পরিহিত একদল লোক ধারালো অস্ত্র ও গুলি করে বাবা-ছেলেকে হত্যা করেছে। তাদের সঙ্গে কোনো লোকজনের পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা জানি না।’

স্থানীয়রা জানায়, একই এলাকার ‘আবছার ডাকাত’ এবং ‘শাহীন ডাকাত’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত আধিপত্য বিস্তার এবং বার্মিজ গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার রাতে শাহীন ডাকাত গ্রুপের ১৪ থেকে ১৫ জন লোক চোরাচালানের গরু পার করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে আবছার ডাকাত গ্রুপের ২০ থেকে ২২ জন দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

ওসি আবু তাহের জানান, ঘটনার কারণ জানার পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পাবনায় জমির বিরোধে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১
টাকা চেয়ে না পেয়ে বাবার প্রাণ নিল ছেলে
চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে ২ জন নিহত
ভাইয়ের বউয়ের লাঠির আঘাতে ভাসুর নিহত
নাটোরে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Husband sentenced to death for killing his wife in Naogaon

নওগাঁয় গৃহবধূ হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নওগাঁয় গৃহবধূ হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড নওগাঁর নিয়ামতপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সালাউদ্দিনকে সোমবার দুপুরে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল খালেক বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।’

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ সোমবার দুপুরে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন ওরফে টনির (৩৫) বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মুরাদপুর গ্রামে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল খালেক বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।’

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার ধানসা গ্রামের আবু কালামের মেয়ে ২৪ বছর বয়সী তুকাজ্জেবার সঙ্গে ২০১৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের সালাউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সালাউদ্দিন তুকাজ্জেবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

তুকাজ্জেবা স্বামী সালাউদ্দিনকে নিয়ে ২০২০ সালের ২৯ জুন বাবার বাড়ি নিয়ামতপুরের ধানসা গ্রামে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় ১ জুলাই সালাউদ্দিন তার স্ত্রী তুকাজ্জেবার গলায় কাঁচি দিয়ে খুঁচিয়ে গুরুতর জখম করেন।

ওই দিন সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তুকাজ্জেবা ও সালাউদ্দিনের ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ পেয়ে তুকাজ্জেবার বাবা ও তার মা বাইরে থেকে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম লাথি মেরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তুকাজ্জেবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ওই সময় সালাউদ্দিনের হাতে কাপড় কাটার কাঁচি দেখতে পান তারা। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তুকাজ্জেবাকে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

স্ত্রীকে আহত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন সালাউদ্দিনকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করে বলা হয়, এ ঘটনায় নিহত তুকাজ্জেবার বাবা আবু কালাম বাদী হয়ে সালাউদ্দিনের নামে নিয়ামতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২২ সালের ২২ জুন আদালতে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি শুনানি করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারপক্ষের কৌঁসুলি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল খালেক। আসামিপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আতিকুর রহমান।

আবদুল খালেক বলেন, ‘সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় বিচারক আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। এ রায় হত্যা মামলার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
ভাতিজিকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় চাচার মৃত্যুদণ্ড
সিএনজি চালককে হত্যার দায়ে ২ যুবকের মৃত্যুদণ্ড
নিরাপদ সড়কের দাবিতে চোখে কাপড় বেঁধে অবস্থান স্কুলছাত্রীর
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত, প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান
নওগাঁয় ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় অভিযুক্ত শান্ত গ্রেপ্তার

মন্তব্য

p
উপরে