× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Happy sidewalk traders increase their purchase of clothes in winter
google_news print-icon

সুনামগঞ্জে শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাতে ভিড়

সুনামগঞ্জে-শীতবস্ত্র-কিনতে-ফুটপাতে-ভিড়
সুনামগঞ্জের ফুটপাতে শীতবস্ত্র বেচাকেনা। ছবি: নিউজবাংলা
শহরের কোর্ট চত্বরের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সাহেদ জানান, তাদের এই ব্যবসা মৌসুমের। মাত্র দুই মাসের ব্যবসা। শীত বাড়ায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে পরিবহন ভাড়াসহ খরচও বেড়েছে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো সুনামগঞ্জেও চাহিদা বেড়েছে শীতবস্ত্রের, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে শীতবস্ত্র কিনতে অভিজাত বিপণি বিতানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না কম আয়ের মানুষের। এ কারণে শীতবস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ফুটপাতই ভরসা তাদের।

সুনামগঞ্জ শহরের কোর্ট পয়েন্ট,পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রায়পাড়া মোড়, আলফাত স্কয়ার, শহীদ মিনার সংলগ্ন ফুটপাত,পুরাতন কোর্ট এলাকাতে ফুটপাতে ও ভ্যানগাড়িতে রাখা শীতবস্ত্র কিনতে দেখা যাচ্ছে ভিড়।

কী বলছেন ক্রেতারা

রায়পাড়া মোড়ে শীতবস্ত্র কিনতে আসা বিশ্বম্ভরপুরের মথুরকান্দির রিকশাচালক আলিম উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে শীত বাড়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন। তার তিন সন্তানের জন্য কাপড় কিনেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এইবার কাপড়ের দাম বেশি। দুই-তিন দিনের আয়ের টাকা জমিয়ে কাপড় কিনেছেন।

আলফাত স্কয়ারে ফুটপাত থেকে কিনতে আসা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আফতাবনগরের বাসিন্দা মাটিকাটা শ্রমিক রমিজ মিয়া জানান, ফুটপাত থেকে মেয়ের জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছেন। দাম বেশি হওয়ায় ফুটপাতে কাপড় কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

তার ভাষ্য, অন্য বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র পেয়েছেন, কিন্তু এবার সংসদ নির্বাচনের মধ্যে কেউ তার কাছে শীতবস্ত্র নিয়ে আসেননি।

কোর্ট পয়েন্টের ফুটপাতে কাপড় কিনতে আসা একটি বেসরকারি সংস্থার চাকরিজীবী নূরুল আমিন বলেন, ‘মার্কেটে কাপড়ের দাম বেশি। তাই ফুটপাত থেকে কাপড় কিনেছি। যে কাপড় ফুটপাত থেকে ৭০০ টাকায় কিনেছি, সেই কাপড় মার্কেট থেকে কিনতে হতো ২ হাজারে। বাজারে জিনিসপত্র, কাপড়ের দাম শুধু বাড়ছেই, কিন্তু আমাদের আয়-রোজগার বাড়েনি।’

বিক্রেতাদের ভাষ্য

শহরের কোর্ট চত্বরের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সাহেদ জানান, তাদের এই ব্যবসা মৌসুমের। মাত্র দুই মাসের ব্যবসা। শীত বাড়ায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে পরিবহন ভাড়াসহ খরচও বেড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী শফিক মিয়া বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ব্যবসা ভালো। সারা বছর এ শীতের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। কোর্টের মামলার কাজে আসা গ্রামের মানুষজনই আমাদের মূল কাস্টমার।

‘কোর্ট সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক লস হয়। সপ্তাহে সাত দিন এ রকম কাস্টমার থাকলে আমাদের অনেক লাভ হতো।’

আরও পড়ুন:
তীব্র শীতের মধ্যেই বরিশালে বৃষ্টি, বেশ কয়েকটি স্কুলে ছুটি
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত সিলেটের জনজীবন
‘কাদাপানিতে নেমে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা হিম হয়ে যাচ্ছে’
সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল
তীব্র শীত, মেহেরপুরে স্কুল ছুটির দাবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Rimal lesions across the coast

উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষত

উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষত ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে পড়ে, প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, ঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় পাঁচ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ উপকূল অতিক্রম করলেও রেখে গেছে ক্ষত।

