× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The BNP leader does not know the name in the Trinamool BNP nomination list
google_news print-icon
গাইবান্ধা-৪ আসন

তৃণমূলের মনোনয়ন তালিকায় নাম, ‘জানেন না’ বিএনপি নেতা

তৃণমূলের-মনোনয়ন-তালিকায়-নাম-জানেন-না-বিএনপি-নেতা
জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ ওবায়দুল হক সরকারের বিজ্ঞপ্তি ও তৃণমূল বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা। কোলাজ: নিউজবাংলা
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলার বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা তৃণমূলে যোগ দেয়নি এবং নির্বাচনে অংশও নিচ্ছে না। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যদি কোনো নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয় বা অংশ নেয়, তাহলে তাকে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কার করা হবে।’

গাইবান্ধা-৪ আসনে তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ ওবায়দুল হক সরকারের নাম। যদিও বিষয়টি জানেন না বলে নিউজবাংলার কাছে দাবি করেছেন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত দলটির এ নেতা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম বুধবার ঘোষণা করে তৃণমূল বিএনপি। দলটি গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের তিনটিতে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ওবায়দুল হক সরকারের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল বিএনপি।

‘জানেন না ওবায়দুল’

নাম ঘোষণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন ওবায়দুল হক সরকার, যা ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এর একটি কপি এসেছে নিউজবাংলার হাতে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে ওবায়দুল হক সরকার জানান, তিনি (ওবায়দুল হক) প্রচারমাধ্যমে অবগত হয়েছেন যে, তৃণমূল বিএনপিতে তার নাম মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

বিষয়টি নিয়ে গোবিন্দগঞ্জবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।

এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওবায়দুল হক সরকার মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কে বা কারা গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। নাম প্রকাশের আগে আমার মতামতও জানতে চাওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করার বিষয়টি নিয়ে আমি একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। বিষয়টির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। অনুমতি ছাড়া প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশের বিষয়টি আইন লঙ্ঘনের শামিল।’

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলার বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা তৃণমূলে যোগ দেয়নি এবং নির্বাচনে অংশও নিচ্ছে না। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যদি কোনো নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয় বা অংশ নেয়, তাহলে তাকে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কার করা হবে।’

এ বিষয়ে তৃণমূল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মিডিয়া উইং সদস্য সালাম মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটার কোনো (অনুমতি না নিয়ে মনোনয়ন দেয়া) সুযোগই নেই। এখানে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে। তারপর সাক্ষাৎকার দেয়ার পরে নমিনেশন দেয়া হয়। এখানে এত সহজ নয় বিষয়গুলো।’

ওই সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো (না জানা বা অস্বীকার করা) দায়িত্বহীন কাজগুলোর ব্যাপারে আসলে বলার কিছু নাই বা আপনাদের ওসব বিশ্বাস করারও কোনো সুযোগ নাই।’

আরও পড়ুন:
২৩০ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা
আজিজুল বারীসহ বিএনপি-জামায়াতের ২২ নেতাকর্মীর কারাদণ্ড
তৃণমূলের মনোনয়নপত্র কিনে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দলীয় শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
বিএনপি নেতা-কর্মীরা দেশছাড়া উদ্বাস্তুর মতো: রিজভী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Patenga Container Terminal is opening in April

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এপ্রিলে

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এপ্রিলে। ফাইল ছবি
পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’। এটি চালু হলে বাড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা। কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে প্রায় পাঁচ লাখ টিইইউএস।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে এপ্রিলে। ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২২ বছরের জন্য টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়বে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে প্রায় পাঁচ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার)। দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর গত বছর ৩০ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।

বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পিসিটি। শুরুতে এটি বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনে কন্টেইনার টার্মিনালটি পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বের খ্যাতনামা বন্দর পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের আরএসজিটি এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পায়। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

আরএসজিটি শর্তসাপেক্ষে আগামী ২২ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। এটি বিশ্বের অন্যতম বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। তারা জেদ্দা বন্দরসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক টার্মিনাল পরিচালনা করছে।

অবশ্য তার আগেই টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত আকারে এখানে পণ্যও খালাস করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও সৌদি আরবের কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘কনসেশন চুক্তি’ বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়াতে আরও সহায়ক হবে।

“এই কনসেশন চুক্তি আমাদের দুই দেশের যৌথ স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রমাণ।”

টার্মিনালটি চালু প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল আলম বলেন, ‘এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অপারেশন কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতি নিজস্ব অর্থায়নে সংযোজন করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি।’

