× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Various service activities are going on at the book fair
google_news print-icon

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

বইমেলায়-চলছে-সেবামূলক-নানা-কার্যক্রম-
কোলাজ: নিউজবাংলা
অমর একুশে বইমেলায় বই বিকিকিনির পাশাপাশি চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম। মেলায় আগতদের সুবিধার্থে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। প্রকাশনী খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে রক্তদান কর্মসূচি, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে হুইল চেয়ার সেবা দেয়াসহ ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টারও করা হয়েছে।

অমর একুশে বইমেলায় যে শুধু বই বিক্রি হয় তা নয়, এখানে চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম। প্রকাশনী খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে, রক্তদান কর্মসূচি, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে হুইল চেয়ার সেবা দেয়াসহ ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টারও করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা থেকে বইমেলায় সেবামূলক এসব কার্যক্রম চলছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, বইমেলার স্থানে স্থানে চলছে সেবামূলক কার্যক্রম। স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এসব কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। মেলার ভেতর এমনকি বাইরেও এসব কার্যক্রম চলছে।

বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা

মেলা প্রাঙ্গণে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছে ঢাকা ওয়াসা। প্রায় প্রতিটি প্রবেশদ্বারের পাশেই রয়েছে পানির বুথ। এতে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করছেন মেলায় আগতরা।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

বাংলা একাডেমির প্রবেশপথে ঢুকেই লিমন সোজা চলে এলেন পানির ফিল্টারের কাছে। পানিপান শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। লিমন বললেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে হাঁটছিলাম। শুনেছি ফুড কোর্ট সোহরাওয়ার্দীর অনেক ভেতরে। কিন্তু বেশ তৃষ্ণা পাচ্ছিল। একজন বলল এখানে ঢুকে একটু এগুলেই পানি পাওয়া যাবে। এসে দেখলাম লেখা- বিনামূল্যে পানির ব্যবস্থা।’

স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

‘রক্তে মোরা বাঁধন গড়ি, রক্ত দেবো জীবন ভরি’ স্লোগানে বইমেলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলার শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে প্রবেশ গেট দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে তাকালেই চোখে পড়বে ডিএমপির স্বেচ্ছায় রক্তদান কেন্দ্রটি। এ কর্মসূচির আওতায় শুধু রক্ত গ্রহণই নয়, এখানে সংগৃহীত রক্ত বিভিন্ন মুমূর্ষু রোগীর প্রয়োজনে পৌঁছে দেয়া হয়। তাছাড়া যাদের রক্তের প্রয়োজন তারাও এখানে এসে বিনামূল্যে রক্ত নিয়ে যেতে পারেন।

বইমেলায় আগতদের মধ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে আসেন। তবে বন্ধের দিনগুলোতে রক্তদাতার সংখ্যা থাকে শতাধিক। এছাড়াও স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম ‘কোয়ান্টাম’ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সন্ধানী’-এর উদ্যোগেও বইমেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি চলছে।

হুইল চেয়ার

শারীরিক প্রতিবন্ধী ও হেঁটে চলাফেরায় অক্ষমদের বিনামূল্যে হুইল চেয়ারে মেলা ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। প্রতিদিন মেলার টিএসসির সামনে কমপক্ষে ২০টি হুইল চেয়ারে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। প্রতিবন্ধী কিংবা চলাফেরা করতে অক্ষম যে কেউ বিনামূল্যে সেবাটি নিতে পারছেন।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

বাংলা একাডেমি ও বিকাশের সহযোগিতায় তারা এ সেবাটি দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত পঞ্চাশেরও বেশি মানুষকে তারা এ সেবা দিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে আনন্দ ও মানসিক শান্তি পাচ্ছেন বলে জানান স্বেচ্ছাসেবীরা।

তাদের একজন ঢাকা কলেজের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে মেলায় ঘুরতে আসা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের আমরা সেবা দিয়ে আসছি। তাদের মেলা ঘুরিয়ে দেখাতে পারার মাঝে একটা আনন্দ আছে।’

ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার

বইমেলায় আগত যেসব মায়ের কোলে ছোট্ট শিশু থাকে তাদের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে ‘ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো ডিএমপির এই অনন্য সেবা। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দক্ষিণ পাশেই এ সেন্টারটি অবস্থিত।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

প্রতিদিন শতাধিক মা তার শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে ডিএমপির ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টারে আসছেন। ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টারে আসা মা ও তাদের সাথে থাকা ছোট্ট সোনামনিদের সহযোগিতায় সেখানে ডিএমপির নারী পুলিশ সদস্যরা কর্মরত রয়েছেন।

মিরপুর থেকে আগত এক মা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রস্ট ফিডিং সেন্টারের এই উদ্যোগে পুলিশের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেলো। আমরা মায়েরা এখন কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই কোলের ছোট্ট শিশুকে নিয়েও মেলায় ঘুরতে পারছি। তা না হলে আমরা মায়েরা এমন একটি প্রাণের মেলায় আসার সাহসই পেতাম না।’

বাংলা একাডেমির কন্ট্রোল রুম

এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমির বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুম রয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুম থেকে আগতরা বিভিন্ন প্রকাশনীর ঠিকানা জানতে পারছেন।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর ফারহানা খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলা একাডেমির ভেতরে ও বইমেলা প্রাঙ্গণে আমাদের বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুম রয়েছে। আমরা প্রধান কন্ট্রোল রুম থেকে মাইকে বইপ্রেমীদের নতুন বই প্রকাশের বিষয়ে জানান দিয়ে থাকি। এছাড়াও মানবিক আবেদন যেমন রক্তদানসহ দরিদ্র রোগীদের সাহায্যের জন্য সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়।

‘মেলায় ঘুরতে এসে কেউ প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেললে কিংবা কারও মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ইত্যাদি হারিয়ে গেলে আমরা তা কন্ট্রোল রুম থেকে ঘোষণা দিয়ে থাকি।

সহযোগিতায় বিকাশ

বাংলা একাডেমির আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার একমাত্র স্পন্সর মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘বিকাশ’। বিকাশের উদ্যোগে মেলায় আগতদের জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত অনেকেই সেখানে বিশ্রাম নিতে পারছেন।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মেলায় বই ডোনেশন ক্যাম্পেইনও করছে বিকাশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মেলায় আসা পাঠকদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে বই সংগ্রহ করা হয়। বিকাশ মেলা থেকে যত বই পাবে সেগুলো তাদের পরিচালিত স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবে।

এছাড়াও মেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি কন্ট্রোল রুম রয়েছে। তাদের টিমের সদস্যরা মেলার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়ে টহল দিচ্ছেন। যেকোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িও সর্বদা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

মেলায় বরাবরের মতোই রয়েছে পুলিশ, আনসার ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। এসব সংস্থার সদস্যরা মেলা জুড়ে দর্শনার্থীদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

এদিকে বাংলা একাডেমির সার্বিক তত্ত্বাবধানে মেলায় আগতদের বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বইপ্রেমীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে ঢাকা সিভিল সার্জন কার্যালয়। ওষুধ কিংবা চিকিৎসা নিয়ে তাদের সহায়তা করতে প্রতিনিয়ত এ স্টলে রয়েছেন একজন ডাক্তার ও ফার্মাসিস্ট। শনিবার পর্যন্ত মেলায় দুই শতাধিক মানুষকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।

এছাড়াও ডেটলের উদ্যোগে মেলায় বিনামূল্যে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলার বাইরে বিআরটিসির একটি বাসে ফ্রি বই পড়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বইমেলার ১৭তম দিন শনিবার মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। এদিন নতুন বই এসেছে ১৭১টি।

সকাল ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ক-শাখায় প্রথম হয়েছে নীলান্তী নীলাম্বরী তিতির, দ্বিতীয় হয়েছে রোদসী আদৃতা এবং তৃতীয় হয়েছে নৈঋতা ভৌমিক।

খ-শাখায় প্রথম তানজিম বিন তাজ প্রত্যয়, দ্বিতীয় সুরাইয়া আক্তার ও তৃতীয় হয়েছে রোদসী নূর সিদ্দিকী।