ঘূর্ণিঝড়টি রোববার রাতে উপকূলে আঘাত হানে। রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।

এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। ঝড়ের সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে পড়ে, প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম।

রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলার তিনটি জায়গার বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ভেসে যয় শতাধিক চিংড়ির ঘের, কয়েক শ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট।

উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষত

এ ছাড়া রাতভর ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। পাইকগাছা উপজেলার পাঁচ পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোণা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুর্বল অংশের ওই তিনটি স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার ভেঙে নদীর নোনা পানিতে প্লাবিত হয় এলাকা।

এ ছাড়া বাঁধের নিচু কয়েকটি জায়গা ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এসব জায়গায় এলাকার মানুষ রাতভর মেরামত কাজ চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি।

মহারাজপুরের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘জোয়ারের চাপে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত দুটি গ্রাম ও কয়েক শ চিংড়ির ঘের তলিয়ে যায়।

‘ঝড়ের প্রভাবে অনেক বাড়িঘর পড়ে যায়। তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমি নিজ উদ্যোগে যাকে যা পারছি, সহায়তা করছি।’

মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ‘ইউনিয়নের সিংহেরকোণা এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারা রাত পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

‘এ ছাড়া অসংখ্য চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডব ও ভারি বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তার ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যায়। এতে পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করে এলাকায়।

একইভাবে খুলনার দাকোপ উপজেলায় পাউবোর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছিল। রোববার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার শিবসা ও ঢাকী নদীর বাঁধ ভেঙে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনীবাসিয়া গ্রামের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা তলিয়ে যায়।

তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ক্ষিতীশ গোলদার বলেন, একই এলাকায় পাঁচটি পয়েন্ট ভেঙে এখন পানি ঢুকছে। কামিনীবাসিয়া গ্রামের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পুরোটা নোনা পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এত উঁচু জোয়ার আগে দেখিনি। ঢাকি ও শিবসা নদীর মোহনায় কামিনীবাসিয়া পুরাতন পুলিশ ক্যাম্প–সংলগ্ন ওই এলাকায় বেড়িবাঁধের অংশ খুব বেশি দুর্বল ছিল না, তবে বেশ কিছুটা নিচু হওয়ায় উচ্চ জোয়ারের চাপে পানি বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে ভেতরে ঢোকে। এরপর বেড়িবাঁধের পাঁচটি পয়েন্ট ভেঙে যায়।’

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় মানুষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে বাঁধ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার দুপুরের জোয়ারের আগে তা মেরামতের চেষ্টা চলছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, ঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় পাঁচ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একজনের মৃত্যু
উপকূলে ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন
৫-৭ ঘণ্টায় উপকূল পার হবে ‘রিমাল’
উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trembling shores are raising fears of dangerous embankments
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধ। ছবি: নিউজবাংলা
উপকূলীয় জনপদে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ে। প্রবল ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাসে যাতে বাঁধ ভেঙে না যায় সেজন্য বাঁধ মেরামতে দিন-রাত কাজ করছেন স্থানীয়রা। ঝড়ে জান-মালের ক্ষতি এড়াতে তৎপর প্রশাসনও।

প্রতিবছরই সাগরে সৃষ্ট কোনো কোনো ঝড়ের কবলে পড়তে হচ্ছে দেশের উপকূলীয় জনপদকে। প্রতিনিয়ত দুর্যোগের ফলে জান-মাল রক্ষার সংগ্রাম করে ঠিকে থাকতে হচ্ছে ওই অঞ্চলের মানুষগুলোকে।

এবার প্রবল শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত করতে যাচ্ছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত রিমাল-এর প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। ঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ‘রোববার সকাল ৬টা থেকে ঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হয় উপকূলীয় জেলাগুলোতে। ধীর ধীরে প্রভাব বাড়ছে।

‘ঝড়টি মধ্যরাতে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেহাটের উপকূলে প্রবল বেগে আঘাত করবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসে উপকূল প্লাবিত হতে পারে।’

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সুভদ্রাকাটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপকূলের মানুষ। আগের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহারা হয়ে বেড়িবাঁধ অথবা উঁচু কোন স্থানে টং ঘর তুলে বেড়িবাঁধে বসবাসকারী মানুষগুলো আবারও ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

