× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Warning of load shedding in gas crisis
google_news print-icon

গ্যাস সংকটে লোডশেডিংয়ের সতর্কতা

গ্যাস-সংকটে-লোডশেডিংয়ের-সতর্কতা
প্রতীকী ছবি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মহেশখালীস্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বর্তমানে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অতি দ্রুত সমাধানে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে দেশের কিছু কিছু এলাকাতে খুবই স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাহত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

শনিবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ সতর্কতা জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

ফেসবুকের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মহেশখালীস্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বর্তমানে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অতি দ্রুত সমাধানে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে দেশের কিছু কিছু এলাকাতে খুবই স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। সম্মানিত গ্রাহকদের অনাকাঙ্খিত অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি এবং মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে রি-গ্যাসিফিকেশন সেবা গ্রহণ করে থাকে। এর একটি সামিট গ্রুপ ও অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে আনা মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল সময়মতো চালু করতে না পারায় এবং সামিটের এফএসআরইউ কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশের পূর্বাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় ঘটে। বিতরণ কোম্পানির আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হঠাৎ বিপর্যয়ে রান্না করতে না পেরে খাবারের কষ্টে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা। পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদনও বিঘ্নিত হয়।

অবশ্য ইতোমধ্যে খুব স্বল্প পরিসরে উৎপাদন শুরু করেছে সামিটের এফএসআরইউ। আরপিজিসিএল-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ১৩০ এমএমসিএফডি সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের সমস্যা রাতারাতি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ সামিটের এফএসআরইউতেও তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার কথা রয়েছে।

‘আমরা মনে করি, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে, তবে পুরোপুরি নয়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Developed countries fail to implement climate change pledges PM

উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ: প্রধানমন্ত্রী

উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঙ্গলবার ঢাকায় গণভবনে সাক্ষাৎ করেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। ছবি: পিআইডি
উন্নত কৃষি প্রযুক্তি বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৫ বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনে সফল হয়েছে। আমরা আমাদের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জমি কমে যাওয়ায় উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সফররত অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা খোলামেলা কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন।

‘প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীকে বলেন, ‘আমরা অলস বসে থাকিনি (উন্নত দেশের অপেক্ষায়)। আমরা আমাদের জনগণকে বাঁচানোর জন্য নিজস্ব ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এখানে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আঘাত হানে।’

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা এবং ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাতের বিরুদ্ধে। আমরা প্রতিটি সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও সংলাপ চাই।

‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য অনুরোধ করলেও প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

‘বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। মিয়ানমার এখনও তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট আয়তনের বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এজন্য আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।’

‘সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য সারাদেশে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোক্তারা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে এবং দেশের বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে মুনাফা অর্জন করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ গত ১৫ বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনে সফল হয়েছে। আমরা আমাদের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জমি হ্রাস পাওয়ায় আমাদের উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে।’

সরকার প্রধান উন্নত কৃষি প্রযুক্তি বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের মাত্রা ২৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।’

বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী ও সফররত অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছে এবং তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।’

শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের দেশে আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর প্রবেশাধিকারের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা জোরদারের উপায় খুঁজে বের করতে মঙ্গলবার দুদিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন পেনি ওং।

আরও পড়ুন:
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে এলাকা ভাগ করে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
বঙ্গবন্ধুর নামে ‘শান্তি পদক’ দেবে সরকার
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh has advanced two steps in the freedom of expression index

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত
স্কোর অনুযায়ী ০-১৯ সংকটজনক, ২০-৩৯ অতি বাধাগ্রস্ত, ৪০-৫৯ বাধাগ্রস্ত, ৬০-৭৯ স্বল্প বাধাগ্রস্ত ও ৮০-১০০ মুক্ত। এবার বাংলাদেশের মতপ্রকাশ স্কোর ১২।

বৈশ্বিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮তম। ২০২২ সালে অবস্থান ছিল ১৩০তম। আর্টিকেল নাইনটিনের বৈশ্বিক মতপ্রকাশ প্রতিবেদন বা গ্লোবাল এক্সপ্রেশন রিপোর্ট ২০২৪-এ বাংলাদেশের এ অবস্থান উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আর্টিকেল নাইনটিনের আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকটজনক। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো সংকটজনক অবস্থায় আছে ভারত ও আফগানিস্তান।

