রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাঝেই প্রস্তুতি চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। তবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অনেকটা নিরুত্তাপ ভোটের মাঠ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি কিছুটা হলেও নির্বাচনি আবহ এনেছে।
১৯ নভেম্বর শুরু হয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রি শেষ হয়েছে ২১ নভেম্বর। তিন দিনে ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে দলটি৷ এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের বিপরীতে ২১৯ জন ২৩২টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন৷ এতে আসন প্রতি ফরম বিক্রি হয়েছে ১৪টির বেশি। এর মাধ্যমে দলটির আয় হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যা মনোনয়নপত্র বিক্রি করে দলটির মোট আয়ের প্রায় ৭ শতাংশ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার ৬৬১টি মনোনয়নপত্র কম বিক্রি হলেও চট্টগ্রামে বেড়েছে এই সংখ্যা। জেলায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল ২২৫টি। সে তুলনায় এবার চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র বিক্রি বেড়েছে ৭টি।
চট্টগ্রাম-৮
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ২৮টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চসিকের ৩-৭নং ওয়ার্ড) আসনে। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদকে মনোনয়ন দৌড়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন হ্যাভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামসহ ২৭ জন। তাদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের একাধিক কাউন্সিলরও রয়েছেন।
এই আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা হলেন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোবারক আলী, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, কাজী শারমিন সুমি, এস এম নুরুল ইসলাম, এস এম কফিল উদ্দিন, বিজয় কুমার চৌধুরী, এটি এম আলী রিয়াজ খান, জিনাত শাহেনা চৌধুরী, মোহাম্মদ ইমরান, জাবেদুল আলম মাসুদ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খুরশেদ আলম, মোহাম্মদ মনসুর আলম, মো. আব্দুল কাদের, কফিল উদ্দিন খান, শেখ আমেনা খাতুন, এম এ সুফিয়ান সিকদার, আশেক রসুল খান, মো. নুরুল আনোয়ার, মোহাম্মদ আবু তাহের, মাহমদ দিদারুল আলম, মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সেলিনা খান।
চট্টগ্রাম-২
জেলায় সবচেয়ে কম, মাত্র ২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরী। এতে অনেকটা নির্ভার রয়েছেন বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান।
বাকি আসনগুলোর মধ্যে ১০টির কম মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে।
চট্টগ্রাম-১
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আসন হিসেবে পরিচিত হলেও এবার তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তবে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবীদের পরিবার থেকে তার ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় মনোনয়ন দৌড়ে মাহবুব উর রহমানকেই এগিয়ে রাখছেন সবাই।
এই আসনে মাহবুব উর রহমান ছাড়াও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আরও চারজন। তারা হলেন- যুবলীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, এ কে এম বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং মোহাম্মদ মোস্তফা।
চট্টগ্রাম-৬
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বর্তমান এমপি ফজলে করিম চৌধুরীসহ মনোনয়ন কিনেছেন ৯ জন। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে ফজলে করিম চৌধুরীর ভয়ের কারণ হতে পারেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী কিংবা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেবাশীষ পালিত।
এর বাইরেও এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন মোহাম্মদ আবুল কালাম, ইমরানুল কবীর, মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, আলহাজ্ব মো. সালামত আলী এবং বকতিয়ার উদ্দিন খান।
চট্টগ্রাম-১৩
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনেও অনেকটা নির্ভার রয়েছেন বর্তমান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে তার সঙ্গে লড়াই করবেন আরও দুজন। তারা হলেন শাহজাদা মহিউদ্দিন এবং সমীরন নাথ।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি হ্যাভিওয়েট প্রার্থী চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালী), চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী, পাহাড়তলী) ও চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে। এই তিন আসনের তিনটিতেই মনোনয়ন চান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম. নাছির উদ্দিন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন হ্যাভিওয়েট প্রার্থী সাবেক নগর প্রশাসক ও চট্টগ্রামে ১৪ দলের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী সুজন।
চট্টগ্রাম-৯
চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন চান এই আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষও এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চান।
চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও নগর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ইফতেখার সাইমুনও নৌকার মাঝি হতে চান চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে৷
