× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Kubirs three halls were cracked in the earthquake
google_news print-icon

ভূমিকম্পে কুবির তিন হলে ফাটল

ভূমিকম্পে-কুবির-তিন-হলে-ফাটল
ভূমিকম্পে কুবির হলে ফাটল। কোলাজ: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমি বিষয়টা জানতাম না, আপনার থেকে শুনেছি। যদি স্ট্রাকচারাল কোনো সমস্যা হয় তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

ভূমিকম্পে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তিনটি আবাসিক হলের দেয়ালে ভয়ংকর ফাটল দেখা দিয়েছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবার সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, বাংলাদেশের রামগঞ্জের আট কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ওই সময় কুবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের দেয়ালে ফাটক দেখা দেয়। এ ছাড়াও মেয়েদের শেখ হাসিনা হলের রিডিং রুমেও হালকা ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু হলের পাঁচতলার দক্ষিণ পাশের ব্লকের ৫০৪ নম্বর কক্ষের সামনের করিডরের মেঝের দুটি টাইলস উঠে গেছে। একই তলায় নতুন ও পুরাতন ব্লকের সংযোগস্থলের করিডরে ফাটল দেখা গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২০৪ ও ২০৫ নম্বর কক্ষের মাঝের সংযোগস্থলে পুরো পাঁচতলাব্যাপী ফাটল লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া ২০৯ নম্বর কক্ষেও ফাটল দেখা যায়।

এ ছাড়া নজরুল হলের দোতলার ২০৭ নম্বর কক্ষের দেয়ালে, টিভি রুমের সামনের পিলারের সংযোগস্থলে নতুন ফাটল দেখা গেছে। ফয়জুন্নেছা হলের পাঁচতলার ৫১১ নম্বর কক্ষে, ৫০৩ নম্বর কক্ষের ফাটল এবং চারতলার ৪০৩ নম্বর সামনের করিডরে ফাটল দেখা গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৫১৯ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী এমরান হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমরা নিচে নামতে পারিনি। কম্পন থামলে দক্ষিণ ব্লকে পাশাপাশি দুটি টাইলস উপরের দিকে হালকা উঠে থাকতে দেখা যায়।’

কাজী নজরুল ইসলাম হলের ২০৭ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র এহসান বলেন, ‘প্রথমে আমরা কিছু বুঝতে পারিনি। ঝাঁকুনির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা সবাই দৌড়ে বাইরে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর রুমে এসে দেখি দেয়ালে ছোট-বড় কিছু ফাটল তৈরি হয়েছে।’

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের আবাসিক ছাত্রী সুমাইয়া চৌধুরী আনিকা বলেন, ‘প্রথমে ছোটোখাটো কম্পন ভেবেছিলাম। ফয়জুন্নেছার পাশে কনস্ট্রাকশনের কাজের জন্য বড় বড় মালবাহী গাড়ি যাওয়াতে মাঝে মাঝে বিল্ডিং হালকা কেঁপে উঠে। পরে বুঝেছি ভূমিকম্প।’

হল প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পুরো বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

যোগাযোগের পর বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট সরেজমিনে ফাটলগুলো পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে কথা বলবেন বিষয়টি দেখার জন্য।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমি বিষয়টা জানতাম না, আপনার থেকে শুনেছি। যদি স্ট্রাকচারাল কোনো সমস্যা হয় তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

‘যদি সত্যিই ভূমিকম্পের কারণে স্ট্রাকচারাল কোনো সমস্যা হয়, তবে তা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিষয়ে আমরা নিজেরা খোঁজ নিয়ে এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
নয় মাসেও কমিটি নেই কুবি ছাত্রলীগের
বিনা ছুটিতে সাত মাস ফ্রান্সে, বরখাস্ত কুবির অফিস সহকারী
৭ শিক্ষক থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরাল কুবি প্রশাসন
কুবির ফটকে তালা ছাত্রদলের
হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে: হাইকোর্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ants cannot fly due to lack of money

টাকার অভাবে উড়তে পারছে না ‘পিপীলিকা’

