× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Tourist drought in Moulvibazar during the peak season
google_news print-icon

ভরা মৌসুমে পর্যটক খরা মৌলভীবাজারে

ভরা-মৌসুমে-পর্যটক-খরা-মৌলভীবাজারে
মৌলভীবাজারের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ক্যামেলিয়া লেক, অরণ্য ইকো কটেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। কোলাজ: নিউজবাংলা
পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুরো জেলার পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট রয়েছে। সবগুলোই এখন ফাঁকা। প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে।’

চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে ভরা মৌসুমেও দেখা নেই পর্যটকদের। গত মাসের মধ্যবর্তী সময়েও জেলার যেসব পর্যটন কেন্দ্র সকাল-সন্ধ্যা লোকারণ্য ছিল, সেগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা। অলস সময় পার করছেন দেড় শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউস, মোটেল, রিসোর্টের কর্মীরা। এতে মৌসুমের শুরুতেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

টানা অবরোধ, হরতাল ও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় এমন পর্যটক খরা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটক না আসায় দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমেদ।

সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার জেলার বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগে নেই পর্যটক। দর্শনীয় স্থানগুলোতে নেই দেশি কিংবা বিদেশি পর্যটক।

জেলার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর স্মৃতিসৌধ, মণিপুরী পাড়া, হামহাম জলপ্রপাত, ছয়সিঁড়ি দীঘি, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, পদ্মছড়া লেক, বামবুতল লেক, হরিনারায়ণ দীঘি, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সবুজে আচ্ছাদিত চা বাগান, রাবার বাগান, বধ্যভূমি একাত্তর চত্বর, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, মুন ব্যারেজ।

সম্প্রতি এসব জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটক প্রায় শূন্য। অথচ মাসখানেক আগে চিত্র ছিল উল্টো।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরের বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মৌলভীবাজারের দেড় শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউসে থাকত শতভাগ অগ্রিম বুকিং। চলতি বছরও অগ্রিম বুকিং হয়েছিল, তবে অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ থেকে অবরোধ-হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে পর্যটন শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

শ্রীমঙ্গলের হোটেল প্যারাডাইজের স্বত্বাধিকারী হাজী আবুজার বাবলা বলেন, ‘হরতাল ও অবরোধের কারণে ট্যুরিস্ট মৌসুমের তুলনায় ১০ ভাগও নাই। অথচ এখন নভেম্বর মাস পর্যটনের ভরা মৌসুম। প্রতি বছর এ সময়ে পর্যটন স্পটগুলোতে থাকত উপচেপড়া ভিড়।

‘এখন ক্ষতির মুখে আমরা। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠব, বুঝতে পারছি না। কর্মচারী ও বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংকের লোন, বাসা বাড়া—সবকিছু দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার মনে হয় না এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারব। এভাবে যদি চলে তাহলে হোটেল রিসোর্ট গুটিয়ে নিতে হবে। আমরা দ্রুত দেশের এমন সংকটের সামাধান চাই।’

কমলগঞ্জ অরণ্য বিলাস ইকো রিসোর্টের মালিক এহসান কবির সবুজ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ধকল গেছে। করোনাভাইরাস, বন্যাসহ নানা কারণে পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার আশায় ছিলাম অতীতের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব, কিন্তু দেশের যে পরিস্থিতি, এ অবস্থায় পর্যটক বলতেই নাই।

‘ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারব কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কর্মচারী ছাঁটাই করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।’

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘লাউয়াছড়ায় ডাব বিক্রি করে সংসার চলে। এক মাস ধরে এ উদ্যানে কোনো ট্যুরিস্ট নাই। বেচাবিক্রি নাই। দুরাবস্থায় আছি। সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।’

কসমেটিক ও চা পাতা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। হরতাল ও অবরোধের কারণে পর্যটক নাই। সারা বছর আমরা অপেক্ষায় থাকি এই সময়ে পর্যটকের আনাগোনা বেশি থাকে, কিন্তু পর্যটকশূন্য থাকায় সংসার ও পরিবারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।’