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এই আসন থেকে অন্যান্যদের মধ্যে আছেন মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ শহীদ উল আলম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, শফিক আদনান, মোহাম্মদ সফর আলী, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, আমিনুল হক, শাহজাদা মোহাম্মদ ফজল মুকিম নীল, মোহাম্মদ রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং মুজিবুর রহমান।
চট্টগ্রাম-১০
চট্টগ্রাম-১০ আসনে নাছির-সুজন ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ১৭ জন।
তারা হলেন- সৈয়দ মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ ইউনুস, কেবিএম শাহজাহান, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ শফর আলী, মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, এরশাদুল আমিন, আবুল ফজল কবির আহমেদ, আসলাম হোসেন, সাইফুদ্দিন খালেদ, মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বাবর, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, মুহাম্মদ অহিদ সিরাজ চৌধুরী, আব্দুস সবুর লিটন, আলহাজ্ব মো. সালামত আলী এবং মোহাম্মদ ফয়সাল আমিন।
চট্টগ্রাম-১১
চট্টগ্রাম-১১ আসনে নাছির-সুজনের পাশাপাশি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তিনবারের সংসদ সদস্য এম এ লতিফসহ ২৭ জন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের পর সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে এই আসনে।
বন্দরের কারণে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে আরও যারা নৌকার মাঝি হতে চান তারা হলেন- দেবাশীষ পাল, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, রেখা আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, সৌগাতুল আনোয়ার খান, মোহাম্মদ এনামুল হক, মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ সফর আলী, জিয়াউল হক সুমন, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, নওশেদ সরোয়ার, সালেহ আহমদ চৌধুরী, আকবর হোসেন, এম এনামুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, ইকবাল আলী, মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, ইমরান ফাহিম নূর, সায়রা বানু, হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মহম্মদ আমিনুল হক এবং মুজাফফর আহম্মদ।
চট্টগ্রাম-২
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে হাতছাড়া থাকা চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনটি ফিরে পেতে এবার মরিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এই আসনে দলটির হ্যাভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলামসহ আছেন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।
এই আসনে নৌকা পেতা চান আরও ১৯ জন। তার হলেন- মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, গোলাম নওশের আলী সাবরিনা চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, সাদাত আনোয়ার সাদী, বেলাল মোহাম্মদ নূরী, হাসিবুন সোহাদ, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, খোরশেদ আহমেদ জুয়েল, কাজী মোহাম্মদ তানজিবুল আলম, মো. সালামাত আল্লাহ চৌধুরী, এম আর আজিম, সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ হারুন, তৌহিদ মোহাম্মদ ফয়সাল কামাল, হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, ফখরুল আনোয়ার, সৈয়দ রাজিয়া মোস্তফা এবং আনোয়ার হোসেন।
চট্টগ্রাম-৩
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা৷
অন্যান্য যারা এই আসেন থেকে নৌকার মাঝি হতে চান তারা হলেন মহিউদ্দিন আহমেদ, এ কে এম বেলায়েত হোসেন, মানিক মিয়া তালুকদার, মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ, মোহাম্মদ রাজিবুল আহসান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউসুফ আলী জীবন, রফিকুল ইসলাম, রুমানা নাসরিন, সরোয়ার হাসান জামিল এবং মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৪
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিকের ৯-১০ নং ওয়ার্ড) আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ দিদারুল আলম।
তবে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ ইমরান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, চসিক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জুকেও এগিয়ে রাখছেন কেউ কেউ।
এই আসন থেকে নৈকার মাঝি হতে চাওয়া অন্যরা হলেন- এসএম আল মামুন, রত্নেন্দু ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন, মহি উদ্দিন, আবু মনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী এবং চৌধুরী মোহম্মদ জিন্নাত আলী।
চট্টগ্রাম-৫
চট্টগ্রাম-২ আসনের মত দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনটি মহাজোটের শরীক দলের দখলে। এই আসন থেকে এবার নৌকার প্রার্থী হতে চান ১৩ জন।
এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলকে নৌকার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আসনটি এবার মহাজোটের শরীক দলের হাতে যাবে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এই আসনে অন্য যারা নৌকার প্রার্থী হতে চান তারা হলেন- মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শামীম, ইউনুস গনি চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মনজুর আলম চৌধুরী, মাসুদুল আলম, নাসির হায়দার করিম, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, ডাক্তার নুর উদ্দিন জাহেদ এবং বাসন্তী প্রভা পালিত।