বেড়িবাঁধ নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত বেড়িবাঁধ খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ রক্ষায় নিজেরাই কাজ শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রাকাটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে শনিবার রাত থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে এলাকাবাসী। রাতে আলো জ্বালিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে মাটির কাজ করেছেন।

আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের রুহুল আমিন মোড়ল জানান, রোববার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। যেনতেনভাবে সংস্কার করা পাউবোর এই বেড়িবাঁধ ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের কারণে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এম সালাউদ্দীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘শ্যামনগরকে ঘিরে থাকা উপকূল রক্ষা বাঁধের প্রায় ১২৯ কিলোমিটারের মধ্যে সাত/আটটি পয়েন্টের প্রায় দুই কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে মাটি ফেলে উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে বাঁধের ভাঙন ও ধস ঠেকানোর কাজ চলছে।’

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিভাগের আওতাধীন ১৫টির বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে ৫/৬টি পয়েন্টে কাজ চলছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ও জিও রোল মজুত রয়েছে।

‘এখন আমরা ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের ভাঙন পয়েন্টে বেড়িবাঁধে জিও রোলের কাজ করছি। পর্যায়ক্রমে সব পয়েন্টে কাজ করা হবে।’

ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি

খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ৬০৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন সেখানে আশ্রয় নিতে পারবে। এসব সাইক্লোন শেল্টারে মোট তিন লাখ ১৫ হাজার ১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

এছাড়া তিনটি মুজিব কিল্লায় ৪৩০ জন মানুষ আশ্রয় ও ৫৬০টি গবাদি পশু রাখা যাবে। কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় পাঁচ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্টেশন ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সময়ে মৌসুমে একটি সাধারণ প্রস্তুতি আমাদের থাকেই।’

তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরায় ১৮৭টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। এগুলোতে চার লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়া জরুরি ত্রাণ কাজে ব্যবহারের জন্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। একইসঙ্গে ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও কোস্টগার্ড কাজ করবে।’

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

এছাড়া বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র, তিন হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক, পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৬৪৩ দশমিক ৪০০ টন চাল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনার উপ-পরিচালক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ৩০টি টিম শনিবার সকাল ৬টা থেকে কাজ করছে। এর মধ্যে খুলনায় ১৪টি, বাগেরহাটে ১০টি এবং সাতক্ষীরায় ৬টি ফায়ার স্টেশনের টিম কাজ করছে।

‘টিমের সদস্যরা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি রেসকিউ, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনাসহ যাবতীয় কাজ করছে। জল ও স্থল উভয় পথে ফায়ার সার্ভিসের টিম এবং যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খুলনা সদর দপ্তরে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে ২০ সদস্যের স্পেশাল টিম। খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল।

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

সুন্দরবনে বাড়তি সতর্কতা

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনসহ সব টহল ফাঁড়িতে অবস্থানরত বনকর্মীদের সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের লোকালয়ে ফিরতে পরামর্শ দিয়ে তাদের উদ্ধারে বনকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার খবরে বনবিভাগের সব কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করে তাদের নিরাপদ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘করমজল বন্যপ্রাণী ও প্রজনন কেন্দ্রের বন্যপ্রাণীদেরও নিরাপদে রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সার্বক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

মোংলা বন্দরের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষতি মোকাবিলায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়ায় চারটি, বেসক্রিক এরিয়ায় একটি ও জেটিতে দুটিসহ মোট ছয়টি বিদেশি জাহাজ রয়েছে। ঝড় থেমে না যাওয়া পর্যন্ত মোংলা বন্দরের সব ধরনের =অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক সব জাহাজকে জেটির পাশ ত্যাগ করে চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে নোঙ্গর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরের নিজস্ব জলযানগুলোকে দুই টায়ারে বিদ্যমান বার্থগুলোতে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

‘এছাড়া বন্দর চ্যানেলকে নিরাপদে রাখার জন্য দেশি কার্গো ও লাইটারেজগুলোকে চ্যানেলের বাইরে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বন্দরে আমদানিকৃত গাড়ি নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও আমদানিকারকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।’