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, টার্মিনালটি বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বাকি টার্মিনাল থেকে এখানে বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। সেখানে পিসিটি’তে ১৯০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘টার্মিনালটি কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুত। এটি পরিচালনা করবে সৌদি আরবভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী রেড সি গেটওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি এখানে যন্ত্রপাতি ক্রয়, জনবলসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। আগামী এপ্রিল থেকে এই কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।’

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রকল্প এলাকায় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা স্থানান্তরসহ নানা জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরুই হয় ২০১৯ সালে এবং তা শেষ হয় ২০২২ সালের জুন মাসে।

বন্দরের ড্রাইডক থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ২৬ একর জমিতে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। নিজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। গত বছরের ১৪ নভেম্বর ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পতেঙ্গা কনটেইনার টামিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

নতুন নির্মিত এই টার্মিনালে ৫৮৪ মিটার লম্বা জেটিতে একসঙ্গে তিনটি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। ২২০ মিটার দীর্ঘ ডলফিন (তেল খালাসের) জেটি, ৮৯ হাজার বর্গমিটার আরসিসি ইয়ার্ড, ২ হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার শুল্ক স্টেশন, ২ হাজার ১৫০ মিটার লম্বা ও ৬ মিটার উঁচু কাস্টম বন্ডেড হাউজ, ২ হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ এবং ৫ হাজার ৫৮০ বর্গকিলোমিটার অফিস ভবন রয়েছে।

এই টার্মিনালের মাধ্যমে বছরে জাহাজ থেকে ৫ লাখ আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠা-নামা করানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ২০৪ মিটার লম্বা ডলফিন জেটিতে তেল পরিবহনকারী একটি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এ টার্মিনালের মাধ্যমে বছরে ৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে।

জানা গেছে, রেড সি গেটওয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা ইসলামিক পোর্টের বৃহত্তম টার্মিনাল অপারেটর। প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর সম্প্রসারণ ও নির্মাণ করে থাকে। জেদ্দা পোর্ট বিশ্বের ১০০ শীর্ষ বন্দরের তালিকায় ৪১তম। আর চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৬তম।

রেড সি গেটওয়ে প্রস্তাবে বলেছে, পিসিটি পরিচালনায় তারা ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় দুই হাজার ৬৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা হিসাবে)। নিজেদের অর্থে যন্ত্রপাতি কিনে ২২ বছরের জন্য এই টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে প্রতিষ্ঠানটি। আর চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে এই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three crop fields lost in the pond

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি সিরাজগঞ্জ জেলায় ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।’

মাছ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম শস্যভান্ডার সিরাজগঞ্জে ফসলি জমিতে হিড়িক পড়েছে পুকুর কাটার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পুকুর কাটায় জেলায় গত দেড় দশকে কমেছে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি।

জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয় তাড়াশে। এ উপজেলায় এক্সক্যাভেটর দিয়ে তিন ফসলি উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ধান, গম, খিড়া, শসা, পাট, বেগুন, ডাল, রসুন, কাঁচামরিচ, আখসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়, যার উদ্বৃত্ত অংশ দেশের অন্যত্র বিক্রি হয়, কিন্তু দিন দিন কৃষিজমি কমতে থাকলে জেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার শঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সারা দেশে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেড় দশকে ২ হাজার ৫৩৯টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

পুকুর থেকে তোলা মাটি বহনকারী ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেল-জরিমানা করেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে আসবে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখে দেবে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হাজি বাবু নামের একজন। ভায়াট গ্রামের আলামিন জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের উত্তর মাঠে একটি বড় পুকুর খনন করছেন খোকা নামের এক ব্যক্তি।

রাষ্ট্রীয় দপ্তরের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অধিকাংশ গ্রামে রাতের আঁধারে কৃষিজমির ওপর এমন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চললেও কৃষিজমিসহ নদী ও খাস জমি দখল করে চলছে পুকুর খনন।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুকুর খননকারী হাজি বাবু ও আলামিন জানান, কয়েক বছর ধরে তাড়াশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই তারাও করছেন। সবারটা বন্ধ হলে তারাও আর খনন করবেন না।

কালিদাসনিলি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, শাজাহান আলী ও আখতার হোসেন জানান, হাজি বাবু বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আবাদযোগ্য ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করছেন। পুকুরটির খনন শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণের মাঠের পানি নামতে পারবে না। তখন জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

ট্রাকের মালিকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিটি গাড়ি মাটি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

