× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is no progress in the construction of the dam the farmers of Haor area are worried
google_news print-icon

বাঁধ নির্মাণে অগ্রগতি নেই, দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

বাঁধ-নির্মাণে-অগ্রগতি-নেই-দুশ্চিন্তায়-হাওরাঞ্চলের-কৃষক
২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তিন শতাধিক বাঁধের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা
বরাদ্দের পরও সুনামগঞ্জের ৭৩৩টি বাঁধের মধ্যে ৩০২টি ফসল রক্ষা বাঁধে এখনও কাজই শুরু হয়নি। দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু করে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবিতে কয়েকটি উপজেলায় মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা।

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতিতে আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা জেগেছে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মনে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার এক মাস পূর্ণ হলেও ৭৩৩টি বাঁধের মধ্যে ৩০২টিরই কাজ শুরু হয়নি। এখনও গঠন করা হয়টি চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও মাত্র ১ মাস ২৫ দিনের মধ্যে পিআইসি গঠন করে সম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করাকে এক প্রকার অসম্ভব বলে ধারণা কৃষকদের।

এ ছাড়া ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অগ্রগতি কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন দায়িত্বশীলদের অনেকেই। সম্পতি জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির এক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী দ্রুত সব ক’টি হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরুর তাগিদ দেন। সভায় জেলার ১২ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলীরাসহ জেলা কমিটির বেসরকারি সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৗশলী মামুন হাওলাদার নিউজবাংলাকে জানান, এ বছর এক হাজার ৭১৮ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধের মধ্যে ৭৩৩টি অংশে ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ হবে। এজন্য ৭৩৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন হবে যার ৭২৯টি কমিটি গঠন হয়েছে।

কাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় অনুমোদিত ২৮ প্রকল্পের মধ্যে ২৩টি, বিশ্বম্ভরপুরে ৩১টির মধ্যে ১৮টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪৪ টির মধ্যে ২৩টি, তাহিরপুরে ৮২টির মধ্যে ৬০টি, ধর্মপাশায় ৯৬টির মধ্যে ৭৯টি, মধ্যনগরে ৩২টির মধ্যে ২৫টি, শান্তিগঞ্জে ৬৬টির মধ্যে ৩১টি, জগন্নাথপুরে ৩১টির মধ্যে ২৫টি, দিরাইয়ে ১১০টির মধ্যে ৩৫টি, শাল্লায় ১৩১টির মধ্যে ৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ৫১টির মধ্যে ৩৪টি এবং ছাতক উপজেলায় ৩১টির মধ্যে ২৩টি বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শুরুর অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৫৯.১২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ধর্মপাশায় ৮২.২৯ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম অগ্রগতি শাল্লা উপজেলায় ৪১.৯৮ শতাংশ এবং কাজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ১২ শতাংশ।

বাঁধ নির্মাণে অগ্রগতি নেই, দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাঁয়ের কৃষক আশরাফ উদ্দিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাজ শুরু করার কথা ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে, কিন্তু এখনও প্রায় অর্ধেক বাঁধে মাটি পড়েনি। এই অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে বলে মনে হয় না। কাজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি একেবারে কম। আমরা হাওরবাসী দুশ্চিন্তায় আছি, এবারও যদি বর্ষার সময় বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকে, তাহলে আমাদের আর বাঁচার মতো অবস্থা থাকবে না।’

কাজের অগ্রগতি নিয়ে সুনামগঞ্জ সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ বলেন, ‘পিআইসি গঠন ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। যথাসময়ে বাঁধ নির্মাণ করতে না পারলে কৃষকদের আগাম বন্যায় বিপদের ভয় আছে। তাই যথা সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জোর দাবি জানাই।’

সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে তিন লাখ কৃষক এবার দুই লাখ ২৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করবেন। কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘এসব জমিতে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। টাকার অঙ্কে যার মূল্য চার হাজার একশ দশ কোটি টাকা।’