এবার বাংলাদেশের মতপ্রকাশ স্কোর ১২। ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর আটকে আছে ১১ ও ১২-এর মধ্যে। দশ বছরে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে ৮ পয়েন্ট, ২ যুগে কমেছে ৩২ পয়েন্ট। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৪।

২০১৭ সাল থেকে প্রতিবেদনটি নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে আর্টিকেল নাইনটিন।

সবার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, যোগাযোগ এবং অংশগ্রহণসহ ২৫টি সূচকের বিপরীতে মতপ্রকাশ বা এক্সপ্রেশন স্কোর নির্ধারণ করে সংস্থাটি।

স্কোর অনুযায়ী ০-১৯ সংকটজনক, ২০-৩৯ অতি বাধাগ্রস্ত, ৪০-৫৯ বাধাগ্রস্ত, ৬০-৭৯ স্বল্প বাধাগ্রস্ত ও ৮০-১০০ মুক্ত।

আর্টিকেল নাইনটিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪টি দেশ অতি বাধাগ্রস্ত, বাধাগ্রস্ত ২৫টি, স্বল্প বাধাগ্রস্ত ৩৫টি ও মতপ্রকাশের মুক্ত শ্রেণিতে রয়েছে ৩৮টি দেশ।

বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫টি সূচকের মধ্যে সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্কোর সম্পূর্ণ ঋণাত্মক। ২০০৯ সাল থেকে ৮টি সূচকেই ক্রমাগত খারাপ করে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপে। ধর্ম পালন ও নারী-পুরুষের আলোচনার স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সমাবেশ করার স্বাধীনতা ও অ্যাকাডেমিক-সাংস্কৃতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্কোরে।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে নাগরিক সমাজের জন্য ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আইন করা হচ্ছে নিবর্তনমূলক, ব্যক্তির পরিচয়ভেদে ভালো আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
USTDAs Study Grant to CDNet on Expanding Internet Connectivity
সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন

ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণে সিডিনেটকে ইউএসটিডিএর সমীক্ষা অনুদান

ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণে সিডিনেটকে ইউএসটিডিএর সমীক্ষা অনুদান মঙ্গলবার সমীক্ষা অনুদান অনুমোদন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর তা তুলে ধরেন সিডিনেটের পরিচালক ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ড. নাফিজ সরাফাত এবং ইউএসটিডিএর পরিচালক এনোহ টি. ইবং। ছবি: সংগৃহীত
সিডিনেটের পরিচালক ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘বাঘা-১ বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং ফাইভ-জি পরিষেবা, আন্তর্জাতিক ডাটা সেন্টার ও আন্তর্জাতিক হাইপারস্কেলারের জন্য উদীয়মান ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ উন্মুক্ত করবে।’

ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সাবমেরিন ক্যাবল (বাঘা-১)-এর উন্নয়নের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য মঙ্গলবার বাংলাদেশি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে (সিডিনেট) সমীক্ষা অনুদান অনুমোদন করেছে।

সাব-সি ক্যাবল শহর ও গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়াবে এবং ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত করবে। সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ফ্লোরিডাভিত্তিক এপি টেলিকম এলএলসি-কে নির্বাচিত করেছে সিডিনেট।

ইউএসটিডিএ ও সিডিনেট ষষ্ঠ ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেখানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ রোমুয়াল্ডেজ মার্কোস জুনিয়র মূল বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ইউএসটিডিএর পরিচালক এনোহ টি. ইবং বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে আমরা সিডিনেটের মতো অংশীদারদের সঙ্গে সাব-সি ক্যাবল প্রকল্পগুলোর একটি পোর্টফোলিও তৈরি করছি। তারা সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবল সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের দেশগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ক্ষমতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এজেন্সি একটি অংশীদারত্বভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করে, যা প্রকল্পের বিকাশকারী, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত, সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সমমনা ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের সম্পদ ও ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। এসব প্রকল্পের সাফল্যের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ বাঘা-১।’

সাব-সি ক্যাবলগুলো বিশ্বব্যাপী যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বাস্তবায়িত হলে বাঘা-১ ক্যাবলটি বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যান্ডউইথড বৃদ্ধি করবে, যা নিরাপদ উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রসারিত করতে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

ইউএসটিডিএর গবেষণা বাংলাদেশে একটি বিশ্বস্ত সাব-সি ক্যাবল সিস্টেম স্থাপনের জন্য সবচেয়ে কৌশলগত পথ চিহ্নিত করার বিকল্পগুলো মূল্যায়নে সিডিনেটকে সহায়তা করবে।