টাকার অভাবে উড়তে পারছে না ‘পিপীলিকা’ বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকার লোগো। ছবি: পিপীলিকা
অর্থ সংকটে ধুঁকছে শাবির সাড়া জাগানো চার উদ্ভাবন। তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’। প্লে-স্টোরে থাকলেও নিস্ক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’। ফান্ডিং সংকটে আটকে গেছে দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ ডিভাইসটিও। অর্থ ও জনবলের অভাবে এগোতে পারেনি বাংলায় কথা বলা রোবট ‘রিবো’।

২০১৩ সালে বিশ্বের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এই সার্চ ইঞ্জিনের নাম দেয়া হয় ‘পিপীলিকা’। তবে গত তিন বছর ধরে থমকে আছে এর কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ সংকটে সার্চ ইঞ্জিনটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কেবল সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ই নয়, একই অবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’-এরও। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও তা একপ্রকার নিস্ক্রিয়। দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের সম্ভাবনাময় ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ ডিভাইসটিও অর্থ সংকটে আটকে গেছে। করোনা মহামারি এবং অর্থ ও জনবলের অভাবে এগোতে পারেনি বাংলায় কথা বলতে পারা রোবট ‘রিবো’।

দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তেত্রিশ বছর আগে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কিছু উদ্ভাবন সকলের প্রশংসা কুড়ায়। উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে গত কয়েক বছর ধরেই নেই নতুন কোনো উদ্ভাবন। এমনকি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে থমকে আছে পুরনোগুলোও।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ওপর অ্যাকাডেমিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা গবেষণা, উদ্ভাবনসহ সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে এখন কোনো উৎসাহ দেয়া হয় না।

পিপীলিকা

২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল ১১ জন ডেভেলপার মিলে তৈরি করেন বিশ্বের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা। পিপীলিকার প্রকল্প পরিচালনায় ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মুখ্য গবেষক ও টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন মো. রুহুল আমীন সজীব।

শাবির আইআইসিটি বিভাগ জানায়, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ সংক্রান্ত কিছু সার্ভিস গ্রহণের বিনিময়ে সরকারের এটুআই (অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রোগ্রাম থেকে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৮ কিস্তিতে মোট ১ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৬ টাকা দেয়া হয়। শেষ কিস্তির (৯ম কিস্তি) ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৩ টাকা পিপীলিকাকে পরিশোধের আগেই সরকারের এটুআই প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই অর্থ সংকটে পিপীলিকা বন্ধ রয়েছে।

আগের মতো ৫-৬ জন পূর্ণকালীন আইটি/সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করানোর জন্য মাসিক ৩-৪ লাখ টাকা অনুদান পেলে পিপীলিকার উন্নয়ন কাজ চলমান রাখা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে টিম লিডার মো. রুহুল আমীন সজীব বলেন, ‘আমি এখন এই প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত নই।’

শাবির আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্টের ফান্ডিং আসত সরকারের কাছে থেকে। ২০২০ সাল থেকে আমাদের প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট সবকিছু সঠিক সময়ে পাঠালেও কোনো অর্থ পাইনি। সর্বশেষ আমাদের প্রায় ২২ লাখ টাকা আটকে আছে।’

তিনি বলেন, ‘টাকা ছাড়া তো আমরা গবেষক ও কর্মচারীদের কাজ করাতে পারি না। আমরা যতটুকু সম্ভব দিয়েছি। তবুও তাদের বেশ কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের আর টাকা দেয়া হয়নি। আবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক সাপোর্ট না পাওয়ায় কারণে বর্তমানে তা বন্ধ আছে। বিষয়টি নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও এটুআইয়ের পিডিসহ সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। আমাদের সব রিসোর্স আছে। সরকারের কাছে থেকে আবার সাপোর্ট পেলে আমরা তা সচল করতে পারব।’