এ বিষয়ে পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুরো জেলার পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট রয়েছে। সবগুলোই এখন ফাঁকা। প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে।

‘এ অবস্থা চলমান থাকলে কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ছাঁটাই শুরু করেছে। অনেকের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই সমস্যা থাকে, তাহলে ধ্বংসের মুখে পড়বে হোটেল রিসোর্ট।’

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বরত ব্যবস্থাপক শাহিন আহমেদ বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এই সময়ে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্ট আসতেন। তখন টিকিট বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব আয় হতো ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

‘এখন গড়ে ৮০ থেকে ১২০ জন পর্যটক আসছেন। সরকারের রাজস্ব আসছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা।’

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক দেখা যেত। বর্তমানে হরতাল ও অবরোধের কারণে দেখা নাই।

‘মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে না, যানবাহন চলে না। তাই ভ্রমণে আসে না। প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো, তা এখন হচ্ছে না।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ মৌলভীবাজার জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবাণ সিনহা বলেন, ‘নানা কারণে তুলনামূলকভাবে এবার পর্যটক অনেক কম, তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে সোচ্চার। পর্যটকরা যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয়, সে লক্ষ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

কমলগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবতী বলেন, ‘আমার থানা এলাকায় অনেক পর্যটন স্পট। আমরা সবসময় ট্যুরিস্টদের সেবা প্রদান করে থাকি। কারও কোনো সমস্যা কখনও যেন না হয়, সে খেয়াল আমাদের সবসময় থাকে। বর্তমানে বিএনপি-জামায়াতের দেয়া হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

‘সেই ক্ষতির অংশ পড়েছে পর্যটন শিল্পের ওপর। এই সময়ে হাজার হাজার পর্যটক দেখা যেত এখানে। বর্তমানে নাই বললেই চলে। আমরা চাই এসব বন্ধ হোক; পর্যটন শিল্প রক্ষা হোক।’

আরও পড়ুন:
শ্রীমঙ্গলে শতবর্ষী পোস্ট অফিস
বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা উঠল, তবে রোয়াংছড়ি নয়
বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় জরিমানা
শাহপরীর দ্বীপে পর্যটনের নতুন দুয়ার
পর্যটন স্বর্গরাজ্য ইউনান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
34 Diplomats at Rangkut Buddhist Monastery

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক বুধবার রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে ৩৪ কূটনীতিক। ছবি: নিউজবাংলা
বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনকালে কক্সবাজার অঞ্চলের বৌদ্ধ ইতিহাস, স্থাপনা এবং সমুদ্র সৈকত- সব মিলিয়ে অপার পর্যটন সম্ভাবনাকে তোলে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আশ্বাস দেন কূটনীতিকরা।

কক্সবাজারের রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সফরে আসা ৩৪ কূটনীতিক।

বুধবার সকালে রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে এসে পৌঁছালে কূটনীতিকদের স্বাগত জানান বিহারাধক্ষ্য জ্যোতিসেন মহাথেরো।

তিনি জানান, এ সময় দুই হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো মহামতি বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থান দেখে মুগ্ধ হন অতিথিরা। সেইসঙ্গে সম্রাট অশোক, চীনা পর্যটক হিউয়েন সাংয়ের আবক্ষ মূর্তিসহ বৌদ্ধ পুরাকীর্তি দেখে অভিভূত হন। অতিথিরা বিহারের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে কক্সবাজার অঞ্চলের বৌদ্ধ ইতিহাস, স্থাপনা এবং সমুদ্র সৈকত- সব মিলিয়ে অপার পর্যটন সম্ভাবনাকে তোলে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আশ্বাস দেন কূটনীতিকরা।