কাঁপছে উপকূল, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ

উপকূলে বাব বার আঘাত

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে উপকূলে। তার মধ্যে রয়েছে- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরে সিডর, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা, ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই কোমেন, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানু ও ২০১৭ সালের ৩০ মে মোরা, ২০১৯ সালের ৪ মে ফণী, ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর বুলবুল, ২০২০ সালের ২০ মে আম্পান, ২০২১ সালের ২৬ মে ইয়াস ও ৪ ডিসেম্বর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এবং সবশেষ ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর সিত্রাং উপকূলে আঘাত হানে। এই ১৫ বছরে জান-মালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সিডর ঝড়ে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের হতিহাসে অন্যতম পাঁচটি বড় ঝড়ের মধ্যে সিডর একটি। এই ঝড়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

খুলনার দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকা ও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী এলাকা এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সুন্দরবনেরও বেশ ক্ষতি হয়েছিল। আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে উপকূলে ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
চার ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ডুবে গেছে সুন্দরবন
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: সচেতনতামূলক মাইকিং, খাবার বিতরণ করবে ছাত্রলীগ
সব বিভাগে হতে পারে রেকর্ড বৃষ্টি, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা
ঝালকাঠিতে উত্তাল নদীতে ট্রলারে যাত্রী পারাপার
ঘূর্ণিঝড় শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের ছুটি বাতিল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Butcher Jihad left the country after killing the Awami League leader

আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করে দেশ ছাড়েন ‘কসাই জিহাদ’

আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করে দেশ ছাড়েন ‘কসাই জিহাদ’ এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার। ছবি: নিউজবাংলা
কলকাতা পুলিশের ভাষ্য, এমপি আনারকে হত্যার পর তার শরীর থেকে মাংস ও হাড় আলাদা করে ফেলেন জিহাদ। পরিচয় নষ্ট করার জন্য এমপির মাংস কিমা করে তা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখেন। আর হাড়গুলো টুকরো টুকরো করেন। পরে ওই ব্যাগগুলো ফ্ল্যাট থেকে বের করে নানা ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ফেলে দেয়া হয়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের ঘটনায় জিহাদ হাওলাদার নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। পরে তাকে ১২ দিনের রিমান্ড দিয়েছে দেশটির বারাসাতের আদালত।

কলকাতা পুলিশের ভাষ্য, এমপি আনারকে হত্যার পর তার শরীর থেকে মাংস ও হাড় আলাদা করে ফেলেন জিহাদ। পরিচয় নষ্ট করার জন্য এমপির মাংস কিমা করে তা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখেন। আর হাড়গুলো টুকরো টুকরো করেন। পরে ওই ব্যাগগুলো ফ্ল্যাট থেকে বের করে নানা ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ফেলে দেয়া হয়।

দুর্ধর্ষ এই যুবকের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়েনের পূর্ব বারাকপুরে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও একটি ছোট ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে জিহাদ ভারতে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানেন, সেখানে তিনি রং মিস্ত্রির কাজ করে।

জিহাদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি তাকে একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।

২০২৩ সালের ২৪ মার্চ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খানজাহান আলী থানার শিরোমনি লিন্ডা ক্লিনিকের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় শেখ আনসার আলীকে। দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ঘটনার পরের দিন নিহতের ছেলে শেখ তানভীর বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে ১৬ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে ওই মামলাটির চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে থানা পুলিশ।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে কেএমপির লবনচরা থানার তদন্ত পরিদর্শক) পলাশ কুমার দাস বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে মূলত তিনজন অংশ নিয়েছিল। তারা হলো- জিহাদ, রফিক ও বিল্লাল। তারা মোটরসাইকেলে করে এসে ওই নেতাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।’

জিহাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলার এজাহারে এই ব্যক্তির নাম ছিল না। তবে তদন্তে পাওয়া যায়, তিনি কিলিং মিশনের অন্যতম ব্যক্তি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।’

বারাকপুরের ভয়ংকর গ্রাম্য রাজনীতি

এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে শেখ আনসার উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় রাজনীতি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটির প্রভাবশালী ‘চারবাড়ি’ পরিবারের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনসার উদ্দিন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বারাকপুর গ্রামে বসবাস করছিলেন।