গ-শাখায় প্রথম কে. এম. মুনিফ ফারহান দীপ্ত, দ্বিতীয় নবজিৎ সাহা ও তৃতীয় হয়েছে সরকার একান্ত ঐতিহ্য।

বইমেলায় চলছে সেবামূলক নানা কার্যক্রম

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদ সাবের এবং স্মরণ: পান্না কায়সার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনির ইউসুফ ও মামুন সিদ্দিকী। আলোচনায় অংশ নেন গিয়াস উদ্দিন, রতন সিদ্দিকী ও শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শান্তা মারিয়া, কথাসাহিত্যিক এশরার লতিফ, শিশুসাহিত্যিক আহসান মালেক ও প্রাবন্ধিক সুমন শামস্।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মিনার মনসুর, হাফিজ রশিদ খান ও আয়শা ঝর্না। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী গোলাম সারোয়ার এবং রফিকুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন কাব্য কামরুল। এছাড়াও ছিল আবিদা রহমান সেতুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা’ এবং মঙ্গল চন্দ্র মণ্ডলের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমী’-এর পরিবেশনা।

অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের অংশ হিসেবে এদিন প্রথমবারের মতো সংযোজিত ‘বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চ’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান বিকাল ৫টায় মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের লেকসংলগ্ন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।


রোববারের সময়সূচি

রোববার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন স্বরোচিষ সরকার।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের লেকসংলগ্ন মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রিকশাচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি মেলায় প্রকাশিত মানসম্পন্ন নির্বাচিত বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান চলবে।

আরও পড়ুন:
সস্তা-চটুল বইয়ে সয়লাব বইমেলা
মেলায় গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি দুটোই কম
বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙানো প্রাণের মেলা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Baisabi festival of life in the hills begins

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে বৈসাবি। ছবি: নিউজবাংলা
১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

খাগড়াছড়িতে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা হল্লা করে ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে নদী-খালে ফুল উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে। এছাড়া ফুল দিয়ে ঘরের প্রতিটি দরজার মাঝখানে মালা গেঁথে সাজানো হয়।

শুক্রবার চাকমা সম্প্রদায় ফুল বিজু পালন করছেন। শনিবার মূল বিজু আর পরেরদিন রোববার পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবেন তারা। এ সময় ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। একইসঙ্গে শনিবার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের হারিবৈসু, বিযুমা ও বিচিকাতাল পার্বন পালিত হবে ফুল বিজু, মূলবিজু ও বিচিকাতাল নামের নিজস্ব বৈশিষ্টে।

রোববার খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাইং উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হবে বর্ষবরণের র‌্যালী। এসব উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়।

পাহাড়ে প্রাণের ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

চেঙ্গী নদীতে চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ফুল উৎসর্গে সামিল হয়েছেন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ। বৈসাবি উৎসব দেখতে এসেছেন অনেক পর্যটকও।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তিন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উসব পালিত হয়ে আসছে। সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে ‘বৈসাবি’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে যথাক্রমে ‘বৈসু’, ‘সাংগ্রাই’ এবং ‘বিজু’ নামে এ উৎসব পালন করে থাকেন। এ তিন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষার নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়।

চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্র্যময় করে করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে বৈসাবি উৎসব পালন করে থাকে।

বৈসাবি উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালির মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক এই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The largest Eid congregation in memory was held in Sholakia

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত শোলাকিয়ায় এবার অন্তত চার লাখ মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা
চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহে। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই শোলাকিয়া ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও দলে দলে মুসল্লি আসতে থাকেন। ময়দানে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি পাশের সড়ক, সেতু, বহুতল ভবনের ছাদসহ অলি-গলিতে নামাজ আদায় করেন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন এ ঈদগাহে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭তম ঈদুল ফিতরের জামাত।

চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।

শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরু হওয়ার আগে শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু করা হয়। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ শটগান চালিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই শোলাকিয়া ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও দলে দলে মুসল্লি আসতে থাকেন। ময়দানে জায়গা না পেয়ে অসংখ্য মুসল্লি পাশের সড়ক, সেতু, বহুতল ভবনের ছাদসহ অলি-গলিতে নামাজ আদায় করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এবার শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন প্রায় চার লাখ মুসল্লি।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় এসেছেন। দূরের মুসল্লিরা ঈদের দুয়েকদিন আগেই এসে অবস্থান নেন শোলাকিয়া ঈদগাহের মিম্বর, আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ, হোটেল এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

দূরের যারা ঈদগাহের মিম্বরে এসে অবস্থান নেন, তাদেরকে ঈদের আগের দিন ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

শোলাকিয়ায় ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর দয়া কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। নির্বিঘ্নে ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ড্রোন ক্যামেরা, বাইনোকুলারসহ পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, দেড় হাজার পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়াও মাঠে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো মাঠ মনিটরিং করা হয়। প্রতিটি মুসল্লিকে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হয়।

ঈদগাহে অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিক্যাল টিম এবং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটও মোতায়েন ছিল। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্কাউটস সদস্যরা।

দূরের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এবার স্মরণকালের বৃহত্তম ঈদজা মাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শোলাকিয়ায়।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুজন কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক ও আবির রহমান নামে এক জঙ্গি নিহত হন।

ওই হামলার পর থেকেই প্রতি বছর ঈদের দিন শোলাকিয়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার।

আরও পড়ুন:
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fishing festival in small river Yamuna

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব ছবি: নিউজবাংলা
চৈত্র মাস। খাল-বিল, নদী নালা ও ডোবার পানি কমতে শুরু করেছে। এসব জলাশয়ে এখন স্বল্প পানি। ইরি-বোরো ধান আধাপাকা অবস্থায়। এ সময়টাতে অনেকের হাতে তেমন একটা কাজ থাকে না। অবসর সময়ে সৌখির মাছ শিকারিরা তাই দলবদ্ধ হয়ে পলো/হাউরি (চাপিজ্বালা) নিয়ে জলাশয়গুলোতে মাছ শিকারের জন্য বের হন।

বাঁশের তৈরি পলো নিয়ে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দলবেঁধে নেমে পড়ে নদীর হাঁটুপানিতে। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ। এ সময় এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সে উৎসব দেখতে নদীরপাড়ে হাজির হয় অনেক মানুষ।

সীমান্তের নওগাঁ জেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের চিত্র এটি।

চৈত্র মাস। খাল-বিল, নদী নালা ও ডোবার পানি কমতে শুরু করেছে। এসব জলাশয়ে এখন স্বল্প পানি। ইরি-বোরো ধান আধাপাকা অবস্থায়। এ সময়টাতে অনেকের হাতে তেমন একটা কাজ থাকে না। অবসর সময়ে সৌখির মাছ শিকারিরা তাই দলবদ্ধ হয়ে পলো/হাউরি (চাপিজ্বালা) নিয়ে জলাশয়গুলোতে মাছ শিকারের জন্য বের হন।

মাছ পাওয়া বা না পাওয়া বড় কথা নয়। সবাই একসঙ্গে মাছ শিকার করতে বের হওয়াই আনন্দের ব্যাপার। প্রতিবছর এ অবসরে অল্প পানিতে মাছ শিকারের মহোৎসব মেতে ওঠে সবাই।

নওগাঁ সদর উপজেলার ছোট যমুনা নদী। এ নদীর কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও বুক সমান। আবার কোথাও শুকিয়ে গেছে।

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

মঙ্গলবার দুপুরে ছোট যমুনা নদীর শীবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, একদল সৌখিন শিকারি নদীতে নেমে মাছ শিকার করছে। মাথা ও কোমরে আঁটসাঁট করে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই প্রায় শতাধিক মানুষ শখের বসে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে নদীতে নেমেছে। এদের অধিকাংশই যুবক। কেউ আবার উদাম শরীরেও পানিতে নেমেছেন; নেমেছেন মাছ ধরতে। পানিতে নেমে হৈ-হুল্লোড় করে সবাই চাপিজ্বালা দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত।