কূটনীতিকদের আগমনে বিহারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।

রাংকুট বৌদ্ধ বিহারে ৩৪ কূটনীতিক

পরে তারা সমুদ্র সৈকতের লাবনীর ট্যুরিস্ট মার্কেটে যান। সেখানে ঝিনুকের দোকানসহ অন্যান্য হস্তশিল্প পণ্যের দোকান পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে ২৪ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানসহ ৩৪ জন কূটনীতিক রেলে চড়ে কক্সবাজার যান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাম্বাসেডরস আউট রিচ’ প্রোগ্রামের আওতায় যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, কসোভো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ভ্যাটিকান, ভুটান, স্পেন, আর্জেন্টিনা, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ফ্রান্সের মিশন প্রধানসহ এফএও, আইইউটি ও একেডিএন-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকরা দুদিনের সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The names of two points of Coxs Bazar beach are changing

বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের দুই পয়েন্টের নাম

বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের দুই পয়েন্টের নাম সুগন্ধা পয়েন্টে সূর্যাস্তের দৃশ্য। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
সুগন্ধা পয়েন্টকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝখানের খালি জায়গাটি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝখানের খালি জায়গাটি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কমান্ডের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে একাদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বীচকে ‘বঙ্গবন্ধু বীচ’ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সুগন্ধা বীচ ও কলাতলী বিচের মাঝখানের খালি জায়গা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বীচ’ নামকরণ করা হলো। একইসঙ্গে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হলো।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এখানে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এটি বাস্তবায়নে আদেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারগামী পর্যটকদের জন্য ‘বিশেষ ট্রেন’
সৈকতে ছিনতাই স্পটের ৫ ঝুপড়ি উচ্ছেদ
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে মাঠে র‍্যাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Travel ban on Saint Martin from Saturday

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে শনিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে শনিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ফাইল ছবি
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।’

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান উত্তেজনার কারণে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করা যাবে না।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।’

এর আগে সকালে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং তৎসংলগ্ন বিওপি পরিদর্শনকালে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুল জামান সিদ্দিকী ওই রুটে ভ্রমণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন:
হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে আরও এক বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে
রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ আর নয়: কাদের
সীমান্তে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বিজিবি: মহাপরিচালক
মিয়ানমার সীমান্তে যাচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক
তুমব্রু সীমান্তে আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Countries where Bangladeshis can visit without visa

বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন যেসব দেশে

বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন যেসব দেশে
হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী ভিসা ছাড়া, অন-অ্যারাইভাল এবং ইটিএ সব মিলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মোট ৪২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবে। তবে পাসপোর্টের মেয়াদ ন্যূনপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।

শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। সে হিসাবে চলতি ২০২৪ সালের শুরুতে গত বছরের তুলনায় অবস্থানটা এক ধাপ কমেছে। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক-স্বীকৃত পাসপোর্ট রেটিং, হেনলি সূচকে বাংলাদেশের এমন অবস্থান জানানো হয়েছে।

মূলত আগাম ভিসা ছাড়াই পাসপোর্টধারীরা কতগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে হেনলি সূচক প্রস্তুত করা হয়। ১০৫টি দেশে ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়।

বিদেশ ভ্রমণে ইচ্ছুক অধিকাংশ বাংলাদেশির ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা সংগ্রহ করাটা বড় ঝক্কির ব্যাপার। ভিসা পাওয়ার এই ধকল সামলাতে গিয়ে অনেকে মাঝপথেই দেশের বাইরে ভ্রমণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে এসব ঝামেলা নিমেষে উধাও হয়ে যায়, যখন সেই ভিসা করার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না।

উদ্ভূত অবস্থায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তাহলে বাংলাদেশি পাসপোর্টে আগাম ভিসা ছাড়া দুনিয়ার কোন কোন দেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কোন দেশগুলোতে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেতে পারবেন।

ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে যেসব দেশে

বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় কার্যনীতি হচ্ছে ভিসা-মুক্ত প্রবেশ। যেখানে বিদেশে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকের আগে থেকে কোনও রকম ভিসা-প্রাপ্তির প্রয়োজন পড়ে না। এই নিয়মে ভ্রমণরতদের ভিসা ফি দিয়ে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।

ঘুরে বেড়ানো বা ব্যবসা; যে কোনও উদ্দেশ্যেই এই সুবিধা নেয়া যায়। তবে এভাবে গন্তব্যের দেশটিতে অবস্থান করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যা বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ২২টি দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন। এই দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশের ভেতরে থেকে ভিসাপ্রাপ্তির জন্য অগ্রিম আবেদন করতে হবে না। এমনকি বিমানবন্দর পেরিয়ে সেই দেশগুলোতে প্রবেশের সময়ও কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

এই অভিবাসন নীতিতে ভ্রমণকারীকে গন্তব্যের দেশে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে ভিসা দেয়া হয়। এই ভিসা প্রদানের জায়গাটি হতে পারে সমুদ্র বন্দর, স্থল চেকপয়েন্ট অথবা বিমানবন্দর। এই প্রবেশাধিকার প্রাপ্তির জন্য তাদেরকে যাত্রা শুরুর আগে নিজেদের দেশে থাকা অবস্থায় কোনও আবেদন করতে হয় না।

অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া দেশগুলো হলো- বাহামাস, বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, কিরিবাতি, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নিউয়ে, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, গাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং ভানুয়াতু।

মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা এবং ভানুয়াতু গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু রেখেছিল। আর ওশেনিয়া মহাদেশের দ্বীপ দেশ কিরিবাতি এ বছর এই তালিকায় নতুন সংযোজন।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ৬ মাস মেয়াদে ফ্রি ভিসায় থাকা যাবে বার্বাডোস, ডোমিনিকা, জ্যামাইকা এবং মন্টসেরাটে।

ফিজিতে ভ্রমণ করার জন্য বরাদ্দ রয়েছে সর্বোচ্চ ৪ মাস। ৯০ দিনের মেয়াদে অবস্থান করা যাবে কিরিবাতি, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং লেসোথোতে। আর বাহামা, গ্রেনাডা ও হাইতিতে অবস্থানের সময়সীমা তিন মাস।

এছাড়া কুক আইল্যান্ডসে ফ্রি ভিসার মেয়াদ ৩১ দিন; গাম্বিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, রুয়ান্ডা, ভানুয়াতু ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনসে ৩০ দিন; ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ৩০ থেকে ৯০ দিন এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে কম মাত্র ১৫ দিন অবস্থান করা যাবে।

বিনা ফি-তে অনঅ্যারাইভাল ভিসা

কোনও কোনও দেশে প্রবেশের সময় অন-অ্যারাইভাল ভিসার জন্য ফি দিতে হয়। হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে ১৮টি দেশে বিনা ফিতে প্রবেশ করতে পারবে।

এই দেশগুলো হলো- বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, নেপাল, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেস্তে, টোগো ও টুভালু।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় অর্থাৎ ৯০ দিন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে গিনি-বিসাউ, নেপাল ও বলিভিয়ায়। সামোয়া ও সেশেলসে থাকা যাবে ৬০ দিন। কমোরো আইল্যান্ডসে অবস্থানের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ৪৫ দিন। জিবুতি ও মৌরিতানিয়ায় থাকা যাবে ৩১ দিন।

এছাড়া মালদ্বীপ, কেপ ভার্দে, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, তিমুর-লেস্তে এবং কম্বোডিয়া বেড়ানোর জন্য পাওয়া যাবে ৩০ দিন, যেখানে বুরুন্ডি এবং টুভালুর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এক মাসের কথা। আর আফ্রিকার দেশ টোগোতে অবস্থানের জন্য পাওয়া যাবে মাত্র ১৫ দিন।