চাকরি থেকে অবসর নিয়ে এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি; বারাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদও পান। এরপর প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়ান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী জাকির হোসেনের পরিবারের সঙ্গে। বাজার কমিটির নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনসহ সব বিষয়ে দ্বন্দ্বেই উঠে আসে তার নাম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বারাকপুর বাজার কমিটির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ আনসার। ওই বছরই করোনাকালে চাল দেয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনকে লাঞ্ছিত করে তার লোকজন। এতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একই বছর চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় নারীরা মানববন্ধন করেন। এসবের পেছনে আনসার উদ্দিনের হাত আছে বলে অভিযোগ গাজী জাকিরের স্বজনদের।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বারাকপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শেখ আনসার উদ্দিন। সেবার অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজী জাকিরের কাছে পরাজিত হন।

ভোটের আগে নির্বাচনি প্রচারকালে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। ভোটের দিন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

এরপর ২০২২ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন। জাকির হত্যায় আনসার উদ্দিন সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন অনুসারীরা শেখ আনসার উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে জানা যায়।

স্থানিয়রা জানান, চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের বাড়ির উত্তর পাশেই জিহাদ হাওলাদারের বাড়ি, যিনি সরাসরি গাজী জাকিরের দলের হয়ে কাজ করতেন।

আরও পড়ুন:
এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমপি আনার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা
ঝিনাইদহে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, আটক ২
হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না
মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো
এমপি আনার হত্যা নিয়ে কালীগঞ্জে ধোঁয়াশা!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Killing of MP Anna Dada wants punishment for the culprit

এমপি আনার হত্যা: অপরাধী হলে শিলাস্তির বিচার চান দাদা

এমপি আনার হত্যা: অপরাধী হলে শিলাস্তির বিচার চান দাদা এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে নাম এসেছে শিলাস্তি রহমানের। ছবি: নিউজবাংলা
দাদা সেলিম মিয়া বলেন, ‘আরিফুর রহমানের দুই সন্তান। শিলাস্তি বড় ও সুবাহ ছোট। ভাতিজা ঝুট ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকেই ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে এলেও দুই/একদিন থেকেই চলে যায়। যতটুকু দেখেছি, আমার নাতনী শিলাস্তির চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল। সে অপরাধী হয়ে থাকলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে গেছে একটি নাম- শিলাস্তি রহমান। তথ্য বেরিয়েছে, শিলাস্তি রহমান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিমুল ভূঁইয়ার পরিকল্পনার অংশ হয়ে হত্যাকাণ্ডে সহযোগীর ভূমিকা রেখেছেন। তাকে দিয়ে টোপ ফেলেই

এমপি আনারকে তার বন্ধুর বাসা থেকে ঘাতকদের ফ্ল্যাটে নেয়া হয়।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের এই তরুণী বাস্তবিকই যদি অপরাধী হয়ে থাকেন তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মিয়া।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের পাইসানা গ্রামের মিয়া বাড়ির সন্তান শিলাস্তি রহমান। শনিবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটি পুরোপুরি ফাঁকা। শিলাস্তিদের টিনের ঘরের দরোজায় তালা ঝুলছে। টিনের ঘরের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দোতলা একটি বাড়ি। তবে বাড়ির ভেতরে কোনো আসবাবপত্র নেই।

এমপি আনার হত্যা: অপরাধী হলে শিলাস্তির বিচার চান দাদা
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নাগরপুর পাইসানা গ্রামের মিয়া বাড়ির সন্তান শিলাস্তি (বাঁয়ে); দাদা সেলিম মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

এ সময় পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মিয়া। তিনি শিলাস্তির বাবা আরিফুর রহমানের বাবার ছোট ভাই।

সেলিম মিয়া জানান, তার ভাতিজা আরিফুর রহমানের দুই সন্তান। শিলাস্তি বড় ও সুবাহ ছোট। তাদের কোনো ভাই নেই। আরিফুর রহমান একজন জুট ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকেই তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে এলেও দুই/একদিন পরই আবার ঢাকায় চলে যান। গ্রামে পাড়া-প্রতিবেশী কারও সঙ্গেই ওদের তেমন কোনো কথাবার্তা হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমার নাতনী শিলাস্তির চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল এবং বাড়ির বাইরে দিনের পর দিন সময় কাটায়। এসব কারণে ওদের সঙ্গে কথা বলা বাদ দিয়েছি। আমার পরিবারের লোকজনও ওদেরকে এড়িয়ে চলে।