খাল-বিল, নদী-নালা ও ডোবাতে পানি কমে যাওয়ায় এখন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দলবেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। দলবদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে, আবার কোথায় পলো দিয়ে মাছ ধরা হয়। দিনে-রাতে সুতা-বড়শি দিয়ে নদী থেকে ধরা হচ্ছে বোয়াল মাছ।

বড়শিতে খাদ্য গেঁথে ছুড়ে ফেলা হয় নদীর পানিতে। রাতে বাতি জ্বেলে নদীর পাড়ে সুতার বড়শি দিয়েও মাছ ধরতে দেখা যায়। তবে সুতা-বড়শি দিয়ে মাছ ধরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

বিভিন্ন নদী ও জলাশয়গুলোতে দল বেধ সারিবদ্ধ হয়ে পানিতে ফেলা হয় চাপিজ্বালা। যেখানে ফাঁদে পড়ে শোল, টাকি ও বোয়াল।

তবে কবে কোথায় মাছ ধরা হবে, উপজেলার হাট ও বাজারে আগেই সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে জেনে নেন। গ্রাম থেকে ৮-১০ কিলোমিটার বা আরও দূরে পায়ে হেঁটে দলবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে পড়েন মাছ শিকারে।

সদর উপজেলার শীবপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল হোসেন বলেন, ‘বাপ-দাদার সময় থেকে আমরা প্রতি বছর পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব করে আসছি। কারও পলোতে মাছ ধরা পড়ে আবার কারও হয় না। মাছ পাওয়াটা বড় কথা নয়, বড় কথা সবাই আনন্দ করে একসঙ্গে মাছ ধরতে বের হয়। এটাই আনন্দ।’

ছোট যমুনা নদীতে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা গ্রামের নিপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, ‘গ্রাম থেকে অন্তত ৬ কিলোমিটার দূরে এখানে মাছ শিকার করতে এসেছি আমরা বেশ কয়েকজন। দলবদ্ধভাবে এভাবে মাছ ধরতে আমাদের খুব ভালো লাগে, অনেক আনন্দ পাই আমরা।’

সদর উপজেলার কুমাইগাড়ী এলাকার জাহিদুল হক বলেন, ‘ছোট বেলাতেও বাবার সঙ্গে পলো দিয়ে এভাবে নদীতে মাছ ধরতাম। এখন তো বয়স প্রায় ৬০ বছরের মতো। তবুও মাছ ধরা উৎসব হবে জানার পর না এসে আর থাকতে পারলাম না।

‘আগে তো নদীতে বড় বড় নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত। এখন অনেক সময় নদীতে পানি থাকে না, মাছও তেমন পাওয়া যায়না আগের মতো। তবে আনন্দ করছি এটাই ভালো লাগা।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসান বলেন, ‘কৃষির জেলা নওগাঁয় ছোটবড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল রয়েছে। ছোট যমুনা নদী, পুনর্ভবা নদী, আত্রাই নদী, তুলশীগঙ্গা, শিব নদী, ফকিরনি নদী এবং নাগর নদী। এছাড়া বিল মুসছুর, গুটার বিল, দীঘলির বিল, জবই বিলসহ অসংখ্য ছোট বিলও আছে এখানে।’

তিনি বলেন, ‘মাছ ধরা গ্রামবাংলার প্রাচীন উৎসবের একটি অংশ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আবার এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। নদীপাড়ে অনেক মানুষ মাছ ধরা উৎসব দেখতে ভিড় জমায়।’

আরও পড়ুন:
খাল-বিলের পানি সেচে চলছে মাছ ধরার ধুম
‘আমাদের স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে’
বিলে বিষ দিয়ে ‘লক্ষাধিক’ টাকার মাছ নিধন
বরগুনার সোনা-বাইম মাছ যাচ্ছে চীনে
মাছের ত্বক থেকে পাওয়া জেলাটিনে খাদ্যদ্রব্য তৈরি বাকৃবির গবেষকদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eid is Wednesday in hundreds of villages following Mirzakhil Durbar Sharif

মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসরণে শতাধিক গ্রামে ঈদ বুধবার

মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসরণে শতাধিক গ্রামে ঈদ বুধবার মির্জাখীল দরবার। ছবি: নিউজবাংলা
দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাব মতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে এভাবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল অনুশাসনসমূহ পালন করে আসছেন।

চট্টগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের শতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল বুধবার। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফী মাযহাবের অনুসরণে ঈদ পালন করে থাকেন।

দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাব মতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে এভাবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল অনুশাসনসমূহ পালন করে আসছেন।

দরবার সূত্র জানায়, মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন (ক.) ও হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীনের (ক.) পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীনের (ক.) তত্ত্বাবধানে তারই জানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন।

মির্জাখীল দরবার শরীফ সূত্র মতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, এওচিয়ার গাটিয়াডেঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা, হালুয়াঘোনা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, চরবরমা, কেশুয়া, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, ডোংরা, শেখেরখীল, ছনুয়া, পুইছড়ি, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, বারখাইন, খাসকামা, কাঠাখালী, রায়পুর, গুজরা, লোহাগাড়ার পুঁটিবিলা, কলাউজান, চুনতী এবং সীতাকুন্ডের মাহমুদাবাদ, বারিয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, মহালংকা, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মুহাম্মদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মনোহরদী, মঠখোলা, বেলাব, আব্দুল্লাহনগর, কাপাসিয়া, চাঁদপুর জেলার মতলব, সিলেট, হবিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা, মিরশরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজান ও ফটিকছড়ির কয়েকটি গ্রামসহ চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের শতাধিক গ্রামের বহুসংখ্যক অনুসারী পবিত্র সওম পালন শেষে বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

এছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অনেক গ্রামে থাকা মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরাও এদিন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

ঈদ উদযাপনের বিষয়ে মির্জাখীল দরবার শরীফের মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে আমাদের নিকটবর্তী সময়ের কম ব্যবধান এবং আমাদের পূর্বের দেশসমূহে চন্দ্র দর্শন বিবেচনায়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেবে চাঁদের অবস্থান এবং মক্কা ও মদীনা শরীফে তথা আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত হয়ে বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করব ইনশাআল্লাহ।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sadarghat is crowded with people facing their homes
ঈদযাত্রা

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ঈদযাত্রায় সোমবার সদরঘাট টার্মিনালে প্রতিটি লঞ্চ ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

ঈদের আনন্দ স্বজন-প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে সদরঘাটে। রাজধানীর প্রধান এই নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের রুটের লঞ্চগুলো সোমবার ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে গেছে।

অনেকটা স্বস্তি নিয়েই শেকড়ে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই লঞ্চগুলো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে।

ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দু’দিন আগে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। এদিন নিয়মিতভাবে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রিপ দেয়া লঞ্চগুলোও পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঘাট ছেড়ে যায়।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

কিছুদিন আগেও যেখানে যাত্রীর অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ ছাড়তো না সেখানে এখন লঞ্চগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ছে।

খালি থাকছে না লঞ্চগুলোর কেবিন। ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীর ভিড়। এছাড়া বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া, পটুয়াখালীগামী যাত্রীদের অনেকেই ঈদের আগের দিনের কেবিন বুকিং দিতে এসেছেন। আবার লঞ্চের ডেকে জায়গা করে নিতেও অনেকে আগেভাগে ঘাটে চলে এসেছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। যাত্রীদের বেশিরভাগই বরিশালগামী লঞ্চে ভিড় করছেন। পটুয়াখালী, বগা, ইলিশা- এসব রুটেও যাত্রী আসতে শুরু করেছে। যাত্রীর চাপ আর লঞ্চে ভিড় সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।

সদরঘাটের একাধিক লঞ্চের সুপারভাইজার আর টিকিট কাউন্টার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, লঞ্চগুলোতে ডেকের যাত্রী সংখ্যাই বেশি৷ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোই লঞ্চে যাচ্ছে। সড়ক পথের চেয়ে তুলনামূলক ভাড়া কম ও যাত্রাপথ আরামদায়ক হওয়াতেই লঞ্চে যাত্রীর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