সিডিনেটের পরিচালক এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাঘা-১ বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং ফাইভ-জি পরিষেবা, আন্তর্জাতিক ডাটা সেন্টার ও আন্তর্জাতিক হাইপারস্কেলারের জন্য উদীয়মান ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ উন্মুক্ত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আরও কানেক্টেড এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার এই অগ্রযাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘ইউএসটিডিএর সমীক্ষা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উন্নত ইন্টারনেট ব্যবহার আরও সহজ ও সুবিধাজনক করবে।’

দ্রুতগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও কানেক্টেড করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব স্থাপন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ইউএসটিডিএ বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অগ্রাধিকারের লক্ষ্যগুলো যেমন এগিয়ে নেয়, তেমনি বৈশ্বিক অবকাঠামো, বিনিয়োগের জন্য অংশীদারত্ব, ডিজিটাল সংযোগ এবং সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও সমৃদ্ধ প্রকল্প প্রস্তুতি সুবিধার জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করে থাকে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One day national mourning in Bangladesh for Raisis death

রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক

রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং অন্যদের মৃত্যুতে ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালন করা হবে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অন্য আরোহীদের মৃত্যুতে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।

মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শোক পালন উপলক্ষে ওইদিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকার কাছে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং অন্যদের মৃত্যুতে ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শোক পালন করা হবে।

একইসঙ্গে সেদিন নিহতদের বিদেহি আত্মার শান্তি কামনায় বাংলাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
রাইসিসহ সবার মরদেহ উদ্ধার, ইরানে ৫ দিনের শোক
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল
ইরানের সঙ্গে ‘পূর্ণ সংহতি’ হামাসের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
US Sanctions on General Aziz Says Interior Minister

জেনারেল আজিজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জেনারেল আজিজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক দেশের অনেক ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা তাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আমাদের দেশে যাকে দেয়া হয়েছে, আমাদের কাছে এখন‌ও সেটা সঠিকভাবে আসেনি। এলে জানতে পারব যে কেন দেয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কেন আসছে, সেটা আমার কাছে এখনও আসেনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সূত্র: ইউএনবি

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আমি কেবল একটি বিজ্ঞপ্তির কথা শুনেছি। এটা বিস্তারিত না জেনে প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না।

‘একটা জিনিস আমি বুঝতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক দেশের অনেক ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা তাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আমাদের দেশে যাকে দেয়া হয়েছে, আমাদের কাছে এখন‌ও সেটা সঠিকভাবে আসেনি। এলে জানতে পারব যে কেন দেয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারত ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের ইমিগ্রেশন পার হয়ে যথাযথভাবেই তিনি ভারতে যান। পরিবার থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল যে তার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।

‘সরকারি সব সংস্থা এটা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের এনএসআই, এসবি ও পুলিশ কাজ করছে। ভারতীয় পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি, ভারত সরকারের মাধ্যমে শিগগিরই তার বিষয়ে জানতে পারব।’

নিখোঁজ এমপির বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট নেই।’

আরও পড়ুন:
জেনারেল আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞায় খুশি হওয়ার কিছু নেই: ফখরুল
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেনারেল আজিজ যা বললেন
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ ও তার পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What General Aziz said about US sanctions

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেনারেল আজিজ যা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেনারেল আজিজ যা বললেন জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ। ছবি: টিভি থেকে নেয়া
জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবান্তর। আর আমার বিরুদ্ধে নেয়া এই ব্যবস্থাও অন্যায়। সরকারকে বিব্রত ও হেয় করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ বলেছেন, সরকারকে বিব্রত ও হেয় করার জন্য তার ও তার পরিবারের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার ঢাকায় একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এছাড়াও তিনি অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন।

সেনাপ্রধান হিসেবে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভাই বা আত্মীয়দের কন্ট্রাক্ট দিয়েছেন- কেউ এটা প্রমাণ করতে পারলে যে কোনো কনসিকোয়েন্স মেনে নিতে প্রস্তুত বলে সাংবাদিকদের জানান আজিজ আহমেদ।

নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জানতে চাইলে জেনারেল আজিজ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবান্তর। আর আমার বিরুদ্ধে নেয়া এই ব্যবস্থাও অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তৈরি আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটি বানোয়াট। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ নামক একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। যদিও এখানে অতকিছু বিস্তারিত বলা হয়নি, কিন্তু একই জিনিস। তার সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।’