কালিদাসনিলি এলাকার জহুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসার শিক্ষক বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমি ছিল। সলঙ্গা থানার কুমার গাইলজানি গ্রামের সাচ্চু নামের একজন মাঠের ১৫ জন কৃষকের জমি ইজারা নিয়েছেন পুকুর খননের জন্য। শেষমেশ আমিও দিতে বাধ্য হই। নয়তো আমার ওইটুকু জমি পুকুরের এক কোনায় পানিতে তলিয়ে থাকত।’

জানতে চাইলে তাড়াশ থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করার অপরাধে গত ১ মাসে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৮টি, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০টি এবং সাধারণ কৃষকরা বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে।’

তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, ‘পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

‘সগুনা ইউনিয়নের খরখড়িয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠের আবাদযোগ্য উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করার অপরাধে গত ১ জানুয়ারি এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের জেল দেয়া হয়েছে। নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামে পুকুর খনন করায় সুমন মোল্লা ও সাদ্দাম হোসেনকে এক মাস করে জেল দেয়া হয়েছে। পৌষার গ্রামে পুকুর খনন করার অপরাধে শাজাহান নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের জেল দেয়া হয়।’

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তাড়াশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বছরে তিন ফসলিসহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। তারপরও কৃষকরা তাদের জমি কেটে পুকুর খনন করছেন। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছেন।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কেন বুঝতে চাচ্ছে না যে, আবাদি জমি কমে গেলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হবে? ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা শিল্পায়ন কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
পিতার জমি লিখে নিতে বহিরাগতদের দিয়ে হুমকির অভিযোগ
পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানির আশা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The attempt to demolish the 200 year old school building and construct a multi storey building

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনটি ১৮৪৮ সালে নির্মাণ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধীনস্থ একটি স্কুলের প্রায় পৌনে দুই শ বছরের পুরোনো ভবনের একটি অংশ ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

জবির পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দীর্ঘসময় ধরে এ বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১৮৪৮ সালে নির্মিত পুরোনো ঐতিহাসিক ভবনটি ভাঙায় এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌনে ২০০ বছরের স্কুলের ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভবনটি প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পুরোনো ভবনটির পশ্চিম পাশের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জবি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে তোলা হয়েছে বহুতল ভবনটি। এতে একদিকে যেমন বেদখল গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়েছে ঐতিহাসিক এই ভবনটিও। একটি অংশ ভেঙে ফেলায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুতল ভবনটি নির্মাণ করেছেন দুলাল নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পোগোজ স্কুলের জায়গা দখল করলেও তা নিজের জমি বলে দাবি করেছেন তিনি। এই কাজে তাকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা মানা হয়নি। নেয়া হয়নি রাজউকের অনুমতিও। মানা হয়নি ভবন নির্মাণের নিয়মকানুনও। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। পুরোনো দেয়ালের ওপরেই ইটের গাঁথুনি তোলা হয়েছে দ্বিতল এই ভবনের দেয়াল। দ্রুত সময়ে তুলে ফেলা হয়েছে বহুতল ভবন। কাজ হয়েছে রাতের অন্ধকারে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেনি পোগোজ স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষও।

অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলটির একটি চক্র মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দখলদারদের এই বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেছে।

বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এতদিন ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চলেছে। অথচ স্কুলের কেউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। শুরুর দিকে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যেত। এখানে বড় আকারের আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারা কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে।’

এদিকে পুরোনো ভবনটির একটি অংশ ভেঙে ফেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা শারমিন বৃষ্টি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দখলদাররা বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেলছে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা জানে না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা দুলাল নামের ওই ব্যক্তিকে বারবার বলার পরেও তিনি আমাদের কথা শোনেননি। দাবি করেছেন এটা তার নিজের জমি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।’

দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও এতদিন কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ভুল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত না জানানো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করব। প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবীর চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনার পর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কেন তারা আমাদের আগে জানায়নি সেটিও জানতে চেয়েছি। এখন এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শতবর্ষী পুরোনো একটি ঐতিহাসিক ভবন তারা ভেঙেছে এর জন্যও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জবির প্রক্টরিয়াল বডিতে বড় রদবদল
জবির দুই অনুষদে নতুন ডিন
শিক্ষার্থীদের মেধা-অবৈতনিক বৃত্তি দেবে জবি
জবি শিক্ষার্থী খাদিজাকে এক মামলায় অব্যাহতি
পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা সরানোর দাবি জবি উপাচার্যের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League accused the police of taking and selling shops for free
বইমেলা