হাওরের কৃষকদের উৎপাদিত এ ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে প্রতি বছরের মতো এবারও ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করছে সরকার। বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন-এর মানববন্ধন

এদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠনে অনিয়ম ও বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন।

বুধবার সকালে শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘৭৩৩টি প্রকল্পের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেকেরও বেশি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এক মাসে মাত্র ১০ ভাগ বাঁধের কাজ হয়েছে যেটি আমাদের জন্য শঙ্কার। এতে আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফসলডুবির শঙ্কা রয়েছে।’

এ সময় অনতিবিলম্বে বাঁধের কাজ শুরু না হলে কৃষকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বাঁধ নির্মাণে অগ্রগতি নেই, দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসলের সুরক্ষার লক্ষ্যে চলতি বছর ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘পিআইসি গঠনেও অনিয়ম হয়েছে।’

জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরও বলেন, ‘হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যেন নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়- সেদিকে আপনাকে বিশেষ নজরদারি করতে হবে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী ভানু, সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক একে কুদরত পাশা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ারুল হক, জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, সহ-সভাপতি মো. আলী নূর, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনূর আহমেদ, সদস্য রবিন্দ্র চন্দ্র দেব, চন্দন কুমার রায় প্রমুখ।

একই দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলা শাখা।

বাঁধ নির্মাণে অগ্রগতি নেই, দুশ্চিন্তায় হাওরাঞ্চলের কৃষক

বুধবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুজন তাহিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশীদ, হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নাছরুম মেম্বার, সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী, কৃষক প্রতিনিধি ফারুক মিয়া প্রমুখ।

সেখানে বক্তারা বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার ফসল রক্ষা বাঁধগুলো ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু, তাহিরপুর উপজেলা ৮২টি প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও ৯০ ভাগ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত এক টুকরি মাটিও পড়েনি।’

তারা দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে শুধু কৃষিজীবীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত
সাগরে মিশে যাচ্ছে ২৯৩ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ
আর কত ভাঙলে হবে স্থায়ী বাঁধ?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The depression is likely to weaken further over Sylhet

নিম্নচাপটি সিলেটে, আরও দুর্বল হওয়ার আভাস

নিম্নচাপটি সিলেটে, আরও দুর্বল হওয়ার আভাস ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ডুবে যাওয়া নোয়াখালীর একটি এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা
নিম্নচাপটি বর্তমানে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে আরও দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল আরও দুর্বল হয়েছে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বর্তমানে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নিম্নচাপটি বর্তমানে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে আরও দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; বরিশাল ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তবে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

এ সময় এই এলাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ২০-৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে যা ঝড়ো হাওয়া রূপে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
300 platoons of BGB in the polling ground

ভোটের মাঠে ৩০০ প্লাটুন বিজিবি

ভোটের মাঠে ৩০০ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে বিজিবির গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৃতীয় ধাপে সারা দেশে ৩০০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৃতীয় ধাপে সারা দেশে ৩০০ প্লাটুন (এক প্লাটুনে ৩০ থেকে ৪০ সদস্য) বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার নিমিত্তে ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় ২৭ মে থেকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh will take the lead in the fight against visual impairment Foreign Minister

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. হাছান বিশ্বব্যাপী সবার জন্য চোখের চিকিৎসার উন্নতির লক্ষ্যে ২০২১ সালে ‘সবার জন্য দৃষ্টি’ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক রেজুলেশন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এন্টিগা এন্ড বারবুডা এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা এবং অন্ধত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র এন্টিগা এন্ড বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের চতুর্থ সম্মেলনে’র অফিসিয়াল সাইডলাইন ইভেন্ট ‘সর্বজনীন চক্ষুসেবা’ আলোচনায় এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। খবর বাসসের

মঙ্গলবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে ‘আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব এন্টিগা’র মিলনায়তনে জাতিসংঘের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অন ভিশন’ আয়োজিত এ আলোচনায় স্বাগতিক দেশ এন্টিগা এন্ড বারবুডার পররাষ্ট্র, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রী শেত গ্রিন এবং জাতিসংঘে আয়ারল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি ফারগাল মিথেন, পর্তুগালের স্থায়ী প্রতিনিধি পলা জাকারিয়াস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক ওয়ার্নার ওবারমায়ার বক্তব্য রাখেন।