ইটিএ প্রয়োজন হবে যেসব দেশে

ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) মূলত ইলেক্ট্রনিকভাবে তথা অনলাইনে একজন ভ্রমণকারীর পাসপোর্টের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এক কথায় এটিও একটি ভিসা ফ্রি প্রবেশাধিকার। ডিজিটাল অনুমতিটি দেশের ভেতরে থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে নিবন্ধন করার মাধ্যমে নিয়ে নেয়া যায়।

এমনকি এর জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে নিজ দেশের অভিবাসন সেন্টারে উপস্থিত হওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যে দেশে ইটিএ কার্যকর আছে সে দেশের অভিবাসন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইগয়ে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

চলতি বছরে দুটি দেশে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইটিএ প্রয়োজন হবে- শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়া।

আগে শুধু শ্রীলঙ্কা থাকলেও এ বছরই ইটিএ সেবা নিয়ে নতুন সংযোজন হলো কেনিয়া। এখন থেকে এই ডিজিটাল ছাড়পত্রের মাধ্যমে সব বিদেশি নাগরিক ৯০ দিনের জন্য কেনিয়াতে প্রবেশ করতে পারবে।

আর শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এই অনুমতির সময়সীমা প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের তারিখ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত। এই সিঙ্গেল এন্ট্রির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় ডাবল এন্ট্রির জন্যও ইটিএ রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকরা ইটিএ ইস্যু করার তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে দু’বার শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করতে পারবেন।

অনুমোদন একবার হয়ে যাওয়ার পর ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের সময় যে কোনো চেকপয়েন্ট অনায়াসেই অতিক্রম করতে পারবেন।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী ভিসা ছাড়া, অন-অ্যারাইভাল এবং ইটিএ সব মিলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মোট ৪২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবে। তবে পাসপোর্টের মেয়াদ ন্যূনপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। সূত্র: ইউএনবি

আরও পড়ুন:
পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, ৯৬তম বাংলাদেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh is North Koreas partner in passport index

পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ

পাসপোর্ট সূচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গী বাংলাদেশ প্রতীকী ছবি
২০২৪ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৪২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে গত বছরের তুলনায় এক ধাপ কমেছে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক-স্বীকৃত পাসপোর্ট রেটিং, হেনলি সূচকে ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ৯৭তম।

একই সূচক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থান রয়েছে উত্তর কোরিয়া। তাদের অবস্থানও ৯৭তম।

মূলত আগাম ভিসা ছাড়াই পাসপোর্টধারীরা কতগুলো দেশে প্রবেশ করতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে হেনলি সূচক প্রস্তুত করা হয়। এখানে ১০৫টি দেশে ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়।

২০২৪ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৪২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় দেশ নেপালের অবস্থান ৯৮তম, পাকিস্তান রয়েছে ১০১-তে এবং আফগানিস্তান ১০৪-এ।

মালদ্বীপের অবস্থান বেশ উপরে। সূচকে তারা রয়েছে ৫৮তম স্থানে। ৯৪টি দেশে তাদের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে দেশটির পাসপোর্টধারীদের, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অধিকারী করেছে। এ ছাড়া সূচকে ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার পাসপোর্টের অবস্থান যথাক্রমে ৮০, ৮৭ এবং ৯৬তম।

এদিকে ২০২৪ সালে এসে ছয়টি দেশের নাগরিকরা ১৯৪টি দেশে ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এ দেশগুলো হচ্ছে- ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও স্পেন।

অন্যদিকে তালিকার তলানির পাঁচটি দেশ হচ্ছে- ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন:
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, ৯৬তম বাংলাদেশ
৭ দিনে পাসপোর্ট পেতে নীতিমালা চেয়ে রিট
পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির যে চিত্র তুলে ধরলেন আইনজীবী
পাসপোর্ট করতে গিয়ে হেনস্তা, বাদ যাননি ম্যাজিস্ট্রেটও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 tourists were robbed by the tourist police office

ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের পাশেই ছিনতাইকারীর কবলে ৫ পর্যটক

ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের পাশেই ছিনতাইকারীর কবলে ৫ পর্যটক কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে শুক্রবার সকালে সংঘটিত ছিনতাইয়ের চিত্র ধরা পড়ে ভিডিও ফুটেজে। ছবি: সংগৃহীত
ছিনতাইয়ের শিকার আসিফ বলেন, ‘সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যাওয়ার পর ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আমাদের ঘিরে ধরে সঙ্গে থাকা ৫টি মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়। পরপরই ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানালেও তারা আসে প্রায় এক ঘণ্টা পর। অথচ পাশেই তাদের অফিস! আর ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।’

কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের দুশ’ গজের মধ্যে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্তসমস্ত শহরে একেবারে দিনের আলোয় পাঁচ পর্যটকের কাছে থাকা সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।

শুক্রবার সকালে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে আটক বা চিহ্নিত করার তথ্য জানাতে পারেনি ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ছিনতাইয়ের শিকার পর্যটকদের সবাই কুমিল্লা থেকে এসেছেন। তারা হলেন- আসিফ, সায়মন, সুমন, হৃদয় ও ইয়াছিন।

স্থানীয় হকার ব্যবসায়ী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচ পর্যটক সকাল ৬টার দিকে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আসেন। সেখানে ছাতা মার্কেট এলাকায় ছয়জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তাদের ঘিরে ধরে। ছিনতাইকারীদের হাতে ধারালো ছুরি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। তারা পাঁচজনের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন সেটসহ সঙ্গে থাকা সবকিছু লুটে নেয়।

ছিনতাইয়ের শিকার আসিফ বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে আজ (শুক্রবার) সকাল ৬টা ৫৪ মিনিটে কক্সবাজারে আসি। বাস থেকে নামার পর সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যাই। সে সময় ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আমাদের ঘিরে ধরে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দাবি করে। না দেয়ায় আমাদের আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ৫টি ফোন ও টাকাপয়সা নিয়ে যায়।

‘ঘটনার পর পরই ট্যুরিস্ট পুলিশের নম্বরে কল করি। কিন্তু তারা আসে প্রায় এক ঘণ্টা পর। অথচ পাশেই ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিস! আর ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।’

ছাতা মার্কেটের দোকানি মেহেদী হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানের সিসিটিভিতে বিষয়টি ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটেজ দিতে মানা করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
তারা ছুটির দিনের ছিনতাইকারী
সাভারে যাত্রীবেশে ছিনতাইচক্রের প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৫
সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
যাত্রী সেজে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইকালে চার নারী গ্রেপ্তার
ডিবি পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই, প্রবাসীসহ ৩ জন ছুরিকাহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sherpur is crowded with tourists during the peak season

ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে

ভরা মৌসুমে পর্যটকখরা শেরপুরে এবার ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকেও পর্যটকশূন্য গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ছবি: নিউজবাংলা
অবকাশের গেটের ইজারাদার রানা বলেন, ‘৬০ লাখ টাকায় গেট ইজারা নিছি। এ টাকা মনে হয় এবার লস যাবে।’

প্রতি বছর শীতের আগমনের সঙ্গে পর্যটকের আনাগোনাও বাড়তে থাকে শেরপুরের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ ও মধুটিলা ইকোপার্কে, কিন্তু প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার এসব জায়গায় পর্যটকখরা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বছরের এ সময়ে দর্শনার্থীরা এসে থাকেন শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করতে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণচাঞ্চল্য থাকে এসব জায়গায়।

ডিসেম্বরের শুরু থেকে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় মানুষের ঢল নামে গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। আর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায়, কিন্তু এ বছর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকেও পর্যটকশূন্য গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

বিপাকে ব্যবসায়ীরা

দুটি পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন রাইড প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছন অন্তত ৩০ ব্যবসায়ী, যার পুরো টাকা উঠিয়ে লাভের মুখ দেখেন তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসল টাকাই উঠবে না বলে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতের বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক ক্ষুদ্র‍ ব্যবসায়ী কাটাচ্ছেন অলস সময়; ভুগছেন হতাশায়।