এদিকে টিকিট বিক্রির চাপে লঞ্চ-সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলারই সময় পাচ্ছেন না।

ভোলাগামী যাত্রী আহনাফ মুন্সি বলেন, ‘আমি লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী। ঈদ উপলক্ষে অফিস ছুটি হওয়ায় আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছি। পরিচিত হওয়ায় কেবিন বুকিং করতে কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি স্বচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারব।’

এমডি ফারহান-৮ লঞ্চে পিরোজপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাহাদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঘাটে ভিড় এবং যাত্রী বেশি থাকলেও সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। আর ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠতে পেরে এখন অনেক ভালো লাগছে।’

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন ঈদ করতে পরিবার নিয়ে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের টিকিট পেয়েছি। তবে ঘাটে অনেক ভিড়। লঞ্চে ঠিকভাবে উঠতে পারলেই হয়। একা হলে সমস্যা ছিল না, পরিবার নিয়ে এতো ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে উঠতে অনেক কষ্ট হবে।’

অন্যদিকে যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই লঞ্চে উঠতে পারেননি। তাই পরবর্তী লঞ্চের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। পরিবার নিয়ে এই অপেক্ষাটা অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের যাত্রী হৃদয় তালুকদার বলেন, ‘ঈদের আগে লঞ্চে অনেক ভিড় হয়। তাই জায়গা পাওয়ার আশায় আগেই চলে এসেছি। তবে এবার আগের তুলনায় ভিড় কম। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীও নেই।’

চরফ্যাশনগামী তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রী রানা আহমেদ বলেন, ‘ঈদ করতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের লোকজনসহ মালামাল নিয়ে অনেক কষ্টে লঞ্চে উঠেছি। ভোর হলেই বাড়ির ঘাটে নেমে পড়ব। পরিবার নিয়ে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার জন্য আমাদের লঞ্চই ভরসা।’

ভোলার চরফ্যাশন অভিমুখী এমভি ফারহান-৩ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আল আমিন শিকদার। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে লঞ্চে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ ঘাটে। লঞ্চের টিকিট কেটেও উঠতে পারলাম না। ভিড়ের কারণে কোনোভাবেই লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন পরবর্তী লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি।’

বরিশাল রুটে স্পেশাল সার্ভিস দেয়া লঞ্চ মানামীতেও দেখা যায় যাত্রীর ভিড়। এই লঞ্চের সুপারভাইজার মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আজই আমাদের প্রথম যাত্রা। সরকারি অফিস ছুটি হওয়ার আগেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। প্রায় সবকটি কেবিনও বুকিং হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চ ছেড়ে যাবে মনে হচ্ছে।’

কর্ণফুলী-১১ লঞ্চের চালক আবু হাসান বলেন, ‘এবারের ঈদে আজকেই সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয়েছে। তবে গত ঈদের মতো যাত্রী এখনও দেখছি না। আশা করছি ভালোভাবেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারব।’

সুন্দরবন লঞ্চের ঢাকা অফিসের সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর যাত্রী পাই না। ঈদের ছুটি হলে লঞ্চে যাত্রী আসে। টার্মিনালে যাত্রী দেখা গেলেও লঞ্চে আমাদের আশানুরূপ যাত্রী নেই।’

লঞ্চ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম খান বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। শেষ সময়ে একটু ভিড় বাড়বেই। তবে সেটা আশানুরূপ নয়। অন্যবার এ সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রোটেশন ভেঙে দিয়ে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করত। আর এ বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিডিউল লঞ্চই যাত্রী বোঝাই হচ্ছে না। আশা করছি শেষ পর্যন্ত যাত্রীর চাপ আরেকটু বাড়বে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদে নৌপথে যাবে আনুমানিক ২২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। ১০ এপ্রিল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হবে।