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ
বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, হাত খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানা পুলিশ দুইটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তিকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো ছাত্রলীগ, কালী মন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও শাহবাগ থানা পুলিশ। এর মধ্যে শুধু শাহবাগ থানা পুলিশই দুটি দোকান বরাদ্দ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয় মেহেদী হাসানের নামে। কালী মন্দিরকে দেয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালী মন্দিরের নামে। ডিএমপিকে দেয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে। আর শাহবাগ থানাকে দেয়া ২০ ও ২১ নম্বর দোকানটি শাহবাগ থানার নামেই বরাদ্দ হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল নামের একজন। তিনি দোকানটি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে। আর শাহবাগ থানা পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলো পরিচালনা করছেন বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দোকান কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহিন ও সাব্বির টাকার অঙ্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন।

এত টাকায় দোকান কিনে নেয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত খাবারের স্টলগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিই, তবে শাহবাগ থানা পুলিশের স্টল দুইটা তারা আমাদের সাথে কথা বলে নিজেদের মতো করে বাড়িয়ে নিয়েছে।’

হাসান কবীর বলেন, ‘অন্য স্টলগুলো থেকে পুলিশের স্টল দুইটা একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছে, এটা স্বীকার করতে আমাদের অসুবিধা নেই। বাস্তবতাও আসলে তাই। তারা প্রতিবার একটু অন্যরকমভাবেই এসব স্টল নেয়।’

শাহবাগ থানা পুলিশকে বিনা মূল্যে দুইটি খাবার দোকান বরাদ্দের বিষয়ে ড. কবীর বলেন, “প্রতিবার তাদের একটা দেয়া হয়। এবার খরচ বেশি হচ্ছে বলে দুইটা নিয়েছে, তবে তাদের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই।

“তারা (পুলিশ) আমাদের বলেছে, ‘মেলায় পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং সেখানে আসা পুলিশ অফিসারদের আপ্যায়নের জন্য তারা তেমন কোনো বরাদ্দ পান না। আর এবার তাদের খরচ নাকি একটু বেড়ে গেছে। তাই আমরা যেন তাদের দুইটা খাবারের স্টল দিই।’ এ জন্য আমরা দিয়েছি। এরপর সেটা বিক্রি করে যেই টাকা পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে তাদের এসব খরচ চালানো হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তারা।”

মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাকি সংস্থাগুলোও যদি এভাবে বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ চায় তাদের দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বা অন্য সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফোর্স তো বেশি থাকে পুলিশের। তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। তাই তাদের এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

‘বাকিদেরও যদি এই সুবিধা দিতে হয়, তাহলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না। সবাইকে দিতে দিতেই তো সব শেষ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নিইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

‘শয়ন ও সাদ্দাম জানেন’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাব রক্ষণ ও বাজেট উপবিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে এই দোকান দেয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে; সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেয়া হয়েছিল। এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেয়া হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি বলে আমাকেও একটা স্টল দাও, তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুইজনের সাথেই কথা বলে শুধুমাত্র একটা দোকান দেয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, ‘দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তো তাদেরকে সমীহ করতে হবে না? তাদেরকে আমরা অনেক কিছু দিইনি।

‘সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্টল দিয়েছি। না হয় অনেক গ্রুপকে দিতে হতো।’

হাসান কবীর বলেন, “তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন, আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব।’ তাদেরকে এও বলেছি, ‘আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে।’ তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘কেউই আসবে না। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’”

এগুলো (বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা) ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ঠিক না। এগুলো ভুল।’

ছাত্রলীগের ভাষ্য

খাবারের স্টল নেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল ‘মাতৃভূমি প্রকাশনা’ স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায়, এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সাথে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নিইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না, তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবির শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

ছাত্রলীগের নামে খাবারের স্টল বরাদ্দ নেয়া বিব্রত করছে কি না জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘অবশ্যই এটি আমাকে বিব্রত করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবে।

‘সেখানে আমরা দোকানদারি করতে যাব কেন? এটি তো আমাদের কাজ না। যারা এসব করছে, তারা সংগঠনের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ে জড়িত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতাহাতি
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ziaul Haque returned with one medal joy in the whole village

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হয় জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য জিয়াউল হকের হাতে বই তুলে দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হলো জিয়াউল হকের? তিনিই বা কী বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে- এ নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই স্থানীয়দের।

এবারের একুশে ফ্রেব্রুয়ারি, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের দিনটি ভোলাহাট উপজেলার মানুষের জন্য অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছে। কেননা তাদের উপজেলার জিয়াউল হক পেয়েছেন রাষ্ট্রের সম্মানজনক একুশে পদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সে প্রদক গ্রহণের পর গ্রামে ফিরেছেন জিয়াউল হক। এ নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে বইছে উৎসবের আবহ।