আজিজ দৃঢ়ভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার ভাইদের জন্য তদবির করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিজিবির মহাপরিচালক এবং সেনাপ্রধান থাকাকালীন আমার কোনো ভাই বা নিকটাত্মীয় এই দুই প্রতিষ্ঠানের কোথাও ঠিকাদারি করেছে তার তথ্য-প্রমাণ দিতে পারলে আমি সব মেনে নেব। শুধু তাই নয়, এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে তাদের কোনো লাইসেন্স ছিল সেটার প্রমাণ দিতে পারলেও আমি সব শাস্তি মেনে নেব।’

আজিজ বলেন, ‘প্রথম অভিযোগ হলো, আমি আমার ভাইকে বাংলাদেশের প্রচলিত যে আইন আছে, তার অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে সে যাতে এড়িয়ে চলতে পারে সে জন্য আমি আমার পদ-পদবি ব্যবহার করে তাকে সহযোগিতা করে দুর্নীতি করেছি। দ্বিতীয়টি হলো, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে আমার ভাইকে সামরিক কন্ট্রাক্ট দিয়ে ঘুষ নিয়েছি; আমি আরেকটি দুর্নীতি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম অভিযোগের বিষয়ে বলবো, আমার সেই ভাই, যদিও এখানে নাম উল্লেখ করা হয়নি, আমি জেনারেল হওয়ার অনেক আগে থেকে বিদেশে এবং নিশ্চয়ই সে বৈধ পাসপোর্ট নিয়েই বিদেশে গিয়েছে। সেখানে দেশ থেকে চলে যাওয়ার বা দেশের প্রচলিত আইন ফাঁকি দেয়ার ক্ষেত্রে আমি আমার পদ-পদবি ব্যবহার করেছি এই অভিযোগ আমি মেনে নিচ্ছি না। মেনে নিতে পারি না, এটা সঠিক না।

‘দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রে বলবো, আমি চার বছর বিজিবি প্রধান এবং তিন বছর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কেউ যদি একটা প্রমাণ দিতে পারে যে আমি আমার ভাই বা আত্মীয়কে বিজিবি বা সেনাবাহিনীতে কোনো কন্ট্রাক্ট দিয়েছি, আমি যে কোনো কনসিকোয়েন্স মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। আমি আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন, ভাইকে কোনো কন্ট্রাক্ট দেইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইদের কারও বিজিবি বা সেনাবাহিনীতে ঠিকাদারি করার জন্য, কন্ট্রাক্ট নেয়ার জন্য কোনো ধরনের লাইসেন্স আছে কি না খোঁজ নিলেই পেয়ে যাবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না- গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নে আজিজ আহমেদ বলেন, ‘আমার জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন কি না জানতে চাইলে আজিজ বলেন, ‘আমি দুটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। আমার মনে হয় আর কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি নিশ্চিত, এটা লোকজন বুঝবে।’

আরও পড়ুন:
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ ও তার পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aziz Ahmeds ban not under visa policy Foreign Minister

আজিজ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা ভিসা নী‌তির অধীনে নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজিজ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা ভিসা নী‌তির অধীনে নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: ইউএনবি
দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অফ.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট।

বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতি দমনে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই এবং তা অব্যাহত রাখব।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অফ.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ভিসা নীতির আওতায় নেয়া হয়নি, নেয়া হয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট, ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার ও অন্যান্য ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সাবেক সেনাপ্রধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রথমে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়।

তবে বিষয়টি একজন সাবেক সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অফ.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট।

এই পদক্ষেপের ফলে আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হয়ে পড়েন।

ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে ভূমিকা রেখেছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘আজিজ আহমেদ তার ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি এড়াতে সহায়তা করে জনসাধারণের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।’

ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট দাবি করেছে, সামরিক চুক্তির অনুপযুক্ত প্রদান নিশ্চিত করতে আজিজ তার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এর মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।’

আরও পড়ুন:
রাজনীতিতে পরিত্যক্ত মানুষগুলোর আওয়াজই বড়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী ভারত: হাছান মাহমুদ
সীমান্ত হত্যা খুবই দুঃখজনক, আমরা এর বিপক্ষে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে রাজি মিশর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাম্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও কৃষিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

মন্তব্য

p
উপরে