‘তবে ঘরমুখী মানুষের স্রোত কার্যত শুরু হবে ৮ এপ্রিল থেকে। ওইদিন থেকে ঈদ স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চলাচল করবে। ঈদের আগের দুদিনসহ সাত দিনে সাড়ে ২২ লাখ মানুষ নৌপথে ঢাকা ছাড়ছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩ লাখের বেশি যাত্রী সদরঘাট টার্মিনাল হয়ে গন্তব্যে যাবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৌযানের কোনো স্বল্পতা নেই। সোমবার ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে গেছে সারা দিনে ৫৮টি। রাতে আরও বেশকিছু লঞ্চ ছাড়বে। আমরা গড়ে প্রতিদিন ১০০টি লঞ্চ পন্টুনে রেডি রাখছি।’

এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের সদস্যরা প্রতিটি লঞ্চ নজরদারিতে রেখেছে। কোনো লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাওয়ার সুযোগ নেই। লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী হলেই পন্টুন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নগরবাসীর ঈদযাত্রা শুরু, বাস টার্মিনালে বাড়ছে চাপ
লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ নেই, ফাঁকা সদরঘাট
ঈদযাত্রায় আসনের বেশি যাত্রী নয়, রাস্তায় থামানো যাবে না বাস
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ব্যবহার হবে ড্রোন: হাইওয়ে পুলিশ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The moon was not seen in Saudi Arabia on Eid Wednesday

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বুধবার সে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার।

সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার নয়, বুধবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র দুই মসজিদ কাবা ও মসজিদে নববির রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজ ইনসাইড দ্য হারামাইনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৯টা ১৩ মিনিটে দেয়া এক পোস্টে ইনসাইড দ্য হারামাইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আজ সৌদি আরবের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।’

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, ‘মঙ্গলবার দেশটিতে শেষ রোজা হবে। তার পরদিন শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।’

রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। সে হিসাবে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা পরদিন বৃহস্পতিবার।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
ঈদ কবে, জানা যাবে মঙ্গলবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Traffic congestion is increasing as cars leave the highway
ঈদযাত্রা

বাড়ছে গাড়ি, মহাসড়ক ছেড়ে সড়কে যানজট

বাড়ছে গাড়ি, মহাসড়ক ছেড়ে সড়কে যানজট ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় গাড়ির চাপে স্থবির। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদযাত্রায় যানজট বলতে যা বুঝায় তা নেই বললেই চলে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বস্তিকর। যদিও ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় এসে যানবাহনের চাকা কখনও থেমে থাকছে, আবার কখনও চলছে ধীরগতিতে।

ঈদের বাকি আর মাত্র এক/দু’দিন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। প্রতিবছরই এই ঈদযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিকর।

ঈদযাত্রায় যানজট বলতে যা বুঝায় তা নেই বললেই চলে। যদিও ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় এসে যানবাহনের চাকা কখনও থেমে থাকছে, আবার কখনও চলছে ধীরগতিতে।

সোমবার দুপুর থেকে পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ।

যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারাবছরই এই মোড়ে যানবাহনের জট লেগে থাকে। ঈদ এলে তা আরও তীব্র হয়। এবারও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

শ্যামলছায়া পরিবহনের যাত্রী জয়নাল মিয়া বলেন, ‘এখনও ঈদের কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে যানজট বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগের দিন হয়তো মাত্রাতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের বাড়ি ফেরার চেষ্টা করা উচিত।’

বাসচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত পাটগুদাম ব্রিজ দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এই মোড়ের যানজট চিরচেনা। ট্রাফিক পুলিশ রাতদিন কাজ করেও যানজট নিরসন করতে পারে না। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ঈদের আগের দিন চরম যানজটে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়বেন যাত্রীরা।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘সব রুটের যানবাহন এই ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ হয়ে পারাপার হচ্ছে। ঈদে গাড়ির চাপ বাড়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আগের বছরের চেয়ে এবার যানজট কম। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক পুলিশ রাত-দিন কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ নেই, ফাঁকা সদরঘাট
ঈদযাত্রায় আসনের বেশি যাত্রী নয়, রাস্তায় থামানো যাবে না বাস
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ব্যবহার হবে ড্রোন: হাইওয়ে পুলিশ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসে ডাকাতি, পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত
ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনের ভাড়ায় নৈরাজ্য: যাত্রী কল্যাণ সমিতি                                

মন্তব্য

p
উপরে