চট্টগ্রাম-১২
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি হুইফ শামসুল হক চৌধুরীর আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে এবার শামসুল হক চৌধুরীর সামনে বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ বদিউল আলমও এগিয়ে আছেন মনোনয়ন দৌড়ে।
এই আসনে নৌকার হাল ধরতে চান আরও ১৪ জন। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা বেগম, সত্যজিৎ দাস রুপু, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, জুলকারনাইন চৌধুরী, আব্দুর রশিদ, আলাউদ্দিন মো. আব্দুল ওয়াদুদ, তসলিম উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, প্রদীপ কুমার দাস, মোহাম্মদ হাবিবুল হক চৌধুরী, রাশেদ মনোয়ার, মুহাম্মদ ফারুক এবং মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
চট্টগ্রাম-১৪
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি নৌকার মনোনয়নপত্র নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ১৭ জন। তবে এই আসনে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তুলনায় হ্যাভিওয়েট হওয়ায় অনেকটসই এগিয়ে মফিজুর রহমান।
আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মোহাম্মদ কায়কোবাদ ওসমানী, আফতাব মাহমুদ, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এম মাসুদ আলম চৌধুরী, সাহিদা আক্তার জাহান, আবু আহমেদ চৌধুরী, আবুল বশর ভূঁইয়া, মামুনুল হক চৌধুরী, মাহবুবু রহমান এবং মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
চট্টগ্রাম-১৫
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে ফের মনোনয়ন চান দুই বারের সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন। তবে তার সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ডে দলীয় হাইকমান্ড কিছুটা অসন্তোষ হওয়ায় মনোনয়ন দৌড়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামকেই এগিয়ে রাখছেন অনেকেই।
এই আসনে নৌকড় হাল ধরতে চান আরও অন্তত ১৩ জন। তারা হলেন- সাজেদা সুরাত, মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম মামুন, আব্দুল মোতালেব, মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন হাসান চৌধুরী, আ স ম মিনহাজুর রহমান, মহম্মদ এরশাদুল হক, সৈয়দ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ অহিদ সিরাজ চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, কামরুন নাহার এবং মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১৬
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে এবার। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এবার আসনটিতে নৌকা হারাতে পারেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে তুলনামূলক এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান।
এ দুজন ছাড়াও আরও অন্তত ১৩ জন নৌকার হাল ধরতে চান এই আসনে। তারা হলেন- মোহাম্মদ জমির উদ্দিন শিকদার, আব্দুল্লাহ কবীর, চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদী, আরেফ উল হক, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, মো. সাইদুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, নাজমা আক্তার, শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী শামস, শেখর দত্ত, সাইফুদ্দিন আহমেদ ববি, আবুল হোসেন মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং আবু নছর মোহাম্মদ সরওয়ার আলম।
এদিকে নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। তাই এর আগেই চূড়ান্ত করতে হবে দলীয় মনোনয়ন।
তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী তিন দিন বসবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা। এই তিন দিনেই সারা দেশে নিজেদের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করবে দলটি৷ আর যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন ঘোষণা হতে পারে ২৬ বা ২৭ শে নভেম্বর।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ একটি গণমূখি সেবায় পরিনত করবো নতুন জেলা পরিষদ জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বহু আকাঙ্ক্ষার পর অবশেষে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ এর প্রশাসক হলেন সাতক্ষীরা ১ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
তিনি গত শনিবার (৬ জুন) দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনুষ্ঠানিক ভাবে এসময় জেলা পরিষদ এর চত্বরে বিএনপির নেতা কর্মীসহ সাধারণ জনতার ভিড়ে তিল ধরনের ঠাই ছিল না,এক নজর দেখার জন্য এবং প্রিয় মানুষ হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুল দিয়ে শুভ কামনা জানানোর জন্য ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। এসময় পুরো এলাকায় কম্পিত হয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে, সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বেশ বেগ পেতে হয় নিরাপত্তা নিয়ে।
দায়িত্ব গ্রহণ করে হাবিবুল ইসলাম হাবিব গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সাতক্ষীরা জেলা বাসির জন্য আমার অফিসের দোয়ার সব সময় খোলা থাকবে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে দূর্নীতি মুক্ত রাখা হবে এবং জেলা পরিষদকে সচ্ছতা ও জবাবদিহি রাখবো।
তিনি আরো বলেন আমাদের সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সকলে দোয়া করবেন শুধু তাই নয় জার হাত দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) গঠিত হয় তিনি হলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