এটুআই প্রোগ্রামের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, “যতটুকু মনে পড়ে ‘পিপীলিকা’ সার্চ ইঞ্জিনটা যেমন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেই মানের হয়নি। এজন্য ফান্ডিং বন্ধ করা হয়। এ বিষয়ে বর্তমান পিডি ভালো বলতে পারবেন।’

বর্তমান পিডি (যুগ্মসচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি আমার জানা নাই। এটা আসলে কী অবস্থায় আছে, খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করব।’

একুশে বাংলা কি-বোর্ড

কি-বোর্ড নিজেই বুঝে ফেলবে ব্যবহারকারী কী লিখতে চাইছেন- ২০১৮ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এমন কি-বোর্ড কি-বোর্ড উদ্ভাবন করেন শাবি শিক্ষার্থীরা। এর নাম দেয়া হয় ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পাশাপাশি দ্রুত টাইপিং ও স্পর্শ করে লেখার ব্যবস্থা রয়েছে এ কি-বোর্ডে। ফলে টাইপ না জানলেও যে কেউ সহজেই বাংলা টাইপিং শিখতে পারে এর মাধ্যমে।

২০২০ সালে কি-বোর্ডটির উদ্ভাবক তৎকালীন শাবির সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বিদেশে চলে গেলে সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে এই প্রজেক্টের কোনো আপডেট নেই। আমি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর এ ব্যাপারে আর কোনো কাজ করা হয়নি।’

ননলিনিয়ার অপটিকস

রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবনেও রয়েছে শাবিপ্রবির সাফল্য। অল্প খরচে ও কম সময়ে ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ নামের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে রক্তের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটেই ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে দাবি ছিল উদ্ভাবকদের।

হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) আওতায় শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সেসময়কার অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক ক্যানসার শনাক্তকরণের এ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন, মনজ কান্তি বিশ্বাস ও এনামুল হক।

প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ফান্ডিংসহ অনেক সমস্যা আছে। মূলত ফান্ডিংয়ের জন্য আমরা আটকে গেছি। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্ট শিগগিরিই চালু হবে। সম্ভবত পিডি নিয়োগ হয়ে গেছে। ওটা হলেই আমরাও ফান্ড পেয়ে যাব।

‘বর্তমানে আপগ্রেডের কাজ চলছে। ফান্ডিং পেলে আমরা ক্লিনিক্যালি ব্যবহারের উপযুক্ত করে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এটাকে সর্বসাধারণের ব্যবহাপযোগী করে তোলা। হেকাপের আওতায় কাজটি চলছিল, পরে হিট আসার কথা ছিল। সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছি আমরা। পরবর্তী প্রজেক্ট পেলে আমরা বাকি কাজ করে ফেলতে পারব।’

প্রকল্পটি একেবারে বন্ধ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজ আমাদের মতো করে চলছে।’

রোবট রিবো

২০১১ সাল থেকে শাবির তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শিক্ষার্থী নওশাদ সজীব উদ্যোগে ১১ জনের একটি দল রোবট নিয়ে কাজ শুরু করে।

২০১৫ সালে বার্ষিক সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি রোবোসাস্টকে মানবসদৃশ রোবট তৈরির করতে ১ লাখ টাকা অনুদান দেয়। দলটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মানবসদৃশ রোবট তৈরি করে, যার নাম দেয়া হয় ‘রিবো’।

রোবটটি ২৪ ডিগ্রি কোণে স্বাধীনভাবে ঘুরতে, নাচতে, মুখের অঙ্গভঙ্গির প্রকাশ, হ্যান্ডশেক, হাত উপর-নিচে তোলা, বাংলায় কথা বলা, এমনকি নিজের নামও বলতে পারত। বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারত।

রোবটটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়া শাবির সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নওশাদ সজীব বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন।

দলের সদস্য মেহেদী হাসান রূপক বলেন, ‘আমরা ঢাকায় প্রোগ্রাম করেছিলাম। সেখানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেছিলেন ফান্ডিং করবেন। আমরা তখন উনাকে একটা আবেদনপত্রও দিয়েছিলাম। পরে করোনা ও জনবল সংকটে আর এগোতে পারিনি। এর মধ্যে আমাদেরও পড়ালেখা শেষ হয়ে যায়।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘এই উদ্ভাবনগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আমি খোঁজখবর নেব। প্রয়োজনে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আমরা কথা বলব।’

উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কর্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Vijay Mehdi is in charge of binding job unit

বাঁধন জবি ইউনিটের দায়িত্বে বিজয়-মেহেদী

বাঁধন জবি ইউনিটের দায়িত্বে বিজয়-মেহেদী বাঁধনের জবি ইউনিটের কার্যকরী কমিটিতে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এনামুল হক বিজয়কে সভাপতি ও গণিত বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মো. মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কোলাজ: নিউজবাংলা
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাঁধন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এখানে সাংগঠনিক পরিচয়ের চেয়ে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বাঁধনের হয়ে সেবার জন্য কাজ করে যাব।’

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইউনিটের কার্যকরী কমিটি গঠন হয়েছে।

কমিটিতে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এনামুল হক বিজয়কে সভাপতি ও গণিত বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মো. মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক এবং জোনাল প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রবিউল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন।

বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট থেকে সোমবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নবগঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি নাদীয়া আক্তার ও মো. তাসলিমুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুজ্জামান রিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাঁধন মাহমুদ, কোষাধ্যক্ষ শেখ রেদওয়ানুল করিম, দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার ইমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উম্মে মাবুদা, তথ্য ও শিক্ষা সম্পাদক মোছাম্মৎ রিমা ইসলাম।

এ ছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেহনাজ নাসা, শিহাব আলী, আশফাকুর রহমান, মো. আ. হামিদ, ফারহান ইসরাক, সাবিকুন্নাহার, মো. সুজন, মেহেদী হাসান জনি, মাওয়া লিসা, শরিফা আক্তার পান্না, সজিব মিয়া, বাশার আলী, আবু জর গিফারী, আসিব রহমান, হৃদয় বিশ্বাস, কামরুজ্জামান মিঠু, আলিফ, রিয়াদ হোসেন, শাহিনুর রহমান শাহিন, মাসুম আলী, আবু হাশেম, কাউসার, মাসুমা আক্তার, মো. বায়েজিদ হাসান, জান্নাত মেহবুবা।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘বাঁধনের মূল কাজ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিনা মূল্যে রক্তদান করা এবং রক্তদাতাদের উৎসাহী করে গড়ে তুলা। বাঁধন জবি ইউনিট যাতে এই কাজে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে, সেই অনুযায়ী কাজ করে যাব।’

নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাঁধন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এখানে সাংগঠনিক পরিচয়ের চেয়ে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বাঁধনের হয়ে সেবার জন্য কাজ করে যাব।

‘আরও বেশি শিক্ষার্থী যাতে বিনা মূল্যে রক্তদানে উৎসাহী হয় এবং কেউ যাতে রক্তের অভাবে বিপদগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব।’

‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগানে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’ যাত্রা শুরু করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালের ২ মে থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক হলেন জবির শিক্ষক শেখ মাশরিক
জবির নতুন ক্যাম্পাসের ঘাট-ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক
বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বোর্ড প্রধান বাঁধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Laying the foundation stone of Ghat Bhawan of Jabis new campus

জবির নতুন ক্যাম্পাসের ঘাট-ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জবির নতুন ক্যাম্পাসের ঘাট-ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
রোববার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এসব নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন ক্যাম্পাসে ‘পরিকল্পনা ও প্রকৌশল ভবন’ নির্মাণ এবং ‘ঘাট’ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এসব নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে জায়গাটা দেয়া হয়েছে তাতে কাঠামোগত যে স্থবিরতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম।

তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিকভাবে যেভাবে এগিয়ে রয়েছে ঠিক অবকাঠামোগতভাবে ততটা পিছিয়ে আছে। আর এ কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী সীমিত সম্পদের মধ্যে থেকেও জবির জন্য এতো বিশাল জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কারণ তিনি শিক্ষানুরাগী, গবেষণায়, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী, বৈষম্যহীন সমাজ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।”