ড. হাছান বিশ্বব্যাপী সবার জন্য চোখের চিকিৎসার উন্নতির লক্ষ্যে ২০২১ সালে ‘সবার জন্য দৃষ্টি’ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক রেজুলেশন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এন্টিগা এন্ড বারবুডা এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ’ইউনাইটেড নেশনস গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অন ভিশনে’র কো-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘের দৃষ্টি বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ এবং ২০২৬ সালে বিশ্ব চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন বা গ্লোবাল আই হেলথ সামিট আয়োজন সমর্থন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক-সামাজিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ও বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জনের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র

মন্ত্রী হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ২০০টি কমিউনিটি আই সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ২০২৯ সাল নাগাদ আরও ২৫০টি আই সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগে দেশব্যাপী ১৪ হাজার ৫শ’ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চোখের প্রাথমিক যত্ন ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।

এ সময় তিনি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি অবকাঠামোগুলোতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা উপকরণের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এন্টিগা এন্ড বারবুডার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জাতিসংঘে আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালের স্থায়ী প্রতিনিধিদ্বয় তাদের বক্তৃতায় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চোখের যতœ ও চিকিৎসায় বৈষম্য মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এদিকে প্রতি দশকে একবার আয়োজিত ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সম্মেলনের (সিডস) ৪র্থ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সোমবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

তিন দিনের এ সম্মেলনে সিডস সদস্য ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্রের সাথে বিশেষত: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অভিন্ন স্বার্থের অংশীদার বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছানের ডোমিনিকান রিপাবলিক ও জ্যামাইকার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদ্বয় এবং জাতিসংঘে কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া সিডস সম্মেলন শেষে ৩০ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস আয়োজিত অস্ট্রিয়ার সাথে যৌথ অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।

তিন দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট প্রমুখের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিউইয়র্কে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা দেবেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সিডস সম্মেলন ও নিউইয়র্কের কর্মব্যস্ত সফরে দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Many areas are still without electricity due to the rampage of Rimal

রিমালের তাণ্ডবে এখনও বিদ্যুৎহীন অনেক এলাকা

রিমালের তাণ্ডবে এখনও বিদ্যুৎহীন অনেক এলাকা রিমালের প্রভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। ফেনীর একটি সড়কে বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন। ছবি: নিউজবাংলা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। এতে অন্ধকারে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করেন বাসিন্দারা। দুর্যোগে দুর্ভোগে সীমাহীন ভোগান্তিতে সময় পার করছেন তারা ।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। বিদ্যুৎ সংযোগের তারে গাছ পড়ে অনেক স্থানেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এখনও বিদ্যুৎহীন অনেক এলাক।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। এতে অন্ধকারে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করেন বাসিন্দারা। দুর্যোগে দুর্ভোগে সীমাহীন ভোগান্তিতে সময় পার করছেন তারা।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সারা এলাকা। রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে বইছে উত্তাল বাতাস। গাছপালা ভেঙে রাস্তাঘাটে যানচলাচলেও বিড়ম্বনায় বিপাকে পড়েছেন পথচারীরা।

পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় ফোনের নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না ইন্টারনেট সেবাও। পর্যাপ্ত চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে ফোন। এতে পুরো এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, টানা দিন রাত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পানি সংকটসহ রান্না-বান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। এতে অন্ধকারে রাত পার করছি।

লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নের ইন্দ্রাবাইদ এলাকার বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানান, ঘুর্ণিঝড়ের কারণে বাড়ির গাছপালা ভেঙে পড়েছে। গাছের আম, কলা ও ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। মোবাইল ফোনের চার্জ না থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি।