‘বাড়িতে অল্প সময়ের জন্য এলেও শিলাস্তির যে ড্রেসআপ তা দেখে মনে হতো ওর বাবা কোটিপতি। সে বাড়িতে বসেই সবার সামনে সিগারেটও টানে। আমি বাধা দিলেও শুনতো না। পরে আর বাধা দেয়ারও চেষ্টা করিনি। আমার নাতনী শিলাস্তি অপরাধ করে থাকলে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।’

স্থানীয় লোকজন জানায়, শিলাস্তি রহমান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় বসবাস করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই শিলাস্তি রহমানের দাদার সম্পত্তি তার বাবা আরিফুর রহমান বিক্রি করে ঢাকায় চলে যায়। বাড়িটা থাকলেও তারা কেউ এখানে তেমন একটা আসে না।

এ বিষয়ে নাগরপুরের ধুবরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘ওরা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকে। কেউ সঠিকভাবে বলতেও পারে না যে শিলাস্তি কোথাকার। এখন আমরা জানতে পারলাম যে তার বাড়ি নাগরপুরে। গতকাল (শুক্রবার) পর্যন্তও বিষয়টি জানতাম না।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শিলাস্তি নামের মেয়েটি নাগরপুরের- এমন কোনো তথ্য এখনও পাইনি। তার বিষয়েও আর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমার কাছে নেই। জানলে জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
এমপি আনার হত্যা মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে
এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমপি আনার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা
হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না
মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো
এমপি আনার হত্যা নিয়ে কালীগঞ্জে ধোঁয়াশা!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dr Niranjan wants a Teota university with Nazrul Promila memories

নজরুল-প্রমিলার স্মৃতিবিজড়িত তেওতায় বিশ্ববিদ্যালয় চান ড. নিরঞ্জন

নজরুল-প্রমিলার স্মৃতিবিজড়িত তেওতায় বিশ্ববিদ্যালয় চান ড. নিরঞ্জন শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে কবি নজরুল ইসলাম ও কবিপত্নী আশালতা সেনগুপ্তার প্রতিকৃতি। ছবি: নিউজবাংলা
শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে কবি নজরুল ও তার পত্নী প্রমিলার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিয়ের পরও তারা বেশ কয়েকবার এ গ্রামে এসেছিলেন। তেওতা জমিদার বাড়ির শান বাঁধানো পুকুরে নজরুল ইসলাম সাঁতার কেটেছেন, পুকুরপাড়ের বকুল গাছের তলায় বসে বাঁশি বাজিয়েছেন। তেওতায় বসে কবি ‘ছোট হিটলার’, ‘লিচু চোর’ ও ‘হারা ছেলের চিঠি’র মতো সাহিত্য রচনা করেছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে কবি নজরুল ইসলাম ও কবিপত্নী আশালতা সেনগুপ্তার (প্রমিলা) প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জাতীয় কবির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কবিতা আবৃতি, নাটক, গল্প ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক সানজিদা জেসমিন, নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন অধিকারী, সাবেক জেল শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ খান, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, নজরুল অ্যাকাডেমির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল-প্রমিলার স্মৃতিবিজড়িত তেওতায় বিশ্ববিদ্যালয় চান ড. নিরঞ্জন

জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত তেওতা গ্রামে নজরুল-প্রমিলা বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘর নির্মাণের দাবি করেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন অধিকারী। একইসঙ্গে কবি ও কবিপত্নী প্রমিলার স্মৃতিবিজড়িত তেওতা জমিদার বাড়ি সংস্কার ও পুকুর ঘাট রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

নজরুল গবেষক জানান, ১৯০৮ সালে শিবালয়ের তেওতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে দোলন বা দুলি। আশালতা সেনগুপ্তা ছিলেন বাবা বসন্ত কুমার ও মা গিরিবালা দেবীর একমাত্র সন্তান। তার বাবা বসন্ত কুমার সেনগুপ্ত ত্রিপুরায় নায়েবের পদে চাকরি করতেন। তার কাকা ইন্দ্র কুমার সেনগুপ্ত ত্রিপুরায় কোর্ট অফ ওয়ার্ডসের ইন্সপেক্টর ছিলেন। চাকরি সূত্রে আশালতার বাবা বসন্ত কুমার পরিবার নিয়ে তেওতায় বসবাস করতেন এবং তার কাকা ইন্দ্র কুমার পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন কুমিল্লায়।