অবকাশে কাপড় ব্যবসা করা রহমত বলেন, ‘পর্যটনে তো লোক নাই, বেচাবিক্রি নাই। ডিসেম্বর যাইতেছে। এই সময় ব্যবসার সময়, লাভবানের সময়।

‘আমরা অলসতার মধ্যে পড়ে গেছি। পর্যটকরা আসতাছে না। লোকজন একদমই কম।’

আরেক ব্যবসায়ী হারুন বলেন, ‘আমগোরে দিনই চলতাছে না। ধারদেনা কইরে মালটাল তুলছি। বেচাকেনাই নাই। আমরা কেমনে চলমু?’

ইজারাদার ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। এই সময় স্পটে অনেক দর্শনার্থী আসে। হরতাল-অবরোধের কারণে দর্শনার্থী নাই বললেই চলে। তাই এবার আমরা ইজারার টাকা তুলতে পারব না।’

অবকাশের গেটের ইজারাদার রানা বলেন, ‘৬০ লাখ টাকায় গেট ইজারা নিছি। এ টাকা মনে হয় এবার লস যাবে।

‘হরতাল-অবরোধ কেটে গেলে আসল তুলতে পারতাম। হরতাল-অবরোধের কারণে লোকজন আসছে না।’

নিষ্প্রাণ পর্যটন কেন্দ্রগুলো

দর্শনার্থী না থাকায় প্রাণের উচ্ছ্বাস বিলীন হয়ে গেছে পর্যটন কেন্দ্রে। এ নিয়ে জামালপুর থেকে আসা দর্শনার্থী সাদিয়া বলেন, ‘গারো পাহাড়ের পাদদেশের এ গজনী অঞ্চলটা আসলেই খুবই সুন্দর, চমৎকার একটা পরিবেশ। দেখতে চমৎকার।

‘এর আগে আসছিলাম; অনেক লোকজন ছিল। এবার লোকজন নাই। এ জন্য একটু খারাপ লাগছে।’

শেরপুর শহর থেকে আসা জিহাদ বলেন, ‘আমি পাঁচ-ছয় বছর আগে আসছিলাম আরকি। তখন এইখানে অনেক লোকজন ছিল। তখন খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু এ বছর এসেছি; লোকজন নাই। তাই ভালো লাগতাছে না। আসলে পিকনিকে অনেক লোকজন ছাড়া মজা লাগে না।’

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে আসা শিহাব বলেন, ‘এই জায়গাটা আসলেও খুবই সুন্দর। এই জায়গাটা আমার খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু লোকজন না থাকায় আনন্দ কম হয়েছে।’

আশায় ব্যবসায়ীরা

পর্যটকখরার মধ্যেও আশায় বুক বেঁধে আছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের একজন গজনী পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এ সময়ে অনেক পর্যটক আসার কথা, কিন্তু এবার হরতাল-অবরোধের কারণে এখনও পর্যটকের সাড়া পাচ্ছি না, তবে আমরা আশা করছি হয়তো জাতীয় নির্বাচনের পরে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে; দর্শনার্থীদের আগমনে জমজমাট হবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

‘এতে অনেকটা লোকসানের পরিমাণ কমে আসবে। আমরা চাই যেকোনো উপায়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হোক।’

আরও পড়ুন:
কমলগঞ্জে চা বাগান ঘেরা দৃষ্টিনন্দন ক্যামেলিয়া লেক
পিরের দরবার থেকে বাড়িতে ফেরা হলো না প্রভাষকের
চীনে পর্যটন খুলেছে সম্ভাবনার দুয়ার
শ্রীবরদীতে ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ছেলের নামে জালিয়াতির মামলা
মৃত্যুর মিছিল থামছে না সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রে

মন্তব্য

p
উপরে