লক্ষ্মীন্দর ইউপি সদস্য মো. মাছুম মিয়া বলেন, সাগরদীঘি–মধুপুর সড়কে গাছ পড়ে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েকজন মিলে সড়কের গাছ সরিয়ে চলাচলের উপযোগী করেছি। একরকম আতঙ্কে সময় পার করতে হচ্ছে।

এ নিয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় জনসাধারনদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে অনুরোধ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান জানান, সারা দেশে ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছেন। তবে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফেনী

উপকূলীয় জেলা ফেনীতে রিমালের প্রভাবে রাত থেকেই তীব্র ঝড়ো হওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলার উপকূলীয় জনপদ সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি।

জানা গেছে, রাত থেকেই উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ ছিল আশা যাওয়ার মাঝে। জেলা শহরে মধ্যরাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক থাকলেও তারপর থেকে বেশিরভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ধান গবেষণা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বাতাসের কারণে কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, মধ্যরাত থেকে বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা নিরাপদে আছি। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও লোকালয়ে প্রবেশ করেনি।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে সংযোগ সচল করতে কাজ শুরু হবে। বর্তমানে জেলায় পল্লী বিদ্যুতের ৪ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী আ.স.ম. রেজাউন নবী বলেন, তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে ৩০ হাজারের অধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে লাইন মেরামতে কাজ শুরু হবে।

ফেনী আবহাওয়া দপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনও ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fire service has removed hundreds of fallen trees in Rimal

রিমালে ভেঙে পড়া শতাধিক গাছ অপসারণ করেছে ফায়ার সার্ভিস

রিমালে ভেঙে পড়া শতাধিক গাছ অপসারণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ভেঙে পড়া গাছ সড়ক থেকে সরাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ছবি: ফায়ার সার্ভিস
ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল জানায়, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে দুজনের মরদেহ ও আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে ১৬৩ জনকে।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ করে চলেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকে দুজনের মরদেহ ও আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১৪টি গাছ অপসারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে ১৬৩ জনকে।

ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল সূত্রে সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানা গেছে।

সোমবার চট্টগ্রামের চন্দননগরে দেয়াল ধসে ও পটুয়াখালী বাউফলে গাছচাপায় প্রাণ হারানো দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝড়-বৃষ্টির কারণে উল্টে যাওয়া গাড়িতে চাপা পড়া দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯টি গাছ রাস্তা থেকে এবং দুটি গাছ বাসাবাড়ি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আর বরিশাল বিভাগে ৫৫টি গাছ রাস্তা থেকে এবং ১০টি গাছ বাসাবাড়ি থেকে অপসারণ করা হয়। এছাড়া

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তা থেকে ১৮টি গাছ অপসারণ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

রাজশাহী বিভাগে ১০টি গাছ অপসারণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ঝড়ে পড়া মোট ১১৪টি গাছ অপসারণ করেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত ১২০ জনকে উদ্ধার করে বরিশালের গলাচিপা ফায়ার স্টেশনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা ফায়ার স্টেশনে ১৭ জন, ভোলা ফায়ার স্টেশনে ২০ জন এবং ইন্দুরকানি ফায়ার স্টেশনে ৬ জনকেসহ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে মোট ১৬৩ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় রিমালে বিদ্যুৎহীন দুই কোটি ২২ লাখ মানুষ
‘রিমাল’ আরও দুর্বল হয়ে এখন মানিকগঞ্জে
হাতিয়ায় পানিবন্দি হাজারও মানুষ, বিদ্যুৎ নেই
অঝোর ধারার বৃষ্টিতে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে
ঢাকায় ২০-৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One and a half lakh houses were destroyed in 19 districts affected by Rimal

রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ জেলা, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ জেলা, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
সোমবার মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও এক লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে দেশের ১৯টি জেলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং এক লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। সে হিসাবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মোট সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৪৭৫। আঘাতে এ পর্যন্ত ছয় জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কয়েকদিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রিমাল বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদে আঘাত হানতে শুরু করে রোববার সন্ধ্যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত এটি পুরোপুরি স্থলভাগে চলে আসে। পরবর্তীতে এটি স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আর এর প্রভাব দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সোমবার দিন পেরিয়ে রাতেও অব্যাহত রয়েছে।