তবে হঠাৎ করে বসন্ত কুমারের মৃত্যু হলে কাকা ইন্দ্র কুমারের সঙ্গে কুমিল্লায় চলে যান আশালতা ও তার মা গিরিবালা বেদী। এরইমধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম তার বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে একবার কুমিল্লায় বেড়াতে যান এবং সেখানে ইন্দ্র কুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে আশালতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আশলতা সেনগুপ্তার টানে পাঁচবার কুমিল্লায় যান কাজী এবং তিনবার আসেন তেওতা গ্রামে। তেওতা জমিদার বাড়ির পাশেই ছিল তাদের বাড়ি।

নজরুল-প্রমিলার স্মৃতিবিজড়িত তেওতায় বিশ্ববিদ্যালয় চান ড. নিরঞ্জন

নজরুল জেল থেকে মুক্তি পেয়ে কুমিল্লায় গেলে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক চাপে মা গিরিবালা দেবী মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তাকে নিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর ১৯২৪ সালে গিরিবালা দেবীর ইচ্ছায় নজরুল ও আশালতার বিয়ে হয়। প্রেম চলাকালে আশালতাকে প্রমিলা নামে ডাকতেন কবি।

তিনি জানান, শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে কবি নজরুল ও তার পত্নী প্রমিলার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিয়ের পরও তারা বেশ কয়েকবার এ গ্রামে এসেছিলেন।

তেওতা জমিদার বাড়ির শান বাঁধানো পুকুরে নজরুল ইসলাম সাঁতার কেটেছেন, পুকুরপাড়ের বকুল গাছের তলায় বসে বাঁশি বাজিয়েছেন। এমনকি জমিদার বাড়ির নবরত্ন মঠের দোল উৎসবেও যোগ দিয়েছিলেন।

সবুজ শ্যামল তেওতা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। তেওতা গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে কবি লিখেছিলেন, ‘আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী এ কোন সোনার গাঁয়।’

প্রমিলার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘নীলাম্বরী শাড়ি পরি নীল যমুনায় কে যায়।’

এ ছাড়াও তেওতায় বসে কবি ‘ছোট হিটলার’, ‘লিচু চোর’ ও ‘হারা ছেলের চিঠি’র মতো সাহিত্য রচনা করেছেন। এসবের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম তেওতা গ্রামের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।

আরও পড়ুন:
প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে নজরুলের কবিতা, গান: রিজভী
নজরুলের জন্মদিনে জাতীয় ছুটির দাবি পুনর্ব্যক্ত নাতনি খিলখিলের
কারার ঐ লৌহ কপাট বিতর্ক: অবশেষে ক্ষমা চাইল টিম ‘পিপ্পা’  
সংকটে প্রেরণা নজরুল: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What do the different signals on the port mean?

বন্দরে বিভিন্ন সংকেতের কী অর্থ

বন্দরে বিভিন্ন সংকেতের কী অর্থ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সতর্ক সংকেত নির্দেশক লাল পতাকা। ফাইল ছবি
যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেই সমুদ্রবন্দরগুলোকে বিভিন্ন সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব সংকেতের কোনটির কী অর্থ, তা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রেই এমন সতর্ক সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব সংকেতের কোনটির কী অর্থ, তা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

সমুদ্রবন্দরের জন্য বিভিন্ন সংকেত

১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার, যা সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। ঘণ্টায় বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার, তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

৫ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়াকে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করছেন।

নদীবন্দরের জন্য সংকেত

১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত: বন্দর এলাকায় ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে পড়তে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শন করা হয়। এ সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।

২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকা নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড় (যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার) বা একটি কালবৈশাখী ঝড়ের (যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব) কবলে পড়তে পারে। নৌযান এ ঝড়ের যেকোনো একটিতে পড়তে পারে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যের নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় দ্রুতই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব ধরনের নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়টি দ্রুতই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন:
সুস্পষ্ট লঘুচাপটি রূপ নিল নিম্নচাপে, বন্দরে এক নম্বর সংকেত
সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিল বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি
দেশজুড়ে বাড়তে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা
উপকূলে রোববার আঘাত হানতে পারে ‘রেমাল’
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, হতে পারে ঘনীভূত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of MP Anar who participated in thousands of funerals has not been found

হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না

হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না কালীগঞ্জে একজনের জানাজা নামাজে শরিক হয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন এমপি আয়োরুল আজীম আনার। ফাইল ছবি
কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ বলেন, ‘এমপি আনার কলকাতায় গিয়ে নিখোঁজের পর তাকে হত্যা করা হলেও এখনও মরদেহ উদ্ধার হয়নি। অথচ এই জনপ্রতিনিধি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আমরা তার কফিন সামনে রেখে জানাজা নামাজ পড়তে চাই।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার আর দশজন জনপ্রতিনিধির মতোই জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কাজে নিজেকে জড়িত রেখে এসেছেন। তবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার একটি বিশেষ গুণ ছিল। কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই ছুটে যেতেন সেখানে। সান্ত্বনা দিতেন স্বজনদের। অংশ নিতেন নামাজে জানাজায়।

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন এমপি আনার। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো কলকাতার সেই ফ্ল্যাট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী তার মরদেহের খোঁজ পাওয়াটা অনিশ্চিত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কালীগঞ্জের মানুষের মনে প্রশ্ন- তাহলে জনপ্রতিনিধি আনোয়ারুল আজীম আনারের জানাজা নামাজের কী হবে? যে মানুষটি স্বপ্রণোদিত হয়ে হাজার হাজার মানুষের জানাযায় অংশ নিয়েছেন, তার কফিন সামনে রেখে কি জানাজা হবে না?

তারা বলছেন, সকাল, সন্ধ্যা কি রাত। যখনই কারও মৃত্যুর খবর পেতেন গিয়ে হাজির হতেন সেখানে এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। শরিক হতেন জানাজা নামাজে। সেই মানুষটি হত্যার শিকার হয়েছেন জানতে পারছি। কিন্তু মরদেহ না পেলে? সেক্ষেত্রে মানুষটির জন্য কেবলই গায়েবানা জানাজা পড়তে হবে?

জানা যায়, ২০০৯ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনোয়ারুল আজিম আনার মানুষের মৃত্যুর খবর পেলে তার বাড়িতে ছুটে যেতেন। সকাল কিংবা রাত। শীত বা গরমের পরোয়া করতেন না। এমনকি একই সময়ে দুই স্থানে দুজনের জানাজার আয়োজন হলে ফোন করে অপেক্ষা করতে বলতেন। তবুও জানাজায় অংশ নিতেন তিনি। সেই মানুষটির জানাজার কী হবে তা নিয়ে এখনও সংশয়ে আছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মানুষ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা আনার হাজার হাজার মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। যত গুরুত্বপূর্ণ কাজই থাকুক না কেন তা ফেলে তিনি জানাজায় অংশ নিয়েছেন। সেই মানুষটির জানাজা কি হবে না? তার মরদেহ কি খুঁজে পাওয়া যাবে না?’

রাশেদুল নামের এক কর্মী বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এমপি আনারের মরদেহ উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে রাখা হয়েছে কোথায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ বলেন, ‘এমপি আনার কলকাতায় গিয়ে নিখোঁজের পর তাকে হত্যা করা হলেও এখনও মরদেহ উদ্ধার হয়নি। পুলিশ বলছে যে এমপি আনারকে হত্যা করে লাশ টুকরো করে তিনটি ট্রলিতে করে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

‘হত্যার ঘটনা জানার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা আমাদের প্রিয় নেতার মরদেহ ফেরত চাই। একটু অংশ হলেও আমরা তার লাশ চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষের জানাজা নামাজে অংশ নিয়েছেন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। আমরা তার কফিন সামনে রেখে জানাজা নামাজ পড়তে চাই।’

আরও পড়ুন:
শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের মামলা
এমপি হত্যায় ভারতকে দোষারোপ না করার আহ্বান কাদেরের
এমপি আনারকে হত্যা করেছে বাংলাদেশি অপরাধীরা: ডিএমপি ডিবি প্রধান
এমপি আনারের হত্যাকাণ্ড দুই রাষ্ট্রের বিষয় নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাবা হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান আনারকন্যা

মন্তব্য

p
উপরে