সকাল থেকেই জিয়াউল হকের বাড়িতে তার ছোট্ট পাঠাগারে মানুষের ভিড়। সকালের প্রভাত ফেরিও তার সঙ্গে করেন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে জিয়াউল হকের সঙ্গে বেশ কিছুসময় ধরে কথপোকথন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই বুধবার জিয়াউলের বাড়িতে অভিনন্দন জানাতে আসা অনেকেরই আগ্রহ ছিল- কী কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, কী বলছিলেন সাধাসিধে জিয়াউল হক?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পাঠাগারের স্থায়ী ভবন ও বই চেয়েছিলাম। সেই সঙ্গে আমার এলাকার স্কুলটি সরকারিকরণের বিষয়ে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী আমার কথা শুনেছেন ও দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন।’

অনেকে দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা ছিল সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হকের। অনেকের কাছেই বলেছেন সেই আকাঙ্ক্ষার কথা। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায়, খুশি ৯১ বছর বয়সী এ গুণী। বলেন, ‘এখন মরেও শান্তি পাবো।’

জিয়াউল হক পাঠাগারের বই পড়ে আজ অনেকেই শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। জিয়াউল হকের একুশের পদক প্রাপ্তির পর, তারও জানিয়েছেন জিয়াউল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নিজেদের আনন্দের অনুভূতি।

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের জন্য কিছুই চাননি সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক হক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাধাসিধে মানুষটির আবদার ছিল- তার পাঠাগারের উন্নয়ন ও গ্রামে তারই সহযোগিতায় গড়ে ওঠা স্কুলটি সরকারি করা।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যেই জিয়াউল হকের সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ায় স্থানীয়রাও খুশি।

এদিকে দুপুরে জিয়াউল হককে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান ও পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান।

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিয়াউল হকের পাঠাগারের জন্য বই উপহার দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সকল বিষয় অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বেচি দই কিনি বই, অতঃপর একুশে পদক
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহসহ একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ জন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A day of respect and a year of contempt
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা

এক দিন শ্রদ্ধা, বছরজুড়ে অবজ্ঞা একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন ব্রাহ্মণাবড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারটির অবজ্ঞা। ছবি: নিউজবাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে। আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন স্থানীয় প্রশাসন শহীদ মিনার পরিষ্কারের পাশাপাশি সজ্জার কাজ করে, তবে এ দিন বাদে বছর ধরে চলে শহীদ মিনারের অবজ্ঞা।

জুতা পায়ে এ শহীদ মিনারের বেদিতে বসে আড্ডা যেন স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি রাতে শহীদ মিনারে মাদকসেবীদের আড্ডা নিত্যকার ঘটনা। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জুতা পায়ে মিনারে বক্তব্য দেয়ার অনেক অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে গত শনিবার, রোববার ও সোমবার একই চিত্র দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা এ শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসেই শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিতে থাকেন। শুধু শিক্ষার্থী নন, শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত স্থানে থাকায় বাইরের অনেকে বসে থাকেন এর ওপর।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া ওমর খান বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারের বেদিতে বসে অনেক মানুষ আড্ডা দেন। এটি প্রতিদিনের চিত্র। তা ছাড়া সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই জুতা পরে বেদিতে বসে থাকে।

‘আমি নিজেও অনেকবার অনকেজনকে বলেছি জুতা খোলার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

শহীদ মিনার চত্বরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মারামারি হয়। সন্ধ্যা নামার পরপরই শহীদ মিনারে বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় কিছু যুবককে। তা ছাড়া জুতা পায়ে দিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠা নিত্যকার ঘটনা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহীদ মিনারের অবজ্ঞার ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে যান না। কারণ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা ছাত্র রাজনীতি করেন অথবা বড় কোনো রাজনীতিকের পৃষ্ঠপোষকতায় চলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউই নেই। বছরের একটি দিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, সম্মান জানানো হয়।

‘এই দিন পার হলেই ভুলে যায় এটি যে একটু মর্যাদাপূর্ণ স্থান। শহীদ মিনারের এমন অমর্যাদার বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থাই নেয় না।’

জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠার বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, ‘জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন না করা এবং শহীদদের মর্যাদার ব্যাপারে অজ্ঞতার পরিচয় দেয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হচ্ছে শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ মিনার নির্মিত, তবে বর্তমানে দেখা যায় শহীদ মিনারকে শুধু এক দিনের জন্য মর্যাদা দেয়া হয়। আর সেটি হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।

‘তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াচ্ছে, এক দিনে শ্রদ্ধা, অন্য দিনগুলোতে অবজ্ঞা। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষও জুতা পায়ে দিয়ে উঠে আড্ডা দিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা রীতিমতো অপরাধ।’

‘ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি মো. আবু বক্কর বলেন, ‘শহীদ মিনার আমাদের একটা বেদনা ও আবেগের জায়গা। একাধিকবার সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম করেছি, তবে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

‘এর ওপরে বসেই সিগারেট খায় কতিপয় যুবক। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আমি দাবি জানাচ্ছি।’

ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে শহীদ দিবসের মর্যাদা সুরক্ষিত নয়। কারণ একুশে ফেব্রুয়ারিকে একটি মাত্র তারিখ হিসেবে বিবেচনা করে শহীদ দিবস পালন করছি। শহীদ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য অনেকের মাঝেই নেই।

‘এর বড় প্রমাণ শহীদ মিনার। দিবস আসলেই তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মগ্ন হন সংশ্লিষ্টরা। বাকি ৩৬৪ দিনই শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সবাই আড্ডা দেয় এবং শহীদ মিনারটি নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকে। শহীদদের আত্মত্যাগ মনে হয় আমরা ভুলতে বসেছি। শহীদদের চেতনাকে সকলের মাঝে লালন করতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.জেড.এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার লোকজন প্রতিনিয়তই শহীদ মিনারটি ঝাড়ু দেয় এবং পরিষ্কার করে থাকে, তবে মিনারটির চারপাশে কোনো সুনির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় এটি উন্মুক্ত।

‘আর মিনারটি দেখভালের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পৌরসভার কাছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মিনারের চারপাশে একটি বেষ্টনী তৈরি করে দিতে পারলে অমার্যাদার বিষয়টি আর উঠে আসবে না। এতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় থাকবে।’

শহীদ মিনার চত্বরে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ‘এখানে আমাদের টহল টিম নিয়মিত কাজ করে। এর পরও শহীদ মিনারে কোনো বিশৃঙ্খলা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে শহীদ মিনারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে। শহীদ মিনারের বেদিসহ চারপাশ রক্ষণাবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে না ওঠার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’

আরও পড়ুন:
নামাজে দাঁড়ানো নিয়ে মারধর, যুবকের মৃত্যু
ঐতিহ্য হারাচ্ছে নাসিরনগরের শুঁটকি মেলা
নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার মামলায় ১৩ জনের কারাদণ্ড
ইসলামি বক্তার জিহ্বা কাটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
মানসিক চাপে আত্মগোপনে ছিলাম: আসিফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hospital ambulance wrapped in polythene for eight months

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স

আট মাস ধরে পলিথিনবন্দি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অ্যাম্বুলেন্সটি টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো রয়েছে।

এতে উপজেলার মানুষের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সোমবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, পুরাতন বিল্ডিংয়ের পাশে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে রয়েছে। চারটি চাকার ভেতরে দুইটি চাকা নেই। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশটি পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একেবারে চলাচলের জন্য অযোগ্য হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ এটি পলিথিন দিয়ে জড়িয়ে রেখেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে সেখান থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার কারণে পুরো অ্যাম্বুলেন্সটি একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ওখান থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখে।

কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স। তার মধ্যে নতুনটি বর্তমানে অ্যাকসিডেন্ট করে অকেজো হয়ে আছে। আর একটি পুরাতন, তা দিয়েই রোগী পরিবহন করা হচ্ছে, তবে সেটির সার্ভিস ভালো না হওয়ার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

তাই অনেক সময় বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। এতে খরচও বেশি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একেএম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্য নতুনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকেজো হয়ে গেছে। আপাতত আমরা পুরাতনটা মেরামত করে রোগী পরিবহন করছি, কিন্তু সেটির সার্ভিসটা সন্তোষজনক নয়। আমরা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এখন কতদিনে তা পাব এটি জানা নেই।’

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রাম পদ রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করতে অনেক টাকা লাগবে। আমি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়েছি, না হলে নতুন একটা অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও আবেদন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্যই একটা ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
জবিতে অ্যাম্বুলেন্স একটিই, ডাকলে না পাওয়ার অভিযোগ
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স
অনুদানের অ্যাম্বুলেন্সে ফেনসিডিল চালান
‘দুর্গম এলাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন’

মন্তব্য

p
উপরে