আমিসহ আমরা সবাই জিয়ার সৈনিক, তাই দেশকে ভালো বেশে আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান এর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো নানান ভাবে সড়যন্ত্র করছে, ঐ সড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য বিএনপি তথা জিয়ার সৈনিকদের এক হওয়ার বিকল্প নেই।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরো বলেন আমাদের সাতক্ষীরা আমাদের কে সুন্দর করে সাজাতে হবে এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুন্দর বাসযোগ্য স্থান তৈরি করতে সকলের ঐক্যের বিকল্প নেই। আমি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে সাতক্ষীরা বাসির পক্ষ থেকে হাজারও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই, কারণ তিনি আমাকে যোগ্য মনে করে এই চেয়ারে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা শিকার করি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষুন্ন রাখবো ইনশাআল্লাহ। আগামীতে পৌরসভার ভোট, উপজেলার ভোট এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর ভোটে বিএনপির একক প্রার্থী থাকবে এটা দলের চেয়ারম্যান এর নির্দেশ, শুধু তাই নয় সকল প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্সনে কারচুপি করে সাতক্ষীরার চার চারটি আসনে আমাদের ফেল করানো হয়েছে। সাতক্ষীরা বাসিকে জান্নাত এর কথা বলে জামায়াতের নেতারা ধর্ম ব্যাবসা করছে এ থেকে সকলে সজাগ থাকতে হবে তাহলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ঘরে আসবে। বিএনপির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, থাকলে দলের ক্ষতি হবে এতে রাষ্ট্রের মানুষের ক্ষতি হবে তাই সেই দিক বিবেচনা করে সমাজকাঠামোয় উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য নবাগত জেলা পরিষদ এর প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাতক্ষীরা ১ আসন তালা কলারোয়া থেকে বার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়।
তিনি বিগতদিনে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে সুনাম এর সহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ২০২৬ সাতক্ষীরা ১ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়ে অল্প ভোট এর ব্যাবধানে পরাজিত হয় জামায়াতের প্রার্থীর কাছে।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সর্বজনীন শ্রদ্ধাশীল ব্যাক্তি এবং জনসেবাই তার ব্যাপক ভূমিকা থাকার কারণে পতিত ও ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের কুদৃষ্টির নজরে পড়ে সেই হিংসাত্মককে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন বীরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা গাড়ি বহর হামলা মিথ্যা মামলার আসামী হয়, সেই মামলায় ৫০ জনকে আসামী করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা হয় এবং সেই মিথ্যা মামলায় হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে অন্যায় ভাবে ৭০ বছরের সাজা দেয়া হয়।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৮ জুন) ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের পর এবার বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও জোট ত্যাগের কথা জানিয়েছে।
দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক আদর্শ ও নির্বাচনী সমঝোতায় বনিবনা না হওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন জোট বা সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১০টির মতো আসনেও ছাড় চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর কাছে, কিন্তু তাদের একটি আসনেও ছাড় দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথমত এটি ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতা না হওয়ায় আমরা আলাদা নির্বাচন করেছি। বলা যেতে পারে তখন থেকেই আমরা একপ্রকার জোটে নেই।’
জোটের বৈঠক বা প্রোগ্রামে আপনারা অংশ নিচ্ছেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় থেকে আমরা ১১ দলের কোনো বৈঠক বা প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি না।’
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী একক আধিপত্য ধরে রাখে। নিজেদের সিদ্ধান্ত জোট সঙ্গীদের ওপর চাপিয়ে দেয় জামায়াত। একই সঙ্গে কর্মসূচি কী হবে তা আগেই জামায়াত ঠিক করে তারপর জোটকে জানায়। লিয়াজু কমিটিতেও আলোচনার প্রয়োজন বোধ করে না দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১০টির মতো আসনে ছাড় চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর কাছে, কিন্তু তাদের একটি আসনেও ছাড় দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ করেছে দলটির শীর্ষ নেতারা।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, ‘আমাদের তো সমঝোতা ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। এখন নির্বাচন তো শেষ। তা ছাড়া নির্বাচনের আসন নিয়েও আমাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। নির্বাচনের পর আমরা সারা দেশের দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটা বৈঠকে বসেছিলাম, কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে ওই বৈঠকে অনেকে অংশ নিতে পারেননি। আগামী ১০ জুন আমাদের মজলিসে আমেলার মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের একটি জোরদার আলোচনা শুরু হয়। বিগত দিনের নানা মতবিরোধ ভুলে দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতারা একটি বৃহত্তর ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অনুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক হতে সম্মত হন।