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রধান প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় ঢাবি ছাত্র আটক
জবির প্রক্টরিয়াল বডিতে নতুন দুই মুখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The attempt to demolish the 200 year old school building and construct a multi storey building

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনটি ১৮৪৮ সালে নির্মাণ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধীনস্থ একটি স্কুলের প্রায় পৌনে দুই শ বছরের পুরোনো ভবনের একটি অংশ ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

জবির পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দীর্ঘসময় ধরে এ বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১৮৪৮ সালে নির্মিত পুরোনো ঐতিহাসিক ভবনটি ভাঙায় এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভবনটি প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পুরোনো ভবনটির পশ্চিম পাশের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জবি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে তোলা হয়েছে বহুতল ভবনটি। এতে একদিকে যেমন বেদখল গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়েছে ঐতিহাসিক এই ভবনটিও। একটি অংশ ভেঙে ফেলায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুতল ভবনটি নির্মাণ করেছেন দুলাল নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ স্কুলের জায়গা দখল করলেও তা নিজের জমি বলে দাবি করেছেন তিনি। এই কাজে তাকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা মানা হয়নি। নেয়া হয়নি রাজউকের অনুমতিও। মানা হয়নি ভবন নির্মাণের নিয়মকানুনও। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। পুরোনো দেয়ালের ওপরেই ইটের গাঁথুনি তোলা হয়েছে দ্বিতল এই ভবনের দেয়াল। দ্রুত সময়ে তুলে ফেলা হয়েছে বহুতল ভবন। কাজ হয়েছে রাতের অন্ধকারে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেনি পোগোজ স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষও।

অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলটির একটি চক্র মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দখলদারদের এই বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেছে।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এতদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চলেছে। অথচ স্কুলের কেউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। শুরুর দিকে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যেত। এখানে বড় আকারের আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারা কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে।’

এদিকে পুরোনো ভবনটির একটি অংশ ভেঙে ফেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা শারমিন বৃষ্টি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দখলদাররা বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেলছে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা জানে না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা দুলাল নামের ওই ব্যক্তিকে বারবার বলার পরেও তিনি আমাদের কথা শোনেননি। দাবি করেছেন এটা তার নিজের জমি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।’

দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও এতদিন কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ভুল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত না জানানো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবীর চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনার পর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কেন তারা আমাদের আগে জানায়নি সেটিও জানতে চেয়েছি। এখন এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শতবর্ষী পুরোনো একটি ঐতিহাসিক ভবন তারা ভেঙেছে এর জন্যও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জবির প্রক্টরিয়াল বডিতে বড় রদবদল
জবির দুই অনুষদে নতুন ডিন
শিক্ষার্থীদের মেধা-অবৈতনিক বৃত্তি দেবে জবি
জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে এক মামলায় অব্যাহতি
পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা সরানোর দাবি জবি উপাচার্যের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegation of attempted murder of EB student for sitting in bus

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’ তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার সময় বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাহেদ।

অভিযুক্তরা হলেন- উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রতন রায় ও রিহাব রেদোওয়ান। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া শহরে যাওয়ার জন্য দুপুর তিনটার বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী। তিনি একটা সিটে বসা ছিলেন, যার পাশের সিটে বসা ছিলেন অভিযুক্ত রতন রায়।

কিছুক্ষণ পরে রতন নিচে গিয়ে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে পুনারায় সিটে বসতে আসেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে পাশের সিটে সরে যেতে বললে তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রতন আবু জাহেদের গলা টিপে ধরেন এবং তাকে সহযোগিতা করা রিহাব চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেন। তখন ভুক্তভোগী চিল্লাপাল্লা শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেন তারা।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’

তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

তিনি বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি তার গলা টিপে বা চোখ আঙ্গুল দেয়া হতো, তাহলে সেগুলোর চিহ্ন থাকার কথা।