‘রিমালের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে জনজীবন ব্যাহত করেছে। বেশ কিছু ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশব্যাপী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’

মহিববুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের সকবিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগ-পূর্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এখন দুর্যোগ-পরবর্তী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আগাম কার্যাবলী ও সাড়া প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়োপযোগী কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।’

এই ঘূর্ণিঝড়টি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি ২৪ ঘন্টা খোলা রয়েছে। আজ সকাল থেকেই আমারা ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকূলীয় জেলাসমূহের মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলে স্থানীয় মানুষের খোজ-খবর নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রিমালের আঘাতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রামে মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ে মোট ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও যশোর।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭ এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬ জন। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি ঘরবাড়ি এবং আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ‌এক লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি।

ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় এলাকায় ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখের বেশি লোক আশ্রয় নিয়েছে। গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়াসহ আশ্রিত পশুর সংখ্যা ৫২ হাজার ১৪৬টি।

দুর্গত লোকজনকে চিকিৎসা সেবা দিতে মোট এক হাজার ৪৭১টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে চালু আছে এক হাজার ৪০০ টিম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের সাহায্যে ইতিমোধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলায় জিআর (ক্যাশ) তিন কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৫০০ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ও গো-খাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ছয় জেলায় ১০ প্রাণহানি
বাগেরহাটে ৪৫ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত
সাতক্ষীরায় ফের ঢাল হলো সুন্দরবন
পটুয়াখালীতে বসতঘরে গাছ পড়ে বৃদ্ধ নিহত
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: ভোলায় ঘরের নিচে চাপা পড়ে নারী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister sought the cooperation of US businessmen in building a smart Bangladesh

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার গণভবনে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধি দলকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট নেশন’ হয়ে ‌ওঠার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানির ভিত্তি সম্প্রসারণে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।’

বাংলাদেশকে উন্নত ও স্মার্ট দেশে পরিণত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশের আমাদের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার জন্য আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট নেশন’ হয়ে ‌ওঠার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানির ভিত্তি সম্প্রসারণে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রচেষ্টা গত ১৫ বছরে বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেছে।

‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। এটা সম্ভব হয়েছে সুশাসন, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আইসিটি, যা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ রূপান্তর ঘটিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। উভয় দেশের অনেক ক্ষেত্রেই নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ লক্ষ্য হল জনগণের জন্য পারস্পরিক সুবিধা ও সমৃদ্ধি অর্জন করা। এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম একক-দেশীয় গন্তব্য এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম ও জ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আগামী দিনে এই অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ও পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি মসৃণ ও অনুমানযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হয়ে উঠবে।

‘অতএব, আমি আপনাদেরকে আমাদের অনেক প্রাণবন্ত ও উচ্চ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিশেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ নিতে এবং বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি চালু রয়েছে।

‘বিশেষ করে আইটি সেক্টরে ১০ লাখের বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদারসহ বাংলাদেশে আইটি খাত বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে একটি তরুণ, দক্ষ ও প্রাণবন্ত কর্মশক্তির প্রাপ্যতা একটি বিশাল সুবিধা।

‘এখানে আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে বাংলাদেশে এই অঞ্চলের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির মর্যাদা রয়েছে। আমরা আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক এম. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যুক্তরোষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অবহিত করেছেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন।

‘যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু চ্যালেঞ্জেরও উল্লেখ করেন।’

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান স্টিভেন কোবোস স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেসাপ ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ও অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন তারেক জিয়াকে ফিরিয়ে আনব: প্রধানমন্ত্রী
‘কলকাতায় মুজিব’- এর প্রিভিউ অবলোকন করলেন প্রধানমন্ত্রী
‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ আধুনিক ক্যাম্পাস করা হবে’
বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে