দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম। বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর থাকার সুবাদে দেশীয় অর্থনীতির প্রধান করিডোরও বলা হয় এই বন্দরনগরীকে। এমন বড় শহরের মাত্র এক কিলোমিটারের কম দুরত্বে থেকেও যেন যোজন যোজন দূরে অবস্থান আনোয়ারা উপজেলার। ‘চট্টগ্রামের প্রাণ’ খ্যাত কর্ণফুলী নদীই গড়ে দিয়েছে এমন দূরত্ব। শত বছরে নদীর শহরের প্রান্তে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক আকাশচুম্বী দালান। নানা শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করছে নগরে। বর্ণিল আলোকচ্ছটায় যখন ছেয়ে যায় নগরের রাতের আকাশ, ও প্রান্তের মানুষ তখন দূর থেকে দেখে যেত সেই আলোর ফোয়ারা।
শহরের দিকে এক ইঞ্চি জমিও কেনা যেখানে সোনার হরিণ, অপর প্রান্তে তখনও অযত্নে-অবহেলায় পড়ে ছিল বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। শহরের প্রতি শতাংশ জমির মূল্য বর্তমানে অর্ধকোটি ছড়িয়েছে, অথচ কর্ণফুলীর আনোয়ারা প্রান্তে তার দাম অর্ধলাখেরও কম। তবে বঙ্গবন্ধু টানেলের কল্যাণে নদীর এ প্রান্তের জমির দাম বাড়ছে রকেটের গতিতে।
টানেলের কারণে আনোয়ারায় শিল্পায়নের জোয়ার লেগেছে। তাই বেড়েছে জমির চাহিদা। বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেল। তাই জমি কেনার হিড়িক পড়ে গেছে আনোয়ারায়।
টানেলের সুফল পেতে মরিয়া স্থানীয়রাও। কম দামে সূচ্যগ্র পরিমাণ জমিও ছাড়তে রাজি নন তারা।
আগামী ২৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেলটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে চলছে চট্টগ্রামে চলছে নানা আয়োজন। টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু হলেই নদীর দুপ্রান্তের হাজার বছরের দুরত্ব ঘুছে যাবে, পাহাড়সম ফারাক মিলিয়ে যাবে শূন্যে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টানেল নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই আনোয়ারা প্রান্তে বাড়তে থাকে জমির দাম। সেসময় প্রতি শতাংশ জমি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ টানেল নির্মাণের চার বছরে উদ্বোধনের পূর্বেই জমির দাম বেড়ে ২০ থেকে ৪০ গুণ। তারপরও বিক্রি না করে আরও দামের আশায় জমি আঁকড়ে পড়ে আছেন অনেকে।
আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াছিন হিরু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টানেল হওয়ার আগে যে জমির দাম ছিল দুই লাখ টাকা গণ্ডা (১.৯৮ শতাংশ), এখন সেই জমির দাম হয়ে গেছে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। অনেকে এখন জমি কেনার চেষ্টা করলেও কিনতে পারতেছেন না। জমি বিক্রিই করতে চাচ্ছে না কেউ।’
জমির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বলেন, ‘জমির ক্রেতা-বিক্রেতার আলাপ-আলোচনা থেকে বোঝা যায়, জমির দাম ভালোই বেড়েছে। তবে মৌজা রেট পরিবর্তন হয় দুই বছর পরপর। টানেল বা সংযোগ সড়কের আশপাশের মৌজাগুলোতে জমি কেনা-বেচার হার আগের চেয়ে অন্তত ১৫ শতাংশ বেড়েছে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হলেও মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অনেকটা অবহেলিত ছিল নগরীর পতেঙ্গা এলাকাও। বঙ্গবন্ধু টানেল এই পতেঙ্গা দিয়েই শহরের সঙ্গে আনোয়ারাকে যুক্ত করেছে৷ ফলে পতেঙ্গা এলাকার জমির মুল্যেও পড়েছে টানেলের প্রভাব।
এ ব্যাপারে পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. জাহেদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টানেল আর আউটার রিং রোড হওয়ার আগে এখানে গণ্ডাপ্রতি জমির দাম ছিল ৩ লাখ টাকার মতো। এখন সেটা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আগে ফসলি জমি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন ১৫ লাখের নিচে তা কেনার কথা কেউ ভাবতেই পারে না। তা ছাড়া টানেল ও আউটার রিং রেডের আশপাশে এখন চাইলেও জমি পাওয়া যাচ্ছে না।’
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং টানেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম টানেলের টিউব নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। টানেলটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে চীনা কোম্পানি ‘চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’।
শুরুতে বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প ব্যয় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ধরা হলে ২০১৭ সালে তা বাড়িয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিজস্ব মালিকানাধীন মার্কেটগুলোতে কোনো ধরনের অবৈধ দোকান বা স্থাপনা রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকান চললে তা তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার নগর ভবনে ডিএসসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন মার্কেট কমিটির নেতাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নাগরিক সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি করপোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে, তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।’
অনিয়ম ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আপনারা নিয়ম মেনে সহযোগিতা করুন, সিটি করপোরেশনও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে আপনারা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন এবং করপোরেশনও তার প্রাপ্য রাজস্ব পাবে। একজনকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না; বৈধতার জন্য সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।’
সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন এবং করদাতাদের বকেয়া পৌর কর পরিশোধে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে বকেয়া পৌর কর পরিশোধ করলে আরোপিত ১৫ শতাংশ সারচার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে বলে জানানো হয়। করদাতারা এই সুযোগ গ্রহণ করে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ছাড়াই তাদের বকেয়া কর পরিশোধ করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় এবং প্রশাসক সেগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সরকারের বেঁধে দেওয়া হার্টের (হৃদরোগ) ২৯ ধরনের রিংয়ের (স্টেন্ট) দাম বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোকে নতুন দামে রিং বিক্রির বিষয়ে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রণক সংস্থাটি।
মঙ্গলবার ডিজিডিএ’র মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া নতুন দামে এক হাজার থেকে শুরু করে ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে স্টেন্টের (রিং) দাম।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভায় সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের (রিং) দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন পর্যালোচনা করে নতুন দাম চূড়ান্ত করা হয়।
নির্দেশনা বলা হয়েছে, স্টেন্টসমূহের (রিং) হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উম্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে ক্রয় ও বিক্রয় করতে হবে। তবে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের মধ্যে এই মূল্য অন্তভু©ক্ত করা যাবে না।
পাশাপাশি স্টেন্টের (রিং) নাম, সর্বোচ্চ মূল্য ও উৎপাদনকারীর নাম উল্লেখসহ পৃথক ক্যাশমেমো প্রদান করতে হবে। এছাড়াও ব্যবহৃত স্টেন্টের প্যাকেটটি রোগীকে সরবরাহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ধারাবাহিক উচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ব্যাপারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল-এর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশে সফররত ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক পরিচালক ডমিনিক কুলিং উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায়, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন, কৃষি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অভিবাসন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং শিক্ষা, ক্রীড়া ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ ছাড়াও, তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এর আগে, সফররত ডাচ প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের যে ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই এখন সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন মাত্রায় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারত বাংলাদেশকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, বিষয়টি মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রভাবও এর পেছনে থাকতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক সময় কোনো ব্যক্তির নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়, এমনকি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ডও ছড়ানো হয়। এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে এবং এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের একটি প্যানেল গঠনের কাজ চলছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি দলীয় নয়, নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেউ অংশ নিলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। কারণ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় বা পদ-পদবি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষা খাতে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ অনার্স পর্যায় থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এসব বিভাগ অনার্স পর্যায়ে বহাল থাকবে। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একইভাবে চালু রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং বড় কলেজগুলোতে পর্যায়ক্রমে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তারিখ পেছানো হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা ছিল। সাক্ষীও যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হন। তবে গত ৭ জুন রাতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যু হয়। ফলে নতুন আইনজীবী নিয়োগসহ সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, ২৩ এপ্রিল চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া হাবিবুর রহমান মল্লিকের জেরা সম্পন্ন হয়। ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যা, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার অত্যন্ত নামমাত্র খরচে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন নির্বিঘ্নে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের আর্থিক দিকটি বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় ফিফার সাথে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ভ্যাট ও আয়করসহ এর মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। তবে জনগণের জন্য স্বস্তির খবর হলো, এই বিশাল অংকের টাকা বিটিভিকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দিতে হবে না। সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন টেলিকম অপারেটর, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে বিজ্ঞাপন ও উপ-স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে প্রায় সব অর্থ তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সরকারি খরচের বোঝা কমিয়ে নামমাত্র ব্যয়ে এই বিশ্ব আসর প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পূর্বের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে নানাবিধ গোলকধাঁধা তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে বিটিভি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল, যা নিয়ে স্বচ্ছতার বড় প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি এবারও একটি মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কিনে নিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশে জনগণের অর্থের অপচয় রোধে সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে তথ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে সফলভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করে।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ফিফার কাছ থেকে এই স্বত্ব কেনার প্রস্তাবটি গত রোববার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়। তথ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই ম্যারাথন মিটিং ও দীর্ঘ দরকষাকষির মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করা এবং জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। কুচক্রী মহলের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে বিটিভি এখন এককভাবে এই সম্প্রচার অধিকার অর্জন করেছে, যা দেশের সরকারি প্রচারমাধ্যমের সক্ষমতার একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই ফুটবল মহাযজ্ঞে অংশ নেবে বিশ্বের সেরা সব ফুটবল দল। দীর্ঘ ৩৯ দিনের এই আসরটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে দেবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের দোরগোড়ায় এই আনন্দ পৌঁছে দিতে বিটিভি এখন কারিগরি ও প্রশাসনিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে বলে তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধূম্রজাল ও সংশয় কেটে গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি এবং স্বত্বাধিকারী অন্যান্য মাধ্যমে দেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষ এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দর্শকদের সুবিধার্থে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও পাগলামি সর্বজনবিদিত। বেশ কিছুদিন ধরে খেলা সম্প্রচার নিয়ে একটি ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল, যা আজ পুরোপুরি নিরসন করা হলো। বিটিভির মাধ্যমে এবং যারা স্বত্ব নিয়েছে, তাদের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবেন।’
বিশ্বকাপের খেলাগুলোর সময়সূচি মধ্যরাত কিংবা ভোরে হওয়ার কারণে দর্শকদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানোর বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বেশ কিছু বেসরকারি কোম্পানি ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। খেলা দেখানোর টাইমটা এবার মধ্যরাতে কিংবা ভোরে হয়ে গেছে। তাই প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে আমরা উৎসাহিত করেছি, পাশাপাশি আমাদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্পটে তারা বড় বড় মনিটর ও ডিজিটাল বিলবোর্ড দিয়ে খেলাগুলো সরাসরি দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করবে।’
সম্প্রচার প্রক্রিয়ার অভাবনীয় স্বচ্ছতা ও সরকারের সাশ্রয়ী নীতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে যেখানে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয়েছিল, সেখানে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে মাত্র ৪৭ কোটি টাকায় এই স্বত্ব কিনেছে।
আমিনুল হক বলেন, এই ৪৭ কোটি টাকাও আবার বিভিন্ন বিজ্ঞাপন স্বত্ব (এডভারটাইজমেন্ট রাইটস) বিক্রির মাধ্যমে উঠে আসবে, যার ফলে সরকারি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থান বজায় রেখে এই সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশের সব ফুটবলপ্রেমীকে এই আনন্দের অংশীদার করতে এবং সরকারের এই যুগান্তকারী ও স্বচ্ছ উদ্যোগটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
মন্তব্য