‘আমি দুই প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষরিত এক পাল্টা অভিযোগপত্র দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের কর্মী, সেটা বড় কথা নয়, বরং সর্বপ্রথম আমি শিক্ষার্থী। আমি কেন ছাত্রলীগের আশ্রয় কোনোকিছু করতে যাবো? এসবের কোনো ভিত্তি নেই।’

অভিযোগ অস্বীকার করেন অপর অভিযুক্ত রিহাব রেদোওয়ানও। তিনি বলেন, ‘মূলত বাসের পেছনের সিটে দুইটি মেয়ে বসা ছিল। সে (ভুক্তভোগী) দুজনের মাঝখানে বসা ছিল। তাই আমরা তাকে ওপাশে সরে বসতে বলেছিলাম।

‘একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে চলে যাবে ভেবে আমি তাকে একটু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেলাম। তখন সে তার বড় ভাই মজুমদারকে কল দিয়ে আনে। তিনি এসে আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।’

ভুক্তভোগী আবু জাহেদ বলেন, ‘উনারা বাসে উঠে আমাকে সরে যেতে বললে আমি অস্বীকৃতি জানাই। একপর্যায়ে তারা আমার গলাটিপে ধরেন, চোখ-মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আমাকে শ্বাসরোধ অবস্থায় রাখেন। আর ৫ সেকেন্ড ধরে রাখলে মরে যেতাম। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আশপাশে লোক ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশেপাশে লোক ছিল, কিন্তু কেউ সহায়তা করতে আসেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথায়, কী অভিযোগ হয়েছে, শুনিনি। এরকম অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে এবং ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ছাত্রলীগ অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League accused the police of taking and selling shops for free
বইমেলা

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ
বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, হাত খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানা পুলিশ দুইটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তিকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো ছাত্রলীগ, কালী মন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও শাহবাগ থানা পুলিশ। এর মধ্যে শুধু শাহবাগ থানা পুলিশই দুটি দোকান বরাদ্দ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয় মেহেদী হাসানের নামে। কালী মন্দিরকে দেয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালী মন্দিরের নামে। ডিএমপিকে দেয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে। আর শাহবাগ থানাকে দেয়া ২০ ও ২১ নম্বর দোকানটি শাহবাগ থানার নামেই বরাদ্দ হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল নামের একজন। তিনি দোকানটি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে। আর শাহবাগ থানা পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলো পরিচালনা করছেন বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দোকান কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহিন ও সাব্বির টাকার অঙ্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন।

এত টাকায় দোকান কিনে নেয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত খাবারের স্টলগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিই, তবে শাহবাগ থানা পুলিশের স্টল দুইটা তারা আমাদের সাথে কথা বলে নিজেদের মতো করে বাড়িয়ে নিয়েছে।’

হাসান কবীর বলেন, ‘অন্য স্টলগুলো থেকে পুলিশের স্টল দুইটা একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছে, এটা স্বীকার করতে আমাদের অসুবিধা নেই। বাস্তবতাও আসলে তাই। তারা প্রতিবার একটু অন্যরকমভাবেই এসব স্টল নেয়।’

শাহবাগ থানা পুলিশকে বিনা মূল্যে দুইটি খাবার দোকান বরাদ্দের বিষয়ে ড. কবীর বলেন, “প্রতিবার তাদের একটা দেয়া হয়। এবার খরচ বেশি হচ্ছে বলে দুইটা নিয়েছে, তবে তাদের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই।

“তারা (পুলিশ) আমাদের বলেছে, ‘মেলায় পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং সেখানে আসা পুলিশ অফিসারদের আপ্যায়নের জন্য তারা তেমন কোনো বরাদ্দ পান না। আর এবার তাদের খরচ নাকি একটু বেড়ে গেছে। তাই আমরা যেন তাদের দুইটা খাবারের স্টল দিই।’ এ জন্য আমরা দিয়েছি। এরপর সেটা বিক্রি করে যেই টাকা পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে তাদের এসব খরচ চালানো হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তারা।”

মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাকি সংস্থাগুলোও যদি এভাবে বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ চায় তাদের দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বা অন্য সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফোর্স তো বেশি থাকে পুলিশের। তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। তাই তাদের এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

‘বাকিদেরও যদি এই সুবিধা দিতে হয়, তাহলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না। সবাইকে দিতে দিতেই তো সব শেষ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নিইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

‘শয়ন ও সাদ্দাম জানেন’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাব রক্ষণ ও বাজেট উপবিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে এই দোকান দেয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে; সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেয়া হয়েছিল। এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেয়া হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি বলে আমাকেও একটা স্টল দাও, তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুইজনের সাথেই কথা বলে শুধুমাত্র একটা দোকান দেয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, ‘দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তো তাদেরকে সমীহ করতে হবে না? তাদেরকে আমরা অনেক কিছু দিইনি।

‘সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্টল দিয়েছি। না হয় অনেক গ্রুপকে দিতে হতো।’

হাসান কবীর বলেন, “তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন, আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব।’ তাদেরকে এও বলেছি, ‘আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে।’ তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘কেউই আসবে না। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’”

এগুলো (বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা) ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ঠিক না। এগুলো ভুল।’

ছাত্রলীগের ভাষ্য

খাবারের স্টল নেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল ‘মাতৃভূমি প্রকাশনা’ স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায়, এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সাথে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নিইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না, তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবির শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

ছাত্রলীগের নামে খাবারের স্টল বরাদ্দ নেয়া বিব্রত করছে কি না জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘অবশ্যই এটি আমাকে বিব্রত করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবে।

‘সেখানে আমরা দোকানদারি করতে যাব কেন? এটি তো আমাদের কাজ না। যারা এসব করছে, তারা সংগঠনের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ে জড়িত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতাহাতি
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
36 people will compete for each seat in the admission test of DUs business education unit

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি পরীক্ষার্থী ৩৬

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি পরীক্ষার্থী ৩৬ ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় এ ইউনিটের পরীক্ষা, যার আগের নাম ‘গ’ ইউনিট।

ভর্তি পরীক্ষা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এ ইউনিটে মোট আসন এক হাজার ৫০টি।

এ ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৫টি, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫টি এবং বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৩০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

ইউনিটের মোট আসনের বিপরীতে ৩৭ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। যদি আবেদন করা সবাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, তাহলে প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়তে হবে ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় চারটি ইউনিটে আসন পাঁচ হাজার ৯৬৫টি। এসব আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

ইউনিটের সংখ্যা ও নাম পরিবর্তনের আগে পাঁচ ইউনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু গত বছর থেকে শুধু চারটি ইউনিটেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভর্তি পরীক্ষা। বাদ দেয়া হয়েছে আগের ‘ঘ’ ইউনিট। গত বছর ইউনিটগুলোর নামও পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইউনিটের সংখ্যা ও নাম পরিবর্তন

আগের ‘ক’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিজ্ঞান ইউনিট, ‘খ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট। এ ছাড়া ‘গ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট এবং ‘চ’ ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে চারুকলা ইউনিট করা হয়েছে।

নম্বর বণ্টন

প্রতি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা। এর মধ্যে চারুকলা ইউনিট ছাড়া বাকি সব ইউনিটে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। শুধু চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা ছিল।

এই ইউনিটে (চারুকলা) বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট ও অংকন পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় থাকবে। আর অন্যান্য ইউনিটের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় থাকবে।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং এসএসসি ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন:
দাখিল পরীক্ষায় প্রক্সির অভিযোগ, কেন্দ্র সচিবসহ ৫৯ পরীক্ষার্থী আটক
শহীদ মিনারে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ২১টি পুস্পস্তবকের দুর্লভ ছবির প্রদর্শনী
মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ মাস পর পূর্ণাঙ্গ হলো ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি
এসএসসির প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৯৩৫৯, বহিষ্কার ২৫
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ

মন্তব্য

p
উপরে