প্রাথমিকভাবে এটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী ঘরানার দলের সমন্বয়ে ‘আন্দোলনরত আট দল’ ব্যানারে যাত্রা শুরু করেছিল।
শুরুতে ইসলামপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হলেও আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক সমীকরণের পর্যায়ক্রমে এটি বিস্তৃতি লাভ করে এবং নির্বাচনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
মূলত ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা ‘এক বাক্স নীতি’র অধীনে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দিয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার কৌশল হিসেবে এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আসন সমঝোতা ও জাতীয় সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই নির্বাচনী জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
১১ দলীয় এই নির্বাচনী জোট গঠনের পর থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন শুরু হয়। বিশেষ করে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
এই আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক এবং দর-কষাকষি চূড়ান্ত রূপ না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। একই সময়ে এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দল যুক্ত হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।
শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।
স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র, প্রচারণা ও অপতৎপরতা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রচারণার সঙ্গে বটবাহিনীর সম্পর্কও দেখা যাচ্ছে শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান সরকার হঠাৎ করে ক্ষমতায় আসেনি। দীর্ঘ ১৮ থেকে ২০ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণমানুষের সমর্থনের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সমর্থনই বিএনপি সরকারকে এ জায়গায় নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, এই সরকারকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র, নানা ধরনের ঘটনা, নানা ধরনের প্রচারণা চলছে। সে প্রচার-ঘটনার সঙ্গে বট বাহিনীর একটি সম্পর্ক আমরা দেখছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনো অশ্রাব্য ভাষা নেই, যেটা আমাদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, চারদিকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিপক্ষের তৎপরতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তার মতে, জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে, জনগণ সরকারের সঙ্গে আছে এবং সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতিও জনগণের আস্থা রয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ সময়ের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল আজকের অবস্থানে এসেছে। তাই সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
নতুন এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই নেতা মাঠপর্যায়ের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি করে উঠে এসে তিনি যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও আন্দোলনমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা তাকে সংগঠনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দলের ভেতরে আলোচনায় আসেন।
নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তার অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই দায়িত্ব পেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলকে আরও সংগঠিত ও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন।
একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি। এর আগে তাকে রুহিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, একটি মহল চেষ্টা করছে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার জন্য। এই অস্থিতিশীলতা যাতে না করতে পারে, তার জন্য আপনাদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান করছি। কারণ এই সময়ে যখন আমরা নতুন করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করছি তারেক রহমানের নেতৃত্বে, তখন যেন আমরা আবার বিভ্রান্ত না হয়ে যাই।
তিনি বলেন, যে কথাগুলো দিয়েছি, আমরা সেই কথাগুলো পালন করার চেষ্টা করছি। তারেক রহমান বলেছিলেন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচির কথা, সেই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। অন্যান্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রত্যেকটি পূরণ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন, এই সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস, এই তিন মাসের মধ্যে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম, আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলেন। আমি এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ, সব শ্রেণির মানুষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, তাদের সমর্থনে আজকে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
নারীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, নারীরা এমনিতেই সংগঠিত, তাদের আরও সংগঠিত হতে হবে। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য