মাত্র দুইদিন পরেই খুলছে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগের স্বর্ণাদ্বার খ্যাত বঙ্গবন্ধু টানেল। ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত এই সুড়ঙ্গপথের।
তবে চট্টগ্রাম সফরে টানেল ছাড়াও একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বাস্তবায়ন করা অন্তত ১৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ টাওয়ার, মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, রাউজানে শেখ কামাল কমপ্লেক্স, শিকলবাহা খালের ওপর পিসি গার্ডার ব্রিজ এবং পটিয়ায় শেখ কামাল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল।
এছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, পর্যটক বাস, রিভার ক্রুজ ও ফুল ডে ট্যুর সম্বলিত সমন্বিত পর্যটন সেবা প্রকল্প, ডিসি পার্ক, হাজার বছরের নৌকা জাদুঘর, ১৯১টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্মার্ট স্কুল বাস সার্ভিস ও বার্ডস পার্ক।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন এমন যেসব প্রকল্পগুলোর অধিকাংশের কাজ শতভাগ শেষ। তবে কিছু প্রকল্পের ১৩ থেকে ২০ শতাংশ কাজ বাকী আছে।
উদ্বোধনযোগ্য তুলনামূলক বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া ও আনোয়ারা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, রাউজানে শেখ কামাল কমপ্লেক্স, বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও শিকলবাহা খালের ওপর পিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।
এরমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের অর্থায়নে নির্মিত আনোয়ারা ও রাঙ্গুনিয়ায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো নির্মাণ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। এই দুই প্রকল্পে ২ কোটি টাকা করে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৫২ টাকা। রাউজানে শেখ কামাল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন করছে জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের বরাদ্দ ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৭ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ১১৭ টাকা।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে চসিকের ব্যয় হয়েছে ৮৪ লাখ টাকা।
শতভাগ সম্পন্ন আরেকটি প্রকল্প হলো পটিয়া উপজেলার উজিরপুর সড়কে শিকলবাহা খালের ওপর করা পিসি গার্ডার ব্রিজ। ৪৫ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ ছাড়াও বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ টাওয়ারের নির্মাণ কাজ ৮০ শতাংশ, মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ ৮৭ শতাংশ এবং পটিয়ায় শেখ কামাল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলের নির্মাণ কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর।
জেলা পরিষদ টাওয়ার প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে জেলা পরিষদ। ৮১ কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪০ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের অর্থায়নে পটিয়ায় শেখ কামাল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ করছে জেলা পরিষদ। ২০ কোটি ১২ লাখ ৬১ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দের এই প্রকেল্পে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৬ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮১ টাকা।
এর বাইরে উদ্বোধনযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রিভার ক্রুজ ও ফুল ডে ট্যুর সম্বলিত সমন্বিত পর্যটন সেবা, হাজার বছরের নৌকা জাদুঘর, ১৯১টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ ও সিমেন্স হোস্টেল কমপ্লেক্স সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্মার্ট স্কুল বাস সার্ভিস ও বার্ডস পার্কসহ জেলা প্রশাসন বাস্তবায়িত অন্তত ৬টি প্রকল্প।
অন্যদিকে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর, বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধু টানেল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সড়ক ও সিমেন্স হোস্টেল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ।
এরমধ্যে বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধু টানেল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সড়কের নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চসিক। জিওবি অর্থায়নে এই প্রকল্প সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণ করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ৬৯ কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর।
বঙ্গবন্ধু টানেল ছাড়াও এই ১৭ প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থার বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সফরে টানেল ছাড়াও ১৭টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনযোগ্য অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষ, বাকীগুলোও শেষের দিকে। বাকী কয়েকটা প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে মালদ্বীপে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) ম্যানিলা থেকে তিনি মালদ্বীপে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুতিশাম আদম এবং সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালদ্বীপে ড. খলিলুর রহমানের এটিই প্রথম সরকারি সফর। সফরসূচি অনুযায়ী ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তিনি মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানকার স্বাধীনতা বার্ষিকীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিন দিনের সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুতিশাম আদমের সঙ্গেও তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন নতুন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
এর পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করবেন। একই সাথে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক মঞ্চগুলোতে উভয় দেশের বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘস্থায়ী সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে, যা আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার বহুমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির পথকে আরও প্রসারিত করবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতির পদটিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয় হিসেবে না দেখে সবসময় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মূল্যায়ন করেছেন।
তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত মর্যাদা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কাজ পরিচালনায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সামগ্রিক ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঠিক পূর্বে, অর্থাৎ ৫ থেকে ৮ আগস্টের সংবেদনশীল সময়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংকটের সেই চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় বহাল রাখার ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিও যোগ করেন যে, পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থেকে তাঁকে যথাযথভাবে ও পূর্ণ মর্যাদার সাথে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত ও যুক্তিযুক্ত কারণে পদত্যাগ করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। বিদায়ী রাষ্ট্রপতিও সেই স্বাভাবিক সাংবিধানিক সুযোগ অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি এখন সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে এবং পরবর্তী ধাপে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আর এই মধ্যবর্তী সময়ে দেশের প্রচলিত সংবিধান ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। সে কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতা হিসেবে তার নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
আলোচনায় নাসিমুল গনিও: রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারেননি। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘হেলদি ডায়েট বাস্কেট’ (স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার) মূলে রয়েছে দৈনন্দিন মাথাপিছু অন্তত ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা। এর আওতায় শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শাকসবজি, ফলমূল, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও তেল-চর্বির মতো ছয়টি মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল পেট ভরানো নয়, বরং শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এসব উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় এই খাদ্যতালিকা জোগাড় করা দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
কেবল বাংলাদেশেই নয়, খাদ্য নিরাপত্তার এই বৈশ্বিক সংকট পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই দৃশ্যমান। এ অঞ্চলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক, যেখানে প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার ক্ষমতা নেই। পাকিস্তানের পরপরই দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য সংকটের বিচারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ সুষম খাবার জোগাড় করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৬.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের অযৌক্তিক ও আকাশছোঁয়া দামই এই সংকটকে নিয়মিত উসকে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস এবং ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত তা কার্যকর হলেও বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল স্থানীয় ভোক্তারা সহজে পান না। ফলে সাধারণ মানুষের আয় সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা তাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালে যেখানে ৩.০৯ ডলার পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। খরচের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মূলত প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে, আর শর্করাজাতীয় খাবারে ব্যয় হচ্ছে তুলনামূলক কম। এ অঞ্চলে খরচের বিচারে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরই বাংলাদেশের অবস্থান হলেও পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবারের সার্বিক খরচ মাত্র ৩.৯৪ ডলার।
অবশ্য এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যেও আশার একটি আলো খুঁজে পাওয়া গেছে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারার সক্ষমতার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে। ২০১৭ সালে যেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬২.৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারতেন না, ২০২৫ সালে সেই হার কমে ৩৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধির হারের চেয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্য বাবদ বরাদ্দের আয় কিছুটা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সামর্থ্যহীন মানুষের মোট সংখ্যায় এই ইতিবাচক পতন সম্ভব হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিসরেও স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ সাম্প্রতিক সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সুষম খাবারের গড় খরচ ২.৯৪ ডলার থাকলেও ২০২১ সালে তা বেড়ে ৩.৪৪ ডলার এবং ২০২৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই দৈনন্দিন খরচ ৪.৯১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের মোট সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত সংসংরক্ষণাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির সার্বিক উন্নয়ন, নিখুঁত বাজার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্যের যেকোনো ধরণের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি ও পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে সরকারি সফর শেষে ব্যাংককে যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ বৈঠক করেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ বৈঠকে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
উপদেষ্টা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। থাই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে দেশটির গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপদেষ্টা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতে উল্লেখ রয়েছে—কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।” সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে হাফিজ উদ্দিন জানান, মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে অসুস্থতার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপতির নিজের স্বীকারোক্তির পর এ বিষয়ে আলাদা করে আর কোনো চিকিৎসকের সনদপত্রের প্রয়োজন নেই বলে স্পিকার মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ধোঁয়াশা কেটে গেছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য রাখা যায় না এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ব্রিফিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইস্তফার কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বোচ্চ পদের এই পরিবর্তন নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’ দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকারের শপথ নেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারি। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের শপথের সময় বলা হয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের পদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের সময়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর এই পদে বহাল থাকার কথা ছিল। গত কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে আসেন।
মন্তব্য